কাপরূপ কামাখ্যা ও একটি পৌরাণিক কাহিনী।

6319

বার পঠিত

মাঝে মাঝে যখন হতাশা,দুরাশা,নিরাশাগুলো আমাকে আঁকড়ে ধরে তখন মনে একটি সুপ্ত বাসনা উঁকি দেয়।সব ছেড়ে ফেলে চলে যেতে ইচ্ছে হয় আজীবনের জন্য চির রহস্যময় কামরূপ কামাখ্যার দেশে।হায় কপাল, বাসনাটা থালা বাসনের মতই স্ব-স্থানে থেকে যায়, যাওয়া আর হয়ে উঠেনা।যে শঙ্খনীল কারাগারে আমি বন্দী তার থেকে যে মুক্তি নেই।ইচ্ছেকে দমন করি তখন অনিচ্ছায়।

সেই এক দেশ বটেই কামরূপ কামাখ্যা।যাদু-টোনা, তন্ত্র-মন্ত্র, পাহাড়-পর্বত আর অরণ্যে ঘেরা স্বপ্নীল স্বর্গ।প্রাচীণ রূপ কথা, গল্প,ইতিহাস আর কিছু পৌরাণিক কাহিনীর এক অন্য ভুবন।আসলেই কি তাই? চলুন ঘুরে আসি আমার কল্পনায় কামরূপ কামাখ্যার সেই অন্যরকম ভুবন থেকে।

বাংলা উইকিপিডিয়ায় সার্চ দিলে প্রথমেই যা জানা যাবে তা হল,
কামরূপ কামাখ্যা এক ভয়ংকর জায়গা ৷ ওখানে পৌঁছালে আর ফিরে আসা যায় না।
কামরূপ কামাখ্যাকে বলা হয় জাদুটোনা, জাদু তন্ত্র-মন্ত্রের দেশ৷ রহস্যঘেরা এক জায়গা এটি৷ কামরূপ কামাখ্যা শুধু নয়, ওখানের আশেপাশে অরণ্যে আর নির্জন পথে দেখা যায় ভূত-পেত্নী আর ডাকিনী-যোগিনীর।। কামরূপ-কামাখ্যা নারী শাসিত পাহাড়ী ভূ-খন্ড। সেখানকার নারীরা ছলাকলা কামকলায় ভীষণ পারদর্শী। কামরূপ-কামাখ্যার ডাকিনী নারীরা পুরুষদের মন্ত্রবলে ভেড়া বানিয়ে রাখে ।
আবার বাংলাদেশের সাপুরেদের মুখেও কামরূপ কামাখ্যা নিয়ে অনেক মুখরোচক গল্প প্রচলিত আছে।তারা সেখান থেকে বিভিন্ন মন্ত্র তন্ত্র শিখে আসে। ব্লা…ব্লা…ব্লা…।

ইতিহাস ঘেটে যতটুকু জানতে পারি কামরূপ রাজত্ব ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা এবং তৎসংলগ্ন এলাকার সমন্বয়ে গঠিত ছিল। প্রাচীনকালে এর নাম ছিল প্রাগজ্যোতিষ। বর্তমানে ভারতের আসাম রাজ্য এবং বাংলাদেশের সিলেট বিভাগ এর অংশ।

যদিও এই ঐতিহাসিক রাজ্যের সময়কাল চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে ছিল কিন্তু বহুপর পর্যন্ত এর উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীন এবং মধ্যযুগে ঐতিহাসিকগণ কামরূপ নামেই এর উল্লেখ করেছেন। কামরূপ রাজ্যের সময়সীমা শেষ হবার পর মুসলিম গ্রন্থসমূহে কামরূহ বা কামরূদ নামে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। কলিকা পুরাণ এবং সুয়ানচাং এর মতে এই রাজ্যের পশ্চিম সীমানায় করতোয়া নদী এবং পূর্বে সাদিয়ার নিকটবর্তী দিক্কারবাসিনী মন্দির ছিল । বর্মণ বংশ, ম্লেচ্ছা বংশ এবং পাল বংশ রাজ্যটি দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত শাসন করে যার পর কিনা খেন বংশ রাজধানী আরো পশ্চিমে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং রাজ্যের নামকরণ করে কামাতা রাজ্য। সুতরাং কামরূপ রাজ্যের অস্তিত্ব পাল রাজাদের পতনের সাথেসাথে দ্বাদশ শতাব্দীতেই শেষ হয়ে যায়। এই রাজ্যের নাম আজো আসামের কামরূপ জেলার মধ্য দিয়ে বেঁচে আছে।
টলেমির বিশ্বমানচিত্রে এশিয়া যেখানে কামরূপকে Cirrhadia হিসেবে দেখানো হয়েছে।

