যৌবনের পদ্মফুল

216

বার পঠিত

রাফি বরাবরই শান্ত এবং লাজুক স্বভাবের ছেলে । সবার সাথে ঠিকভাবে , সৌজন্য রক্ষা করে কথা বলতে পারে না । তার এ স্বভাবের জন্য বন্ধুমহলেও সে এখন একটা হাসির পাত্র । এজন্য সে তাদের সাথেও তেমন মেশে না ।
পড়ালেখার প্রচুর চাপ সহ্য করতে করতে দশম শ্রেণিতে উঠলো রাফি । ক্লাসে তার রোল নম্বর ৭ , যাকে বলে লাকি সেভেন । তবে সে মোটেও লাকি ছিল না । তার এমন চুপচাপ , অতীব শান্ত স্বভাবের কারণে স্যার – ম্যাডামরাও তার প্রতি আশাহত এবং বিরক্ত । প্রতিদিনই ধমক এবং অপমান সহ্য করতে হয় তাকে । সাথে বাবা-মায়ের একগাদা দুশ্চিন্তা তো আছেই ।
কিন্তু রাফি এগুলোকে পাত্তা না দিয়ে একমনে এস এস সি’র প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছে । একদিন রাতে সে রসায়নের পর্যায় সারণি নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করে মাথা খারাপ করে ফেলছে । একসময় বই বন্ধ করে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসল । ঠিক তখনি তার বন্ধু শোভন ফোন করল , রাফি রিসিভও করল ।
শোভন একটানা বলতে শুরু করল , ‘‘ জানিস , আজকে একটা মজার ঘটনা ঘটেছে ! আমি আর সাকিব ছুটির পর গার্লস স্কুলের সামনে গিয়েছিলাম । (অট্টহাসি শোনা গেল) সাকিব একটা মেয়ের হাত ধরে কিছু বলতে যাচ্ছিল আর অমনি মেয়েটা কষে একটা চড় লাগিয়ে দিল । তুই বিশ্বাস করবি না মেয়েটা কত্ত সুন্দর দেখতে । ক্লাস নাইনে পড়ে । আমি কাল তোকে দেখাব , তুই দেখলে বুঝবি । রাখি ।’’ রাফি শুধু হু বলেই ফোন রাখল । achat viagra cialis france

