ভালো থাকবেন, অনেক বেশি ভালো থাকবেন ; পর্ব – ১

416

বার পঠিত

- হ্যালো, আপনি অনেক ভালো লিখেন।

- তাই নাকি? জানতাম না তো । তবে প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ।

- দেখুন, আমি কাউকে সহজে প্রশংসা করিনা। আপনার লিখা আমার কাছে ভালো লাগে তাই বললাম।

- আবারো ধন্যবাদ আপনাকে।

- আচ্ছা, আপনি থাকেন কোথায়?

- দুঃখিত, এই মূহুর্তে ব্যক্তিগত কোন তথ্যাদি দিতে পারছিনা । pastillas cytotec en valencia venezuela

- কেন? আপনি কি ভয় পাচ্ছেন আমাকে? ভয় নেই, আমি মেয়ে হয়ে আপনার কি ক্ষতি করব?

- ভয় পাচ্ছি না। তবে একটু ব্যস্ত আছি।

- নতুন কিছু লিখছেন?

- হুম।

- কি লিখছেন? আমি কি জানতে পারি?

- ফেবু ওয়ালে চোখ রাখলে অবশ্যই পারবেন। তবে একটু ধৈর্য্য ধরুন।

- আপনি কিন্তু অনেক সুন্দর করে কথাও বলেন ।

- আপুমনি, আপনার বাড়ির আশে-পাশে কি তেলের কল আছে?

- কেন?

- না মানে, যে হারে সেই তখন থেকে তেল মেরে যাচ্ছেন , তাই মনে হল আর কি!

- দেখুন, আপনি মানুষটা ফেবুতে যতটা ভালো, বাস্তবে তার থেকে অনেক বেশি খারাপ ।

- এইত, আপুমনি লাইনে এসেছেন এতক্ষনে । দেখুন, আপনার কারনে আমি লিখতে পারছি না । একটু বকবকটা থামাবেন দয়া করে ?

ছেলেটি বুঝতে পারেনি, সে কতটা ঝোকের মাথায় মেয়েটাকে অপমান করেছে । তবুও অপমানটা হজম করে যায় মেয়েটি । প্রতি উত্তরে এতটুকুই বলে- “জনাব, আপনাদের মতন ফেবু বিখ্যাত মানুষদের সাথে বোধহয় কথা বলতে যাওয়াটাই অপরাধ । আমাদের সাথে মিনিট খানেক কথা বললে মনে হয় আপনাদের পুরো ঘন্টা ধরে করা তপস্যা নষ্ট হয়ে যায় । যাই হোক, আর কোনদিন নক করব না । ভালো থাকবেন, অনেক বেশি ভালো থাকবেন।”

শেষের কথাটায় একটা ছোটোখাটো ধাক্কা খেল তৃপ্ত । “অনেক বেশি ভালো থাকবেন” কথাটা বোধহয় এই প্রথম তাকে কেউ বলে বসল । অনেক বেশি বেশি ভালো থাকতে বলেছে মেয়েটি তাকে । তিন বছর ধরে নিজেকে অনেকটা কষ্টে তিল তিল করে বাঁচিয়ে রেখেছে সে । কিন্তু তার ক্লান্তি-ভরা, ঘামে ভেজা মুখটি দেখে তো কেউ কোনদিন বলেনি – অনেক বেশি ভালো থাকবেন ।

কেন বলেনি? কেন শুনতে পায় নি সে একথা ? কেন তার শরীরের গত তিন বছর ধরে বাসা বেঁধেছে নিরব ঘাতক ঐ রোগটি ? কই, কোন ডাক্তারও তো কোনদিন বলেনি – অনেক বেশি ভালো থাকতে । সপ্তাহের ছুটির দিনটিতে সারাদিন ক্ষুধার কষ্ট করে খালি পেটে ওষুধ খেয়ে রুমের এক কোনায় পড়ে থাকতে দেখেও তো কোনদিন তার কোন রুমমেট বলেনি- “কিরে তোকে না বলেছি, অনেক বেশি ভালো থাকতে?” এমনকি তার অজস্র ভক্তের মধ্যেও তো কেউ কোনদিন বলে নি- অনেক বেশি ভালো থাকতে । কিন্তু, আজ কেন এই মেয়েটি বলল ? চিন্তা করতে অনেকটা কষ্ট হয় তৃপ্ত’র।

