অপেক্ষার প্রহর (রোমান্টিক থ্রিলার)

680

বার পঠিত

(দৃশ্যপটঃ সূবর্ণার রুম)

ফোনটা ভাইব্রেট করেই যাচ্ছে । আননোন নাম্বার । ধরবে না ধরবে না করেও হঠাত্ কি মনে করে ফোনটা ধরে বসল সূবর্ণা ।

:- হ্যালো, এটা কি সূবর্ণা এক্সেপ্রেস ? একটা এডভান্সড টিকিট কাটা যাবে ?
দাঁতে দাঁত চেপে সূবর্ণা বলল- জ্বি হ্যাঁ ! কিন্তু আমাদের এখান থেকে শুধু জাহান্নামের টিকিট দেয়া হয় । কাটবো ?
:- ওরে বাবা ! ঐখানে যাওয়ার কোন ইচ্ছাই আমার নাই ! তবে আপনি চাইলে আপনার হৃদয়ের একটা টিকিট কাটতে পারেন ! ঐখানে বসত পাততে খুব ইচ্ছে করে আমার !
:- ইডিয়ট !!

লাইন কেটে রাগে ফুঁসতে থাকে সূবর্ণা । মুহিব, ফাজিল একটা ! ঐ ফাজিল নতুন নাম্বারটা কোথায় পেল ? ভাবতে থাকতে সূবর্ণা । নিশ্চয় অর্পণা থেকে নিয়েছে । অর্পণা সূবর্ণার ছোট বোন ।

:- অর্পা…… চিত্কার করে ডাকল সে ।
:- কি হয়েছে ? এত চেঁচচ্ছ কেন ? পাশের রুম থেকে অর্পা জবাব দিল ।
:- আমার নাম্বার মুহিবকে কেন দিয়েছিস ?
:- বারে ! আমি কেন মুহিব ভাইয়াকে তোমার নাম্বার দিতে যাবে ? আমার কিসের এত ঠ্যাকা ?
:- দেখ ! ঢং করবি না আমার সাথে ?
:- আমি কেন ঢং করবো ? ঢং তো করছ তুমি ! মনে মনে ভাইয়াকে ভালবাস, কিন্তু উপর দিয়ে ভাব ধরছ ! হু !

বলেই মুখ বাঁকিয়ে ঢেং ঢেং করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল অর্পণা ।
সব একজোট হয়েছে । রাগে নিজের মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে সূবর্ণার !

(দৃশ্যপটঃ মুহিবের রুম)

ফোনটা রেখেই বত্রিশ দন্ত বিকশিত করল মুহিব । এ মেয়েটাকে সে অনেক ভালবাসে । তাইতো এত বেশি জ্বালায় !
আসলে প্রেম-ভালবাসার মত মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিখ্যাত (কিংবা কুখ্যাত) মনীষী পুলক ভাইয়ের একটা সূত্র আছে । পুলক ভাই বলেছেন- ‘যাকে যত বেশি ভালবাসো, তাকে তত বেশি পোড়াও ! সে যখন তোমার ভালবাসাটুকু বুঝতে পারবে, তখন পোড়া ছাইগুলো সুখের উপদ্রব (মধুর স্মৃতি) হয়ে ধরা দেবে ।’

মুহিব জানে, আজ হোক কাল হোক সূবর্ণা অবশ্যই একদিন তার প্রস্তাবে হ্যাঁ বলবেই ! তাই তো জনৈক মনীষী পুলক ভাইকে অনুসরণ করছে সে ।

(কাহিনী সারসংক্ষেপ)

কাহিনীটির শুরু হয়েছিল মাস ছয়েক আগে । অর্পণাদের স্কুলে একটা কালচারাল প্রোগ্রাম ছিল । সূবর্ণা সেখানে গিয়েছিল । সেখানেই সূবর্ণাকে প্রথম দেখে মুহিব । সেই থেকে পিছনে লেগেই আছে । মুহিব সেখানে এসেছিল তার ছোট ভাই মেহেদীর সাথে যে কিনা আবার অর্পণার ক্লোজ ফ্রেন্ড ! ব্যস ! সেই থেকে তিনজন একজোট হয়ে তাকে জ্বালিয়ে মারছে !