পরদিন ক্লাসে ঢুকতেই শোভন ওর হাত ধরে বলল , ‘আজ তোকে মেয়েটার কাছে নিয়ে যাব ।’ তার প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও রাজি করিয়ে ছাড়ল ।
স্কুল ছুটি হল । শোভন রাফিকে তার সাথে যেতে বলল । রাফি এবারও আপত্তি করল , বলল সাকিবকে আবার নিয়ে যেতে । কিন্তু সাকিব চড় খাওয়ার ভয়ে যেতে রাজি হল না । কি আর করা ?!
গেল গার্লস স্কুলের সামনে । রাফির মনে কোন উৎসাহ নেই , কিন্তু শোভনকে দেখে মনে হল বেশ উত্তেজিত । কেন ?! শোভন বলল , ‘ঐ দেখ । আসছে ।’
রাফি দেখল মেয়েটা আসলেই খুব সুন্দর । কিন্তু সুন্দর হলে তার কি ?! মেয়েটা তাদের সামনে আসলে শোভন মেয়েটাকে বলল , ‘এই যে সিস্টার , তোমার নামটা কি জানতে পারি ?’
তখন মেয়েটা একদম অগ্নিমূর্তি ধারণ করে বলল , ‘ওই পোলা , আমার নাম দিয়া তুমি কি করবা ? বাইর হ এখান থেকে । নইলে কালকের মতো থাপ্পড় খাবা ।’
রাফি দেখল অবস্থা বেশি ভালো না । পরিবেশ শান্ত করার জন্য সে মেয়েটাকে বলল , ‘আপু , তুমি তো আমার ছোট । বড় ভাই হিসেবেই বলছি , ওর কথায় কিছু মনে কোরো না ।’
মেয়েটা একটু শান্ত হয়ে বলল , ‘ঠিক আছে । কিছু মনে করলাম না । তুমি এখন এই বখাইট্টাকে নিয়া যাও ।’
রাফি প্রায় জোর করেই শোভনকে সেখান থেকে নিয়ে আসল । শোভন রাফিকে কয়েকটা ঝাড়ি মেরে হনহন করে চলে গেল । রাফিও বাড়ি ফিরে এল । মনে মনে কেন যেন রাগী মেয়েটার কথা ভাবতে লাগল বারবার ।
রাত ১০টার সময় রাফির মা ওর ঘরে আসল , রাফি কিছু বলল না । তখন মা ওকে জিজ্ঞেস করল , ‘কিরে ? তুই তো আমার সাথে ঠিকমত কথাই বলিস না । কিছুই তো শেয়ার করিস না ।’
রাফি বলল , ‘তোমার সাথে পরে কথা বলি , মা ?’ মিসেস আলী একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বের হয়ে গেলেন । রাফি সেটাও লক্ষ্য করল না ।
ইদানীং স্কুলে যাবার সময় মেয়েটার ওপর চোখ পড়ে । রাফি তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নেয় । শোভন ব্যাপারটা বুঝতে পেরে মুচকি হাসে , ‘দোস্ত , ব্যাপার না ।’ রাফিও তখন একটু মুচকি হেসে মাথা নাড়ায় । কয়েকদিন পর ওই রমণীকে আর দেখা গেল না । খোঁজ নিয়ে জানা গেল সে সপরিবারে ঢাকার বাইরে চলে গেছে । রাফির মনে একটা শূন্যতা অনুভূত হল । কেন কে জানে !
এর মাঝেই প্রাইভেট কোচিংএ একটা মেয়েকে দেখে রাফির চোখ আটকে যায় । ভদ্র ছেলেটির এই অবস্থা ! শোভন আর সাকিবও অবাক । কিন্তু রাফির সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ নেই । সে একদম দুঃসাহসী হয়ে গেল । মেয়েটার সাথে কথা বলল , পরিচিত হল । সামিয়া মেয়েটার নাম , রূপবতী , রাফির তো ভালো লাগবেই । এরপর থেকে প্রতিদিনই সামিয়ার সাথে রাফি কথা বলে , দেখা তো হয়ই । মোটামুটি খুব ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল দুইজনের ।

কিন্তু এখানেও কিছু শেষ হল না । একদিন রাস্তা দিয়ে যাবার সময় একটি ডানাকাটা পরী (!) দেখে রাফি তাকে অনুসরণ করা শুরু করল । কিন্তু কতক্ষণ পরেই সে পরী কোন এক গলির আড়ালে উধাও হয়ে গেল । ফিরে আসার সময় সামিয়ার সাথে দেখা হল ওর । সামিয়া হেসে জিজ্ঞেস করল , ‘রাফি , কেমন আছ ?’ রাফি কোনমতে ব্যস্ততা দেখিয়ে চলে এল , সামিয়া মনক্ষুণ্ণ হল কিনা চিন্তাও করল না । সে শুধু ওই পরীটার কথাই ভাবছে । এরপর সামিয়ার সাথে দূরত্ব তৈরি হয়ে গেল রাফির । সামিয়া সেই কোচিং করা ছেড়ে দিল । কিন্তু একদিন রাফি নিজেই সামিয়াকে ফোন করল , রিসিভ করল না কেউ । সামিয়া কি ওকে ভুলে গেল ? side effects of quitting prednisone cold turkey

একদিন স্কুলের পর কোচিং করে ফেরার সময় রিকশায় সামিয়াকে দেখল । একা নয় , বয়সে বড় একটি ছেলের হাত ধরে আছে সে । রাফিকে দেখেও না দেখার ভান করল । মনে হল অনেক উচ্ছ্বসিত । রিকশা দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল ।
রাফির বুকে একটা কম্পন অনুভূত হল ।

যৌবনের পদ্মফুল ভাসমান । কখন যে কার মনের পুকুরে ফুটবে তা কেউ বলতে পারে না ।

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

para que sirve el amoxil pediatrico

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. doctus viagra

walgreens pharmacy technician application online