চিন্তা করে সে । কেন ভালো থাকব ? একটা মেয়ে প্রথমবারের মতন বলেছে বলে ? এর আগে কি কেউ তাকে বলেছিল এই কথাটি ? না, সে আজকের আগে এই কথাটি কোনদিন শুনেনি। কারন, তার যে ভালো থাকার কথা নয় । শরীরের ভিতর বাস করতে থাকা রোগটিই তার সকল ভালোতে মন্দের কাঁদামাটি লেপে দিয়ে গেছে। তাই, তার ভালো থাকতে নিষেধ আছে। চাইলেই সে ভালো থাকতে পারেনা । চিন্তা করতে করতে মাথাটা গুলিয়ে আসে তার । শরীরটা কাঁপতে থাকে। দাঁড়িয়ে থাকার সাহস না পেয়ে শুঁয়ে পড়ে সে । কল্পনাতে সে হারিয়ে যেতে থাকে।

- আমি আপনাকে ভালোবাসি।

- আপনি পাগল হয়ে গেছেন।

- না, আমি একদম ঠান্ডা মাথাতেই আছি। আপনি ভেবে বলুন। খুব ভাল মতন চিন্তা করে বলুন।

- আপুমনি, আমি যে চিন্তা করতে পারি না । আমার মস্তিষ্ক ধরে আসে ।

- দেখুন, আমি অনেক খোঁজ খবর নিয়ে, চিন্তা-ভাবনা করে, লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে আপনাকে কথাটি বলেছি আর আপনি মজা করছেন। বলছেন, আপনি চিন্তা করতে পারেন না । দেখুন, আপনি সেলিব্রেটি হতে পারেন কিন্তু একটা মানুষের মন নিয়ে খেলা করার অধিকার আপনার নেই।

কথাটা শুনে তৃপ্ত নিশ্চুপ হয়ে যায় । ঠিক এই প্রশ্নটাই যদি সে স্রষ্টাকে করতে পারত – “দেখুন আপনি মহামালিক হতে পারেন, কিন্তু একটা নতুন কুঁড়িতে বিষ না ঢাললে কি হচ্ছিল না আপনার?” হাজার বার জিজ্ঞেস করেও কোন উত্তর পায় না তৃপ্ত । আকাশ থেকে কোন সাঁড়া পায় না সে । ভাবে, স্রষ্টা বুঝি আজ আমার মতনই বোবা হয়ে গেছে।

- কি হল, কথা বলছেন না যে? silnejsie ako viagra

হুশ ফিরে আসল তৃপ্তর।

- হু, বলুন শুনছি।

- আমি কি বলব ? বলবেন তো আপনি । যাই বলবেন, সোজা-সাপটা বলবেন ।

- পারব না।

- কি পারবেন না?

- কাউকে হোল্ড করতে আমার এ জীবনে।

- ধন্যবাদ । সোজা-সাপটা উত্তর দেবার জন্য। আচ্ছা, ওকে । ভালো থাকবেন । আর কোনদিন কথা হবে না আমাদের । তবে দূর থেকেই ভালোবাসব আপনাকে । দোয়া করি, সুস্থ থাকবেন । ভালো থাকবেন । অনেক বেশি ভালো থাকবেন ।

কিছুই বলে না তৃপ্ত । শুধু তার মস্তিষ্কে একটা অনুভূতির সৃষ্টি হয় । কে যেন তাকে ডাঁকছে ঘুম থেকে উঠবার জন্য । online pharmacy in perth australia

