নিরাশা

357 can your doctor prescribe accutane

বার পঠিত nolvadex and clomid prices

.. চেয়ারম্যান বাড়িজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। হবে নাই বা কেনো?? ভদ্রলোকের সর্বকনিষ্ঠ কন্যার বিয়ে বলে কথা। গ্রামের মোড়ল বিবেচনায় অত্র এলাকায় যে সম্মানখানা তার আছে, তা এতদ অঞ্চলে দ্বিতীয় কারো আছে বলে জানা যায় না। পাঁচবারের চেয়ারম্যান বলে কথা। হেলাফেলার ব্যাপার নয় মোটেই।

আর তাই হয়তোবা আয়োজনের বিন্দুমাত্র খামতি রাখতে চান না চেয়ারম্যান সাহেব। সকলের উপর জারি করা নির্দেশ বাস্তবায়ন হতেই হবে এমন একটা ব্যাপার। সমস্ত জন-প্রাণী খেয়ে তবেই বাড়ি ফিরবে। এ তল্লাটের সমস্ত এতীম, ফকির, মিসকিন সকলকে পেটপুরে খাওয়ানোর পাকাপোক্ত বন্দোবস্ত হয়েছে।

সুন্দরী বালিকাদের অনবরত ছুটোছুটি, সাজসজ্জা, আশেপাশের বাড়ি থেকে আসা ছোট ছেলেপুলেদের কোলাহল আর নববধূর মা বাবার মুখের অভিব্যক্তি ও অল্পবিস্তর টেনশন বুঝিয়ে দিচ্ছে বিয়ে বাড়ির আসল চেহারাটা।

বিশাল জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা অট্টালিকার উত্তর প্রান্তে ছোট্ট দীঘি, আর দীঘির একদম পাড়ঘেঁষে দাড়িয়ে থাকা নাম না জানা চেনা অচেনা অসংখ্য বৃক্ষরাজি। অন্য প্রান্তে থাকা বাগানের পুষ্পরাজির মাতাল করা সুবাসে মাতিয়ে রাখা চারপাশের পরিবেশ, শান বাধানো পুকুর ঘাট সত্যিই এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দিয়েছে বিয়ে বাড়িটার। দীঘির টলটলে পরিষ্কার জলে পা নামিয়ে দিয়ে পাওয়া অদ্ভুত অনুভূতি শিহরণ জাগায় মনে।

দীঘির একপাশে বিশাল বড় কয়েক ডেকচি সদৃশ্য পাত্রে রান্নার আয়োজনে ব্যাস্ত বাবুর্চিদের দম ফেলার সময় নেই মোটেই। বলা চলে, এমূহুর্তে এমন মনোরম পরিবেশ উপভোগের সুযোগ হতে একরকম খানিক বঞ্চিতই তারা। তারপরও উৎসুক দুয়েকজন কে কৌতুহলি দৃষ্টিতে এপাশটায় নজর ঘোরাতে চোখে পড়ে। আর তখনই তাড়া দিতে দেখা যায় এসবের তদারকের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা নেতা মতন দুয়েকজন কে। মাঝেমধ্যে মৃদু ডাক হাক ও বেশ তর্জন গর্জন কানে পড়ে।

যথারীতি আরেক পাশের নির্ধারিত স্থানটায় চলবে জনসাধারণের ভোজন বিলাস। এবং কয়েক গজ দূরে আরেক জায়গায় চলছে সমাজের ভিক্ষুক শ্রেণীর মানুষগুলোর খানাপিনার আয়োজন।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

আজকাল সেই আগের মতো আর পায়ে তেমন বল পান না সত্তুর পেরুনো বয়ষ্কা রাশেদা বেগম। বয়ষ্ক বটবৃক্ষের ন্যায় বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়া শরীর আর আড়ষ্ট পা জোড়ার একমাত্র চলনসঙ্গি লাঠি। শুধুমাত্র পেটের চাহিদা পূরণের তাগিদে লাঠিতে ভর দিয়ে হলেও এবয়সেও এখান থেকে সেখানে একরকম বাধ্যতামূলক ছুটোছুটি করতে হয় তাকে।

সেই কবে স্বামী, পুত্র হারানো বৃদ্ধার অন্ধের যষ্ঠি বলতে তেমন বিশেষ কিছু নেই। সম্পদ বলতে যাকাত ও দান খয়রাতের পাওয়া কয়েক টুকরো শাড়ি কাপড়, একটা ধাতব ট্রাংক, আর যুগ পুরোনো আধভাঙা টিনের ঘর আর একখানা হাড়িকেন, অধিকাংশ সময়ই যা তেলবিহীন পড়ে থাকে। মরচে পড়া টিনের ছিদ্র গলে চুইয়ে চুইয়ে পড়া বর্ষায় জল ঢেকে রাখতে পারেনা বৃদ্ধার অবলীলায় ঝরে পড়া অসংখ্য চোখের জল। জীবনটাতেই যেখানে মরচে পড়ে গেছে সেখানে টিনের মরচে গুলো তুচ্ছই বটে।

