উইন্ডো সিট

280 zoloft birth defects 2013

বার পঠিত

সময় দুপুর ৩ টা । ঢাকা গামী জয়ন্তী এক্সপ্রেস ট্রেনে বসে আছি। ট্রেন ছাড়তে দেরী হচ্ছে কেন কে জানে?এই ভ্যাঁপসা গরমে  ট্রেনের মধ্যে বসে আশপাশের যাত্রীদের কার্যকলাপ   দেখা ছাড়া আর কিইবা করার আছে। আমিও বসে বসে তাই করছি। আমার এক  সারি সামনে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক জমে গেছে। দেশটা কেন রসাতলে যাচ্ছে, কি করলে দেশের স্বার্থ উদ্ধার হবে এই জাতীয় উচ্চ মার্গীয় আলোচনা। কিছু মধ্য বয়সী মানুষ এ নিয়ে তুমুল তর্ক বিতর্কে ব্যস্ত।  রাজনীতির  প্রতি আমার  কোন আগ্রহ নেই, কোন কালেছিলও না। তবুও বাধ্য হয়ে সেসবেরই খানিকটা শুনছি।  মাঝে মধ্যে যে এই আলোচনা শালীনতার সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে তাও বেশ বুঝতে পারছি।  আরেক শ্রেণীর যাত্রীদের দেখছি যাদের চোখ খুজে ফিরছে ট্রেনের মধ্যে থাকা সুন্দরী তরুণীদের। এরা  সাধারণত তরুণ ,পাশের সিটে কোনসুন্দরী মেয়ে বসলে এরা এক ধরনের রোমাঞ্চ অনুভব করে। পথের কোন ক্লান্তিই আর এদের কাছে ক্লান্তি মনে হয় না। এদের অবচেতন মন হয়তো  গুন গুন করে গাইতে থাকে এই পথ যদিই না শেষ হত…।  আমার  ডান পাশের সারিতেই  এক ছেলেকে দেখছি কিছুক্ষণ পর পর কারনে অকারনে দাড়িয়ে গোটা বগির দিকে দৃষ্টি  ফেরাতে। বোঝায় যাচ্ছে কি জিনিস খুজছে সে। ছেলেটির কার্যকলাপ   দেখে বেশ মজা পাচ্ছি। এই ভ্যাপসা গরমে এটাই বলতে গেলে সামান্য বিনোদন। ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। যাক বাবা অন্তত  গরমের হাত থেকে বাচা গেল। কিন্ত পরক্ষনেই এই ট্রেন জার্নির  কয়েক ঘন্টা কি করে  কাটাব ভাবতেই আমার মধ্যে প্রবল বিরক্ত বোধ তৈরি হয়। ছোট বেলা থেকেই  কেন  জানি জার্নি করতে আমার ভাল মোটেও লাগতো না। বাসে চড়লেই বমি করতাম দেখে  শুধু আমার কারনেই  বাবা মাকে  অনেক সময় ট্রেনে যেতে হত। নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও থাকতে আমার ভাল লাগতো না। কোন আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই  বাসায় ফেরার জন্য অস্থির হয়ে যেতাম। ভাবতে অবাক লাগে সেই আমিই কিনা আর কিছু দিনের মধ্যে দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছি। সময় মানুষকে কতই না বদলে দেয় । এই সব ভাবতে ভাবতে এক সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ি।

