একদিন ভালবেসেছিলাম…..

402

বার পঠিত

এক.

আমি প্রেমিক, বখাটে নই…

তোমার চোখে আমি ভালবাসা খুঁজেছি ।
কিন্তু কি দেখেছি জানো ?
করুণা-ধিক্কার-ঘৃণা সবই ছিল সেখানে ।
শুধু ভালবাসাটার লেশ ছিল না ।

সেদিন আমি খুব বিষণন ছিলাম ।
আমার বিষণ্নতা কাটাতেই বোধহয়
ঈশ্বর নিজে তোমাকে পাঠিয়েছিলেন ।
গলির মুখে দাঁড়িয়ে তুমি রিকসা দেখছিলে ।
নীল কামিজে সেদিন অদ্ভুত সৌন্দর্য ধরা দিয়েছিল ।

বিশ্বাস করো তুমি…..
প্রেমে আমার কোনদিনও বিশ্বাস ছিল না ।
কিন্তু তোমাকে দেখার পর সেদিন যে কি হল !?
এ ঠিক প্রেম নয়, অন্যরকম অনুভূতি ।
খোঁজ নিয়ে জানলাম এলাকায় নতুন এসেছ ।

তারপর থেকে গলির মোড়টায়
আমাকে প্রায়ই দেখা যেত ।
জ্বলন্ত বেনসন আর চায়ের কাপের ধোঁয়া
মিলে মিশে একাকার হয়ে যেত ।
এ রাস্তাটা দিয়ে তুমি রোজ কলেজ থেকে ফিরতে ।

কোনদিন আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যাই নি ।
শুধু তাকিয়েই থাকতাম ।
একদিন তুমি নিজেই এগিয়ে এলে ।
হয়ত দেখতে চেয়েছিলে- কে সে বীরপুরুষ
যে প্রতিদিন তোমার ফেরার পথ চেয়ে থাকে । can you tan after accutane

আমাকে বুঝতে কোন চেষ্টাই করনি তুমি ।
কখনো প্রেমিক ভাবো নি,
ভেবেছিলে বখাটেদেরই একজন ।
শব্দের সহস্র বুলেটে ছিন্ন করেছ আমায় ।
কোন কথা বলিনি আমি, দেইনি কোন জবাব ।
শুধু তাকিয়ে ছিলাম তোমার চোখে চোখ রেখে…
সে চোখে ভালবাসার লেশ ছিল না ।
ছিল করুণা, ছিল অবজ্ঞার পরিহাস আর ঘৃণা ।

আমি চাইলেই পারতাম- তোমার ভুল ভেঙ্গে দিতে ।
কিন্তু কিছুই করিনি আমি ।
আমি তো প্রেমিক, উকিল নই ।
কেন যাব নিজেকে প্রমাণ করতে ?
পাওয়ার আশা নিয়েতো তোমাকে ভালবাসিনি ।
ভালবাসার জন্যই শুধু ভালবেসেছি ।
তোমাকে ভালবাসতে পেরেই আমি সুখী ।
আমি তৃপ্ত ।
কারণ আমি প্রেমিক, বখাটে নই ।

দুই.

পত্রিকাটা বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল রূপা ।

এবারের বইমেলায় বেস্ট সেলারের তকমা গায়ে লাগিয়েছে কবি আহমদ নীলের “আমি প্রেমিক, বখাটে নয়” কাব্যগ্রন্থটি । বই মেলার ইতিহাসে এই প্রথম কোন কবিতার বই এই খেতাব অর্জন করল । রগরগে থ্রিলার আর রোমান্টিক উপন্যাসের এই যুগে যেখানে মানুষ কবিতা পড়াও ভুলতে বসেছে সেখানে কোন এক অখ্যাত কবির কোন কবিতার বই বেস্ট সেলার খেতাব অর্জন অবিশ্বাস্য নয়, রীতিমত অসম্ভবই বটে । আর সেই অসম্ভব কাজটিই ঘটে গেছে এইবারের বইমেলায় !

