হাংরি আন্দোলন — এক অভূতপূর্ব দ্রোহের বিস্ফোরণ (পর্ব -৪) বিচারের নামে এক অদ্ভুত প্রহসন

391

বার পঠিত

2zyefl0 acne doxycycline dosage

আমস্টারডামে রেলওয়ে স্টেশনের সামনে মলয় রায় চৌধুরী (২০০৯)

২৯শে অক্টোবর ,১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহন করা ভারতবর্ষের বিখ্যাত সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের উত্তরপাড়া শাখার সন্তান মলয় রায় চৌধুরী শুধু হাংরি আন্দোলনের স্রস্টাই ছিলেন না, বাঙলা সাহিত্য প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার জনক ছিলেন। তার ঠাকুরদা লক্ষ্মীনারায়ণ চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের প্রথম ভ্রাম্যমাণ ফটোগ্রাফার আর্টিস্ট। ১৯৬১ সালে হাংরি আন্দোলনের সূচনা করে আবির্ভাবেই সাড়া ফেলে দেয়া মলয়ের অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতায় প্রায় অর্ধশতাধিক কবি, ঔপনাসিক ও চিত্রশিল্পী যোগ দেন এই আন্দোলনে খুব অল্প সময়ের ভেতর।

আন্দোলনটা মূলত বেগবান হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল এক পৃষ্ঠায় প্রকাশিত কিছু জ্বালাময়ী ভাষায় রচিত বুলেটিনের কারনে। ১০৮টি বুলেটিন তারা বের করেছিলেন, যার অল্প কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরী ও ঢাকার বাঙলা একাডেমীর কল্যাণে সংরক্ষন করা গেছে। উপনিবেশকতার মোড়কে ঘেরা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ প্রভাবে পরিচালিত তৎকালীন সাহিত্যের ধারাকে প্রচণ্ড আক্রমনে নিশ্চিহ্ন করে নতুন সাহিত্যধারা গড়ে তোলার সংগ্রামে নামার অপরাধে মলয় ও আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে কলকাতা কোর্টে মামলা হয় ১৯৬৪ সালে। সাদা চোখে মোটামুটি ঘটনা এটা দেখালেও এর পেছনে খুব অদ্ভুত কিছু কর্মকাণ্ড ছিল। glyburide metformin 2.5 500mg tabs

১৯৬৪ সালে সেপ্টেম্বরে ইন্ডিয়া পেনাল কোডের ১২০বি , ২৯২ ও ২৯৪ ধারায় যে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল, সে মামলাটা ছিল পুরোপুরিই একটা অদ্ভুত ষড়যন্ত্র। ১২০বি ধারাটা যেহেতু ষড়যন্ত্রের ধারা ছিল, তাই কলকাতা গোয়েন্দা বিভাগ প্রত্যেকের উপর আলাদা করে ডোসিয়ার খুলে তদন্ত করেছিলেন। কিন্তু শৈলেশ্বর ঘোষ ও সুভাষ ঘোষ, হাংরির অন্যতম দুজন সক্রিয় সদস্য যখন নিজেদের গা বাঁচিয়ে আন্দোলনের পেছন থেকে ছুরি মারলেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ যখন দীর্ঘ ৯ মাসের তদন্ত শেষে এটা নিশ্চিত হল যে, ইনারা কবিতাই লেখেন, রকেট লঞ্চার ও আরজেস গ্রেনেড দিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেন না, তখন বাধ্য হয়ে সবাইকে খালাস দেয়া হল। সবাইকে কিন্তু একজন ছাড়া।

শৈলেশ্বর ও সুভাষ রাজসাক্ষি দেবার কারনে প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার কবিতাটা লেখার অপরাধে কেবল মলয় রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৯২ ধারায় চার্জশীট দেয় কলকাতা পুলিশ। মজার ব্যাপারটা হল স্কুলমাস্টারি করা ছাপোষা শৈলেশ্বর ঘোষের চাপের মুখে দেয়া দ্বিধান্বিত জবানবন্দী আদালতের বিশ্বাস হয়নি। তাই পুলিশ বাধ্য হয়ে সমীর বসু ও পবিত্র বল্লভ নামে দুজন পুলিশ ইনফরমারকে সাক্ষী দিতে হাজির করে। বলাই বাহুল্য, তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন এটা প্রমানের জন্য যে, তারা মলয়ের সাথে জন্মজন্মান্তরের পরিচিত, কিন্তু মলয় কিংবা মলয়ের সৃষ্টি সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না থাকার ফলে মলয়ের আইনজীবীদের জেরার মুখে তারাও আদালতের সামনে মিথ্যা বলে প্রমানিত হন। শেষমেশ উপায়ন্তর না দেখে পুলিশ গ্রেপ্তার করে গুম করে ফেলবার ভয় দেখিয়ে উইটনেস বক্সে হাজির করে হাংরি আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সন্দিপন চট্টোপাধ্যায় ও উৎপলকুমার বসুকে। তারা মলয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তে রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হন শ্রী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। হাংরি বিদ্রোহকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার পেছনে কলকাঠি নাড়া এই মানুষটির নতুন ভুমিকা দেখা গেলো মলয়ের পক্ষে সাক্ষী হিসাবে কলকাতা কোর্টে।

