ব্লু ব্লাড

400

বার পঠিত

সামান্য অসাবধানতার জন্য হাতটা কেটে গেল ।

হাতের ক্ষতটা দ্রুত একটা কাপড়ে পেঁচিয়ে ফেলে সুজানা । ওর রক্ত কাওকে দেখানো যাবে না ।
অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে বান্ধবী রিমি ।

‘কি হয়েছে ? কি দেখছিস ?’ ভেতরে জমে ওঠা আশংকাটা চাপা দিয়ে আগ বাড়িয়ে প্রশ্ন করে সুজানা ।
‘কতটুকু আর কেটেছে ! এত ব্যস্ত হচ্ছিস কেন ?’

রিমির প্রশ্নের জবাব না দিয়ে হেঁটে পাশের বাথরুমের দিকে এগিয়ে যায় ।
বান্ধবীর বাসাতে একটা দিন থাকার কথা ওর । একসাথে কত মজা করে রান্না করবে বলে প্ল্যান করে এসেছিল – সব পানিতে গেল !
কিভাবে হাত কাটে ও – এত সাবধানে থাকার পরও ! capital coast resort and spa hotel cipro

বেসিনের সামনে এসে কাপড়ের টুকরোটা সরায় ও হাতের ওপর থেকে ।
রক্ত বেরুচ্ছে – তবে খুবই সামান্য ।
কাছের বান্ধবীকেও দেখাতে পারবে না ও এই রক্ত ।

সুজানার রক্তের রঙ নীল ।
গাঢ় নীল !

 

Blue M1

১.
ব্যাপারটা টের পেয়েছিল সুজানা স্কুলে থাকতেই ।
ছোট্ট সুজানা তখন ক্লাস টু-তে পড়ে ।

পাশে ছিল পিচ্চি তন্ময় । ছেলেটাকে ও প্রথম দিন এসেই বলেছিল, ‘অ্যাই ছেলে ! তুমি আমার বন্ধু হবা ?’ private dermatologist london accutane

পিচ্চি তন্ময় ওর দিকে ভ্যাবাচেকা খেয়ে তাকিয়ে থাকে । মেয়েদের সাথে আবার বন্ধুত্ব কি করে হয় ?
তন্ময়ের মনে মেয়েদের যে চিত্র আছে – তাতে তাদের থেকে দশ হাত দূরে থাকাটাই তো নিরাপদ মনে হয় !

তন্ময় উত্তর না দেয়াতে সুজানা সেদিন ক্লাসে বসেই কাঁদছিল ।
বান্ধবীরা ওকে বার বার প্রশ্ন করেও কোন উত্তর পায় নি । তবে পিচ্চি একটা মেয়ে সারাটা ক্লাস কান্নাকাটি করছে – দৃশ্যটা চোখ এড়ায় নি অংক ম্যাডামের ।
এগিয়ে এসে আস্তে করে সুজানার কাঁধে হাত রেখে জানতে চেয়েছিলেন, ‘কি হয়েছে তোমার ?’
ধীরে ধীরে ফোলা চোখ দুটো মেলে তাকায় সুজানা ম্যাডামের দিকে ।
কি ভয়ানক মায়া ওই চোখ দুটোর দিকে ! ম্যাডাম চোখ ফেরাতে পারেন না ।

‘তোমার নাম কি ?’ ওর পাশে বসে পড়ে জানতে চাইলেন ম্যাডাম ।
‘সুজানা ।’ শোনা যায় কি যায় না এভাবে বলে ও । আসলে এখন কথা বলতে ভাল লাগছে না ।
‘স্কুলে থাকতে ভালো লাগছে না, সোনা ?’ কোমল কন্ঠে জানতে চান ম্যাডাম ।
মাথা নাড়ে সুজানা – যার অর্থ হ্যাঁ বা না দুটোই হতে পারে !
‘কেন, কেউ কষ্ট দিয়েছে তোমাকে ? বাজে কিছু বলেছে ?’

ম্যাডামের চোখে ফুটে ওঠা রাগটা চোখ এড়ায় না সুজানার । যে কষ্ট দিয়েছে তার কপালে নির্ঘাত খারাবী আছে আজ ।
তবুও ছোট্ট একটা হাত তুলে দিয়ে একটু দূরে বসে থাকা তন্ময়কে দেখিয়ে দেয় সুজানা ।
‘কি বলেছে ও তোমাকে ?’ অংক ম্যাডাম চোখ গরম করে জানতে চাইলেন ।
কেন জানি এই মেয়েটার প্রতি মায়া পড়ে গেছে তাঁর এই অল্প সময়েই ।

‘কিছু বলেনি ।’ নিচু কন্ঠে জানায় সুজানা ।
‘তাহলে ? কিছু করেছে ?’ আবার জানতে চান ম্যাডাম ।
‘উঁহু ।’
‘রাগ করেছ কেন তাহলে ?’
‘বন্ধু হতে চেয়েছিলাম । হয় নি ।’

হেসে ফেলেন ম্যাডাম । নিজের জীবনের কথা মনে পড়ে গেছে ।

ক্লাস টু-তে উঠে সেই তন্ময়ের সাথে সুজানার বন্ধুত্বটা হয়েই গেল ।
একসাথে বসা হচ্ছিল তারপর থেকেই । তেমনি ওকে পাশে নিয়ে বসে ছিল সুজানা একদিন । চুপচাপ তন্ময়কে দেখছিল তাকিয়ে ।
এই কাজটা ও করে প্রায়ই । যখন মনে হয় কেউ ওদের দেখছে না – তখনই চুপ করে তাকিয়ে তাকিয়ে তন্ময়কে দেখে সুজানা ।

কিন্তু ওর ধারণা যে একেবারে ঠিক নয় সেটা বেচারি মেয়েটা জানত না । ক্লাসের অনেকেই সুজানার এই কাজটি খেয়াল করেছে । তাদের মাঝে প্রিয়াও যে আছে – সেটাও সুজানা জানে না ।
বিচ্ছু একটা মেয়ে প্রিয়া । ফাজলামীকে এই ক্লাস টুতেই আর্টের পর্যায়ে নিয়ে গেছে সে ।

‘সুজানা তন্ময়কে ভালোবাসে ।’, পাশে বসা সুমিকে আস্তে করে বলে প্রিয়া ।
প্রিয়াকে খুব করে মেরে দেয় সুমি, ‘ছি ছি – কি বাজে কথা বললি তুই ! দিন দিন অসভ্য হয়ে যাচ্ছিস !’
‘সুজানা তন্ময়কে চুমু খেতে চায় । কিন্তু পারে না ।’ আবার বলে প্রিয়া পা নাচাতে নাচাতে । বাচ্চাদের নিয়ে মায়েদের হিন্দী সিরিয়াল দেখার কুফল ।
লজ্জায় লাল হয়ে গেছে সুমি সেদিকে খেয়াল করে না প্রিয়া ।
‘আমি এখন তন্ময়কে চুমু খাব । দেখ – সুজানা কি মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে ছেলেটার দিকে । অসভ্য একটা ।’ বিরক্তির সাথে বলে প্রিয়া ।
‘তুই অসভ্য । শয়তান হয়েছিস তুই একটা ।’ বিরক্তি ঝরে সুমির কন্ঠেও ।

সুমিকে উত্তর না দিয়ে উঠে দাঁড়ায় প্রিয়া ।
তারপর সুমির বিস্ফোরিত চোখের সামনেই চট করে চুমু খেয়ে ফেলে তন্ময়কে ।

ওই মুহূর্তটাই গোটা ক্লাসের জন্য স্মরণীয় হতে পারত – কিন্তু পরের সেকেন্ডটাকে সেই ক্লাসটি আজীবন মনে রাখবে ।
একটা কথাও বলে না সুজানা । আস্তে করে উঠে দাঁড়ায় ।
এবং কোন দিকে না তাকিয়ে হাতের পেন্সিলটা ঘ্যাচ করে গেঁথে দেয় প্রিয়ার ঘাড়ে ।
এত দ্রুত ঘটে গেল ব্যাপারটা – বাঁধা দেওয়ার সময়ই পায় নি প্রিয়া । বা আর কেউ ।

তারপর পেন্সিলটাকে বের করে দ্বিতীয়বার গেঁথে দেওয়ার জন্য হাত তুলেছিল সুজানা ।
এক ধাক্কায় ওকে সরিয়ে দেয় তন্ময় ।

প্রিয়ার ঘাড় থেকে বেশ জোরেই রক্ত বের হচ্ছে । মেয়েটার ব্যাথিত আর আতংকিত চিৎকারে মনে হয় পাশের বিল্ডিং থেকেও লোক জড়ো হয়ে যাবে ।
তবে সব ছাপিয়ে তন্ময়ের ধাক্কা খেয়ে টেবিল নিয়ে উল্টে পড়া সুজানার দিকে চোখ পড়ে সুমির ।

আতংকের একটা স্রোত বয়ে যায় ওর মেরুদন্ড বেয়ে !
সুজানার ঠোঁটের কোণে কেটে গেছে । রক্ত গড়িয়ে নামছে সেদিক দিয়ে ।
রক্তের রঙ গাঢ় নীল ! ovulate twice on clomid

মেয়েটা একটা ডাইনি !

