অন্তরালের গল্প

271

বার পঠিত

আমি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের কেবিনের গেটে দাড়িয়ে আছি। দারোয়ান আমাকে আটকে দিয়েছে কারণ ভেতরে ডাক্তার স্যারেরা ভিজিটে এসেছেন। এখন নতুন করে বাইরের কারও ঢোকার অনুমতি নেই। আমি তাই হাতে দুটো ডাব নিয়ে দাড়িয়ে থাকলাম। এই ডাব কিনতে বাইরে গিয়েছিলাম বলেই যত বিপত্তি। তারপরও উপায় নেই। রুদ্ধ দাদা অস্বুস্থ, ওনার হঠাৎ করেই কচি ডাব খাবার ইচ্ছা হয়েছে। আমি কচি ডাব ভাল চিনিনা, তবে রুদ্ধ দাদা কে তা বলিনি।  কচি ডাবচিনিনা বলার পর যদি ডাব আনতে নিষেধ করেন এই কারণেই বলিনি। রুগী মানুষ, আমি কচি ডাব চিনিনা দেখে ডাব খেতে পারবে না, এটা কেমন কথা?

ডাক্তার বেরিয়ে যাবার পর আমি কেবিনের ভেতরে ঢুকলাম। রুদ্ধ দাদা আগের থেকে বেশ নিশ্চিন্ত মনে শুয়ে আছেন। আমাকে দেখেই বললেন, “আরিফ আমার তো ডেঙ্গু হয়েছে, ডাক্তার সাহেব বলে গেলেন”।

আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। এটা কি কোন ভাল কথা যে এত খুশিমনে বলতে হবে? আমি বললাম, “দাদা, আপনি কি এতে খুশি হয়েছেন”?

রুদ্ধ দাদা বললেন, “আরে আমি তো খুশি হয়েছি অন্য কারণে”। amiloride hydrochlorothiazide effets secondaires

-কি কারণ?

= কারণ আমি তো জানতাম আমি ভারতীয়দের দালালি করার রোগে আক্রান্ত। আমার যে অন্য কোন রোগ হতে পারে, এটা আমার কখনো মনেই হয়নি। -একথা বলেই রুদ্ধ দাদা হাসতে লাগলেন।

রুদ্ধ দাদা আওয়ামী লীগের খুব ভক্ত। বাংলাদেশের কিছু মানুষের, না না, ভুল বললাম, অধিকাংশ মানুষের ধারণা আওয়ামী লীগ মানেই ভারত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাবে এই চিন্তায় তারা অস্থির থাকেন। রুদ্ধ দাদা তাদের নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করে একটা পোস্ট দিয়েছিলেন ফেসবুকে। সেখানেই তিনি ভারতের দালাল উপাধি পেয়েছিলেন।

-দাদা, আপনি চুপ করুন তো, বিশ্রাম নিন। আপনার খালি উল্টো-পাল্টা কথা। আপনার জন্য ডাব এনেছি। ডাব খান।

এতক্ষণে রুদ্ধ দাদা আমার হাতের দিকে তাকালেন। বললেন, “বেশ ভাল ডাব কিনতে পার তো তুমি। ডাবগুলো কচি হবে”।

-“কি করে বুঝলেন কচি হবে?”

আমি মোটেও প্রকাশ করলাম না যে আমি না বুঝেই ভাল ডাব কিনে ফেলেছি।

= শোন, ডাবের উপরের অংশ ছুলে ফেলার পর তার ওপর হাত বোলাবে। যদি দেখ মসৃণ তাহলে বুঝবে ডাব কচি, আর যদি দেখ খসখসে, তাহলে সেটা কচি না।

-আপনি তো প্রশংসাই করলেন, তিন্নি তো খালি আমার সাথে ঝগড়া করে। আমি নাকি মোটেই ভাল বাজার করতে পারিনা। আমার সাথে বিয়ে হবার পর সে নাকি মিষ্টি কুমড়ার স্বাদই ভুলে গেছে।

= আরে এটা কোন ব্যাপার নাকি? শোন, বাজারে দেখবে মিষ্টি কুমড়া কেটে পিস পিস করে রাখে। পিসগুলোর একদম নিচে গায়ের সাথে দেখবে সবুজ রঙ ধরেছে কিনা। ঐ সবুজ যত বেশী সবুজ হবে, বুঝবে ঐ কুমড়া তত বেশী মিষ্টি হবে।

-এই সামান্য সবুজের কারণে এত ঝগড়া??

রুদ্ধ দাদা হাসলেন। “শোন আরিফ, নতুন দম্পতিদের ঝগড়া কিন্তু বেশ ভাল ব্যাপার। এর মধ্য দিয়েই তো তোমরা একজন আরেকজনের পছন্দ-অপছন্দ জানবে। কাছাকাছি আসবে”। about cialis tablets

আমি বেশ উৎসাহী হয়েই জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনারও কি বৌদির সাথে এরকম ঝগড়া হত?”