মহাভারত এবং রামায়ণে এই অঞ্চলকে প্রাগজ্যোতিষ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। ইরিত্রিয় সাগরের পেরিপ্লাস (প্রথম শতাব্দী) এবং টলেমির জিওগ্রাফিয়াতে (দ্বিতীয় শতাব্দী) এই অঞ্চলকে কিরহাদিয়া নামে আখ্যায়িত করেছে যা কিরাতা জনগণের নামে নামাঙ্করণ করা হয়েছে। কামরূপের প্রথম মহাকাব্যিক উল্লেখ পাওয়া যায় ৪র্থ শতাব্দীর সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদের অভিলিখন হতে, যা এক ঐতিহাসিক সময়কালের সুচনাপাতের নির্দেশক। চৈনিক পর্যটক সুয়ানচাং ৭ম শতাব্দীর দিকে ভাস্করবর্মণের শাসনকালে এই রাজ্য ভ্রমণ করেন। কামরূপের রাজাদের বিশেষ করে ভাস্করবর্মণের বিভিন্ন অভিলিখন হতে অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়।

কলিক পুরাণ এবং চৈনিক পর্যচক সুয়ানচাং-এর মতে কামরূপের পশ্চিম সীমানায় ঐতিহাসিক করোতয়া নদী এবং পূর্ব সীমায় তামেশ্বরী দেবীর মন্দির (কলিক পুরাণে উল্লিখিত पूर्वाते कामरूपस्य देवी दिक्करवासिनी-পূর্বতে কামরূপস্য দেবী দিক্কারবাসিনী) যা ছিল আসাম রাজ্যের সর্বপূর্বে অবস্থিত বর্তমান সাদিয়ার নিকট। দক্ষিণ সীমানা ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা এবং ময়মনসিংহ জেলার মধ্যবর্তী এলাকায়। ফলে এটি সমগ্র ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা নিয়ে গঠিত ছিল এবং সময়ে সময়ে বর্তমান সময়ের ভুটান এবং বাংলাদেশের কিছু অংশও এর অধীন ছিল। এর প্রমাণ এই অঞ্চলে প্রাপ্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলাদি হতে পাওয়া যায়। রাজ্যটি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে সম্পুর্নরূপে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে পরিণত হয় এবং এগুলোর মধ্য হতেই এই রাজ্যের উত্তরসুরী হিসেবে পশ্চিমে কামাতা রাজ্য এবং পূর্বে অহোম রাজ্যের উথ্থান ঘটে। ১৫৮১ সালে কামাতা রাজ্যের তদানীন্তন শাসক কোচ রাজা নারায়ণ তাঁর রাজ্যকে দুই ভাগ করেন এবং শঙ্কোশ নদীর পশ্চিম অংশ নিজে রেখে পূর্ব অংশ তার ভাইয়ের ছেলে চিলারায়কে উপঢৌকন দেন। বর্তমান আসাম-পশ্চিম বঙ্গ সীমানার মধ্যে এই বিভাজনের গভীর ছাপ লক্ষ করা যায়। নারায়ণের শাসনামলের পর ১৬০২ হতে পরবর্তীতে পূর্বকোচ রাজ্য বারংবার মুঘলদের আক্রমণের স্বীকার হয় এবং ১৬১৫ সালে এটি মুঘল এবং অহমদের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় যা কিনা সপ্তাদশ শতাব্দী পর্যন্ত চলতে থাকে যখন অহোমগণ মুঘলদের শেষবারের মতো পিছু হটতে বাধ্য করে। রাজ্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অহোমদের হাতে ‌১৮২৬ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত অক্ষুন্ন থাকে। কামরূপ রাষ্ট্রের গঠন কামরূপ রাজাগণের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন তাম্র শিলালিপি সুয়ানচাং-এর মতো বিভিন্ন পর্যটকের বর্ণনা হতে পাওয়া যায়।

আসামের কামরুপ জেলার নীলকন্ঠ পাহাড়ের চূড়ায় এক প্রাচীন মন্দিরের সন্ধান মেলে। এই প্রাচীন মন্দিরটিই কামাক্ষা দেবীর মন্দির নামে পরিচিত।গুয়াহাটি স্টেশন থেকে পাহাড়ি রাস্তা কামাক্ষা মন্দিরের দিকে।পথের এক দিকে রেলিং, অন্য দিকটা পাথুরে আর কখনও ঝোপঝাড়ে ভরা। যে কেউ ইচ্ছে করলেই মন্দিরে পূজা দিতে পারেন। সব ব্যবস্থা করা আছে মন্দিরে।

পুরোহিতদের কথামতো মন্দিরে পুজো পর্ব সম্পাদন করা । প্রধান মন্দিরের বাইরের কুণ্ড থেকে মাথায় জলের ছিটে দিয়ে শুরু করা হয় পুজো পর্ব। সেখানে অসমিয়া ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘যখনই মুখ খুলিবেন, মা কামাক্ষার নাম বলিবেন।’ দেশেরঅন্যান্য বড় মন্দিরের মতোই নগদমূল্যে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বিভিন্ন স্তরে। দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন। অনেকেই বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে দাড়িয়ে পূজা সারেন। এই মন্দিরে দেবীর কাছে প্রার্থনা নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসেন। মনস্কামনা পূর্ণ হলে তারা ঘন্টা বেধে যান। কামাখ্যা মিন্দরের চুড়ো সপ্তরথ আকৃতির। তার গড়নে পাওয়া যায় মৌচাকের আদল। সাতটি ডিম্বাকৃতি গম্বুজের প্রতিটির ওপর তিনখানা স্বর্ণকলস বসানো আছে। মিন্দরের বহিরাংশে গণেশ ও অন্যান্য দেবদেবীর প্রতিকৃতি ও পুরাণ কাহিনীর নানা খণ্ডচিত্র খোদাই করা প্যানেলের সারি।