২.
মোট তিনবার স্কুল পাল্টাতে হয়েছিল সুজানাকে ।
কোন না কোন ঘটনাতে ওর নীল রক্তের কথা জানাজানি হয়ে গেলেই এই কাজটা করতে হত ওকে ।

ক্লাস টুতে পড়া মেয়েটি বোঝে নি – তার রক্তের রঙ নীল কেন ।
বাসাতে এসে মা-বাবাকে প্রশ্ন করলে তাঁরা উত্তর দিয়েছিলেন, ‘অভিজাত মানুষদের রক্ত নীল হয় ।’
‘অভিজাত কাদের বলে ?’ চোখ মুছে জানতে চেয়েছিল ছোট্ট সুজানা ।

আজ তন্ময় ওকে ধাক্কা দিয়েছে । সেজন্য অনেক কেঁদেছে ও বাসাতে ফিরে । ওকে ধাক্কা দিতে পারল ছেলেটা ?

‘যারা আর দশজনের চেয়ে উন্নত । তাদের । ইংরেজীতে দেখবে Blue Blood বলে একটা কথা আছে । এর মানে অভিজাত ।’ বাবা বোঝান । ‘তবে তুমি বলতে পারবে না কাওকে যে তোমার রক্ত নীল । তুমি অভিজাত । কারণ, অভিজাতরা তাদের আভিজাত্যের কথা কাওকে বলে না । বুঝেছ ?’

সুজানা বিশ্বাস করে ।
বাবা মিথ্যে বলতে পারে না । কেনই বা বলবে ? walgreens pharmacy technician application online

রোকনুজ্জামান খানের ভ্রু কুঁচকে যায় এদিকে । মেয়েটাকে নিয়ে সামনে কপালে দুর্ভোগ আছে – জানেন তিনি । সেই ছোট্ট সুজানাকে পেয়েছিলেন তাঁরা বাসার পেছনে । অদ্ভুত ধরণের একটা কাপড়ে পেঁচানো ছিল মেয়েটি ।
বয়েস কত হবে – বা হতে পারে – সে ব্যাপারে জানতেন না রোকনুজ্জামান । স্ত্রীকে নিয়ে বের হয়ে আসেন তিনি ।
ভদ্রলোক সন্তান গ্রহণে অক্ষম ছিলেন । বিয়ের ছয় বছর পেরিয়ে গেছে ।
আর পেছনের বাগানে পড়ে আছে কারও অনাহূত শিশু ।
অন্তত সেই সময়টাতে তিনি সেটাই ভেবেছিলেন ।

কাজেই পরম মমতায় বুকে তুলে নেন তিনি শিশুটাকে । রোশনী – তাঁর স্ত্রী – বাচ্চা একটা মেয়ের মত খুশি হয়ে গেছিলেন মেয়েটিকে পেয়ে ।
আর মেয়েটির চেহারাতে কি যে মায়া !

শুধু একটা ভয়ই কাজ করেছিল – কেউ এসে সন্তানের মালিকানা দাবী করে যদি ?
ভয়টা অমূলক ছিল ।
পরবর্তী বিশটা বছরে কেউ সন্তানের দাবী রাখে নি ।

আর সে রাতে তাঁরাও খেয়াল করেন নি – বাগানের প্রতিটি ফুল মরে ঝরে পড়েছিল সুজানার আগমনের সাথে সাথে !

*
রিমিদের বাসা থেকে বের হয়ে আসে সুজানা ।
চারপাশে তাকায় একটা মাত্র রিকশার জন্য । বাসাতে ফেরা যাক ।
পিকনিকের আনন্দ মাটি হয়ে গেল অযথা হাতটা কাটার পর । রিমি বার বার থেকে যেতে বলেছিল ।
কিন্তু অদ্ভুত শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখিয়ে মেয়েটাকে ভড়কে দিতে চায় নি ও ।

অবশেষে একটা ফাঁকা রিকশা দেখা যায় । ঢিমে তালে এদিকেই আসছে ওটা ।
হাতের হাল্কা ইশারাতে কাছে ডাকতে যাবে – তখনই রাস্তার অন্যপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার দিকে চোখ পড়ে সুজানার ।
অপলক এদিকেই তাকিয়ে আছে ছেলেটা । nolvadex and clomid prices

তারপর রাস্তা পার হওয়া শুরু করে ঘোরগ্রস্থের মত ।
সুজানারও আর রিকশা ডাকা হয় না । ছেলেটাকে চিনতে পেরেছে ও ।
তন্ময় ।
সেই ছোট্ট তন্ময় বড় হয়ে গেছে অনেক ! তবুও চেহারা কি অপরিবর্তিতই না আছে !

‘আপনি কি সুজানা ?’ কাছে এসে জানতে চায় তন্ময় ।
‘তন্ময় – একদম আগের মতই আছো !’ একটা উজ্জ্বল হাসি দিয়ে বলে সুজানা ।
‘মাই গড ! আমি এখনও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না ! সেই ক্লাস টুতে চলে গেছিলে ! এরপর ছিলে কই ?’
‘অনেক জায়গাতে ।’ একটু হাসে সুজানা, ‘চলো কোথাও গিয়ে বসি ।’
‘কাছেই ক্যাফে-ডি-রোজারিও আছে । জায়গাটা চমৎকার । কফি খাওয়ার মুড আছে ?’ চোখ টিপ দিয়ে জানতে চায় তন্ময় ।
‘তোমার সাথে ? বিষ খেতেও আপত্তি নেই ।’ আগে পিছে না ভেবেই বলে ফেলে সুজানা ।

মুখ টিপে হাসে তন্ময় । আর কিছু বলে না ।
লজ্জা পায় সুজানা ।

‘সরি – এভাবে বলা ঠিক হয় নি আমার -’
মাথা নাড়ে তন্ময়, ‘আরে ধ্যাত ! আমার সাথে ফর্ম্যালিটি কেন ? অনেক দিন পর দেখা তাই দূরত্ব বেড়ে গেল ?’

একটা টেবিলে মুখোমুখী বসে পড়ে ওরা ।
কফির অর্ডার দেওয়া হয়েছে । acquistare viagra in internet

‘তোমাকে কত খুঁজেছি, জানো ?’ কপালে এসে পড়া একগোছা চুল সরিয়ে বলে তন্ময় ।
একটু হাসে সুজানা, ‘আমাকে খুঁজেছ ? কেন ?’
‘কি আশ্চর্য ? যেই তুমি আমার সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য পাগল হয়ে গেছিলে – সেই তুমি কারণ দর্শানোর নোটিস দিচ্ছ ?’ আহত দৃষ্টি দিয়ে বলে তন্ময় ।
‘তখন তো তাকাতেও না আমার দিকে ।’ মুখ বাঁকায় সুজানা ।
‘ইশ – টু-তে পড়তাম তখন আমি । লজ্জা পেতাম না বুঝি ?’ puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

তন্ময়ের কথাতে হাসে সুজানা । হা করে তাকিয়ে থাকে তন্ময় ।
মেয়েটার মুখে এত মায়া কেন ?

‘যাই হোক – এখন কোথাও আছ ?’ জানতে চায় সুজানা ।
‘সিএসই নিলাম । WEIU এ ।’
‘র‍্যাংকিংয়ে এখন তো WEIU ফার্স্ট সিএসইর জন্য !’ উচ্ছ্বাস দেখিয়ে বলে সুজানা ।
‘হুম । তুমি কি করছ ?’
‘ঢাকা ভার্সিটিতে ঢুকে গেলাম । অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি ।’
‘ওয়াও ।’ কৃত্রিম বিস্ময়ের সাথে বলে তন্ময় । ‘সাহস তো পাব না আর মনে হয় ।’
‘কিসের সাহস ?’ অবাক হয়ে জানতে চায়
‘তোমাকে প্রপোজ করার । সেই ক্লাস টু- থেকে খুঁজে বেড়াচ্ছি তোমাকে । স্কুল পাল্টেছিলে কেন ?’

তন্ময় মজা করছে – সিদ্ধান্তে পৌঁছে সুজানা । পিচ্চি থাকা অবস্থাতে পরিচিত মেয়েকে এতদিন মনে রেখে প্রপোজ করার জন্য খুঁজে বেড়ানোর মানে হয় কোন ?

