গ্যাংনাম ষ্টাইল , দলীয়করনে আক্রান্ত টিভি চ্যানেল ও একটি অনুরোধ

340

বার পঠিত missed several doses of synthroid

যারা স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখেন লক্ষ্য করে দেখবেন যে মাঠে চার ছক্কা কিংবা উইকেট পড়লে বিভিন্ন মিউজিকের শব্দ শোনা যায়। এর মধ্যে একটা কমন মিউজিক হল গ্যাংনাম ষ্টাইল। দক্ষিন কোরীয় শিল্পী সাই এর গাওয়া এই গানটি এমনিতেই সারা বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয়। ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি দেখা গানের তালিকায় এই গানটি শীর্ষে অবস্থান করছে অনেক দিন ধরে। এই গানটির মুগ্ধ ভক্তের তালিকায় আছেন বারাক ওবামা থেকে শুরু করে নোভাক জোকভিচ,ক্রিস গেইল থেকে শুরু করে বিয়নসি। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও এই গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ২০১২ সালে টি টুয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপে ক্রিস গেইল ও ওয়েষ্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের গ্যাংনাম ষ্টাইলের নাচ এই উপমহাদেশে এই গানটির জনপ্রিয়তা আরো বাড়িয়ে দেয়। ঐ বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড়রাও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে এই গানটির ষ্টাইলে নেচে দর্শকদের বিনোদন দেন।তখন থেকেই মূলত স্টেডিয়ামে এই গানটির ব্যাবহার শুরু।

মিউজিক সম্পর্কে একটা কথা বহুল প্রচলিত, মিউজিক এন্ড লাভ হ্যাজ নো ল্যাঙ্গুয়েজ। মিউজিক, সাহিত্য, চলচ্চিত্রের মত সৃষ্টিশীল মাধ্যমগুলোকে আসলেই কোন দেশ জাতির গণ্ডীতে আবদ্ধ করা যায় না ।করা উচিতও নয়।বিশ্বায়ন আর তথ্য প্রযুক্তির সুলভতার এই যুগে খুব সহজেই এক দেশের সৃষ্টিশীল কাজ গুলো অন্য দেশে প্রবেশ করছে এবং জনপ্রিয়তাও লাভ করছে।এক দেশের শিল্পীরা অন্য দেশে গিয়ে কনসার্ট করছে ।এক দেশের চলচ্চিত্র অন্য দেশে প্রদর্শিত হচ্ছে। অবশ্যই এর সঙ্গে যুক্ত আছে কর্পোরেট বাণিজ্য-পুঁজিপতি দের বিনিয়োগ ।শিল্প চর্চা আর শুধু শিল্প চর্চাতে সীমাবদ্ধ নেই অনেক দিন ধরেই , এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থের ছড়াছড়ি।বলা যায় যে সাংস্কৃতিক বিভেদের দেয়াল একেবারে মূছে না গেলেও অনেকখানি উন্মুক্ত হয়েছে। চাইলে এই উন্মুক্ত সংস্কৃতির ভাল খারাপ দুটো দিক নিয়েই বিতর্ক করা যায় কিন্ত বাস্তবতা হল আমরা চাইলেও আজকের এই বৈশ্বিক বাজার থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারিনা।গুগলে একটা সার্চ আর ডাউনলোডের লিঙ্কে একটা ক্লিকই আপনার পিসিতে জমা করে দিতে পারে সাম্প্রতিক কালের জনপ্রিয়তম মিউজিক কিংবা আলোচিত চলচ্চিত্রটি।মানুষের পছন্দের মাত্রা যেহেতু ভিন্ন যার যেটা ভাল লাগবে তাই সে শুনবে, তাই সে দেখবে। এখানে শুধু দেশীয় সঙ্গীত শুোনার কিংবা শুধু দেশীয় চলচ্চিত্র দেখার নসিহত কাউকে প্রদান করা উচিত নয়।কিন্ত ষ্টেডিয়ামের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ষ্টেডিয়াম হল খেলাধুলার জায়গা আর খেলোয়াড়রা সমগ্র বিশ্বে নিজ দেশ ও জাতির প্রতিনিধিত্ব করেন । জাতি গঠনেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে ।কাজেই যখন কোন ইভেন্টের মাধ্যমে নিজের দেশ ও জাতিকে পরিচিত করার সুযোগ পাওয়া যায় তখন সেখানে সব সময় দেশীয় সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। আর বাংলাদেশ টীম এমনিতেই খেলার সুযোগ পায় খুব কম কাজেই সীমিত এই সুযোগ হাতছাড়া করা কখনোই উচিত নয়।কিন্ত ষ্টেডিয়ামে যখন উচ্চ শব্দে গ্যাংনাম ষ্টাইল বাজে তখন আসলে ঠিক কোন দেশীয় সংস্কৃতিকে প্রমোর্ট করা হয় তা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আয়োজকেরাই ভাল বলতে পারবেন।এর আগেও টি টুয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপে এক শ্রেণীর আয়োজকের দায়িত্বহীনতায় নিজ দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সুযোগ হারিয়েছি যদিও সেই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ একক ভাবে আয়োজন করেছিল। অবশ্য আমাদের আয়োজকেরা এথেকে শিক্ষা নিয়েছেন বলে মনে হয় না। আর এক শ্রেণীর দর্শক যারা কিনা রাস্তা ঘাটে কোথাও হিন্দি গান বাজলে “শালার ইন্ডিয়া দেশটা দখল কইরা ফেলাইল” বলে আক্ষেপ করেন তারাও ঠিকই মাঠে গিয়ে গ্যাংনাম ষ্টাইলের সাথে হাত পা ছোড়া ছুড়ি করেন যেন তারা ধরেই নিয়েছেন গ্যাংনাম ষ্টাইল দেশীয় কোন সঙ্গীত। কিছু দিন আগে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মুশফিকুর রহিম ও তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর হিন্দি গানের সাথে নাচের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এই শ্রেণীর দর্শকেরাই অনলাইনে সমালোচনার ঢেউ তোলে ।তাদের আক্ষেপ হল বাংলা গানের ভান্ডার এত সমৃদ্ধ হওয়া স্বত্তেও মুশফিকুর রহিম কেন হিন্দি গানের সাথে নাচলেন।দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের পাশাপাশি সস্তা জাতীয়তাবাদীদের সংখ্যাও যে বাড়ছে এই ঘটনাই তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ।

