থ্রিলারঃ বদলা (পর্ব ১)

421

বার পঠিত

সভ্যতা ব্লগে লেখা আমার প্রথম গল্প এটি।
চার পর্বে সমাপ্ত থ্রিলার গল্প। বাকি পর্বগুলো পর্যায়ক্রমে সভ্যতায় প্রকাশিত হবে।
আশা করি ভাল লাগবে সবার.

————

মে ২৯, ২০১৪

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট জাওয়ারা আহমেদ ককপিটের হেভি ডিউটি গ্লাসের মধ্য দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছেন। এত উচু থেকে আকাশ ফুড়ে থাকা পাহাড়গুলোকেও সমতল ভুমি মনে হচ্ছে। কেমন গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে সব,অনেকটা প্রহরীর মত। রুপসী বাংলার পড়নের শাড়ির সবুজ পাড় যেন।
-বিউটিফুল, নিজের অজান্তেই শব্দটা বেরিয়ে আসল!

মিলিটারি লাইফে প্রতিটি মুহুর্তে কিছু না কিছু ত্যাগ করতে হয় জননী মাতৃভূমির জন্য,এতে কোনো আফসোস নেই তার।তবু মাঝে মাঝে হাপিয়ে উঠেন কিন্তু যখনই এ ধরনের দৃশ্য দেখেন বুকের মাঝে রক্ত ছলকে উঠে।মনে হয়, নাহ মিলিটারি লাইফ খুব একটা খারাপ না।
গত দশ বছরে একটিবারের জন্যও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।

ককপিটের ভেতরের সব আলো নিভিয়ে রাখা হয়েছে, এমন কি প্লেনের টেইল লাইটও। মাটি থেকে প্রায় ১০ কি.মি উপর দিয়ে বিশাল আকৃতির গঙ্গা ফড়িঙের মত বাতাস কেটে উড়ে যাচ্ছে C-130 হারকিউলিস কার্গো বিমানটা। বাংলাদেশ বিমান বাহিনির লোগো সহ সকল আইডেন্টিটি মার্ক চেছে তুলে ফেলা হয়েছে। যদিও গাঢ় অন্ধকারে এসবের কোনো কিছুই দেখা সম্ভব না, তবু টপ সিক্রেট অপারেশনে কোনো ধরনের ঝুকি নেয়া হয় না। জাওয়ারা আর তার কো-পাইলটকে জানানো হয়েছে এটা রেগুলার ট্রেনিং মিশন। যদিও নিজের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে, ডাল মে কুছ কালা হে। কিন্ত বেয়ারা কোনো প্রশ্ন করেনি। কমান্ডিং অফিসার যদি কোনো তথ্য জানানোর প্রয়োজন মনে না করেন তার মানেটা সিম্পল,তোমার জানার দরকার নেই। মিলিটারির নিয়মই এটা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো ইনফরমেশন কাউকে জানানো হয় না,যার যত টুকু জানা প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই জানানো হবে।

নিজের হাত ঘড়িটার দিকে তাকালেন সময় দেখার জন্য।রেডিয়াম আলোর জ্বলজ্বলে কাটা দুটো বুঝিয়ে দিচ্ছে সময় ৩.৩০। সুর্য উঠতে এখনো ঘন্টাখানেক দেরি। সমতলে আলো পৌছাতে পাচটা বেজে যাবে,কিন্তু বান্দরবানের পাহাড়ি উচু অঞ্চল একটু তাড়াতাড়িই সুর্যকে ডেকে নেয়।

কো পাইলটকে ডাকলেন জাওয়ারা,
-রাডার স্ট্যাটাস?

-ক্লিয়ার স্যার,কো পাইলট জবাব দিল।

সন্তুষ্ট চিত্তে মাথা নাড়লেন জাওয়ারা। কমান্ড সেন্টার থেকেও বলা হয়েছে এ সময় আকাশ ক্লিয়ার থাকার কথা। যদিও ঠিক এই মুহুর্তে বঙ্গোপসাগরের উপরের চক্কর দিচ্ছে দুটো F-7 এয়ারগার্ড জঙ্গি বিমান, বিন্দুমাত্র বিপদের আভাস পাওয়া মাত্র সাউন্ড ব্যারিয়ার ভেঙে উপস্থিত হবে। যথারীতি এটাও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট জাওয়ার জানার কথা নয়।।

-ইটিএ ১৫ সেকেন্ড স্যার, কো-পাইলট হেডফোনে জানান দিল।

মাথা ঝাকিয়ে হাতের ডান পাশের একটা সুইচ অন করে দিলেন জাওয়ারা।
কার্গোহোল্ডে একটি হলুদ বাতি জ্বলে উঠল।