তন্ময়ের শেষ প্রশ্নটা ওকে মনে করিয়ে দেয় স্কুল ছেড়ে আসার কারণ ।
প্রিয়া সুস্থ হতে লাগিয়েছিল প্রায় বিশ দিন । আর সারা স্কুলে সুজানার নীল রক্তের কথা চাউর হয়ে গেছিল ততদিনে ।
সবাই ওকে ডাইনি বলে ডাকত আড়ালে । সুজানার বাবার সিদ্ধান্ত ছিল দ্রুত এবং কার্যকর । স্কুল পাল্টে ফেলেন তিনি ।

ছোট করে উত্তর দেয় সুজানা, ‘জানো তুমি । প্রিয়া ডাইনিটার জন্য ।’
মাথা নাড়ে তন্ময়, ‘জানি আমি । বেশ কয়েকটা হাইপোথিসিস দাঁড় করিয়েছি । জানতাম একদিন তোমাকে খুঁজে পাবই ।’
চোখে আগ্রহ নিয়ে তাকায় সুজানা, ‘কিসের হাইপোথিসিস ?’
তন্ময়ের চোখে বিষাদের ছায়া নেমে আসে, ‘তোমার নীল রক্তের । তোমাকে আমি ভয় পাই না, সুজানা । ভালোবাসি ।’

কফি এসে গেছে ।
কাপটা হাতে তুলে ইতস্তত করে সুজানা, ‘তুমি কি সিরিয়াস ?’
‘মোর দ্যান এভার ।’ সামনের দিকে তাকিয়ে চোখ কুঁচকে বলে তন্ময় । thuoc viagra cho nam

ছেলেটা কি ওর কথা শুনেছে ? বা শুনতে পেয়েছে ?
সন্দেহের দৃষ্টিতে দরজার দিকে তাকায় সুজানাও ।

এইমাত্র ক্যাফে-ডি-রোজারিও তে ঢুকে পড়া মানুষ দুটোর পরনে সম্পূর্ণ কালো পোশাক ।
চোখ থেকেও সানগ্লাস সরায় নি তারা ।
কানের পাশ থেকে হিয়ারিং ডিভাইসের তার উঁকি দিচ্ছে ।

কেউ বলে দেয় নি – তবে সুজানা স্পষ্ট বুঝতে পারে, মানুষগুলো এসেছে তাকে ধরে নিয়ে যেতে !

৩.
বুটের শব্দ তুলে এগিয়ে আসে মানুষ দুইজন । তারপর অ্যাটেনশন হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে ওদের টেবিলের পাশে ।

‘মিস সানজানা সিহলান সুজানা ?’ গমগমে গলাতে জানতে চায় তাদের একজন ।

গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায় সুজানার । সারাটি জীবন ও এই ভয়টা নিয়ে চলেছে ।
ও আর দশজন মানুষের মত নয় । আদৌ মানুষ কি না নিজে – সেটাও জানে না সুজানা ।
বাবা-মা তাকে আঠারোতম জন্মদিনের দিনই সব বলেছেন ।
এই পৃথিবীর প্রাণি কি না ও – সে ব্যাপারে বাবা-মার সন্দেহের সাথে একমত পোষণ করেছিল সুজানাও ।
তারপরই বাবার নিষেধাজ্ঞার কথা মনে পড়ে যায় ওর, ‘মনে রেখ – পৃথিবীর কেউ যদি টের পেয়ে যায় তোমার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা – তোমাকে ওরা ছেড়ে দেবে না । মানুষের ধর্মই এটা । অজানার পিছে লেগে থাকা । আমি চাই না তোমাকে কোন ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হোক । এখন বড় হয়েছ – নিজেকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হবে । সব সময় আমরা থাকবও না । শুধু একটা ব্যাপার মাথাতে রাখবে – যতদূর সম্ভব লো-প্রোফাইলে চলবে ।’

লো-প্রোফাইলে চলেই এসেছে ও এতদিন ।
খুবই সাধারণ একটা জীবন যাপন করেছে । কোন অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নেয় নি । নিজের শরীরের একটা কোষ কেটে যেতে পারে – এমন কোন অ্যাক্টিভিটির মধ্য দিয়ে যায় নি ।
তবুও কিভাবে ওকে খুঁজে বের করে ফেলল ওরা ?

তন্ময়কে দেখে মনে হচ্ছে পিকনিকে এসেছে । আয়েশ করে আরেক চুমুক দিল ও গরম ধূমীয়মান কফিতে ।

‘আমিই সুজানা ।’ বসে থেকেই বলে ও, কাঁপছে কন্ঠ, ‘কিছু বলতে চাইছেন কি ?’
‘আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে । নীচে গাড়ি অপেক্ষা করছে ।’ জানায় প্রথমজন ।
‘আপনাদের সাথে যাওয়ার জন্য কোনরকম আগ্রহ বোধ করছি না ।’ মাথা নাড়ে সুজানা, উঠে দাঁড়াতে নারাজ ।
‘বুঝতে পারছেন না হয়ত – আপনি আমাদের সাথে আসতে বাধ্য । হোম মিনিস্টার নিজে আপনাকে অনুরোধ করেছেন ।’

একটা কাগজ বের করে দেখায় প্রথম লোকটা ।

‘আপনারা কারা ?’ প্রথমবারের মত মুখ খোলে তন্ময় ।
প্রথমজন সুজানার সাথে কথা বললেও দ্বিতীয়জনে সরাসরি ওকেই গার্ড দিয়ে রেখেছে – সেটা খেয়াল করেছে ও । পকেট ফুলে আছে দুইজনেরই । কাজেই – উদ্দেশ্য খুব একটা সুবিধের নয় বোঝাই যাচ্ছে ।

তন্ময় ভেবেছিল উত্তর পাওয়া যাবে না । তবে মুখ খোলে দ্বিতীয় লোকটা ।
‘ইউব্রীফ । UBRF । আন-ইউজুয়াল বিহ্যাভিওর রিসার্চ ফ্যাসিলিটি থেকে আমরা এসেছি । নাম হয়ত শোনেন নি । তবে সরাসরি হোম মিনিস্ট্রির আন্ডারে চলি আমরা ।’
‘এখানে একটাই আন-ইউজুয়াল বিহ্যাভিওর দেখতে পাচ্ছি ।’ কৌতুক ফুটে ওঠে তন্ময়ের গলাতে ।
‘কোনটা ?
‘এইটা ।’

স্বাভাবিক গলাতে কথাটা বলেই হাতের ফুটন্ত কফি ছুড়ে মারে তন্ময় দ্বিতীয় ইউব্রীফ সদস্যের মুখ বরাবর । এর মনোযোগই ছিল তন্ময়ের দিকে । কাজেই একে বেছে নেয় ও ।
গরম তরল মুখ পুড়িয়ে দিচ্ছে – তীব্র যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলে মানুষটি ।
আর ঝাঁপিয়ে প্রথম ইউব্রীফ মেম্বারের ঘাড়ে পড়ে তন্ময় ।

কনুইয়ের এক আঘাতে ওকে সরিয়ে দেয় লোকটা । সরে গিয়ে একটা চেয়ারের ওপর আছড়ে পড়ে তন্ময় ।
কোমড়ের দিকে হাত চলে যাচ্ছে মানুষটার – কি মূল্যবান সম্পদ ওখান থেকে বের হতে যাচ্ছে – সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করে না তন্ময় । চেয়ারটা দুইহাতে তুলে দড়াম করে বাড়ি মারে লোকটার মাথায় ।
দুই পাক ঘুরে আরেকটা টেবিল বাঁকা করে পড়ে থাকে মানুষটা ।

‘তন্ময় !’ সাবধান করে দেয় সুজানা চেঁচিয়ে ।

দ্রুত ঘুরে তাকায় তন্ময় ।
দ্বিতীয় গার্ড যন্ত্রণাতে মুখ বিকৃত করে রেখেছে । সারা মুখে ফোস্কা পড়ে গেছে ওর ।
তার মাঝেই এগিয়ে আসছে তন্ময়ের দিকে ।
প্রাণের সুখে চেয়ার ঘুরিয়ে আরেক বাড়িতে তাকে ছিটকে ফেলে দেয় তন্ময় ।

তারপর এগিয়ে গিয়ে প্রথম জনের কোটের পকেট থেকে পিস্তলটা বের করে নিজের শার্টের ভেতর গুঁজে ফেলে ও ।
হাত ধরে টান দেয় সুজানার, ‘চল তাড়াতাড়ি কেটে পড়ি ।’
‘বাইরে ওদের আরও অনেকে থাকবে ।’ আস্তে করে বলে সুজানা ।
‘অবশ্যই । সামনের দিক দিয়ে বের হওয়া যাবে না ।’

হতভম্ভ তিনজন ওয়েইটারের চোখের সামনে দিয়ে পেছনে কিচেনের দরজার দিকে এগিয়ে যায় ওরা ।
এক ধাক্কায় কিচেন খুলে ফেলে ঢুকে পড়েছে ওরা, ভেতরের বাবুর্চি লাফিয়ে ওঠে, ‘এখানে আপনারা ঢুকতে পারবেন না !’

সড়াৎ করে পিস্তলটা বের করে তন্ময় । বাবুর্চির গলা বরাবর তাক করে ধরতেই একেবারে ঠান্ডা হয়ে যায় মানুষটা !
‘এখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা কোনটা ?’
ইঙ্গিতে পেছনের আরেকটা দরজা দেখিয়ে দেয় লোকটা ।

আরেক ধাক্কাতে সেই দরজা খুলে বের হতেই খুব কাছে দেখা যায় আরও দুইজন UBRF মেম্বারকে । ঝোপের পেছনে দাঁড়িয়ে অলস ভঙ্গীতে চারপাশে তাকাচ্ছিল । সাসপেক্ট তো একে মেয়ে – তারওপর জানে না ইউব্রীফ রেইড দিতে পারে ।
অপ্রস্তুত একজন মানুষকে ধরে ফেলতে আর কি লাগে ?
পালাতে পারলে না পেছন দিয়ে বের হবে !

