একটি শোকাবহ দিনের ইতিহাস এবং একটি ঐতিহাসিক গল্প!!

760

বার পঠিত

>>ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর বাড়িতে এসেছেন RAW (ভারতের সিক্রেট সার্ভিস)- এর রিসার্চ ও অ্যানালাইসিসি উইংয়ের পরিচালক কাও। তিনি এসেছেন পানবিক্রেতার ছদ্মবেশে।
শেখ মুজিবুর রহমান বিরক্ত গলায় বললেন, “আমি আপনাকে চিনি। অনেকেই আপনাকে চেনে। আপনার ছদ্মবেশ ধরার প্রয়োজন পড়ল কেন? “কাও বললেন, “মাঝে মাঝে নিজেকে অন্যরকম ভাবতে ভালো লাগে বলেই ছদ্মবেশ। আপনাকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মেজর রশীদ, ফারুক, লে. কর্নেল ওসমানী এই নিয়ে আলোচনায় বসেন জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসায়। এই বিষয়ে আপনাকে তথ্য দিতে এসেছি।”
শেখ মুজিব বললেন, “আপনারা অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ। পানবিক্রেতার ছদ্মবেশে যে আমার কাছে তথ্য দিতে আসে তার কথায় আমার বিশ্বাস নেই।”
” আপনার সামনে মহাবিপদ। ”
” মহাবিপদ আমি পার করেছি। পাকিস্তানের কারাগারে যখন ছিলাম তখন বিপদ আমার ঘাড়ে বসে ছিল। এখন বিপদ ঘাড় থেকে নেমেছে। ”
” ঘাড় থেকে নামে নি স্যার। ”
শেখ মুজিব বললেন, “যাদের কথা আপনি বলছেন তারা আমার সন্তানসম। আমি এই আলোচনা আর চালাব না। আমার শরীরটা ভালো না। যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি ঘুমুতে যাব।”
” স্যার, আপনি ভুল করছেন।”
” ভুল আমি করছি না। আপনারা করছেন।
“আমার কথা আপনি আমলে নিচ্ছেন না – “ভালো কথা। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কথা কি আমলে নেবেন?”।
শেখ মুজিব উঠে দাঁড়ালেন। পানবিক্রেতার সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাওয়া তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হলো।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরবেলা নিজ বাড়ির মেঝেতে পড়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দুর্ভাগা জাতির এক দুর্ভাগা পিতা।
নাহ, সেদিনে তাঁর সন্তানসম মেজর রশীদ, ফারুক, লে. কর্নেল ওসমানীর ছোরা সেই সব তপ্ত সীসা তার বুকে বিঁধে একটুও ব্যথা দিতে পারেনি। কারণ বিশ্বাসঘাতকরা যে ইতিমধ্যেই তার হৃদয় ভেঙ্গে দিয়েছে। যেই ট্যাঙ্কগুলো ব্যবহার করে সেই দিনের বিদ্রোহ হয় সেগুলো বাংলাদেশ পেয়েছিল উপহার হিসেবে। নিয়তি বোধহয় একেই বলে। মেজর রশীদের ল্যান্সার বাহিনীর জন্যই তিনি নিজেই ট্যাঙ্কগুলো উপহার চেয়েছিলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আনওয়ার সাদাতের কাছ থেকে। যেই পাকিস্তানের কাছ থেকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য নিজের সারাটা জীবন ব্যয় করেছিলেন তিনি,কতিপয় চক্রান্তকারী আর গুটিকয়েক বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এর প্রত্যক্ষ মদদে তাকে হত্যা করে দেশকে আবার পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম ওই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেদিন তারা কেবল বঙ্গবন্ধুকেই নয়, তার সঙ্গে বাঙালির হাজার বছরের প্রত্যাশার অর্জন স্বাধীনতার মহত্তম আদর্শগুলোকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। মুছে ফেলার অপপ্রয়াস চালিয়েছিল বাঙালির বীরত্বগাথার ইতিহাস আর অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ।
মানবেতিহাসে এমন ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত বিরল। আব্রাহাম লিংকন, মহাত্মা গান্ধী, জন এফ কেনেডি, মার্টিন লুথার কিং, নক্রুমা, বেনবেল্লা, সুকর্ণ প্রমুখ দেশবরেণ্য ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের নির্মম শিকার হয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড সকল প্রকার নৃশংসতা ও ট্রাজেডিকে ছেড়ে গিয়েছে। এই বর্বরতম ও কাপুরুষোচিত হত্যাকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির গতিধারাকে পাল্টে দেয়া হয় রাতারাতি। জাতীয় জীবনে সৃষ্টি হয় গভীরতম ক্ষত ও বড় ধরনের বিভেদ, যার প্রতিক্রিয়া থেকে আমরা আজও মুক্ত হতে পারিনি।

