হাংরি আন্দোলন — এক অভূতপূর্ব দ্রোহের বিস্ফোরণ (শেষ পর্ব) অমর ও অবিনশ্বর এক আন্দোলনের উপাখ্যান

249

বার পঠিত

১৯৬৪ সালে হাংরি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যে মামলাটি হয়েছিল, সেটা মূলত ছিল আন্দোলনের মাঝে ফাটল ধরিয়ে আন্দোলনকে দুভাগ করে দেয়া। কোন আন্দোলনই ফাটল ধরলে টিকতে পারে না। কিন্তুই যখন দেখা গেলো সামান্য কবিতা লেখার অপরাধে কিছু নিরীহ মানুষকে চোরডাকাতের মত আর জেলের ভেতর আটকে রাখা যাচ্ছে না, তখন শুধুমাত্র মলয় রায় চৌধুরী ছাড়া আর বাকি সবাইকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হল সরকারযন্ত্র। মলয়ের বিরুদ্ধে মামলা চলল দীর্ঘ প্রায় একবছর এবং তারপর তার বিরুদ্ধে রায় হয়ে গেলো। একজন আসামির সাথে কোনরুপ সম্পর্ক রাখা উচিৎ নয়। সুতরাং যে অল্প কয়েকজন তার সাথে অল্পবিস্তর যোগাযোগ রাখতেন, তারাও হঠাৎ দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করলেন। আর কলকাতার সাহিত্য ধব্জাধারীরা আনন্দে বগল বাজানো শুরু করলেন। কিন্তু তারা খেয়াল করেননি ততদিনে হাংরি আন্দোলনের খবর ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে।

আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিন প্রথম পাতায় হাংরি আন্দোলন খবর হল বেশ কয়েকদিন। ‘যুগান্তর’ দৈনিকে “আর মিছিলের শহর নয়” এবং “যে-ক্ষুধা জঠরের নয়” শিরোনামে সম্পাদকীয় লিখলেন কৃষ্ণ ধর। ধর্মবীর ভারতী, এস. এইচ. বাৎসায়ন অজ্ঞেয়, ফণীশ্বরনাথ রেণু, কমলেশ্বর, শ্রীকান্ত ভর্মা, মুদ্রারাক্ষস, ধুমিল, রমেশ বকশি প্রমুখ প্রবন্ধকার ও কলামিস্টরা হিন্দি পত্রিকা ‘ধর্মযুগ’, ‘দিনমান’, ‘সন্মার্গ’, ‘সাপ্তাহিক হিন্দুস্তান’, ‘জনসত্তা’ ইত্যাদিতে ফটো ও বিভিন্ন তথ্যসহ বেশ কয়েকদিন উপর্যুপরি কলাম ও আর্টিকেল লিখলেন। বুয়েনার্স আয়ার্স থেকে ‘প্যানারোমা’ পত্রিকার সাংবাদিক মলয়ের বিরুদ্ধে মামলা কভার করলেন। জার্মানির ‘ক্ল্যাক্টোভিডসেডস্টিন’ পত্রিকা বিশেষ হাংরি আন্দোলন সংখ্যা প্রকাশ করল। নিউ ইয়র্কের ‘এভারগ্রিন রিভিউ’, আর্জেনটিনার ‘এল কর্নো এমপ্লুমাদো’ এবং মেকসিকোর ‘এল রেহিলেতে’ পত্রিকায় সম্পাদকীয় প্রকাশিত হল হাংরির উপর। আর নাম না জানা অসংখ্য সাহিত্য ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হল হাংরি নিয়ে লেখা। কলকাতার পতিত সাহিত্যিকেরা খবর না রাখলেও হাংরি এভাবেই হয়ে উঠল সাহিত্যজগতে বাকবদল ঘটানো আন্দোলনগুলোর অন্যতম একটি।