কিন্তু বেচারাদের ধারণা ভুল করে বুলেটের মত বেড়িয়ে আসে ওরা দুইজন ।
ঝট করে পিস্তলের জন্য কোমড়ে হাত বাড়িয়েছে ওরা – কোন দ্বিধা ছাড়াই গুলি করে তন্ময় । পর পর তিনটে ।
চমৎকারভাবে ডান হাতে একটা গুলি লাগাতে পেরেছে তন্ময় । মাটিতে পড়ে কাতরে ওঠে একজন UBRF সদস্য । অপরজন ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরেট কাভারের উদ্দেশ্যে ।

এই ফাঁকে এক ছুটে বড় রাস্তাতে উঠে আসে ওরা ।
‘পেছনে ওরা চলে আসছে । গুলি করে দেবে তো !’ আৎকে ওঠে সুজানা ।
‘করবে না । তোমার গায়ে লাগতে পারে । তোমাকে অক্ষত দরকার ওদের ।’

সামনে থেকে আসা টয়োটা করোলাটাকে পিস্তল দেখিয়ে থামিয়ে ফেলে তন্ময় ।
এক ছুটে এসে ড্রাইভার সীটের দরজা খোলার জন্য বলছে ভেতরের বুড়ো লোকটাকে – আতংকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে বুড়ো ।
সুজানার তীক্ষ্ণ চিৎকারের সাথে সাথে তন্ময় দেখতে পায় লোকটাকে ।

কাভার ছেড়ে মরিয়া হয়ে বের হয়ে ছুটে আসছে এদিকে ।
একটা মাত্র গুলি করে ও – হাঁটুর নিচে লেগে ছিটকে মাটিতে পড়ে মানুষটা ।
একই সাথে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায় গাড়ির ড্রাইভার । চট করে দরজা খুলে চাবিটা ধরিয়ে দেয় তন্ময়ের হাতে । para que sirve el amoxil pediatrico

সুজানা উঠে পড়তে না পড়তেই গাড়ি ছেড়ে দেয় তন্ময় ।
তীরবেগে ছুটছে ।
বেড়িয়ে যেতে হবে এখান থেকে ।

৪.
তন্ময়ের দিকে অদ্ভুত একটা দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে আছে সুজানা ।
দেখেও না দেখার ভান করে তন্ময় ।

‘ওরা লেগে থাকবে পেছনে । এত সহজে বের হওয়া যাবে না ।’ ঝকঝকে চোখে আনন্দ নিয়ে বলে তন্ময় ।
পাল্টা প্রশ্ন করে সুজানা, ‘তন্ময় – তুমি কাদের হয়ে কাজ করছ ?’
‘হোয়াট ডু ইউ মীন বাই কাদের হয়ে কাজ করছি ?’

সতর্ক দৃষ্টিতে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থেকে জানতে চায় তন্ময় ।

‘WEIU – সিএসইর একজন স্টুডেন্ট অনায়াসে মানুষজনকে আক্রমণ করছে । পিস্তল কেড়ে নিয়ে গুলি চালাচ্ছে মনের আনন্দে । আর তোমার টার্গেট এত ভালো কি করে ? ত্রিশ ফিট দূর থেকে হাঁটুতে গুলি করতে পারো ? সিএসই ডিপার্টমেন্ট তোমাকে এগুলো শিখিয়েছে – এটা বলতে এসো না প্লিজ !’

মেয়েটা যথেষ্ট চালাক – বুঝতে পারে তন্ময় ।
লুকিয়ে লাভ নেই এর কাছে কিছু ।

‘জুনিয়র এজেন্ট ক্যাডেট ছিলাম ।’ চোখ রাস্তা থেকে না সরিয়েই বলে তন্ময় ।
‘সেখান থেকে এখন কোথায় আছ ?’ আগের প্রশ্নে ফিরে আসে সুজানা ।
‘নেই । ছেড়ে দিয়েছি । রিয়েল মিশনে নামার আগেই । আসলে – পাশই করতে পারি নি । এখন নরমাল লাইফ লীড করছি ।’
‘এটা আমাকে বিশ্বাস করতে বল তুমি ?’ বিদ্রুপের হাসি দেয় সুজানা, ‘নিঃসন্দেহে UBRF এর মতই কারও পক্ষে কাজ করছ তুমি এখন । আমাকে নিয়ে যাচ্ছ তোমার বসদের কাছে । যেহেতু আমাকে আগে থেকে চেন – আমার তোমার প্রতি দুর্বলতা আছে – তাই তোমাকে এই মিশনের জন্য সিলেক্ট করা হয়েছে । তাই না ?’

মাথা নাড়ে তন্ময় হতাশাতে, ‘আমি কারও হয়ে কাজ করছি না । জুনিয়র ক্যাডেট ছিলাম বাংলাদেশ ইন্টেলিজেন্সের – সেটাও তোমার জন্য । নাহলে এতটা প্যাশন নিয়ে ওই পর্যন্ত পৌঁছতে পারতাম না ।’
‘আমার জন্য ?’ অবাক হয়ে জানতে চায় সুজানা ।
‘অবশ্যই ।’ মাথা দোলায় তন্ময়, ‘আমাকে কি গাধা মনে হয় তোমার ? স্পষ্ট নীল রক্ত বের হয়ে আসবে তোমার ঠোঁট থেকে – তারপরও বুঝতে পারব না কিছু ?’
‘কি বুঝতে পারলে ?’ কাঁপা কন্ঠে জানতে চায় সুজানা ।
‘তুমি সাধারণ কেউ নও । আমি এলিয়েন স্টোরিতে বিশ্বাস করি না । তবুও বলব আউটার স্পেস তোমার রহস্যের একটা সমাধান হতে পারে । অথবা তুমি একটা এক্সেপশন । মানব জাতির মাঝে প্রথম কেউ – যার রক্ত নীল । কিন্তু এটা মেডিকেল সায়েন্স অনুযায়ী সম্ভব না ।’

আগ্রহী চোখে তাকিয়ে আছে সুজানা । সেদিকে একবার তাকায় তন্ময় ।
‘মানুষের রক্ত লাল হওয়ার কারণ আছে । হিমোগ্লোবিন রক্তকে লাল করে রাখে । রক্তের রঙ নীল হওয়া সম্ভব নয় । হলে হিমোগ্লোবিন থাকবে না তার শরীরে । আর সেক্ষেত্রে অক্সিজেন প্রতিটি কোষে পাঠাতে পারবে না রক্ত । ফলাফল একটাই – মৃত্যু !’ achat viagra cialis france

‘জানি আমি -’ বিড় বিড় করে বলে সুজানা ।

‘আমার হাইপোথিসিস শুনবে ?’ সামনের দিকে তাকিয়ে আবার জানতে চায় তন্ময় ।
‘বল ।’ সায় দেয় সুজানা ।
‘তোমার বাঁচার জন্য অক্সিজেন লাগে না । শ্বাস না নিয়েও বাঁচতে পারবে তুমি । অথবা – শ্বাস না নিলে বাঁচতে পারবে না ঠিকই – তবে বাতাস থেকে অক্সিজেন নাওনা তুমি । নাইট্রোজেন টেনে নাও । সম্ভবতঃ ।’
‘দারুণ হাইপোথিসিস – তবে আমার জন্য কিভাবে জুনিয়র ক্যাডেট হিসেবে ঢোকা হল এতে – সেটা বুঝলাম না । এক্সপ্লেইন ইয়োর সেলফ ।’

সামনে থেকে আসা ট্রাকটাকে একটু সাইড দিয়ে তাকায় তন্ময় পেছন দিকে । অনেক দূরে একটা কালো গাড়িকে সরাসরি এদিকেই আসতে দেখা যাচ্ছে !