renal scan mag3 with lasix

মন্দিরের ভেতরে তিনটি প্রকোষ্ঠ। সবচেয়ে বড় পশ্চিম প্রকোষ্ঠটি আয়তাকার। এখানে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ।
মাঝের কক্ষটি বর্গাকার। এখানে দেবী কামাখ্যার ছোট মূর্তি আছে। দেওয়াল জুড়ে খোদাই করা শিলালিপি, মহারাজ নরনারায়ণএবং অন্য হিন্দু দেবতার মূর্তি দেখা যায়। এই প্রকোষ্ঠর পরেই গুহা সংবলিত গর্ভগৃহ শুরু হয়েছে। গুহার দেওয়ালে কোনও ছবি বা খোদাইয়ের কাজ নেই। সরু সিঁড়ির ধাপের শেষে যোনি আকৃতির পাথরের ফাটল
থেকে ঝরে পড়ছে প্রাকৃতিক ঝরণাধারা। জলের ধারা সৃিষ্ট করেছে একরত্তি জলাশয় যার ধারে অবিরাম পূজার্চনা চলে। ধারার উৎসমুখ ঢাকা এক টুকরো লাল কাপড়ে।

আষাঢ় মাসে অম্বুবাচী মেলার সময় কামাখ্যা মন্দির তিন দিন বন্ধ থাকে। এই সময় গর্ভগৃহের চারপাশের জল রক্তিম হয়ে যায়। দেবী রজঃস্বলা হন। তাইমন্দিরে প্রবেশ করা সকলের জন্য নিষিদ্ধ।শোনা যায় এক তরুণ পূজারি সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় দেবীর কোপে তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে যান।জনশ্র“ত যে, কোচবিহারের যে রাজবংশ দেবীর প্রধান ভক্ত ছিল, দেবীর আদেশে তাদেরই মন্দিরে পুজো দেওয়া বারণ ছিল। এখনও রাজবংশের কেউ নীলাচল পর্বতের পাশ দিয়ে গেলে মন্দিরের দিকে তাকান না।

এই কামাক্ষা মন্দিরটিকে নিয়ে রয়েছে এক পৌরানিক কাহিনী। এটাও খুব মজার । মূলত পৌরাণিক এই কাহিনীটি পড়লেই জানা যাবে জায়গাটির নাম কমরূপ হলো কেন? কেনইবা দেবীর নামহলো কামাক্ষা ? আর পাহাড়টার নামইবা নীলকণ্ঠ কেন ?

ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর এই তিনজন হচ্ছেন সৃষ্টি, স্থিতি এবং ধ্বংসের দেবতা। সৃষ্টির একবারে আদি মুহূর্তে সৃষ্টি কর্তারা যখন জগত তৈরির কাজে ব্যস্ত হলেন। পাগল শিব তখন গভীর ধ্যানে মগ্ন হলেন। ধ্বংসের দেবতা যদি অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে নেন তাহলে সৃষ্টি হবে কি করে। ব্রহ্মা, বিষ্ণু পরলেন মহা ফাঁপরে। বিষ্ণুর বুদ্ধিতে ব্রহ্মা নিজের মানসপুত্র দক্ষকে ডেকে পাঠালেন। দক্ষ এলেন ব্রহ্মার কাছে। ব্রহ্মা তাঁকে বললেন, তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg

দক্ষ পিতৃ আজ্ঞা পালনের জন্য উন্মুখ হয়ে উঠলেন। বলুন পিতা আমাকে কি করতে হবে। ব্রহ্মা তখন বললেন, দেখো দেবাদিদেব মহাদেব মহাযোগে তন্ময় হয়ে আছেন। এইরকম ভাবে চললে সৃষ্টির ব্যাঘাত ঘটবে। ধ্বংস না হলে সৃষ্টি করবো কি করে ? তুমি জগন্মাতার পূজা করো। প্রার্থনা করো তিনি যেন তোমার কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করে শিবের পত্নী হন। পিতৃ আজ্ঞা পালনে দক্ষ তৎপর হয়ে উঠলেন। এবং নিজের কাজে মনোনিবেশ করলেন। দেবী মহামায়া দক্ষের আকুল প্রার্থনায় প্রীত হয়ে আবির্ভূতা হলেন। দক্ষকে এই বর দিলেন আমি তোমার কন্যা রূপে জন্মগ্রহণ করবো এবং শিবকে স্বামীরূপে গ্রহণ করবো। কিন্তু একটা কথা তোমায় মনে রাখতে হবে, যখনই আমার অনাদার হবে আমি দেহত্যাগ করবো। দক্ষ দেবী মহমায়ার কথা মেনে নিলেন। যথা সময়ে মহামায়া দক্ষরাজার পত্নী বীরিণীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করলেন এবং মহাদেবকে বিবাহ করলেন। মহামায়া সতী নাম নিয়ে স্বামীর সঙ্গে চলে এলেন শ্বশুর বাড়ি কৈলাসে।

