দ্য ইনক্রেডিবল ডাইন

612

বার পঠিত

মাথাটা অনেকক্ষণ ধরে ঝিঁঝিঁ করছে রবিনের। এর পিছনে অবশ্য আর্কিমিডিস স্যারের বিশাল এক অবদান আছে। আর্কিমিডিসকে আজ রাতে সে স্বপ্ন দেখেছে। স্বপ্নের কিছু অংশ –
আর্কিমিডিস- রবিন,তুমি কি জানো আমি এক অসাম আবিষ্কার করেছি?
রবিন- না। জানিনা।
আর্কিমিডিস- কি বলতেছ তুমি? তুমি আমার বিখ্যাত আর্কিমিডিসের নীতিটা জানোনা?
রবিন- খচর খচর করেন কেন? বললাম তো জানিনা।
আর্কিমিডিস তখন রবিনকে তাঁর নীতিটা বুঝাতে শুরু করলেন। তারপর বললেন, “দেখলা? কি বিশাল এক আবিষ্কার করছি আমি?”

রবিন বললো, “স্যার এটা কোন আবিষ্কারই না। বাংলা সিনেমায় প্রায়ই দেখি ভিলেন জলহস্তীকে লোহার ট্যাঙ্কে ভরে নদীতে ফেলে দিছে। এরপর ট্যাঙ্ক আপনার সূত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভাসতে ভাসতে নায়কের কাছে চলে যায়”। synthroid drug interactions calcium

আর্কিমিডিস এই কথায় প্রচণ্ড মাইন্ড করলেন বলে মনে হল। তিনি রাগে রবিনকে বেত দিয়ে মারতে লাগলেন। রবিনকে উদ্ধার করলো একটি মশা। মশা রবিনকে কামড়ানোর সাথে সাথেই ঘুম ভেঙে যায়। মশাকে ধন্যবাদ দিয়ে উঠে বসলো রবিন। সকাল ৮ টার মত বাজছে। দরজার ফাঁকে পত্রিকা পড়ে আছে। গরম গরম পত্রিকা। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পত্রিকা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ‘গরম খবর’ নামক বাগধারার বাস্তব প্রয়োগ দেখে রবিন উচ্ছ্বসিত হয়ে গেল। তবে উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারলো না। দেখা গেল পত্রিকার উপরে গোল্ডলীফের জ্বলন্ত ফিল্টার। এই কাজটা নিশ্চয় ডাইন করছে। পত্রিকার অধিকাংশ পাতাই পুড়ে গেছে। রবিন বিনোদনের পাতাটা বের করলো। দীপিকার কোমরে পোড়া দাগ দেখে কিছুটা দুঃখিত হল। তবে আজকে বিনোদন পাতায় বলার মত কিছুই নেই। ভারতীয় নায়িকারা প্যারালাইজড রোগীর মত দাঁড়িয়ে আছে। দেখলে উত্তেজনার বদলে রবিন মায়া অনুভব করে। প্যারালাইজড রোগী দেখার কোনো মানে হয়না। নীল শার্টটা পরে নিলো রবিন। ডাইনের দেখা নেই। সকাল সকাল সিগারেট খেয়ে কই গেছে বুঝা যাচ্ছেনা।

রাস্তায় বেরিয়ে এলো রবিন। সকাল সকালই আজকে কেন যেন কড়া রোদ পড়ছে। যেন সূর্যের সাথে পৃথিবীর অনেক দিনের শত্রুতা। গতকাল রাতে কিছুই খায়নি রবিন। ইদানীং ডাইনকে সে কাঁচা মাছ বাদ দিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়া শিখিয়েছে। ডাইনও খাওয়ার অভ্যাস করেছে। তাও মাঝে মাঝে সকাইল্যার হাট ঘুরতে যায় ডাইন। রবিন জানেনা ডাইন হয়তো লুকিয়ে লুকিয়ে খায় কাঁচা মাছ। হাতের ফোনটা বেজে উঠলো। ডাইন ফোন করেছে। মোবাইলটা ডাইনের। ওয়ালপেপারে রবিনের ছবি। রবিনের হাতে ডাইন মেহেদী লাগিয়ে দিচ্ছে এই ছবিটা। এটা ছাড়া ডাইন অন্য কোনো ছবিও তুলেনি। তার নাকি ভয় লাগে।

-হ্যালো ডাইন বল।
- কি করতেছো?
-গান গাইতেছি। আজি ঝরো ঝরো মুখোর বাদল দিনে কত ফুল ফুটে কত পাখি গায় আ হা হা হা হা আ হা…………
- এইসব হিবিজিবি কি বলতেছ?
-কিছুনা। ফোন রাখি। অকারণে ফোন করে ডিস্টার্ব করবানা।