আজকের সাহিত্য সাময়িকীতে কবির সাক্ষাতকার বেরিয়েছে । সেই সাথে নাম ভূমিকার কবিতাটিও তুলে ধরা হয়েছে । সেটাই পড়ছিল রূপা । স্বামী অফিসে, বাচ্চা স্কুলে- মধ্যাহ্নের এই সময়টাতে নিজকে ভীষণ একা লাগে তার । তাই এই সময়টাতে বসে বসে সে পত্রিকা পড়ে ।

কবিতা পড়ে মন খারাপ হয়ে গেছে তার । বুক চিরে অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল ।
তবে দীর্ঘশ্বাসের কারণ এই লেখকের পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি ।

পত্রিকা ছেড়ে রুমে গিয়ে সিডি প্লেয়ারটা ছেড়ে দিল সে । তারপর রিভলিং চেয়ারে চোখ বন্ধ করে দুলতে থাকল । বোঝাই যাচ্ছে কোন এক অজানা কারণে তার মনটা ভীষণ খারাপ ।

রুমে তখন হালকা স্বরে বাজতে শুরু করেছে-

পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে আয়….
ও সে চোখের দেখা, প্রাণের দেখা-
সেকি ভোলা যায়…….?

তিন.

সময়টা ভীষণ খারাপ যাচ্ছে নীলের । গ্র্যাজুয়েশান শেষ হয়েছে আজ চার বছর, চাকরির দেখা নেই । বাবা রিটায়ারর্ড প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক, কলেজ পড়ুয়া ছোট বোন, অসুস্থ মা- নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের অভাব অনটনের সেই চিরায়ত কাহিনী । টিউশনি করে আর কতদিন চলা যায় ?

ভার্সিটিতে থাকতে টুকটাক লেখালেখি করত । অনেকেই বলেছিল যদি চালিয়ে যেতে পারে তবে অনেক নাম কামাতে পারবে । কিন্তু বাস্তবতার নির্মমতায় শব্দেরা আজ তার থেকে সহস্র মাইল দূরে । তার বন্ধুরা এখন সবাই চাকরি নিয়ে ব্যস্ত । কেউ কেউ তো বিয়েও করে ফেলেছে । কিন্তু সে এখনো বেকারই রয়ে গেছে ।
এখন তার প্রায়ই আফসোস হয় ফেলে আসা সেই দিনগুলির জন্য । অর্থহীন কোন আবেগী কবিতার একটি লাইন মেলানোর জন্য পড়ালেখা বাদ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা উদাসী ভঙ্গিতে বসে থাকা- কি দরকার ছিল সেসবের ? কবিতা বড়লোকের বিলাসীতা- এই সহজ সত্যটা বুঝতে কেন এত দেরি করে দিল সে ? যদি সে সময়টাকে কাজে লাগাত, মন দিয়ে লেখাপড়াটা করত তাহলে আজ হয়ত এই দিন দেখতে হত না ।

বাসায় যতক্ষণ থাকে, চুপচাপ থাকে । ভয়ে ভয়ে থাকে কখন যে আবার বাবা জিজ্ঞাসা করে বসেন- কি রে ? কিছু হল ?
বাইরে যে খুব ভাল সময় কাটে তা ও না । ওর ব্যাচের কেউ তো নেই । আর জুনিয়রদের চোখেও কেমন যেন একটা অবজ্ঞার ছায়া লেগেই থাকে । কিন্তু তারপরও বাবার অসহায় দৃষ্টি থেকে তার কাছে সেটাই ভাল মনে হয় । তাই দিনের বেশীর ভাগ সময় বাইরেই কাটে ।

এমনই এক দিনে সে মোড়ের দোকানটাতে বসে ছিল । সেদিনই প্রথম রূপাকে দেখে সে । এবং দেখতেই থাকে । এ যেন কোন মত্যের মানুষ নয় । হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস থেকে উঠে আসা কোন রূপকথার রাজকন্যা !

