স্বাধীনতা-উত্তর ভাষ্কর্য (পর্ব-৩)

563

বার পঠিত ampicillin working concentration e coli

শুরু করছি সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের ভাষ্য দিয়ে। ‘এখানে শিল্পচর্চা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমমনা শিল্পীরা গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। শিল্পচর্চা আন্দোলন ছাড়াও জাতীয় আন্দোলন বা বিভিন্ন সময়ে জাতির সংকটকালে সাধারণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এসবে শিল্পী সমাজের অংশগ্রহণ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। তাই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শিল্পীদের কাজে মুক্তিযুদ্ধের প্রবল উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। শিল্পী জয়নুল আবেদিন থেকে তরুণ শিল্পীরা যাঁদের অনেকের জন্ম হয়তো একাত্তরের পর— তারাও  অন্তর দিয়ে অনুভব করেছেন মুক্তিযুদ্ধকে, এর অভিঘাত পড়েছে তাদের সৃষ্টিশীল চেতনায়।’ ( সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম)

বাংলাদেশে অনেক শিল্পী স্বাধিকার সংগ্রামকে উপজীব্য করে শিল্প রচনা করেছেন, করছেন আশা করি ভবিষ্যতেও করবেন। মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে স্বল্প  পরিসরে সেসব বিস্তারিত আলোচনা সঙ্গতকারণেই সবসময় করা যায় না। তারপরও স্থাপত্য ও ভাষ্কর্যশিল্পে যে বিপ্লবের স্বাক্ষর রেখেছেন এ দেশের শিল্পীরা তার কিছু অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

অদম্য বাংলা

 

অবস্থানঃ ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা সড়কের পাশে আজাদ স্পোর্টিং প্রাঙ্গনে স্থাপিত এই ভাষ্কর্যটি। ঠাকুরগাঁও জেলার একমাত্র স্মারক ভাষ্কর্য এটি।

আকারঃ ভাষ্কর্যটি ৮ ফুট মূল স্তম্ভের উপর পাঁচ ফুট উচ্চতা নিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধার স্মারক ভাষ্কর্য। শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ওঠা ফুটিয়ে তুলতে ভাষ্কর্যটিতে লুঙ্গি মালকাছা মারা, স্যান্ডো গেঞ্জি পড়া কাদা মাটি লাগা একজন কৃষকের অবয়ব তৈরি করা হয়েছে। নিশ্চিত মুক্তি জেনেও দেশপ্রেমের তাগিদে মুক্তি পাগল কৃষক এক হাতে গ্রেনেড অন্য হাতে বন্দুক নিয়ে কিভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

স্থাপত্য তাপর্শহীদ সন্তান আসাদ এই ভাষ্কর্যটি তৈরি করেন। পেশায় ভাষ্কর না হয়েও ভাষ্কর্যটি নির্মাণে যথেষ্ঠ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বুকে ধারণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ভাষ্কর্যের মাধ্যমে সুচারুরুপে ফুটিয়ে তুলেছেন তা। ১৯৭১ সালে দেশের অন্যান্য জায়গার মত পীরগঞ্জও পাকহানাদারদের আক্রমণের শিকার হয়। বেশ ক’টি সম্মুখ যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন অসঙ্গখ্য মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তানী আর্মি টর্চারিং সেলে নির্যাতিত হন বহু মানুষ। গণকবর তৈরি হয়। পীরগ্ঞ্জ এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব গাঁথা শহীদদের এবং জীবন বাজি রাখা সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরব কে আগামী প্রজন্মের কছে তোলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে শহীদ সন্তান আসাদ এই ভাস্কর্য কর্মটি নির্মান করেন।ভাষ্কর আসাদের বিশ্বাস এই ভাস্কর্যটি আগামী প্রজন্মকে স্মরন করিয়ে দেবে -এখানে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, দেশমাতৃকার জন্য কিছূ তরুন নিজেকে উৎসর্গ করেছিল অনাহত প্রজন্মকে স্বাধীন ভাবে পৃথিবীতে মাথা উচুঁ করে দাড়াবার জন্য। আগামী প্রজন্ম অবশ্যই সেই গর্ববোধ থেকে তৈরি করবে এমন এক বাংলাদেশ যেখানে থাকবে না কোন দারিদ্রতা, কুসংস্কার, অশিক্ষা, বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেদের গড়ে তোলার সংগ্রামে আত্ম নিয়োগ করার সাহস যোগাবে এই ভাস্কর্য।

