সিলেটে সারকারখানায় ভূতের গপ্পো

397

বার পঠিত

অনেকদিন হয় নতুন কোন পোস্ট লেখা হয়ে উঠছে নাহ, পুরাতন লেখা পোস্ট গুলো রি শেয়ার করি। মানুষ সেগুলোই বড় আনন্দ নিয়ে পড়ে আমারও ভাল লাগে, লেখাগুলো ব্র্যান্ডেড হয়ে গেছে ওগুলোই যেন মানুষ বারবার পড়তে চায়, জানতে চায়। নতুন একটা গল্প লিখবো ভাবলাম, গল্পের প্লট নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে করতে বহু সময় চলে গেছে, তবুও গল্পের প্লট ও সময়কাল খানিক আগের সুতরাং গল্প পড়তে গিয়ে ভাববেন না ডিজিটাল যুগের মত মাথার উপর ফ্যান ঘুরে আর রাস্তায় রাস্তায় আলোকিত করে সোডিয়াম বাতি।

সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানায় নতুন চাকরী নিয়ে এসেছি। এলাকাটা একেবারে নতুন, এখানে আসার আগে ঢাকায় থাকতাম। সাল ১৯৬৪, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে – হিন্দু আর মুসলমানদের দাঙ্গায় প্রতিদিন প্রচুর মানুষ চোখের পলকে প্রাণ হারাচ্ছে। ঢাকায় থাকাটা নিরাপদের ছিল নাহ, যে চাকরীটা করতাম সেখানেও মাইনে তেমন সুবিধার ছিল না বলে এই নতুন কাজের জন্য একটা আবেদন করেছিলাম, চাকরীর পোস্টিং হয়ে যাবার পর আর দেরি করিনি সাথে সাথেই চলে এসেছি।

প্রথমে এখানে পথঘাট চিনতে একটু সমস্যা হচ্ছিলো, পরে আস্তে আস্তে সব চিনে নিয়েছি। এখানে কারখানার কর্মচারীদের জন্য আলাদা কলোনী আছে, এখানেই একটাতে আমার ঠাই হয়েছে। এখানে অনেক উপজাতি থাকে, এরা বেশির ভাগই আগে সিলেটের বিভিন্ন টিলায় চা বাগানে কাজ করতো, এদের মাঝে অনেক অসমিয়াও এখানে থাকেন।
বাগানের মালিদের সাথে তেমন ভাল পরিচয় ছিলনা, নিজের প্রয়োজনেই এদের সাথে একটু মেলামেশা করতে হলো। এদের কে বলে কয়ে আমার জন্য বরাদ্দকৃত কামরাটা বসবাসের যোগ্য করে তুলতে হলো। আমাদের কলোনীর দারোয়ান বিহারী, আধা বাংলা আধা হিন্দিতে কথা বলে। ওর কাছে জানতে পারলাম এ কামরায় আগে যিনি থাকতেন তিনিও আমার মতই নতুন চাকরী নিয়ে এসেছিলেন কিন্তু ওর সাথে স্থানীয় কিছু সাম্প্রদায়িক হিন্দু দাঙ্গাবাজদের সাথে ঝামেলা হয়ে যায়, ঝামেলার হপ্তাখানেক বাদেই ভদ্র লোক খুন হয় আর তার রিপ্লেসমেন্ট হিসাবেই আমাকে আনা হয়েছে।