বিএনপি আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম নিয়ে আসিফের একটি গান বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। বাংলাদেশের ম্যাচ চলাকালে ষ্টেডিয়ামে এই গান বাজত, কোন ম্যাচ জিতলে টিভি পর্দায়ও এই গানটি ভেসে উঠত। কিন্ত বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আঁসার পর সব টিভি চ্যানেলে এই গানটি প্রচারের উপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গানটি কতটা উচ্চ মানের সেই বিতর্কে আমি যাব না কিন্ত প্রশ্ন হল শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় একটি গান প্রচারের উপর কেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এরকমটি পৃথিবীর আর কোথাও হয় বলে আমার জানা নেই ।এর আগে বি এন পি আমলেও বিটিভিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম নিয়ে শুভ্র দেবের গান প্রচারিত করা হত না। এখানে গানের মান কিংবা জনপ্রিয়তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মান দন্ড হল শিল্পীর রাজনৈতিক পরিচয়। সত্যিই বিচিত্র !!!

শিল্পীরা একটি দেশ ও জাতির প্রতিনিধিত্ব করেন। কোন রাজনৈতিক দলের লেবেল তাদের গায়ে আটকানো উচিত নয়। অবশ্যই একজন শিল্পীর নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন থাকতে পারে এবং তিনি সেটা প্রকাশ করতেই পারেন। কিন্ত শুধু রাজনৈতীক কারণে কোন শিল্পীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কোন ক্রমেই উচিত নয় । দলীয়করনের রাহু গ্রাস থেকে অন্তত সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রটিকে মুক্ত রাখা হোক আর নিজের রুমে বসে যত ইচ্ছা গ্যাংনাম ষ্টাইল শুনতে থাকুন কিন্ত স্টেডিয়ামে গ্যাংনাম ষ্টাইল প্রচার করা বন্ধ করা হোক যত দ্রুত সম্ভব।

nolvadex and clomid prices

You may also like...