নীলের মুগ্ধ দৃষ্টি খেয়াল করেই হয়ত একজন পাশ থেকে জানিয়ে দিল- মেয়েটির নাম রূপা, এলাকায় নতুন এসেছে । পুরো এলাকা তার পিছনে লেগেছে ।
অবশ্য এ জানিয়ে দেয়ার মাঝে সাহায্যের কোন আভাস ছিল না । ছিল মৌনঃ সতর্কবার্তা- ছেলে, দূর থেকে তাকিয়েই তুষ্ট থাকো । তোমার মত চালচুলো হীনের পক্ষে এরচেয়ে কাছে যাওয়া সম্ভব না !
নীল সবই বুঝতে পারে । কিন্তু কিছু বলে না । শুধুই হাসে ।

সেদিনের পর থেকেই রূপা দেখত উষ্কোখুষ্কো চুলের এক ছেলে প্রায়ই মোড়ের এক দোকানে বসে তার দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকে । কিছুদিন যাওয়ার পর দেখল ছেলেটা আসলে প্রায় নয়, প্রতিদিনই আসে । বাসা থেকে বেরুতে, বাসায় ফিরতে । একই স্থান, একই ভঙ্গিমা !

রূপা ছেলেটির চোখে তাকিয়ে দেখেছে- অন্য পুরুষদের মত সেখানে কোন লালসা নেই, আছে স্নিগ্ধতা । এই বিষয়টাই তাকে ভাবায় বেশী । কোন নড়ছড় নেই, শুধু একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা ! কেমন যেন অস্বস্তি বোধ করতে থাকে সে ।

একদিন বান্ধবীদের সাথে কি একটা তুচ্ছ কারণে ঝগড়া বাঁধিয়ে এসেছিল । রিক্সা থেকে নামতেই দেখে প্রতিদিনের সেই একই জায়গায় নীল বসা, চোখে তার অদ্ভুত ভাবালুতা । হঠাত্ করেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় তার । সোজা তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে ঝাড়তে শুরু করে । নীল প্রথমে খানিকটা হতভম্ব হয়ে যায়, তারপর নিজেকে ঠিকই সামলে নেয় । কিন্তু কিছু বলে না । শুধুই হাসে ।
নীলের হাসি দেখে রূপার মেজাজ আরো খারাপ হয়ে যায় । বলেই বসে- বখাটেগিরি দেখানোর আর জায়গা পান না, না ? কাল থেকে যেন আপনাকে আর এখানে না দেখা যায় ।
বলেই রূপা গড়গড় করে সেখান থেকে চলে যায় ।

সেদিন রূপা আগে থেকেই যথেষ্ট রেগে ছিল । কারো উপর তার ঝাল মেটানোর দরকার ছিল । তারই শিকার হল বেচারা নীল ।
আচ্ছা, সে কি আসার সময় নীলের চোখে চোখ রেখেছিল ? রাখেনি বোধহয় ।
রাখলে দেখত, সেখানে আগের সেই ভাবালুতা আর নেই । অদ্ভুত এক বিষণ্নতা এসে ভর করেছে । can your doctor prescribe accutane

বিনাদোষে নীলকে এভাবে অপমান করে রূপা নিজেও খানিকটা অনুতপ্ত হয়েছিল । স্যরি বলার জন্য পরে তাকে অনেক খুঁজেছিলও । কিন্তু আত্মাভিমানী নীলকে আর কখনো সে স্থানটিতে দেখা যায় নি । রূপারও আর তাকে স্যরি বলা হয়ে উঠে নি ।

সেদিন রূপার ঝাড়ি শুনে আসার পর নীলের মন যথেষ্ট খারাপ ছিল । বাসায় এসে চুপ করে শুয়েছিল । ভেবেছিল আর বাসা থেকে বের ই হবে না । কিন্তু সন্ধ্যার দিকে কলেজ জীবনের বন্ধু পাভেলের জরুরি ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয় । পাভেল যা বলে তার সারমর্ম হচ্ছে- নীলের ছোট বোন নিঝুমকে সে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করে । কিন্তু নীলের সাথে বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে তার ভাল লাগা কখনো প্রকাশ করে নি । কিছুদিন পর সে আমেরিকায় চলে যাচ্ছে । যাওয়ার আগে নিঝুমকে বউ করে ঘরে তুলতে চায় ।
নীল আপত্তি করার কোন কারণ খুঁজে পায় নি । খুশী মনেই বন্ধুকে বুকে জড়িয়ে ধরে । half a viagra didnt work

দ্রুতই নিঝুম আর পাভেলের বিয়েটা হয়ে যায় । বোনের বিয়েতে নীল কোন কমতি রাখতে চায়নি । বাবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার বড় একটা অংশ এখানে খরচ হয়ে যায় ।

