শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক রামকৃষ্ণ অধিকারী

477

বার পঠিত

২৯ জানুয়ারি বরিশালের বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে আমরা ৬ জন যাত্রা শুরু করি।শুরুতেই বলে রাখি আমাদের যাত্রা উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গনে ৪ দিন ব্যাপি জেলা রোভার মুটের অংশগ্রহন কারী হিসাবি আমরা যোগদান করি।২৯ তারিখ আমরা হাইকিং বা অজানা গন্তব্যে যাত্রার সময়,পথ চলতে চলতে হঠাত চোখ আটকে যায় রাস্তার ডান দিকের একটি বাড়িতে,সাইনবোর্ডে লেখা শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক রামকৃষ্ণ অধিকারী।বরিশালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যা পড়েছি তাতে কোথাও ওনার নাম খুজে পাই নি,অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাহিনী জানলেও বুদ্ধিজীবী বলতে জানি শুধু শহীদ আলতাফ মাহমুদের নাম।সময় না থাকার কারনে আমি ঐদিন ওনার বাড়িতে ঢুকতে পারি নাই।পরদিন আবারো বাবুগঞ্জ বন্দর বাজারে কাজের জন্যে গেলে,একটি স্টুডিও তে ওনার ছবি দেখি,দোকান এর মালিক কে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারি দোকানের মালিক প্রানকৃষ্ণ অধিকারির চাচা হন এই শহীদ বুদ্ধিজীবী।তবে তখনও বিস্তারিত জানার সময় ছিল না,শুধু প্রাণকৃষ্ণ অধিকারির ফোন নাম্বারটা নিয়ে আমি আমার ক্যাম্পে ফিরে যাই।কথা দেই সন্ধ্যায় আসব ওনার দোকানে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক রামকৃষ্ণ অধিকারি,সম্ভবত নামটা আপনাদের অজানা।তবে নিশ্চয়ই গেল বছর ডিসেম্বরে ট্রাইবুন্যাল থেকে ফাঁসির আদেশ পাওয়া জামায়াত নেতা এটি এম আজহারুল ইসলাম কে চেনেন।হ্যা পাঠক ঐ আজহারুল ইসলামই ছিল শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক রামকৃষ্ণ অধিকারী হত্যার খল নায়ক।আজহারের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের ৪ নম্বর অভিযোগ ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের,মজার বিষয় হল আমি কেবল মাত্র হাতে গোনা দু একটি পত্রিকায় এই ৪ জন বুদ্ধিজীবীর নাম পেয়েছি,আর বাকি পত্রিকা কেবল মাত্র ৪ জন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছে এরুপ তথ্য প্রদান করেই তাদের দায় এড়িয়ে গেছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক রামকৃষ্ণ অধিকারী

শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক রামকৃষ্ণ অধিকারী

nolvadex and clomid prices

তিনি বাবুগঞ্জ হাই স্কুল থেকে ১৯৬১ সালে মাধ্যমিক এবং বাংলার অক্সফোর্ড খ্যাত সরকারী বি এম কলেজ থেকে ১৯৬৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষায় পাশ করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ভর্তি হন।১৯৭১ সালের আগে যোগ দেন রংপুর কারমাইকেল কলেজে,শুরু করেন অধ্যাপনা।রাজনিতি এর সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও,বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে জনমত গড়ে তোলার কাজ করেন।নজরে পরে যান স্বাধীনতা বিরোধীদের চোখে,১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল রাত ৯ টার পরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার জন্য রংপুর কার মাইকেল কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক কালাচাদ রায়ের বাসায় মিটিং এ বসেন,

