অপারেশন আরমার্ড কার

276

বার পঠিত

ডিসেম্বর মাসের কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর, ফজরের আযান দেয়ামাত্র একসাথে দেশের দুই-প্রান্তে একইসময়ে দুইটি ঘটনা ঘটলো। সম্ভবত প্রকৃতির সমতা রক্ষা নীতি অনুসারেই ঘটনা দুইটি ঘটলো। ঘটনাগুলো কি সেটা সঙ্গত কারনেই পরে বলছি।

আসাদের সাথে ফাহমিদার বিয়েটা খুব ধুমধাম করে হয়নি। না হবার কারন দেশের উত্তাল পরিস্থিতি। শেখ সাহেবের উপর কড়া নজরদারি চলছে তখন। দেশের জনগণ ভিতরে ভিতরে ফুসে উঠছে। যেকোনো সময় শেখ সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিতে পারেন। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শহরে জারি করা হয় কারফিউ। এমন পরিস্থিতিতে কি আর ধুমধাম করা মানায়?

আসাদ এর বয়স ছাব্বিশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বেরিয়েছে মাত্র, বেরোনো মাত্রই একটা বেসরকারী ফার্মে চাকরী পেয়ে যায়। আর ছেলে হিসেবেও খুব ভাল, ভদ্র। তাই ফাহমিদার বাবা তাড়াহুড়ো করে মেয়েকে তার হাতে তুলে দিলেন, কখন দেশের পরিস্থিতি কি হয় বলা যায়না। ফাহমিদা জগন্নাথ কলেজের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। রুপ-গুনে অতুলনীয়া বলা যায়। বিয়ের পর মাত্র দুইমাস তাদের একসাথে থাকার সুযোগ হয়। দেশের পরিস্থিতিও রাতারাতি বদলে যায়, পশ্চিম পাকিস্তানিরা ২৫শে মার্চ রাতে ইতিহাসের ভয়ানক হত্যাযজ্ঞটি চালায় ঘুমিয়ে থাকা নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর।
–উঠ আসাদ।
আলতো করে পিঠে ধাক্কা দিকে আসাদকে ডাকে হান্নান বাহিনীর প্রধান হান্নান কাদির।
–উঠছি হান্নান ভাই।
চোখ রগরে উত্তর দেয়ে আসাদ। প্রায় দুই দিন পর তিন ঘন্টা ঘুমালো আসাদ। অবশ্য আসাদ শুধু নয়, পুরো হান্নান বাহিনীর সব যোদ্ধাই ঘুমালো পালাক্রমে। তারা সবাই এখন অবস্থান করছে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ব্রিজের কাছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো, ভৈরব পাক-মিলিটারি ক্যাম্প থেকে শ্রীমঙ্গলগামী দুইটি আরমার্ড কার ছিনিয়ে নেয়া। পাঁচ মিনিটের মাথায় দলটির সবাই জেগে উঠলো। হান্নান ভাই বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাদের এম্বুশ প্ল্যান। আসাদ দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। হান্নান কাদির আসাদকে বললেন লাইট-মেশিনগান নিয়ে ব্রিজের পশ্চিম পাশে অবস্থান নিতে। তার সাথে দিয়ে দিলেন রফিককে। রফিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের তুখোড় ছাত্র। ঠিকমত গাইডেন্স পেলে নাকি সে একদিন উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ রসায়নবিদদের মধ্যে একজন হয়ে উঠবে। রফিকের সদাহাস্য মুখ আর হাতে তার প্রিয় স্প্রিংফিল্ড নিয়ে ব্রিজের পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থান নেয় সে। শুরু হয়ে যায় অপারেশন আরমার্ড কার। viagra vs viagra plus

ভোর ৪ টা ৪২

ব্রিজের অপর প্রান্ত থেকে তিনটি আরমার্ড কার এগিয়ে আসতে দেখা যায়। হিসাবে গন্ডগোল হয়ে যায় হান্নান বাহিনীর। তাদের কাছে খবর ছিলো গাড়ি আসবে দুইটি। সাহস হারায়না যোদ্ধারা যদিও তাদের কাছে অস্ত্র-গোলাবারুদের সংকট ছিলো। আগে থেকেই প্ল্যান বি ঠিক করা ছিলো। হান্নান ব্রিজের পূর্বপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তের যোদ্ধাদের ইশারা করে প্ল্যান বি এপ্লাই করার কথা জানায়।

ব্রিজের উপর উঠতে যাবে আরমার্ড কারগুলো ঠিক তখনি একটা স্মোক বম্ব চার্জ করে নিতুন কুন্ডু নামের ষোল বছরের দলের সর্ব কনিষ্ঠ ছেলেটা। পঁচিশে মার্চ রাতে ছেলেটার বাবা-মা’কে হত্যা করে পাক বাহিনী। সে তখন বাড়িতে ছিলোনা। তাই বেঁচে যায়, কিন্তু তার আর কি হারাবার আছে, অন্তত দেশের জন্য জীবন দেবে এই ভেবে হান্নান কাদিরের বাহিনীতে যোগদান করে নিতুন।

ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব পাকি সৈন্যরা দ্রুত তাদের অবস্থান নিয়ে নেয়। ততক্ষনে ব্রিজের দুইপ্রান্ত থেকে গুলির বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। রফিকের স্প্রিংফিল্ডের কারিশমায় সামনে থাকা আরমার্ড কারের মেশিনগানার গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ওপাশ থেকে তাই গুলি বর্ষণের ঘনত্ব কিছুটা কমেছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে মেশিনগানের পজিশন নেয় আরেকটা পাকি। ব্রিজের পশ্চিমপাশ থেকে এবার একটা হ্যান্ডগ্রেনেড চার্জ করে নিতুন কুন্ডু। ব্রিজের উপর উঠে আসা ৩ পাকি সৈন্যের হাত-পা কোনটা কার আর চেনার উপায় থাকেনা। হান্নান বাহিনীর লক্ষ্য ছিলো আরমার্ড কারের ক্ষতি না করে যুদ্ধটা জিতে নেয়া। তাই একটু দেরী হচ্ছিলো প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে। ঠিক এমন সময় পাক বাহিনীর মেশিনগানের ছোঁড়া একটা তীক্ষ্ণ প্রানঘাতী বুলেট আসাদের শার্টের হাতা ছুঁয়ে বেরিয়ে গেল। কিন্তু পরের বুলেটটি স্প্রিংফিল্ড অধিকারী উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ রসায়নবিদ হতে যাওয়া সদাহাস্য ছেলেটির মুখের হাসি কেড়ে নিতে চিরতরে তার ফুসফুস ভেদ করে চলে যেতে ভুল করলোনা। নিথর হয়ে পড়ে যাওয়া রফিকের দেহের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ খেপে উঠলো আসাদ। যুদ্ধক্ষেত্রের সব নিয়ম ভুলে গিয়ে লাফিয়ে উঠলো সে ব্রিজের উপর। গর্জে উঠলো তার লাইট মেশিনগান। আরমার্ড কারের সামনে অবস্থান নেয়া দুই পাক সৈন্য মুহূর্তে লুটিয়ে পড়লো। নিকটবর্তী মসজিদ থেকে ভেসে আসতে শোনা গেল ফজরের আযান। হতভম্ব হয়ে যুদ্ধ করতে ভুলে গিয়ে ঘটনা প্রতক্ষ্য করতে লাগলো দলের বাকী সদস্যরা। কয়েক মুহূর্তের জন্য সারা পৃথিবীটা যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল। “Don’t try to be a hero in the battlefield” এই বিখ্যাত উক্তিটির সাথে সামঞ্জস্য রেখে  জীবনটা স্টেলোন এর একশন মুভি নয় প্রমাণ করতেই যেন ব্রিজের অপর প্রান্ত ছুটে আসা ঘাতক বুলেট আসাদের কাঁধ ফুঁড়ে বেরিয়ে গেল। মাটিতে পড়ে যাওয়ার আগে তার কল্পনায় ভেসে উঠলো আগস্টমাসে রিফিউজি ক্যাম্পে শেষবারের মত দেখা তার স্ত্রী ফাহমিদার শুকনো মুখটা। মাধবপুর ব্রিজে যখন এই দৃশ্য চলছে তখন দেশের অন্যপ্রান্তে ভোরের স্তব্ধতা ভেদ করে শোনা গেল এক সদ্যজাত শিশুর কান্নার শব্দ।

জন্ম নেয় বীর আসাদের গর্বিত সন্তান।

অপারেশন আরমার্ড কারে অংশ নেয়া মোট ৮ জন যোদ্ধার মধ্যে এখন বেঁচে আছে ৫ জন। বাড়ি ফিরে মা’কে যুদ্ধ জয়ের গল্প শোনাতে পারেনি রফিক, স্ত্রীকে আলিঙ্গন করতে পারেনি রাইসুল। শুধু একজনের কোনো পিছুটান ছিলোনা, কারো কাছে ফেরার প্রতিশ্রুতি ছিলোনা-নিতুন কুন্ডু, তার বাড়িতো পাকিরা জ্বালিয়েই দিয়েছিলো। সে আর কোথায় ফিরবে?

দাদু আসাদুজ্জামান চৌধুরীর হাত ধরে সামনের দিকে হেঁটে যাচ্ছে প্লাবন। প্লাবন এবার ক্লাস সিক্সে উঠেছে। আসাদ সাহেব নিজেই তার নাতিকে পড়ান। মাঝেমাঝে প্লাবন পড়তে চায়না, দাদুর কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে চায়। তখন আসাদ সাহেব প্লাবনের রক্তে ঢুকিয়ে দেন জয় বাংলা স্লোগান, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান। মাধবপুর সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার ধীরেন সরকারের দক্ষতায় সেদিন অপারেশন আরমার্ড কারে অংশ নেয়া বেঁচে থাকা পাঁচ মুক্তিযোদ্ধার একজন আসাদুজ্জামান চৌধুরী। zovirax vs. valtrex vs. famvir

সামনে অনেক ভিড়, ভিড় ঠেলেঠুলে আসাদ সাহেব পথ করে নেন তার আর প্লাবনের। আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর পূর্তি। স্মৃতিসৌধে এসেছেন তিনি তার নাতিকে নিয়ে। ফুল দিয়ে প্লাবনের কাঁধে হাত দিয়ে আসাদ সাহেব বলেন, এই দেশ বাইরের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলাম আমরা, আর ভিতরের শত্রু মুক্ত করার দায়িত্ব তোদের। তোরাই পারবি ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা, রাজাকার এবং দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে।

metformin gliclazide sitagliptin

You may also like...

  1. সেই পুরনো অসাধারন অমিতকে আবারো ফিরে পেলাম। অভিনন্দন কবি, অভিনন্দন

    zithromax azithromycin 250 mg
  2. চমৎকার অমিত… সেই আগের লিখনি!
    খুব ভাল লাগছে আবার আগের ফর্মে আসতে দেখে

  3. আমার অনেক প্রিয় অমিত লাবণ্যের লেখা পড়ে আবার মজা পেলাম

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

acne doxycycline dosage

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

side effects of quitting prednisone cold turkey
acquistare viagra in internet