নিঝুমের বিয়ে সামলে উঠতে না উঠতেই আরেকটা ধাক্কা আসে তার উপর । বাবার হার্টে মেজর ব্লক ধরা পড়ে । অপারেশান করাতে হবে । হাতে ক্যাশ যা ছিল সবই শেষ হয়ে যায় অপারেশানের পিছনে । কিন্তু তেমন একটা লাভ হয়নি । মাষ্টার সাহেব সারাজীবন শুধু পরিশ্রমই করে গেছেন । কখনো শরীরের যত্ন নেন নি ।
তাই শেষ বয়সে অপারেশানের ধাক্কা শরীর আর সামলে উঠতে পারে নি ।

মা আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন । বাবার মৃত্যুর পর সেটা আরো বেড়ে যায় । মায়ের চিকিত্সার জন্য বাড়িটাও বিক্রয় করে দিতে হয় । কিন্তু ফলাফল এবারও শূন্য ।

সব হারানোর মাধ্যমে সর্বহারাদের দলে প্রবেশ করে নীল । জীবনই তাকে জীবন নিয়ে এক্সেপেরিমেন্ট করার সুযোগ করে দেয় । কোন সহায়-সম্বল নেই, কোন চাওয়া-পাওয়ার বেদনা, কোন অতৃপ্তি-হাহাকার নেই, নেই ঘরে ফেরার পিছুটান ।
ছন্নছাড়া জীবন পায় অফুরন্ত স্বাধীনতা । জীবন নিয়ে এক্সেপেরিমেন্টের জন্য এরচেয়ে বেটার চান্স আর কি হতে পারে ?
আবার কলম ধরে নীল ।

চার.

বাসার সামনে সবুজ ঘাসে ঢাকা ছোট্ট একটি লন । একপাশে বেতের চেয়ার টেবিলে বসার ব্যবস্থা আছে । লনে বসে আছি । সঙ্গে আছে এক বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক আর তার ক্যামেরাম্যান । তারা আমার একটি সাক্ষাতকার নিতে এসেছে ।
আমি সচারাচর কারো সাথে দেখা সাক্ষাত করি না । টিভিতে সাক্ষাতকার দেয়ার তো প্রশ্নই আসে না । শহর থেকে খানিকটা দূরে মাঝারি ধরনের একটা ডুপ্লেক্স বাড়িতে একা একা থাকি । রান্না-বান্না করার জন্য একজন পরিচায়িকা আর বাজার-টাজার করার জন্য একটা ছেলে আছে । এদের নিয়েই আমার পরিবার, এদের নিয়েই আমার বসবাস । বছর দুয়েক পরপর ভাগ্নে-ভাগ্নিরা কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে আসে । সেই সময়টা ছাড়া অন্য যে কোন সময় বাড়িটাকে মৃত্যুপুরী বললে খানিকটাও বাড়িয়ে বলা হবে না ।
কারণ, সবসময়ই এখানে শশ্মান ঘাটের নিস্তব্দতা বিরাজ করে । কোলাহল আমি একদমই সহ্য করতে পারি না । তাই সবকিছু ছেড়ে নির্জনে একাকী বসবাস ।

আমি আহমদ নীল, দেশের অন্যতম প্রধান কবি । জনপ্রিয়তায় আমার ধারে কাছেও কেউ নেই । প্রতি বইমেলাতেই আমার চার-পাঁচটা করে বই বের হয় আর পাঠক তা বুভুক্ষের মত পড়ে । আমার বই বাজারে আসার আগেই নাই হয়ে যায় । ঘন্টার পর ঘন্টা লাইন ধরে মানুষ আমার বই কেনে । এজন্য আমার পেছনেও প্রকাশকদের একটি লম্বা লাইন সবসময়ই থাকে ।

হাইস্কুলের শিক্ষাক্রমে আমার জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । বেশ কয়েকটি ক্লাসে আমার কবিতাও পড়ানো হয় । বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, রাষ্ট্রপতির বিশেষ সম্মাননা সহ অনেক পদক যুক্ত হয়েছে প্রাপ্তির খাতায় ।
কিছুদিন আগে BBC কর্তৃক আমাকে “দ্য লিভিং লিজেন্ড” ঘোষণা করা হয়েছে ।
সব দেখি আমি । কিছু বলি না । শুধু দেখি আর হাসি ।