‘ক্লাস টু থেকেই ভেবে গেছি তোমাকে নিয়ে । হাইপোথিসিসগুলো ক্লাস ফাইভে থাকতে দেই আমি । আমাদের স্কুল থেকে চলে গেছ – জানতাম । কিন্তু জানতাম না এই মুহূর্তে ঠিক কোথায় আছ – আদৌ বেঁচে আছ কি না । এটাও জানতাম – একদিন না একদিন তোমার প্রতি আগ্রহী হবে শুধু বাংলাদেশ না – গোটা পৃথিবী । সেই সময়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতেই ইচ্ছে ছিল ইন্টেলিজেন্সে ঢুকতে ।’
‘বেড়িয়ে গেলে কেন ?’ তীব্র ভালোবাসায় আচ্ছন্ন ছেলেটার গল্প মোহগ্রস্থের মত শোনে সুজানা ।
‘ইচ্ছে করে সব টেস্টে খারাপ করা শুরু করলাম । মোটামুটি একটা ট্রেইনিং পেয়ে যেতে আর থাকতে চাই নি । বাঁধাধরা নিয়ম থেকে তোমার কাজে লাগতে পারতাম বলে মনে হয় না । তাই আগেই সরিয়ে নিয়েছিলাম নিজেকে । আমার যেটা দরকার ছিল – বাংলাদেশ ইন্টিলিজেন্সের ভেতরে কিছু লিংক । সেটা আছে এখন ।’

পেছনের গাড়িটা বেশ কাছে চলে এসেছে । সেদিকে রিয়ার ভিউ মিরর দিয়ে একবার তাকিয়ে আবার বলে তন্ময়, ‘তবে আজকে তোমার সাথে কাকতলীয়ভাবে দেখা হয়ে যাওয়ার এত তাড়াতাড়ি তোমার কাজে লাগতে পারব – সেটাও ভাবিনি অবশ্য ।’

পরক্ষণেই বাম দিকের সরু রোডে তন্ময় ঢুকিয়ে দেয় গাড়িটাকে ।
তীব্র ঝাঁকুনির সাথে ছিটকে দরজার ওপর সেঁটে যায় সুজানা । পেছনের গাড়িটাও লেগে থাকে । লাফিয়ে ঢুকে পড়েছে গলিতে ।

তীরবেগে সামনের চল্লিশফুট অতিক্রম করে তন্ময় – তারপরই ঘ্যাচ করে ব্রেক কষে ।
ওদের ঠিক পেছনের বাম্পারে উড়ে এসে পড়ে পেছনের গাড়িটা ।

বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে বাম হাতে দরজা খুলে নেমে আসে তন্ময় – ডান হাতে বেড়িয়ে এসেছে পিস্তলটা ।
একটি মাত্র গুলিতে উইন্ডশীল্ডে নিখুঁত একটা গর্ত করে ড্রাইভারের গলাটা প্রায় দুই ভাগ করে দেয় ও – তারপরই ফিরে আসতে থাকে নিজের গাড়িটার দিকে ।
প্রচন্ড ঝাঁকুনী সহ্য করে এতক্ষণে সম্বিত ফিরে পেয়েছে পেছনের আরোহীরা ।
প্রাণের সুখে গুলি চালায় ওরা ।

মাথা নীচু করে বসে থাকে সুজানা ।
যতদূর সম্ভব মাথা নামিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেয় তন্ময়ও ।
ড্রাইভারের লাশ সীট থেকে সরিয়ে আবার গাড়ি স্টার্ট দিতে ওদের নষ্ট হবে মূল্যবান পাঁচটি মিনিট ।

এই সুযোগে হারিয়ে যাবে ওরা ।

৫.
গাড়ি থেকে নেমে আসে তন্ময় । তারপর অন্যপাশ থেকে বের হওয়া সুজানার সামনে এসে দাঁড়ায় । will i gain or lose weight on zoloft

‘এ কোথায় নিয়ে এলে ?’ জানতে চায় সুজানা – চারপাশে তাকিয়ে দেখছে ।
‘এখানে তুমি আংকেল আন্টিকে ফোন করে দ্রুত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করবে । তারপর বলবে – বাসায় ফিরতে দেরী আছে তোমার ।’
‘কতক্ষণ ?’ আগ্রহের সাথে জানতে চায় মেয়েটি ।
ঠান্ডা গলাতে উত্তর দেয় তন্ময়, ‘কয়েক মাস ।’
‘ওহ – গড -’ আরও কি কি জানি বলতে থাকে সুজানা – কান না দিয়ে মাথা ঝাঁকায় তন্ময় ।
‘আর আমি যাচ্ছি কিছু অ্যাকসেসরিজ আনতে ।’ পকেট থেকে নিজের মোবাইলটা বের করে তন্ময়, ‘এর লাইন সিকিউরড থাকার কথা । নিজের ফোন ইউজ করার চেষ্টা করবে না । ওরা কান পেতে আছে একেবারে ।’
‘তন্ময় -’ হাতে ফোন নিতে নিতে ইতস্তত করে সুজানা, ‘যা দেখিয়েছ তুমি – তা জুনিয়র ক্যাডেটের জানার কথা নয় -’
‘জানি আমি ।’ মেয়েটার গাল স্পর্শ করতে ইচ্ছে হলেও নিজেকে নির্বৃত্ত করে ও, ‘সেদিনের জুনিয়র ক্যাডেটদের কেউ কেউ আজ বাংলাদেশ ইন্টেলিজেন্সে আছে । তাঁদের মাঝে আবার কেউ কেউ আমার বন্ধু মানুষ ।’

মেয়েটির দিকে চোখ টিপ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায় তন্ময় ।
অতি সাবধানী এই সুজানা । তন্ময়কে এখনও পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না ।
তবে UBRF দের বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই । তাই চোখে চোখে রাখার চেষ্টাও করে না তন্ময় ।
মেয়েটার যাওয়ার জায়গা নেই তন্ময় ছাড়া । বিশ্বাস করেই হোক আর না করেই হোক – এখন একসাথে থাকতেই হবে ওদের ।

সামনের স্টেশনারির দোকানটার ভেতর ঢুকে পড়ে চকচকে একটা হাসি উপহার দেয় তন্ময় । ডেস্কের পেছনে বসে থাকা মানুষটা সে হাসিতে মোটেও গলে যায় না ।
‘তন্ময় ! তুমি আমার চাকরীটা খাবে !’ বিরক্তির সাথে উঠে দাঁড়ায় মানুষটা ।
‘বন্ধুর সাথে এতদিন পর দেখা হলে কি এভাবেই সম্ভাষণ কর নাকি হে ?’ সকৌতুকে বলে তন্ময়, ‘তলায় নিয়ে যাওয়া আমাকে । তাড়াতে আছি ।’

হেলেদুলে একটা চাবী হাতে নেয় রক্তিম । বিআই ক্যাডেট ছিল ও আর তন্ময় একই সাথে ।
‘তলায় না নেমে যে যাবে না – সে আমার বোঝা হয়ে গেছে ।’ বিরস বদনে জানায় রক্তিম ।

আর কিছু না বলে চুপচাপ ওর সাথে এগিয়ে যায় পাশের ছোট একটা দরজার দিকে ।
ভেতরে ঢুকে আবার দরজাটা লাগিয়ে দেয় রক্তিম । নিচের দিকে নেমে গেছে একটা চিকণ সিঁড়ি ।
সেটা বেয়ে রক্তিমের পিছে পিছে নামতে থাকে তন্ময় ।

মাটির নিচের প্রথম ফ্লোরে একটা পর একটা সেলফে অস্ত্রগুলো দারুণভাবে সাজানো ! পুরো ফ্লোরটাই এয়ারকন্ডিশনড ।
একটা মাত্র পিস্তল নিয়ে বের হয়েছিল ওরা ক্যাফে-ডি-রোজারিও থেকে । ওটার অ্যামুনেশনও শেষ । কাজেই এখানে আসাটা জরুরী ছিল ।
অস্ত্রের র‍্যাকগুলোর সামনে বেশিক্ষন চক্কর দিতে হয় না তন্ময়কে । কাংক্ষিত জিনিসটা পেয়ে যেতেই সেটা হাতে তুলে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখে ।

‘ঝামেলাতে জড়িয়েছ মনে হচ্ছে ?’ পাশ থেকে জানতে চায় রক্তিম ।
‘প্রথমবারের মত অস্ত্র নিতে আসলাম বলে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলে তোমাকে দোষ দেওয়া যায় না ।’ বিড় বিড় করে বলে বোল্ট টানে তন্ময় ছোট করে ।
‘ঠিক তা না – তোমার হাতের জিনিসটা দেখলে আর কিছু বোঝা লাগে না ।’ ইঙ্গিতে তন্ময়ের হাতের থম্পসন M192 টাকে দেখিয়ে বলে রক্তিম ।

একটু হাসার ভঙ্গি করে তন্ময় ।
‘সিরিয়াসলি ?’ হতাশ হয়ে কাঁধ ঝাঁকায় রক্তিম, ‘মিনিটে ৬০০ রাউন্ড গুলি করতে পারে এমন একটা মাল নিয়ে কিসের মোকাবেলা করতে চাও তুমি ?’
‘জানতে পারবে দোস্ত -’ এগিয়ে এসে ওর হাতে চাপিয়ে দেয় তন্ময় থম্পসনটা, ‘গোটা দুনিয়া আমার পিছে লাগলেই খবর পেয়ে যাবে । দেখা যাবে নিজেও নেমে পড়েছ আমার পিছে ।’
‘কঠিন চিপায় ফাঁসছ মনে হয় ।’

আর কিছু বলে না রক্তিম ।
‘ম্যাগাজিন দে । তারপর আমি ভাগি ।’

বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে এসেছে সুজানাকে ।
কোন কথা না বলে ম্যাগাজিন কয়েকটা একটা প্যাকেটে ভরে ফেলে রক্তিম ।

খোলা পরিবেশ আস্ত একটা থম্পসন নিয়ে বেড়িয়ে আসে তন্ময় ।
গাড়িটার কাছে এসে থমকে যেতেই হয় ওকে । আশেপাশে নেই সুজানা । কোথাও ওকে দেখা যাচ্ছে না ।
গাড়ির ভেতরে ড্রাইভিং সীটের পাশে থম্পসনটাকে শুইয়ে রাখতেই চোখে পড়ে ওর নোটটা । ড্যাশবোর্ডের ওপর ওর ফোনটার নিচে চাপা দেওয়া আছে কাগজটা ।

‘আম্মুর হার্ট অ্যাটাক । বাসায় গেলাম আমি । পরে দেখা হবে – সুজি’

‘শিট !’ গাল দিয়ে ওঠে তন্ময় ।
নিঃসন্দেহে এটা একটা ফাঁদ । আর সেই ফাঁদে পা দিয়েছে সুজানা বোকার মত ।
বাসাতে গেলেই ওকে স্রেফ তুলে নিয়ে যাবে ল্যাবরেটরীতে । তারপর কেটে কুটেও দেখতে পারে – আবার বছরের পর বছর ওকে আটকে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে ।
বোকা মেয়েটা এমন একটা সময়ে মায়ের হার্ট অ্যাটাকের খবর কিভাবে বিশ্বাস করতে পারে ?