পেট পোটা কার্গোহোল্ডে প্রায় ৬০ জন প্যারাট্রুপার অনায়াসে জায়গা করে নিতে পারে কিন্তু এই মুহুর্তে মাত্র দুজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। পিঠে ভারি ব্যাগ,ক্যামোফ্লাজড কমব্যাট ফেটিগ আর মুখে লাগানো কালো কালি সব মিলিয়ে ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে দুজনকেই।
দুজনের উচ্চতা প্রায় একই হলেও একজনের বুকের ছাতি বিশাল আকৃতির, আরেকজন অপেক্ষাকৃত হালকা পাতলা। দুজনেই বাংলাদেশ আর্মির একটি বিশেষ টিমের সদস্য। যোগ্যতার দিক থেকে যার যার ফিল্ডে সেরা।
শেষ মুহুর্তে সাথের সকল অস্ত্র,গ্যাজেটস গুলো আরও একবার চেক করে দেখছে দুজনে।যথারীতি এসবেরও কোথাও বাংলাদেশ সেনাবাহিনির কোনো ছাপ নেই।ব্লাক অপস অপারেশনের বৈশিষ্ট্যই এটি, সরকার কোনো দায়দায়িত্ব নিবে না, ব্রিফিংয়ে বলে স্পষ্ট বলে দেয়া হয়- নেভার গেট কট-ধরা পড়লে ইউ আর অন ইউর অউন। এধরনের অপারেশনে যারা আসে তারা সকল কিছু জেনে শুনেই তবে আসে।এক মাত্র সেরাদের সেরারাই এধরনের ভয়ঙ্কর অপারেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

একে একে নাইট ভিশন, কমিউনিকেশন গ্যাজেট, অস্ত্রগুলোর সেফটি অন আছে কিনা চেক করে দেখল লোক দুজন, সব ঠিক আছে। রেগুলার যেকোনো সৈন্য এসব দেখতে পেলে চোখ কপালে উঠিয়ে ফেলত। অফিসিয়াল লিস্টেও এসব অস্ত্র এবং গ্যাজেটসের কথা উল্লেখ নেই কোথাও।

-গোস্ট রাইডারস,রন্দেভু ইন ফিফটিন সেকেন্ড, হেডফোনে জাওয়ারার গলা ভেসে আসল।

-রজার, জবাব দিল বিশালদেহি লোকটা।

কিছুক্ষন বাদেই পিপ শব্দ করে সবুজ আরেকটি বাতি জ্বলে উঠল,
ধীরে ধীরে কার্গো হোল্ডের দরজা খুলে যাচ্ছে,নিচে দৃষ্টি সীমায় ভেসে উঠল বান্দরবানের পাহাড় গুলো। acquistare viagra in internet

সঙ্গির উদ্দেশ্য ছোট্ট করে মাথা ঝাকাল সে,

-রেডি?

-হেল ইয়াহ! লাইটের আলোতে ঝিলিক দিয়ে উঠল তার সঙ্গির সাদা দাত গুলো।
শান্ত ভঙ্গিতে হেটে গিয়ে দুজনে লাফ দিয়ে বেরিয়ে গেল প্লেনের পেট থেকে।বাঁদুড়ের মত উড়ে যাচ্ছে অজানার উদ্দেশ্যে।

“গোস্ট রাইডারস আউট”- কমান্ড সেন্টারে রিপোর্ট করল জাওয়ারা।

-একনলেজ, হেড ফোনে উত্তর আসল।
তার কাজ আপাদত শেষ, প্লেনের নাক ঘুরিয়ে ফিরতি পথ ধরল জাওয়ারা
“মে গড বি উইথ ইউ ব্রাদারস” আরও একবার ফিসফিস করে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে প্রার্থনা করল নিজের ভাইদের জন্য….
(চলবে)

You may also like...

  1. half a viagra didnt work
  2. আপনার থ্রিল লিখনি চমৎকার!! পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। ব্লগের প্রচুর ফিচারের মাঝে আপনার মৌলিক গল্পটা অসাধারণ লাগবে। পরবর্তী পর্বগুলোর অপেক্ষায় রইলাম…

    আর হ্যাঁ সভ্যতায় স্বাগতম…

  3. এইভাবে ঝুলিয়ে রাখার তেব্র নেন্দা জানাচ্ছি… দ্রুত পরের পর্ব চাই… venta de cialis en lima peru

    সভ্যতায় স্বাগতম মুক্ত… :cool:

  4. চমৎকার লিখনি আপনার। পরবর্তী পর্বগুলোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি…
    সভ্যতায় স্বাগতম… :smile:

  5. মুক্ত বিহঙ্গ বলছেনঃ

    সবাইকে এত্ত গুলা ধন্যবাদ!
    সব কয়টা পর্ব পোস্ট করে দিছি! :D

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

acne doxycycline dosage

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

doctus viagra
all possible side effects of prednisone
viagra en uk renal scan mag3 with lasix