গত ছয় মাসে ছেলেটার জ্বালায় সর্বমোট পাঁচবার নাম্বার পাল্টেছে সে । কিন্তু প্রত্যেকবারই কোন এক অজানা উপায়ে তার পেয়ে যায় সে । অবশ্য কিভাবে পায় সেটাও অজানা নয় । ঘরের শত্রুই যেখানে বিভীষণ, সেখানে কিছুই অসম্ভবপর নয় !

মুহিব ছেলেটা দেখতে শুনতে খারাপ না । রোদে পোড়া তামাটে গাত্রবর্ণ সাথে সুগঠিত শরীর । ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্জ্ঞিনিয়ার । তবে পেশায় বেকার ! পাশ করার পর থেকে বাসায় বসা । চাকরি বাকরি হয় নি । এমনি ট্রাই করে নি ! বাসায় বলে দিয়েছে- সে চাকরী করবে না । স্বতন্ত্র কিছু করবে । তবে সে স্বতন্ত্র কিছুটা কি এবং কবে থেকে শুরু করবে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানে না । সম্ভবত মুহিব নিজেও জানে না !

সূবর্ণার ধারণা- তার পিছনে ঘুরঘুর করা ছাড়া মুহিব আর কিছু করে না । ওর জ্বালায় তার ঘর থেকেই বের হওয়ায় দায় । কলেজ, লাইব্রেরি, শপিংমল, আড্ডা যেখানেই যাক না কেন ছায়ার মত পিছনে লেগে থাকে । ধৈর্যও আছে মাশাল্লাহ । এতবার রিফিউজ করার পরও হাল ছাড়ে নি । আঠার মত লেগেই আছে । cialis new c 100

রাত পৌনে বারটা । একনিষ্টমনে অংক কষছে সে । কাল তার ফিজিক্সের মিড টার্ম এক্সাম । হঠাত্ ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠল । আননোন নাম্বার । ধরবে না ধরবে না করেও কি এক অজানা আকষর্ণে রিসিভ করে ফেলল । হয়ত তার অবচেতন মন বুঝতে পারছিল যে কলারটা মুহিবই হবে । levitra 20mg nebenwirkungen

রিসিভ করেই শুনল- হ্যালো, এটা কি সূবর্ণা এক্সপ্রেস……………………

অর্পণা রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই মেজাজ খারাপ হতে শুরু করল সূবর্ণার । পড়াশোনায় আর মন বসাতে পারল না । মনে মনে মুহিবের চৌদ্দ গোষ্ঠি উদ্ধার করে ঘুমাতে গেল সে ।

কি মুশকিল ! ঘুমও আসে না । বারবার শুধু মুহিবের কথাই মনে আসছে । আচ্ছা, সে কি মুহিব কে প্রশ্রয় দিচ্ছে ? নাকি অর্পণা যেটা বলেছিল সেটাই ঠিক ! সেও মুহিবকে একটু একটু…………. ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়ল সে ।

(ভালবাসার প্রথম অনুভূতি)

সূবর্ণার আজ খুব মন খারাপ । না, মুহিব তাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করেছে- সেজন্য মন খারাপ না । মন খারাপের আসল কারণটা হল- মুহিব গত এক মাস ধরে তাকে ফোন দেয় নি !

মানুষ এক বড়ই আজব প্রাণী । একটা জিনিস নিয়মিত ঘটতে থাকলে সেটা যতই বিরক্তকর হোক না কেন সে সেটাতে অভ্যস্ত হয়ে যায় । পরে সেটা যদি হঠাত্ করে বন্ধ হয়ে যায় তবে সেটাকে সে প্রবলভাবে মিস করতে শুরু করে । এখন যেমন সে মুহিবকে মিস করছে । ভীষণ মিস করছে !

অর্পণাকে একবার ভেবেছিল জিজ্ঞাসা করবে যে মুহিবের কি হয়েছে ? এখন ফোন টোন করে না কেন ! পরে লজ্জায় আর সংকোচে তা জিজ্ঞাসা করা হয়ে উঠে নি ।

মুহিব টা ও যে কি ! আজ ওর জন্মদিন এটাও ভুলে গেল ? ভুলতে পারল সে !? আগে তো কোথায় যেত, কার সাথে যেত, কি করত সব খবর রাখত । আর এখন ? এত বড় একটা বিশেষ দিন ও ভুলে বসে আছে !

একবার ভাবল মুহিবকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করবে- কি ব্যাপার মিস্টার ? নতুন কাউকে পেয়েছেন নাকি ? আমার জন্মদিনটাও ভুলে বসে আছেন যে ?