এদিকে মলয়কে যেহেতু সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সমাজের কেউই এখন আর চেনে না, সুতরাং উচ্চ আদালতে তার মামলা চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ল। জ্যোতির্ময় দত্ত নামে এক শুভাকাঙ্ক্ষীর চেষ্টায় সদ্য লন্ডনফেরত ব্যারিস্টার করুনাশঙ্কর রায়ের সাথে পরিচয় ঘটল মলয়ের। হাংরির এই একনিষ্ঠ ভক্তের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তৎকালীন বিখ্যাত আইনজীবী মৃগেন সেন ও তার তিন সহযোগী মামলা লড়তে রাজি হলেন। আটঘাট বেঁধে রিভিশন পিটিশনে শুনানিতে অংশ নিলেন তারা। প্রচণ্ড যুক্তিতর্ক শেষে মহামান্য আদালত রায় ঘোষণা করলেন ১৯৬৭ সালের ২৬শে জুলাই। নিম্ন আদালতের রায় নাকচ করে দিয়ে বেকসুর খালাস প্রদান করা হল মলয়কে। প্রায় ৩৫ মাস ধরে চলা এক অতি উদ্ভট প্রহসনের সমাপ্তি ঘটল। kamagra pastillas

সুনীল ও তার সমগোত্রীয় নামকাওয়াস্তে সাহিত্যিকদের কূটকৌশলে ১৯৬৫ সালে এ আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে গেলেও আগুন নিভে যায়নি। ১৯৭০ সালের শেষদিকে উত্তরবঙ্গ ও ত্রিপুরার কবিরা আবারও আন্দলনকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সঠিক তাত্ত্বিক ভিত্তি জানা না থাকায় তারা বেশিদুর এগোতে পারেননি।

হাংরি আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা প্রভাব ও আমার মতামতঃ

হাংরি আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা কিংবা বাঙলা সাহিত্যে এর প্রভাব কেমন ছিল? এটা কি ভালো ছিল নাকি মন্দ ছিল?? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে হলে আমাদের আগে তৎকালীন সাহিত্য ধারার মূলে যেতে হবে। ত্রিশ বা চল্লিশের দশকে যে সাহিত্য ছিল সার্বজনীন, “সমাজের সকল স্তর হতে সকলেই সাহিত্যিক হতে পারবে” এটা ছিল স্বাভাবিক, পঞ্চাশের দশকে এসে হঠাৎ তা বদলে যেতে থাকলো। সাহিত্য কিছু কুলিন সম্প্রদায়ের কিছু সুশীলের মাঝে আটকে গেলো। কবিতা, কৃত্তিবাস, শতভিষা , ধ্রুপদী ইত্যাদি পত্রিকা, যারা সাহিত্যকে একপ্রকার নিজেদের রেজিস্ট্রিকৃত সম্পত্তিতে পরিনত করেছিলেন, তারা সাহিত্যকে ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখা এক শোপিসে পরিনত করে ফেললেন। হাংরিই আবার সাহিত্যকে সর্বজনীন সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা দিল । আর অতিরিক্ত ভদ্রতা ও ভালোর মুখোশে ঢেকে যাওয়া বাঙলা সাহিত্য; যে সাহিত্য সমাজসংসারের সকল অন্যায়-অবিচার,অত্যাচার,অনাচার, পাপ-পঙ্কিলতা, মানবজীবনের অন্ধকার দিকগুলো, মানুষের ভেতর বাস করা শয়তানসত্তা ইত্যাদি সকল মন্দ ব্যাপারগুলো দেখেও চোখ বুজে থাকতো, হাংরি সেই অতি ভদ্র সাহিত্যের গালে কষে এক চড় দিয়ে তার চোখ খুলতে বাধ্য করল। ড. তরুণ মুখোপাধ্যায় এর মতে, হাংরি আন্দোলন ভাষায়,ছন্দে,অলংকার,স্তবকে তুমুল ভাংচুর চালিয়ে এক নতুন সাহিত্য ধারা সৃষ্টি করেছে হাংরি যাতে যৌনতার সাথে উঠে এসেছে ব্যঙ্গ, আত্মপরিচয় ও অসহায় মানুষের নিস্ফলতার যন্ত্রণা। accutane prices

