জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় : বিন্দু থেকে সিন্ধু।

378

বার পঠিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের এক ঐতিহ্যবাহী স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ যা পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীর ঘেষে অবস্থিত। উচ্চ শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন- পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের
উদ্দেশ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর। তবে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা ২০০৫ সালে হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর গোড়াপত্তন আরো প্রায় দেড়শত বছর আগে।১৮৫৮ সালে তত্কালীন পূর্ব বাংলার কতিপয় বিদ্যা উৎসাহী ব্যক্তির উদ্যোগে ব্রাহ্ম স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দশ বছর পরে মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার কিশোরী লাল চৌধুরীর হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির।

১৮৭২ সালে তিনি স্কুলের নাম বদলে “জগন্নাথ স্কুল” নামকরণ করেন তাঁর বাবার নাম অনুসারে। অর্থাৎ ১৮৭২ সালে জগন্নাথ স্কুল নামে যাত্রা শুরু। অতঃপর জগন্নাথ কলেজ, জগন্নাথ ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, সরকারি জগন্নাথ কলেজ, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যা বর্তমান
বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এ যেন বিন্দু থেকে সিন্ধুতে পরিণত হওয়ার অনন্য ইতিহাস।

এবছর প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়
হিসেবে ৯ম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
হিসেবে ১৫৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষি
কী পালন করছে। ব্রিটিশ আমলে শিক্ষার
সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৮৮৪
সালে জগন্নাথ স্কুল কে ঢাকা জগন্নাথ
কলেজে উন্নীত করা হয়। ভারতীয়
উপমহাদেশের যে কয়টি বড় কলেজ স্বীয়
বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল তার
মধ্যে সরকারি জগন্নাথ কলেজ অন্যতম।
পরবর্তীতে ১৮৮৭ সালে স্কুল ও কলেজ
শিক্ষা বিভাগের নির্দেশে পৃথক
হয়ে যায়। তখন স্কুলের নাম হয়
“কিশোরী লাল
জুবিলী স্কুল” (বর্তমানে কে, এল,
জুবিলী স্কুল)। ১৯০৭ সালে এটি প্রথম
শ্রেণির কলেজে পরিণত হয়। তখন এটিই
ছিল ঢাকার উচ্চ শিক্ষার
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
১৯১০ সালে এই প্রতিষ্ঠানে প্রথম বিষয়
হিসেবে দর্শন, ইংরেজি ও
সংস্কৃতিতে অনার্স কোর্স চালু হয়।
এখানে যে কথাটি না বললে নয় তা হল,
তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষের
ভাগ্যে উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হয়
এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন
জগন্নাথ কলেজ)’র হাত ধরে। ১৯২১
সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত
হওয়ার কারনে জগন্নাথ কলেজের স্নাতক
পর্যায়ের পাঠ্যক্রম বন্ধ করে উচ্চ মাধ্যমিক
স্তরে নামিয়েজগন্নাথ ইন্টারমিডিয়েট
কলেজ করা হয়।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ কলেজের স্নাতক
পর্যায়ের সকল ছাত্র, ৫০% বই ও আসবাবপত্র
প্রতিষ্ঠাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কে দান করা হয়। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের
নামকরণ “জগন্নাথ হল” করা হয়। ২৮ বছর পর
১৯৪৯ সালে পুনরায় স্নাতক পর্যায়ের
পাঠ্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে জগন্নাথ
কলেজ কে সরকারি কলেজে রূপান্তর
করা হয়। ১৯৭৫
সালে এখানে স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রম
চালু হয়। ১৯৮২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক
শ্রেণিতে ভর্তি বন্ধ করা হয়। এর পর
