পাখি ড্রেস ও ভারতীয় চ্যানেল বিরোধী আন্দোলন

263

বার পঠিত buy kamagra oral jelly paypal uk

অতি সম্প্রতি আমাদের দেশে ভারতীয় চ্যানেল বিরোধী আন্দোলন বেশ জোরদার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লার আড্ডা সবখানে এটাই যেন প্রধান টপিক।যদিও আদালতের রায়ে বিষয়টি খারিজ হয়ে গেছে তবুও এ বিষয়ে আলোচনা থেমে নেই এখনও।মূলত গত ঈদের আগে পাখি ড্রেস না পায়ে এক কিশোরীর আত্বহত্যাকে কেন্দ্র করে এ বিষয়টি হালে পানি পায় । কোন সন্দেহ নেই ঘটনাটি দুঃখ জনক কিন্ত মূলত এই ঘটনাটিকে পুজি করে ভারতীয় চ্যানেল বিরোধী আন্দোলন উৎসাহিত করা হয় যেন সব দোষ ওই পাখি ড্রেসটির ।একটু খেয়াল করলেই বুঝা যায় মেয়েটির আত্বহত্যার আসল কারন। সেটি হল তার পিতার দুর্বল আর্থ সামাজিক অবস্থা মেনে নিতে না পারার তীব্র আক্ষেপ। এখানে পাখি ড্রেসটি কেবলই একটি প্রতীকি রূপ মাত্র। আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের অধিকাংশ ছেলে-মেয়েই এই ধরনের তীব্র মনোযাতনা নিয়ে বড় হয়। ধনীর দুলাল কোন সহপাঠীর সীমাহীন বিলাসিতা দেখে নিজের অজান্তেই পরিবারের প্রতি জন্ম নেয় এক ধরনের অভিমান। যতই দিন যায় এই অভিমানের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে ।সাধারণত বয়সন্ধিকালে এই ধরনের অনূভুতি তীব্র হয় । আমাদের একটু সুখের জন্য পরিবারের প্রধান কর্তাটির হাড়ভাঙ্গা খাটুনির কথা তখন আমাদের মনেই পড়ে না।এক পর্যায়ে অভিমানের জায়গা দখল করে ঘৃণা। এই ঘৃণারই চুড়ান্ত রুপ ছিল মেয়েটির আত্বহত্যা। zoloft birth defects 2013

আমি এখানে ভারতীয় চ্যানেলের পক্ষে সাফাই গাইছি না। অবশ্যই ভারতীয় চ্যানেল গুলোতে যে ধরনের পরকীয়া, বৌ-শ্বাশুড়ীর দ্বন্দ দেখানো হয় তা চরম নিন্দনীয় ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর ।কিন্ত সবার আগে ভেবে দেখা প্রয়োজন কেন ভারতীয় সিরিয়ালের প্রতি কেন আমাদের দেশের মানুষের এত প্রবল আসক্তি। আমাদের দেশে ভারতীয় চ্যানেল গুলোর প্রধান দর্শক মূলত নারীরা। এখন প্রশ্ন হল সারাদিন কাজ শেষে যখন আপনার মা-খালা-ফুফুরা ঘরে ফিরে তখন কি তাকে একটু বিনোদিত করার সামর্থ্য রাখে আমাদের দেশের চ্যানেল গুলো? এমন নয় যে আমাদের দেশে টিভি চ্যানেলের অভাব রয়েছে।দেখতে দেখতে ব্যাঙের ছাতার মত অনেক চ্যানেলই গজিয়ে উঠেছে আমাদের দেশে। এই সব চ্যানেলে যে নাটক গুলি প্রচার হয় সেগুলো কি পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মত? সব বয়সের সব শ্রেনীর মানুষকে বিনোদিত করার সামর্থ্য কি রাখে এই নাটক গুলো? আর বিজ্ঞাপন নামক মহা যন্ত্রণার কথা বাদই দিলাম। প্রাইভেট ভার্সিটি পড়ুয়া বড়লোকের একদল আল্টামর্ডান ছেলেমেয়েদের এক সাথে ঘোরাফেরা,তাদের মধ্যকার তথাকথিত থ্রিজি প্রেম-ক্রাশ ,ব্রেক আপ ,রাত জেগে ফোনে কথা বলা মুলত এগুলো নিয়ে বেশির ভাগ নাটকের প্লট তৈরী করা হয়।এয়ার টেল -গ্রামীন ফোনের মত বড় বড় কর্পোরেট হাউসগুলোও এই ধরনের নাটকের পৃষ্টপোষকতা করে তাদের ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে । কোন সন্দেহ নেই যে এই ধরনের নাটকেরও দর্শক আছে কিন্ত প্রশ্ন হল দেশের মোট কত শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এই নাটকগুলো? দেশের ৯০ ভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত্ব ও নিম্নবিত্ত। তাদের যাপিত জীবন,দূঃখ-কষ্ট-আনন্দ , সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনার প্রভাব এগুলো নিয়ে নাটক নির্মিত হয় না বললেই চলে। অথচ এক সময় কি স্বর্ণযুগ না ছিল আমাদের দেশের নাটকের। নব্বই এর দশকে কোথাও কেউ নেই, আজ রবিবার, রুপনগর নাটক গুলো দেখার জন্য সব বয়সের সব শ্রেণীর মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো কারন এই নাটক গুলোর আবেদনটাই ছিল সর্বজনীন । আমাদের দেশের নাটক নিয়ে একটা সাম্প্রতিক উদাহরন দেই । রেদোয়ান রনি আমাদের দেশের বেশ নামকরা একজন পরিচালক।গতকালই পত্রিকায় দেখলাম তার নির্মিত নুতুন ধারাবাহিক ঝালমুড়ি অন এয়ারে আসছে যে নাটকের বিষয়বস্তু হল একদল ছেলেমেয়ে (অবশ্যই ধনীদের) যাদের কিনা বাবা-মায়ের শাসন ভালো লাগেনা; অবাধ স্বাধীনতা উপভোগের লক্ষে তারা কিনা এক সাথে বাড়ি ভাড়া নে্য। অবশ্যই এই নাটকটিতেও আজকালকার তথাকথিত প্রেম-ভালোবাসা ,ব্রেকআপ,লিটনের ফ্লাট থাকবে , থাকবে একটি মেয়ের মন জয়ের জন্য দুই বা ততোধিক ছেলের উদ্ভট সব কান্ড কারখানা। পাশাপাশি বাড়িওয়ালাকে কমিক চরিত্রে উপস্থাপন করে কাতুকুতু দিয়ে দর্শক হাসানোর চেষ্টাও হয়তো থাকবে। স্বভাবতই প্রশ্ন চলে আসে এই নাটকটি কি পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মত? আপনার মধ্য বয়সী কিংবা প্রায় প্রৌঢ মাকে বিনোদিত করার সামর্থ্য কি রাখে এই নাটকটি? zovirax vs. valtrex vs. famvir

