ভারতের নির্বাচনঃ মোদির অতিকথন

1385

বার পঠিত

গতকাল বিজেপির লোকসভা নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে এক জনসভায় ঘোষণা দিয়েছেন তিনি ক্ষমতায় এলে ভারতের মাটিতে যত অবৈধ বাংলাদেশী আছে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হবে। মজার ব্যাপার হল তিনি যার হয়ে এই জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন তার নাম বাপ্পী লাহিড়ী। যতদূর জানা যায়, খোদ বাপ্পী লাহিড়ীর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের পাবনায়। যদিও তিনি ভারতের বৈধ নাগরিক। মোদি তার ভাষণে বলেছেন, সারা ভারতজুড়ে নাকি প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশী অভিবাসী রয়েছেন। যদিও কোন বিশ্বাসযোগ্য সূত্র তিনি তার বক্তব্যের সমর্থনে দিতে পারেননি। wirkung viagra oder cialis

একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, মোদি বরাবরই কট্টর হিন্দুবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০০২ সালের গুজরাটের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হাজার হাজার মুসলমানের মৃত্যুতে তাকে দায়ী করা হয়। যদিও মোদি বরাবর তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ খন্ডন করে এসেছেন। কিন্তু সাদা চোখে দেখে যা বোঝা যায় তা হল, ঐ দাঙ্গা যখন হয় তখন মোদি ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রি এবং এই দাঙ্গার দায় তার ওপর বর্তায় এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি এর সাথে জড়িত নাই থাকতে পারেন কিন্তু পরবর্তীতে তিনি কোন তদন্ত করেননি বা দোষীদের কোন বিচারের সম্মুখীন করেননি। তাই এর মাধ্যমে মোদির সাম্প্রদায়িক চরিত্র স্পষ্ট হয়।

সেদিক দিয়ে বিচার করলে এটা বোঝা যায় যে, অধিকাংশ ভারতীয় বিশেষ করে মুসলমানেরা মোদির বিজয় কামনা করেন না। মোদিও এটা জানেন এবং রাজনীতির মারপ্যাঁচ হিসেবে কিছুদিন আগে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি আগে একজন ভারতীয় তারপরে একজন হিন্দু”। কিন্তু এতে কতটুকু সফলতা আসবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে, মোদি ভারত থেকে বাংলাদেশীদের উচ্ছেদের কথা বলার সময় একবারের জন্যও ‘মুসলমান’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। কিন্তু এটাও তার সাম্প্রদায়িক চরিত্র লুকানোর একটা চাল হতে পারে। তবে তারপরও প্রশ্ন থেকেই যায় যে এতে মোদির লাভ কতটুকু হল? নির্বাচন চলাকালীন সময়ে এ ধরণের বক্তব্য কি তাকে এগিয়ে দেবে? মোদি এতটা সাহস কোথায় পেলেন?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একটু গভীরে যেতে হবে। বিজেপির সাম্প্রদায়িক চরিত্রের বিপরীতে কংগ্রেস সবসময়ই একটা নিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক চরিত্র তুলে ধরে। কিন্তু একটা দুঃখজনক ব্যাপার হল, কংগ্রেস কোন সময়ই মুসলমানদের সাহায্যকারী হাত হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারেনি। বরং কাশ্মীরের অধিকৃত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে তারা মুসলমানদের একরকম হয়রানিই করেছে বলা চলে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময়ও কংগ্রেস তাদের অসাম্প্রদায়িক ভূমিকা পালন করেনি। গুজরাটের দাঙ্গায় মোদির জড়িত থাকার গুজব উঠলেও কংগ্রেস সরকার তাকে বিচারের আওতায় আনেনি। বরং এই ঘটনার সাথে মোদির সংশ্লিষ্টতা আছে এই ধারণা করে আমেরিকা মোদিকে সেদেশে যাবার জন্য ভিসা না দিলে বরং কংগ্রেস সরকার আমেরিকার তীব্র নিন্দা জানায়। এসব ঘটনায় ভারতীয় মুসলমানেরা কিছুটা হলেও অনিরাপদ বোধ করে থাকে। টিকে থাকার প্রয়োজনে বিজেপি’র সাথে একটা আঁতাত তাই সময়ের প্রয়োজন বলেই বিবেচিত হয়। cialis new c 100

