জয় বাঙলা…

432

বার পঠিত

2hexzxs

ভাটপাড়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশফাক চৌধুরী যখন পাকবাহিনীর ক্যাম্প থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন বিকেলের সূর্য প্রায় অস্তাচলে গিয়েছে। অসম্ভব বিবর্ণ দেখাচ্ছে চৌধুরীসাহেবকে। তার পেছন পেছন আসছে তার পাঁচজন সার্বক্ষণিক সঙ্গী । তারা বংশানুক্রমে চৌধুরী বাড়ির একনিষ্ঠ কর্মচারী। এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী বংশগুলোর মধ্যে একটা হল চৌধুরী বংশ। সে বংশের সপ্তম সন্তান তিনি। কুষ্টিয়া জুরি বোর্ডের হাকিম ছিলেন আশফাক চৌধুরীর পিতা আশরাফ চৌধুরী। যেহেতু শরীফ বংশ, তাই যুদ্ধ শুরু হবার পরেই ধর্মরক্ষায়, পাকিস্তানের সংহতি রক্ষায় শান্তি কমিটিতে যোগ দিতে বলা হয়েছিল আশফাক চৌধুরীকে তার বড় তিন ছেলেসহ। আশফাক চৌধুরীকে এ অনুরোধ করেছিলেন তার শ্বশুরের বড় ভাই শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান যশোহর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান খান(খানসাহেব) নিজে। কেননা শান্তি কমিটিতে যোগ না দিলে দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে মৃত্যু অবধারিত। আশফাক সাহেব তার চাচাশ্বশুরকে স্পষ্ট ভাষায় যে উত্তরটা দিয়েছিলেন তা হচ্ছে, will i gain or lose weight on zoloft

চাচাজান, দয়া করে ধর্মরক্ষার নামে নিরীহ, নিরপরাধ মানুষ হত্যার এ উৎসবে আমাকে যোগ দিতে অনুরোধ করবেন না। আমার মা-বোনকে আমি ওঁই জারজ জানোয়ারদের হাতে তুলে দিতে পারব না। আমি মানুষ, জানোয়ার না…