প্রথম থেকেই সুনীল হাংরির বিপক্ষে ছিলেন। না চাইলেও তাকে এ আন্দোলনের বিপক্ষে থাকতে হয়েছিল। কেননা কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর নামকরা সাহিত্যিকেরা চটকদার সাহিত্যের নামে বাঙলাসাহিত্যকে ময়ূরপুচ্ছ চুরি করা চোর কাক হিসাবে যে অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করছিলেন, তাতে নীরব সমর্থন দিয়ে গিয়েছিলেন সুনীল। যখন হাংরি আন্দোলনের জলোচ্ছ্বাসে সেই সাম্রাজ্যবাদিতার লেজুড়বৃত্তি করা সাহিত্যিকদের ভেসে যাবার উপক্রম হল, তখন তারা বাধ্য হয়ে তাদের বটবৃক্ষ সুনীলের কাছে হাজির হলেন। যেহেতু সুনীলের সাথে মলয়ের হৃদ্যতা ছিল, সুতরাং সুনীলকে প্লটটা সাজাতে হল খুব ভেবেচিন্তে। হাংরির নামে সরকার মামলা করল, তাতে পেছন থেকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে শিল্পসংস্কৃতির সবাইকে হাংরির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করে হাংরির বিদ্রোহীদের মাঝে সুকৌশলে ফাটল ধরিয়ে হাংরি আন্দোলনের নিস্পত্তি টেনে দেয়ার পর শেষ দৃশ্যে হাজির হলেন শ্রী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। মলয়ের পক্ষে সাক্ষী দিয়ে দুকুল রক্ষা করলেন। ১৯৬৫ সালের ২৮শে ডিসেম্বর মামলার রায় হল। রায় গেলো মলয়ের বিপক্ষে। মলয় যে এসব জানতেন না, তা নয়। কিন্তু তিনি সুনীলের ব্যাপারে তখন কিছুই বলেননি। কারন মলয় আরও একটা বিষয় জানতেন যেটা ছিল সুনীলের অজানা। মলয় জানতেন যে বিদ্রোহের ক্ষমতা খুব ভয়াবহ, এটাকে বালু চাপা দিয়ে নেভানো সম্ভব না। তার প্রমান, দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিচারের নামে এ প্রহসন থামাতে পারেনি হাংরিকে, চাপা দিতে পারেনি হাংরির অগ্নিস্ফুলিঙ্গকে। ততদিনে সারা পৃথিবী জেনে গেলো হাংরি বিদ্রোহ সম্পর্কে। বুঝে গেলো এতো সহজে এই স্ফুলিঙ্গ নিভবে না।

শৈলেশ্বর ঘোষের মুচলেকা—

http://sangrahashala.blogspot.com/2011/10/blog-post.html

সমীর রায় চৌধুরির সাক্ষাতকার— half a viagra didnt work

http://baak-interview.blogspot.com/2012/12/66th-post.html?spref=fb

হাংরির রাজনৈতিক ইশতেহারটা নিচে দেয়া হল…

রাজনীতি বিষয়ক ইশতাহার (১৯৬৩)’

১. প্রতিটি ব্যক্তি-মানুষের আত্মাকে রাজনীতিমুক্ত করা হবে ।
২. প্রাতিস্বিক মানুষকে বোঝানো হবে যে অস্তিত্ব প্রাক-রাজনৈতিক ।
৩. ইতিহাস দিয়ে বোঝানো হবে যে, রাজনীতি আহ্বান করে আঁস্তাকুড়ের মানুষকে, তার সেবার জন্যে টানে নান্দনিক ফালতুদের ।
৪. এটা খোলসা করে দেয়া হবে যে গান্ধীর মৃত্যুর পর এলিট ও রাজনীতিকের মধ্যে তুলনা অসম্ভব ।
৫. এই মতামত ঘোষণা করা হবে যে রাজনৈতিক তত্ব নামের সমস্ত বিদগ্ধ বলাৎকর্ম আসলে জঘন্য দায়িত্বহীনতা থেকে চাগিয়ে ওঠা মারাত্মক এবং মোহিনী জোচ্চুরি ।
৬. বেশ ভার মৃতদেহ এবং গর্দভের লেজের মাঝামাঝি কোথাও সেই স্হানটা দেখিয়ে দেয়া হবে যেটা বর্তমান সমাজে একজন রাজনীতিকের ।
৭. কখনও একজন রাজনীতিককে শ্রদ্ধা করা হবে না তা সে যেকোনো প্রজাতি বা অবয়বী হোক না কেন ।
৮. কখনো রাজনীতি ধেকে পালানো হবে না এবং সেই সঙ্গে আমাদের কান্তি-অস্তিত্ব থেকে পালাতে দেয়া হবে না রাজনীতিকে ।
৯. রাজনৈতিক বিশ্বাসের চেহারা পালটে দেয়া হবে ।

