বিষন্ন দাঁড়কাক

852

বার পঠিত

কালো প্লাস্টিকের টিউনারটা ভেঙে বেরিয়ে এলো। গোল টিউনারটা গড়িয়ে কিছুদূর গিয়ে একসময় ভারসাম্য হারিয়ে ফেললো। শুনশান নিরবতা নেমে এসেছে হঠাৎ পুরো ঘরে। একটি তেলাপোকা আচমকা চমকে গিয়ে পুরনো কাঠের চেয়ারের নিচ হতে দৌড়ে বেরিয়ে গেল। তার কম্পমান পুঞ্জাক্ষীতে হয়তোবা ভয়ের অনুভূতি। কে জানে। এরপর ঘরে ধুপধাপ শব্দ। ফিরোজা এসে দাঁড়ালো দরজার কড়িকাঠের নিচে। তার চোখ একমূহুর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল লাল টেপ লাগানো, বহিরাবরণের অস্তিত্ব হারানো ৪৩ বছরের পুরনো ট্রানজিস্টার সেটের দিকে। সেখান থেকে তখনো আবছা আবছা তরঙ্গ ভেসে আসছে। “দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর আপীলের রায়ে আমৃত্যু কারাদন্ড……”

“ভেঙে ফেলাটা বোধহয় ঠিক হয়নি। এটা তোমার স্মৃতির একমাত্র ধারক ছিলো”,বললো ফিরোজা। buy kamagra oral jelly paypal uk

চশমার প্লাস্টিক লেন্সটা পাঞ্জাবিতে মুছে নিচ্ছেন হাফিজ সাহেব। সারাটা মুখ থমথমে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন জীর্ণ রেডিও সেটটির দিকে। তরঙ্গ থেমে গেছে। নাকি তিনিই শব্দ শুনতে পাচ্ছেন না? পৃথিবী থেকে তিনি এখন চলে গেছেন শত আলোক বর্ষ দূরে; স্মৃতির পাতায়। তাই হয়তো শব্দের তীব্রতা কমে গেছে। পদার্থবিদ্যায় যার নাম ডপলার ইফেক্ট।

প্রচন্ড আঘাতে কেঁপে উঠছে নড়বড়ে কাঠের দরজাটি। দরজার মাঝবরাবর দূর্বল কপাট যেকোনো মুহুর্তে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ধসে পড়ার ঘোষনা দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেনা,যেন চাপা স্বরে রহিমা বেগমকে বলছে, “পালাও রহিমা! পালাও!! আমি আর পারছিনা!” রহিমা পালাতে পারেনা। শতছিন্ন কাঁথা গায়ে দূর্বল শুয়ে থাকে। উঠোনে বুটের শব্দ। এরই মাঝে একজনের ফ্যাঁসফ্যাঁসে উচ্চস্বর, “মাগী দরজা খুলেনা ক্যান?” কথাটা বলতে না বলতেই দরজায় প্রচন্ড আঘাত হয়। হঠাৎ দরজাটি ৮ বছরের স্থায়িত্বের গৌরব হারিয়ে ধাম করে কাটা কলাগাছের মত পড়ে গেল। হারিকেলের টিমটিমে আলোয় হালকা চাপা দাঁড়ির একজনকে দেখতে পায় রহিমা। দেইল্যা রাজাকার! কি বিভৎস সে! রহিমা আগে কখনো দেখেনি দেলুকে। এমনকি সে নামও শুনতো না যদি না পাশের বাড়ির করিমনের মা তল্পি তল্পা গুটিয়ে ভারত চলে যাওয়ার আগে রহিমাকে না বলে যেত, “সাবধানে থাকিস লো। কত কইরা কলাম, ভিটের থুন জানের দরদ বেশি থাওন ফড়ে, কতা হুনলিনা। দেইল্যার হাতের থুন সাবধান থাকিস লো রহিমা”। দেইল্যা রাজাকারের মুখে একটা তীক্ষ্ণ শলা। এইমাত্র হয়তো কোনো মালাউনের গরুকে গণিমতের মাল গণ্য করে জবাই করে পাকি মিলিটারির সাথে বসে গোশত দিয়ে রুটি খেয়ে এসেছে। অসাবধানতাবশত শলার গুতো লাগলো মাড়িতে। কয়েক ফোঁটা রক্ত বেরিয়ে এলো। দেইল্যা মুখ খিঁচিয়ে বললো, “অলুইক্ষ্যইন্যা মাগী!” রহিমার শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে এলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই নিজের তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করলো সে। শরীফ মুক্তির ৮ মাসের পোয়াতি বধু রহিমার চোখ দুটো চিকচিক করে উঠার আগেই প্রচন্ড ব্যথায় ঝিমিয়ে গেল সে। ঝাপসা চোখে নগ্ন দেইল্যা রাজাকারের শিৎকারের আড়ালে চাপা পড়ে যায় রহিমা বেগমের তীব্র চিৎকার। ধর্ষনের পর রহিমা বেগমের খানিকটা আত্মা তখনো বেঁচে ছিলো। সে অন্তত এইটুকু দেখে যেতে পারলো তার অমরাতে তিল তিল করে বেড়ে উঠা শিশুটি পৃথিবীর মুখ দেখার জন্য কোনো ধাত্রীর প্রয়োজন হয়নি, তলপেটে মিলিটারির বুটের আঘাতে সে জরায়ু ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে পৃথিবীর বুকে নিষ্প্রাণ থেঁতলে যাওয়া নিথর দেহ নিয়ে। রহিমা চিৎকার করেনি। যোনীতে বেয়নেটের খোঁচা লাগার আগেই সে মরে যেতে চাইলো, পারলোনা। সে মারা গেল ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত দেহ নিয়ে।