রুদ্ধ দাদা বললেন, “আরে না, ঝগড়া করার সুযোগ আমরা পাইনি আরিফ। আমার তো বিয়েই হয়েছিল একদম ভিন্ন পরিস্থিতিতে। তোমার বৌদির বিয়ে হবার কথা ছিল আরেকজনের সাথে। আমি ছিলাম সে বিয়েতে অতিথি”।

-বলেন কি? এটা তো জানতাম না!

= হ্যাঁ, পরে একটা খারাপ ব্যাপার ঘটল। বরপক্ষের লোক আসার পথে বরের গাড়ি করল অ্যাকসিডেন্ট। বর পা ভেঙ্গে হাসপাতালে। এদিকে আমাদের হিন্দুদের তো আবার বিয়ের লগ্নের একটা ব্যাপার থাকে। ঐ সময়ের মধ্যে যদি মেয়ের বিয়ে না হয়, তাহলে সেই মেয়ের আর বিয়ে হয়না, সে নাকি অপয়া হয়ে যায়! বল দেখি কি অদ্ভুত নিয়ম?

-তারপর?

= তারপর আর কি? এখন তো বর খুঁজতে হবে, কিন্তু অবিবাহিত কেউ নেই। তোমার ভাবীর বাবা ছিলেন আমার বাবার বন্ধু। শেষে উনি আমার বাবাকে আমার সাথে বিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। বাবাও বন্ধুর বিপদে সাড়া না দিয়ে পারলেন না। তাই আমার কোন ইচ্ছা না থাকলেও বিয়েটা করতে হল।

-আপনার ইচ্ছা ছিল না কেন?

= আমার কখনই বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল না। আসলে বিয়ে নিয়ে আমার কেমন যেন একটা নেতিবাচক চিন্তা ছিল। বিয়ে করতে হবে ভেবে ভয়ে আমি কখনো কোন মেয়ের সাথে প্রেমই করিনি। আরেকটা মজার ব্যাপার, তোমার ভাবী ছিল বয়সে আমার দুই বছরের বড়। বয়সে বড় মেয়েকে বিয়ে করতে কারও ভাল লাগে? আরে আমি তো বিয়ের দিন উপহার দেবার সময়ও ওনাকে দিদি বলে ডেকেছি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সে আমার স্ত্রী হয়ে গেল।

রুদ্ধ দাদা হেসে ফেললেন। ব্যাপারটা এখন হয়ত তার কাছে হাস্যকর ব্যাপার। আমার কলেজে এক স্যার ছিলেন। খুব ভাল বাংলা পড়াতেন। স্যার তার থেকে বয়সে ৭ বছরের বড় মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন।

আমি রুদ্ধ দাদাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “এখন সেই দিনগুলোর কথা আপনার খুব মনে পড়ে, তাই না?” wirkung viagra oder cialis

= দেখ আরিফ, আমাদের জীবনটা কতই না অদ্ভুত। যেই আমি কখনো বিয়ে করব না বলে একদম দৃঢ়সংকল্প নিয়ে নিয়েছি, সে সময় আজব পরিস্থিতিতে আমার বিয়েটা হয়ে গেল। তারপরও তোমার ভাবীর সাথে আমার সংসার কিন্তু দারুণ চলছিল। সে খুব গোছানো মেয়ে, একইসাথে তার সাংসারিক বুদ্ধিও ছিল চমৎকার। আমিও চেষ্টা করতাম যেন সে কখনো এটা মনে না করে যে আমি তাকে দয়া করে বিয়ে করেছি। কিন্তু দেখ যখন আমি সংসারের বেড়াজাল উপভোগ করা শুরু করলাম, আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসার যখন আর কিছু মুহূর্ত বাকি ছিল, ঠিক তখনই দুর্ঘটনা ঘটল। আমি আবার একা হয়ে গেলাম। তাহলে তুমি বল আরিফ, কোন দরকার ছিল আমার ভাগ্যে বিয়ে বিষয়টা থাকার? এটা জীবনের কেমন খেলা? এই যা, তোমার ভাবী যদি স্বর্গে বসে এই কথা শোনে, আমি যাবার পর আমাকে খুব বকে দেবে।

শেষ কথাটা বলে দাদা আবার হেসে দিলেন। তাকে আমি অনেকদিন পর এত ঘনঘন হাসতে দেখছি। তবে এই হাসিটা দরকার ছিল, একটা থমথমে পরিবেশ থেকে বের হয়ে আসার জন্য রুদ্ধ দাদার এই নীরব হাসিটা বড় দরকার ছিল। আমি দাদাকে আবার বললাম, “দাদা আপনি না ধর্মে বিশ্বাস করেন না, তাহলে স্বর্গের কথা বললেন কেন?”

