সে

573

বার পঠিত

রাত একটু বাড়ার সাথেই খিদেটা আবার মাথা চাড়া দিল । দু মাস আগেও এমনটা হত না, দশটার আগ পর্যন্ত দিব্বি সিগারেট দিয়ে চালিয়ে নেয়া যেত,ভাতের প্রয়োজন হত না। এখন লাগে, সন্ধে নামার সাথে সাথেই মাথা খারাপ হয়ে যায়।
ভাতের সাথেও আরও কিছু একটার খিদে জানান দিয়ে যায় একটু পর পর। শরীরের প্রতিটি কনা চেঁচামেচি শুরু করে দেয় – ঘরে যা, ঘরে যা।
ঘরের টানে ঘরে ফিরে যাচ্ছি আমি।

দরজা খুলেই নবাবজাদার মত বললাম – খুদা লাগছে, ভাত দাও।
রাজকন্যা ভাত বাড়ছে। রাজকন্যা বললাম এ কারনে, সে সত্যিই রাজকন্যার মতই। সারা দেহে, চিন্তা মননে। তার তুলনায় আমি গোলামের পুত ।
পথ চলতে কিভাবে যেন একদিন গোলামের পুতের সাথে পেজগি লেগে গেল। হাটতে হাটতে একদিন হাতের ধাক্কায় চুড়ি ভেঙে গেল তার। দুচোখ ভরা জল নিয়ে সে বলল – কত শখ করে চুড়ি কিনেছিলাম। ভেঙে গেল, এখন কে কিনে দিবে চুড়ি আমায়। বল কে কিনে দিবে, তুমি দিবে??
আমি কোনো কিছু না ভেবেই বলে ফেললাম, দিব! অনেক গুলো চুড়ি। ছবির হাটের সমস্ত চুড়ি তোমার হবে, ইডেন কলেজের সামনে যত চুড়ি আছে সব কিনে দেব।
বলেই আমার মন খারাপ হয়ে গেল, বড্ড বেশি চাওয়া হয়ে গিয়েছে চুড়ি কিনে দেয়ার অধিকারটা সবার কপালে জুটে নারে পাগলা।
আমাকে অবাক করে দিয়ে কাজলে লেপ্টে যাওয়া হাতটা আমার হাতে রাখল বালিকা। টেনে নিয়ে চলল শাহবাগের দিকে – লাল, নীল আর কালো চুড়ি কিনে দিবা কিন্তু…..
সেদিন থেকে চুড়ি পড়ানো হাতটা আমার।

দু হাত ভরা চুড়ি তার। হুমায়ুনের নীল চুড়ি না। সবুজ রঙা চুড়ি। লাল কালো নাকি আর ভাল লাগছিল না তাই সবুজ কিনে দিয়েছি, কটকটে সবুজ রঙের। ফিলিপস লাইটের সাদা আলোতে সেই রঙ গলে চোখে ঢুকে যায়, চোখ কুট কুট করে।
আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। চুপচাপ চুড়ির টুং টাং শব্দ শুনছি।
- নাও খাও, রাজকন্যার গলার স্বর আমার চোখ খুলাতে পারল না। আমি গোয়ারের মত চোখ বন্ধ করে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমি জানি এর পর কি হবে, সে আবার বলবে – অ্যাই খাও না।
আমি তবু চোখ খুলবনা। এবার সে আমার চুলে হাত দিবে, খাবে না? উমমমম
তার ঠোটের ছোয়া আর নেশা ধরানো কন্ঠের তীব্রতা আমি সহ্য করতে পারব না। can you tan after accutane

বালিকা আজ কথা বলছে না , ঘোর লাগা দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আমার দিকে।
আমি চমকে বাইরের দিকে তাকালাম। উথাল পাথাল জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে পুরো পৃথিবী। এমন রাতে ঘর ছাড়তে হয়। ঘর ছাড়া মানুষ গুলোকে চাদ আপন করে নেয়। তাদের আপন করে নিতে মাটির কাছাকাছি চলে আসে সে, তীব্র আলোতে ভাসিয়ে দেয় সব বাধন। নেশাগ্রস্ত মানুষ গুলো সেই আলো গায়ে মেখে মুক্তি লাভ করে।।
আজ আমার ঘর ছাড়ার দিন। কিন্তু অদ্ভুত এক বাধনে জড়িয়ে আছি।মুক্তি নয় বাধা পড়ার ইচ্ছেটা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে । আজ ঘর ছাড়া যাবে না, ধরা দিতে হবে তার বাহুডোরে।
কিছু একটা পেতে তার থেকেও বড় কিছু ত্যাগ করতে হয়। আমি জ্যোৎস্নাকে বিদায় জানালাম।
রক্ত মাংসের প্রেমকেই আজ থেকে আপন করে নিলাম..

অদ্ভুত মিষ্টি একটা ঘ্রানে ভরে আছে সারা ঘর। তার দেহের ঘ্রান, ধীরে ধীরে ড্রাগের মত মিশে যাচ্ছে রক্তে।
জানালার ফাক গলে আসা জ্যোৎস্নার আলোতে মাখামাখি হয়ে যাচ্ছে তার শরীর।
সারা দেহে তীব্র তৃষ্ণা নিয়ে অপেক্ষা করছি আমি- তার সাড়ার অপেক্ষায়।

আজ ভালবাসতেই হবে, অনেকটা ভাল…….

You may also like...

  1. বাক্য গঠন শব্দের ব্যবহার বর্ণনা শৈল্পিকতা চমৎকার হয়েছে । :)
    তবে কোন কাহিনী দিয়ে শেষ করলে আরও ভাল হতো।

    acne doxycycline dosage
  2. মুক্ত বিহঙ্গ বলছেনঃ

    লেখার সময় কোনো বিশেষ প্লট ছিলনা মাথায়। লিখেছিলাম এমনিতেই। পরের বার পুরো একটা গল্পই লিখব :) accutane prices

  3. অপার্থিব বলছেনঃ

    চমৎকার। বাক্য গঠন ও অনুভূতির প্রকাশভঙ্গীটা আসাধারন ছিল ।

  4. হুটহাট করে শুরু হয়ে হুটহাট করে শেষ হয়ে গেল… :neutral: তবে ভালো লেগেছে…

  5. viagra vs viagra plus
  6. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    মুন্ত্রমুগ্ধকর বর্ণনা, দারুণ আপনার শব্দের গাঁথুনি। খুব ভাল লাগলো।

    আপনার শেষ করাটাতে সুররিয়ালিস্ট ভাব লক্ষ করলাম!! চমৎকার…
    লিখতে থাকুন

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

ovulate twice on clomid
renal scan mag3 with lasix para que sirve el amoxil pediatrico