হাফিজ সাহেব এখনো কোনো কথা বলছেন না। মধ্যবিত্ত সংসার তাদের। একমাত্র ছেলেটির উপর নির্ভর করে থাকেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হিসাব করে চলতে হয় তাদের। ছেলেটার ভার্সিটি ফি অনেক জমে গেছে। প্রতিবার ডীনের অফিসে গিয়ে বিরসমুখে ফিরে আসেন। কিছু টাকা পরিশোধ করেন। বাকি গুলো বাকির খাতায় থেকে যায়। হেঁটেই বাসায় ফিরে আসেন। রিকশাভাড়ার টাকাটা বাঁচিয়ে ছেলের জন্য প্রায় সময়ই একটা দামী কলম কিনেন। খুব খুশি হয় হাসান কলম পেয়ে। কালো কালির কলমে অনেকদিন পর সেবার একটা চিঠি লিখেছিলেন হাফিজ সাহেব। চিঠিটা ছিলো উপজিলা অফিসে মুক্তিযুদ্ধ ভাতার জন্য। দামী কলমের অনেকটুকু কালি খরচ করে লিখা দরখাস্তটি এখনো ধূলোর আস্তরণে পড়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধ ভাতা দূরে থাক, অপচয় হওয়া কলমের কালি বাবদ খরচ হওয়া টাকাটাও জলে গেছে। হাফিজ সাহেব কালো কালির কলম ব্যবহার করেন না। কালো কালির কলম তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ৪৩ বছর আগে, তার বর্তমানকে করে দেয় নীরব-নিস্পৃহ-শব্দহীন। শুরু হয় ডপলার ইফেক্ট।