এই সময় ইঞ্জিনের শব্দ কানে আসে ওর ।
বাতাসে চুল উড়িয়ে ফিরে তাকাতেই দেখতে পায় সদ্য উদয় হওয়া ছয়টা গাড়িকে ।

তিন রাস্তার মোড়ের সব দিক থেকে আসছে ওরা । উদ্দেশ্য পরিষ্কার ।
একলাফে গাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে তন্ময় । দ্রুত হাতে স্টার্ট দেয় গাড়িটাকে ।
তারপর সোজা ছুটিয়ে দেয় সামনের দিকে । ওদিক থেকেও আসছে দুটো গাড়ি ।

একেবারে ঘিরে ফেলেছে শালারা !

পেছন থেকে মুহূর্মুহূ গুলির শব্দ শুনতে পায় ও । সেদিকে কান না দিয়ে সামনের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ।
সামনের ওই ওরা গুলি শুরু করে নি কেন সেটা অবশ্য বুঝতে পারে – নিহত ড্রাইভার ফুল স্পীডে দুটো গাড়ির যে কোন একটাতে অথবা একসাথে দুটোতেই আঘাত হানতে পারে ।
নিজেদের মাঝে সুইসাইডের ইচ্ছে হয় নি ওদের ।

তবে সামনের ওরাও হামলা চালানোর পাঁয়তারা করছে দেখা গেল ।
এতক্ষণ পাশাপাশি আসছিল – এখন আস্তে করে একটা গতি কমিয়ে পিছিয়ে গেল ।
এখন এক লাইনে আছে । কারণটা সহজ – নিহত তন্ময়ের গাড়ি ছুটে গেলে আস্তে করে সেই গতিপথ থেকে নিজেদের সরিয়ে দেওয়ার মত স্পেস বের করে ফেলেছে ওরা ।

তবে এই ধাপে UBRF দের থেকে এগিয়ে আছে তন্ময় – গুলি করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলই থম্পসনটা ।
এবার হুইল ছেড়ে দিয়ে দুই হাতে শক্ত করে চেপে ধরে ওটাকে – তারপর সামনের উইন্ডশীল্ড ভেঙ্গে গুলি করে প্রথম গাড়িটার দিকে ।
পাঁচ সেকেন্ডে বেড়িয়ে গেছে ত্রিশটা গুলি – নিমেষেই ঝাঁঝরা হয়ে যায় আরোহীরা ।

স্টিয়ারিং হুইল ছেড়ে দেওয়াতে তন্ময়ের গাড়িটা রাস্তার বাইরে চলে যাচ্ছিল – খপ করে আবার ওটা ধরে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে ও ।
সরাসরি ছুটে আসছে UBRF এর গাড়িটা – কোনমতে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়িয়ে দ্বিতীয় গাড়ির হতভম্ব আরোহীদের পাশ দিয়ে বুলেটের মত বেড়িয়ে যায় তন্ময়ের গাড়িটা ।

পাগলের মত গুলি ছোড়ে দ্বিতীয় গাড়ির আরোহীরা ।
কিন্তু ওদের গতিপথ একে অন্যের বিপরীতমুখী – কাছাকাছিও আসল না একটাও ।

দ্রুত ফোনটা হাতে নেয় তন্ময় ।
কোথায় পড়ত বলেছিল জানি মেয়েটা ?
ঢাকা ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি ।

এই সুজানা মেয়েটার বাসার লোকেশন বের করতে হবে ।

৬.
সিএনজিটা এত আস্তে চলছে কেন ?
বার বার খাঁচার মত দরজা দিয়ে বাইরে তাকাচ্ছে সুজানা ।

বাসাতে ওকে যত দ্রুত সম্ভব পৌঁছতে হবে ।
ফোন ধরেছিল রিমি । আজ বিকেলে সুজানা-রিমির বের হওয়ার কথা ছিল – সেজন্যই হয়ত বাসাতে গেছিল মেয়েটা ।
আর তার একটু পরই হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে আম্মুর । খবরটা বিশ্বাস হতে চায় না সুজানার ।
আম্মুর কোন ধরণের প্রবলেম ছিল না । প্রেশারের প্রবলেম পর্যন্ত না !

সেখান থেকে কিভাবে একেবারে –
বেশি ভাবার সময় পায় না সুজানা । বাসার কাছাকাছি চলে এসেছে ।
তন্ময় একবার বলেছিল নিজের ফোন ব্যাবহার না করতে – কিন্তু এমন অবস্থাতে রিস্ক তো একটু নেওয়াই যায় !

ফোন বের করে দ্রুত সময়টা একবার দেখে সুজানা ।
তারপর বাসার নাম্বারে আবার ফোন দেয় । এবার কেউ রিসিভ করে না ।
বের হয়ে গেল নাকি সবাই ?

সিএনজি থামতেই কোনমতে ভাড়া দিয়ে নেমে পড়ে সুজানা ।
বাসার মেইন দরজা খোলা ।
এক ধাক্কায় সেটাকে পুরোপুরি খুলে ঢুকে পড়তেই ভেতরে চিন্তিত মুখে রিমিকে চোখে পড়ে সুজানার ।

ছুটে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে সুজানা, ‘আম্মু কোথায় ?’
‘এখানে নেই । তবে ভালো আছে ।’ হাসিমুখে জানায় রিমি ।
‘হার্ট অ্যাটাক করে একজন মানুষ ভালো থাকে কি করে ? আমি যাব আম্মুর কাছে ?’ চারপাশে তাকাতে গিয়েই অসংগতিটা ধরা পড়ে সুজানার চোখে ।
মেঝেতে হাল্কা ধুলোর ছাপ । তার মাঝে বুটজুতোর ছাপও স্পষ্ট ।

বুট পায়ে কারা ঢুকেছিল ঘরের ভেতর ?
UBRF এর ওরা ?
চোখে সন্দেহ নিয়ে রিমির দিকে তাকায় এবার সুজানা ।
সবকিছুর মাঝে রিমি আসছে কি করে ?

রিমিকে ছেড়ে দিয়ে দুই পা পিছিয়ে আসে সুজানা । যা বোঝার বোঝা হয়ে গেছে ওর ।
ওর ফ্যামিলিকে আটকে ফেলেছে UBRF । দ্রুত এখন তন্ময়কে বের করে জানাতে হবে সব ।
পৃথিবীতে এই একটা ছেলেই এখন ওর ভরসা ।

কোন দিকে না তাকিয়ে পেছনে ঘুরে প্রায় ছুটতে শুরু করে ও মেইন গেটের দিকে ।
পেছন থেকে রিমি চিৎকার করে ওঠে, ‘যাচ্ছিস কোথায় ?’ – কানই দেয় না ও ।

মেইন গেটটা চোখে পড়তে প্রাণে পানি আসে – একবার বের হয়ে যেতে পারলে আর পাচ্ছে কে ওকে ?
একটানে দরজা খুলে ফেলতেই ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির মুখে চোখ পড়ে রিমির ।
রিমির মা – অবন্তী চৌধুরী এখানে কি করছেন ? kamagra pastillas

‘ভেতরে বসা যাক, সুজানা । ছোট্ট থেকে কত বড় হয়ে গেছ তুমি !’ অন্যদিকে তাকিয়ে কোমল গলাতে বলেন তিনি ।
সাইলেন্সার লাগানো পিস্তলটা একটুও কাঁপে না তাঁর হাতে ।
‘UBRF এর ডিরেক্টর – আই গেস ?’ বুঝে ফেলতে একটুও দেরী হয় না সুজানার ।
‘ক্লেভার গার্ল । চল ভেতরে । আর বেরিয়েই বা কি করবে বল ? বাইরে নাহলেও ষাটজনকে দাঁড় করিয়ে এসেছি ।’