১৯৯১-১৯৯২ শিক্ষাবর্ষ থেকে জগন্নাথ
কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
পরিবর্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের
অধীনে
পরিচালিত হয়। ১৯৯৫ সালের ১২ নভেম্বর
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম
খালেদা জিয়া এটিকে পূর্ণাঙ্গ
বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার
ঘোষণা দেন। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর
একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের
মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের
স্বীকৃতি পায়।
তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ ছিল আন্দোলন-
সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তি। যদিও
আন্দোলনের কেন্দ্র ভূমি ছিল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জগন্নাথ কলেজই
ছিল পাকিস্তান আমলে সরকার
বিরোধী আন্দোলনের জলন্ত অগ্নিকুণ্ড।
ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ,
এমনকি স্বাধীনতা পরবর্তী সকল
গণতান্ত্রিক
আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব
দিয়েছেন জগন্নাথের ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ।
পাকিস্তান আমলে সরকার
বিরোধী আন্দোলন দমন করার জন্য
জগন্নাথ কলেজকে অনির্দিষ্ট কালের
জন্য বন্ধ করে দেয় তৎকালীন সরকার
এবং গভর্নর মোনেম খান বলেন, ” Jagannath
College is a hot bed of politics. It must be
provincialised at any cost. ” অবশেষে দীর্ঘ
পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর ১৯৬৮সালের ১
আগস্ট কলেজ পুণরায় খোলে নতুন
কলেবরে সরকারি কলেজ হিসেবে।
কেবলমাত্র বিজ্ঞান
শাখা কে রেখে বাকি সব
নিয়ে যাওয়া হয় মহাখালীতে সদ্য
প্রতিষ্ঠিত জিন্নাহ
কলেজে ( বর্তমানে তিতুমীর কলেজ)।
কিন্তু ক্ষুব্ধ ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের
চাপে এক পর্যায়ে একে পূর্বের অবস্থায়
ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন সরকার। এই
কলেজের ছাত্র সংসদের উদ্যোগেই
আগড়তলা মামলার প্রথম প্রতিবাদ
সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আগড়তলা মামলা প্রত্যাহার ও শেখ
মুজিবর রহমানের মুক্তির আন্দোলনে এ
কলেজের ছাত্রদের অবদানের প্রমাণ
মেলে স্বয়ং শেখ মুজিবর রহমানের
কন্ঠে। জেল
থেকে ছাড়া পেয়ে লাখো মানুষের
ঢলের মধ্য
দিয়ে খোলা জীপে করে কেন্দ্রীয়
শহীদ মিনারে আসলেন,
চারিদিকে কেবল স্লোগান আর
স্লোগান এর মধ্যে এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু
জগন্নাথ কলেজের ছাত্রদের
প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললেন, “I am at
the disposal of the students of Jagannath College. ”
মহান মুক্তিযুদ্ধে এ কলেজের বহু ছাত্র-
শিক্ষক অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন।
নানা মাত্রার সংকট
সম্ভাবনা কে ধারণ করে চড়াই উৎরাই
পেরুয়ে আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
দীর্ঘ ১৫০ বছরের পথ চলায়
জাতিকে দিয়েছে অসংখ্য সূর্য সন্তান।
ভাষা শহীদ রফিক, কবি সুফি মোতাহের
হোসেন, বাংলাদেশের প্রথম
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, ড.
শামসুজ্জোহা, শহীদ আসাদ, সার্জেন্ট
জহুরুল হক, সাতারু ব্রজেন দাশ,
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সাহিত্যিক
সৈয়দ শামসুল হক, প্রখ্যাত আয়ুর্বেদ
শাস্ত্রবিদ ও শিক্ষাবিদ যোগেশচন্দ্র
ঘোষ, কথা শিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক
জহির রায়হান, বাঙালি কবি ও চিত্র
পরিচালক পেমেন্দ্র মিত্র, অর্থনীতিবিদ
ভবতোষ দত্ত,শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামান,
লেখক ইমদাদুল হক ( সম্পাদক-দৈনিক
কালের কন্ঠ), বিখ্যাত শিল্পী কিরণচন্দ্র
রায়, অভিনেতা এ, টি, এম,