বিয়ের বছর কয়েকের মাথায় স্বামী হারানো বিধবাটি তার সন্তান কে নিয়ে বেশ ভালোই কোনোমতে খেয়ে পড়ে বেচে ছিলো! কিন্তু কষ্ট যাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে, তা কি সহজে ছাড়তে চায়? আচমকাই এক দূর্ঘটনায় বৃদ্ধা মাকে একা করে কেন যেন অভিমানি ছেলেটা অকালেই চলে গেলো। প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকা জীবনের শেষ বেলায় এসে অতীতগুলির দিকে তাকালে মনে হয় ভাগ্যও বরাবরই রসিকতা করেছে বৃদ্ধার সঙ্গে। নয়তো শেষ জীবনে এ হাল হতে যাবে কেন? kamagra pastillas

মাঝে মাঝেই বৃদ্ধা একটা স্বপ্ন দেখেন, দীগন্তজোড়া এক সুবিশাল সবুজ ঘাসের প্রান্তরে বসে থাকা এক অষ্টাদশী বালিকা। যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। ধানের ক্ষেত, ঘাসের মাঠ, সুউচ্চ বৃক্ষরাজি ঘেরা সবুজ স্বর্গ। সবুজ ধানক্ষেতে এক মধ্য বয়সী যুবক মনে আনন্দ ভিজিয়ে কাজ করে যাচ্ছে । মাঝেমাঝে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে আবারো কাজে মনোযোগী হচ্ছে। মেয়েটিও কখনো হাসির মাধ্যমেই তার স্বামীর প্রতি ভালবাসার জানান দিচ্ছে। কখনোবা অনাগত গর্ভের সন্তানের উপরে আদুরে ভঙ্গিমায় হাত বুলোচ্ছে। কিংবা দু হাত আকাশ পানে তুলে চেষ্টা করছে পাখি হয়ে ওড়ার, যেনো আকাশটা চিরে প্রকৃতির সমস্ত রুপ দুহাতে ধরার এক অপূর্ব চেষ্টা চলছে। levitra 20mg nebenwirkungen

কিন্তু আচমকাই দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসে, ঘটে দুর্ভাগ্যের অনুপ্রবেশ। মেয়েটি লক্ষ্য করে তীব্র গতিতে ছুটে আসছে এক কালো কুচকুচে সাপ। এবং বিদ্যুৎ ঝলকানির ন্যায় ঘটে যায় ঘটনাটি! হঠাৎই সাপটি তার স্বামীকে কামড় বসিয়ে দিয়ে চলে যায়। তীব্র যন্ত্রনায় ছটফট করে ওঠে তার স্বামী। মেয়েটি চিৎকার করে দৌড়ে ছুটে যাচ্ছে সেদিকে… কিন্তু সে প্রচন্ড চেষ্টা করে দৌড়েও স্বামীর কাছে পৌছুতে পারছেনা। পথ ফুরোচ্ছে না। ফুরোচ্ছে শরীরের শক্তি! সে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে দৌড়াচ্ছে কিন্তু লাভ হচ্ছে না। মেয়েটি এখন শুধুই দৌড়ে যাচ্ছে ..দৌড়াচ্ছে ..এবং দৌড়াচ্ছে।

এরকম সময় ঘুম ভেঙে যায় বৃদ্ধার। ধরমর করে বিছানায় উঠে বসেন তিনি। সমস্ত শরীর ঘামে ভেজা। প্রচন্ড তৃষ্ণার্ত তিনি। গলা ভেজাতে হবে। অতঃপর কাপা হাতে মাটিতে পড়ে থাকা কলসের দিকে হাত বাড়ান তিনি। মাটির কলসের পানিও প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। কষ্টেসৃষ্টে গ্লাসে পানি ঢেলে পান করে এখন খানিকটা তৃষ্ণামুক্ত তিনি। তারপর কয়েক মিনিট যেনো সবকিছু নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ। অতঃপর এক বিশাল দীর্ঘ নিঃশ্বাস। তিনি জানেন দুঃস্বপ্নে দেখা ঐ যুবক, যুবতী টি তিনি ও তার স্বামী। আর কালো কুচকুচে সাপটা তাদের ভাগ্য। মন্দ ভাগ্য। অজান্তেই চোখের কোণা বেয়ে এক ফোটা অশ্রু পতন ঘটে।