 

ভাস্করের ভাষ্যঃ ভাষ্কর আসাদ অদম্য ৭১’ সম্পর্কে তার নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেন। তার মতে, প্রতিটি মানুষই মুক্তিপ্রিয়। স্বাধীন ভাবে কাজ করতে না পারলে মানুষের সৃষ্টিশীলতার বিকাশ কোন ভাবেই ঘটে না। সৃষ্টিশীলতাকে উজ্জীবিত করতে গেলে জাতির সম্পুর্ন স্বাধীনতার প্রয়োজন। যে স্বাধীনতা আমরা ছিনিয়ে এনেছি। এ স্বাধীনতাকে সমূন্নতা রাখার জন্যেই আমার এই প্রয়াস। ভাস্কর্যটি স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। মাতৃভুমি কে যারা ভালোবাসেন তাদের অনুপ্রেরনা হিসেবে কাজ করবে। এ আবেদন সুদুর প্রসারী। আমার বিশ্বাস তরুন প্রজন্ম কে দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ করবে, সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় বিশ্বাসী হয়ে নিজেদের কে গড়ে তোলার সংগ্রামে নিয়োগ করার সাহস যোগাবে এই ভাস্কর্য। আমি এখানে দেখাতে চেয়েছি বাঙ্গালীরা কত সাহসী, উদ্যোমী ও ত্যাগী, জাতির এই ঐতিয্য গৌরবকে ধরে রাখার একটি চেষ্টা। নব প্রস্তর যুগ থেকে মানুষের প্রতীক, নক্শা সৃষ্টি এবং আকৃতি প্রদানের ক্ষমতা থেকে উদ্ভুত হয়েছে ভাস্কর্য শিল্প। ধর্ম দর্শন, ইতিহাস ও পুরাণের মধ্যে কোন সম্প্রদায় বা জাতির চিত্ত চরিত্রের চি‎‎হ্ন নিয়ে গড়ে উঠে ভাস্কর্য। তার সাথে বিভিন্ন বস্তুুর সমন্বয়ে  গোত্র, সম্প্রদায়, জাতির পরিচয় কে দীর্ঘ জীবন দান ও অমর আকৃতি প্রদানের শৈল্পিক বাসনায় হল ভাস্কর্য শিল্প। ভাস্কর্য শিল্প এবং মানব সভ্যতার বয়স প্রায় সমান। নাটকে, কবিতায় ও গানে যে ভাবে আমাদের গর্ভ ধরে রাখা হয়েছে ভাস্কর্য শিল্পেও এটি ভিশন ভাবে সম্ভব। ভাস্কর্যের একটা বিশেষ মাত্রা রয়েছে যার সুলভ দৃশ্যমানতা রয়েছে, সৃষ্টির আয়োজনটি সব সময়ই উন্মোচিত থাকে ফলে অন্যান্য শিল্প মাধ্যেমের চেয়েও এটি সাধারন মানুষের চিত্তে স্থায়ীত্ব লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধ বাঙ্গালীর জাতির সবচেয়ে আলোকিত অধ্যায় অথচ দূভাগ্য সমগ্রজাতির একটি অংশে সংস্কারাচ্ছন্নতা ও শিল্প কর্ম সম্পর্কে কুসংস্কার