ডাইনকে রবিন কখনোই প্রশ্রয় দেয়না। ডাইন এখন সকাইল্যার হাটে আছে। রবিন নিশ্চিত। কিন্তু সেখানে যাওয়ার ভাড়া রবিনের নেই। রবিনের পকেটে একটা ছিঁড়া দশটাকার নোট। ফকিরও আজকাল ছিঁড়া টাকা নিতে চায় না। একবার রবিন ফকিরকে একটা ছিঁড়া টাকা দিয়েই খিঁচে দৌড় দিয়েছিলো। হতভম্ব ফকির কিছু না বুঝেই অজানা আশঙ্কায় দৌড় দিতে লাগলো তার পিছনে। এই কাণ্ডে রাস্তাঘাটের মানুষ গুলোও ভয় পেয়ে যায়। তারাও পিছনে পিছনে দৌড় দেয়। সবার মাঝেই কেমন একটা আতঙ্ক। অনেকে বাসায় ফোন করে জানিয়ে দিছে ভূমিকম্প হচ্ছে,ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য। কিছুক্ষণের মাঝেই অনেক মানুষ বাসা থেকে বের হয়ে দৌড়াতে লাগলো। কিছু অতি উৎসাহী টোকাই কয়েকটা রিক্সার চাকার পাম্প ছেড়ে দিলো। ঘটনার ধাক্কায় রবিন চুপিসারে কেটে পড়লো। কিন্তু পরদিন ঠিকই পত্রিকার শিরোনাম-“কার ভয়ে আজ জনতা আতঙ্কিত?

বিস্তারিত:- ধানমন্ডী এলাকায় এক সন্ত্রাসীর আগমনে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ত্রাসী সবাইকে ছিঁড়া টাকা দিয়ে বেড়ায়। ছিঁড়া টাকা নিতে অস্বীকার করায় সে গুলি করে একজনকে মেরে ফেলেছে আর লাশও গুম করে ফেলেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার লাশ পাওয়া যায়নি। বিএনপির মহাসচিব দাবী করেছেন নিহত ব্যক্তি তাদের স্থানীয় যুগ্ম সম্পাদক। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দাবী তিনি ছিলেন স্থানীয় সিনিয়র কর্মী। এদিকে জামাত শিবির নিহতকে নিজেদের জিহাদি সাথী দাবী করে দেশের বিভিন্ন জেলায় গায়েবী জানাজার আয়োজন করে। অপরপক্ষে বিএনপির নিহত যুগ্ম সম্পাদকের অফিসে গিয়ে দেখা যায় নিহত ব্যক্তি টোস্ট বিস্কুট দিয়ে চা খাচ্ছেন। তিনি নিহত হয়েছেন এই কথা শুনেই তার টোস্ট বিস্কুট গলে চায়ে পড়ে গেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপির কাছে নিহত সিনিয়র কর্মীর নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি ফোন কেটে দেন। পুনরায় ফোন করা হলে তাঁর স্ত্রী ফোন রিসিভ করে সংবাদদাতার পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর ভদ্রমহিলা যান্ত্রিক কণ্ঠ নকল করার চেষ্টা করে বলেন,“আপনার ডায়াল কৃত নাম্বারে এই মুহূর্তে সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছেনা। Sorry, the number you dialed cannot be reached at the moment.” জাতীয় পার্টি নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নিহতকে জাতীয় বীর উপাধি দিতে গিয়ে বলেন,“নিহত ব্যক্তি আমার মতই একজন জাতীয় বীর;ন্যাশনাল হিরো”। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সন্ত্রাসীর একটি গ্রুপ রাস্তায় গাড়ির চাকার পাম্প ছেড়ে দিয়েছে। সারা এলাকার পরিবেশ থমথমে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,“কে বার কারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত তা তদন্ত করা হবে। কোনো মহলই আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত করতে পারবেনা”। বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, “আন্দোলন চলছে চলবে। জনগণ আমাদের পাশে আছে”। এদিকে বাংলাভিশনে মধ্যরাতের টকশোতে জাতীয় টকশো বিদ অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন,“নিহত ব্যক্তিটি মৃত্যুর মাধ্যমে চূড়ান্ত নিরপেক্ষতা দেখিয়ে গেল। সে ছিঁড়া টাকা নেয়নি কিন্তু জীবন দিয়ে গেছে। তার এই কীর্তি সরকারের আর্থিক অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধেই নীরব প্রতিবাদ। সে যদি টাকা নিয়েই মারা যেত সেটা হত অনিরপেক্ষ। কিন্তু সে নিরপেক্ষতার মাপকাঠিতে নিজেকে স্বচ্ছ রেখেছে। তার এই স্বচ্ছ,নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সিদ্ধান্তে দেশ ১০ বছর এগিয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর মত নাগরিকের মৃত্যুতে দেশ ২ বছর পিছিয়ে গেছে। তবে মোটের উপর দেশ যে ৮ বছর এগিয়ে গেল সেটাও কিন্তু কম নয়”। অন্যদিকে নিহতের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে স্বরচিত কলামে আনিসুল হক লিখেন, “আমি কান্না করতে পারছিনা। পারছিনা চিৎকার করতে। কবে আমাদের সরকারের টনক নড়বে? কবে এসব ছিঁড়া টাকার প্রচলন বন্ধ হবে? ছিঁড়া টাকা অচল টাকা। এই টাকা দিয়ে মানুষ তার মৌলিক অধিকার পূরণে অক্ষম। মৌলিক অধিকারের মাঝে বস্ত্রও পড়ে। বস্ত্রের প্রতিশব্দ পিরান। আমার একটি গল্প আছে নাম ‘নাল পিরান’। রংপুরের মানুষ লালকে নাল বলে। বুয়েটে পড়ার সময় স্যার একবার আমাকে ডেকে বলেছিলেন,‘মিটুন,মানুষ মরণশীল’। আজ বুঝলাম একেকটি মৃত্যু একেকজন মায়ের বুক কিভাবে খালি করে দেয়। আমার একটি বিখ্যাত উপন্যাস আছে নাম ‘মা’। বইটি প্রথমায় ৩০% কমিশনে বিক্রয় হচ্ছে। আপনারা যারা নিহত ব্যক্তিটির মা কে শ্রদ্ধা করেন তারা বইটি কিনবেন”। অপরপক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়,হাটহাজারীর এক বিশিষ্ট আলেম দাবী করেছেন , “গজব পইড়া গেছে”।