শামসুজ্জামান, সাংবাদিক আব্দুল
হামিদ, গণসংগীত শিল্পী ফকির
আলমগীর, গুণী সংগীত শিল্পী হায়দার
হোসেন, ব্যারিস্টার এ, আর, ইউসুফ তাদের
মধ্যে অন্যতম।
ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি আজ
হাজারো সংকটে জর্জরিত যেন দেখার
কেউ নেই। ২৩ হাজার শিক্ষার্থীর
মধ্যে অন্তত একজনেরও আবাসিক
ব্যবস্থা নেই। শিক্ষকদের জন্য একটি মাত্র
ডরমেটরি যেখানে হাতে গুনা অল্পসংখ্যক
শিক্ষক থাকতে পারেন। শতভাগ
অনাবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের
হাজার হাজার শিক্ষার্থী
ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায়
মেসে থেকে অতিকষ্ঠে পড়াশুনা করছে।
এমনকি ঢাকার বাইরে গাজীপুর,
নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতেও থাকে।
যাদের ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার
একমাত্র অবলম্বন বিশ্ববিদ্যালয়ের
পরিবহন তথা বাস। সেখানেও সংকট, ঠিক
সংকট তো নয় মহাসংকট।নেই পর্যাপ্ত
বাস। প্রতিদিন হাজার হাজার
শিক্ষার্থী বাদুরঝোলা করে ক্যাম্পাসে আসে,
আবার ক্লাস শেষে ফিরে যায়
একইভাবে। নেই পর্যাপ্ত
ক্লাসরুম,রিডিংরুম, ল্যাব।
এমনকি শিক্ষকের সংখ্যাও প্রয়োজনের
তুলনায় অত্যন্ত নগন্য। ২৩ হাজার
শিক্ষার্থীর জন্য একটিমাত্র ক্যান্টিন।
সেখানে খাবারের মান চরম
অস্বাস্থ্যকর, উপর্যুপরি খাবারের মূল্য
চড়া। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নেই
কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা, নেই
জিমনেসিয়াম। একটিমাত্র মাঠ তার
আবার বৃহত্তর অংশ বেদখলে। যতটুকু
দখলে আছে, সেখানে আবার চরম
অব্যবস্থাপনা। ফলে একটু খেলা-
ধুলা করতে গেলেই ছাত্র-ছাত্রীদের
বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। চারদিকে শুধু
নেই আর নেই। পাহাড়a
পরিমাণ সংকট-সমস্যার বোঝা মাথায়
নিয়ে কিভাবে যে বিশ্ববিদ্যালয়
চলছে তা কেবল স্রষ্টাই
ভালো বলতে পারবেন। তবুও
এগিয়ে যাচ্ছে। অপার সম্ভাবনাময় এই
বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে রাষ্ট্র যদি একটু
সুদৃষ্টি দিত তবে এই দেশ
তথা জাতিকে আরো অনেক
দিতে পারত এই বিদ্যাপীঠ।
বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নবম
পেরিয়ে দশম বছরে পদার্পন করছে এবছর।
অথচ এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত বাজেট
পায়নি রাষ্ট্র বা ইউ, জি, সি ‘র নিকট
থেকে। আর যতটুকু পায় তার প্রায় সবটুকু
শেষ হয়ে যায় শিক্ষকদের বেতন
দিতে গিয়ে। দিন
শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের
গবেষণা খাতে বাজেট
বলতে গেলে শূন্যের কোটায়।এত সব
বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে নবীন এই
বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে চমক
দেখিয়েছে। যেমন-পাথর কুচির
পাতা থেকে বিদ্যুৎ উদ্ভাবন, বন্য মুরগির
ক্যাপটিভ ব্রিডিং আবিষ্কার
যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
আসলে এভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়
চলতে পারে না। রাষ্ট্রের উচিৎ বহু
প্রাচীন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে যথাযথভাবে অর্থায়ন
এবং ছোট্ট ক্যাম্পাসকে (১১.১১ একর)
সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের
আবাসন ব্যাবস্থার জন্য প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আশা করছি বর্তমান
সরকার এ বিষয়ে সুনজর দিবে। জয় হোক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের।

190815190809
♥sps♥ walgreens pharmacy technician application online

can your doctor prescribe accutane

You may also like...

  1. মাশিয়াত খান বলছেনঃ

    এত তথ্য জানা ছিল না
    শিরোনাম সুন্দর

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

amiloride hydrochlorothiazide effets secondaires
ovulate twice on clomid