এমন নয় যে আমাদের দেশে জীবন ঘনিষ্ঠ নাটক আর নির্মিত হয় না কিংবা ভাল নাটক নির্মাণ করার মত মেধাবী পরিচালকের অভাব রয়েছে ।কিন্ত দুঃখের বিষয় হল স্বল্প বাজেটের এই নাটক গুলো পর্যাপ্ত প্রচার পায় না।আর হুমায়ুন আহমেদ,সেলিম আল দীন,আব্দুল্লাহ আল মামুনের মৃত্যুর পর আমাদের দেশের নাট্য জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে সেই শূন্যতা পূরণ হয়নি আজও ।ফলশ্রুতিতে দেশী নাটকের দর্শক কমেছে নিয়মিত কিন্ত দর্শকদের বিনোদনের চাহিদা কমেনি বিন্দুমাত্র।আপনার যখন চাহিদা থাকবে তুঙ্গে আর আপনি যখন দেখবেন যে বাজারে সেই পণ্যটির সরবরাহের অভাব তখন আপনি হাতের কাছে যেই পণ্যটি পাবেন সেটিই কিনবেন ।পণ্যটি দেশী না বিদেশী এই বিবেচনা তখন গৌণ।চিন্তা করে দেখুন আমি-আপনি হয়তো ফেসবুকে বসে কিংবা কোন ষ্পোর্টস চ্যানেলে ইউরোপীয়ান ফুটবল লীগ দেখে অবসর সময় গুলো কাটাতে পারি কিন্ত আরো বিপুল সংখ্যক মানুষ রয়েছে এ দেশে যাদের বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।মূলত এই চাহিদা কে পুজি করে ঘাটি গেড়েছে ভারতীয় চ্যানেলগুলো।ভারতীয় সিরিয়ালগুলোতে যতই পরকীয়া, পারিবারিক দ্বন্দ দেখানো হোক না কেন তাদের বিষয়বস্তু সব সময় আবর্তিত হয় পরিবারকে কেন্দ্র করে। আর কে না জানে একজন নারীর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হল তার পরিবার । ভারতীয় সিরিয়ালগুলোর বিপুল জনপ্রিয়তার পিছনে এটাই হয়তো প্রধান মনস্তাত্বিক কারন ।

অবশ্যই আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর চ্যানেলগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। কিন্ত কিন্ত এই বন্ধই সব সমস্যার সমাধান নয়। সবার আগে প্রয়োজন আমাদের দেশের বিনোদন জগতে ইতিবাচক পরিবর্তন। যদি আমাদের দেশের বিনোদন জগতে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয় ,যদি ভাল মান সম্পন্ন নাটক নির্মিত হয় তাহলে ভারতীয় চ্যানেলের দর্শক এমনিতেই কমে যাবে। শুনেছি এককালে আমাদের বিটিভির নাটক দেখার জন্য ভারতীয় বাঙ্গালীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো তাহলে আবার কেন সেই দিন ফিরে আসবে না ? আর টিভির রিমোর্ট যখন আপনার হাতে তখন আপনি কোন চ্যানেল দেখবেন বা না দেখবেন সেটা বেছে নেওয়ার পুর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে আপনার ।সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া কোন সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না।

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

wirkung viagra oder cialis