-আসলে আমি ধর্ম বিশ্বাস করি না তা না, করি। ধর্ম বিশ্বাস করি না মানে হল এর অস্তিত্ব অস্বীকার করা। কিন্তু আমি তো ধর্মের অস্তিত্ব স্বীকার করি। তবে হ্যাঁ, কেন জানি এর কিছু নিয়ম আমার বড়ই হাস্যকর মনে হয়। আমার মনে আছে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, আমার এক বন্ধুর সাথে আমার খুব তর্কাতর্কি হয়েছিল। একপর্যায়ে সে আমাকে বলে বসল, ‘এই মালাউনের বাচ্চা, একদম জবাই করে ফেলব’। আমার কিন্তু সেদিন খুব মন খারাপ হয়েছিল আরিফ। তুমি বল, যদি আমি ধর্মে বিশ্বাস নাই করতাম, তাহলে কি আমার মন খারাপ হত? আরে আমি যেটার অস্তিত্ব স্বীকার করি না সেটা নিয়ে আবার মন খারাপ কিসের? কিন্তু ধর্ম আমাদের যে সব মানুষকে সমান ভাবতে শেখায়, আমরা কি আসলেও তা করি? কাগজ-কলমের নিয়মের সাথে ধর্মের পার্থক্য আসলে খুব বেশী নেই আরিফ। এই কথাগুলোই আমি বলি, মানুষ আমায় ভুল বোঝে।

= দাদা আমি এখন বাসায় যাই। তিন্নির বোধহয় রান্না হয়ে গিয়েছে। আমি আপনার দুপুরের খাবার নিয়ে আসি।

-আচ্ছা। আর আরিফ, আমার টেবিলের ওপর দেখবে একটা বই আছে মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন সাহেবের। পারলে সেটা একটু নিয়ে এস। buy kamagra oral jelly paypal uk

= আচ্ছা।

আমি দুপুরের খাবার নিয়ে যখন হাসপাতালে পৌঁছই তার ঠিক পাঁচ মিনিট আগে রুদ্ধ দাদা মারা গেলেন। ওনার সারাজীবন মজা করার অভ্যাস ছিল। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে উনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন, এটা চিকিৎসকদের সাথে ওনার একটা মজা করার নমুনা হিসেবে দেখা যেতে পারে। রুদ্ধ দাদার কথা আসলে ঠিক। মানুষের জীবন কত অদ্ভুত, আমি মইনুল সাহেবের লেখা বইটা আনতে ভুলে গিয়েছিলাম। হাসপাতালে পৌঁছানর পর যখন এই কথাটা মনে পড়ল তখন দাদাকে কি জবাব দেব সেটা ভেবেই পাচ্ছিলাম না। রুদ্ধ দাদার মৃত্যু আমাকে সেই জবাব দেয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিল। এটা কে কি অদ্ভুত বলা যাবে না? যায় তো। একদিক দিয়ে অদ্ভুত তো বটেই।

আমি এখনও রুদ্ধ দাদার অস্তিত্ব অনুভব করি। রুদ্ধ দাদা আমাকে বলেছিলেন, “আরিফ যত যাই কর কখনো দুর্নীতি করবা না, আমাদের দেশে প্রায় সবাই এই কাজটা বেশ ভাল ভাবে করতে পারে। মুখে দেশকে ভালবাসি বললেই ভালবাসা যায় না। তুমি তাদের খাতায় নাম লিখাবা না”।

আমি বলেছিলাম, “দাদা সবাই যখন করে তখন আমি একা সৎ থেকে কি হবে?” doctorate of pharmacy online

রুদ্ধ দাদা শুধু বলেছিলেন, “ইংরেজিতে একটা কথা আছে আরিফ, An honest man doesn’t make himself a dog for the sake of a bone.” side effects of quitting prednisone cold turkey

রুদ্ধ দাদার অনেক ব্যাপার ছিল। উনি খামখেয়ালি চরিত্রের ছিলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে উনি অনেক সমালোচিত এটাও ঠিক। আসলে ওনার পরিচয়টাই ছিল ওনার জন্য সমস্যার। ওনার বাইরেটা যত নির্বিকার, ভেতরে ভেতরে উনি যে ঠিক ততটাই কিযেন একটা না পাওয়ার দুঃখের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া একজন হতাশাগ্রস্ত, বিধ্বস্ত মানুষ তা আর কেউ না বুঝলেও আমি বুঝতাম।

রুদ্ধ দাদাকে কিন্তু আমি আমার জীবন থেকে চলে যেতে দেইনি। আমার স্ত্রী যখন আমাদের ছেলেকে রুদ্ধ বলে ডাকে মাঝে মাঝে আমিও চমকে উঠি। আসলেই জীবনটা কত অদ্ভুত!!!!!

 

acquistare viagra in internet

You may also like...

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

all possible side effects of prednisone

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

cialis new c 100

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. zithromax azithromycin 250 mg

will metformin help me lose weight fast