খানিক বাদেই কানে পড়ে ফজরের আজান ..আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম…নামাজ টা বোধহয় দ্রুত পড়ে নেয়াই সমীচীন হবে। অজু করে নামাজের উদ্দেশ্যে দাড়িয়ে পড়েন বৃদ্ধা। আজকাল আর দাড়িয়ে নামাজের সৌভাগ্য হচ্ছে কোথায়? শরীরের যা অবস্থা! কবে পড়ে টরে গিয়ে জীর্ণশীর্ণ শরীরটায় আঘাত না পেলে হয়েছে। একবার তো পড়েই গিয়েছিল বেচারা, নেহাত ওবাড়ির কাশেমের ছেলেটা ছিলো বলে রক্ষা! তারপর থেকে এমন আধমরা শরীরের বিনে লাঠিতে দাড়ানো আর তেমন একটা হয়ে ওঠে নি। metformin synthesis wikipedia

বড্ড ভালো ছেলে রফিক। আর কেউ তেমন একটা খোঁজ খবর না করলেও এবেলা ওবেলা সময় করে বৃদ্ধার খোজ নিতে তার ঠিকই মনে থাকে। এ যুগে কে কার খোঁজটি রাখে, সবাই আছে যার যার তার তার নিয়ে। সেখানে এমন ছেলে হাজারে দুটো মেলা ভার। একদম বাপের মতোই দয়ালু হয়েছে ছোকরাটা।

স্বামী-ছেলের মৃত্যু পরবর্তী কালে সেই কবে থেকে এখানে থাকছে মনে পড়ে না বৃদ্ধার। রফিকদের বাড়িতে মাঝে মাঝেই যাতায়াতের সুবাদে কোনোভাবে ওবাড়ির কাছাকাছিই থাকার জায়গাটুকু কপালে জুটে যায়। রফিকের বাবা কাশেমের দয়ায়, রফিকদের বাসা থেকে গজ কয়েক দূরে তাদের জমিতে ঝুপড়ি মতো একটা থাকার ঘর পেয়ে যায় রাশেদা বেগম। পরে অবশ্য ওটায় টিনের চাল তুলে দেয়া হয়।

একসময় বয়স ছিলো, শরীরে জোর ছিলো কাজ করে পেটের কান্না দমানো যেতো, সাথে ছিলো গার্মেন্টস এ কাজ করা ছেলেটার দু চার পয়সার রোজগার! এখন ছেলেটা নেই, বয়স নেই। নেই শরীরের কর্মক্ষমতা। একেই বোধহয় বলে অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকায়ে যায়। অগত্যা ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়া গতি নেই।

একাকী বসে থাকলে নানান কথা, ব্যথা, বেদনা স্মৃতি মনে দরজা জানালাগুলোতে খুট খাট কড়া নেড়ে পালিয়ে যায়। যেমনটা এখন নাড়া দিচ্ছে। ভাবলেশহীন চোখ জোড়া থেকে এখন আর অশ্রুও তেমন একটা ঝরতে চায় না। চোখের জলও শুকিয়ে গেছে কিনা কে জানে? তাই অশ্রুগুলোও আজকাল ঐ ছলছল অক্ষিকোটরেই নিশ্চুপ হয়ে কাঁদে।

এতসব ভাবতে ভাবতে, বৃদ্ধার খেয়াল হয় বাইরের আঁধারের বুক চিড়ে আলোগুলো কেমন উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করেছে। সাথে ঠান্ডা বাতাস। জায়নামাজে বসে খানিক দোয়া দরুদ পড়তে পড়তেই ঘরে স্বর্গীয় ঠান্ডা বাতাস গুলো কেমন দুষ্টামির ছলে ঢুকে পড়ে! ধীরে ধীরে নীল সাদা আকাশের গোলাপী রং কেটে বেরুতে চাচ্ছে লালরঙ্গা সূর্য টা। খানিক বাদেই ওটার দিকে আর চোখ ফেলা যাবে না। ঝলসানো আলো ছড়াবে চারপাশে।

বৃদ্ধার হঠাৎই মনে পড়ে আজ চেয়ারম্যান বাড়িতে দাওয়াত! যেতেই হবে। সকালে সামান্য মুড়ি মুড়কি পেটে চড়িয়ে প্রতিদিনের মতো আজো বেরিয়ে পড়লো ভিক্ষে করতে। দুপুরের খাবার টা হয়তো আজ চেয়ারম্যান বাড়িতেই হবে। যাক, ওদিক দিয়েই না হয় চলে যাওয়া যাবে। renal scan mag3 with lasix