বাবা হাফিজ,
কেমন আছিস বাবা? ইচ্ছা করেনা মা টাকে একবার দেখে আসতে? আমি কেমন আছি একবার এসে দেখে যা না বাবা। জানিস হাফিজ? আমার শাড়িটাতে কিছুদিন আগে তরকারির ঝোল লেগে দাগ পড়ে গেছে। কঠিন দাগ যাচ্ছেনা। মা কে একটা পছন্দ মত শাড়ি কিনে দিবিনা? তুই আসবিনা বাড়িতে? তোকে একটু দেখবো। আল্লার কসম, শুধু একটু ছুঁয়ে দেখবো। আচ্ছা, আসতে হবেনা। আসলে আমি তোকে সেবারের মত হয়তো আবারও ফিরে যেতে দিবোনা। কি করবো রে বাবা বল। তোর বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, লাশটাও পাইনি তুই জানিস। তোর রতন মামা, সেদিন ভোর রাতে গামছাটা মাথায় পেঁচিয়ে আমার পা ছুঁয়ে বলছিলো, “যাইরে আপা! দেশটা স্বাধীন হলে তোর জন্য একটা লাল সবুজ শাড়ি কিনে আনবো”। পরদিন সকালে বকুলপুরের সবুজ মাঠে তোর মামার লাশ পড়ে ছিলো। দেশটা তো স্বাধীন হয়নিরে। কিন্তু পাগলটা ঠিকই কথা রাখছে। আমার জন্য লাল সবুজের শাড়ি দিয়ে গেছে রক্ত-ঘাসের রঙে। তোর বোন পারুল, সেদিন অনেক সাবধানে পানি আনতে গেছিলো ঘাটে। বাবারে, পানি টুকু আনতে পারেনাই তোর বোন। সবাই শুধু অভিমান করে আমাকে ছেড়ে চলে যাস। আমি কি অপরাধ করছি রে জীবনে? এক বারের জন্য আয় না রে বাবা একটু। তোকে একটু দেখি। আচ্ছা, থাক। তুই আসলে আমি তো আবার তোকে

এটুকুর পরেই আর লিখা নেই। কালি শেষ হয়ে গিয়েছিলো কলমের। কাগজের উপর কালিবিহীন কলমের এলোমেলো দাগ দেখেই হাফিজ বুঝেছিলো মায়ের চাপা আর্তনাদটুকু। শুধু আরেকটু কালি কলমটা থেকে বের করার জন্য মা কত কিছুই না জানি করেছে। কিন্তু কালি আর বের হয়নি। চিঠিটা নিয়ে এসেছিলো কামাল শেখ। চিঠি পাওয়ার পরদিনই আধখাওয়া ভাতের প্লেট রেখে চোখ মুছে বাড়ি রওনা দিয়েছিলো হাফিজ। শেষ দেখাটা হয়নি। টিপটিপ বৃষ্টির রাতে বাড়ি পৌঁছে দেখলো কিছুটা দূরেই উঁচু ঢিবির উপরে একটি মোমবাতি জ্বলছে। হাফিজকে কেউ বলে দেয়নি, কিন্তু সে বুঝে গিয়েছিলো এখন থেকে সে মা হীন এতিম।

রাতের বেলা ফিরোজা এসে বসলো হাফিজের পাশে। বালিশে মাথা দিয়ে আধশোয়া হয়ে দিনের বাজেট করা শেষ সিগারেট টি নিঃশেষ করে দিচ্ছেন হাফিজ সাহেব। আজ ফিরোজা বিরক্ত হচ্ছে না সিগারেটের ধোঁয়ায়। বরং তার ভালোই লাগছে। এক টুকরো গাঢ় বিষাদ নিয়ে স্বামীর দিকে তাকাচ্ছেন ফিরোজা। সিগারেটের ফিল্টারটি অ্যাশট্রে তে ফেলে দিলেন হাফিজ।

-রেডিওর কি অবস্থা?
-ভালোনা। তাও আমি মেকানিকের কাছে দিয়ে এসেছি। মেকানিক বলেছে ঠিক করা যাবেনা। আমি মেকানিককে ৫০০ টাকা দিয়ে এসেছি। চিন্তা করোনা। এগুলো আমার জমানো টাকা।

বাচ্চা ছেলের মত হু হু করে কেঁদে উঠলেন হাফিজ সাহেব। ফিরোজা হাফিজ সাহেবের হাতটা ধরে রাখলেন শক্ত করে।