জনিত বিরোধিতা রয়েছে। খুব বেশি কাজ হয়নি এ মাধ্যমে এসব কারনে । অথচ এ মাধ্যমটি খুব সহজে দীর্ঘ সময় মানব চিত্তে আমাদের গর্বের অর্জন গুলিকে তোলে ধরতে পারে। অদম্য’ ৭১ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সেই ইতিহাস ও মুক্তির অনুপ্রেরনা কে রড সিমেন্টের মাধ্যমে একটি অবয়ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একাত্তরে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবক সবাই এক কাতারে এসে মরণপন লড়াই করেছে দীর্ঘ নয় মাস। মুক্তি ছিনিয়ে এনেছে আমাদের যুবকেরা। অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা । আগামী প্রজন্মের কাছে এ অর্জন কে চাক্ষুস করাই আমার এই চেষ্টা। অদম্য’ ৭১ এই মুক্তাঙ্গনে দাড়িয়ে থাকবে ঝড়, বৃষ্টি, রৌদ্র ছায়ায় নির্ভয়ে সেই একই ভঙ্গিতে। এখানে আমি স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি ভাবনা মুর্তির মাধ্যমে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। মুক্তিযুদ্ধের  স্মারক  এই ভাস্কর্যটিতে সময় কে নিয়ে আসা হয়েছে, সেই সাথে গতি। দূর্বার তার এগিয়ে চলা, সাহসী উচ্চারণ ঠোটে মুখে। মুক্তিযুদ্ধের মুল আবেগকে নিয়ে আসা হয়েছে এখানে।  আমাদের মুক্তিযুদ্ধের  বেশি ভাগ যোদ্ধাই ছিল শ্রমজীবি কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ। এই আলোকেই আমি মুল অবয়ব টি একজন লুঙ্গি মালকাছ  মারা, সেন্ডো গ্যাঞ্জি পড়া কাদা মাটি লাগা এক কৃষককে নিয়ে এসেছি। এ কাজে আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরনা যোগিয়েছেন রাজনীতিবিদ মনসুরুল আলম। কৃতজ্ঞ তাঁর কাছে ধন্যবাদ ক্লাব কর্তৃপক্ষকে তাদের জায়গা ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।ত্রিশ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে স্বরণ রাখা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে সমুন্নত রাখার তাগিদ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভাস্কর্য নির্মাণের স্বপ্ন লালন করে এসেছি তারই প্রকাশ অদম্য’৭১ ।
চেতনা ৭১