হাঁটতে হাঁটতে মোটামুটি রবিন অনেক দূরেই এসে পড়েছে। একটা রিকশা নিয়ে বাসায় চলে যাওয়া উচিত। ডাইন নিশ্চয় চলে আসবে এর মাঝে। ভাড়ার টাকাও ডাইন দিয়ে দিবে। রিকশায় উঠলে মানুষজনকে আরো বিচিত্র লাগে। কয়েকটা কাক ইতস্তত ডাকাডাকি করে বেড়াচ্ছে। ওরা প্রকৃতির রহস্য বুঝতে পারছেনা নাকি আমরাই ওদের রহস্য বুঝতে পারছিনা সেটা চিন্তার বিষয়। রিকশাওয়ালা গলা ছেড়ে গান গাচ্ছে। গানটা সখিনাকে নিয়ে। সে সখিনাকে জিজ্ঞেস করছে সখিনা তাকে ভুলে গেছে কি না। এবং সে সখিনাকে এটাও জানিয়ে দিয়েছে সে ঢাকা শহরে রিকশা চালায়। ঢাকা শহরে রিকশাওয়ালাদের কাছে সখিনা জনপ্রিয় চরিত্র। কে এই সখিনা? ডাইনের মতই রহস্যময়ী কেউ? হঠাৎ করেই রবিন অনুভব করে পৃথিবীর সব রহস্যের সমাধান হওয়া উচিত নয়,কিছু রহস্য রহস্য থেকে যাওয়াই ভালো।

বাসায় এসে রবিন দেখলো ডাইন আরেকটা গোল্ডলীফ টানছে। চমৎকার কসরত করে সিগারেট খাচ্ছে মেয়েটি। দেখলেই রবিনের ইচ্ছা করে……
-কিরে? কখন আসলি?
-এইতো। কিছুক্ষণ আগে। আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
-ভালো তো। আগে রিকশাওয়ালার ভাড়া দিয়ে আয়। যাহ…

-তো বল,কিসের সিদ্ধান্ত নিছস?
-মানুষের জীবনে দুইটা কিডনির কোনো দরকার আছে?
-মোটেই দরকার নাই। দুইটা কিডনির বেশি নয়,একটি হলেই ভালো হয়। তো?
-ফাইজলামি করবিনা। কানের নিচে এমন মারবো দুইদিন অব্ধি ঝনঝন ঝনঝন করবে। আমি সিদ্ধান্ত নিছি একটা কিডনি বিক্রি করবো।
-করতে চাইলে করবি। তো?
-ধুর শালা। তখন থেকে কি তো তো করতেছস?ভাগ এইখান থেইকা… viagra vs viagra plus

ডাইন ঘুমাচ্ছে। কেমন নিষ্পাপ একটা মুখ। আচ্ছা,মেয়েটার কিডনি বিক্রির ইচ্ছা হল কেন?রবিন ডাইনকে বুঝতে পারেনা। রবিন ধীর পায়ে কাছে এগিয়ে যায়। কপালের দিকে নেমে আসা চুল গুলোকে সরিয়ে দেয় আলতো ছোঁয়ায় যেন অনেক দিনের পুরনো এন্টিক সামগ্রী। রবিন অনুভব করে ডাইনকে। সময় গড়িয়ে যায়। রবিন শুয়ে পড়ে ডাইনের পাশে। জড়িয়ে ধরে পরম মমতায়। সময়ের কাঁটা ঘুরে টিক টিক টিক…

ক্রিং ক্রিং ক্রিং। চোখ কচলে ঘুম থেকে উঠে রবিন। দরজা খুলে দেখে কোট টাই পরা এক মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক।
-ইয়ে,আমার নাম খালেকুর রহমান।
-চিনলাম না তো।
-না মানে, আমি কিডনি……
-ও আচ্ছা। আপনি কিডনির ডিলার? কিডনি খালেক?
-এটা কি বললেন?এখানে একটা মেয়ে থাকার কথা। সে কোথায়?
-সে আছে। ঘুমাচ্ছে। আপনি ঘুমাবেন?
-আপনার সমস্যাটা কি?আমাকে পাঠিয়েছেন আমার স্যার। তাঁর নাম শুনলে ভয়ে আপনার এতক্ষণে পেশাব করে দেয়ার কথা।
-তাই নাকি?ওকে। আমি টয়লেটে যাই। আপনি নামটা বলেন।

