স্বর্গেশ্বরী সিলেট

378

বার পঠিত

ঘুরে এলাম বাংলাদেশের ছোট্ট ভূখন্ডের মাঝে স্বর্গরাজ্য সিলেট থেকে। সিলেট সম্পর্কে যদি বলতে হয়,  প্রথমে এক কথায় বলতে হবে – অসাধারণ শব্দটার এত সুন্দর উদাহরণ এর আগে আমি পাইনি। সত্যি অসাধারণ এখানকার নদী – প্রকৃতি আর এখানকার মানুষ। ঢাকা শহরের পরে এতটা আপন অনুভব আমি এই শহরেই পেয়েছি। বাংলাদেশকে যদি তুমি জানতে চাও, জীবনে একবার হলেও সিলেট তোমাকে যেতেই হবে। এই সুরমা – কুশিয়ারা, আদিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহে ভরা চা বাগান আর পাহাড়ী পথ, জাফলং – মারি নদী – এসব না দেখলে তোমার বাঙালি জন্ম বৃথা। বাংলাদেশকে যদি জানতে চাও, মারি নদীর স্বচ্ছ জল একটা বার তোমাকে আস্বাদন করতেই হবে পথিক। করতেই হবে..

১৩ নভেম্বর দুপুর ১২ টা তখন। রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে গেল ঝিকির ঝিকির রেলগাড়ি।  ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া – ভৈরববাজার – ফেঞ্চুগঞ্জ – শায়েস্তাগঞ্জ – হবিগঞ্জ সব পার হয়ে রাতে আট টায় পৌঁছাল সিলেট শহরে। পথে আদিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ধানের ক্ষেত, সবুজের মাঝে বেগুনি রঙা কচুরীপানা ফুলের হাসি, সোনালি ধানে ছাওয়া মাঠ আর অপূর্ব এক সূর্যাস্ত – সত্যি মন কেড়ে নেয়ার মত দৃশ্য ছিল। সিলেট পৌঁছানোর পর প্রীতম ভাইয়ার সাথে প্রথম দেখা হওয়া আর সেই রাত সাড়ে এগারোটার সময় এই পরীক্ষা – মাজারের ব্যস্ত শহরের মাঝে হোটেল খুঁজে দেয়া – সত্যি আমার ধারনার বাইরে ছিল এসব। অনলাইন আমাকে আর কিছু দেক না দেক – এরকম একটা ভাই দিয়েছে।  অনেক বেশি ভাগ্যবান আমি।

পরদিন সকালে উঠে প্রথমেই হযরত শাহজালাল (রহ:) এর মাজারে গেলাম। মেয়েদের তো আসল মাজারে ঢুকতেই দিবে না। বাইরে থেকেই দোয়া পরে চলে আসলাম। অনেক সুন্দর সুন্দর পায়রার ঝাঁক আছে ওখানে। ওখান থেকে কদমতলী বাস স্ট্যান্ড এ এসে বাসে চড়ে জৈন্তাপুর। এখানে একসময় রাজবাড়ি ছিল। সে অনেক কাল আগের কথা। এখন শুধু প্রাচীর গুলো আর একটা সিন্দুক অবশিষ্ট আছে। সেসব দেখে লেগুনায় চড়ে শ্রীপুর। জৈন্তাপুর এর পর থেকে রাস্তা খারাপ এর শুরু যা চরম রুপ পায় জাফলং এর পথে। যাই হোক, শ্রীপুর পৌঁছে পিকনিক স্পটে গেলাম। ওখানে পাহাড় – পদ্মপুকুর – হরিণ – চা বাগানের অপরূপ সৌন্দর্য। চা বাগান দেখতে দেখতে হঠাত চমকে উঠতে হয় মস্ত এক সাদা ঘোড়ার ডাক শুনে।  আশেপাশে তাকালেই মেঘালয়। স্বর্গীয় সৌন্দর্য?  নাহ, স্বর্গ দেখার তখনো বাকি ছিল।