-কি করবে বল? দোষটা তো তোমাদের নয়।
-না ফিরোজা। আমার দোষ। রহিমার স্বামী শরীফ এখন পঙ্গু। ওকে কথা দিয়েছিলাম দেইল্যা ঝুলবেই। আমি পারিনি।
-আহা। তুমি পারোনি মানে কি?
-হ্যাঁ, আমি পারিনি। আমরা কেউই পারিনি। এইতো ওসমানটা এখন পাগল। স্মৃতিসৌধে গিয়ে বসে থাকে প্রায় সময়। ওকে কথা দিয়ে এসেছিলাম বিচার হবে… হয়নি…
-আচ্ছা, এখন ঘুমাও।

কানের কাছে একটা বেহায়া মশা বড্ড ডাকাডাকি করছে।তবে এতে যে খুব একটা খারাপ লাগছে তা নয়। স্মৃতির পাতা উল্টে যাচ্ছে।

ভাগ্যক্রমে কলিমদ্দি দফাদারের সাথে একবার দেখা হয়েছিলো হাফিজের। কাঁধে স্টেনগান নিয়ে কলিমদ্দিকে কথা দিয়েছিল সেই ছোট রাখাল ছেলেটার রক্তের বদলা নিবে। রক্তের বদলা নিয়েছিলো তরুণ হাফিজ। সে গুণে গুণে ৩৭ জন পাক হানাদারের বুক ঝাঁঝরা করে দিয়েছিলো। মৃত্যুর আগে তাদের মাঝে একজন এক ফোঁটা পানি চেয়েছিলো। হাফিজের একবার মনে হয়েছিলো পানি খাওয়াবে, এরপরই মনে পড়লো ঘরে তিনদিন পানির অভাবে বাধ্যহয়ে ঘাট থেকে পানি আনতে গিয়ে লাশ হয়ে যাওয়া পারুল বোনটির কথা, যে চুলে দুটি ঝুঁটি করতো। ঝুঁটি দুলিয়ে অহংকার করে যে তার বান্ধবীদের বলতো, “আমার ভাইজান, মুক্তিযুদ্ধ করতাছে। মুক্তিযুদ্ধ!”

হাফিজ। একজন মুক্তিযোদ্ধা, এক গ্লাস পানি খাওয়ার সময় তার তৃষ্ণার্ত বুকের হাহাকার নিভে যায় পারুলের অশ্রুবর্ষী চিৎকারে, লিখার সময় কালো কালির বলপেনটির খসখস শব্দ তার সহ্য হয়না, যেন তার মায়ের মায়ের শেষ বয়সের খুসখুসে গলায় সেই নির্ধারিত বাক্যরাশি, “ভাত খেয়ে যা হাফিজ”। বাজারের ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যাওয়া বাবার পায়ে হাঁটা সরু কাঁচা রাস্তাটির দিকে হাফিজ সাহেব কখনো তাকিয়ে দেখেননি, চোখ ঝাপসা হয়ে আসে-বারবার তিনি চশমার লেন্স মুছে নেন ভুল করে। দেইল্যা রাজাকার তার ভ্যাট-ট্যাক্সের টাকায় বেঁচে থাকবে? রহিমার স্বামী পঙ্গু শরীফ মুক্তির ভ্যাটের টাকায় বাঁচবে? কিংবা আরো কত শত কলিমদ্দি দফাদারের চায়ের টাকায় প্রাপ্ত মুনাফার খাতিরে বাঁচবে দেইল্যা রাজাকার? মাথায় ভোঁতা যন্ত্রনা হচ্ছে হাফিজ সাহেবের। রাত প্রায় দুইটা। বুকের বাম পাশে চিনচিনে ব্যথা। ভোরে সূর্যোদয়ের আগেই মারা গেলেন হাফিজ সাহেব।