হ্যালো এক্সকিউজ মি ,জানালার পাশের সিঁটটা আমার। একটু সরবেন প্লিজ।
মিষ্টি একটা নারী কন্ঠ শুনে আমার তন্দ্রাভাব কেটে যায় । চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি  কোন একটা স্টেশনে ট্রেন থেমে গেছে। খানিকটা ঘুমের ঘোরেই  আমার সামনে থাকা  আগুন্তুকের দিকে তাকাই। অবাক বিস্ময়ে আবিষ্কার করি আমার চোখের সামনে  এশা দাঁড়িয়ে। সেই এশা যাকে আমি  কলেজে জল পরী বলে ডাকতাম। আমার ঘুমের ঘোর  যেন মুহূর্তের মধ্যে  কেটে যায় । আজ এত বছর পর চোখের সামনে এশাকে দেখে বিস্ময়ের প্রবল  ঘোর অনুভব করি  । এশাও যে প্রচণ্ড বিস্মিত তাও বেশ বোঝা যাচ্ছে।
-আরে সাকিব তুই, তার পর কি খবর তোর ? কেমন আছিস? একেবারে হড় হড় করে বলে ওঠে সে।
-এই তো। তারপর বল  তোর কি খবর ?
-খুব ভাল। কতদিন পর তোর সাথে দেখা। কল্পনাও করিনি যে আজকে তোর সাথে দেখা হবে।
-আমিও।
-তারপর কোথায় যাচ্ছিস?
-ঢাকা।
-কেন?
-ইংল্যান্ডে চলে যাচ্ছি। আগামী মাসের ১১ তারিখে ফ্লাইট। কিছু কাজ বাকী আছে তাই।
-তুই বিদেশে যাচ্ছিস ! আশ্চর্য তো।
-এখানে আশ্চর্যের কি দেখলি ?
-আশ্চর্য নয় তো কি ? তুই না আগে জার্নি করতে প্রচন্ড ভয় পেতি। মনে আছে কলেজে একবার আমরা সবাই মিলে পাহাড়পুরে পিকনিকে গেলাম কিন্ত তুই গেলি না।
-আমার পেটে সমস্যা ছিল ঐ কারনে যাই নি।
-ভয় পেলে সবারই পেটে সমস্যা হয় । আচ্ছা তুই এত ভীতু ছিলি কেন রে?
-আচ্ছা মানলাম যে ভীতু ছিলাম তাই বলে যে সারা জীবন ভীতু থাকব এরকম তো কোন কথা নেই । সময়ে সবকিছুই বদলে যায়।
-বাব্বা, ম্যাচিউরড মানুষের মত  কথা বার্তা বলছিস। অনেক ম্যাচিউরড হয়ে গেছিস দেখছি। এত  ম্যাচিউরড কথা বার্তা শিখলি কোথায় রে ?
হাসতে থাকে এশা। আমি কি বলব ভেবে পাই না ,খানিকক্ষণ মুগ্ধ হয়ে ওর হাসি দেখি। ওর ঠোটের প্রসারন দেখতে আমার বড় ভাল লাগে। ওর কন্ঠের ধবনি এখনো আমাকে প্রবল ভাবে আন্দোলিত করে। ওর সামান্য সাহচর্য আমাকে তীব্র সুখকর একটা অনুভুতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়  যে  অনুভুতির জন্ম হয়েছিল আজ থেকে ৭ বছর আগে। প্রথম প্রেমের  তীব্র অপার্থিব অনুভুতি । আমি ভেবেছিলাম সেই প্রেমানুভুতির বোধ হয় মৃত্যু ঘটে গেছে কিংবা হারিয়ে গেছে সময়ের  নিষ্ঠুর অতল গহ্বরে। কিন্ত আজ এত বছর পর  উপলব্ধি করি ভালবাসা কখনো মরে যায় না , যেতে পারে না। ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির মত সে সুপ্ত হয়ে বেঁচে থাকে আমাদের হৃদয়ে। আজ বহুদিন পর সে যেন জেগে উঠেছে অনেক পুরনো  সুপ্ততা থেকে।