>১৯৪৫ সাল।
২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষে বিশ্বের সর্বত্র যখন শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে ঠিক সেই বিরল মুহূর্তে জলপাইগুড়ি জেলা শহরের নয়াবস্তির এক আভিজাত্যে ভরা শান্তির নীড় মুজমদার পরিবারে প্রচণ্ড খুশির বার্তা বয়ে জনাব এস্কান্দার মজুমদারের ঔরস্যে ও বেগম তৈয়বা মুজমদারের গর্ভে একটি ফুটফুটে, নাদুস-নুদুস কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। দেখতে সে তার মা বাবার মতোই। দুধে-আলতা গায়ের রঙ। ভুমিষ্ঠ হয়েই অল্পণ চুপ থেকে পরণেই খুব উচ্চস্বরে আপ্রাণ জোরে কেঁদেছিল। ভূপ্রকৃতির মধ্যাকর্ষণ শক্তির বন্ধন টানে তা শোনে আশপাশের অনেকেই দৌড়ে দেখতে এলো।
নতুন শিশুর জন্য পেয়ালায় আগে থেকে রাখা ছিল মধু। বৃদ্ধ ধাত্রী শিশুর মুখে মধু তুলে দিতেই কান্না থেমে গেলো। এরপর শান্ত শিশু বড় বড় চোখ তুলে তাকাল এদিক-ওদিক। দেখল এক রহস্যময় পৃথিবী।বিপত্তি দেখা গেলো ডাক নাম নিয়ে। কি নামে ডাকা হবে তাকে?
শান্তি, টিপ্সি না পুতুল।
শান্তি নামটি পছন্দ করেছেন পারিবারিক চিকিৎসক ডা. অবনী গুহ নিয়োগি। টিপ্সি নামটি দিয়ে ছিলেন বাবা এস্কান্দার মজুমদার। আর পুতুল নামটি আগেই দিয়ে রেখেছে মেজো বোন বিউটি। অবশেষে বিউটিরই জয় হলো। তার পছন্দ করা পুতুল নাম রাখাই সিদ্ধান্ত হলো।

সেদিনের সেই ফূটফুটে শিশুটিই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী শহীদ জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার ডাক নাম সেদিন থেকেই ‘পুতুল’।আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি আপোষহীনভাবে জন্ম নিয়েছেন ৪ বার। অবশ্য এখানে তার কিছুই করার নাই। জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ এই তিনটা জিনিস সম্পূর্ণ ওপরওয়ালার হাতে। ১৯৯০ সালে এরশাদকে হটিয়ে আপোষহীন খেতাব অর্জন করেন ম্যাডাম এবং সেই খেতাবের লেজ ধরে একানব্বুইতে বাংলাদেশের সিংহাসনে আরোহন করেন। আর তখন থেকেই শুরু হয় বিবর্তনের নবতর পর্য্যায়, বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যাকে বলা যায় বিবর্তনের উল্লম্ফন পর্ব (ইনফ্লেমেটরি ষ্টেজ)। সরকারী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার জন্মমাস এক মাস পিছিয়ে আনা হয়, সেপ্টেম্বার থেকে আগষ্টে। এই পর্য্যায়ে তার জন্মতারিখ নির্ধারণ করা হয় ১৯শে আগষ্ট, ১৯৪৫। এর কিছুদিন পর আরেকটি ঘোষণার মাধ্যমে তার জন্মতারিখ আরও ৪দিন পিছিয়ে এনে ১৫ই আগষ্ট ধার্য্য করা হয়।

