পেইজ থ্রি (২০০৫): আলো ঝলমল মিডিয়া জগতের অন্ধকারময় কাহিনী

433 wirkung viagra oder cialis

বার পঠিত

 ভারতের জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকরকে সবাই বিশেষ ধরণের পরিচালক হিসেবেই চেনে । গতানুগতিক মশলা মুভি না বানিয়ে উনি জোর দেন বাস্তব জীবন, শো বিজ জগত এবং অফ ট্র্যাকের কাহিনীর প্রতি । উনার পাঁচটা মুভি আমি দেখেছি – ফ্যাশন, কর্পোরেট, দিল তো বাচ্চা হ্যায় জী, হিরোইন এবং পেইজ থ্রি । সবগুলো মুভি নিয়েই হইচই হয়েছে । তবে আজ আমি লিখতে বসেছি মধুরের ছয় নাম্বার ছবি “পেইজ থ্রি” নিয়ে । যখন এটি মুক্তি পায়, তখন আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী । পত্রিকায় মুভিটি নিয়ে প্রচুর লেখালেখি পড়ে নামটা গেঁথে গিয়েছিলো মনে আর গতকাল সকল অপেক্ষার অবসান করে (অনেক দেরীতে হলেও) দেখে ফেললাম অসাধারণ এই চলচ্চিত্রটি ।

Genre – Drama
IMDb Rating – 7.4
Rotten Tomato – 89%

কাহিনী সংক্ষেপঃ

মুভিটি একটি দৈনিক পত্রিকার বিনোদন পাতার (তথা পেইজ থ্রির) সাংবাদিক মাধবী শর্মার কার্যক্রমকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে । বলিউড তারকা, বড়লোক ব্যবসায়ী, সমাজসেবী, বিখ্যাত লেখক, সমাজের উঁচু শ্রেণীর মানুষ – এক কথায়, অভিজাত শ্রেণী হিসেবে পরিচিতদের কাজকর্ম কভার করার জন্য মাধবীকে ঘুরতে হয় বিভিন্ন পার্টিতে, শুটিং স্পটে । কিন্তু ডেইলি এই কাজের মাঝে ও খুঁজে পায় না সাংবাদিকতার কোন অর্থ । ওর কাছে সাংবাদিকের কর্তব্য আরও বেশী কিছু । কোন তারকা কী দিয়ে ভাত খেলো, কখন খেলো কিংবা কয়বার খেলো – এইসব স্টুপিড বিষয় কাভার করতে গিয়ে মাধবী আবিষ্কার করে অনেক বাজে আর উটকো জিনিস । কিন্তু এইসব বিষয় পত্রিকায় আসা নিষেধ । মোট কথা, কারো খ্যাতি নষ্ট করে এমন কোন সত্য ছাপানো নিষেধ । কেবল পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য যে মাশালা নিউজ দরকার, তাই-ই লিখতে হবে । kamagra pastillas

এই মায়ার দুনিয়ায় সরল মানুষের কোন স্থান নেই । টিকতে হলে হতে হবে আবেগহীন, ছুঁৎমার্গহীন আর কুটিল । কেউ চ্যারিটি করলেও সেটাকে বাঁকা চোখে দেখে বলা হয় – স্পাউজ, ছেলেমেয়ে পাত্তা দেয় না বলে সময় কাটানোর জন্য করে । সেই চ্যারিটি ওয়ার্ক ছাপানোর জন্য পেইজ থ্রিতে কোন কলাম বরাদ্দ থাকে না । থাকলেও তাতে চ্যারিটি বিষয়ক তথ্য থাকে না । হেডলাইনে “চ্যারিটি” কথাটি থাকলেও কলাম ভরে যায় শো বিজের কাহিনীতে । নতুবা পাবলিক খাবে কেন ?

এখানে কেউ প্রেম করে সেলেব্রেটি জামাই বিয়ে করার জন্য, কেউ ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য । কেউ বা সত্যিই ভালোবাসে… কিন্তু উপরে উঠার সিঁড়ি বাইতে গিয়ে নীচতলায় ফেলে যায় সেটা । সব দেখে প্রশ্ন জাগে – এখানে কি মানবতা বলে কোন অনুভূতি থাকে না ? মরা বাড়ীতে গিয়েও মানুষ মৃত ব্যক্তির স্মৃতিচারণের ফাঁকে নিজের পণ্যের বিজ্ঞাপন করে নেয় । টিভি চ্যানেলের সামনে হাউমাউ করে কেঁদে পরমুহূর্তেই সন্ধ্যাবেলা কোন পার্টিতে কী পরে যাবে, সেটা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ।

সারাক্ষণই যেন পরনিন্দা-পরচর্চা করে, অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজের জীবনের সুখ হারিয়ে ফেলা । চব্বিশ ঘণ্টাই শুধু টাকার পেছনে, ডিলের পেছনে ছোটা । এইসব করতে গিয়ে অন্যদের প্রতি সামান্য সৌজন্যবোধটুকু দেখানোর সময়ও মানুষের থাকে না । আর বিবাহিত মানুষের প্রেমে পড়ে, অবৈধ সম্পর্কের পর প্রেগন্যান্ট হয়ে যাওয়া এবং তারপর অ্যাবরশনের কথা বললেই দুনিয়া উল্টে যাওয়া যেন এক দৈনন্দিন কাহিনী শো বিজ জগতে !