এশা আর  আমি ইন্টার মিডিয়েটে একই কলেজে একই ব্যাচে  পড়তাম।  এশা ছিল আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী। কি পড়াশোনা নয় , আবৃত্তি , বিতর্ক সবখানেই  সে প্রথম হত। কলেজের সাংস্কতিক অনুষ্ঠান গুলোতে তার ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ।  এশার পারফরম্যান্স  ছাড়া  কোন অনুষ্ঠান হয়েছে এরকম কোন নজির ছিল না আমাদের কলেজে । সেই সুবাদে সে  ছিল আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। সবাই এশার সঙ্গে ভাব তৈরির চেষ্টা করত । আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। যদিও আমি ছিলাম ক্লাসের সবচেয়ে খারাপ ছাত্রদের একজন। ক্লাসে  খুব একটা যেতাম না শুধু পরীক্ষা সামনে আসলেই আমাকে একটু আক্টু দেখা যেত । তবুও এশা আমার সঙ্গে বেশ আগ্রহ নিয়ে কথা বলতো
কখনো ওর মধ্যে বিন্দু মাত্র অহংকার দেখিনি। আজ এত বছর পরও ওর মধ্যে কোন পরিবর্তন নেই যেন সেই আগের এশাকেই দেখছি।
- এই কি ভাবছিস ?
আমি ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখি এশার হাতে দুটো আইসক্রিম।
-কই কিছু না তো।
-আইসক্রিম খাবি?
-দে মাগনা  যখন খাওয়াচ্ছিস খাই । আচ্ছা তুই কোথায় যাচ্ছিস বললি না তো ?
-ঢাকায়
-কেন?
-মাস্টার্স  পরীক্ষা দিলাম।  বি সি এস কোচিংয়ে ভর্তি হব ।  জানিস তো সরকারী চাকরী একেবারে সোনার হরিণ। একেবারে ডু অর ডাই সিচুয়েশন।
-তোর মত ব্রিলিয়ান্ট মেয়ে চান্স পাবে না এটা কি হয় নাকি?
-হয় ,খুব ভাল মত হয় । একে তো ৫৫% কোটা। তারপর প্রতি বছর প্রশ্ন ফাস । চান্স পাওয়া যে  কি কঠিন তা তুই কল্পনা করতে পারবি না। আচ্ছা ভাল কথা তোর পড়া শোনার কি খবর ?
-করিনি।
-করিনি মানে?
-টেনে টুনে ইন্টার মিডিয়েট পাশ করার পর একটা কলেজে অনার্সে ভর্তি হই। একবছর ক্লাস করার পর বাদ দিয়ে দেই।
-কেন ?
-ভাল লাগে  না।
-আচ্ছা আংকেল আন্টি কিছু বলেনি?
-কি আর বলবে। এতদিন বাপের ঘাড়ে বসে খাইছি,ঘুরছি। এখন বাপ বলছে লন্ডনে চলে যেতে তাই চলে যাচ্ছি।
নিজের সম্পর্কে এই কথা গুলো বলতে আমার ভাল লাগে না অথচ  শেষ পর্যন্ত কিনা  এই কথা গুলোই বলতে হল । এশাকে এই কথা গুলো বলতে  গিয়ে আমি যথেষ্টই বিব্রত বোধ করি যেমনটা বিব্রত বোধ করতাম ওকে ভালবাসার কথা বলতে গিয়ে। কতবার যে ওকে ভালবাসার কথা বলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বলতে পারিনি। নিজের সীমা বদ্ধতা গুলো আমাকে পিছন থেকে টেনে ধরত ।  বারবার মনে করিয়ে দিত এশা আমাদের ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল আর আমি ক্লাসের সবচেয়ে খারাপ ছাত্রদের একজন । তবুও একবার  ওর রিকশা আটকিয়ে বলেছিলাম  যে এশা আমি তোকে প্রচন্ড ভালবাসি। তোকে ছাড়া আমি  অস্তিত্বহীন।এশা যথারীতি প্রথমে হেসেই  সব কিছু উড়িয়ে দিতে চাইল ।  কিন্ত আমার বলার মধ্যে নিশ্চয় এমন কিছু ছিল যার কারনে সে যেন থমকে গিয়েছিল এক মুহূর্তের জন্য। সম্ভবত খানিকটা ভয়ও পেয়েছিল । কিছু না বলেই ঐ দিন চলে যায় সে। কি করে যেন এই ঘটনা মহল্লার সবাই জেনে যায় । পরিচিত ঘনিষ্ঠ জনেরা আমার কাছে প্রেমের আপডেট জানতে চাইতো। আমি কিছুই বলতাম না কারন আমার কাছে কোন আপডেট ছিল না। আমার ঐ  প্রশ্নের জবাব এশা আর দেয়নি কখনো। ক্লাসের বন্ধুরাও আমাদের নিয়ে আলোচনা করত । কেউ কেউ করত হাসাহাসি।  একদিন ক্লাসে গিয়ে দেখি দেয়ালের এক কোণায় কে যেন ছোট করে লিখে রেখেছে “সাকিব +এশা”। আমি ওদের প্রতি এক ধরনের কপট রাগ দেখাতাম । কিন্ত সত্যি বলতে কি এশা  ও আমাকে ঘিরে সে সব আলোচনা শুনতে আমার ভালই  লাগতো।  এশা ও এশাকে ঘিরে এক দল সুখ কল্পনাকে সঙ্গী করেই সেসময়ের দিনগুলো পার করতাম ।