কিছুদিন পর স্বর্গরাজ্যে একটা অনুষ্ঠানে দক্ষরাজ নিমন্ত্রিত হয়ে এলেন। দেবসভা মাঝে পাগল শিব শ্বশুর দক্ষকে পাত্তাই দিলো না। জামাই-এর এরকম অভব্য ব্যবহারে দক্ষ বেশ অপমানিত বোধ করলেন। শিবকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য দক্ষরাজ এক শিব হীন যজ্ঞের আয়োজন করলেন।
তাতে দেবর্যি নারদকে ত্রিভুবনের সকলকে আমন্ত্রণের কথা বললেও শিবকে আমন্ত্রণ জানাতে নিষেধ করলেন। যথা সময়ে দক্ষরাজের যজ্ঞ শুরু হলো। নারদের মুখে সতী পিত্রালয়ে যজ্ঞ হচ্ছে শুনে, সেখানে যাওয়ার জন্য উন্মুখ হলেন। স্বামীর অনুমতি নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে এলে শিব পাত্তাই দিলেন না। শেষে সতী দশমহাবিদ্যা রূপ দর্শন করালেন। তখন শিব সতীকে পিত্রালয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিলেন। metformin tablet

এরপর সতীদেবী পারিষদদের নিয়ে যজ্ঞ স্থলে উপস্থিত হলেন। কিন্তু পিতা দক্ষ সতীকে দেখে গালমন্দ শুরু করলো। কেন সে নিমন্ত্রিত না হয়েও এখানে এসেছে। শিবের গুষ্টির তুষ্টি পূজো করলো। অতো লোকের মাঝে পতিনিন্দা শুনে সতীর মুখ চোখ লাল হয়েগেল। যজ্ঞস্থলেই সতী দেহত্যাগ করলেন। সদাশিব তার দুই চেলা নন্দী- ভিরিঙ্গির মুখে সতীর দেহত্যাগের কথা শুনে খেপে লাল হয়ে গেল।বীরভদ্রাদি অনুচরদের নিয়ে শিব দক্ষের যজ্ঞশালায় উপস্থিত হলেন।

সতীর মৃত মুখ দেখে শিব আর স্থির থাকতে পারলেন না। সঙ্গে সঙ্গে অনুচরদের বললেন যজ্ঞ লণ্ড-ভণ্ড করে দাও আর দক্ষকে হত্যা করো।
শিবের আজ্ঞা পেয়ে অনুচরেরা সব লণ্ড-ভণ্ড করে দিল। ধর থেকে দক্ষের মথা আলাদা করে দিল। দক্ষরাজের স্ত্রী শিবের শ্বাশুড়ী জামাই-এর কান্ডে হতবাক। স্বামীর মৃত্যুতে শোকাতুর হয়ে উঠলেন।
তিনি শিবের কাছে স্বামীর প্রাণভিক্ষা করে স্তব স্তুতি করতে শুরু করে দিলেন। শেষে শিব ছাগলের মুন্ডু কেটে দক্ষের মাথায় বসিয়ে দিয়ে তাকে জীবনদান করলেন। এরপর শিব অনুচরদের কৈলাসে পাঠিয়ে সতীর দেহ নিয়ে ত্রিভুবন দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করলেন। শিবের এই উন্মত্ত আস্ফালনে ত্রিভুবনে প্রলয়কান্ড শুরু হয়েগেল। ব্রহ্মা ভয়ে তটস্থ হয়ে সৃষ্টি রক্ষার তাগিদে বিষ্ণুর কাছে উপস্থিত হলো। যেহেতু উনি এই ধরাধামের পালনকর্তা। সতীর শবদেহ চিন্ময়বস্তু। শিবগাত্র স্পর্শে তার মহিমা হাজার গুণ বেরেগেছে। জগৎপালক বিষ্ণু তখন জগতের মঙ্গলকামনার্থে তাঁর সুদর্শন চক্রের সাহায্যে ধীরে ধীরে একান্ন খন্ডে বিভক্ত করলেন। দেবীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধরাধামের যেখানে যেখানে পরলো সঙ্গে সঙ্গে তা পাথরে পরিণত হলো। সেই সব স্থান পবিত্র মহাপীঠ রূপে প্রসিদ্ধ লাভ করলো। এই একান্নটা মহাপীঠ ছাড়াও ছাব্বিশটা উপপীঠ রয়েছে।