দুপুরের দিকে, আর সব দিনের ন্যায়, হাটতে হাটতে ক্লান্ত তিনি গরমে হাসফাঁস করতে করতে কাছেই একটা গাছের ছায়াতলে বসে পড়েন। নাহ্, গরম যা পড়েছে আজকে, তাতে করে এমন গনগনে আগুনসম রোদে পুুড়ে কাবাব না হয়ে গেলে হয়েছে। আজ বোধ হয় ভিক্ষে করাটা আর হচ্ছে না। শাড়ীর আঁচলে কপালের ঘামটুকু মুছে আবারো উঠে দাড়ান তিনি। can you tan after accutane

প্রায় ছিড়ে যাওয়া চপ্পল, আঁধছেড়া শাড়ি, আর লাঠির খট্ খট্ সশব্দে নির্বিকার হেঁটে চলা বয়ষ্কা ভিখারিনীর গন্তব্য এখন চেয়ারম্যান বাড়ি…
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

যোহরের নামাজের পর হতেই বাড়িজুড়ে অতিথি সমাগম শুরু হয়ে যায়। মহল্লার মুরুব্বী গোত্রীয় লোকগুলোর যত্ন-আত্তির কমতি হচ্ছে না তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। মসজিদের ঈমাম সাহেব ফর্মাল “আসসালামু আলাইকুম” দিয়ে ভেতরে ঢুকে মুরুব্বীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মশগুল। চেয়ারম্যান সাহেব কে দেখা গেলো, অতি পরিচিত দুএকজনকে হাসিমুখে বুকে আলিঙ্গন করতে। বাইরে দাড়ানো কয়েক টা চকচকে মতন গাড়ির অযাচিত হর্ণের দিকে তাকিয়ে বোঝা যায় ঢাকা থেকেও আত্মীয়রা এসে পড়েছেন ইতিমধ্যে। viagra in india medical stores

ওদিকে আস্তে আস্তে, লোকজনেদের ভোজন বিলাস শুরু হয়ে গেছে। কয়েকজন ভালোমতোই তদারকির দায়দায়িত্বটা সেরে নিচ্ছেন। ভারী চেহারার দু একজনকে বেশ বিরক্ত হতেও দেখা গেলো, “এই, এখানে এটা নাই কেনো? ওখানে ওটা কেনো?”..

এত লোকের ভীড়ে ধীরে ধীরে গোটা পাঁচেক ভিক্ষুকও চোখে পড়ে কিন্তু, রাগী চেহারার দাড়োয়ান টাইপের লোকটা বোধহয় এদের তেমন একটা সহ্য করতে পারছে না। অবশ্য তাকে দোষ দিয়েও বিশেষ লাভ নেই। কারণ ভিক্ষুকদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তা তো তাকে পালন করতেই হবে। তাদের একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বেশ সারিবদ্ধভাবে বসানো হচ্ছে। can levitra and viagra be taken together

রাশেদা বেগম বাড়ির মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে আসতেই হোমড়া চোমড়া লোকটি তাকে খানিকটা ধমকে দিয়ে বললো, “এই, এই, ঐযে, বাম দিকে ওপাশটায় যাও”..বৃদ্ধা পা চালিয়ে সেদিকটায় যেতেই নজরে পড়লো তারমতো আরো আরো অসংখ্য দুঃখী দুঃখী চেহারার মানুষ, যাদের পেশা তারই মতো ভিক্ষাবৃত্তি! হয়তো তাদের গল্পগুলোও রাশেদা বেগমের মতোই। wirkung viagra oder cialis

পাশেই থাকা একটা গাছতলায় ঠেস দিয়ে বসে পরলেন তিনি। অনেক পথ হেঁটে এসেছেন কিনা পা দুটোও কেমন টনটন করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে পেটেও ইঁদুর দৌড় শুরু হয়ে গেছে। একজন ঘোষণা দেয়ার ভঙ্গিমায় বললো, “এই তোমরা যার যার জায়গায় ঠিকঠাক বসে পড়ো, প্লেট চলে আসলেই, খাবার দেওয়া শুরু হবে”

