খেলা

421

বার পঠিত

তুমি যখন আমাকে বললে, ‘আমাদের সম্পর্ক এখানেই শেষ’ আমি বিন্দুমাত্র অবাক হই নি। বরং, গত কয়েকদিন ধরে আমি এই অপেক্ষাতেই ছিলাম, ‘কখন আমাদের এই মরচে পড়া কাঠামোটা চূড়ান্তরূপে ভেঙ্গে পড়বে?’
আমি বরং বহু আগেই বুঝেছিলাম, তোমার কাছে আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে তুমি কখনই বুঝতে পার নি, আমার কাছে তোমার কখনও কোন প্রয়োজন ছিল না। তুমি ভেবেছ তুমি আমাকে নিয়ে আর দশটা ছেলের মতই খেলেছ। কিন্তু, তুমি জানতে না, আসলে তা ভুল। আমিই তোমাকে নিয়ে খেলেছি। এবং খেলে চলেছিলাম। তুমি ভেবেছ এতদিন ধরে চলা এই খেলাটা তুমি এক মুহূর্তে ভেঙ্গে দিয়েছ। অথচ, খেলাটা তখনও চলছে। কারণ, আমি তাকে ভাঙ্গতে চাই না।

তুমি বোধ হয় আমার কথার কিছুই বুঝতে পারছ না। তাই না? আচ্ছা ঠিক আছে। আর একটু পেছন থেকে বলি। তাহলে বুঝতে সুবিধে হবে।

তুমি আর আমি একই কলেজে পড়ি। পড়তাম একই স্কুলেও।

ঠিক আছে। মানছি। এ সবকিছুই তুমি জান। তারপরেও শোন। তাহলে তোমার প্রতি আমার কি ধারণা ছিল সেটা বুঝতে সুবিধে হবে।

বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে। নিজেকে বিশ্ব-সুন্দরী বলে মনে কর। এবং একই সাথে বিশ্ব-বুদ্ধিমতী। স্কুলের সব ছেলে তোমার প্রেমে হাবুডুবু খেত। এবং কলেজের সব ছেলে তোমার প্রেমে হাবুডুবু খায়। তুমি যদি কখনও কারও সাথে কোন লুতুপুতু ধরণের কথা বল সাথে সাথে সেই ছেলে তোমার প্রেমে অন্ধ হয়ে যাবে। আমি সব সময়ে তোমার এই খেলাটা দেখতে পছন্দ করতাম। দর্শক এবং বিশ্লেষক হিসেবে আমি নেহাত খারাপ না। আমার বিশ্লেষণ বলছিল, ‘পুরো কলেজে আমিই একমাত্র ছেলে যে তোমাকে এখন পর্যন্ত প্রেম নিবেদন করি নি, এই জিনিসটা তুমি বিন্দুমাত্র সহ্য করতে পারছ না। কিছুদিনের মাঝেই তুমি আমার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করবে।’
আমার বিশ্লেষণ ভুল ছিল না। একদিন সত্যি সত্যিই তুমি আমাকে জানালে, তুমি আমাকে ভালবেসে ফেলেছে। এত দিন তুমি অনেক ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছ কিন্তু, বুঝতে পার নি আসলে ভালবাসা কি? আমার মাঝে তুমি সত্যিকারের ভালবাসা খুঁজে পেয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার খুব করে বলতে ইচ্ছে হল, ‘এই একই কথা তুমি সুমন, তৌফিক, রাতুল, তুহিন, আদিত্য সবাইকে বলেছ’। কিন্তু, বললাম না। চুপ থাকলাম। কারণ, আমারও খেলতে খুব ইচ্ছে করছিল।
কারণ, জীবনটা খুব বেশি একঘেয়ে লাগছিল। সারাক্ষণ ফেসবুক আর ব্লগ নিয়ে পড়ে থাকতে কাহাতক ভাল লাগে? synthroid drug interactions calcium