কামরূপে মায়ের মাতৃ যোনি পতিত হয়েছিল।যে স্থানে দেবীর যোনি পতিত হয়েছিল সেই স্থান হচ্ছে তীর্থচূড়ামণি। আগেগার মানুষের মুখে প্রায়শই একটা প্রবাদ প্রচলিত ছিলো- সব তীর্থ বার বার গঙ্গাসাগর একবার। তখনকার সময় সাগরতীর্থে যাওয়াটা ভীষণ বিপদ সঙ্কুল ছিল। বঙ্কিমচন্দ্র এই বিষয়কে নিয়ে সাগরসঙ্গমে লিখেছিলেন । তীর্থচূড়ামনির অর্থ হলো। সব তীর্থের মধ্যে সেরা তীর্থ স্থান। যেখানে সতীর যোনি মন্ডল পতিত হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলে কুব্জিকাপীঠ। কথিত আছে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাক্ষা অবস্থান করছেন, সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ মুক্তিলাভ করে। এই প্রসঙ্গে কালিকাপুরাণের একটা গল্প ছিলো। কালিকাপুরাণের ছাব্বিশতম অধ্যায়ে কামাক্ষার বর্ণনা রয়েছে। পূর্বে এই পর্বতের উচ্চতা ছিল শতেক যোজন। কিন্তু মহামায়া সতীর যোনি অঙ্গ পতিত হওয়ার পর এই উচ্চ পর্বত মহামায়র যোনি মন্ডলের ভার সহ্যে করতে না পেরে কেঁপে উঠলো এবং ক্রমশঃ পাতালে প্রবেশ করতে লাগলো। তখন শিব, ব্রহ্মা, বিষ্ণু প্রত্যেকে একটা করে শৃঙ্গ ধারন করলেন।
তাদের সঙ্গে মহামায়া স্বয়ং সমবেত হলেন। এবং পাতাল প্রবেশ থেকে রক্ষা করলেন এই শৃঙ্গকে। ফলে পর্বতের উচ্চতা একশতো যোজন থেকে এক ক্রোশ উঁচু হয়েগেল। আর মতৃ যোনি পতিত হওয়ার ফলে পর্বতের রং নীল বর্ণ আকার ধারণ করলো। তাই পর্বতের নাম হলো নীলকণ্ঠ পর্বত। অনেকে আবার নীলাচল পর্বতও বলে।

এই মহামায়া নিখিল জগতের প্রকৃতি এবং এই জগতের প্রসব-কারিণী তাই ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর তাকে ধারণ করে রেখেছেন।এদিকে মহাযোগী মহাদেব, স্ত্রী সতী বিরহে পাগল প্রায় অবস্থা। তাঁর মনে মহাবৈরাগ্যের উদয় হলো। তিনি হিমালয়ের দুর্গম স্থানে গিয়ে তপস্যায় নিমগ্ন হলেন। সেই মহাযোগীর ধ্যান ভঙ্গ করে কার সাধ্য।

দক্ষযজ্ঞে সতীদেবী প্রাণত্যাগ করার পর গিরিরাজ হিমালয়ের গৃহে মেনকার গর্ভে কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করলেন। শিশু কন্যাকে সকলে গিরিজা, পার্বতী আরও নামে ডাকতে শুরু করলেন। এদিকে পিতামহ ব্রহ্মা তারকসুর নামে অসুররাজের কঠোর তপস্যায় সুপ্রসন্ন হয়ে তাকে বর দিলেন ত্রিভুবন শিবের ঔরাসজাত সন্তান ভিন্ন কেউই তাকে বধ
করতে পারবে না। ব্রহ্মার বরে বলীয়ান তারকাসুর ত্রিলোক জয় করে দেবতাদের প্রজা বানিয়ে দিলেন। ইন্দ্র প্রভৃতি দেবগণ ব্রহ্মার শরাণাপন্ন
হয়ে তাঁকে সব জানালেন। ব্রহ্মা সব শুনেটুনে বেশ চিন্তিত হয়ে পরলেন। ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর তিনজনে সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয়ের কর্তা একজন এইভাবে উদাসীন হয়ে পরলে সৃষ্টিরক্ষা করা মহা মুস্কিল। তার ওপর তারকাসুরের ঝামেলা। ব্রহ্মা তখন দেবতাদের ডেকে বললেন,সতী দেহত্যাগের পর গিরিরাজের ঔরসে মেনকার গর্ভে স্থান পেয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। একমাত্র শিব বীর্য হতে উৎপন্ন সন্তান তারকাসুরকে বধ করতে পারবে। সবশুনে-টুনে দেবতারা যেন একটা ক্ষীণ আলোর রেখা দেখতে পেল। প্রথমে শিবের ধ্যান ভঙ্গ করতে হবে, দ্বিতীয় শিবের বিয়ে দিতে হবে। চলো নারদের কাছে। নারদ দেবতাদের কথা শুনে আনন্দে নেচে উঠলেন। চলে গেলেন হিমালয় রাজের কাছে। গিরিরাজ এবং তার স্ত্রী মেনকা সব শুনে মহা খুশী। তার কন্যার সঙ্গে শিবের বিয়ে হবে। এর থেকে সুখবর আর কি আছে।

অনেক খোঁজা খুঁজির পর মহাদেবের দুর্গম যোগসাধনের স্থান খুঁজে বার করা হলো। গিরিরাজ হিমালয় এবং তাঁর স্ত্রী মেনকা দেখে এলেন শিবের সেই সাধনের স্থান। তাঁর রাজপ্রসাদ থেকে সেটা খুব একটা দূরে নয়।

zithromax azithromycin 250 mg

দেবর্ষি নারদের কথা মতো তিনি পার্বতীকে পাঠালেন মহাদেবের পূজা আর সেবা করার জন্য। পার্বতীও মহা আনন্দে সখীদের নিয়ে প্রত্যহ শিবের পূজা শুরু করলেন। সতীর মুখের ছায়া পার্বতীর মুখ মন্ডলে।
একবার শিবের ধ্যানভঙ্গ হলে তিনি যদি পার্বতীকে দেখেন তাহলে পার্বতীকে পাওয়ার জন্য তিনি উদগ্রীব হয়ে উঠবেন। মহাদেব নিজেই গিরিরাজের কাছে বিবাহের প্রস্তাব পাঠাবেন। কিন্তু মহাযোগী শিব একদিনও পার্বতীর উপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন না। ব্রহ্মা বিষ্ণু পরলেন মহা সংকটে। দেবতাদের সঙ্গে ব্রহ্মা বিষ্ণু পরামর্শ করে স্থির করলেন, একমাত্র শিবের মধ্যে কামের উদ্রেক জাগাতে পারলেই তার ধ্যানভঙ্গ হওয়া সম্ভব।

