হেমলক সোসাইটি- মরবে মরো, ছড়িয়ো না…

983

বার পঠিত

JADEED_1349537979_1-hemlocksociety-jun5

তুই চিরদিন তোর দরজা খুলে থাকিস -
অবাধ আনাগোনার হিসেব কেন রাখিস?
সাক্ষাৎ আলাদীন তোর প্রদীপ ভরা জ্বিনে -
কেন খুঁজতে যাস আমায় সাজানো ম্যাগাজিনে?

সিদ্ধার্থ রায়  এর মোহনীয় কণ্ঠের জাদুতে অন্য এক জগতে হারিয়ে গিয়েছিল মেঘনা। হঠাৎ করেই ফোন এল তার এক বান্ধবী ইরা’র। ফোনটা না ধরলেই বোধহয় ভালো হত। কেননা কলটা রিসিভ করার কিছুক্ষন পরেই সে খুব অদ্ভুত  বিস্ময়ে হঠাৎ খেয়াল করল, বারের ওপাশে তার বাগদত্তা প্রিয়তম খুব আবিষ্ট ভঙ্গিমায় ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দিচ্ছে আরেকটি তরুণীর ওধরে। হুট করে মায়ের চলে যাবার পর যাকে আশ্রয় করে বেঁচে ছিল মেঘনা, চৌদ্দ বছরের পুরনো সম্পর্ক যার সাথে,এভাবে সে নিতান্তই অপরিচিত হয়ে যাবে, ভাবতেও পারেনি সে। বাবার সাথে দূরত্ব বাড়তে বাড়তে এতটাই বিশাল হয়ে গেছে যে, তার স্নেহের একটুখানি আশ্রয় পাওয়া আজ আর সম্ভব না। প্রচণ্ড হতাশা আর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই……… সমাধান, স্লিপিং পিল…

images (5)

ফার্মেসীতে কনডম কিনছিলেন এক ভদ্রলোক। হুট করে উপস্থিত হয়ে একগাদা স্লিপিং পিল কিনে ভাংতি টাকা না নিয়েই ছুটে পালিয়ে যাওয়া মেঘনাকে দেখে সন্দেহ হল ভদ্রলোকের। ফলাফল কিছুক্ষন পরেই পিল খাবার মুহূর্তে বেরসিকের মত কলিংবেলের উৎপাত। অগত্যা,কি আর করা, আত্মহত্যার কর্মসূচি মুলতবী রেখে দরজা খুলতে হল মেঘনাকে। আর খোলা মাত্র সিআইএ’র চৌকষ এজেন্ট সেই ভদ্রলোক ফ্ল্যাট সার্চ করার নিমিত্তে জোর করে সবার প্রথমে সেই পিলের শিশিটা ফ্ল্যাশ করে দিলেন কমোডে। চোখের সামনে এভাবে আত্মহত্যা করার সুবর্ণ উপায়টি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কষ্ট আর আক্ষেপের যন্ত্রণায় পুড়ছে মেঘনা, ঠিক সেই সময় ভদ্রলোক উদাত্তগলায় বলে উঠলেন, “আনন্দ কর”। না , মেঘনার মত যা ভাবছেন, তা নয়। তিনি আনন্দ করবার আহ্বান জানাচ্ছেন না, ওটি তার নামবিশেষ। এবং মেঘনার সদয় অবগতির জন্য তিনি জানাতে চাচ্ছেন, মেঘনাকে বাঁচাবার কোন ইচ্ছাই তার নেই। মেঘনার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে বাঁচতে বাধ্য করার সে কে? পিল খেয়ে যেহেতু মেঘনার মৃত্যু হত না, তাই সে তাকে চাচ্ছে যেন সঠিক উপায়ে নির্ভুলভাবে মেঘনা আত্মহত্যা করে। আনন্দের ভাষায়-

আত্মহত্যা করতে গিয়ে বেঁচে ফিরে এসে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা জনিত দুর্ঘটনা, সামাজিক অধঃপতন, অথবা জেলে পচে বাকী জীবনটা ম্যাসাকার অবস্থায় না কাটিয়ে, হেমলক সোসাইটির তিন দিন ব্যাপী আত্মহত্যা প্রশিক্ষন মুলক কর্মশালায় যোগ দিন। মরতে হলে মরুন… ঠিকমতো মরুন… ঘটনা ঘটাতে গিয়ে সব তালগোল পাকিয়ে বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা করবেন না। zovirax vs. valtrex vs. famvir

hemlock-society1

সেটা নিশ্চিত করতেই কাজ করে যাচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান, হেমলক সোসাইটি — স্লোগান- মরবে মরো, ছড়িয়ো না..