বৃদ্ধা বসে বিয়ে বাড়ীর চারপাশটায় একবার চোখ ঘোরালেন। বেশ রঙচঙে কাপড়ে মোড়ানো এপাশ থেকে বাহিরে চারপাশের তেমন বিশেষ কিছু সহসাই চোখে পড়েনা। চারদিকে লোকজনের কোলাহল ছাপিয়ে মাঝেমধ্যে কানে পড়ে আধ বাংলা কিংবা হিন্দি গানের সুর। চেয়ারম্যান সাহেবের স্ত্রী আলেয়া করিম তাকে বেশ ভালোমতো চেনেন, যে কোন উৎসবে অনুষ্ঠানে এ বাড়িটায় তার ডাক পড়বে তা একরকম নিশ্চিত। গত ঈদে তো এ বাড়ির উঠোনে ডেকে নিজ হাতে খাওয়ালেন দুয়েকজন কে, বেশ খাতির যত্নও করলেন বৃদ্ধার। উঁচুতলার অল্প কিছু মানুষের মন যে সত্যি সত্যিই বেশ উঁচু হয়, চেয়ারম্যান সাহেব ও তার স্ত্রী তার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ বটে।

মিসেস আলেয়া করিম সাথে তিনজন সহযোগী কে নিয়ে একপাশ হতে খাবার পরিবেশনের কাজটা বেশ ভালো মতোই সামলে চলেছেন। সকলের প্লেটে খাবার দেয়া প্রায় হয়ে গেছে। সকলে প্রাণ ভরে খাচ্ছে, আর তা দেখে খুশি খুশি দৃষ্টিতে চারপাশে বেশ খেয়াল রাখছেন তিনি। যাক, সব কাজ তাহলে পরিকল্পনা মাফিক ই এগুচ্ছে। এমনটা ভাবতেই ওপাশে চোখ পড়তেই দেখলেন এক ছেলেকে কি বলে লাঠি হাতে এক বৃদ্ধা কেমন খাবার ফেলে রাগে হনহন করে হেঁটে চলে যাচ্ছে। আলেয়া করিম দ্রুত বেগে সেদিকটায় ছুটে যেতেই খেয়াল হলো, আরে ইনাকে তো তিনি চেনেন! স্বামী, ছেলে হারানো সহায় সম্বলহীন সেই বৃদ্ধা বিধবা। নিখোঁজ ছেলেটার খোঁজ পাবার আশায় চেয়ারম্যান সাহেবকে সাথে নিয়ে বছর ছয়েক আগে ঢাকাতে গিয়েও নিঁখোজ ছেলেটার কোনো হদিস করতে পারলোনা। তারপর ভাগ্যের করাল গ্রাসে প্রায় সবই হারিয়ে ভিক্ষে করে কোনরকম খেয়ে পড়ে এক জরাজীর্ণ বেচে থাকা। মাঝে মাঝেই এবাসায় আসেন, কিন্তু ওভাবে হঠাৎই না খেয়ে উঠে চলে যাচ্ছেনই বা কেন?

আলেয়া করিম পেছন থেকে হাঁক ছাড়লেন,”আরে, আপনি চলে যাচ্ছেন কেন??”

উত্তরে খাবার পরিবেশনে নিয়োজিত ছেলেটা বলল, “আমি একপাশ থেকে সবাইকেই খাবার দিচ্ছিলাম তারপর মাছ দিলাম, ওনাকেও দিলাম, আর তখনই উনি কেমন রাগী দৃষ্টিতে আমার দিকে কেমন চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে বললেন, ‘আমার পোলায় না আইলে মাছ খামু না, খামুনা আমি’ ..এই বলে কি যেন বিড়বিড় করতে করতে উঠে চলে গেলেন”

আলেয়া করিম দাঁতে জিভ কেটে বললো,”ইশশ্, বড্ড, ভুল হয়ে গেছে, আরে উনি তো মাছ খান না, আমি জানি, তাড়াতাড়ি উনাকে ভেতরে ডেকে নিয়ে এসো তো, যাও, ওনার ছেলে না ফিরলে উনি কখনোই মাছ খাবেন না ওনার এমন একটা ব্যাপার আছে, তাই খাবারে মাছ দেখলেই রেগে যান”

বৃদ্ধা রাশেদা বেগম আসতে চাচ্ছিলেন না। তাকে একরকম জোর করেই নিয়ে আসলো ছেলেটা। তখনো বৃদ্ধা কি সব বিড়বিড় করেই চলেছে…

উঠোন পার হয়ে বারান্দার ওপাশটায় ছোট্ট মতন একটা ঘর। ভেতরের সবকিছু কেমন অগোছালো। দেয়ালের কোণায় কানায় মাকড়সার ঝুল, একপাশে বস্তাভর্তি চাল দেখে মনে হয় এঘরটায় তেমন কেউ একটা থাকে না। পুরোনো আমলের টেবিলটা সরিয়ে সেখানে মাদুুর সদৃশ্য কিছু একটা বিছিয়ে বৃদ্ধাকে আস্তে করে সেখানটায় বসিয়ে দিলেন আলেয়া করিম। বৃদ্ধা তখনো কি যেন বিড়বিড় করেই চলেছেন। তারপর নিজহাতে তুলে দিলেন খাবারের আয়োজনে থাকা প্রায় সবকিছুই। শুধু মাছ দিলেন না। কারণ আলেয়া করিম বৃদ্ধার গল্প টা জানেন; কেন তিনি মাছ দেখলে কাঁপতে থাকেন? কেন অদ্ভুত বিড়বিড় করে পাগলের মতো হয়ে যান। কেন সহ্য করতে পারেন না?কেন?