শুনতে একটু অবাক লাগলেও ঘটনা সত্য। এই ঝামেলার সূত্র ধরে আবার কোন ঝামেলার উদয় হয় বলতে পারি নাহ তবে এখানেও যে একটু সাবধানে চলতে হবে সেটা বুঝতে পারছি। আমাদের কারখানায় দিন রাত সব সময়ই কাজ চলে, দিনে রাতে কর্মচারী আর শ্রমিক গণ পালা করে পালা করে কাজ করে। আমার ডিউটি সবসময়ই দিনের বেলায় পড়ে, সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আমি এখানে সুপার এর কাজ করি। কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়। এলাকাটার রাস্তা তেমন সুবিধের নয়, কারখানা থেকে ২০০ গজ দূরে আমার কলোনী এতটুকু রাস্তা আমি পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করি সবসময় আর সঙ্গে থাকে ৪ সেলের একটা টর্চ, এটাকে যেমন রাতে পথ চলতে আলো হিসাবে ব্যবহার করা যায় ঠিক তেমনি বিপদে পড়লে মোক্ষম অস্ত্র হিসাবেও দূর্দান্ত কাজ করে – আর যাই হউক ৪ সেলের একটা ভাড়ি টর্চের বারি কম কথা নয়।
আমাদের কলোনীটা গ্রাম থেকে একটু দূরে, তাই সন্ধ্যার পরপরই এলাকাটা জনমানবহীন হয়ে পড়ে। গত দুদিন যাবৎ এখানে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে, রাস্তা ঘাট সব জলে একাকার। সন্ধ্যার সময় যখন চারিদিক জনমানবহীন হয়ে পড়ে ঐ ২০০ গজের রাস্তাটুকু একা মাড়িয়ে আসাটা তখন কাল্পনিক মনে হয়, আপনি যত সাহসী লোকই হোন না কেন, রাত বিরাতে ঝামেলায় নিশ্চয়ই পড়তে চাইবেন না? আমি ভূতে বিশ্বাস করি নাহ, তবে একথা সত্য যে ভূত কথাটা একেবারে ফেলেও দিতে পারি নাহ।
সবদিনের মত সেদিনও আমি কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলাম, সকাল-সন্ধ্যা বৃষ্টি হবার দরুণ একটা বোটকা সেঁদো গন্ধ বাতাসে মিশে আছে, ঘন প্যাঁকে জল মিশে তা আরো ঘন হয়েছে, একবার পা পড়লে আর উঠে আসতে হবে নাহ। ৪ সেলের টর্চের আলোয় আমি আস্তে আস্তে পথ চলছি, হঠাৎ মনে হলো আমার পেছনে কেউ একজন হেঁটে আসছে, একেবারে নিশ্চিতভাবে ঠাউর করতে না পারলেও বুঝতে পারছি পেছনে বাঁশ পাতা মাড়ানোর স্পষ্ট শব্দ কানে এসে লাগছে, একবার ভাবলাম পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি… কিন্তু পরক্ষণে মত পাল্টালাম, ভাবলাম একটা দৌড় লাগাই যদি কেউ সামনে থাকে তবে সেও আমাকে অনুস্মরণ করার জন্য দৌড় লাগাবে।

যেই চিন্তা সেই কাজ, আমি দৌড় দিলাম। এভাবে প্রায় মিনিট ২ দৌড়ানোর পর থামলাম, পেছনে ফিরে দেখি কেউ নেই। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এলো, কিন্তু একেবারে নিশ্চিন্ত হতে পারলাম নাহ কারণ বারবার মনে হলো ওটা আবার যে কোন মুহূর্তে চলে আসতে পারে। পরদিন সকালে আমাদের বাগানের মালিকে নিয়ে গেলাম সেই জায়গাটা একটু পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখি ওখানে একটা ছেঁড়া লুঙ্গি বহুদিনের পুরোনো, কাদা আর জলে মিশে গিয়ে প্রায় পচে গেছে – অর্ধেক মাটির নিচে গোঁজা। মালিকে দিয়ে কোদাল আনামাল, তারপর জায়গাটা খানিক খোড়ার পর একটা মানুষের মাথার খুলির আলামত পাই। পরে জানা গেল, যে ভদ্রলোক খুন হয়েছিলেন উনার লাশ আর পাওয়া যায়নি। সুতরাং ইহাই যে সেই ভদ্রলোকের দেহাবশেষ তা নিয়ে আর কোন সন্দেহ থাকলো নাহ। clomid over the counter

লোকটাকে মেরে ফেলার পর তার ভাল ভাবে সৎকার করা হয়নি বলেই হয়তো এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিলো, আমি কলোনীর সবাইকে বলে হিন্দু মতে তার দেহাবশেষ সৎকার করলাম। এরপর থেকে আর কোনদিন এরকম ঝামেলায় পড়িনি, তবে হ্যাঁ ভূত বিষয়ক যে ধারণাটা আমার ছিল তা একটু হলেও প্রগাঢ় হয়েছে এটা মানি ! achat viagra cialis france

amiloride hydrochlorothiazide effets secondaires
doctus viagra

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

all possible side effects of prednisone

posologie prednisolone 20mg zentiva

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

zovirax vs. valtrex vs. famvir

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

metformin synthesis wikipedia
zoloft birth defects 2013
venta de cialis en lima peru