ঠাস করে রবিন দরজা বন্ধ করে দিলো। মাথা হিবিজিবি হয়ে গেছে। ডাইন কিডনি বিক্রি করতে চাচ্ছে এটা আসলেই প্রথমে সে বিশ্বাস করেনি। কিন্তু কেন? তাদের এতটা অভাবের সংসার না যে কিডনি বিক্রি করে চলতে হবে। কি ব্যাপার? kamagra pastillas

“ব্যাপারটা তোমার জানার দরকার নেই”,চিৎকার করে ডাইন। টয়লেট থেকে রবিনের পাল্টা প্রশ্ন, “কার কাছে কিডনি বিক্রি করতেছো?”
-স্যার রহমান রাআদ।
নাম শুনে রবিন অনেক চেষ্টা করেও প্রস্রাব করতে পারলো না। বাংলাদেশের মানুষের চিন্তাধারায় বিশাল ভুল আছে। অনেকেরই কমন ডায়ালগ,“অমুকের নাম শুনে প্রস্রাব করে দিবেন”। কারো নাম শুনে প্রস্রাব করলে তার অপমান হওয়ার কথা। এখানে গর্বের কোনো ব্যাপার থাকবে কেন? রবিন অবশ্য এইসব ছোটোখাটো ভুল নিয়ে মাথা ঘামায় না। মাথা ঘামানোর মত আরো অনেক বড়সড় জিনিস আছে। যেমন গত দুইদিন ধরে তার দুইনলা প্রস্রাব হচ্ছে। এটি একটা চিন্তার বিষয়।

রাতে ঘুমানোর আগে রবিনের চুলে বিলি কেটে দেয় ডাইন। হঠাৎ মেয়েটা হাসতে হাসতে বলে উঠে, “তুই সুপারম্যান!” রবিন আতিক্কা সারপ্রাইজড হয়ে বলে, “কি বললি?”
-ভিডিও দেখবি একটা?
-খবরদার!
-আরে আবাল। আজকে একটা চরম গানের ভিডিও দেখছি! সুপারম্যান স্পাইডার ম্যানের! দেখনা! হাহাহা!!
অনিচ্ছা সত্ত্বেও রবিন দেখতে বাধ্য হয়। নায়ক নায়িকার জায়গায় ডাইন তাকে আর রবিনকে কল্পনা করে হেসে গড়াগড়ি খায়। রাতের অদৃশ্য মহাপ্রাচীরে সেই হাসির প্রতিধ্বনি মর্টার শেলের চেয়ে খানিকটা কম নয়। মেয়েটার হাসি এত সুন্দর কেন?

YouTube Preview Image

ডাইনের পায়ের রগ অনেকক্ষণ ধরে টনটন করছে। জিন্সের প্যান্টটা হেব্বী টাইট। শালার কোনো কিছুতেই জুইত নাই। দুনিয়াতে এত্ত যে অনিয়ম। তার উপর খালেকুর রহমান আসছেনা। অনেকক্ষণ ধরে ফোন করছে ফোনও ধরছেনা। লোকটা কি তাহলে জানতে পেরে গেছে যে সে ডাইন? “আবাল শালারপুত” মনে মনে খালেকুরকে গালি দিল ডাইন। “কিডনি দরকার নিবি। আবার মানুষের কিডনি নাকি ডাইনের কিডনি তার কি দরকার?” মনে মনে বিড় বিড় করছে ডাইন। এমন সময় ডাইনের ফোন বেজে উঠলো। খালেক তাকে ঢাবি চারুকলার সামনে আসতে বলছে। ডাইন কোনো রিকশা খুঁজে পাচ্ছেনা। এই কাঠফাটা গরমে রিক্সা ছাড়া যাওয়া যাবেনা। হাঁটলে ডিহাইড্রেশান হবে। যদিও এই শব্দের মানে সে জানেনা। রবিন বলেছে! ব্যাস!

দূর থেকে অনেকক্ষণ ধরে ছেলেটিকে লক্ষ করছে ডাইন। প্রচণ্ড উদ্ভট মনে হচ্ছে ছেলেটাকে। অকারণে জিভ বের করছে,আবার ভিতরে ঢুকাচ্ছে। আবার আঙুল বাঁকাচ্ছে, পা বাঁকাচ্ছে। ছেলেটি একসময় একটি রিকশার কাছে গিয়ে বললো,“এই রিকশা যাবা?” রিকশা ওয়ালা-যামু। ছেলেটির নির্লিপ্ত উত্তর,“তো গেলে যাও। এখানে রোদের মাঝে দাঁড়াই আছো কেন?” ফাজিল ছেলে। এদেরকে ডাইন রাত দিন ২৪ ঘণ্টা লাথির উপর রাখতে চায়। ডাইন ব্ল্যাক বেল্ট। হুঁ!