কিন্তু কিছু করল না সে । পাথরের মূর্তির মত ঠাঁই বসে রইল । মুহিবের সাথে তার এমন কোন সম্পর্ক হয় নি যে তার জন্মদিনের কথা তাকে মনে রাখতেই হবে ! ওর কিসের এত ঠ্যাকা ?

সূবর্ণার প্রচুর অভিমান হল । সেটা কি তার নিজের উপর নাকি মুহিবের উপর- সে নিজেও জানে না । দুহাঁটুর মাঝে মাথা গুঁজে ঠুঁকরে কেঁদে উঠল সে ।

(মুহিবের অন্তর্ধান রহস্য)

মাস খানেক আগের কথা । মুহিব বাসায় বসে বসে ভিডিও গেমস খেলছিল । এমন সময় তার বড় মামা আমেরিকা থেকে ফোন দেয় । বড় মামাকে আবার খুব ভয় পায় মুহিব !
মায়ের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে মা মুহিব সম্পর্কে একগাদা অভিযোগ হাজির করেন মামার কাছে । মামা তো শুনেই ক্ষ্যাপা ! গ্র্যাজুয়েশান শেষ করার পরও বসে বসে বাপের হোটেলে খাচ্ছিস ! লজ্জা করে না ? দুনিয়াটা কি মামা বাড়ির আবদার পাইছস ? রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত নিলেন মুহিবকে তাঁর কাছে অর্থাত্ ইউএসএ নিয়ে আসবেন ।

রাতে যখন মুহিবের বাবা বাসায় ফিরল তখন মা তাকে সব খুলে বললেন । বাসায় বসে বসে ছেলের বখে যাওয়াটা তিনি নিজেও দেখছিলেন । কিন্তু অতি আদরের ছেলে বলে কটু কথা তেমন একটা বলতে পারতেন না । এখন যখন শ্যালকের কাছ থেকে এমন একটা প্রস্তাব পেলেন তখন আর ‘না’ করার প্রশ্নই আসে না !

মুহিব গাইগুঁই করল অনেকক্ষণ । সে আমেরিকায় যাবে না । উপায় না দেখে মায়াকান্নাও জুড়ে দিল । কিন্তু কোন লাভ হল না । তার উপর মা তাকে কান্নাকাটি করে (ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল) করে রাজি করিয়ে ফেললেন !

মুহিব যাওয়ার জন্য ‘হ্যাঁ’ করেছে এটা দেখে বাসার সবাই কি খুশি ! সবার খুশি দেখে এক মূহুর্তের জন্য নিজের কষ্টের কথা ভুলে গেল মুহিব । বাসা থেকে বেরিয়ে গেল । খুব মন খারাপ হয়ে আছে । সূবর্ণাকে ফোন দিল । নাম্বার বন্ধ । মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল ।

সারাটা দিন বন্ধুদের সাথে ছিল । তার এই বন্ধুগুলো অসাধারণ । মন খারাপ করে থাকতেই দেয় না ! যদি কোন ভাবে বুঝতে পারে মন খারাপ তবে হাসাতে হাসতেই মেরে ফেলার অবস্থা করে !

রাতে বাসায় ফিরে সূবর্ণাকে ফোন দিল । ধরল না । দিতেই থাকল । ১৩তম বারে এসে সূবর্ণা ফোন ধরল । ধরেই দেয়া শুরু করল ঝাড়ি- এই তোমার কি আর কোন কাজ নেই ? পাইছ টা কি ? দিনরাত ছব্বিশ ঘন্টা শুধু ফোন আর ফোন ! আমারে কি তোমার মত বেকার ভাবছ ? মেয়ে দেখলেই খালি কথা বলতে ইচ্ছে করে, না ? কারেক্টার ঢিলা……. etc etc.