আন্দাজ ছ’সাত বছর আগে তখন মায়ে ছেলেতে ঢাকাতেই একটা বস্তিমতো জায়গায় থাকতো রাশেদা বেগম, টুকটাক ঝিঁ এর কাজ কিংবা ছেলেটার মাসশেষে সামান্য ইনকামেই দুটো পেট বেশ চলে যেতো। স্বামীটা অকালে মরে গিয়ে শুধু সাদা শাড়িটাই দিয়ে গেছে যা। টান হেঁচড়ার জীবনে তাই দু দন্ড শান্তি খুঁজতে লাইলী খালার সাথে বছর পনের আগে ঢাকায় এসে শহুরে আলো হাওয়াটা গায়ে চড়ানোর সৌভাগ্য হয় বেচারার। শহরের বড় সাহেবদের জান্তব কুনজরগুলি এড়িয়ে নিজের শরীরটাকে কোনমতে বাচিয়ে বাসা বাড়িগুলোয় গায়ে গতরে খেটে কাজ করতে থাকেন। আর দশ পেরুনো ছেলেটাকে ভর্তি করে দিলেন পাশেরই প্রাইমারি স্কুলটায়। বিদ্যালয়গুলোতে নাকি আজকাল আবার ঐ বিদ্যে শেখানোর পাশাপাশি একটু আধটু খাবার কিংবা অর্থ কড়িও দেয়। কিন্তু গরীবের আর মক্কা দর্শন হয়েছে কবে??

অস্টম শ্রেণী পেরুতে না পেরুতেই ছেলেটা ঝরে যায় পড়ালেখা থেকে। ঢুকে পড়ে একটা মোটর মেকানিকের আস্তাবলে। যা পয়সা আসতো তাতে চলতো না ঠিকই কিন্তু চালিয়ে নিতে হতো। মাঝে মধ্যে মহাজনের মার খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে এসে মায়ের কোলে ঢলে পড়া ছেলেটার তো একরাতে প্রায় জ্বর ই এসে গেলো। কোনোমতে হাঁচড়ে পাচড়ে সুস্থতার আলো ফুটতেই ও কাজ টা বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিতে হলো। অতঃপর খালি হাতেপায়ে কর্মহীন অচঞ্চল বসে থাকা। কিন্তু কাজ না করলে পেট বাঁচবে কি করে? এদিকে মা টারও তো বেশ বয়স হয়েছে। অন্যের বাড়িতে হাত পা চালিয়ে আর কতকাল? আজকাল তো শরীরের শক্তিও বেশ কম কম মনে হয়। অগত্যা মতি মিয়াকে কে ধরে এক গার্মেন্টস এর কর্মযজ্ঞে ঢুকে পড়লো রাশেদা বেগমের ছেলে মানিক। প্রায় বছর তিনেক ভালোই কাজ করছিলো গার্মেন্টস এ।

গার্মেন্টসের মাস পেরোতেই হাজার তিনেক(পরে চার হাজারে উন্নীত) বেতনে কস্টেসৃষ্টে দুটো প্রাণীর নিম্নবিত্তের ঠেলাগাড়ি মার্কা জীবনটা কোনমতে টেনেটুনে চলে যেতে থাকে। অল্পে সন্তুষ্ট মানুষগুলোর কখনো কখনো ঐ অল্পটাই জোটে না। তারপরও ভালো থাকার অদ্ভূত অভিনয়ে জীবনটাকে সন্তুষ্টি প্রদানের অনবরত চেষ্টাটুকু করে যেতে হয়।