এই হচ্ছে পেছনের কাহিনী। বুঝতে পেরেছ?
হুম। তারপর বলছি।

ভালবাসা এগোল। উন্মত্ত ভালবাসা। সেই ভালবাসা গিয়ে ঠেকল তোমার অধরে। তারপর, দুজন মিলে স্টাডি ট্যুরের নাম করে কক্স বাজার সি বিচে কাটিয়ে আসা। তার মাঝে চলা উন্মত্ত ভালবাসা। সেই ভালবাসা তখন বিছানায়।
আমি বুঝতে পারছিলাম, তোমার মাঝে সব কিছু আছে। শুধু যা নেই, তা হচ্ছে ভালবাসা। আর দশটা ছেলের মত আমিও তোমার কাছে একটা খেলনা। এবং আমার কাছেও তুমি তাই।
সি বিচ থেকে ফিরলাম। তুমি জানালে, ‘আমাদের সম্পর্কটা আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।’ আমি কাঁদো কাঁদো মুখে তোমাকে অনেক অনুনয় করলাম। তুমি হৃষ্ট চিত্তে সেটা উপভোগ করলে। এবং ফিরে গেলে।

হুম, ঠিক বলেছ। এটুকু শুনে মনে হতে পারে সত্যিই তুমি আমাকে নিয়ে খেলেছ। আর এর পরে যা ঘটেছিল, সেটা তোমার প্রতি আমার অন্ধ ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু, বাকিটা শোন। তাহলে পুরোটা বুঝতে পারবে।

আমি ভেতরে যাই হই না কেন, স্কুল কলেজ সবাই যে আমাকে ভাল ছেলে হিসেবেই জানে, সেটা তুমিও খুব ভাল করেই জান। কারও সাতে পাঁচে নেই। কোন ঝামেলায় নেই। আড্ডাবাজিতে নেই। নেশার তো প্রশ্নই আসে না। অথচ, আমি এলকোহলিক। প্রচণ্ড মাত্রায় অ্যালকোহলিক। এবং প্রচণ্ড মাত্রায় নিকোটিনে আসক্ত। প্রতিদিন ন্যূনতম দু’প্যাকেট বেনসন আর এক প্যাকেট ব্ল্যাক না হলে আমার চলে না। বেশির কোন সীমা নেই।
তুমি চলে যাবার পর, আমি শুধু আমার কার্যক্রমে সামান্য একটু পরিবর্তন করলাম। আগে সবাইকে না জানিয়ে নেশা করতাম। এখন সবাইকে জানিয়ে করি। সবাইই ধরে নিলো, আমি তোমার বিরহে কাতর হয়ে এমন হয়ে গেছি। সবাই তোমাকে ধরল, আমাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য। তোমার ভেতরেও খানিকটা অপরাধ-বোধ তৈরি হয়েছিল। তাই, তুমি ফিরে এল আমার কাছে। তুমি যতক্ষণ আমার কাছে থাক, ততক্ষণ আমি পুরোপুরি সুস্থ মানুষ। কিন্তু, তুমি চলে গেলেই পাগলামি শুরু করতাম। দেয়ালে ক্রমাগত ঘুসি মারা বা ব্লেড দিয়ে নিজের হাত কেটে রক্তাক্ত করা কিংবা এ ধরণের কিছু। অবশ্য হাত কেটে ফেলাও আমার পুরনো অভ্যেস। যখন কোন অনুভূতি খুব বেশি তীব্র হয়ে ওঠে, তখন ব্লেড দিয়ে হাত কেটে ফেলি। একটু পরেই অজ্ঞান হয়ে যাই। তাই অনুভূতিটা আমার সাথে জয়ী হতে পারে না। অবশ্য, সে জন্য আমি সবসময় ফুলহাতা শার্ট পরে থাকি। যেন কেউ কাঁটা দাগগুলো দেখতে না পারে।