চেতনা ৭১' ভাষ্কর্য

চেতনা ৭১’ ভাষ্কর্য

অবস্থানঃ শাহজালালবিজ্ঞানওপ্রযুক্তিবিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত চেতনা ৭১’ মুক্তযুদ্ধের অন্যতম স্মারক ভাষ্কর্য।

আকারঃ ভাস্কর্যের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য এবং একাডেমিক ভবন গুলোর লাল ইটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভিত্তি বেদিটি ৩ টি ধাপ বানানো হয়েছে। এই বেদিটি তৈরি লাল ও কালো সিরামিক ইট দিয়ে। তিনটি ধাপের নিচের ধাপের ব্যাস ১৫ ফুট, মাঝের ধাপ সাড়ে ১৩ ফুট এবং উপরের ধাপটি ১২ ফুট। প্রত্যেকটি ধাপের উচ্চতা ১০ ইঞ্চি। বেদির ধাপ ৩টির উপরে মুল বেদিটি ৪ ফুট উচু, তার উপরে রয়েছে ৮ ফুট উচ্চতার মূল ফিগার।  

মডেলঃ এই ভাষ্কর্যটির একটি অনন্য বৈষিষ্ট্য হল ভাস্কর্যটিতেবর্তমানসময়েরশিক্ষার্থীদেরআদলেঅবয়ব তৈরি করা হয়েছে। পোশাকওআনুষঙ্গিকউপকরণেও রয়েছেবর্তমানসময়ের ছাপ।মডেলেছাত্রহাতেবাংলাদেশেরজাতীয়পতাকাওপরেতুলেধরারভঙিমায় দাঁড়িয়েএবংছাত্রীরহাতে রয়েছেবই, যাবাংলাদেশেরসংবিধানেরপ্রতীকনির্দেশকরে।দূর থেকে দেখলে মনে হয় খোলা আকাশের নিচে ভাষ্কর্যটি নির্ভীক প্রহরীর মত স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

নির্মাণ কথাঃ ভাস্কর্যটির নকশা করেছেন প্রনয়ণ করেছেন স্থপতি ও শিল্পী মোবারক হোসেন নৃপাল।আর নির্মাণ কাজে নিয়োজিত আছে সংগঠন ‘নৃ’ স্কুল অব স্কাল্পচার। নৃপাল খান ‘নৃ-স্কুল অব স্কালপচার’ এর প্রতিষ্ঠাতা। প্রায় ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে শাবিপ্রবির বিল্ডিংয়ের উত্তরপাশে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ২০০৯ সালের ২৬ মার্চ মিনি অডিটোরিয়ামের পশ্চিম পাশে চেতনা ’৭১ নামে একটি অস্থায়ী ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। সেই অস্থায়ী ভাস্কর্যটি স্থায়ী ভাস্কর্যে পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠন করা হয় “ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন কমিটি”। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের স্থায়ী ভাস্কর্য নির্মাণের প্রক্রিয়া আর তারই প্রতিফলিত রূপ হচ্ছে আজকের চেতনা ‘৭১’ ।[১]এছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকও অর্থায়ন করেছে। ৩০ জুলাই ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন শাবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক সালেহ উদ্দিন।

  prednisone dosage for shoulder pain

বিশেষ ভাবে উল্লেখ্যঃ কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে রয়েছে চেতনা ৭১’ নামে আরো একটি ভাষকর্য। এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার পুলিশদের অবদানের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি ভাষ্কর্য। এই ভাষ্কর্যটির তৈরি করেন ভাষ্কর ও শিল্পী ইউনুস।

 

বিজয় ৭১

 

বিজয় ৭১' ভাষ্কর্য

বিজয় ৭১’ ভাষ্কর্য cialis new c 100

অবস্থানঃ ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় ৭১’ ভাষ্কর্যটি অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়নুল মিলনায়তনের সামনে মুক্তিযুদ্ধের মূর্ত প্রতীক এই ভাষ্কর্যটি।

আকারঃ বিজয় ৭১’ ভাষ্কর্যটিতে একজন কৃষক, একজন নারী মুক্তিযোদ্ধা, একজন ছাত্র তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ধাপে দন্ডায়মান। প্রত্যেকটি ফিগারের পা থেকে মাথা পর্যন্ত উচ্চতা ৭ ফুট।

মডেলঃ মহান মুক্তি সংগ্রামে বাংলার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মূর্তপ্রতীক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বিজয় ৭১। একজন কৃষক, একজন নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন ছাত্র তারই প্রতিনিধিত্ব করছে। কৃষক মুক্তিযোদ্ধার অবয়বটি বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছে আকাশের দিকে। তারই ডান পাশে শাশ্বত বাংলার সর্বস্বত্যাগী ও সংগ্রামী নারী দৃঢ়চিত্তে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে আছে রাইফেল। অন্যদিকে একজন ছাত্র মুক্তিযুদ্ধে গ্রেনেড ছোড়ার ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে তিনি বাম হাতে রাইফেল ধরে আছেন তেজোদীপ্ত চিত্তে।

নির্মাণ কথাঃ বিজয় ৭১’ ভাষ্কর্যটি নির্মাণ করেন ভাষ্কর ও শিল্পী শ্যামল চৌধুরী। ভাষ্কর্যটি নির্মাণে ব্যয় হয় ২৪ লাখ টাকা। শ্যামল চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালের জুন মাসে এই ভাষ্কর্যটির কাজ শেষ হয়।