কবিতা আমাকে সব দিয়েছে । অর্থ-বিত্ত, যশ-খ্যাতি, ভালবাসা সব । আজ আমার এতকিছু, অথচ একসময় আমার কিছুই ছিল না । হুট করেই আমি বিখ্যাত হয়ে যাই নি । আমাকে পাড়ি দিতে হয়েছে কন্টকময় দীর্ঘপথ ।

যখন কলম ধরেছিলাম তখন আমার কিছুই ছিল না, কেউই ছিল না । দিনের পর দিন লিখে গেছি । দিস্তার পর দিস্তা ভরিয়েছি । কিন্তু কেউ পড়ে দেখেনি ।
তবে নিরাশ হইনি, সাহস হারাই নি । কোন পিছুটান ছিল না, হারানোর মত কিছু ছিল না, নিজের জন্যে বাঁচা, নিজের জন্যে লেখা ।

আমি লিখে গেছি । অনবরত লিখে গেছি জীবনের কথা, ভালবাসার কথা, সব হারানোর কথা । আমি লিখেছি মধ্যবিত্তের জীবনগাঁথা, বেকার যুবকের হাহাকারের কথা, ব্যর্থ প্রেমিকের মনোযাতনা ।
আমি জীবনের ছোট ছোট সুখ দুঃখের কথা লিখেছি যা মানুষ আমার কাছে শুনতে চাইত ।
নিজের সত্য কাহিনী অবলম্বনে লেখা “আমি প্রেমিক, বখাটে নই” বাজারে আসার পর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয় নি । হয়ত লাখো যুবকের সাথে মিলে গিয়েছিল বলেই বইটি এতটা পাঠক প্রিয়তা পেয়েছিল । ধীরে ধীরে আমার লেখার কাটতি বাড়তে থাকে আর আমিও লিখতে থাকি ।
আমার লেখায় ফুটে উঠে মধ্যবিত্তের প্রেম এবং তাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা, বন্ধুত্ব এবং ভালবাসা, তারুণ্যের জয়গান, ধনী গরিবের বৈষম্য । শাসক শ্রেণীর দূর্নীতি আর শোষণের বিরুদ্ধে আমি কলম ধরি, কলম ধরি আমলা নিয়ন্ত্রিন জরাগ্রস্ত প্রশাসনের বিরুদ্ধে । ধীরে ধীরে আমি হয়ে উঠি জনমানুষের কবি ।

খ্যাতির মোহ যে আমার ছিল না, তা কিন্তু না । কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে বেশী খ্যাতি পেয়ে গেলে তা বিড়ম্বনার রূপ ধারণ করে । আমার ক্ষেত্রেও তা হয় । বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে ধীরে ধীরে নিজেকে গুঁটিয়ে নিই, লোকালয় থেকে দূরে, নির্জনে…. viagra vs viagra plus

আমি সাধারণত কাউকেই সাক্ষাতকার দিই না । কিন্তু মেয়েটাকে দিতেই হল । সপ্তাহখানেক আগে সে যখন টেলিফোনে সময় চাইল, ওর স্বরটা আমাকে থমকে দিয়েছিল । ২৭ বছর আগে শোনা সেই একই স্বর ! না, আমার শুনতে ভুল হয়নি । একই টিউন, একই উচ্চারণ । মেয়েটাকে না করতে পারিনি । তাই আজকে সে এসেছে । ওকে দেখার পর সন্দেহটা সত্যে পরিণত হয় । এই তো সেই মেয়ে, এক সময় যাকে দেখতে গলির মোড়টায় রোজ দাঁড়িয়ে থাকতাম !