এ কথাটার পর রায়হান খান তাকে আর কিছু বলেননি। কিন্তু নিয়মিত খোঁজ খবর রাখতেন এই পরিবারের। শত হলেও তার প্রানপ্রিয় ভাতিজি রাহেলাকে বিয়ে দিয়েছেন এখানে। ওদের কিছু হয়ে গেলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না। কিন্তু সমস্যাটা হয়ে গেল পাকিস্তান সেনাবাহিনী আসার পর। ক্যাম্প থেকে স্পষ্ট অর্ডার এল, যারা যারা পাকিস্তান চায় না, তাদের নামের লিস্ট করতে হবে। অবস্থাটা ভয়াবহ হয়ে গেল যখন ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে খবর পৌঁছুল, চৌধুরী বাড়ির কর্তা আশফাক চৌধুরী পাকিস্তান রক্ষায় শান্তি কমিটিতে যোগ দেয়নি। এবং তার বড় দুই সন্তান ওসমান আর আজম আজ প্রায় ২০ দিন গ্রামে নেই। এই খবর পৌঁছানোর পর আজ একপ্রকার তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আশফাককে। সেখানে কমান্ডারের সামনে রায়হান খান আশফাককে কথা না বলবার জন্য হাতে ধরে মিনতি করেছিলেন। ক্যাম্পের প্রধান মেজর গুলজার বেগ বড়ই অমায়িক মানুষ। অতি সমাদর করে বসালেন আশফাককে, কুশল জিজ্ঞাসা করলেন আন্তরিকতার সাথে। এক পর্যায়ে যখন হঠাৎ তার বড় দুই ছেলে ওসমান আর আজমের কথা জিজ্ঞেস করলেন, তখন আশফাকের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে রায়হান খান বললেন, ওরা ওদের মামাবাড়ি বেড়াতে গেছে। শুনে মুখের হাসি বিন্দুমাত্র কমল না মেজর গুলজারের। ছেলেগুলোকে তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে এনে শান্তি কমিটিতে যোগ দিতে বলল ক্যাপ্টেন। ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রায়হান বাইরে বেরিয়েই বললেন, আশফাক, যত দ্রুত পার, রাহেলা আর বাচ্চাগুলোকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যাও। ক্যাপ্টেন সব জানে। একটু পরেই ওরা গ্রামে ঢুকবে। যাও, তাড়াতাড়ি যাও। দেরি করো না, হাতে সময় নেই একেবারে। বিবর্ণ মুখে একটু আগে বাড়ি ফিরেছেন আশফাক, ঢুকেই রাহেলাকে সব কিছু গুছিয়ে নিতে বলেছেন। বাড়িতে থাকা চার ছেলে আর তিন মেয়েকে বৈঠকখানা ডাকলেন এবং অতি দ্রুত তৈরি হতে বললেন। আর পাঁচজন কর্মচারীকে নিজেদের মত পালিয়ে যেতে বললেন। তারা শুধু একটা কথাই বলল, চৌধুরীসাহেবের এই বিপদে তারা তাকে ছেড়ে এক মুহূর্তের জন্যও নড়বে না। প্রাসাদপম বিশাল বাড়ি, প্রায় ষাটটা গোলা ভরা ধান,গম এবং গোয়াল ভরা গরু, মহিষ, ভেড়া, পুকুর ভরা মাছ ইত্যাদি সবকিছু ফেলে শুধু প্রানটা হাতে ছেলেমেয়ের হাত ধরে আশফাক আর রাহেলা যখন বাড়ির পেছনে কাজলী নদীর ঘাটে বাঁধা নৌকার কাছে পৌঁছালেন, তখন হঠাৎ পুবদিকের মণ্ডলদের বাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো। যৎসামান্য কিছু সম্বল আর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকায় উঠেই আশফাক বুঝতে পারলেন, নৌকাটা ফুটো করে দেওয়া হয়েছে। অথচ বাড়িতে ঢুকবার ঠিক আগে তিনি ঘাটে নৌকা রেখে গিয়েছিলেন। ওরা পালাতে না দেবার জন্য এ কাজ করেছে। অতি দ্রুত এখানে থেকে না পালাতে পারলে