আরে সবশেষে মলয় রায় চৌধুরীর একটা কবিতা দিয়ে আজকের মত বিদায়… ভালো থাকবেন…

কামড়
মলয় রায়চৌধুরী

ভারতবর্ষ, স্যার, এরমভাবে আর কদ্দিন চালাবেন, সত্যি, ভাল্লাগে না
ভারতবর্ষ, আপনার জেলের খিচুড়ি খেলুম পুরো এক মাস, মানে তিরিশ দিন
সেপ্টেম্বর চৌষট্টি থেকে চাকরি নেই, জানেন ভারবর্ষ, কুড়িটা টাকা হবে আপনার কাছে?
ভারতবর্ষ, ওরা খারাপ, ইঁদুরেও আপনার ধান খেয়ে নিচ্ছে
সুরাবর্দি কন্ট্রোল রুমে আপনাকে কী বলেছিল ভারতবর্ষ?
বলুন না — আমিও সুখী, মাইরি, আমিও ক্যারিকেচার করতে পারি!
আর কলকাতা এখন নিম রেনেসঁসের ভেতো দিয়ে কোথায় যাচ্ছে জানি না;
ভারতবর্ষ, দুচারটে লেখা ছাপিয়ে দিন না উল্টোরথ দেশ নবকল্লোলে
আমিও মনীষী হয়ে যাই, কিংবা শান্তিনিকেতনে নিয়ে চলুন
সাহিত্যের সেবা করব, ধুতি-পাঞ্জাবি দেবেন এক সেট
আজ বিকেলে চলুন খালাসিটোলায় বঙ্গসংস্কৃতি করি
ভারতবর্ষ, একটা অ্যাটম বোমা তৈরি করছেন না কেন? ফাটালে আকাশটাকে মানায়!
এল এস ডি খাবেন নাকি? দুজনে চিৎ হয়ে রোদ পোয়াব নিমতলায়।
ভারতবর্ষ, এই নিন রুমাল, চশমার কাচ মুছুন
এবারের নির্বাচনে আমায় জিতিয়ে দেবেন, প্লিজ, দাঁড়াব চিল্কা হ্রদ থেকে
কালকের কাগজে আপনার কোন বক্তৃতাটা বেরোচ্ছে ভারতবর্ষ?
আপনাকে দম দেবার চাবিটা ওদের কাছ থেকে আমি কেড়ে নিয়েছি;
ভারতবর্ষ, আপনাকে লেখা প্রেম-পত্রগুলো আমি লুকিয়ে পড়ে ফেলি
আপনি নখ কাটেন না কেন? আপনার চোখের কোলে কালি
আজকাল আর দাঁতে মিসি দেন না কেন?
আপনি খুনের বদলে খুন করেন আর আমরা করলেই যত দোষ
আমাকে বেড়ালের থাবা মনে করবেন না
নিজের হৃৎপিন্ড খেয়ে নিজের সঙ্গে রফা করে নিলে কেমন হয়
ভারতবর্ষ, ধানক্ষেত থেকে ১৪৪ ধারা তুলে নিন
পৃথিবীর সমস্ত মহৎ গ্রন্থ পাঠিয়ে দিন ভিয়েৎনামে, হোঃ হোঃ
দেখুন যুদ্ধ থেমে যায় কি না
ভারতবর্ষ, সত্যি করে বলুন তো আপনি কী চান।।

(হাংরি বুলেটিন, ২৬ জানুয়ারি ১৯৬৬)

প্রাসঙ্গিক পূর্বের পোস্ট সমুহঃঃ

হাংরি আন্দোলন — এক অভূতপূর্ব দ্রোহের বিস্ফোরণ… http://sovyota.com/node/3220

হাংরি আন্দোলন — এক অভূতপূর্ব দ্রোহের বিস্ফোরণ (পর্ব -২) কৃত্তিবাস ও কল্লোলের সাথে মিলিয়ে ফেলবার অপচেষ্টা…
http://sovyota.com/node/3259

হাংরি আন্দোলন — এক অভূতপূর্ব দ্রোহের বিস্ফোরণ (পর্ব -৩) ইতিহাস পরিবর্তনকারী এক আন্দোলনের পেছনের ষড়যন্ত্র ও এর কুশীলবেরা…
http://sovyota.com/node/3886

You may also like...

  1. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    হাংরি নিয়ে আরো জানতে ক্ষুধার্ত অনুভব করছি!! কবে শেষ হবে ডন- দ্যা!! দুর্দান্ত একটা সিরিজ হচ্ছে!! অতি মনোযোগ সহকারে প্রতিটি লাইন পড়বার মত!!

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

missed several doses of synthroid

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

about cialis tablets

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

clomid over the counter all possible side effects of prednisone