আনন্দ করের হেমলক সোসাইটি মেঘনাকে নিয়ে এল এক ভিন্ন জগতে। আত্মহত্যার নিখুঁত ট্রেনিং নিতে এসে জীবনের নানা বাঁকের সাথে, বড় বিচিত্র কিছু যন্ত্রণার সাথে পরিচয় হল তার। বাস্তবতার নির্মমতায় পরাবাস্তবতার মিশেলে যন্ত্রণাগুলো তাকে শেখালো জীবনের সংজ্ঞা, যে জীবনের হাতছানি উপেক্ষা করে মৃত্যুর হিমশীতল পরশ আলিঙ্গন করা বোধহয় খুবই কঠিন কিছু…

সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত, শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস প্রযোজিত ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ডার্ক কমেডি ক্যাটাগরির হেমলক সোসাইটি চলচ্চিত্রটির মূল ভূমিকায় ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও কোয়েল মল্লিক। অটোগ্রাফ,বাইশে শ্রাবণের ধারাবাহিকতায় পরিচালক সৃজিত তার অনন্য দক্ষতার পরিচয় আরেকবার দিয়েছেন এ চলচ্চিত্রে। ডায়ালগ, সিনেমাটোগ্রাফী, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক- সবখানে চমৎকার সব ইনোভশন এনে সৃজিত বুঝিয়েছেন তার ক্লাস। বিশেষ করে ডায়ালগগুলো ছিল এই মুভির প্রান। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে এর ডায়ালগগুলো above  average intellect দের জন্য। একটা উদাহরণ দেয়া যাক, প্রেম করার জন্য কেমন মেয়ে চাই, সেই প্রশ্নের জবাবে আনন্দ বলেছিল, আমার এমন একটা মেয়ে লাগবে, যে ফেলুদা’ও জানবে, নেরুদা’ও জানবে, আবার দেরিদা’ও জানবে”… এখন ফেলুদাকে আমরা গোয়েন্দা চরিত্র হিসেবে প্রায় সবাই চিনলেও কবি পাবলো নেরুদা কিংবা বিখ্যাত দার্শনিক জ্যাক দেরিদার কথা কয়জন জানি? কার্ট কোবেইনকে মোটামুটি অপরিচিত একটা নাম আমাদের কাছে, কিন্তু চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা সার্থকভাবে তার প্রসঙ্গ এসেছে এবং দৃশ্যটি হয়ে উঠেছে আরও অর্থবহ। এভাবে সৃজিত অনেক বিচিত্র বিষয় কিংবা বহির্বিশ্বের নানা চরিত্রের নানা কর্মকাণ্ড খুব সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন চিত্রনাট্যে আর সংলাপে, যেটা দর্শকের জন্য খুবই চমকপ্রদ ছিল।

images (6)

আর অভিনয়ের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসবে পরমব্রতের নাম। পুরো চলচ্চিত্রের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একইভাবে অনন্য মুন্সিয়ানায় অভিনয় করে গেছেন এ ভদ্রলোক, সাথে ছিল কোয়েলের নিজেকে নতুন রুপে প্রকাশের বিস্ময়। এতদিন কমার্শিয়াল ফিল্মগুলোতে অভিনয়ে যথেষ্ট পরিমানে ন্যাকামি মিশিয়ে নিজেকে ন্যাকামিশিল্পে ভিন্ন ধারার এক শিল্পী হিসেবে প্রমান করা কোয়েল পুরো মুভি জুড়েই নিজেকে ভেঙ্গে গড়েছেন, এবং নতুন এ রূপে বিন্দুমাত্র ন্যাকামি না পেয়ে দর্শক হয়েছে নিতান্তই বিস্মিত। ডায়ালগ থ্রোইয়িং, এক্সপ্রেশন কিংবা নিপুন দক্ষতায় অভিনয় ফুটিয়ে তোলা- সব ক্ষেত্রেই এক নতুন কোয়েলকে আবিস্কার করেছে দর্শক। ছোট ছোট চরিত্রে সউমিত্র, সব্যসাচী, সৃজিত, সাবিত্রী, শিলাজিৎ সবাই নিজেদের ছাড়িয়ে যাবার প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। চমৎকার অভিনয়ে চলচ্চিত্রটিকে তারা প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন চমৎকারভাবে।