কাকতালীয় ব্যাপার এই দিনটি আবার বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন। কারণ এ রাতেই রচিত হয় বাঙালির ইতিহাসের কৃষ্ণতম অধ্যায়টি। জাতির সাথে বিচ্ছেদ ঘটে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানের। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁহার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।ট্র্যাজেডি হলো- যে শোকাবহ ঘটনাকে ব্যঙ্গ করতে জন্মতারিখের এই বিবর্তন, পরিমাপের দিক থেকে তা কারবালার ঘটনাকেও হার মানায়। কারবালাতে আর যাই হোক ছয় বছরের নিস্পাপ শিশু কিংবা নয় মাসের গর্ভবতী নারীকে বেয়োনেট চার্জ করে হত্যা করা হয়নি।

একাত্তরে ম্যাডাম পাকিস্তানি মেজর জামশেদের বাসায় গৃহবন্দী ছিলেন, জিয়ার ভাষায় “আন্ডার ইউর কাষ্টডি”। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জিয়া তাকে গ্রহণ করতে চাননি। শেখ মুজিবের উদার হস্তক্ষেপের ফলেই ম্যাডামের সংসার টিকে যায় তখন। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই যে ১৫ই আগষ্ট সত্যিই ম্যাডামের জন্মদিন, তবুও পিতৃতুল্য একজন লোকের পরিবারের এমন শোকাবহ ঘটনাটিকে সম্মান জানিয়ে তিনি কি নিজের জন্মদিন পালন থেকে বিরত থাকতে পারতেন না? অবশ্যই পারতেন এবং রাজনৈতিকভাবে সেটাই হতো শোভনীয় কাজ। কিন্তু বিএনপি নামক দলটির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক শোভনতার দৃষ্টান্ত রাখবে তা বোধহয় একেবারেই অসম্ভব একটি আশা; বরং উল্টো কাজটি করবে ধরেই নেয়া যায়। নইলে দেখুন না, যে মেজর জামশেদ নয় মাস তাকে বাসায় আটকে রাখলো- চুরানব্বুই সালে তিনি মারা গেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে শোকবানী পাঠালেন! আর যে লোকটির হস্তক্ষেপে তার সংসার টিকে গেলো- তার মৃত্যুদিনে তিনি হাসিমুখে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন!
৯৬ সাল পর্য্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বার্থডে’ পালনের কালচার শুরু করা হয়নি। ছিয়ানব্বুইতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেয়ে পনেরই আগষ্টকে রাষ্ট্রীয় শোকদিবস ঘোষণা করার পর থেকে নেত্রীর ‘জন্মদিন’ পালনের কালচার শুরু করে বিএনপি। সেই থেকে আজ পর্য্যন্ত তাঁর জন্মদিন আর বিবর্তিত হয়নি, বাকশালীরা কাঙালি ভোজন আর দোয়া-দরুদ পরে শোক পালন করে, জাতীয়তাবাদীরা হাসিমুখে কেক কেটে উল্লাস প্রকাশ করে। (সূত্রঃ দেয়াল-হুমায়ূন আহমেদ, বিভিন্ন ব্লগ ও ওয়েবসাইট )

half a viagra didnt work

You may also like...

  1. প্রশ্ন ১. কোন ওসমানীর কথা বললেন? (!)
    প্রশ্ন ২. এরশাদকে হঠিয়ে আপোষহীন! তিনি কি করে হঠালেন? শেখ হাসিনার সাথে তখন কেন মিলিত হয়েছিলেন?