কী? আমাকে তোমার সাইকোপ্যাথ মনে হচ্ছে না? মনে হতেই পারে। আমিও নিজেকে তাই মনে করি।

যাই হোক, এই সবকিছু করতাম তোমাকে দেখিয়ে। কারণ, তুমি চলে যাবার পর পাগলামি করা অর্থহীন।
ক্রমাগত তোমার মাঝেও আমার প্রতি ভালবাসার জন্ম হতে থাকে। যেহেতু, আমি ভালবাসা নামের কোন বস্তাপচা অনুভূতিতে বিশ্বাস করি না, তাই আমি ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারব না তোমার অনুভূতিটা কী ছিল? সম্ভবত সেটা বন্ধুত্ব, বিশ্বাস, সহমর্মিতা এবং করুণার মাঝামাঝি একটা অনুভূতি। আশা করি বুঝতে পারছ। তারপর বলছি। এই অনুভূতিটাকে আমার প্রতি তোমার ভালবাসা হিসেবে ধরে নেয়া যায়। হ্যাঁ, সেটা ভালবাসাই ছিল। কারণ, যেদিন আমি তোমাকে বলেছিলাম, ‘আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েছি। এখন বোধ হয় আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব।’ সেদিন তুমি আমাকে বলল, ‘কিন্তু, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না’।
এবং সেই সাথে আমি বুঝতে পারলাম আমি খেলায় জিতে গেছি। আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরলাম। পরম আবেগে। আমার দু’টো ঠোট এঁকে দিলাম তোমার অধরে। তুমিও পরম আবেগে উষ্ণতাটাকে অনুভব করলে। তারপর, তোমাকে নিয়ে গেলাম ছাদে। আমি যেই ফ্লাটে থাকতাম তার ছাদে কোন রেলিং ছিল না। মনে আছে নিশ্চয়। তাই, সবসময় সেটা তালা দেয়া থাকত। তোমার চুলের একটা কাঁটা দিয়ে তালাটা খুললাম। আগেও দু’জনে বহুবার এখানে বসেছি। তুমি আমাকে শুনিয়েছে, ‘Every night in my dreams, I see you I feel you; that is how I know you, go on…’ আমি তোমাকে শুনিয়েছি, ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছ…’। দুজনায় কেটে গেছে অনেকটা সময়। তুমি ভেবে নিয়েছিলে, আজও তেমন কিছু হবে।
আমি তোমার হাত ধরে গিয়ে দাঁড়ালাম ছাদের একেবারে কোণায়। মাঝ রাতের নিকষ অন্ধকার তখন পৃথিবীকে সবার থেকে আড়াল করে দেবার চেষ্টায় রত। তবু, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় এখান থেকে স্পষ্ট ত্রিশ ফুট নিচের রাস্তাটা দেখা যাচ্ছে। তোমার হাত ধরে আমি তোমাকে এলিয়ে দিলাম। এমন অবস্থায়- যেন আমি যদি এখন তোমার হাত ছেড়ে দিই, সাথে সাথে তুমি নিচে পড়ে যাবে। বললাম, ‘এখন যদি তোমাকে আমি ছেড়ে দিই?’ বললে, ‘তুমি পারবে না’। আমি শুনলাম। এবং তোমার হাত ছেড়ে দিলাম।
পরম আগ্রহে তোমার চোখ দু’টোর দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছ কেন? আশ্চর্য! তুমি কি ভেবেছিলে? তুমি আমার হাত ফসকে পড়ে গেছ? তা নয়। আমিই তোমাকে সেদিন ছেড়ে দিয়েছিলাম। তুমি আমাকে নিয়ে খেলেছে, আমিও তোমাকে নিয়ে খেলেছি। That’s it. তারপর শোন।