আজ তারা কেউ বাঁচতে পারবেন না। সবাই মিলে পানি ছেঁচতে লাগলেন আর কর্মচারীগুলো নৌকা বাইতে লাগলেন যতদ্রুত সম্ভব। বাড়ি থেকে বের হবার ঠিক আধাঘণ্টা পর পাশের লক্ষ্মীমন্ত গ্রামের ঘাটে নৌকা ভেড়ালেন আশফাক। নদীর পাড়েই তার বাল্যবন্ধু বাখের বিশ্বাসের বাড়ি। উদ্দেশ্য আজ রাতের মত এখানে লুকিয়ে থাকবেন। বাখের বিশ্বাসের বাড়িতে ঢোকামাত্র হঠাৎ করেই চৌধুরী বাড়িতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠলো। দূর থেকে দেখতে পেলেন, প্রায় ২০০ বছরের পুরনো চৌধুরী বাড়ি আগুনের লেলিহান শিখায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এদিকে বাখের বিশ্বাস তাকে একপাশে ডেকে নিয়ে জানালো একটু আগে দুটো নৌকায় করে ২০-২৫ জন রাজাকার ঘাটে নেমেছে, তারা গ্রামের সব ঘরগুলোতে কাকে যেন খুঁজছে। বাখের বিশ্বাসের কথা শেষ হয়নি, আশফাক চৌধুরী তাকে বললেন, দোস্ত, ওরা আমাকে আর আমার পরিবারকে খুঁজছে, আর আমাদের আশ্রয় দেবার জন্য ওরা তোমাকেও ছাড়বে না। তুমিও চল আমাদের সাথে। কিন্তু বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও বাপ-দাদার এই ভিটামাটি ফেলে বাখের কোনভাবেই যেতে রাজি হলেন না। আশফাক বন্ধুকে বিপদে ফেলবার জন্য নিজেকে অভিশাপ দিতে দিতে সবাইকে নিয়ে ঘাটের দিকে ছুটতে শুরু করলেন। ঘাট থেকে তাদের নৌকাটা হয়তো ১০-১৫ কদম এগিয়েছে, এমন সময় দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠলো লক্ষীমন্ত গ্রামের বাখের বিশ্বাসের বাড়িতে। বাখের বিশ্বাসের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে আর ছেলের বউয়ের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে উঠলো বাতাস। আশফাক চৌধুরীর পরিবারকে আশ্রয় দেবার অপরাধে জবাই করে ও গুলী করে মেরে ফেলা হল পুরো পরিবারের সবাইকে, ধ্বংস হয়ে দেয়া হল সবকিছু। সেই মুহূর্তে যদি আশফাক সাহেব পরিবার নিয়ে না পালিয়ে আসতেন, তবে তাদের পরিনতিও হত একইরকমের। আশফাক সাহেব রাহেলাকে জড়িয়ে নিদারুণ যন্ত্রণায় কাঁদতে কাঁদতে শুধু বলতে লাগলেন, আমি ওদের মেরে ফেললাম, রাহেলা… আমি ওদের মেরে ফেললাম… শেষপর্যন্ত হুতুমকপাটির জঙ্গলে গিয়ে নৌকা থামানো হল। যেহেতু আশেপাশের সবগুলো গ্রামে চৌধুরীদের খোঁজা হচ্ছে, সুতরাং এই রাতে আপাতত জঙ্গল ছাড়া লুকিয়ে থাকবার আর কোন উপায় নেই। কাজলী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভয়ংকর বিষাক্ত সাপ, বিচ্ছু আর পোকামাকড়ে ভরা হুতুমকপাটির জঙ্গল তখন এক বিশাল জলাতে পরিনত হয়েছে। তার উপর হঠাৎ করে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। কিন্তু প্রান বাঁচাতে এই মুহূর্তে কোনদিকেই লক্ষ্য করবার মত অবস্থা নেই। সেই জঙ্গলেই একটা বটগাছের গুঁড়ির নিচে ছেলেমেয়েগুলোকে কোলের ভেতর আগলে বসে থাকলেন আশফাক চৌধুরী আর রাহেলা বেগম। চারপাশে ঘিরে আছে বিশ্বস্ত পাঁচজন সঙ্গী। প্রচণ্ড বৃষ্টির ফোটাগুলো তাদের চোখের পানির সাথে মিশে যাচ্ছে পার্থক্য করবার কোন উপায় না রেখেই…

