কোনো বেধর্মী যেন তৃতীয় পক্ষ হতে না পারে !!

376 soulcysters net metformin

বার পঠিত

চট্রগ্রামে গিয়ে প্রথম নামলাম জি.ই.সি’র মোড়ে । জীবনে প্রথমবার চট্রগ্রামে পা রাখলাম । উদ্দেশ্য ছিল চাকরীর ইন্টারভিউ । ভোর ৫.৩০ এ গিয়ে যখন নামি, তখন সেখানে মাত্র ১টা চায়ের টং খোলা ছিল আর চারপাশটা ছিল বেশ নিরব । ভোরের সূর্য কেবল উঠি উঠি করছে তখন । নাইট কোচে ভালো ঘুম হলনা বলে পরপর দুই কাপ কড়া লিকারের চা পান করে নিলাম।

প্রথম সিগারেটটা ধরিয়েছি সবেমাত্র, তখন ৫.৪৫ এর মতন বাজে । সিগারেট ফুঁকছি, এর মাঝে হঠাৎ করে খেয়াল করলাম আমার অদূরেই কয়েকজন বোরকা-পরিহিত মহিলারা এসে দাঁড়ালো । এই সাত সকালেই বোরকা পড়া দেখে কিছুটা বিস্মিত হলাম । তবে কিছুক্ষন যাবার পরে বুঝতে পারলাম, তারা গার্মেন্টস কর্মী । বাসের জন্য অপেক্ষা করছে । আরো মিনিট পাঁচেক পরে একটা পুলিশ ভ্যান এসে টং-এর সামনে দাঁড়ালো । হাতে আমার তখন দ্বিতীয় সিগারেট জ্বলছে । কিছুটা অস্বস্থিবোধ হচ্ছিল । হাজার হোক, নতুন শহর, অপরিচিত মানুষ । আর আমার মনে ভয়টা একটু বেশিই ছিল । শত হোক, শফি হুজুরদের শহর, ফারাবীরও জন্মস্থান বলে কথা !! আমি আবার নাস্তিক-মুরতাদ মানুষ । তার উপর আবার ফারাবী সাহেব অতীতে বেশ কয়েকবার আমি সহ আমার সহব্লগারদেরকে ট্যাগ দিয়ে মাঝে মধ্যেই ঈমানী স্ট্যাটাস পোস্ট করতেন । আর “ফারাবী সাহেবের কথায় কথায় মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করা” – তো নিত্যনৈমিত্যিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল । সেই পরোয়ানায় “বাউন্ডুলে বাতাস”- এর নামটাও স্থান পেয়েছিল । আর এই কারনেই আমার মনে ভয়টা একটু বেশিই ছিল । যাই হোক মিনিট দশেক বাদে দেখলাম চারদিক থেকেই এরকম বোরকা পরিহিত মহিলাদের আগমন ঘটছে । বুঝতে বাকী রইল না – ফারাবী সাহেব আর শফি হুজুর আর কিছু পারুন বা না-ই পারুন দেশে বোরকাওয়ালীর সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে ।

তো যাই হোক, হালকা বৃষ্টি আর অপরিচিত এলাকার নতুন বাতাস – এই দুয়ে মিলে কিছুটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করতে লাগলো আমার মাঝে । sildenafil efectos secundarios

ইন্টারভিউয়ের পরে বেশ কিছুক্ষন অচেনা এ শহরটাকে ঘুড়ে ঘুড়ে দেখার ইচ্ছে জেগেছিল । কিন্তু সাহস হল না । তারপরও একজন পূর্ব পরিচিত বড় ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম কিছুক্ষন বিশ্রাম নেবার জন্য । তারপর সেদিন আর তেমন কিছু ঘটেনি উল্লেখ করার মতন । ও হ্যা চাকরীটা ঠিক হয়ে গেল চট্রগ্রামেই । পোস্টিং মীরসরাই ।

এরপর সপ্তাহ খানেক বাদে জয়েন করলাম । আর আস্তে আস্তে খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশতে শুরু করলাম চট্রগ্রামের মুসলিমদের সাথে !! “চট্রগ্রামের মানুষ” না বলে “চট্রগ্রামের মুসলিম” বলেছি । কারন, দুর্ণাম করছি জেনেও খুব কষ্ট লাগছে, তবুও সত্যি কথা বলতে, চট্রগ্রামে অমুসলিমদেরকে সাধারনত নিম্নমানের প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে মুসলমানেরা । এর প্রমাণ বেশ কয়েকবারই পেয়েছি আমার আশে পাশের মুসলিমদের থেকে ।