ছেলেটা এসে ডাইনের কাছেই দাঁড়ালো।
“আপনি কই যাবেন?ওয়েট রিকশা ধরাই দিচ্ছি”। ছেলেটা এই বলেই রিকশা ধরাতে এগিয়ে যেতেই ডাইনের তীক্ষ্ণ কণ্ঠ-
-সমস্যা কি?
-আপনার সমস্যা কি সেটা আমি কিভাবে বলবো?
-মাইর চিনেন? আমি ব্ল্যাক বেল্ট।

ছেলেটা ফিক হেসে শার্টটা একটু উপরে তুলেই তার কোমরে বাঁধা বেল্টটার দিকে ইঙ্গিত করলো। কালো একটা বেল্ট। “শালার পুতে ফাইজলামি করে আমার লগে!” ডাইন মনে মনে প্রায় বিধ্বংসী হয়ে উঠে। তবে মুখে কিছু বলার আগেই ছেলেটা হাঁটা শুরু করে আবার। ডাইনের কেন যেন অন্যরকম মনে হয়। দৌড়ে ছেলেটাকে থামায়।
-সত্যি বলতে কি অনেকক্ষণ ধরে রিক্সা পাচ্ছিনা। একটা খুঁজে দিন না!
ছেলেটা কঠিন স্বরে বললো,“না”। ডাইনের অস্বস্তি লাগে। “ক্যান যে আবালডারে আবার কইতে গেলাম। বাল”।

ছেলেটা কিছুদূর এগিয়ে একজন রিকশাওয়ালাকে ২০ টাকা বখশিশ দিয়ে বললো,“ঐ যে ঝিকঝিকে কালো ড্রেস পরা লিকলিকে মেয়েটারে দেখতেছো? ও যেখানে যাইতে চায় গিয়ে দিয়ে আসবা। ভাড়া ১০ টাকা বেশি নিবা। গরম পড়তেছে। লেবুর শরবত খাবা”। রিকশাওয়ালা ২০ টাকার আতিশয্যে খুশি। ডাইনের কাছে যেতেই সে নিজ থেকেই বলে,“আফা যাইবেন?”ডাইন একলাফে উঠে কোনোরকমে বলে,“চারুকলা”।ছেলেটার পাশ দিয়ে রিক্সা যাওয়ার সময় ডাইন মাথা বের করে মুখ কুঁচকে বলে, “লাগবেনা আপনার হেল্প। পেয়ে গেছি”। ছেলেটা মুচকি হেসে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানায়। ডাইন প্রচণ্ড বিরক্ত হয়।

বিশাল মার্সিডিজ ডেস্কের একপ্রান্তে স্যার রাআদ বসে আছেন। তিনি কটন বাড দিয়ে কান চুলকাচ্ছেন। কটন বাডের দুই-তৃতীয়াংশ তিনি সফলভাবে কর্ণকুহরে ঢুকাতে পেরেছেন। তবে তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে দুই ইঞ্চি কটন বাডের পুরোটাই কানের মাঝে ঢুকিয়ে দিতে তিনি আজ বদ্ধপরিকর। ডাইনের কেমন যেন গা গুলিয়ে এলো।
-বসুন মিস…
-মিসেস…
-ও! বিয়ে করেছেন?
-জানিনা।
-গুড। আপনি কি সত্যিই কিডনি বিক্রয় করতে চাচ্ছেন? পরে আবার পিছিয়ে যাবেন না তো?
-না। পিছিয়ে যাবনা।
-অ। আসলেই দুইটা কিডনি কারো আদৌ প্রয়োজন আছে?
-কি জানি। অনেকের তো দুইটাতেও চলেনা। অন্যদেরটাও লাগে।
-আপনি কত চান?
-দশ লাখ।
-এটা কি একটু বেশিই হয়ে গেলনা?
-না। আমার কিডনি রাজকীয় কিডনি।
-আচ্ছা। আচ্ছা। আই সি। ওকে। দেয়া হবে।
-কিছু খাবো কিনা জিজ্ঞেস করুন আমাকে।
-ও! আচ্ছা! চা নাকি কফি?
-আইসক্রিম খাবো। চকবার। সাথে একটা পিরিচ দিবেন। আমার আইসক্রিম গলে পড়ে যায়। My ice cream melts.

