একজন মোহাম্মদ আলি এবং রাজাকার সুবহানের গল্প…

241 ovulate twice on clomid

বার পঠিত

ঈশ্বরদীর সাহাপুর গ্রামের একজন ব্যবসায়ী ছিল মোহাম্মদ আলী প্রামানিক, জয় বাংলার লোক হিসেবে আশেপাশের গ্রামের মানুষ তাকে এক নামে চিনতো। আর তাদের প্রামানিক বংশরে চিনতো বিচার-সালিশের জন্য। ১০ গ্রামের বিচারক ছিল প্রামানিকরা, সেইরকম মর্যাদা আর প্রতিপত্তি ওদের। ইয়া বড় একটা সাদা ঘোড়ায় চড়ে চলাফেরা করতো। রাজকীয় স্টাইল। গ্রামের বেশিরভাগ পরিবারই ছিল হিন্দু, সবাইকে প্রানটা দিয়ে ভালবাসতো মানুষটা।

একাত্তরের ২রা মে পাকিস্তানি মিলিটারিরে যখন পাবনা জামায়াতের নেতা আবদুস সুবহানের দেখানো পথে সাহাপুর গ্রামে ঢুকে বাড়ির পর বাড়ি জ্বালায়ে দিতে লাগলো, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে মেয়েদের বাড়ি থেকে বের করে জিব চাটতে চাটতে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগলো, মোহাম্মদ আলী বাড়ি ছিল না। তারে না পায়া প্রামানিক বংশের ১৬ টা পরিবারের পুরুষ সবাইরে এক লাইনে দাড়া করানো হইল। তারপর সবার সামনেই বাড়ির সবগুলা মেয়ের উপর ঝাপায়া পড়ল পাকিশুয়োরগুলা, কাপড়চোপড় ছিঁড়ে আঁচড়ায়া কামড়ায়া ক্ষতবিক্ষত করে ফেলল তাদের। জয় বাঙলার লোক, হিন্দুস্তানের দালাল, এইগুলার পেটে ইসলামের বীজ বপন না করলে ক্যামনে কি? পাকিস্তান কায়েম রাখতে হবে না? আলীর ছোট বোনটা অবশ্য বেশ দুর্ভাগা, স্তনগুলা কামড়ে তুলে ফেলা হল, বেয়নেট দিয়ে পেট থেকে যোনি পর্যন্ত ফেড়ে ফেলার কারনে মেয়েটা ওইখানেই মারা গেল। মেয়েটার বাপ-মা অবশ্য চিৎকার করে কাঁদার সুযোগ পাইল না, পাকিস্তানী ইসলাম কায়েমে মেয়েটাকে খুবলে খুবলে খেতে দেখল ওরা, সেই অবস্থাতেই ব্রাশফায়ার করা হল ওদের উপর। পাশে দাঁড়ানো পাবনা জেলার শান্তি কমিটির অন্যতম মাথা আবদুস সুবহানের আনন্দ আর ধরে না, “মালাউনগুলার উচিৎ শিক্ষা হইছে হুজুর, পাকিস্তান কেউ ভাঙ্গতে পারব না।“

আলীর বউটা কোনোভাবে পালায়া, পেছনে প্রামানিক বংশের ১৬টা পরিবারের প্রায় ৪০-৪৫ জনকে ব্রাশফায়ার করে আগুন ধরায়া দেওয়া হইল পুরা বাড়িতে। পুরা সাহাপুর শ্মশান হয়ে গেল, হিন্দু মেয়েগুলাকে বর্বর গনধর্ষণ শেষে বেয়নেট দিয়ে পুরা দেহটা মোরব্বার মত কেঁচে ফেলা হল। কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্বিচার গণহত্যায় পাকিস্তানী ইসলাম কায়েম শেষে ফেরার পথে হঠাৎ একটা বিচিত্র ঘটনা ঘটল। একটা দা হাতে কোথেক্কে ছুটে আসলো একটা মানুষ, উন্মাদের মত কোপাইতে শুরু করল পাকিস্তানী শুয়োরগুলারে। কিছুক্ষনের মধ্যেই এক ঝাঁক ঠা ঠা গুলি মানুষটারে থামায়া দিল, মরার আগে সে একটা পাকিরে সাথে নিয়া গেল। মানুষটার নাম মোহাম্মদ আলি, গ্রামে ঢুকে খালি পোড়া ছাই ছাড়া পরিবারের কাউরে খুঁজে পায় নাই, সামনে একটা দা পাইছিল, দৌড়ায়ে আসছে সেইটা হাতে। আলীর লাশটা চামড়া তুলে গাছে টাঙ্গায়ে রাখছিল সুবহান, গ্রামবাসীকে শোনায়ে বলছিল, এইটা হইল গাদ্দারের শাস্তি। যে বা যারা পাকিস্তান ভাঙ্গতে চেষ্টা করব, তাদের পরিনতি হবে এর মত। আলীর বউটা সব দেখল, কিন্তু কিচ্ছু বলতে পারল না। গর্ভে সন্তান নিয়ে অমানুষিক যন্ত্রণায় নয়মাসটা পার করল, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে, প্রানটা বাঁচাতে। বাচ্চাটা জন্মের পর কোনোদিন বাবাকে দেখে নাই, স্কুলে বাবার হাত ধরে যখন বান্ধবীরা আসতো, তখন সে মার কোলে মুখটা গুঁজে প্রশ্ন করত,মা, আমার বাবা কই? সবার বাবা আছে , আমার বাবা নাই কেন? তার মা কোনোদিন প্রশ্নের জবাব দিতে পারে নাই, জবাব তার কাছে ছিল না…

যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হওয়ার পর আমার নানু প্রায়ই বিড়বিড় করে কি যেন বলতো, বুঝতাম না।একদিন খবর হইতেছে, নানু পাশে বসা, বিড়বিড় করে বলতেছে সুবহান শুয়োরটারে যদি ফাঁসি দিত। আমার তো অবাক, সুবহান কে নানু? নানু বলে না, মুখটা পাথরের মুত শক্ত, কোন জবাব নাই। বহুত জোরাজুরি করার পর একসময় আমি রাগ করে উঠে গেলাম, হঠাৎ নানু বলতে শুরু করল। সাহাপুর গ্রামের কথা, মোহাম্মদ আলীর কথা, আবদুস সুবহানের কথা। কখন যেন আম্মু পিছনে এসে দাড়াইছে, তাকায়ে দেখি আম্মু কাঁদতেছে, যেই বাবাকে সে কোনোদিন দেখে নাই, তার জন্য অঝোরে কাঁদতেছে আমার মা…

আম্মু আজকেও কাঁদতেছিল, টিভিতে সুবহানের ফাঁসির রায় পড়া হইতেছিল তখন।নানু মারা গেছে দুই বছর আগে, বেঁচে থাকলে খুব খুশি হইত আজকে। ৪৪ বছরের অপেক্ষা, খুব যন্ত্রণার, খুব কষ্টের…

মাওলানা আবদুস সুবহান, কিছুই ভুলি নাইরে, কিছুই ভুলি নাই।৪৪ বছর পার হইছে, নানার রক্তের দাগ শুকায় নাই… capital coast resort and spa hotel cipro

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

glyburide metformin 2.5 500mg tabs
about cialis tablets
clomid over the counter
all possible side effects of prednisone
metformin synthesis wikipedia