একদিন বাবা ডেকে  বললেন -এই তুই নাকি মতিন সাহেবের মেয়েকে বিরক্ত করিস?
আমি খানিকটা ভয় পেয়ে  মিন মিন করে বলি – কে  বলল?
-মতিন সাহেব নিজে এসেছিল আমার কাছে কমপ্লেইন করতে। তুই কি সত্যিই ঊনার মেয়েকে বিরক্ত করিস?
আমি  হতভম্ভ হয়ে চুপ করে বসে  থাকি, বলার মত কিছু খুজে পাই না।
কিরে কথা বলিস না কেন হারামজাদা। লেখাপড়া করিস না  আবার এই সব নোংরামি বলেই একটা চড় দিলেন। সম্ভবত আরও দিতেন , মা এসে পড়ায় শেষ পর্যন্ত রক্ষা। এর কিছু দিন পর এশারা আমাদের এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় বাসা ভাড়া নেয়। তারপরও কলেজে মাঝে মধ্যে দেখা হত কিন্ত কথা বার্তা আর খুব একটা হত না। আমার সামনা সামনি হলেই  সে যেন খানিকটা অস্বস্তি বোধ করত। তারপর ইন্টার মিডিয়েট পাশ করার পর এশা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হল আর আমি কোথাও চান্স না পেয়ে ভর্তি হলাম এলাকার একটি কলেজে।  বাস্তবতার নির্মম কষাঘাতে ততদিনে খানিকটা উপলব্ধি করতে পেরেছি যে এশার মত মেয়ে ঠিক আমার জন্য নয়। ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যত আর আমি লক্ষ্যহীন , গন্তব্যহীন । ওর জীবনে চলার পথে সঙ্গী হওয়ার কোন রকম  যোগ্যতা নেই আমার। এশার  মত মেয়েকে পেতে হলে ভাগ্যবান হয়ে জন্মাতে হয়। আমি সেই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে পড়ি না।

২)
-সাকিব ,তুই কি বিয়ে করেছিস।
-না ।  হঠাত এই  প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলি কেন?
-না অনেককে দেখেছি বিদেশে যাবার আগে একবারে বিয়ে টিয়ে করে যায় । তারপর কিছুদিন পর বউ নিয়ে যায় বিদেশে। তোরও এইরকম প্লান আছে কি না তাই জিজ্ঞেস করলাম।
- এরকম কোন প্লান আমার নেই।
-ভাল। আচ্ছা তুই ইংল্যান্ডে যেয়ে করবিটা কি ?
-লন্ডনে আমার  মামার একটা রেস্টুরেন্ট আছে। মনে হয় সেই রেস্টুরেন্টেই বসতে হবে।
- রান্না বান্না করবি নাকি তুই ?
-করতেও পারি বলা যায় না। আমার কথা বাদ দে তোর খবর বল।  বিয়ে করেছিস নাকি করবি শীঘ্রই?
-আর বলিস  না ।অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার পর থেকে বাবা মা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। আজ অমুক ছেলে তো কাল তমুক । কেউ  ডাক্তার,কেউ ইঞ্জিনিয়ার। আমি অবশ্য বলে দিয়েছি আগামী ৪-৫ বছরে আমার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব নয়। আগে কিছু একটা করে নিজের পায়ে দাড়াই তারপর না হয় দেখা যাবে। বাবা অবশ্য বলেছে আর এক বছর অপেক্ষা করবে। একারনে এবারের বিসিএস টা আমার জন্য খুবই ইম্পরট্যান্ট বুঝলি।
-হুম বুঝলাম।
-তোর মত কপাল তো আর আমার নেই  যে বিদেশে যেয়ে মাসে মাসে মোটা অংকের টাকা কামাব ।
-তোর  তাই মনে হয়?
-তাই নয় তো কি ?আচ্ছা  কেয়ার  খবর কি বলতে পারিস?
-কোন কেয়া ?নাক বোচা কেয়া?
-তোরা না কি সব ফালতু নামে মেয়েদের ডাকতি ,আমার একেবারে গা জ্বলে । হ্যা ঐ কেয়া?
-ওর  তো  বিয়ে হয়ে গেছে গত বছর। জামাইয়ের হজ এজেন্সির ব্যবসা।
-তাই নাকি ?জানতাম না তো। আচ্ছা  তোকে একটা কথা বলি?
-বল ।
-কেয়া না  তোকে খুব পছন্দ করত।
-তাই নাকি?
-হ্যা। আমাকে একবার বলেছিল।  কেয়া ছিল অসাধারন একটা মেয়ে । তুই যদি ওর সাথে সম্পর্ক   করতি তাহলে খুব ভাল করতি।
এই কথা শুনে মুহূর্তের মধ্যেই আমার মাথায়  যেন রক্ত উঠে যায় । আমি বলি -শোন এশা , তুই আমাকে ভালবাসিস না , কখনো বাসিসও নি। খুব ভাল কথা। কিন্ত আমি কাকে ভালবাসব ,কার সাথে সম্পর্ক করব এ ব্যাপারে দয়া করে সাজেশন দিবি না বুঝলি।
-এত রেগে যাচ্ছিস কেন?
-না রাগিনি।
-আচ্ছা তুই কি এখনো সেই সব পাগলামি মাথায় রেখেছিস?
-মাথায় রাখি নি । বিশ্বাস কর একটুও না। সেসব ভুলে গেছি বলেই আজ দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারছি না হলে কখনই পারতাম না বিশ্বাস কর।
-আচ্ছা এই টপিক বাদ দেই কেমন?
-ওকে।
- একটা কাজ করতে পারবি?
-কি কাজ ?
-তোর মামার রেস্টুরেন্টে বসে যা যা রান্না করবি তার দু একটা আইটেম পাঠিয়ে দিস তো খেয়ে দেখব কেমন রান্না বান্না শিখেছিস।
হাসতে থাকে এশা। আমি মুগ্ধ হয়ে ওর হাসি দেখি। অনেক চেষ্টা করেও ওর উপর রাগ করে থাকতে পারি না।  এরকম কোন মায়াবতীর উপর রাগ করে থাকা যায় না, কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।