রাআদ স্যার বেল টিপলেন। রুমে এলো ম্যানেজার জয়। রাআদ স্যার মুখে কিছু বললেন না। তাঁর সেলো কলমটা মুখের মাঝে ঢুকিয়ে দুইবার চুষলেন। এরপর হাত মুচড়িয়ে কিছু একটা নিয়ে আসতে বললেন। জঘন্য ইশারা। দুই মিনিট পর চকবার চলে এলো। পিরিচ রাআদ স্যারের ড্রয়ারেই ছিলো। চকবার খাওয়ার পর রাআদ স্যার একটা সিগারেট ধরালেন। চোখ বন্ধ করে প্রায় এক নিঃশ্বাসে বললেন ঘটনাটা।

“আমার ৫ বছরের ছোট্ট ছেলে আফনান। ওর মা মারা গেছে প্রায় ৪ বছর হতে চললো। বুঝলেন?৪ টা বছর। এই ছেলেটাকে তিলে তিলে মানুষ করেছি আমি। ওর কথা চিন্তা করে বিয়েও করিনি। কিছুদিন আগে ছেলেটার মেডিকেল চেকাপ করানোর সময় ধরা পড়ে যে তার ২ টা কিডনিই নষ্ট। ছোট্ট একটা ছেলে। ডায়ালাইসিসের যন্ত্রণা নিতে পারেনা। নিজেকে খুব অসহায় লাগে। বাধ্য হয়ে আমাকে কিডনির খোঁজ করতে হচ্ছে। আমি চাইনা ছেলেটা এখনই মারা যাক। আমি খুব নিঃস্ব হয়ে যাবো”।

“তো,আপনার নিজের একটা কিডনি দিচ্ছেন না কেন?”কৌতূহলী চোখে তাকায় ডাইন।
রাআদ সাহেব বড় করে এক চুমুক বায়বীয় বিষ টেনে নিলেন। “আমার একটি কিডনি নষ্ট”। “যাই হোক,আমার ম্যানেজার জয় আপনাকে আমার ছেলের কাছে নিয়ে যাবে। আপনি তার সাথে যাবেন”। “আচ্ছা যাবো। আজ তাহলে যাই”,বেরিয়ে এলো ডাইন। বিষণ্ণতা তার ভাল্লাগেনা। বসুন্ধরা সিটিতে যেতে হবে। রবিনের শার্টটা পুরনো হয়ে গেছে। রাআদ সাহেবের অফিস থেকে বেরিয়ে আসতেই সেই ছেলেটাকে আবার দেখলো ডাইন। এখন পুরো ভিন্ন সাজে। কিন্তু সাজগোজ করলেও দেখতে প্রচণ্ড ক্ষ্যাত লাগছে। ঐযে, বাম দিকের হেলে পড়া চুলগুলো যদি… ধ্যাত। “একে নিয়ে এসব ভাবার মানে কি?” ডাইন অবাক হয়। সত্যিই মানে কি? ছেলেটা আবার এগিয়ে আসে।

-আপনার নামটা জানা হলনা। আমার নাম…
-আমি আপনার নাম জিজ্ঞেস করছি?
-অ আইচ্ছা। রিকশা লাগবে?
-লাগবে।
-কয়টা?

“এসব আবালকে চান্স দিতে নাই। সুযোগ পাইলেই মশকারা করে। ক্লাউন কোথাকার!” মনে মনে ভাবে ডাইন। উত্তর না দিয়ে হেঁটে চলে আসে। সে প্রচণ্ড চেষ্টা করে পিছন ফিরে না তাকানোর। কিন্তু ডাইন পরাজিত। সে তাকিয়ে দেখে ছেলেটি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে একজন ভিখারির সাথে গল্প করছে। কে এই ছেলে?নামটা জেনে নিলেই ভালো হত। ধুর!

বসুন্ধরা সিটিতে আর যাওয়া হয়না। আফনানকে দেখতে প্রচণ্ড ইচ্ছা করছে ডাইনের। জয়ের নাম্বারটা রাআদ সাহেব দিয়ে রেখেছিলেন। ফোন করলো ডাইন।ফ্যাঁসফ্যাঁসে গলায় ওপাশ থেকে-
-কে বলছেন?
-আমি আফনানকে দেখবো।
-ও আচ্ছা। কিডনি আন্টি?
কোন ধরনের ফাইজলামি এগুলা?সমস্যা কি?ডাইনের সাথে সবাই ফাইজলামি করে কেন?তাকে সবাই পাইছেটা কি?কঠিন স্বরে ডাইন বললো,“ঠিকানাটা দেন”।
-রেগে গেলেন?স্যরি আন্টি। আচ্ছা আমি দিচ্ছি ঠিকানা। হোল্ড।

ঠিকানা কাগজে লিখে নেয় ডাইন। মাথাটা প্রচণ্ড ধরে গেছে। আজ আর যাওয়া হবেনা। তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসে ডাইন। রবিন তখন কম্পিউটারে গেইম খেলছে। ফিফা ফরটিন। সাউন্ডে মার্টিন টেইলর ও অ্যালান স্মিথের তীক্ষ্ণ ধারাভাষ্য। মাথা ধরাটা আরো বাড়লো। ডাইন ঘুমিয়ে পড়লো।

রবিন ধীর পায়ে উঠে এসে ব্যাগ খুলে ডাইনের। কাগজে একটা ঠিকানা লিখা। হাসপাতালের ঠিকানা। রবিন ঠিকানাটা একটি কাগজে লিখে নিলো। ডাইনের দিকে পলকহীন চোখে তাকিয়ে থাকলো অনেকক্ষণ। তার সহ্য হচ্ছেনা ডাইনের নিষ্পাপ চেহারাটা। এতটা নিষ্পাপ অসাধারণ একটা মেয়ে। কপালের দিকে নেমে আসা চুলগুলোকে সরিয়ে দেয় রবিন। ডাইনের লালচে ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক। রবিনের কালচে ঠোঁটে গাঢ় তৃষ্ণা……

