মিউনিখ অলিম্পিক এবং একজন শেখ কামালের স্মৃতি…

605

বার পঠিত

1900163_1565846036981107_2856681356468865705_n

১৯৭২ সাল। মিউনিখ অলিম্পিক। জার্মান এমব্যাসির পিআরও রুহেল আহমেদের অলিম্পিক দেখার খুব শখ। কিন্তু সম্পর্কে চাচা পশ্চিম জার্মানির রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী প্রতিদিন তার সামনে অলিম্পিকের ভিভিআইপি টিকিট দেখিয়ে ঘুরে বেড়ান। খুনসুটির সুরে হাসতে হাসতে বলেন, নট ইন ইয়োর লাইফটাইম ডিয়ার…

রুহেল ভাইয়ের মেজাজ খারাপ হয়, কিন্তু তিনি কিছু বলতে পারেন না। হঠাৎ একদিন তার ডাক পড়ল চাচার রুমে। ঢোকামাত্র টিকিটের গোছা ছুড়ে দিলেন রাষ্ট্রদূত। থমথমে চেহারা। জানা গেল, প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান অসুস্থ, ডাক্তার বলেছেন, স্ট্রেস প্রবলেম, এক মাস রেস্ট নিতে। তাই সপরিবারে চলে এসেছিলেন সুইজারল্যান্ড। কিন্তু হাজার হাজার মানুষের মাঝে দিন কাটে যার, তিনি কি প্রবাসে একা থাকতে পারেন? অগত্যা ডাকো ইউরোপের সব রাষ্ট্রদূতদের। ব্যস, হুমায়ূন রশিদের অলিম্পিক দেখা শিকেয় উঠলো, মাঝখান থেকে ভিভিআইপি টিকিটের গোছা নিয়ে মনের আনন্দে মিউনিখ চলে গেলেন রুহেল ভাই। can levitra and viagra be taken together

এর মাঝে হঠাৎ খবর এল ভিআইপি গেস্ট এসেছেন, তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হবে। হোটেলের রুমে নক করার পর যিনি দরজা খুললেন, তাকে দেখে রুহেল ভাই অবাক, আর রুহেল ভাইকে দেখে তার চেয়েও বেশি অবাক গেস্ট-
—”কামাল, তুই?
বহুদিন পর দেখা হয়ে গেল দুই বন্ধুর। হাসতে হাসতে রুহেল ভাই জিজ্ঞেস করলেন,
–ক্লাবে যাবি, ড্যান্স দেখবি? কামাল চোখ পাকিয়ে বললেন,
—বিদেশে এসে তুই তো ব্যাটা পুরাই নষ্ট হয়ে গেছিস, পুরাই খবিশ…
রুহেল ভাই ড্রেসের দিকে তাকিয়ে বললেন,
—এইটা কি পড়েছিস? ফকিরা ফকিরা লাগতেছে। তুই একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে…
কামাল হাসতে হাসতে বললেন,
—আমি পৃথিবীর যুদ্ধবিধ্বস্ত দরিদ্রতম দেশের দরিদ্রতম প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, আই উইল ওয়্যার অনলি হুইচ আই ক্যান এফোরড। এইটা নিউমার্কেটের মাস্টার টেইলার্স থেকে বানানো। ১৫০০ টাকা দিয়া বানাইছি দোস্ত  এইটা কি কম দামি? কথাটা শুনে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন রুহেল ভাই, তার মুখে কথা যোগায় না।

শেখ কামাল প্রসঙ্গ পাল্টে বলেন, দোস্ত, একটা ক্লাব দিছি, নাম আবাহনী ক্রীড়াচক্র। রুহেল ভাই বলেন, এইটা কেমন নাম? কামাল বললেন, আরে,পুরা বাংলা নাম, তুর্যও( ফুটবলার গাজী সালাউদ্দিন) আছে আমাদের সাথে। তুর্য’র কথা শুনে খুশি হন রুহেল ভাই, বলেন, জার্সি কি কালারের বানাইছস? কামাল বলেন, এখনো তো ঠিক করি নাই। তখন জার্সি বলতে ছিল লম্বা শার্ট, টি-শার্টের যুগ শুরু হয়েছে মাত্র। দুজনে দাড়িয়ে ছিলেন বিখ্যাত জার্মান ব্র্যান্ড বায়ারিশ মোটর ভেহিকেল (বিএমডব্লিউ) এর কার্যালয়ের সামনে। রুহেল ভাই হঠাৎ পিছনে তাকিয়ে কামালকে দেখিয়ে বললেন, দেখ তো, আকাশী নীল আর সাদার এই কম্বিনেশনটা জার্সি কালার হিসেবে কেমন?
কামাল একটু চিন্তিত স্বরে বললেন, একটু মাইল্ড হয়ে যায় না?
রুহেল ভাই বললেন, আরে এইটা ডিফারেন্ট হবে। জার্সি তো সবই বেশি রংচংয়ের…

এমব্যাসির কর্মকর্তা হিসেবে ভিভিআইপি গেস্টের হবার কারনে তখন প্রতিদিন ৫২ মার্ক হাতখরচ পেতেন রুহেল ভাই। সরাসরি চলে গেলেন অ্যাডিডাসের শোরুমে, ২২ সেট জার্সি কিনে কামালকে গিফট দিলেন। আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রথম অফিসিয়াল জার্সি, শেখ কামালের স্বপ্নের আবাহনী ক্রীড়াচক্র, আকাশি নীল জার্সি…

ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতিচারন করছিলেন Ruhel Ahmed, মুক্তিযুদ্ধের চার নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার। মুগ্ধ শ্রোতা আমরা কজন, তন্ময় হয়ে শুনছি। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে প্রচণ্ড যুদ্ধের এক পর্যায়ে পাকিস্তানী হানাদারদের গুলিতে বাম পা উড়ে যায় তার, প্লাস্টিকের তৈরি কৃত্রিম পা নিয়ে চলছেন আজো। শেখ কামালের খুব পুরনো বন্ধু ছিলেন, খুব কাছ থেকে দেখেছেন কামালকে। খুব লাজুক ছিলেন কামাল,অপরিচিত কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে সে কি সংকোচ তার…সামান্য জামাকাপড়ের বেলায় আশ্চর্য পরিমিতিবোধ, তিনি যে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছেলে, বিলাসিতা কি তাকে মানায়? অথচ তার নামে ছড়ানো হল, এই লোকটা নাকি ব্যাংক ডাকাত, অন্যের স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায় গভীর রাতে… কি বিচিত্র অপপ্রচার, কি অদ্ভুত মিথ্যাচার… thuoc viagra cho nam

স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে আজ শেখ কামালদের গৌরবউজ্জ্বল অবদান ইতিহাসের বিস্মৃত পাতা মাত্র, দেশের প্রতি অসামান্য ভালবাসা বুকে নিয়ে চলে যাওয়া শেখ কামালদের প্রজন্ম চেনে লম্পট হিসেবে, নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে। কি লজ্জা, কি লজ্জা -_-

You may also like...

  1. এমন অগ্নি সন্তানদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা শুনতে পারা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার! আর রুহেল ভাইয়ের এবং তার বন্ধুর মুখে কাহিনী শুনতে পারা অসম্ভব একটা ঘটনা! যারা কিনা নিজেদের জেমস বন্ড কিংবা হারকিউলিস লিউনাইডিস বর্ণনা না করে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধার মত করে বর্ণনা করেন। বাঙলার যোদ্ধারা ছিলেন মানবিক মানুষ অতিমানবীয় কোন দানব না। তাই তো আমাদের বাঙলার জন্ম হয়েছিল দুনিয়ার নৃশংসতম স্বৈরাচারের হাতে একটি রক্তাক্ত জন্ম! দ্যা ব্লাডি বার্থ…

    এই অসামান্য সম্পদের কাছ থেকে যত পারি ইতিহাস সংগ্রহ করে রাখতে হবে। সময় কিন্তু বেশী নাই, অনেক কাজ বাকি…

    • যারা কিনা নিজেদের জেমস বন্ড কিংবা হারকিউলিস লিউনাইডিস বর্ণনা না করে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধার মত করে বর্ণনা করেন। বাঙলার যোদ্ধারা ছিলেন মানবিক মানুষ অতিমানবীয় কোন দানব না। তাই তো আমাদের বাঙলার জন্ম হয়েছিল দুনিয়ার নৃশংসতম স্বৈরাচারের হাতে একটি রক্তাক্ত জন্ম! দ্যা ব্লাডি বার্থ… buy kamagra oral jelly paypal uk

      একজ্যাক্টলি… (y)

      আপনার মত করেই বলতে চাই, উনার কাছ থেকে যতটা সম্ভব সেই অসামান্য ইতিহাসগুলো সংরক্ষণ করতে হবে, ছড়িয়ে দিতে হবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম… স্ময় আর বেশি নাই…

  2. —এইটা কি পড়েছিস? ফকিরা ফকিরা লাগতেছে। তুই একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে…
    কামাল হাসতে হাসতে বললেন,
    —আমি পৃথিবীর যুদ্ধবিধ্বস্ত দরিদ্রতম দেশের দরিদ্রতম প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, আই উইল ওয়্যার অনলি হুইচ আই ক্যান এফোরড। acquistare viagra in internet

    সেই শেখ কামালই পচাত্তরের পরে হয়ে গেল লম্পট আর ব্যাংক ডাকাত। হিস্ট্রি ডিসটর্শন অ্যাট ইটস বেস্ট!

    • সেই শেখ কামালই পচাত্তরের পরে হয়ে গেল লম্পট আর ব্যাংক ডাকাত। হিস্ট্রি ডিসটর্শন অ্যাট ইটস বেস্ট!

      কি আর বলবো ভাই, যখনই কাউকে এইভাবে মিথ্যাচার আর প্রোপ্যাগান্ডা ছড়াতে শুনি, ভয়ংকর লজ্জা লাগে, অসম্ভব গ্লানিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলি… যারা এই দেশটা নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল,তাদের আমরা যুগে যুগে এভাবেই ছুড়ে ফেলেছি নিতান্তই অবহেলায়, তাদের চরিত্রে লেপন করেছি বিচিত্র কালিমা… হায়রে…

  3. অংকুর বলছেনঃ

    একটা কথা কই? দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ডাকাতি করার দরকারটা কি? উনি চাইলেই তো তারেক জিয়ার মত নিয়ে নিতে পারতেন।লুল পাবলিক বুঝেনা কেন?

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

viagra in india medical stores

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

clomid over the counter