শ্রীপুর পিকনিক স্পট এর সামনে থেকে বাসে করে জাফলং এর পথে। রাস্তাটা দিয়ে যেতে রোলার কোস্টার এ চড়া হয়ে যায়। তবে জাফলং এর সৌন্দর্য রাস্তার কষ্ট ভুলিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। মারি নদীর স্বচ্ছ নীল পানি আর উপরে খোলা আকাশ। পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বরফশীতল পানি। সেখানে মাঝিরা নৌকা বেয়ে চলে। নদীর জলে শেষ বিকেলের সূর্যের ঝিকিমিকি – পাশে বিজিবি আর বি এস এফ দুই দেশের সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম – বিজিবির লোকগুলোকে যেমন আপন লাগে, বি এস এফকে কোনভাবেই ততটা লাগে না। ছবি তোলার পর বিজিবির লোকটাকে যত সহজে ধন্যবাদ বলা যায়, বি এস এফকে যায়না। কন্ঠ জড়িয়ে আসে। এটাই কি স্বজাত্যবোধ? হয়ত বা।।।।

আশেপাশের পাহাড় – নদী – পাথর – ঝুলন্ত সেতু সবকিছুর ছবি তুলে বাসে করে সিলেট শহরে। পরদিন সকালে খেয়ে দেয়ে সোজা শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গল গেলে চারপাশের যে চা বাগান পছন্দ সেখানেই ঢোকার চেষ্টা করলে ভুল করবেন।  সোজা চলে যাবেন BTRI ( Bangladesh tea research institute)  এর চা বাগানে। অসাধারণ – একেবারে হৃদস্পন্দন বন্ধ করে দেয়ার মত সব দৃশ্য এখানে। সবুজ আর সবুজ চা গাছে ঢাকা পাহাড়। তার মাঝে রাস্তা। এই প্রথম কোন পাহাড়ে ওঠা আমার। এখানে উঠে চারপাশে একবার তাকিয়ে জোরে একটা নি: শ্বাস – সব দুশ্চিন্তা এক লহমায় উড়িয়ে দেয়। সেই সাথে চা বাগানের নিজের একটা ঘ্রাণ আছে। পাহাড় আর সমুদ্রের মাঝে আমি কোনটাকে বেশি ভালোবাসি এই প্রশ্নের ও উত্তর পেয়ে গেলাম। অবশ্যই পাহাড়। পাহাড়গুলোর সাথে আমার একেবারে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিল। একাকার হয়ে যেতে ইচ্ছে করছিল।

এখানে কিছু সময় কাটিয়ে তারপর লাউয়াছড়া rain forest এর পথে রওনা হলাম। বনটা এত বড় যা বলার মত না। নির্জন বন – চারদিকে সবুজ আর পাখির কিচির মিচির। তবে খাসিয়াপল্লী আর ঝর্না দেখার খুব ইচ্ছা ছিল। এটা পূরন হলনা। খাসিয়াপল্লী খুঁজে পাইনা আর ঝর্না এই শুকনো মৌসুমে কই পাব? তবে জাফলং আমার  ঝর্না না দেখার কষ্ট টা পুরোপুরি হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছে। এতটা অপূর্ব সেই দৃশ্য যে এর মধ্যে গেলে মানুষের মনে আর কোন রকম অপূর্নতা থাকতে পারেনা। আমার এই মূহর্তের অনুভূতি হল – পৃথিবীর সবচেয়ে পরিতৃপ্ত মানুষ বোধহয় আমি। আমার দেশটাকে আমি ছুঁয়ে দেখতে পেরেছি। এখন মারা গেলেও আর কোন দু:খ অবশিষ্ট থাকবে না।

অসাধারণ এই স্বর্গেশ্বরী সিলেটকে একবার দেখতে আসার আমন্ত্রণ রইল। পুরো পৃথিবীর প্রতি….।

accutane prices
side effects of drinking alcohol on accutane
metformin tablet

You may also like...

  1. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    আর আমাদের দেশের কিছু মানুষ এই দেশ ছেড়ে সৌন্দর্য দেখতে ভিন দেশে যায়! will metformin help me lose weight fast

    সিলেট যেতে ইচ্ছে করছে অনেক দিন ধরেই। কবে যে যাওয়া হবে!

  2. এইরকম চমকপ্রদ ভ্রমনকাহিনী শুনলে লোভ ল্বেগে যায়, ঘুরতে মুঞ্চায় :sad:

    puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলছেনঃ

    লাউয়াচড়া রেল লাইন পার হয়ে হতের বাম দিকের রাস্তাটা হল খাসিয়া পল্লী।সিলেট আসার জন্য অনেক ধন্যবাদ। :evil:

    doctus viagra

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

venta de cialis en lima peru
will i gain or lose weight on zoloft
wirkung viagra oder cialis