ডাক পরলো কাম দেবের। বুঝিয়ে দেওয়া হলো তার কাজ। যথা সময়ে কামদেব স্ত্রী রতিকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হলেন হিমালয়ের শিখরে। ফুল শর নিক্ষেপ করে কামদেব মহাদেবের ধ্যানভঙ্গ করলেন। ধ্যানভঙ্গ হওয়ার পরই মহাদেবের রোষানলে পরলেন মদন কামদেব। শিবের তৃতীয় নয়নের অগ্নিবর্ষণে কামদেব ভষ্মে পরিণত হলো। রতি মূর্ছাগেল। দেবতারা পরলেন মহা বিপদে। এক বিপদ যায়, আর এক বিপদ এসে উপস্থিত হয়। দেবতারা কোনপ্রকারে রতিকে সুস্থ করে বললেন, তুমি ভয় পরিত্যাগ করে এই ভস্মগ্রহণ করো,শিব সুপ্রসন্নহলে আমরা তোমার প্রাণবল্লভকে পুণঃ জীবনদান করবো। কামদেব ভষ্মীভূত হওয়ার পর শিবের উগ্রচন্ডীভাব কিছুটা স্তিমিত হলো। পার্বতীর দিকে চোখ পরতেই তিনি চঞ্চল হয়ে উঠলেন। খুব চেনা চেনা মুখ। তারপরেই আবার গম্ভীর হয়ে নিজের যোগাসন থেকে উঠে সেই স্থান পরিত্যাগ করলেন।
পার্বতীও ছাড়বার পাত্র নয়। শিবকে পাওয়ার জন্য তিনি তপস্যায় ব্রতী হলেন। শিব পার্বতীর তপস্যায় গলে জল হয়েগেলেন। সময় সুযোগ করে মহাধুমধাম সহকারে তিনি পার্বতীকে বিবাহ করলেন। দেব-দেবাদিদেব সকলেই মহাদেবের বিবাহে উপস্থিত রইলেন। রতিও সেই বিবাহে উপস্থিত হলেন। নিজের স্বামীকে ফিরে পাবার জন্য তিনি শিবের কাছে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করলেন। দেব-দেবীগণ সকলেই শিবের কাছে প্রার্থনা করলেন রতির স্বামী কামদেবকে পুনঃ জীবিত করা হোক।

শিব রতির হস্তে ধরা সেই ভস্মাধারে তাঁর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। সেই ভস্মাধার থেকে কামদেবের পুনঃ জন্ম হলো। রতি স্বামী পেলেন। কিন্তু এই কামদেবের রূপের বিপর্যয় ঘটেছে। কামদেবের সেই কাম রূপ স্বরূপ-কান্তি আর নেই। দুজনেই আবার শিবের কাছে প্রার্থনা করলেন,ফিরিয়ে দেওয়া হোক তার আগের রূপ। তখন মহাদেব বললেন। ভারতবর্ষের ঈশানকোনে নীলাচল পর্বত রয়েছে। সেখানে সতীদেহের একান্নটা খন্ডের এখনো একটা খন্ড অনাবিষ্কৃত রয়েছে। সেটি মহামায়ার মহামুদ্রা। সেখানে গিয়ে দেবীর মহিমা প্রচার এবং প্রতিষ্ঠা করলে তুমি তোমার আগের রূপ আবার ফিরে পাবে। কামদেব নীলাচলে এসে মহামায়ার সেই মহামুদ্রা প্রস্তরখন্ড রূপে খুঁজে পেলেন এবং ভক্তি সহকারে পূজা পাঠ করলেন। মহামায়া কামদেব এবং রতির প্রার্থনায় তুষ্ট হয়ে তাঁকে তার আগের রূপ প্রদান করলেন। এই যে কামদেব এখানে এসে তাঁর আগের রূপ ফিরে পেলেন তাই জায়গার নাম হলো কামরূপ। কামদেব তাঁর স্বীয় রূপ ফিরে পাবার পর। দেবীর পূজা যাতে সঠিক ভাবে হয় তাই তিনি বিশ্বকর্মাকে ডেকে পাঠালেন। মহামায়ার জন্য মন্দির তৈরি করতে হবে। বিশ্বকর্মা জায়গা দেখে ভীষণ আনন্দ পেলেন। সব শোনার পর তিনি মন্দির নির্মান করলেন।
মন্দিরের গায়ে চৌষট্টি যোগিনী, আর আঠারোটা ভৈরব-মূর্তি খোদাই করলেন। কামদেব এই মন্দিরকে আনন্দাখ্যা মন্দির নাম জগতে প্রচার করলেন। আর মহামায়া মায়ের মহামুদ্রার নাম হয় মনোবভগুহা।