আমার কলিগ ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী । একদম গোঁড়া আর ধর্মান্ধ, কিন্তু ধর্মভীরূ কি না সে টা স্পষ্ট করে বলতে পারবো না । আহার থেকে শুরু করে দিনের প্রতিটি কাজেই তিনি খুব সতর্কভাবে “জাত” বাঁচিয়ে চলতে চেষ্টা করতেন । আর তার এই “জাত” বাঁচিয়ে চলা দেখে আমার মুসলিম কলিগেরা মাঝে মাঝে হাসাহাসি এবং কটুক্তি করত । খুব খারাপ লাগতো তখন, যখন এসব কটুক্তি শোনার পরেও নিরবে-নিভৃতে তিনি এগুলো সহ্য করে যেতেন । কখনও তাকে বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করতে দেখিনি । তবে একদিন বুঝতে পেরেছিলাম – তার এই জাত বাঁচিয়ে চলার অভ্যাসটা তৈরী হয়েছে মুসলিম কলিগদের সাহচর্যে এসেই । অমুসলিম বলে তাদেরকে বেশ হেয়ভাবে দেখতো মুসলিমেরা । আর এই ধরনের দৃষ্টিভংগীর কারনে, তিনিও কিছুটা বাধ্য হয়েছেন, নিজেকে এবং নিজের ধর্মকে অপমানের হাত থেকে বাঁচিয়ে একটু গাঁ বাঁচিয়ে চলতে । অন্ততঃ তার জায়গায় ধর্মপ্রাণ যে কোনো ব্যক্তিও হয়ত একই ধরনের কাজ করতেন । মাঝে মাঝে ভাবতাম – “দেশে কয়েক মাস পূর্বে যখন সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তখন নির্যাতিত হয়েছিল অমুসলিমেরাই । কারন সংখ্যার আধিক্যের কারনে তাদের (মুসলিমদের) ক্ষমতা আর দৃষ্টিভঙ্গীর ওজন অনেক বেশি ।”

একদিন আমার একজন মুসলিম কলিগ আমাকে বোঝাচ্ছিলেন –

“দেখুন ভাই, আপনি আর আমি মুসলিম, আর সে (আমার হিন্দু কলিগ) হচ্ছে হিন্দু । আপনার প্রতি আমার, আর আমার প্রতি আপনার থাকবে অন্যরকম অধিকার, অন্য রকম টান । কোনো বেধর্মী যেন আমাদের মাঝে এসে তৃতীয় পক্ষ হয়ে কাজ না করতে পারে ।”

প্রত্যুত্তরে আমি একগাল হেসেছিলাম মাত্র । আমি আমার ধর্মবিশ্বাস সেদিন তার নিকট থেকে গোপন রেখেছিলাম । শত হোক, আমার কলিগ – মুসলিম । অমুসলিমদের গর্দান নিতে তারা সর্বদাই প্রস্তুত ।

কিন্তু সত্যি বলতে, আমি একটা দিনেও আমার সেই হিন্দু ধর্ম্বালম্বী কলিগের মুখে কিংবা চাহনীতে বিদ্বেষী কোনো প্রতীমা দেখিনা বা শুনিনি । “সংখ্যালঘু” বলতে একটা “পাপী” শব্দ আছে, যে পাপের মাশুল হচ্ছে নিরবে-নিভৃতে সহ্য করে পড়ে থাকা । অন্যায়-অবিচারকে মুখ বুজে সহ্য করা । তবে আমার ধারনা, সংখ্যায় প্রায় সমান হয়ে পড়লে তিনিও নিশ্চয়ই মুখ বুজে থাকতেন না। হাজার হোক, ধর্মপ্রাণ মানুষ তো ।

আসলে লোকমুখে শুনেছি – চট্রগ্রাম হচ্ছে বারো আউলিয়ার শহর । আর এই আউলিয়ারা ছিলেন মুসলিম । আর আজ তাদেরই অঘোষিত প্রতিনিধিরূপে শফি হুজুর আর ফারাবী সাহেবরা শহরটাকে ঘিরে রেখেছেন ধর্মের প্যাঁচানো অন্ধকার জালে । এ কথা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, সমগ্র বাংলাদেশ ধর্মান্ধ মুক্ত হতে যে সময় লাগবে, এক চট্রগ্রামকে ধর্মান্ধ মুক্ত করতে তার চেয়ে বেশি সময় লাগবে ।
তবুও একদিন এই শহরটিসহ আমাদের দেশটি ধর্মান্ধ মুক্ত হবে, এই আশায় এখনও কলম ধরি । যতদিন বেঁচে থাকবো, এই অন্ধত্বের বিরূদ্ধে লিখে যাবো – এটাই আমার দৃঢ় প্রত্যয় ।

cialis 10mg or 20mg
viagra para mujeres costa rica

You may also like...

  1. ধর্মান্ধরা সব জায়গায় এক। নতুন জায়গায় এসে খেয়াল করেছেন বলেই চোখে লেগেছে। নইলে একই ব্যবহার সব জায়গায়।

    side effects after stopping accutane
viagra generico prezzo farmacia

প্রতিমন্তব্যশ্রাবনের রক্তজবা বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * viagra type medicine in india

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

propranolol clorhidrato 10 mg para que sirve
sildenafil basics 100 mg filmtabletten
prednisolone dosing chart