                                                                                              অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন রায়

                                                                                              অধ্যাপক রামকৃষ্ণ অধিকারী

                                                                                             অধ্যাপক সুনীল বরন চক্রবর্ত্তী

আগে থেকেই এদের উপর নজরদারি করেছেন ইসলামী ছাত্র সংঘ (বর্তমান ইসলামী ছাত্র শিবির) এর রংপুর শাখার সভাপতি এ টি এম আজহারুল ইসলাম।মিটিং এর বিষয়টি টের পেয়ে পাকিস্তানী বাহিনী ও আজহারের নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী ঘেরাও করে ফেলে বাসাটি।গভীর আলোচনায় মগ্ন ছিলেন চার অধ্যাপক।হঠাত বারান্দায় শোনা যায় বুটের শব্দ দরজায় বন্দুকের বাটের আঘাত পরতে থাকলে,ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়।পাক আর্মিদের অস্ত্রের নল তাক করা সোজা ৪ অধ্যাপকের দিকে,মুখ দিয়ে বের হতে থাকে উর্দু গালি,শালা মালাউন কা বাচ্চা……………………।ভিতরে চলে যায় কয়েকজন আর্মি টেনে হিচড়ে বের করে আনা হয়,অধ্যাপক কালাচাদ রায়ের সহধর্মিনি মঞ্জু রানি রায়।এরপর টেনে হিচড়ে বন্দুক দিয়ে মারতে মারতে তাদের আর্মি ট্রাকে তোলা হয়।সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় অজানা কোন স্থানে,আড়াল থেকে ঘটনা টি দেখতে পায় ঐ বাসার কেয়ারটেকার।যিনি পরবর্তিতে ট্রাইবুন্যালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।পরে যানা যায় দমদমা ব্রিজের নিচে গুলি করে এদের হত্যা করে পাকবাহিনি।ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিল আজহার উল ইসলাম।

 

07

দুর্ভাগ্যজনক হলেও শিবিরের প্রভাব থাকার কারনে এবং প্রশাসনের গড়িমসিতায় দির্ঘ ৪১ বছর পর কলেজ প্রাঙ্গনে নির্মিত হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরনে  স্মৃতি ফলক।

DSC09266

 

এই শহীদ এর পরিবারের কাহিনী আরো করুন,উনি ছিলেন অবিবাহিত।জন্মের মাত্র ৯ মাসের মাথায় ওনার বাবা মারা যান।ওনারা ছিলেন দুই ভাই,বড় ভাইয়ের আন্তরিক ইচ্ছা থাকার কারনেই প্রচন্ড অভাবের মধ্যেও লেখাপড়ার খরচ মেটানো সম্ভব হয়েছিল।নিজেদের কোন জমি ছিল না,অপরের জমিতে লাঙ্গল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন,স্বপ্ন দেখতেন ছোট ভাই লেখাপড়া শিখে সংসারের হাল ধরবে।কিন্তু শহীদ হবার পর একেবারেই পথে বসে যায় পরিবারটি।

শুধু তাই নয়,মন্ত্রানালয়ের কিছু দুর্নিতিবাজ কর্মকর্তাদের কারনে এখনো শহীদ গেজেটে নাম উঠে নাই এই শহীদের,এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শহীদ বুদ্ধিজিবীর ভাইয়ের ছেলে প্রানকৃষ্ণ রায় জানান,কর্মকর্তারা মনে করেন যে স্বীকৃতি পেলেই তো আমরা অনেক সুবিধা পাব,তাই টাকা পয়সা দিতে আমাদের কোন আপত্তি থাকার কথা না।কিন্তু সুবিধা পাবে কেবল শহীদ পরিবারের সন্তানেরা ও স্ত্রী রা।রামকৃষ্ণ অধিকারী ছিলেন অবিবাহিত সেক্ষেত্রে তাদের আত্মীয় কোন সুযোগ সুবিধাই পাবে না।তথাপি তাদের কাকার আত্মত্য্যগ তো বৃথা ছিল না,তাহলে কেন টাকা দিয়ে স্বীকৃতি আনতে হবে???????কেন ন্যায্য অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হবে???????

বরিশালে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক বা গুরুতবপুর্ন স্থানের নাম থাকলেও,এখন পর্যন্ত এই কৃতি সন্তানের নামে কোন কিছুর নাম করন করা হয় নি।

আফসোস দেশের জন্য প্রান উতসর্গ কারী এই  বুদ্ধিজীবীর প্রাপ্য সম্মানটুকু আজও দিতে পারি নাই আমরা, :-(

কৃতজ্ঞতাঃ প্রাণকৃষ্ণ অধিকারী ও অতনু অধিকারী

buy kamagra oral jelly paypal uk

You may also like...

  1. বীরেরা এভাবেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অন্তরালে হারিয়ে যায়। আর ঘুনপোকা, সাপের মত এ টি এম আজহার টাইপ প্রাণীরা বেঁচে থাকে।

    দেশমাতৃকার জন্য শহীদ এই বীর সন্তানের প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা রইল। viagra vs viagra plus

    ধন্যবাদ আপনাকে – এই শহীদ বীরের কাহিনী তুলে আনার জন্য…

  2. আমরা বড়ই অদ্ভুত এক জাতি !! কাঁদেরকে মাথায় রাখতে হয় আর কাঁদের পায়ের নিচে রাখতে হয় সেইটাই আমরা বুঝি নাহ্‌। acne doxycycline dosage

    accutane prices

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

walgreens pharmacy technician application online

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

doctus viagra