কাজেই ভেতরে ঢোকা ছাড়া আর উপায় কি থাকে ?
‘সরি – চা বা কফি অফার করতে পারলাম না ।’ কৃত্রিম ভদ্রতা করে বলে সুজানা ।
‘না না – কোন ব্যাপার না । তাছাড়া – বিষ খাইয়ে দেওয়ার সুযোগ তোমাকে দেওয়া হত না । কাজেই দুঃখ-টুঃখগুলো সব ওপরে তুলে রেখে চল – তোমার প্রশ্নগুলোর জবাব দেই । ’
‘আমি আপনাকে কোন প্রশ্ন করি নি ।’ কড়া গলাতে জবাব দেয় সুজানা ।

ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়েন অবন্তী চৌধুরী ।
‘তোমার আশেপাশে চলে আসলে সবাই মায়াতে আটকে যায় – কেন ? তোমার রক্তের রঙ নীল কেন ? কেন তুমি ক্ষেপে গিয়ে কারও ওপর হামলা চালালে তারা সম্মোহিত হয়ে যায় ? কেন এই রুমে এসে এখন পর্যন্ত তোমার চোখের দিকে একবারও তাকাই নি ? এই সব প্রশ্ন তুমি না করলেও তোমার মাথাতে জমে আছে । তাই না ?’
‘আমি কি ?’ ফিস ফিস করে জানতে চায় সুজানা ।

খুশি হয়ে গেলেন এবার অবন্তী চৌধুরী, ‘দারুণ প্রশ্ন করেছ । তোমার রাইট আছে নিজের আইডেন্টিটি জানার । আর সেকাজেই তোমাকে সাহায্য করতে চাইছে ইউব্রীফ ।’
‘চমৎকার । আপনাদের ধন্যবাদ দিতাম । কিন্তু পারলাম না । কারণ – আমার নিজের আইডেন্টিটি জানার চাইতে নিজের স্বাধীনতার দাম বেশি । ইউব্রীফ কি আমাকে আমার স্বাধীনতার মর্যাদা দেবে ?’
‘অবশ্যই ! কিছুটা সময় তোমাকে রেসিডেন্ট হয়ে থাকতে হবে । তবে ফ্যাসিলিটির ভেতরে তুমি সম্পূর্ণ মুক্ত ।’
‘ফ্যাসিলিটির বাইরে যেতে পারব না তার মানে ?’
‘না – তোমার সম্পর্কে সব কিছু জানা গেলে তোমার জীন নিয়ে গবেষণা করে মানবজাতির ওপর সেটা প্রয়োগ করে আমাদের লিমিট আরও বাড়ানো সম্ভব । অক্সিজেন ছাড়া কিভাবে তোমার শরীরের কোষগুলোর বিপাক হয় সেটা জানাটা আমাদের দরকার । বিজ্ঞান কত এগিয়ে যাবে – ভেবেছ ? সেই চৌদ্দ বছর ধরে তোমাকে খুঁজছি আমরা, সুইটি ।’ clomid over the counter

দীর্ঘশ্বাস ফেলে শক্ত গলাতে জানিয়ে দেয় সুজানা, ‘আমি আপনাদের সাথে যাচ্ছি না । এবং দাবী জানাচ্ছি আমার বাবা-মাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে । নাহলে পুলিশের কাছে যাব আমি । আপনারা বিজ্ঞানের নাম নিন – আর যারই নাম নিন – অ্যাবডাকশনের অভিযোগ এড়াতে পারবেন না ।’

ঘর কাঁপিয়ে হাসেন অবন্তী চৌধুরী ।
‘পুলিশ ?’ অনেক কষ্টে হাসি থামান তিনি, ‘আর্মির হেডকে ডেকে এনেও লাভ নেই । একজন এলিয়েন হয়ে পৃথিবীর মানুষদের ওপর ভরসা করার মত দুঃসাহস কিভাবে হয়েছে সেটাই ভাবছি । এই পৃথিবীতে একটা মানুষও পাবে না তোমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য – যখন শুনবে তারা তুমি এই গ্রহের কেউ নও । শুধু দেখতেই সেরকম । দুঃখজনক – গোটা একটা প্ল্যানেটের সবাই তোমার বিরুদ্ধে !’

বিস্ফোরণের মত একটা শব্দ ভেসে আসে বাইরে থেকে এই সময় ।
সেই সাথে মেশিনগানের গুলির শব্দ ।

‘সবাই নয় ।’ অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে অবন্তী চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলে সুজানা ।

দ্রুত বারান্দার কাছে চলে গেছেন অবন্তী চৌধুরী । ছেলেটার তো ব্যাবস্থা করে ফেলার কথা ছিল !
ফিরে আসল কি করে ?

বাইরের দিকে তাকিয়ে চোখ কপালে উঠে যায় তাঁর ।

৭.
বন্ধু রক্তিমকে জানিয়ে ছিল ঢাকা ভার্সিটির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির ছাত্রীর নাম দিয়ে সার্চ করে ভার্সিটির ডেটাবেজ থেকে ঠিকানা বের করে দিতে ।
কিন্তু বেচারা ব্যার্থ হয়ে গেছে পুরোপুরি ।
ক্লিয়ারেন্স লেভেল অনুযায়ী এই কাজটা অনায়াসে করতে পারার কথা ওর জন্য ।

কিন্তু আজ সকাল থেকে ঠিক ওই অ্যাড্রেসটাই হাই ক্লিয়ারেন্স লেভেলে চলে গেছে ।

শুনে আতংকে মাথার ভেতরটা হিম হয়ে যায় তন্ময়ের । এর অর্থ আজ সকাল থেকেই কম্প্রোমাইজ হয়ে গেছে সুজানার লোকেশন !
দ্রুত নির্দেশ দেয় ও – সুজানার কাছাকাছি রোলগুলো যাদের – তাদের অ্যাড্রেস বা ফোন নাম্বার বের করে দিতে ।

এই কাজটা সহজেই পারে অবশ্য রক্তিম ।
সেখান থেকে তুর্য নামের ছেলেটাকে ফোন দিতেই বাসার ঠিকানাটা বলে দিতে পারে ও ।
সাথে সাথেই ডিরেকশন ঠিক করে তীরবেগে গাড়ি ছোটায় তন্ময় ।

বাড়িটা কোনটা সেটা দেখিয়ে দেওয়ার কোন দরকার নেই – বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটে কালো গাড়ি দেখেই যা বোঝার বোঝা হয়ে যায় তন্ময়ের ।
গতিবেগ একটুও না কমিয়ে ছুটে যেতে থাকে ও প্রথম গাড়িটার দিকে । মাথা নুইয়ে রেখেছে ড্যাসবোর্ডেরও নিচে ।

আশানুযায়ী বুলেটবৃষ্টি শুরু হয়ে যায় । ঠং ঠং শব্দ করে ধাতব শরীরটাকে মোরব্বা বানাচ্ছে বাইরের ওই ওরা – আর চুপচাপ সংঘর্ষের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে তন্ময় ।

অবশেষে কাংক্ষিত সেই শব্দ কানে যায় না শুধু – সারা শরীর পর্যন্ত নাড়া দিয়ে ওঠে তন্ময়ের । সেই সাথে নাক ঘুরে গেছে থেমে থাকা ইউব্রীফ গাড়িটির – এবং তন্ময়ের ।
নিখুঁত হিসেব অনুযায়ী পাশের বাড়িটার কলাপসিবল গেটে এসে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা খেয়ে দাঁড়িয়ে যায় তন্ময়ের গাড়িটি ।
দরজা থেকে একহাতে থম্পসন মেশিনগানটি হাতে নিয়ে গেটের ভেতর দিয়ে ঢুকে পড়ে ও ।

ছুটে দোতলার দিকে যাচ্ছে – ওখানে সিঁড়ি ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে হামলা করার ইচ্ছে । এদিকে বাইরে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে । সবাই পজিশন পাল্টে টার্গেট করছে নতুন বিল্ডিংটাকে ।

টার্গেট ঠিক করেছে দোতলার সিঁড়িঘরের দিকে । তবে ভেতরের অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না বাইরে থেকে । অথচ ওরা ভালো করেই জানে অন্ধকার ভেতর থেকে বাইরের সবাইকে স্পষ্ট দেখতে পাবে প্রতিপক্ষ ।

দাঁত বের হয়ে যায় তন্ময়ের সহজ টার্গেটগুলো দেখতে পেয়ে, এক মুহূর্ত অপেক্ষা করে টেনে ধরে ট্রিগার ।
বৃষ্টির মত গুলি ছুঁড়তে পারে থম্পসন মেশিনগান । স্রেফ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যেতে থাকে ইউব্রীফ বাহিনীর গর্বিত সদস্যরা ।
সেই সাথে তারাও পাল্টা হামলা চালিয়ে দোতলার সিঁড়িঘরকে মোরব্বা বানাতে থাকে ।