গানের ব্যাপারে আর কি বলব? এখন অনেক রাত, এই তো আমি চাই, তুই চিরদিন তোর দরজা খুলে থাকিস, আমার মতে তোর মত কেউ নেই – কোনটা রেখে কোনটার কথা বলব? কথা, সুর, গায়কী, কণ্ঠ- সবকিছু এতটাই অনন্য ছিল যে, শুধু গানের জন্যই এই চলচ্চিত্রটা দর্শকের মনে দাগ কেটে রইবে বহুদিন।

পরিশেষে, যারা ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করবার মত শিশুতোষ চিন্তাভাবনায় পড়ে রয়েছেন এখনও, তাদের বলব, লাইনে আসুন। শুধু শুধু আত্মহত্যার নামে যন্ত্রণা বাড়াবার কোন মানে হয় না। আপনি নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকুন, এটা মোটেও কাম্য নয়। তাই হেমলক সোসাইটির তিন দিনের ক্রাশ কোর্সে( পরিচালকের বদন্যতায় ২ ঘণ্টা ১৮ মিনিট) জয়েন করুন, নিখুঁতভাবে আত্মহত্যার প্রশিক্ষন নিয়ে নির্ঝঞ্ঝাটে ওপারে পাড়ি জমান। একটা কথা মনে রাখবেন – মরবে মরো, ছড়িয়ো না…

 

You may also like...

  1. নীহারিকা বলছেনঃ

    আমার অনেক পছন্দের সিনেমা । ভাল লিখেছিস…

  2. একদিন হোমপেজে স্ক্রল করতে গিয়ে এক আপুর একটা স্ট্যাটাস চোখে পড়ে। তিনি লিখেছিলেন- ‘যারা জীবন নিয়ে হতাশায় ভুগছেন তারা পথ্য হিসেবে লাইফ অব পাই আর হ্যামলক সোসাইটি মুভি দুইটি দেখতে পারেন।’

    সেই স্ট্যাটাস দেখার এক সপ্তাহের মাথায় মুভিটা দেখি। দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। ক্যামনে সম্ভব এমন মুভি বানানো !!! কোন একশন নাই, ১৮+ সিন নাই, আধুনিক ছবির কোন মাল মশলা নাই। তারপরও একটা মিনিট এর জন্য মুভি থেকে মনোযোগ সরানো যাবে না !
    অসাধারণ !!

    আর ডন ভাই
    আপনার কথা কি বলব ? আপনি তো বস :) ;)

  3. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    মুভিটা আমার সেই সেই সেই রকম ভাল লেগেছে……

  4. Tanzina Akter বলছেনঃ

    আমি সিনেমা টা দেখিনাই।কিন্তু আমি মরতে চাই। কিভাবে মরবো।বলে দিন

  5. আহ হেমলক!! আত্মহত্যার গোল্ডেন ইতিহাস!!!!

  6. ইয়েমানে, আমিও দুই একবার সুইসাইড খাইতে গেছিলাম, কিন্তু পারিনাই :( আমারে কেউ ” হেমলক সোসাইটিতে ” নিয়া যান… :((

  7. শেহজাদ আমান বলছেনঃ

    এখন অনেক রাত
    তোমার কাধে আমার নিঃশ্বাস
    আমি বেচে আছি
    তোমার ভালবাসায়

    —গানটা অনেক জোস! আমার ফেভারিট একটা গান!

  8. ইলেকট্রন রিটার্নস বলছেনঃ

    বাংলা সিনেমার জগতে দুইজন অভিনেতার মুভি মারাত্মক উপভোগ করি। একজন হলেন অনন্ত জলিল, আরেকজন পরমব্রত। তবে দুইজনের ছবিই দুটি ভিন্ন কারণে পছন্দের। জলিলের সায়েন্সফিকশান মুভি গুলো ভাল্লাগে। কিন্তু পরমব্রতের মুভি গুলো নিয়ে আমার বলার মত কিছু নেই। প্রলয়, বাইশে শ্রাবণ এই দুইটা মুভি হা করে গিলেছি। হেমলক সোসাইটিও কালকেই দেখে নিবো আশা করছি। আর আপনার রিভিউ চরম হইছে। কিপিটাপ ম্যান! :)

  9. শঙ্খনীল কারাগার বলছেনঃ

    viagra in india medical stores

    চমৎ্কার রিভিউ। ছবিটা ভাল লেগেছিল, আপনার রিভিউটাও ভাল লাগলো।

  10. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    চলচ্চিত্রটির মত ডন-দ্যা আপনার পর্যালোচনাও অনবদ্যও! ভাল লাগলো

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

missed several doses of synthroid

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

cialis new c 100
private dermatologist london accutane
buy kamagra oral jelly paypal uk