স্থাপত্য তাপর্পরম আকাঙ্ক্ষিত বিজয়ের এ ভাস্কর্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ অজস্র মানুষের প্রেরণার উৎস। ভাস্কর্যে একজন নারী, একজন কৃষক ও একজন ছাত্র মুক্তিযোদ্ধার নজরকাড়া ভঙ্গিমা বারবার মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলোতে নিয়ে যায় দর্শনার্থীদের। (সংরক্ষিত)

অদম্য বাংলা

অবস্থানঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত এই ভাষ্কর্যটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকী রূপ হিসেবে মানা হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে এটি দন্ডায়মান।

আকারঃ একটি উঁচু বেদির উপর স্থাপিত এই ভাষ্কর্যটি। ভাষ্কর্যটির উচ্চতা ২৩ ফুট।

মডেলঃ একজন নারীসহ চারজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতিতে এই ভাষ্কর্যটি তৈরি। বলিষ্ঠ ও তেজোদীপ্ত চার মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি, যা বাঙালি জাতির শৌর্য-বীর্যের মূর্ত প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধে নারী-পুরুষের সক্রিয় ভূমিকা যেমন ফুটে উঠেছে তামনি ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাকামী মানুষেরপ্রতিচ্ছবি। বেদির চারদিকের ম্যুরালে পোড়ামাটির প্রাচীরচিত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, বধ্যভূমির বর্বরতা, জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। online pharmacy in perth australia

নির্মাণ কথাঃ স্থপতি, শিল্পী ও ভাষ্কর গোপাল চন্দ্র পাল অদম্য বাংলা ভাষ্কর্টি নির্মাণ করেন। ভাষ্কর্যটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ৪২ লাখ টাকা।

স্থাপত্য তাপর্এইভাস্কর্যটি উপস্থাপন করে পুরো মুক্তিযুদ্ধের কিছু সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভাস্কর্যটির বেদিতে অঙ্কিত মুক্তিযুদ্ধের খণ্ডচিত্রগুলো একনজরেযে কাউকে পুরো মুক্তিযুদ্ধের একটি সম্যকধারণা দিবে। এছাড়া এ ভাস্কর্যটিতে জাতীয় নেতাদের প্রতিবিম্ব মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের সুস্পষ্ট একটি চিত্র উপস্থাপন করেছে। (সংরক্ষিত)

 

তথ্যসূত্র-

উইকিপিডিয়া

বাংলাদেশ ব্লগ

চারু ও কারুকলা, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি

বাংলাদেশ প্রতিদিন cd 17 clomid no ovulation

[দীর্ঘ বিরতির পর সিরিজের তৃতীয় পর্বটি লেখার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। যারা আগের পর্বগুলো পড়েননি তাদের জন্য নিচে পূর্বে প্রকাশিত পর্বগুলোর লিংক দেওয়া হল-

স্বাধীনতা-উত্তর ভাষ্কর্য (পর্ব-১ )

স্বাধীনতা-উত্তর ভাষ্কর্য (পর্ব-২) ]

You may also like...

  1. অসাধারন একটা কাজ করছেন আপনি জনাবা… %%- :-bd :bz

    নতুন প্রজন্মের সামনে আপনার এই পোস্টগুলো তুলে ধরছে আমাদের গৌরবময় অতীতের সব স্মৃতিচিহ্নগুলো… চালিয়ে যান আপনি… ^:)^ আপনার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি… prednisone side effects menopause

    সভ্যতা কতৃপক্ষকে এই অসাধারন কাজটি স্টিকি করবার আহ্বান জানাচ্ছি… :-w

  2. কাজ চালিয়ে যান… অনেক কিছু জানতে পারছি…

    পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ…

propranolol hydrochloride tablets 10mg

প্রতিমন্তব্যফাতেমা জোহরা বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

metformin er max daily dose