বিল্ডিংয়ের ভেতরের গুলিবর্ষণ থেমে গেছে !
একা যোদ্ধাকে ফেলে দিতে পেরেছে ভেবে হুল্লোড় করে ওঠে ইউব্রীফ বাহিনী – এই সময় আবারও শুরু হয় থম্পসনের এক ঘেয়ে গুলির শব্দ ।
ম্যাগাজিন পাল্টানোর ব্রেক ছাড়া যে ওই বিরতি আর কিছুই ছিল না – সেটা বুঝতে পেরেও লাভ হয় না ইউব্রীফের সদস্যদের ।

চেঁচিয়ে হুংকার ছাড়ে তাদের কমান্ডার, ‘তিনতলাতে আছে ও । শূট অ্যাট দ্য সেকেন্ড ফ্লোর !’
চারপাশে তাকিয়ে কমান্ডার নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন ।
এক ধাক্কায় বেজন্মাটা নামিয়ে দিয়েছে চল্লিশজন ইউব্রীফ মেম্বারকে । zithromax azithromycin 250 mg

তিনতলা বরাবর সৈনিকেরা গুলি ছুঁড়তে যাচ্ছে – এই সময় প্রবল বিক্রমে দোতলার সিঁড়িঘর থেকে আবার গুলিবর্ষণ শুরু হয়ে যায় ।
অযথাই অর্ডার অনুযায়ী তিনতলার দিকে শট ফায়ার করে সৈনিকেরা ।
পজিশন পাল্টে দোতলাতে নেমে আসা তন্ময় ছেলেখেলার মত করে ফেলে দিতে থাকে একের পর এক ইউব্রীফ মেম্বারকে ।

*
‘মেনে নিন – আপনাদের খেলা শেষ ।’ হাসিমুখে বলে সুজানা ।
‘দ্যাটস নট পসিবল !’ হিসহিস করে ওঠেন অবন্তী চৌধুরী ।
‘ইটস হ্যাপেনিং !’ খুশিমনে জানায় সুজানা, ‘পৃথিবীটা আমারও । আপনাদের চেয়ে কম ভালোবাসি না আমি এই পৃথিবীটাকে । এটাই আমার বাসা । আর এখানে এখনও অন্যায়ের প্রতিবাদে দাঁড়ানোর মানুষ আছে, মিসেস অবন্তী ।’
‘জেনারেল অবন্তী !’ দাঁতে দাঁত চেপে বলেন ইউব্রীফ ডিরেক্টর ।
‘মিসেস-এই সন্তুষ্ট থাকুন । আরেকটু পর মানুষের পরিচিতি নাও থাকতে পারে ! স্রেফ ঠান্ডা মাংস হয়ে যাবেন – আমার ক্যালকুলেশনে ।’

বিচিত্র একটা হাসি ফোটে জেনারেল অবন্তীর মুখে ।
‘না – সুজানা । আমার ক্যালকুলেশন অনুযায়ী তা হচ্ছে না ।’
‘কি হচ্ছে জানাবেন কি ? কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো !’ সকৌতুকে জানতে চায় সুজানা ।
‘তুমি আমার জিম্মি হচ্ছ । আর থেমে যাচ্ছে বাইরের ওই হারামজাদা ! ফ্যাসিলিটিতে যেতেই হচ্ছে তোমাকে এবার ।’
আস্তে করে ওর দিকে সাইলেন্সড পিস্তলটা তাক করেন তিনি ।

সেদিকে ফিরেও তাকায় না সুজানা ।
এতক্ষণ একটাবারও তাঁর দিকে তাকায় নি মেয়েটা – প্রথমবারের মত খেয়াল হয় জেনারেল অবন্তীর ।
দ্রুত রুমে একবার চোখ বুলিয়েই বুঝতে পারলেন – বিরাট একটা ভুল হয়ে গেছে ।

কোথাও নেই রিমি ।

‘রিমি কোথায় ?’ এক পা এগিয়ে এসে সুজানার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি । পিস্তলটা ঠেকিয়ে ধরেছেন সুজানার মাথাতে ।
বিন্দুমাত্র বিচলিত হয় না সুজানা । আস্তে করে চোখ রাখে জেনারেল অবন্তীর চোখে ।
চমকে ওঠেন অবন্তী চৌধুরী ।
কি ভীষণ মায়া ওই চোখ দুটোয় । মনের সমগ্র জোর একত্র করে চোখ সরিয়ে ফেলতেই দেখতে পান তিনি রিমিকে ।

জীঘাংসাতে চোখ মুখ কুঁচকে আছে মেয়েটার । ডান হাতে তুলে ধরে রেখেছে একটা কিচেন নাইফ ।
ওটা আনতেই যে কিচেনের দিকে পাঠিয়ে দিয়েছিল ওকে সুজানার ভয়ংকর সম্মোহন ক্ষমতা – সেটা বুঝতে বাকি থাকে না অবন্তী চৌধুরীর ।
তাকিয়ে তাকিয়ে অমোঘ নিয়তির দিকে তাকিয়ে থাকেন তিনি ।

নিজের মেয়েকে গুলি করাটা সম্ভব না তাঁর পক্ষে ।
“ঘ্যাচ” জাতীয় শব্দটা ভালো করে শুনতে পায় না সুজানা ।

খুলে গেছে দরজা ।
উদ্যত থম্পসন মেশিনগান নিয়ে ভেতরে পা রাখে তন্ময় ।

উড়ে গিয়ে ওর বুকে আছড়ে পড়ে সুজানা ।

__ পরিশিষ্ট __

‘তোমার বাবা মাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে ইউব্রীফ ।’ হাসিমুখে জানায় তন্ময় ।

হাইড আউটে আছে ওরা ।
জিনিসটা বাংলাদেশ ইন্টেলিজেনস ব্যাবহার করে । সুজানার জন্য ভিন্ন পরিচয় যোগাড় করে ‘ইম্পর্ট্যান্ট উইটনেস’ বানিয়ে তাকে বাংলাদেশ ইন্টেলিজেনসের হার্টের ভেতরই আশ্রয় দিয়েছে তন্ময় ।

‘ছেড়ে দিল কেন ?’ অবাক হয়ে জানতে চায় সুজানা ।
‘জেনারেল অবন্তী না থাকায় ওই দুইজন মামুলী হোস্টেজের মূল্য কোথায় ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না ওরা । আর একই সময় রক্তিমকে কাজে লাগিয়েছি – গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আটকে রেখেছে ইউব্রীফ – সেই অভিযোগ আনতে । আপাতদৃষ্টিতে ফালতু দুইজন হোস্টেজের জন্য এত ঝামেলা নিতে চায় নি ইউব্রীফের নতুন ডিরেক্টর । কাজেই – ছেড়ে দিয়েছে ওঁদের ।’

‘আমার ভুলটা ছিল একদম প্রথমে কাপড় দিয়ে হাতের রক্ত মুছে রিমিদের ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়াটা । ওখান থেকে তুলে নেয় রিমি ওটা । মায়ের সারাজীবনের লক্ষ্যের কথা জানা ছিল তার – পৃথিবীতে নেমে আসা এলিয়েনটাকে চৌদ্দ বছর ধরে হন্ট করে চলেছেন তিনি । কাজেই লাগালো সাথে সাথেই !’
‘হুম – দারুণ ফ্রেন্ডশীপ তোমাদের । তোমাকে আনার জন্য নিজেকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করতেও বাঁধে নি রিমি মেয়েটার ।’
‘ওই ক্যাচাল আপাতত বাদ দাও তো !’ বিরক্ত হয়ে বলে সুজানা, ‘আমার ঘুম পাচ্ছে । ঘুমাবো আমি ।’
‘হুম । ঘুম দরকার তোমার ।’ কাছে এসে ওর চুলগুলো এলোমেলো করে দেয় তন্ময় ।
কি ভীষণ মায়া ওর দুই চোখে !

উঠে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত পায়ে নিজের ঘরের দিকে হাঁটে সুজানা ।
দরজার কাছে এসে ফিরে তাকায় ।

‘আমার সাথে ঘুমাবে, প্লিজ ?’

ধীরে ধীরে একটা হাসি ফোটে তন্ময়ের মুখে ।
হাসিতে মিশে আছে একই সাথে ভালোবাসা, ছেলেমানুষী এবং সম্মতি ।

missed several doses of synthroid

You may also like...

  1. অংকুর বলছেনঃ

    বাহ। দারুণ রোমাঞ্চকর একটা গল্প। পড়ে খুব ভালো লাগল

    levitra 20mg nebenwirkungen
  2. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    ইঙ্ক্রেডিবল… এতোতা আশাকরি নি! এক কথায় অসাধারণ…
    তবে এন্ডিংটাই অনেক প্রশ্ন জমা রয়ে গেলো!

  3. কেপি

    কেপি বলছেনঃ

    সময় দিয়ে ফালতু একটা লেখা পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা বোধ করছি :)

    posologie prednisolone 20mg zentiva
  4. দারুন একটা অ্যাডভেঞ্চারের গল্প…. কেপি আরো কয়টা দেন!!! আমরা এখানে আপনার লেখা আরো পড়তে চাই।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

metformin synthesis wikipedia
glyburide metformin 2.5 500mg tabs