সূবর্ণার এই ঝাড়ি অবশ্য নতুন কিছু না । প্রতিদিনই সে এমনটা করে । আর মুহিব তক্কে তক্কে তার প্রতিটি কথার উত্তর দেয় । কিন্তু আজকের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন । পুরো দিন মেজাজ খারাপ ছিল । ভেবেছিল সূবর্ণার সাথে কথাগুলো শেয়ার করে একটু হালকা হবে । কিন্তু আজ সূবর্ণার কথাগুলো খুব গায়ে লাগল । নীরবে ফোনটা কেটে দিল- যেটা মুহিব কখনোই করে না ।

ভেবেছে টা কি মেয়েটা ? ভালই তো বাসি । অন্যায় তো আর কোন করি নি । মনের কথাই তো কেবল জানিয়েছি ওকে । তবে কেন প্রতিদিন শুধু শুধু কথা শুনতে হবে ? viagra vs viagra plus

মনে মনে মুহিব কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল । আর ফোন দেবেটা মেয়েটাকে । দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নাই ! পড়ে গেলে মানুষ তবেই বুঝে সে কি হারিয়েছে ? মুহিব এখন ওর পাশে আছে তো ! তাই মুহিবের গুরত্ব বুঝছে না । ও যখন অনেক…. অনেক দূরে চলে যাবে তখনই তার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারবে । তখন বুঝবে কি হারিয়েছে সে !

মেহেদীকে ডেকে বলে দিল- সূবর্ণা বা অর্পণা কেউ যদি তার খোঁজ করে যেন সোজা বলে দেয় যে সে জানে না ! সূবর্ণার কথাটা মেহেদী প্রথম থেকেই জানে ! তাই সে একটু অবাকই হল । কিন্তু ভাইয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলার সাহস পেল না । walgreens pharmacy technician application online

অবশ্য মুহিব চাইলেও আর আগের মত যোগাযোগ করতে পারত কিনা সন্দেহ । পরদিনই তাকে ভিসার কাজে দৌড়াদৌড়ি শুরু করতে হল । মুহিবের মামা মার্কিন পাসপোর্টধারী, তাছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাসে তার এক বন্ধুও কাজ করত । মুহিবের আব্বুরও বেশ কিছু লিংক ছিল । সেখান থেকেও সহযোগিতা আসল । মুহিবের গ্র্যাজুয়েশনের সিজিপিএ ভাল ছিল । তাছাড়া আইইএলটিস স্কোরকেও মোটামুটি স্বাস্থ্যবান বলা যায় ! ব্যাটে বলে মিলে গেলে যা হয় আরকি ! রেকর্ড সময়- মাত্র একমাসের মধ্যে তার মার্কিন ভিসা কনফার্ম হয়ে গেল । দীর্ঘ একমাসের ছুটাছুটিতে চেহারা ভেঙ্গে পড়েছে মুহিবের । তবে তা নিয়ে সে খুব একটা চিন্তিত না । কাজ শেষ হওয়ায় স্বস্তির একটা নিশ্বাস ফেলল । এখন শুধু উড়াল দেয়ার পালা ।

(যাত্রা প্রস্তুতি)

:- থ্যাংকস দোস্ত, তোরা অনেক করলি আমার জন্য ।
:- শালা বন্ধুদের থ্যাংকস বলস । লাত্থি দেবো !
:- তাই দে…. can your doctor prescribe accutane

মিথুন সত্যি সত্যি একটা লাথি লাগিয়ে দিল মুহিবের পা*ায় !

:- আব্বে হারামি ! সত্যি সত্যি লাগাই দিলি নাকি ?
:- তুই ই তো বললি ।
:- আমি তো কথার কথা বলছি !
:- আমিও কথার কথা লাগাইছি ! metformin gliclazide sitagliptin

এই মাত্র টিকিট কনফার্ম করে বেরিয়ে এল মুহিব আর মিথুন । মুহিব যেখানেই গেছে তার সাথে বন্ধুদের কেউ না কেউ থাকতই । একা একা কোথাও লাইনে দাঁড়াতে হয়নি তার ।
ভাগ্য ভাল ছিল মুহিবের । নেক্সট ফ্লাইট আগামীকাল রাত আটটায় । সেটারই টিকেট পেয়ে গেছে সে ।

:- এখন কি করবি ?
:- বাসায় চলে যাবো ।
:- সূবর্ণার সাথে যোগাযোগ হয় ?
:- গত এক মাস করি নি ।
:- ও ও করে নি ?
:- নাহ ! ওর কিসের এত ঠ্যাকা ? বাদ দে এসব ।
:- ঠিক আছে, বাদ দে ।
:- কাল তোরা আসবি তো ?
:- শালা, গাধার মত কথা কস ক্যান ? তুই চলে যাবি আর আমরা আসমু না এটা কোন কথা হইল ?
:- হে হে ! জানি তো আসবি ! তারপরও আবার বলছিলাম আরকি ! ফর্মালিটি বুঝছ না ?
:- মামা, এখনো দেশ ছাড় নাই । এর আগে ফরমাল হয়ে যাইতাছ ? শুনো, আমাগো কাছে বেশি ফরমাল হওয়ার চেষ্টা করবা তো ফর্মালিটি তোমার (…..) দিয়ে ঢুকাই দিবো !
:- ধুর হারামি, যা ভাগ ।
:- আচ্ছা যা । সাবধানে যাস….

