১৩২টা নিষ্পাপ মৃতদেহ এবং পাকিস্তানী নিয়তি…

300

বার পঠিত

গত মঙ্গলবার তেহরিক-ই-তালিবানের জঙ্গিরা ঠাণ্ডা মাথায় ব্রাশফায়ার করে মেরে ফেলেছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলের প্রায় ১৩২টা শিশুকে। এই শিশুগুলো যে এলোপাথাড়ি গুলীতে মারা গেছে, তা নয়, সেনাবাহিনীর সাথে ক্রসফায়ারেও বাচ্চাগুলা মারা যায়নি, বিভিন্ন ক্লাস থেকে অস্ত্রের মুখে এদের এক জায়গায় জড়ো করে লাইন ধরে দাড় করিয়ে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়েছে, কাজটা করেছে মানুষের মত দেখতে কিছু প্রাণী। আর যে শিশুগুলো প্রান বাঁচাতে ক্লাসরুমের দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে ছিল, দরজা ভেঙ্গে তাদের গুলি করা হয়, বেঞ্চের নিচে লুকিয়েও তারা বাঁচতে পারেনি ওরা মৃতদেহগুলোর মধ্যে জবাই করা বেশ কিছু লাশ ছিল। পৈশাচিকতার এক পর্যায়ে এক শিক্ষিকার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, জীবন্ত পুড়িয়ে মারার সেই দৃশ্য দেখতে বাধ্য করা হয় সবাইকে। জারা হামলা করেছিল, তারা কাউকে জিম্মি করেনি, মুক্তিপন চায়নি, তাদের কোন দাবিদাওয়া ছিল না। তারা স্রেফ খুনের উৎসব করতে এসেছিল, নির্বিকার চিত্তে মেরে ফেলতে এসেছিল যতজন পারে…

ঠিক ৪৩ বছর আগে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ দিবাগত রাতে এভাবেই পাকিস্তানী মিলিটারি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিরীহ নিপীড়িত বাঙ্গালীর উপর, সূচনা করেছিল পৃথিবীর ইতিহাসের নৃশংসতম বর্বরতার। সেই রাতে কেউ রক্ষা পায়নি, বাঁচতে পারেনি কেউ। নাড়িচেরা ধন নিষ্পাপ সন্তানকে সর্বশক্তি দিয়ে বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন মা, পারেননি। সদ্যোজাত বাচ্চাকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে দেয়ালে আছড়ে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছিল পাকিস্তানি মিলিটারির সেনারা, তারপর মায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল লোলুপ লালসায়। হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুকে ব্রাশফায়ারে, আগুনে পুড়িয়ে, মর্টার শেলের আঘাতে, ট্যাংকের তলায় চাপা পড়ে মরতে হয়েছিল সেই রাতে, নিষ্পাপ তাজা রক্তে ভিজে গিয়েছিল এই মাটি। কতটা বর্বর হলে স্রেফ জয় বাঙলা বলার অপরাধে একটা পাঁচ বছরের বাচ্চার বুক ঝাঁজরা করে ফেলা যায় বুলেটে, ভাবতেও কষ্ট হয়। অথচ সেই রাত ছিল মাত্র শুরু।

তারপরের নয় মাস জুড়ে লাখো লাখো নিরীহ নিষ্পাপ শিশুকে মেরে ফেলেছে ওরা, মৃত্যু কি সেটা বোঝার আগেই বাচ্চাগুলো অবাক বিস্ময়ে আবিস্কার করেছে, তারা মৃত। বিপন্ন মানবতা বিস্ময়ভরা চোখে চেয়ে দেখেছে, মৃত পিতামাতার প্রাণহীন দেহের পাশে রক্তের স্রোতে হামাগুড়ি দিয়েছে ছোট্ট বাচ্চাটা, যার বেঁচে থাকাটা স্রেফ মিরাকল। ওদের কোন অপরাধ ছিল না, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কোন অপরাধীর উপর গুলি চালাতে আসেনি, ওরা এসেছিল স্রেফ খুনের উৎসব করতে, সেই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল মৃত্যুখেলা, যতখুশি পারো মেরে ফেলো, কেউ কিচ্ছু বলবে না, এঞ্জয় দ্যা গেম জেনটেলম্যান।

গত মঙ্গলবার ছিল ১৬ই ডিসেম্বর, পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক পরাজয়ের দিন। হিস্টোরি রিপিটস ইটসেলফ, যে নৃশংসতাকে তৎকালীন পাকিস্তানকে বর্ণনা করা হয়েছিল হিন্দুস্তানি প্রোপ্যাগান্ডা হিসেবে, যে নৃশংসতা পাকিস্তান অস্বীকার করে আসছে আজ ৪৩ বছর, যেই নৃশংসতার জন্য ক্ষমা চাওয়া তো দূরে থাক, আজো পাকিস্তানের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো হয়, মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই, ৭১রে সামান্য গণ্ডগোল করছিল হিন্দুস্তানি মালাউনগুলা, সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক জওয়ানরা সেইটা কন্ট্রোলে নিয়া আসছিল, কিন্তু ভারতের ষড়যন্ত্রেই পাকিস্তান ভাইঙ্গা গেল, সেই পাকিস্তানে ৪৩ বছর পর হিস্টোরি রিপিট হইল। ৭১ রে ওরা যে নৃশংসতা চালাইছে, তার হাজার ভাগের, লক্ষ ভাগের এক ভাগ পুনঃমঞ্চায়িত করল কিছু বিচিত্র পশু। হিস্টোরি জাস্ট ছোট্ট এক নমুনা দেখাইল মাত্র, কি বীভৎস আর ভয়ংকর একটা জাতি হইতে পারে, কি নিকৃষ্ট, কি পৈশাচিক হইতে পারে তাদের আচরন, চিন্তাভাবনা… হিস্টোরি রিপিটস ইটসেলফ…

জানি তারপরেও ওরা শিক্ষা নেবে না, তারপরেও বলবে, একাত্তর একটা প্রোপ্যাগান্ডা মাত্র, একাত্তর নিয়া এত কথা বলার কিছু নাই। কিন্তু ইতিহাস কাউরেই ছাড়ে না, ইতিহাস বারবার মনে করায়া দেয়, এভ্রিওয়ান ইজ পেইড ব্যাক বাই হিজ ওউন কয়েন…

viagra vs viagra plus
can levitra and viagra be taken together

You may also like...

  1. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    জানি তারপরেও ওরা শিক্ষা নেবে না, তারপরেও
    বলবে, একাত্তর একটা প্রোপ্যাগান্ডা মাত্র,
    একাত্তর নিয়া এত কথা বলার কিছু নাই। কিন্তু
    ইতিহাস কাউরেই ছাড়ে না, ইতিহাস বারবার
    মনে করায়া দেয়, এভ্রিওয়ান ইজ পেইড ব্যাক
    বাই হিজ ওউন কয়েন…

    will metformin help me lose weight fast
  2. পাকিস্তান এমন কোন সভ্য জাতি না যে তারা তাদের অতীতের জন্য ক্ষমা চাইবে।
    এবং তাদের উপর এমন বর্বরোচিত হামলা চলতেই থাকবে যতদিন জঙ্গি আছে সে দেশে।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> viagra in india medical stores

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

capital coast resort and spa hotel cipro
irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg
para que sirve el amoxil pediatrico