গরীবের অল্পে সন্তুষ্টির বিপরীতে সমাজের ধনী মালিকশ্রেণীর মানুষগুলোর মনোভাব যেনো যত পাই আরো চাই। তারপরও যেনো পেট ভরতেই চায়না! গরীবের রক্ত পেরিয়ে হলেও তাদের চাহিদা গুলোর বিশ বৈ ঊনিশ হলে চলেনা। ঘামের সত্যিকার মূল্য কবেই বা চুকিয়েছে তারা? নিম্নবিত্তের মাথাগুলো পিষ্ট করে একের পর এক রক্ত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে চলার নামই তো মহাজন। কখনোবা আগুনে পুড়ে দম বন্ধ হয়ে মরছে, নতুবা মাসের পর মাস বেতনহীন শ্রমিক না খেয়ে মরছে। আর এই মানুষগুলির উপর নির্ভরতার আশা ছড়িয়ে বেচেঁ থাকা আরো কিছু নিরীহ মানুষের উপহার হিসেবে জোটে, অস্রুসিক্ত নয়ন আর বুকভরা দীর্ঘশ্বাস কিংবা উপহাস। walgreens pharmacy technician application online

হৃদয়স্পর্শী আহাজারি কিংবা গলায় দলা পাকিয়ে থাকা কান্নার কোনোটাই এসিরুম টপকে ওপরতলার মানুষগুলির কান অবধি পৌঁছায় না। প্রতিবাদী কন্ঠস্বর গুলোর যা দু একটা কানে বিরক্ত করে, তাও চকচকে বান্ডিলগুলোর উত্তাপ সেগুকে কিনে ফেলার প্রচেষ্টায় থাকে নতুবা চায় ঢেকে ফেলতে, সম্ভব না হলে ঝরুক না নয়তো আরো কিছু রক্ত। কখনো তো স্বজনের পায়ের চটিজোড়ার তলা ছিড়ে গেলেও প্রানপ্রিয় ভাই, স্বামী কিংবা সন্তানটির দেহাবশেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায় না। হাতে কিছু কাগজের নোট গুজে দিয়েই মামলা খতম করতে তড়িঘড়ি করে কর্তাব্যক্তিরা। বৃদ্ধা রাশেদা বেগমের হাতেও তেমনি গুজে দেওয়া হয়েছিলো সান্ত্বনার কিছু কাগজের টুকরো। ছেলেটার যে কি হয়েছিলো ক’মাস ধরে ঠিকমতো কাজে যেতোনা, কি আন্দোলন টন চলছে। ৩ মাসের বেতন নেই। এদিকে ধার করে পেটের ক্ষুধা কি সহজে মেটে? মেটে না।

একদিন সকালে খেতে বসে…
ছেলেটা বললো, “মা, ওও মা, পত্তিদিন এই পান্তা আর আলুভর্তা খাইতে ভাল লাগে নারে মা, কতদিন মাছ খাইনা”

মা রাশেদা বেগম খানিকটা গলা চড়িয়ে বললো, “ঐইইই, চাইরডা ভাত জুটতাছে, এইটাই ম্যালা, এতো জমিদারি খাওন কই পামু, বাজারে জিনিস পাতির দাম জানোস? যেই ট্যাকা নিয়া যাই দামেই কুলায় না, আগুন! আগুন, সব কিসুর ই আগুন দাম। গরীব মাইনশে বাচবো ক্যামনে” doctorate of pharmacy online

ছেলেটা আর কথা না বাড়িয়ে নিশ্চুপ খেয়ে উঠে পড়লো। মায়ের মন, তাই যাবার সময় মাথায় হাতটা বুলিয়ে মৃদু হাসিমুখ করে বললো, “রাইতে আইজ মাছের তরকারি করমু নে, আইসা খাইস”

যাবার সময় ছেলেটা দরজার সাথে খানিকটা বাড়ি খেলো..পেছন থেকে মা বললো, “সাবধানে যাইস বাপ”..

কিন্তু সেই যে গেলো, তারপর ছ’ বছরেও আর ফিরে এলো না। এরপর না জানি কতজায়গায় কত লোকের কাছে ধর্না দিয়েছে বৃদ্ধা মা কিন্তু কেউ কোনো খোঁজটিও দিতে পারেনি। দু একজন তো নিষ্ঠুরতার চরম সীমাটুকু ছাড়িয়ে টাকা খাওয়ার ফাঁদও পেতেছিলো, নেহাত চেয়ারম্যান সাহেব ছিলো বলে সেদিকে আর পা বাড়ানো হয় নি। কেউ কেউ আবার মুখের উপরেই বলে দিয়েছে, “এতদিন! আপনার ছেলে টা বোধহয় আর বেঁচে নেই, সেবার আন্দোলনে মাত্র দু জন শ্রমিকই মরেছিলো তারা যার যার ক্ষতিপূরণ নিয়ে চলে গেছে। একটু এদিকে এগিয়ে আসুন, আপনাদের একটা ভেতরের কথা বলি, এরপর দুহাতে তালু ঘষতে ঘষতে লোকটা ফিসফিসিয়ে বলে, “আসলে হয়েছে কি সেবার প্রায় ৮জনের মত শ্রমিক মরেছিলো, দুজনের লাশ দেখিয়ে বাকীদের গুম করে দেয়া হয়। আর তাছাড়া ঐখানে কাজ করতো মানিক নামে তেমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর এসব আমি বলেছি কাউকে বলবেন না, আমিও অনেকের কাছে এমনটাই শুনেছি।” cialis new c 100