অতীতে কামরূপে বহু হিন্দু রাজা রাজত্ব করেছেন। কিন্তু তাদের ধারাবাহিক ইতিহাস বিলুপ্ত। অনেক ধর্মবিপ্লব এবং যুগবিপ্লবের সাক্ষী কামদেব প্রতিষ্ঠিত মন্দির কামরূপ কামাখ্যা। কালের অতলে একদিন প্রায় বিলুপ্ত হয়েগেল এই মন্দির। নীলাচল পর্বতের ওই স্থান ঘনো জঙ্গলে ভরে গেল। শক্তিময়ী মাতা কামাখ্যার কথা ভুলেই গেল সকলে। বৌদ্ধযুগের পর গুপ্তবংশের রাজারা কামরূপে বেশ কিছুদিন রাজত্ব করেন। বিশেষ করে বিক্রমাদিত্যের সময় থেকে হিন্দুধর্ম আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১১৫০ সালে পালবংশের ধর্মপাল বর্তমান গৌহাটির পশ্চিমখণ্ডে রাজত্ব করতেন। তিনি খুব ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিছিলেন।

তিনি আবার কামাক্ষা দেবীকে নীলাচল পর্বতে খুঁজে বার করে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ধর্মপালই মায়ের যথাবিধি পূজার্চনার জন্য কান্যকুব্জ থেকে অনেক সদব্রাহ্মণকে কামরূপে নিয়ে আসেন। এরা বাসত্তরীয় ব্রাহ্মণ নামে খ্যাত। এঁরাই কামাক্ষা দেবীর মন্দিরের আদি পূজারী। পালবংশের শাসনের পর মন্দিরের আবার অবলুপ্তি ঘটে। মা কামাক্ষা হারিয়ে যান নীলাচলের গহীণ অরণ্যে। বারভুঞ্যাদের সময় মন্দিরের ইতিহাস অতোটা পরিষ্কার জানা যায় না।

পরে কামরূপের শাসন ভার করায়ত্ত করেন মেছ বা কোচবংশীয় শাসনকর্তা। এরা হাজো বংশীয় নামে পরিচিত ছিলেন। ১৪৮৫ সালে এই বংশের বিশু নামে এক শক্তিমান পুরুষ রাজা হন। ১৪৯০সালে তিনি হিন্দুধর্ম গ্রহণ করে বিশ্বসিংহ নাম পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর ভাই শিশু শিবসিংহ নামে পরিচিতি লাভ করেন। পরে এই বিশ্বসিংহ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ করেন এবং তৎকালীন কামতাপুর বর্তমান কোচবিহারে এসে বসবাস শুরু করেন।

………চলবে

You may also like...

  1. পুরোটা পড়ার পর খালি একটাই অনুভূতি বের হল গলা দিয়ে…

    খাইছে আমারে :shock: :neutral: :mrgreen:

  2. এস এম মেহদি হাসান বলছেনঃ

    আমার পড়ে খুবই ভাল লেগেছে । দারুণ এঞ্জয় করেছি। এ ধরণের লেখা লিখতে আপনাকে ভালই কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু খুবই ভাল হয়েছে।

  3. পরে আবার আসছেন কবে????

    চমৎকার তথ্যের সন্নিবেশন………..

    • শঙ্খনীল কারাগার বলছেনঃ

      আপনার মন্তব্যে কিছুটা হলেও ফিরে আসার আগ্রহ পেলাম। তবে জানিনা পরবর্তী অংশটি নিয়ে আর ফিরে আসতে পারবো কিনা। ধরুন ব্লগটা যদি আপনার কাছে দুর্বোদ্ধ মনে হয় তবে একজন ব্লগার হিসেবে আপনি গঠন মুলক মন্তব্যে তার সমালোচনা করতে পারেন। আমি যথা সাধ্য চেষ্টা করবো আপনার দ্বিধা গুলো দূর করতে। কিন্তু আপনি যদি নির্বোধের মত কিচ্ছু বুঝিনাই, কি লিখছেন ভাই !!!!!!!!!!!!!!!১ :!: :???: বলে গায়েব হয়ে যান তবে এর মধ্যে কিন্তু থেকে যায়, আগ্রহ দমে যায়, কষ্ট গুলো বৃথা হয়। একই বিষয়ের উপর অন্য একটি ব্লগে আমি লিখেছিলাম প্রায় একবছর আগে যদিও সেটা সিরিজ লেখা ছিলোনা সেখানে এখনও গঠন মূলক তথ্য সমৃদ্ধ মন্তব্য পাচ্ছি সমালোচনা পাচ্ছি। ব্লগটিতে কোনো এক কারণে ফিরে যেতে পারছিনা বলে তাঁদের ধন্যবাদ টুকুও দেয়া হয়ে উঠছেনা।
      যাই হোক আপনার মন্তব্য ও পাঠে আপনাকে অফুরন্ত ভালোবাসা। viagra vs viagra plus