জয়ের নাম্বারটা আগেই নেয়া ছিলো। ম্যানেজার জয়কে ফোন করে রবিন।
-কে বলছেন?
-রবিন। আফনানকে দেখতে চাইলাম।
-ও আচ্ছা। আপনি চিনেন?
-হুঁ। আপনি হসপিটালের নিচে আসুন। আমি এখনি আসছি।

রবিন ছুটে গেল। ম্যানেজার জয় ছেলেটাকে পছন্দ হলনা রবিনের। প্রচণ্ড কঠিন কিছু প্রশ্ন করছে। এর মাঝেই একবার স্যার রাআদকে ফোন করলো। রাআদ স্যার বললেন আগে তার কাছে নিয়ে যেতে। জয় কিছুতেই তাকে হসপিটালে ঢুকতে দিলোনা। একপ্রকার কোলে করে হ্যাংলা-পাতলা রবিনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে এলো রাআদ স্যারের কাছে।

-তুমি আফনানকে কিভাবে চিন?
-সে অসুস্থ। তার কিডনি প্রয়োজন।
-সে ব্যবস্থা আমি করেছি।
-কত টাকায় ডিল হল?
-তা জেনে তোমার লাভ?ইয়ে,১০ লাখ।
-আমি ৫ লাখে রাজি। acne doxycycline dosage

রাআদ সাহেব চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করলেন। রবিনকে তার পছন্দ হচ্ছেনা। বারবার জয়ের দিকে বিরক্ত চোখে তাকাচ্ছেন। জয় শুধু হুকুমের অপেক্ষায়। অর্ডার পেলেই আটতলা থকে ছুঁড়ে ফেলে দিবে রবিনকে। সেও ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে রবিনের দিকে।

-তোমার কিডনি আমার দরকার নেই।
-আপনারও দরকার থাকার কথা। আপনার একটা কিডনি নষ্ট। half a viagra didnt work

রাআদ সাহেব জিভ দিয়ে চুকচুক শব্দ করলেন। “তুমি কিভাবে জানো?”
“আমি মাঝে মাঝে অনুমান করে বুঝতে পারি। যেমন এই মুহূর্তে ম্যানেজার জয় সাহেব মনে মনে বলছেন ‘হারামজাদাটাকে লাথি মেরে বিদায় করা উচিত’। কি তাইনা জয় সাহেব?” জয় অসহায় চোখে রাআদ সাহেবের দিকে তাকায়।
“জয় ওকে হসপিটালে নিয়ে যাও। মেডিকেল টেস্ট করাবে। যদি নীরোগ হয় তবে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের ব্যবস্থা করবে”। জয় ভীত চোখে রবিনের দিকে তাকায়। রবিন সুন্দর করে হাসে। জয়ের সাথে বেরিয়ে এসে গাড়িতে বসে দুইজন হসপিটাল চলে আসলো। জয় প্রচণ্ড ঘামছে। লিফটম্যান জয়ের দিকে বারবার মায়াভরা চোখে তাকাচ্ছে। “কি হইছে আপনের?” জয়কে জিজ্ঞেস করে লিফটম্যান। “ওনার দুইটা কিডনিই নষ্ট। যেকোনো মুহূর্তে ইন্তেকাল!”,বললো রবিন। লিফটম্যান প্রচণ্ড আফসোসের ন্যায় শব্দ করে। জয় তখনো সিদ্ধহস্তে রুমাল দিয়ে ঘাম মুছে যাচ্ছে।

আফনানকে দেখে চমকে উঠে রবিন। একজন দেবশিশু। এই ছেলের জন্য একটা কেন? প্রয়োজনে নিজের দুইটা কিডনিই হেসেখেলে দেয়া যায়। বিছানার একপাশে গোলাপ রাখা। কিন্তু ছেলেটার সৌন্দর্যের কাছে গোলাপের তোড়াটা নিতান্তই তুচ্ছ এবং বেমানান। “ভাইয়া,তুমি আমাকে বাঁচাবে তাইনা?” রবিন অস্পষ্ট কণ্ঠে বলে, “হ্যাঁ, আফনান। আমরা সবাই তোমাকে বাঁচাবো”। সেখানে আর দাঁড়ালো না রবিন। বাইরে এসেই জয়কে ডেকে বলে,“দ্রুত কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের ব্যবস্থা করেন। ছেলেটার কষ্ট হচ্ছে খুব”। “আজই?”“হ্যাঁ আজই। এখনই”। puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

রবিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা দুইদিন হলো। ডাইন প্রচণ্ড এলোমেলো হয়ে গেছে। কিডনি বিষয়ক টপিক সে ভুলে গেছে। সারাদিন এখানে ওখানে রবিনকে খুঁজে ডাইন ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে। তবে, তার ক্লান্তির আবরণ কিছুটা হলেও ঝেড়ে ফেলে দিয়েছে সেই ছেলেটা। প্রত্যেকদিনই দেখা হয়। কিন্তু মনে করে নাম জেনে নেয়া হয়না। রবিনকে অনেকবার ফোনে ট্রাই করেও পাওয়া যায়না। ডাইন আর ছেলেটি মিলে অনেক খুঁজেছে। শাহবাগ,মতিঝিল,ঝিকাতলা,ফার্মগেট,নীলক্ষেত,হাতিরঝিল,সাভার…… কোথায় আছে! private dermatologist london accutane

দুইদিন পর বেডরেস্ট থেকে উঠে রবিন। তাকে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরতে হবে। না জানি ডাইন কেমন করছে! আফনানকে দেখতে যায় রবিন। দেবশিশুর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তার বাবা রাআদ সাহেব। “চেকটা রেডি করা ছিলো। এই নিন”। রবিন চেকটা হাতে নিলো। আফনান তাকে ইশারায় কাছে ডাকে। রবিন এগিয়ে গেলে শিশুটা রবিনের হাত জড়িয়ে ধরে সুন্দর করে হেসে উঠে। “ভাইয়া! আমার আর ব্যথা হচ্ছেনা! তোমাকে অনেএএএএক থ্যাঙ্কু”। রবিনের প্রচণ্ড ইচ্ছা হল এই দেবশিশুটির কপালে একটি চুমু এঁকে দিতে। কিন্তু সে পারছেনা। তার আর আফনানের মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৫ লাখ টাকা দামের চেক। হঠাৎ রবিন চেকটি ছিঁড়ে টুকরো করে ফেলে। রাআদ সাহেব বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকেন রবিনের দিকে। রবিন আফনানের কপালে চুমু এঁকে দেয়। এরপর ঝটপট বেরিয়ে আসে হসপিটাল থেকে।

শাহবাগ মোড়ে মানুষের উচ্ছৃঙ্খল জটলা দেখে এগিয়ে যায় ডাইন আর রাহী। সবার চোখে মুখে অস্থির আতঙ্ক। পাশেই প্রবল ভাঙচুরে ক্ষতবিক্ষত একটা কার্গো ভ্যান। ভিড় ঠেলে ডাইনকে এগিয়ে নিয়ে যায় রাহী। রক্তের স্রোতে পা আটকে আসে ডাইনের। সারা বিশ্বের সমস্ত বজ্রপাত মাথায় নিয়ে ডাইন বিস্ফারিত চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে রবিনের ছিন্নভিন্ন দেহের দিকে। রাহীর হাতটা শক্ত করে ধরে ডাইন। যেন প্রচণ্ড ভয়ে এলোমেলো হয়ে গেছে সে। রাহী ডাইনকে ভিড় কেটে নিয়ে আসে বাইরে। এম্বুলেন্স-সাইরেনের মাথাধরানো শব্দে কম্পমান পুরো এলাকা। ফুটপাতের ধারে বসে পড়ে ডাইন। পাশে রাহী। তীব্র আর্তচিৎকারে নিজের অস্তিত্বকে জানান দিয়ে ডাইন যন্ত্রণা গুলোকে তরল অশ্রু বানিয়ে বিসর্জন করে দেয় রাহীর কাঁধে মাথা রেখে। তবে মেয়েটির সমস্ত যন্ত্রনাই অশ্রু হয়ে যায়না। নিশ্চয়ই কিছু যন্ত্রণা শালিক হয়ে উড়ে যাচ্ছে অদূরেই।

পড়ন্ত বিকেলের নরম রোদে ডাইন-রাহীকে ঘিরে উড়ে যাচ্ছে আটটি প্রখর শালিক। একটি শালিক চারটি শালিক তিনটি শালিক……

You may also like...

  1. ইলেকট্রন রিটার্নস বলছেনঃ zoloft birth defects 2013

    ইয়ে, কিছু কথা থাকনা গোপন! :D

  2. শুরুতে খুব ভালো লাগছিল… হাঁসতে হাঁসতে জান শেষ হয়ে গেছে ভিডিওটা দেইখা… ;)) :)) কিন্তু শেষে আইসা কেমন যেন খুব্বি কষ্ট লাগছে :( মানুষজন না ফেরার দেশে চলে গেলে বুকের ভেতর মোচর দেয় :( আর পরিচিত কিংবা কাছের মানুষের চলে যাবার কথা শুনলে আরও খারাপ লাগে …
    তবে থিমটা চমৎকার ছিল :-bd

  3. পুরাই উরাধুরা জোস, জটিল, সেইরাম, কঠিন, সেই, পাত্থুর…… ইত্যাদি এবং ইত্যাদি।
    চালিয়ে যাও হে।

  4. অনেক সুন্দর হইসে ভাইয়া। চালিয়ে যাও।

  5. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    আমি হাঁসতে হাঁসতে শেষ!! আমার চোয়াল ব্যথা করতেছে।
    বিভাগ দেয়া হয়েছে গল্প এবং ধারাবাহিক, সো আরো বিনুদনের অপেক্ষায় থাকলাম

    posologie prednisolone 20mg zentiva

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.