বাচ্চা মুরগীর স্যুপ দিয়ে নাস্তা সেরেই তৃপ্তির ঢেকুর তুললো দেইল্যা। সারাদেহে একধরনের অবসাদ। বড্ড বেঁচে গেছে সে। রহিমার অভিশাপ তাহলে কোনো কাজে আসেনাই। আসবেই বা কেন? “মাগীর জামাই শরীফ্যা হিন্দুয়ানি-কাফেরের সাথে যোগ দিছিলো। উচিত শিক্ষা হইছে। শরিফ্যা হালায় যুদ্ধ কইরা পঙ্গু! দুইবেলা দুই মুঠা ভাত খাইতে পারেনা। কোন মুক্তিযোদ্ধা আরামে আছে হুঁ?? এ থেইকাই ত বুঝা যায় ওরা কুফরি করছে। আমিই একমাত্র আছি সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে”। দেইল্যার মুখে বিস্তৃত হাসি।

শোঁ শোঁ শব্দে বৃষ্টিটা লেগে আসছে। “তুফান আইছে মরিয়ম! ঘরে ঢুক”। মরিয়ম ঘরে ঢুকে না। বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে ফিরে আসে। এম্বুলেন্সের শব্দ অদূরেই। একধরনের অজানা আশঙ্কায় তার বুক কাঁপে। গ্রামের বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স মানেই আতঙ্ক। এম্বুলেন্সটা এগিয়ে আসছে মরিয়মদের বাড়ির দিকে। একসময় হালকা ব্রেক কষে থামে শাদা গাড়িটা। ভেতর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরোজা। জল-কাদায় গড়াগড়ি খায় মরিয়মের প্রিয় ফিরোজা চাচী। বিদ্ধস্ত চেহারা নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে হাফিজ সাহেবের একমাত্র ছেলে, হাসান ভাই। অত্যধিক শোকে পাথর হে গেছে হাসান। মরিয়ম জলদি দৌড়ে এসে একটি গামছা দিয়ে মাথা মুছে দেয় হাসানের। মরিয়ম কান্না করেনা। তার হাফিজ চাচা একজন যোদ্ধা। যোদ্ধারা কখনো মরেনা। তারা শুধুই অনুপস্থিত থাকে। মরিয়ম হাসানকে নিয়ে আসে শ্যাওলা দিঘীর ধারে।পা ছড়িয়ে শান বাঁধানো ঘাটে বসে পড়ে হাসান। পাশে বসে পড়ে মরিয়ম; হাসানের মারিয়া। অশ্রু ঝরা চোখে হাসান তাকিয়ে আছে মারিয়ার দিকে। টুপ করে কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে মারিয়ার। হাসানের কাঁধে মাথা রেখে তীব্র যন্ত্রনায় কেঁদে উঠে মেয়েটি। দূরে একটি কাক তাকিয়ে থাকে নির্বাক। চোখ দুটো লাল। তাকিয়ে আছে হাসান-মারিয়ার দিকে। অন্তত আজকের দিনের জন্য সব ছেলেই হাসান, সব মেয়েই মারিয়া; যন্ত্রনাগুলো দূরে স্থির বসে থাকা লাল চোখের প্রখর সেই দাঁড়কাকটি।

You may also like...

  1. ণ

    বলছেনঃ

    কাকতালীয় কি না জানি না, সাভার স্মৃতিশৌধে ওসমান নামে এক পাগল আসলেই থাকে

  2. বাচ্চা মুরগীর স্যুপ দিয়ে নাস্তা সেরেই তৃপ্তির ঢেকুর তুললো দেইল্যা। সারাদেহে একধরনের অবসাদ। বড্ড বেঁচে গেছে সে। রহিমার অভিশাপ তাহলে কোনো কাজে আসেনাই। আসবেই বা কেন? “মাগীর জামাই শরীফ্যা হিন্দুয়ানি-কাফেরের সাথে যোগ দিছিলো। উচিত শিক্ষা হইছে। শরিফ্যা হালায় যুদ্ধ কইরা পঙ্গু! দুইবেলা দুই মুঠা ভাত খাইতে পারেনা। কোন মুক্তিযোদ্ধা আরামে আছে হুঁ?? এ থেইকাই ত বুঝা যায় ওরা কুফরি করছে। আমিই একমাত্র আছি সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে”। দেইল্যার মুখে বিস্তৃত হাসি।