এখানে চাকরী বাঁচানোর জন্য বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে অপরাধের কাছে নতি স্বীকার করতে হয় । সমাজের উঁচু শ্রেণীর কাছে নিচু শ্রেণীর মানুষ কিংবা মিডিয়া কীভাবে বন্দী, কতোটা অসহায় সেটা দেখে মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করে । এই কারণেই অনেক অসৎ কাজ আড়ালে থেকে যায়, অনেক রাঘব বোয়াল দিনের পর দিন পার পেয়ে যায় । মানবিকতা আর নৈতিকতা কই যায়, কে জানে ! যতই শো বিজ নামক গোলক ধাঁধাঁ থেকে মানুষ বেরোতে চায়, ততই যেন ঘূর্ণিপাকে সেটার আরও ভিতরে গিয়েই পড়ে । 

মানুষ তার পুরনো ঘা ভুলে শত্রুর সাথেই কাঁধ মিলায় খ্যাতি আর একটু সুখ পাওয়ার আশায় । কিন্তু আদৌ কি সুখ আসে ? ঝা চকচকে এই দুনিয়ায় প্রতিদিন পার্টি, ড্রিংকস, হেরোইন-কোকেন, একরাতের বন্ধু শেষে মানুষ তো সেই একলাই পড়ে থাকে । সুখ খুঁজতে গিয়ে আশেপাশের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে দিলে কি আর সুখ পাওয়া যায় ?

মুভির শেষ ডায়ালগ যেন উপরের সবকিছুকে জাস্টিফাই করার জন্যেই বলা – “পলিটিক্স আর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে চিরস্থায়ী বন্ধু বলতে কিছু নেই, চিরস্থায়ী শত্রু বলতেও কিছু নেই” । metformin synthesis wikipedia

আমার অনুভূতিঃ

মিডিয়া জগত নিয়ে যত মুভিই দেখলাম, সবগুলোতেই কেবল মন্দ দিক চোখে পড়লো । অহংকার, অনৈতিকতা আর লোভের জগত যেন এটা । এর বাইরে কিছু যেন ভাবতেই পারে না কেউ । দাতব্য কাজ করলেও তার পেছনে থাকে লাইম লাইটে আসার আকাঙ্ক্ষা । ক্যামেরা ছাড়া চ্যারিটি শোতে যায় ক’জন ? হাতে গোনা দু’তিন জন । বাইরে দিয়ে ভদ্রভাব দেখালেও ভেতরে ভেতরে ক্ষমতার জোরে সবাই-ই মোটামুটি বিবেক বর্জিত ।
যাই হোক, কখনো সামনাসামনি এই জগত দেখা হয় নি বলে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের সুযোগ নেই । তবে মুভিতে যা দেখিয়েছে, সেটা আমার যুক্তিযুক্তই লেগেছে । এই জগতে শুধু না, সবখানেই সবাই এক নম্বর হতে চায় । তার জন্য প্রতিযোগিতাও চলে । কিন্তু এই জগতে দৌড়াদৌড়িটা একটু অন্যরকমই । কে জানে, এই সংস্কৃতি আদৌ পরিবর্তন করা সম্ভব কিনা ! ক্ষমতার জোর যাদের হাতে, তারা সেটার অপব্যবহার বন্ধ করবে কিনা !

অভিনয়ে সবাই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন । প্রধান চরিত্র মাধবী হলেও ডজনেরও বেশী পার্শ্বচরিত্রের একটিকেও আমার অনাবশ্যক মনে হয় নি । তবে অনেক ক্ষেত্রে এক দৃশ্য থেকে আরেক দৃশ্যে জাম্প করা হয়েছে । এটা খুব বিরক্তিকর লেগেছে । আশা ভোঁসলের গাওয়া দুটো গান অনেক আগে থেকেই প্রিয় । অন্য ট্র্যাকগুলোও মোটামুটি । দুই ঘণ্টা উনিশ মিনিটের মুভিটি আমার একটুও বোরিং লাগে নি বরং বুঁদ হয়ে ছিলাম কাহিনীতে । তবে কাহিনী এখানে একটি নয়, অনেক । মিডিয়া জগতের অনেক অলিগলি ঘুরেছেন পরিচালক সাহেব ।

সময় করে দেখে নিতে পারেন ২০০৫ সালে ভারতের জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত এই  মুভি :)

 

You may also like...

  1. কি সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন গো দিদি! সুন্দর !

  2. অংকুর বলছেনঃ

    অনেক সুন্দর রিভিউ। মুভিটা দেখতে হবে।

    walgreens pharmacy technician application online

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. buy kamagra oral jelly paypal uk

metformin gliclazide sitagliptin
accutane prices