ওসমান দাঁড়িয়ে আছে ধলার বিলের পাড়ে। চোখ আর হাত দুটো পিছমোড়া করে বাঁধা, প্রচণ্ড নির্যাতনে গায়ের সাদা শার্টটাকে আর সাদা বলে চিনবার উপায় নেই। রক্ত শুকিয়ে কালচে হয়ে জমে আছে শরীরের এখানে সেখানে। মেঘালয় থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসবার পর গত তিনটা মাস ধরে যখন তখন যেখানে সেখানে পাকবাহিনীর সামনে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন হিসেবে আবির্ভূত হওয়া ১০ জন গেরিলার ছোট্ট দলটার অন্যতম সদস্য ওসমান ধরা পড়ে কাজলা ব্রিজের যুদ্ধে। গত তিনমাস ধরে আচমকা অ্যামবুশে পড়তে পড়তে শেষ পর্যন্ত এমন অবস্থা হয়েছিল যে পাকবাহিনী মুক্তির নাম শুনলেই বিবর্ণ হয়ে যেত। ধলার বিলের যুদ্ধটাতেও মনে হচ্ছিল বিজয় সুনিশ্চিত। কিন্তু বিধি বাম, মহসিন নামের ওর এক বন্ধু, যাদের বাড়িতে ওরা আতিথ্য নিয়েছিল দুদিন আগে,তার বিশ্বাসঘাতকতায় পাকবাহিনী জেনে যায় কাজলা ব্রিজে অ্যামবুশ করবে গেরিলারা। পাকিগুলো হামলা করেছিল পেছন থেকে, কিছু বুঝে উঠার আগেই আসলাম আর ঝনটু গুলী খায়। ওসমান বুঝতে পারল এভাবে সম্ভব না, তাই সে কমান্ডার আলফাজকে পিছু হটতে বলল সবাইকে নিয়ে। কাভার দেবে সে। আজম যেতে চায়নি। বড় ভাইকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ফেলে কেউই যেতে পারে না। জোর করে তাকে ফেরত পাঠিয়ে কাভার দিচ্ছিল ওসমান। হঠাৎ অবাক হয়ে খেয়াল করল তার পাশে তাদের সেই হালকা মেশিনগানটা চলছে। আজম যায়নি। সে মেশিনগানটা নিয়ে ভাইয়ের সাথে থেকে গেছে। মিনিট তিনেক পর হঠাৎ মেশিনগানটা থেমে গেল। ভাইকে হারানোর অকল্পনীয় যন্ত্রণায় সৃষ্ট চিৎকারটা গলা দিয়ে বেরিয়ে আসতে আসতে রূপ নিল পাকিদের প্রতি অপরিসীম ঘৃণায়। পাশ থেকে ভাইয়ের মেশিনগানটা তুলে নিয়ে বাঘের হুঙ্কারে ঝাঁপিয়ে পড়ল ওসমান। এক কোম্পানি পাকবাহিনীর এ দলটা তখন কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। হঠাৎ করেই গুলী ফুরিয়ে গেল। আর ঠিক সেই মুহূর্তে একটা গুলীটা লাগলো বাম কাঁধে। ধরা পড়বার পর কি এক অজানা কারনে পাক কমান্ডার তাকে মেরে ফেলল না। নিয়ে গেল কাম্পে। প্রথমে খুব ভদ্র ভাষায় গেরিলাদের পরিচয় এবং আস্তানার কথা জিজ্ঞেস করা হল। তারপর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর সরফরাজ খানের তত্ত্বাবধানে তার উপর চলল অকল্পনীয় নির্যাতন। প্রশ্ন একটাই, মুক্তি কিধার হ্যায় ?? টানা এক সপ্তাহ চলল সম্ভাব্য সব ধরনের নৃশংসতা আর নির্মমতা। বারকয়েক সরফরাজের মুখে এক দলা করে থুথু নিক্ষেপ ছাড়া একটা কথাও বলল না ওসমান। সরফরাজ খান তার জীবনে এরকম পাথরকঠিন মানুষ দেখেনি। ছোটবেলাত্র থেকে সে জেনে এসেছে মছুয়া বাঙ্গালী পৃথিবীর সেরা গর্দভ । সাহস তো নাইই, সামান্য বুদ্ধিও নাই। কিন্তু আজ তার সব ধারনা পাল্টে গেছে। ওসমানের উপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার ১০ ভাগের এক ভাগ তার উপর চালানো হলে সে সবকিছু বলে দিত। এখন তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই রক্তমাংসের পিণ্ডটাকে কেন যেন তার খুব ভয় করছে। নিজের উপর বিরক্ত হল সরফরাজ। পাকিস্তান পৃথিবীর সেরা সাহসী জাতি। এসব কি ভাবছে সে? চিৎকার করে সে বলল, বোল, পাকিস্তান জিন্দাবাদ… তুঝে ছোড় দেঙ্গা… ওসমান একটু দম নিয়ে চিৎকার করে জবাব দিল…