সেই চোখ দুটোতে প্রথমে কিছুই ছিল না। তুমি বুঝতেই পার নি আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি। যখন বুঝতে পারলে, তখন এতদিন ধরে ঘটে চলা ঘটনাগুলোতে আমার প্রতি তোমার তৈরি হওয়া বিশ্বাসের সাথে এই মাত্র ঘটে যাওয়া ঘটনার অবিশ্বাসের দ্বন্দ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল এবং সেই যুদ্ধ শেষ হবার আগেই তোমার সুন্দর দেহটা রাস্তায় থেঁতলে গেল। তোমার চোখ দু’টো কোটর থেকে ছিটকে বেরিয়ে এল। একবার ঘড়ির দিকে তাকালাম। রাত এগারোটা বিশ মিনিট সাইত্রিশ সেকেন্ড। আমি ঘরে ঢুকে একটা বেনসন ধরালাম। গ্লাসে ভদকা ঢাললাম। উত্তেজক মুহূর্তে হার্ডই ভাল।
পুলিশ এল তিন ঘণ্টা পর। আজকে রাতেই আসবে ভাবিনি। ভেবেছিলাম এসব ঝামেলা সামলাব কালকে দিনের বেলা। আগেই করতে হবে সবকিছু। কি আর করা! অবশ্য কাহিনীটা খুব সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছিলাম। পুলিশ ঠিক যখন দরজায় ধাক্কা দিল, তখন ডান হাতের ধমনীটা কেটে দিলাম। দরজা ভেঙ্গে পুলিশ ঢুকতে ঢুকতে আমি অজ্ঞান হয়ে গেছি। হসপিটালে ভোর ছ’টা এগারো মিনিট নয় সেকেন্ডে যখন আমার জ্ঞান ফিরেছে, তখনও আমার সামনে পুলিশ। জবানবন্দি নিতে। দিলাম জবানবন্দি- ‘আমি তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারতাম না। কিন্তু, তবুও আমি তোমাকে বলেছিলাম, আমি তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারব। কারণ, সারাজীবনের জন্য তোমাকে আমি আঁটকে রাখতে পারতাম না। আমার কথা শুনে তুমি বেরিয়ে গেলে। তুমি বেরিয়ে যাবার সাথে সাথে আমি আমার ধমনী কেটে ফেললাম। কারণ, সেটা কতটা কষ্টের অনুভূতি, আমি বলে বোঝাতে পারব না। সেটা সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিল না। কিন্তু, আমি বুঝতে পারি নি ততদিনে তুমিও আমাকে ভালবেসে ফেলেছে। কিন্তু, যেহেতু তুমি আমাকে এবং আমার ভালবাসাকে নিয়ে একবার খেলেছে, তাই আমাকে তা জানানোর ক্ষমতা তোমার ছিল না। তুমি নীরবে আমার থেকে চলে গেছ’। বলেই অঝোরে কাঁদতে লাগলাম। বন্ধু-বান্ধবরাও বলল, কাহিনী বিশ্বাসযোগ্য। পুলিশও দেখেছে, অন্য কোন কারণ থাকতে পারে না। তাছাড়া তোমার মাথার চুলের কাটাটা খানিকটা বাঁকানো ছিল। দেখে মনে হয়, এটা দিয়েই ছাদের তালা খোলা হয়েছে। সুতরাং, খেলার একটা সুন্দর সমাপ্তি। capital coast resort and spa hotel cipro

কি অদ্ভুত বিষয় দেখেছ? আমাদের খেলার মাঝে প্রথমে তুমি ভাবলে তুমি জিতে গেছ। সেই অনুভূতি নিয়ে ক’দিন কাটানোর পরই তুমি জানতে পারলে তুমি হেরে গেছ। আমি জিতেছি। আবারও সেই অনুভূতি আমি ক’দিন কাটানোর পরই আমি বুঝতে পারলাম আসলে তুমিই জিতেছ। আমি হেরে গেছি। মৃত্যুর পরও তুমি আমাকে এভাবে যন্ত্রণা দেবে কে বুঝতে পেরেছিল? তোমার কারণে দিনে বার ঘণ্টা ঘুমানো আমি এখন ইনসমনিয়াক। তোমার জন্যে, আমার শান্ত স্নিগ্ধ গানগুলো মেটালের চিৎকার হয়ে গেছে, যেন আমি তোমার চিৎকার থেকে রেহাই পেতে পারি। রেহাই পাই নি। প্রতি রাত এগারোটা বিশ মিনিট সাঁইত্রিশ সেকেন্ডে তুমি আসো। আমার পুরো রাতটাকে তছনছ করে ছ’টা এগারো মিনিট নয় সেকেন্ডে ফিরে যাও। আমার পুরো জীবনটা ধ্বংস হয়ে গেছে।
ওহ! ঘড়িটা দেখ। ঠিক ছ’টা এগারো বাজে। নয়, আট, সাত, ছয়, পাঁচ, চার, তিন, দুই, এক। তুমি যাও। আমি এখন ঘুমোব। আমার দু’চোখে অনেক বছরের ঘুম। renal scan mag3 with lasix

You may also like...

  1. তুমি যাও, আমি এখন ঘুমোব। আমার দু’চোখে অনেক বছরের ঘুম… :(

    ক্যামনে পারেন জনাব? শুরুটা করলেন থ্রিলিং ভঙ্গিতে, শেষে এসে সেই চিরায়ত বিষাদের গাঢ় আঁধার… #-o লেখার স্টাইলে সেই পুরনো ক্লান্ত… %%-

  2. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    অসাধারন…
    ব্লগে আসলেই এতো পরিপূরন সাইকো – রোমান্টিক থ্রিলার চোখে পরে নি

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

will i gain or lose weight on zoloft

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

amiloride hydrochlorothiazide effets secondaires
achat viagra cialis france
all possible side effects of prednisone
kamagra pastillas
private dermatologist london accutane