    আমিও তাই বলি। এই সহজ ও সত্য কথাটাই আমাদের মাননীয় বিচারপতি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দিয়েছেন… =D> তাকে অভিনন্দন… >:D<

    • ইলেকট্রন রিটার্নস বলছেনঃ

      বিচারপতির বাণী প্রটেস্ট করে আবার কেইস খাওয়ার ইচ্ছা নাই। :(

      তিনি একজন বাঙালি এবং সুপ্রীম কোর্টের মহামান্য বিচারপতি হয়ে কিভাবে ঐ কথাটা বললেন সেটা চিন্তা করে আবেগে আপ্লোডিত হয়ে যাই। তাও, এর ব্যাখ্যা তিনিই ভালো জানেন। (ফিলিং সুশীল!)

  3. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    এখন সব কিছুতেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি, কোন কিছুই গায়ে লাগে না। দেইল্লার ফাঁসি হয় নি, চোখ ঝাপসা হয়েছে বহুবার এখন ঝাপসা হবার জন্য জলও বুঝি শেষ । all possible side effects of prednisone

    অপেক্ষায় আছি দেশ আলাদা করার অভিযোগে মুক্তি’র বিচার কবে শুরু হবে তার জন্য।

  4. জন কার্টার বলছেনঃ

    …..অসাধারণ লিখেছন ইলেকট্রন সাহেব স্রেফ অসাধারণ!

    বাচ্চা মুরগীর স্যুপ দিয়ে নাস্তা সেরেই তৃপ্তির ঢেকুর তুললো দেইল্যা। সারাদেহে একধরনের অবসাদ। বড্ড বেঁচে গেছে সে। রহিমার অভিশাপ তাহলে কোনো কাজে আসেনাই। আসবেই বা কেন? “মাগীর জামাই শরীফ্যা হিন্দুয়ানি-কাফেরের সাথে যোগ দিছিলো। উচিত শিক্ষা হইছে। শরিফ্যা হালায় যুদ্ধ কইরা পঙ্গু! দুইবেলা দুই মুঠা ভাত খাইতে পারেনা। কোন মুক্তিযোদ্ধা আরামে আছে হুঁ?? এ থেইকাই ত বুঝা যায় ওরা কুফরি করছে। আমিই একমাত্র আছি সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে”। দেইল্যার মুখে বিস্তৃত হাসি।

    তাই বলি কি, পরেরবার আমিও রাজাকার হবো! জীবনের শেষ দিনগুলোতে ধুকে ধুকে মরতে চাই না ভাই, একটা শান্তির মৃত্যু চাই! যেটা হবে কোন বড় হাসপাতালের এসির বাতাসে কচি মুরগির ঝোল দিয়ে খেতে খেতে! এবং সেটা অবশ্যই সরকারের টাকায়!

    can your doctor prescribe accutane
  5. চমৎকার লিখেছ …
    দেখতে দেখতে সয়ে যাচ্ছে সব। কিন্তু ভেতরের বাঙালিসত্ত্বাটা এখনো বেঁচে আছে বলে শুয়োরের বাচ্চাদের ঘৃণা করার বোধটুকুও রয়ে গেছে। আসলে ভুল ওই শুয়োরের বাচ্চাগুলোর নয়, ভুল ৩০ লাখ শহীদ আর ৪ লাখ মা বোনের যারা অকারণে জীবন দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছিলো।

  6. কেন লিখেন এসব !!!!!!!!
    যন্ত্রণাটা শুধু বাড়ে। এর শেষ আর হয় না, হবেও না। নুন্যতম আশা যাও ছিল এতদিন, এখ সেটাও নাই। রাজাকাররা জীবিত থাকবে রাষ্ট্রীয় খরচে আর আমরা শুধু চিল্লাইতে থাকবো। ! doctorate of pharmacy online

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

posologie prednisolone 20mg zentiva

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

metformin gliclazide sitagliptin
can you tan after accutane