যৌনতা সংক্রান্ত কথাবার্তা হাংরি আন্দোলনে উঠে এসেছে খুবই দৃষ্টিকটুভাবে বারংবার। যেটা এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থেকে আন্দোলনকে সরিয়ে নিয়ে গেছে বারবার এবং এই আন্দোলনকে দমাতে ষড়যন্ত্রকারীদের সাহায্য করেছে গভীরভাবে। এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল সমাজে অশ্লীলতার প্রচলন ঘটানো। অবশ্য তার পেছনে যুক্তিগ্রাহ্য কারণও ছিল। কথা নাই, বার্তা নাই হঠাৎ একটা শান্ত বহমান নদীর মাঝে বিশাল এক বাঁধ দেয়া হয়, তবে কিন্তু ঐ শান্ত জলের ধারা হঠাৎ ফুঁসতে শুরু করবে। আর যখন পানির স্রোতের চাপে বাঁধ ভেঙ্গে যাবে, তখন সেই শান্ত সাধারন স্রোতের ধারা ভয়ঙ্কর অসাধারণ হয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সবকিছু। সেই পানি কিন্তু তখন আর শান্ত থাকবে না। পঞ্চাশের দশকে ঠিক এভাবে সাহিত্যের সাবলীল বহমান ধারাকে ঠিক এভাবে বাঁধ দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছিল, ফলাফলে হাংরির তোড়ে সব বাঁধ-টাধ ভেঙ্গে সর্বগ্রাসী ধারায় সাহিত্য প্রবাহিত হয়েছিল তার আপন গতিতে ভয়ংকর রূপে। কোন বিদ্রোহেই সবকিছু আগের মত থাকে না। ভালোর সাথে সাথে মন্দকিছুও ঢুকে পড়ে। যেমন, যৌন চিত্রকল্প, অশ্লীল শব্দ, গালমন্দ, নিচুতলার অভিব্যক্তি যা পাঁচের দশক পর্যন্ত পাঠবস্তুতে নিষিদ্ধ ছিল তার যথেচ্ছ প্রয়োগের সূত্রপাত করে গেছেন হাংরি আন্দোলনকারীরা । আন্দোলনের সময়কার অস্থিরতা প্রকাশেই হয়তোবা ভঙ্গুর বাকপ্রতিমা প্রয়োগ (হাংরি আন্দোলনকারীদের কবিতায় একটি ছবি সম্পূর্ণ গড়ে ওঠার আগেই তা মিলিয়ে গিয়ে আরেকটি ছবি ভেসে ওঠে। এটিই ভঙ্গুর বাকপ্রতিমা)ছিল বহুল। বাংলা কবিতায় এটি এখন প্রতিষ্ঠিত শৈলী। এরকম হাজারো পরিবর্তনে হাংরি আন্দোলনকে বাঙলা সাহিত্যকে দিয়েছে আপনগতিতে চলার স্বাধীনতা, কিছু মন্দ বিষয়ের যথেচ্ছ প্রয়োগ সত্ত্বেও যে স্বাধীনতা ছিল খুব প্রয়োজনীয়। যদিও তার প্রকাশভঙ্গি যুগ যুগ ধরে সমালোচনার বিষয়বস্তু হয়ে আছে এবং থাকবে, তথাপি সত্যকে নিষ্ঠুরভাবে প্রকাশের এই গুনের কারণে হাংরির প্রয়োজনীয়তা ও তার প্রভাব অস্বীকার করা যাবে না কোনভাবেই। ইতিহাসের পাতায় হাংরি সবসময়ই চিহ্নিত হবে এক নেসেসারি রেভিউলিশন হিসেবে… missed several doses of synthroid

মলয়ের লেখা হাংরি আন্দোলনের সময়কার ইশতাহার ও বুলেটিন সংরক্ষণকেন্দ্র

http://library.northwestern.edu/spec/pdf/hungrygeneration.pdf acne doxycycline dosage