এসব শুনে একরকম চিৎকার ও আর্তনাদ করেই বাইরে বেরিয়ে আসেন বৃদ্ধা মা। কিন্তু ছেলের হদিস আর পাওয়া হয়না। তারপর বাকিটুকু শুধুই কষ্টের গল্প। নিজ গ্রামে ফিরে আসা, আর আশেপাশের শহর গ্রামে ভিক্ষে করে এক ক্ষতবিক্ষত আশা নিয়ে বেঁচে থাকা। মায়ের মন টা বিশ্বাসই করতে চায় না, তার মানিক তাকে ছেড়ে চলে গেছে। মা এখনো ভাবেন তার ছেলে মাছ খেতে চেয়েছে, ছেলে আসবে..।

এতসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎই বৃদ্ধার ডাকে সাম্বিত ফিরে পান আলেয়া করিম। তার খাওয়া শেষ। ওদিকে বর এসেছে, বর এসেছে মৃদু হইচই শোনা যাচ্ছে। আলেয়া করিম কে যেতে হবে। বৃদ্ধাকে হাতে কিছু টাকা দিয়ে আলেয়া করিম বললেন, “আমার মেয়ের বিয়ে, ওর জন্য দোয়া করবেন” acquistare viagra in internet

রাশেদা বেগম দু হাত তুলে কিসব বিড়বিড় করে পড়ে, চেয়ারম্যান সাহেবের স্ত্রীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। চেয়ারম্যান সাহেবের স্ত্রীও “আবার আসবেন” বলে তাকে বিদায় দিলেন।

ছ’ বছর যাবৎ ভিক্ষাবৃত্তি টাকেই নিজের সর্বশেষ বেচে থাকার অবলম্বন হিসেবে বেছে নেয়া বৃদ্ধার দুঃখী দুঃখী চোখেমুখে লেগে থাকা অজস্র অজানা ব্যথা বেদনার্ত জীবনের তীব্র আকুতিগুলো এখন নিশ্চুপ রয়েই নির্দিধায় অনেক কিছু বলে দিতে পারে। শুধু পারেনা তার প্রায় শেষ হয়ে আসা এক করুণ জীবনের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে।

বাস্তবতার এই নির্মম পৃথিবীতে রাশেদা বেগমেরা রয়ে যায় বরাবরই অবহেলিত। তারা বরাবরই ঠকেছে এবং ঠেকেছে ভাগ্যের কাছে, ন্যায়ের কাছে, বিবেকের কাছে। তাদের জন্য ন্যায় কিংবা বিবেক কোনোটাই কখনো মাথাচাড়া দেয়না। ন্যায়বিচারের আশায় কপাল চাপড়ে ফাটিয়ে ফেললেও আজ অবধি রাশেদা বেগমেরা বেচে রয় অন্যায়কে আলিঙ্গন করেই।

রাশেদা বেগম বেচে থাকেন এক বুক আশা কিংবা নিরাশা নিয়ে। এই আশায় তার প্রাণের মানিকটি ফিরবে তার কোলে। নিষ্ঠুর আশাগুলি বৃদ্ধার অশ্রুসজল নয়নে স্বপ্ন বুনেই চলে…কোনো এক ভোরে, খুব ভোরে আচমকা খুটখাট শব্দ হবে বৃদ্ধার দরজায়। দরজার বাহিরে থেকে আওয়াজ আসবে, “মা, ও মা, দরজা খোল্, দ্যাখ আমি তর জন্যে কত কি আনছি! ও মা, দরজা খোল্ না ক্ষিধা লাগছে তো”.. বৃদ্ধা দরজা খুলে চমকে উঠবেন। হাসিমুখে জড়িয়ে ধরবেন প্রাণের মানিক কে। তারপর মায়ে ছেলেতে মিলে তৃপ্তির হাসিতে সন্তানের মুখে তুলে দেবেন সুখের ভাত, সাথে থাকবে মাছ….!
(সমাপ্ত)

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

clomid over the counter

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

about cialis tablets

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

acne doxycycline dosage
side effects of drinking alcohol on accutane