ঘুম ভাঙ্গে। চোখ খুলে সে দেখতে পায়, রুমের এক কোনায় সে পড়ে আছে । পুরো শরীরটা ঝিনঝিন করছে । মাথাটা গোলাচ্ছে । এটা নতুন নয় । এমনি করেই তার প্রতিদিন ঘুম ভাংগে । টেবিল ক্লকের দিকে চোখ চলে যায় । চোখ রাখতেই বুঝতে পারে আস্তে আস্তে করে ছেড়ে যাচ্ছে সে জীবন থেকে। অবশ্য, প্রতিটি মানুষই এক সময় চলে যাবে । কিন্তু, সবার ক্ষেত্রে সময়টা অনির্ধারিত । কিন্তু, তার ক্ষেত্রে যে সময়টা নির্ধারিতের থেকেও কিছুটা বেশি । গত মে মাসে ডাক্তার শেষ সিদ্ধান্ত দিয়ে ফেলেছেন, “ধারনা করছি, ২০১৬ পর্যন্ত।” অর্থাৎ, আর মাত্র ২ বছর ৩ মাস । তারপর সব কিছু শেষ হয়ে যাবে। তৃপ্তুও সুস্থ হয়ে যাবে পুরোদমে । তারপর চাইলেও তৃপ্ত কখনো অসুস্থ থাকবেনা, খারাপ থাকবেনা । রুমের কোনায় দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকতে হবেনা । সত্যিই, সে সুস্থ হয়ে উঠবে তখন । কারন, মৃত্যুর উপর আর কোন অসুস্থতা থাকতে পারে না । কিন্তু, ততদিন পর্যন্ত কিভাবে বেঁচে থাকবে – সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর সাহস পায় না সে । তাই, আবার শুয়ে পড়ে । চোখ বুজতেই আবার ভেসে আসে কন্ঠটা- “ভালো থাকবেন, অনেক বেশি ভালো থাকবেন।”

তৃপ্ত চোখ বন্ধ করেই রাখে । চোখ খুলতে সাহস পায় না । চোখ খুললেই যে সব মিথ্যা হয়ে যায় ।যতক্ষন চোখ বন্ধ থাকে ততক্ষনই সে অনেক ভালো থাকার প্রেরনা পায় । শুয়ে থাকতে থাকতে আবার ঘুমিয়ে পড়ে সে । ঘুমের মাঝেই হঠাৎ করে তার কন্ঠ ছাপিয়ে একটা আওয়াজ আসে – তুমিও অনেক ভালো থাকবে, আমিও দূর থেকে তোমাকে…… আর বলতে পারেনা । কন্ঠে জড়তা চলে আসে । নির্বাক-নিশ্চুপ ভাবে পড়ে থাকে দেহটি ।

[ চলবে ... ]

You may also like...

  1. মাশিয়াত খান বলছেনঃ

    পড়ে ভেবেছিলাম শেষ। পরে মনে পড়োল এটাতো ১ম পর্ব ।
    সুন্দর

  2. চাতক বলছেনঃ

    চমৎকার
    আসলেই প্রথম পর্ব সেটা শেষে এসে মনে পরল বলে নির্ভার মনে হচ্ছে। আপনার সরল কথোপকথনের দারুণ গতিতে এগিয়ে যাওয়া ভাল লেগেছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষ্যা রইলাম। ভাল থাকবেন

  3. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    ভালই আগাচ্ছে শেষ করুণ, শেষ পর্ব পরে ফাইনালি বলব। ফিনিশিং এ অনেক কিছু নির্ভর করে, দেখি কি হয়? ;) :P

  4. মনে হচ্ছে এবার একটা মাথানষ্ট টুইস্ট দিয়ে পাঠকের মাথার নিউরনে ট্র্যাফিক জ্যাম লাগিয়ে দেবেন… :-? অপেক্ষায় রইলাম ২য় পর্বের… >:D< :-w

  5. ভালো মন্দ থাকার কথা নাহয় পরের পর্বটা পড়েই বলি :-SS
    তবে বেশ ভালো লিখেছেন ভাইয়া :)

প্রতিমন্তব্যচাতক বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.