  4. চমৎকার সব তথ্য জানতে পারলাম লেখাটি থেকে। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম… :grin:

    viagra in india medical stores
  5. অপার্থিব বলছেনঃ

    দেব দেবীদের এই সব পৌরাণিক গল্প কাথা পড়তে ভালই লাগে , এই লেখাটিও ভাল লাগল তবে পোষ্টে সংযোজিত প্রথম ছবিটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে।

    • সহমত। পোষ্টের বক্তব্যের সাথে প্রথম ছবিটার যোগসুত্র বুঝতে পারিনি… :neutral: doctorate of pharmacy online

    • শঙ্খনীল কারাগার বলছেনঃ

      পোষ্টে সংযোজিত প্রথম ছবিটি মন্দিরে পাথরে খোদাই করা যোনি মাতার আরেক রূপ। যিনি কামাখ্যা মা নামে পরিচিত। যেহেতু তাকে নিয়েই মূল আলোচনাটা তাই মন্দিরের একাংশের এই ছবিটি দিয়েই শুরু করেছি। আমার কাছে অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হয় নাই।

      আপনার গঠন মূলক মন্তব্য ও পাঠে আপনাকে নিরন্তর ভালোবাসা।

      • অপার্থিব বলছেনঃ

        দুঃখিত ,আমি আসলে পোষ্টে সংযোজিত দ্বিতীয় ছবিটির কথা বলতে চেয়েছি, প্রথমটি নয়।

        • শঙ্খনীল কারাগার বলছেনঃ

          এইবার ঠিক আছে। আসলে অনেক কিছু অনেক সময় অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও ঠিক তা নয়। পোস্টটির শুরুতে যে গল্প কাহিনীর প্রচলন কামরূপ কামাখ্যাকে নিয়ে আছে তার সাথে সামাঞ্জস্য করতেই ছবিটির ব্যাবহার। একটি বিখ্যাত ইংরেজী সাময়িকীতে এই বিষয়ের উপর লেখায় ছবিটি ব্যাবহৃত হয়। আমার লেখায় তারই কিছুটা সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরেছি বিধায় ছবিটিকে হয়তো কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। আমার পরবর্তী লেখায় ভেবেছিলাম কামরূপ কামাখ্যার কাম কলা বিষয়ক বিস্তারিত তুলে ধরবো। সেখানে হয়তো আরো কিছু ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাবেন। জানিনা ব্লগ কতৃপক্ষ রাজি হবে কিনা। তার আগে অবশ্যই তাঁদের সাথে আলোচনা করে নেয়াটা জরুরী মনে করছি।

  6. নির্ঝর রুথ বলছেনঃ

    বহুত ঘোড়েল কাহিনী গো দাদা… পড়তে পড়তে প্যাঁচ খেয়ে গিয়েছিলাম। বারবার আগের কথা পড়ে আসতে হয়েছে। can you tan after accutane

    দেখেন, আগেকার দিনে কি সুন্দর পূজা-ধ্যান-তপস্যা করে দেবতার মন পাওয়া যেতো, বর পাওয়া যেতো! যার যেটা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী তপস্যা করলেই দেবদেবী গলে গিয়ে দিয়ে দিতেন। বলি, এখনকার দিনে ঐ সিস্টেমটা আবার চালু করা যায় না?
    তবে অসুরের মতো খারাপ লোকও যদি দেবতাকে পটিয়ে ফেলে, তাহলে ক্যামনে কী?
    ………………………………………………………………………………………………….
    স্পেসিং আর বানানে বেশ সমস্যা। এদিকে আরেকটু যত্নশীল হলে ভালো হয়। পড়ে শিহরিত হলাম যে, ব্রহ্মপুত্র নদ, করতোয়া নদী আর সিলেট বিভাগ এই রহস্যময় এলাকার সাথে জড়িত!

    levitra 20mg nebenwirkungen
  7. ভুল নাম ( মোডারেটেড) বলছেনঃ

    হিন্দুদের সব কিছুতেই মহা শব্দ বার বার ব্যবহার করা হয় । আর যত্ত সব কঠিন কঠিন শব্দ । যজ্ঞ, দক্ষ মহাদেব মহামায়া,
    আগা গোড়া পড়লে, একজনের মাথা নষ্ট হয়ে তার কামরূপ কামাখ্যা জটিল মিশ্রণে মহাযজ্ঞ এমনিতেই শুরু হবে এবং মহিলা হলে যৌনীপথে
    পুরুষ হলে দন্ড পথে রক্ত ঝরবে ।
    যজ্ঞ চালিয়েও নুব্জ করিতে না পারিবে
    হায় হায় বিষ্ণু !!!!

    প্রিয় সভ্য,বাংলা নাম ব্যবহার করুন

  8. shuvo বলছেনঃ

    যোনী পূজা নিয়ে বিস্তারিত কিছু থাকলে লিখেন

    will metformin help me lose weight fast
  9. রিংকি বলছেনঃ

    এখানে কি আমি যেতে পারবো ……? আর গেলে কি ফিরে আসা সম্ভব ……?

  10. Elecktonoic ruster বলছেনঃ

    কিছু মন্ত্র দে ত ভাই। দেখি সিদ্ধি লাভ হয় কি না। আর যুক্তি এত কঠিন ভাষায় দিস কে, বুঝা মুস্কিল বুজলি।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

missed several doses of synthroid