এহেন নানা ঘটনায় ভারতীয় মুসলমানদের একটা বড় অংশ আস্তে আস্তে বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এর পেছনে সবথকে উল্লেখযোগ্য হল, সাবেক কংগ্রেস নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদের নাতনির বিজেপিতে যোগদান এবং তার সাথে আরও কিছু মুসলমান নেতাও বিজেপিতে যোগদান করেন। তাই আগের মত বিজেপির সেই ‘মুসলমান জুজু’ নেই। বরং সেখানে তারা আগের থেকে অনেক বেশী আগ্রাসী। এবং এর জন্য দায়ী কংগ্রেসের যথাযথ অসাম্প্রদায়িক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মুসলমান নাগরিকদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থতা।

কিন্তু একইসাথে এটাও সত্য যে এইভাবে বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এহেন বক্তব্য প্রদান বাংলাদেশের জন্য মোটেও ভাল কথা নয়। মোদিকে বুঝতে হবে, ক্ষমতায় এলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য তাকে নমনীয় হতে হবে এবং সাহায্যকারী মনোভাব থাকতে হবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, মোদি এটাও ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ক্ষমতায় এলে পাকিস্তানের সাথে ভারতে একটা যুদ্ধাবস্থা থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা মোটেও ভাল পদক্ষেপ হবে না বলেই ধারণা। এহেন ধারণা করতে হলে মোটেও বিশ্লেষক হতে হয় না।

সব অপেক্ষা ১৬ই মে পর্যন্ত। সেদিন ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। মোদি শেষ পর্যন্ত প্রধান্মন্ত্রির গদিতে আরোহণ করতে পারবে কি না, তা তখনই জানা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত মোদির চরিত্র ও তার উল্টোপাল্টা বক্তব্য প্রদান তাকে এগিয়ে রাখবে না, এটা বলা যায়। সবশেষে মোদি ভারতের প্রধান্মন্ত্রি হলে তা হবে একটা বিপর্যয়। তা যে শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য তা নয়, বরং সমগ্র ভারতের জন্য। ভারতের জনগণ সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই কেবল আশা করা যায়।

You may also like...

  1. অচিরেই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে নরেন্দ্র মোদি!… capital coast resort and spa hotel cipro

  2. সাম্প্রদায়িকতা কোন দেশকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনা । এমনকি দেশটা যদি মুসলমান প্রধান বা হিন্দুপ্রধান বা অন্য যেকোন ধর্মপ্রধান হয় তারপরও অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি , প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি সহনশীল হতে হয় । আমার সব আছে এই ধারনাটা খুব খারাপ । ভালো লিখেছেন ।

  3. মোদী যদি ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তবে তা হবে আত্মহত্যার শামিল।

    synthroid drug interactions calcium
  4. আপনার বিশ্লেষণ ভাল লেগেছে!! :-bd :-bd :-bd :-bd :-bd

    সভ্যতার সকল বিনষ্টের পিছনে এইসব উগ্র-ধর্মীয় মৌলবাদীরা…
    আপনার কথা সত্য হলেই ভাল মানুষের জন্যে এই উপমহাদেশের জন্যে!!!

  5. চমৎকার পোস্ট দাদা।
    সকল দেশেই ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনীতিবীদ আছে। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করতে চায়। আমদের দেশের জামাত শিবির আর এই মোদী সবই একই শ্রেনীভুক্ত। এদের হাতিয়ার ধর্ম আর বৈশিষ্ট্য সাম্প্রদায়িকতা ।

    লিখে যান দাদা……

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

tome cytotec y solo sangro cuando orino

renal scan mag3 with lasix

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. private dermatologist london accutane

viagra en uk