৩)
বাইরে তাকিয়ে দেখি কোন  একটা ষ্টেশনে ট্রেন থেমে  গেছে।  ষ্টেশনের এক কোণায় একদল বয়াতি গানের আসর বসিয়েছে । গেরুয়া রঙের শাড়ি পরিহিত মধ্য বয়সী  এক  মহিলা একতারা হাতে নিয়ে অপূর্ব ভঙ্গিতে গাইছেন
“কেমনে বলিব আমি বাচি না তারে ছাড়া
আমি ভুল ,বন্ধু ফুলের ভ্রমরা।”
শাহ আব্দুল করিমের গান । কি অসাধরন গায়কী। আমরা দুজনই মুগ্ধ হয়ে খানিকক্ষণ তার গান শুনলাম।
এশা বলে – ভদ্র মহিলা অসাধারন গায় , তাই না।
-হু।
-বড় শিল্পী হওয়ার সব রকম যোগ্যতা উনার আছে।
আমি কিছু বলি না। গানের কথা গুলো তখনো আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।  ট্রেন আবার ছেড়ে দিয়েছে। কিছুক্ষণ পর এশা বলে- সাকিব  তুই কিন্ত জানালার পাশের সিটটা এখনো ছাড়িস নি। ঐ কিন্ত সিটটা আমার । এবার ওঠ , আমি বসব। তুই এখানে বস।
-এই সিট না ছাড়ার পিছনে  একটা যৌক্তিক কারন আছে ?
-কি কারন ?
-ট্রেনের মধ্যে আমার ঘুমানোর অভ্যাস। তুই যদি জানালার পাশে বসিস আর আমি যদি তোর এপাশে বসি তাহলে তোর কাধে হেলান দিয়ে  ঘুমিয়ে পড়তে পারি। সেক্ষেত্রে তোর অসুবিধা হবে । জানালার পাশে বসলে জানালার উপর হেলান দেওয়ার সুযোগ থাকে । কাজেই তোর কোন সমস্যা হওয়ার কথা না।
-সমস্যা হলে হবে তুই উঠতো।
-ভাল করে ভেবে দেখ কিন্ত।
-ভেবে দেখলাম।ওঠ।
-আচ্ছা তোরা মেয়েরা জানালার পাশে বসার জন্য এত চেঁচামেচি করিস কেন রে?
-এমনিতেই। তুই  উঠতো।
আমি বাধ্য হয়ে উঠলাম।  এশা জানালার পাশে বসল। প্রবল বাতাসে এশার খোলা চূল গুলো উড়ছে। আমি সহ যাত্রীদের ভ্র কুঁচকানোকে ঊপেক্ষা করে মুগ্ধতার আবেশ নিয়ে সেদিকে তাকিয়ে আছি। আমার বেশ  ভাল লাগছে।  কিছুক্ষণ পর  দেখি এশা ঘুমিয়ে পড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল এশার মাথা  ট্রেনের জানালার দিকে নয় বরং আমার ঘাড়ে। আমার বিরক্ত লাগার কথা কিন্ত আশ্চর্যের বিষয় একটুও বিরক্ত লাগছে না বরং ভাল লাগছে, বেশ ভাল। পড়ন্ত বিকেলের সূর্যের আলো এশার  মুখে পড়ছে।  ম্রিয়মান সূর্যের আলোয় এশাকে আর কোন সাধারন মানবী বলে মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে সাক্ষাৎ কোন দেবী যার জন্ম  আমাদের এই পার্থিব  জগতে নয় ,অন্য কোথাও । না জানি কোন ভাগ্যবান এই মেয়েটিকে সারা জীবনের জন্যে  তার পাশে পাবে।  হঠাত মনে হল কি হত এই পথ যদি আসলেই কখনো শেষ না হত, কি হত যদি এভাবেই সারাটি   জীবন আমার পাশে থাকতো এশা । এই সব ভাবতে ভাবতে একসময় তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ি।