মলয়ের নিজের কণ্ঠে আবৃতি করা কবিতা…

আলো- মলয় রায় চৌধুরী
www.youtube.com/watch?v=uxBbJoXxsaE

মর মুখপুড়ি – মলয় রায়চৌধুরী – YouTube
www.youtube.com/watch?v=7iVAZ-6uJ5M

ডেথমেটাল- মলয় রায় চৌধুরী – YouTube
www.youtube.com/watch?v=kZfAonJ5X9U

বিশ্বাসঘাতক সুভাস ঘোষের মুচলেকা–
http://hungryandolon-tridibmitra.blogspot.com/2011/11/blog-post_02.html

চলো গুলফিঘাট
মলয় রায় চৌধুরী

কেউ মরলেই তার শব ঘিরে মৃত্যু উৎসব ছিল ইমলিতলায়
বয়ঃসন্ধির পর দেহের ভেতরে অহরহ উৎসব চলে তাই
তারা মারা গেলে কান্নাকাটি চাপড়ানি নয় বিলাপ কেবল
শিশুদের জন্য করো বাচ্চা-বুতরুর জন্য কাঁদো যত পারো

শবখাটে চারকোণে মাটির ধুনুচি বেঁধে গুলফি ঘাটের শমসানে
ঢোলচি ঢোলকসহ সানাই বাজিয়ে নেচে আর গেয়ে পাড়ার ছোঁড়ারা
কুড়োতুম ছুঁড়ে-ফেলা তামার পয়সা প্যাঁড়া আম লিচু আকন্দের মালা
ফিরে এসে বিকালে রোয়াকে বসে বুড়ো বুড়ি কিশোর যুবক
তাড়ি বা ঠররা আর তার সাথে শুয়োরের পোড়া পিঠ-পেট
খেতে-খেতে ঠহাকা-মাখানো হাসি মাথায় গামছা বেঁধে গান

আমি মরবার পর ছেরাদ্দ বা শোকসভা নয় ; ইমলিতলার ঢঙে
উৎসব করবার কথা ছেলেকে মেয়েকে বলা আছে : মদ-মাংস খাও
স্বজন বান্ধব জ্ঞাতি সবাইকে বলো অংশ নিতে শমসানের পথে
বেহেড হুল্লোড় করে নাচতে গাইতে যেও ফিরো নেচে গেয়ে
মেটালিকা পাঙ্ক-রক হিপ-হপ সুমন শাকিরা ক্যাকটাস
বিটলস এলভিস কিশোর কুমার ও ইয়ুডলিঙে আর ডি বর্মণ… synthroid drug interactions calcium

প্রাসঙ্গিক পূর্ববর্তী পোস্টসমূহ–

হাংরি আন্দোলন — এক অভূতপূর্ব দ্রোহের বিস্ফোরণ… http://sovyota.com/node/3220

হাংরি আন্দোলন — এক অভূতপূর্ব দ্রোহের বিস্ফোরণ (পর্ব -২) কৃত্তিবাস ও কল্লোলের সাথে মিলিয়ে ফেলবার অপচেষ্টা…
http://sovyota.com/node/3259

হাংরি আন্দোলন — এক অভূতপূর্ব দ্রোহের বিস্ফোরণ (পর্ব -৩) ইতিহাস পরিবর্তনকারী এক আন্দোলনের পেছনের ষড়যন্ত্র ও এর কুশীলবেরা…
http://sovyota.com/node/3886

হাংরি আন্দোলন – এক অভূতপূর্ব দ্রোহের বিস্ফোরণ (পর্ব -৪) বিচারের নামে এক অদ্ভুত প্রহসন…

side effects of drinking alcohol on accutane

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * zovirax vs. valtrex vs. famvir

can levitra and viagra be taken together

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

metformin gliclazide sitagliptin

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

metformin tablet

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. will i gain or lose weight on zoloft