    মন্তব্য (লেখার):
    ১৯৪৫ এর ৫ সেপ্টেম্বরের যে ইতিহাস বলেছেন এটা সিরিশ কাগজে ঘষা। সিদ্দিক সালিক (জিয়ার ঘনিষ্ঠজন) অন্যভাবে বলেছেন,……তিনি সংসারে হাসি আনেন নি, এনেছিলেন দুঃখ। তার চেহারা বাবার মত নয় এক ইংরেজের মত!………………..ইত্যাদি ইত্যাদি …

    • ১. প্রথম প্যারাটি হুমায়ুন আহমেদের ‘দেয়াল’ উপন্যাস থেকে নেয়া। এটা আমি নিজে বানাইনি বা ইতিহাস থেকেও নেইনি। আপনি যে ওসমানী ভাবছেন তিনি ১৯৭১ এই বাঙালী অফিসারদের মাঝে সর্বাধিনায়ক এবং সরবোচ্চ র‍্যানকের অধিকারি ছিলেন। ৭১ এই তার র‍্যাংক কর্নেল ছিল!!

      ২.এইখানে রাস্ট্রের প্রধানের দায়িত্ব থেকে হাত বদল অর্থে হটানোর কথা বলেছি। ৯১ এর গন-আন্দোলনের হটানোর অর্থে না!! আর আপসহীন খেতাব তাকে তো আর আমি দেইনি।

      আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      side effects of quitting prednisone cold turkey
  2. এই আফসোস কই রাখি? তবে একটা বিষয় রুপক অরথে ঠিক, পাকি-মনারা ১৫ আগস্টে শোক পালন করার কথা না সেই সুত্রে বিএনপি-জামাত এমন কিছু করবে এইটা অপ্রত্যাশিত হলেও অবিশ্বাস্য না!! আর ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্টই কিন্তু? মেট্রিক ফেইল বাট এইট পাশ পুতুলকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীত্ব দিয়েছে!! আর তাই ১৯৯১ থেকে এই পালন নির্বোধ বাঙালীর জন্য একটা চপেটাঘাত….
    তবুও কি আমাদের এক শ্রেনীর মানুষের বিবেক কথা বলবে? মনে হয় না কখনো জাগবে নির্বোধ এর বিবেক..
    এইসব নতুন প্রজন্মের কাছে বারবার তুলে ধরা উচিৎ

  3. সেদিনের সেই ফূটফুটে শিশুটিই
    বাংলাদেশের সাবেক
    প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিরোধী দলীয়
    নেত্রী শহীদ জিয়ার সুযোগ্য
    উত্তরসূরি দেশনেত্রী বেগম
    খালেদা জিয়া।

    বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রী???

  4. Md. Shahidul Islam বলছেনঃ

    ১। এখানে লে কর্নেল ওসমানীর নাম কেন আসলো বুঝতে পারছি না, এটি কি ভুল, না কি সত্যি। সত্যি হলে কিছু রেফারেন্স চাচ্ছি।

    ২। বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীন খেতাব অর্জন করেন ১৯৮৬ সালের নিরবাচনে অংশগ্রহন না করার জন্য।

  5. মিশরের প্রেসিডেন্ট সেদিন খুব আফসোস করেছিলেন … খুব …

    তিনি বলেছিলেন –

    “তোমরা আমার প্রিয়বন্ধু মুজিবকে হত্যা করলে! আমারই দেয়া ট্যাংক ব্যাবহার করে! আমি নিজেকেই অভিশাপ দিচ্ছি, কেন আমি তোমাদের ট্যাংক দিয়েছিলাম ?”

    -মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত

    metformin tablet
  6. অংকুর বলছেনঃ

    আচ্ছা আপনারা কি জানেন, মেজর রশীদ যেই ট্যাংকগুলা নিয়ে দেশের মানুষকে ভয় দেখাচ্ছিলেন সেই ট্যাংকগুলোতে কোন গুলি ছিল না? ;-)

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

viagra vs viagra plus