ও মাগো” অস্ফুট একটা চিৎকার শুনে আমার তন্দ্রাভাব কেটে যায়।  সম্বিত ফিরতেই দেখি রক্তাত্ত এশার মাথা ঢলে পড়েছে আমার ঘাড়ে। আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই । পুরো ঘটনা বুঝে উঠতে আমার কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্ত ততক্ষণে  সব শেষ হয়ে গেছে । আমি চিৎকার করে এশাকে ডাকতে থাকি কিন্ত এশা কোন সাড়া দেয় না। নিস্তব্ধ নিথর হয়ে পড়ে থাকে। নিস্তব্ধ নিথর এই  আমি আগে কখনো দেখিনি। এই  এশাকে সম্পূর্ণ অপরিচিত কোন মানুষ বলে মনে হতে থাকে আমার । হৃদয়ে তীব্র স্রোতের প্রচন্ড রক্ত ক্ষরণ অনুভব করি  আমি  তবে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাই না । কে যেন  ততক্ষণে  শিকল টেনে ট্রেন থামিয়ে ফেলিয়ে ফেলেছে। আমি  এশার নিথর দেহটিকে সঙ্গী করে  নেমে পড়ি। হাসপাতালে পৌঁছে ওর বাবা মাকে ফোন করে সবকিছু জানাই। তারপর হাসপাতাল থেকে বের  হয়ে পড়ি । রক্তাত্ত নিথর এশার মুখটুকু শেষবারের মত  দেখতেও  আমার আর কোন ইচ্ছা হয়না।  বের হয়ে রাস্তার এক কোণায় দাঁড়িয়ে শুন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদার চেষ্টা করি । এশা বিহীন এই পৃথিবীর সবকিছুই আমার কাছে শুন্য বলে মনে হয়। বেঁচে থাকাটিকে মনে হতে থাকে চরম কষ্টকর। আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারি না ,কখনো পারবও না। জানালার পাশের ঐ সিটটিতে আমিও থাকতে পারতাম। ঢিলের ঐ টুকরাটি আমাকেও লাগতে পারতো। আমার মত একটা পরজীবি মরে গেলে কার কি এসে যেত। কিন্ত কেন এশা ?কেন আমি নই। কেন এশার মত মেয়েরা এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর নিষ্ঠুর রসিকতার শিকার হয়ে অকালেই ঝরে যায়? কেন? আমার মাঝে এক গাদা প্রশ্নের জন্ম হয় কিন্ত কোন প্রশ্নেরই উত্তর আমি  খুজে পাই না।  শুধু এটুকু বুঝতে পারি  অপরাধ বোধের এই তীব্র যন্ত্রণাটি সারাটি জীবন আমার সঙ্গী হবে। দুঃসহ  এই নরক যন্ত্রণা থেকে আমার কখনো মুক্তি নেই।আমি গ্রীষ্মের  প্রচন্ড রোদে উত্তপ্ত রাস্তার  পিচ ঢালা পথ ধরে হাটতে থাকি, হাটতেই থাকি । জানি আমার জন্য অপেক্ষা করছে অসীম শুন্যতায় ভরা একটা পৃথিবী । levitra 20mg nebenwirkungen

You may also like...

  1. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    গল্প ভাল লেগেছে, গল্প লিখতে পারছি না অনেক দিন…

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. half a viagra didnt work

all possible side effects of prednisone
private dermatologist london accutane