একটু আগে পরিচায়িকা এসে কফি দিয়ে গেছে । ধোঁয়া উঠা গরম কপে চুমুক দিচ্ছি আর মাঝে মাঝে সামনে বসা মেয়েটির দিকে তাকাচ্ছি । কত বয়স হবে আর ? ২৩-২৪ ? এই বয়সেই সাংবাদিক হিসেবে যথেষ্ট নাম কামিয়েছে ।
কফি শেষ হতেই মেয়েটি বলে উঠল- তো স্যার, শুরু করা যাক ।
আমি মুচকি হেসে সম্মতি দিলাম ।

ইন্টারভ্যুর পর্বটা ছিল খুব সাদামাটা । লেখালেখি নিয়ে যেসব প্রশ্ন ছিল তার উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি । ব্যক্তিগত প্রশ্নগুলো আমার সেই চিরচারিত ভঙ্গিতে হেসে এড়িয়ে গেছি । মেয়েটা আরো খানিকটা টুইস্ট চেয়েছিল আমার কাছে । কিন্তু তাকে নিরাশই হতে হল ।

কাজ শেষে মেয়েটা চলে যাওয়ার আগ মূহুর্তে তাকে জিজ্ঞাসা করি- তোমার মা কেমন আছে ?
সে খানিকটা অবাক হলে বলে- আপনি আমার মা কে চেনেন ?
এ প্রশ্নের কোন জবাব আমি দেই নি । শুধুই হেসেছি ।
তারপর উঠে চলে এসেছি ।

শেষ.

গভীর রাত । আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ । বাতাস প্রবাহের শিনশিন শব্দ ছাড়া চারদিকে আর কোন শব্দ নেই । আমি ছাদে একা ।

আজ সাক্ষাতকার পর্বে একটা প্রশ্ন ছিল- আমি বিয়ে করি নি কেন ?
জবাবে বলেছিলাম- কাউকে পছন্দ হয়নি, তাই ।
কিন্তু আসলেই কি তাই ?
লোকের কাছে হয়ত মিথ্যা বলা যায় । কিন্তু নিজের কাছে…..??

কেন বিয়ে করিনি আমি ?
কারণ, একজনকে চেয়েছিলাম, তাকে পাইনি । তাই….

বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল ।
একদিন ভালবেসেছিলাম আমি….
একদিন ভালবেসেছিলাম……

[সমাপ্ত]

Date: June, 2013.

You may also like...

  1. ভালো লাগলো অনেক :) চালিয়ে যান… :-bd

  2. আমি চাইলেই পারতাম- তোমার ভুল ভেঙ্গে দিতে ।
    কিন্তু কিছুই করিনি আমি ।
    আমি তো প্রেমিক, উকিল নই ।
    কেন যাব নিজেকে প্রমাণ করতে ?

    — দারুণ…

    গল্পও ভাল লাগলো!! দারুণ চালিয়ে যান…

    walgreens pharmacy technician application online
  3. একের ভেতর দুই… চমৎকার কবিতার সাথে গল্পটা অসাধারন লাগলো… >:D< %%- চালিয়ে যান, ব্রাদার

  4. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    প্রতিবারের মতই “দারুণ” হয়েছে বস!!

  5. স্ট্রেটকাট বলি, কবিতাটা ভাল্লাগে নাই। গদ্যকে লাইন বাই লাইন সাজালেই সেটা কবিতা হয় না।

    গল্পের কাহিনী বেশ ভাল ছিল। আর আপনার লেখার হাত তো বরাবরই ভাল। কিন্তু, বেঁচে থাকতেই একই সাথে বেশ কয়েকটা বইয়ে কবিতাটা পাঠ্য করা একটু বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে। আর শিক্ষাক্রমে জীবনে অন্তর্ভূক্ত করা, তাও জীবিত একজনের – সেটা রীতিমত অসম্ভবের পর্যায়ে। আর বিবিসি কর্তৃক লিভিং লিজেন্ড ঘোষণাও বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে। কারণ, তারা ইউজ্যুয়ালি কখনই এশিয়ার দিকে নজর দেয় না। বাংলাদেশ হলে তো কথাই নেই। গীতাঞ্জলীর ইংরেজি অনুবাদ বেরোবার পরই কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছিলেন। এখানে গল্প পড়ে মোটেই মনে হয়নি, লেখক সেদিকে পা বাড়িয়েছেন।

    metformin synthesis wikipedia
    missed several doses of synthroid

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

private dermatologist london accutane

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

will i gain or lose weight on zoloft
side effects of drinking alcohol on accutane