জয় বাঙলা

..

কেঁপে গেল সরফরাজের অন্তরাত্মা… প্রচণ্ড ভয়ে আরও জোরে চিৎকার করে সরফরাজ বলল, বোল পাকিস্তান জিন্দাবাদ… ওসমানের উত্তরটা এল ফুটন্ত লাভা হয়ে… আরও প্রচণ্ডতায়… আরও ভয়াবহতায়…

জয় বাঙলা

পুড়িয়ে দিয়ে গেল সরফরাজের অস্তিত্বকে… সহ্য করতে পারল না সে। গর্জে উঠল অটোমেটিক রাইফেলগুলো… ওসমানের প্রানহীন মুখমণ্ডলে এক টুকরো গর্বের হাসি লেগে রইল শুধু। কেন, কে জানে?

পান্থপথ মোড়ে সিগন্যালে আটকে আছে পাকিস্তান হাইকমিশনের গাড়িটা। গাড়িতে থাকা কর্মকর্তা প্রচণ্ড বিরক্ত। এমনিতেই এই দেশে আসতে তার প্রবল আপত্তি ছিল। অবশ্য পাকিস্তানি মাত্রই এই আপত্তি থাকা স্বাভাবিক। বাঙ্গালী জাতটার বুদ্ধি হল না। সেই কবে না কবে একটা গণ্ডগোল হয়েছিল, এখনও এই মছুয়া জাতটা সেটা ধরে বসে আছে। আর সেই সময় হিন্দুস্তানি মালাউনদের হাত থেকে ইসলাম রক্ষা করতে যে সত্যের সেনানিরা বীর পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন, তাদের এ সরকার ধরে ধরে বিনাবিচারে ফাঁসি দেবার চেষ্টা করছে। ইসলামের সাহসী সৈনিক আবদুল কাদের মোল্লাকে কেন ফাঁসি দেওয়া হল না, এর প্রতিবাদে কিছু ছেলেমেয়ে নাকি কাল থেকে শাহাবাগে অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছে। এটা যে হিন্দুস্তান হয়ে গেছে , এই তার প্রমান। বেগানা নারী পুরুষ একসাথে বসে স্লোগান দেয়! পাকিস্তান হলে এটা কোনোদিন সম্ভব হত না। সিগন্যাল ছেড়ে দেওয়ায় চিন্তার জাল ছিঁড়ে যায় কর্মকর্তার। দশ মিনিট পর হোটেল শেরাটনের সিগন্যালে এসে থামে তার গাড়ি। এখান থেকে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ। সামনে যতদূর দৃষ্টি যায়, অগনিত, অসংখ্য মানুষে উত্তাল শাহবাগ মোড়। অবাক হলেন গাড়িতে বসে থাকা মানুষটা। এতো মানুষ?! জানালার কাঁচটা নামালেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে আগ্নেয়গিরির লাভার মত একটা স্লোগান তার অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়ে গেল। খুব পুরনো এক দুঃস্বপ্ন হঠাৎ করেই সামনে চলে এল তার। থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে গাড়ির দরজা খুলে টলমল পায়ে এগিয়ে গেলেন তিনি। মঞ্চে তখন একটা বাচ্চা ছেলে চোখ বন্ধ করে আকাশের দিকে মুখ তুলে স্লোগান দিচ্ছে…

তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা… can you tan after accutane

তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ… বাংলাদেশ…

৭১রের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার…

জয় বাঙলা..

অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি মেজর, পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তা সরফরাজ খানের দৃষ্টি হঠাৎ ঘোলাটে হয়ে আসে। বিস্ফোরিত দৃষ্টির সামনে যে দৃশ্যপটটি ভেসে ওঠে, সেটা ৪২ বছরের পুরনো… একটা ক্ষীণকায় রক্তাক্ত রক্তমাংসের পিণ্ড দাঁড়িয়ে আছে, তার বুকের ভেতরে একটা লাল-সবুজ পতাকার আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা হয়ে বেরিয়ে আসছে একটা স্লোগান…

জয় বাঙলা

You may also like...

  1. জয় বাংলা… শাহবাগের সেই দিন গুলো চোখে ভাসে এখনও!

  2. দ্য ব্ল্যাক কুগার বলছেনঃ

    ভাই রক্ত গরম হইয়া গেছে। জয় বাংলা বাংলার জয়।

  3. আপনার মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত পোস্ট গুলোর অপেক্ষায় থাকি সবসময়। ব্লগে-ফেসবুকে। অসাধারণ। জ্ঞান সমৃদ্ধ হচ্ছে দেখে নিজেকে ভাগ্যবান দাবী করতেই পারি! কিপিটাপ ভাই!

    can your doctor prescribe accutane
    about cialis tablets
  4. আপনার লেখায় আগেও মুগ্ধ হয়েছি, আবারও হলাম। সত্যি বলছি- এমন বর্ণনা আরও ১০ গুণ হলেও একটুও বোর লাগতো না।
    আপনি লিখতে থাকুন দাদা।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

clomid over the counter

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

acquistare viagra in internet