  1. আসলে সংস্কৃতিকে এই জমানায় কোন গণ্ডিতে বদ্ধ রাখার চিন্তাটাই ভুল। আকাশ সংস্কৃতির যুগে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তার পছন্দ বেঁচে নিবে এবং সময়ের আবর্তনেই যে টিকে থাকার সেই টিকে থাকবে। আপনি লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন সংস্কৃতির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত উন্নতি একটা বিশাল প্রভাব রাখে। আর এইভাবেই গোটা দুনিয়ার চিন্তা চেতনা সংস্কৃতি কিংবা এমনকি খাদ্যাভ্যেসও আজ স্রিঙ্খোনাইজড হয়ে যাবে…

    তবে হিন্দি কালচারের ক্ষেত্রে আমার একটা কথা বলার ছিল। হিন্দিটা হচ্ছে আধুনিকতম সভ্যতা পাশ্চাত্যের প্রভাবে করা তাই আমি নকল থেকে ভাব না নিয়ে সরাসরি অরিজিনাল দ্বারা প্রভাবিত হতে পছন্দ করি! :P wirkung viagra oder cialis

    can your doctor prescribe accutane
    • অপার্থিব বলছেনঃ

      বলিউডি ছবির উত্থান ও বিকাশ মুম্বাই কেন্দ্রীক। মুম্বাই শহরের বিকাশ ঘটিয়েছে ব্রিটিশরা , তৈরী হয়ে ছিল ব্রিটিশদের কাছ থেকে সুবিধাভুগী সমাজের একটা উচু ক্লাস। বিশেষ করে ইরান থেকে আগত পার্সিরা ব্রিটিশদের সংস্কৃতিকে সবচেয়ে বেশী ধারন করেছে। ভারতের ইতিহাসে প্রথম সবাক ছবির পরিচালক আরদেশির ইরানী ছিলেন একজন পার্সি। সম্ভবত এই কারনে বলিউডি ছবির একটা ধারা তৈরী হয়েছিল যা শুধু সমাজের আপার শ্রেণির লোকদের প্রুতিনিধিত্ব করে। সে ধারাটি এখনও বর্তমান। বর্তমানেও অধিকাংশ বলিউডি ছবি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতীয়র প্রুতিনিধিত্ব করে না। can levitra and viagra be taken together

      • সেটা ঠিক আছে!! কিন্তু আমার মন্তব্যের প্রতিমন্তব্য কই? :) metformin tablet

        • অপার্থিব বলছেনঃ

          আসলে সংস্কৃতিকে এই জমানায় কোন গণ্ডিতে বদ্ধ রাখার চিন্তাটাই ভুল। আকাশ সংস্কৃতির যুগে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তার পছন্দ বেঁচে নিবে এবং সময়ের আবর্তনেই যে টিকে থাকার সেই টিকে থাকবে। can you tan after accutane

          আপ নার এই বক্তব্যের সাথে এক মত যেটা আমি পোষ্টেই উল্লেখ করেছি

          দেখুন আমিও নিজেকে বিশ্বনাগরিক হিসেবে ভাবতে পছন্দ করি কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন দেশ , ভিন্ন ভিন্ন জাতি , ভিন্ন ভিন্ন ভাষা এগুলোও এই প্রিথিবীর বাস্তবতা। এগুলোকে আমরা অস্বীকার কর তে পারি না . এই বাস্তবতা থেকেই তৈরী হয় নিজ নিজ দেশ কিংবা নিজ নিজ সংস্কৃতির প্রুতি এক ধরনের মমত্ববোধ .কাজেই যখন কোন ইভেন্টের মাধ্যমে নিজ দেশকে নিজ সংস্কৃতিকে পরিচিত করার সুযোগ আসে তখন সেখানে অবশ্যই দেশীয় নিজ সংস্কৃতিকে প্রমোর্ট করা উচিত।

  2. গ্যাংগাম স্টাইল হলেও ভাল, আমি তো কয়েকবার আইপিএল এর থিম মিউজিকটা বাজতে শুনেছি।

    আনিসুল হক একবার তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে গ্যালারিকে উজ্জীবিত করতে বাঘের গর্জন বাজানোর কথা বলেছিলেন। আসলেই তেমন কিছু হলে দারুণ হত।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> ovulate twice on clomid

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

all possible side effects of prednisone
metformin gliclazide sitagliptin
doctus viagra