মিথুনকে বিদায় বলে মুহিব বাসার দিকে রওনা দিল । হাতে একদম সময় নেই । কিন্তু অনেক কাজ বাকি এখনো ।

(প্রথম ভালবাসি)

বাসায় আসতে আসতে মুহিবের সন্ধ্যা হয়ে গেল । এসেই দেখল বাসায় একটা উত্সব উত্সব ভাব । সবাই তার জন্য খুশি । কিন্তু মুহিব একটা জিনিস বুঝতে পারল না, একটা মানুষ দীর্ঘদিনের জন্য দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে । তাকে বিদায় করার জন্য সবাই এত খুশী কেন ?

ক্লান্ত পায়ে হেঁটে নিজের রুম আসল । রাস্তায় প্রচুর জ্যাম । কাল আবার বিরোধীদলের আধাবেলা হরতাল । তার ফ্লাইট যেহেতু রাতে তাই তেমন একটা সমস্যা হবে না । কিন্তু তারপরও তার কপালে একটা চিন্তারেখা ফুটে উঠল । দেশের যে কি হচ্ছে ? দুদিন পরপর খালি হরতাল । এভাবে চলছে দেশ কিভাবে আগাবে ?

হঠাৎ চিন্তা ভাবনার ধরণ দেখে মুহিব নিজে নিজেই হেসে উঠল ! দেশই ছাড়েনি এখনো কিন্তু তার আগেই চিন্তাভাবনা প্রবাসীদের মত হয়ে গেছে ! শুধু উপদেশ দেয়া আর আফসোস করা !

বিছানায় চোখ বন্ধ করে গা এলিয়ে দিল মুহিব । এসির ঠান্ডা বাতাসে শরীরটা জুড়ানোর পর চোখ খুলে তাকাতেই ক্যালেন্ডারের দিকে চোখ পড়ল মুহিবের । ২১ নভেম্বর রেড মার্কারে সার্কেল করা । আজ কয় তারিখ ? ২১ তারিখই তো ! তাহলে আজকের দিনটা সার্কেল করা কেন ? দেশে কাটানো শেষ দিন বলে ? ও তো দুদিন আগেও তো জানত না যে এত তাড়াতাড়ি টিকিট কনফার্ম হয়ে যাবে ! তাহলে ?
তাড়াতাড়ি মোবাইল নিয়ে রিমাইন্ডার চেক করল ।
ওহ গড ! আজ সূবর্ণার জন্মদিন ! আজকের দিনটা ভূলে গেল সে ! ভেরি ব্যাড ।

কাঁপা কাঁপা হাতে ফোন দিল সে । বুকে একটা ভয় কাজ করছে । কি না কি বলে আবার ? অনেক দিন কথা বলে নি । তাই ভয়ের সাথে নার্ভাসনেসটাও কাজ করছে ।

কয়েকবার রিং হওয়ার পর ফোন ধরল সূবর্ণা । বিষণ্ন কন্ঠে বলল- হ্যালো !

মুহিব ঝাড়ি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েই ছিল । কিন্তু সূবর্ণার এমন কন্ঠের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না । উদ্দিগ্ন কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল- কি হয়েছে সূবর্ণা ?

শ্লেষ মেশানো কন্ঠে সূবর্ণা বলল- কি আর হবে ? কিছু হয় নি । আর হলেই বা কি ? আমি তোমার কে ?

সামথিং ইজ রঙ ! এই সূবর্ণা সে সূবর্ণা না যাকে সে চিনত । এ অন্য একজন । ব্যস্ত কন্ঠে আবার বলল- কি হয়েছে সেটা তো বলবা ?

এবার ডুকরে কেঁদে উঠল সুবর্ণা । কাঁদতে কাঁদতেই বলল- আমি জানি না কি হয়েছে । আমি তোমাকে একটুও সহ্য করতে পারতাম না । কিন্তু তুমি যখন হঠাত্ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে, তখন আমার ভিতরের সব যেন কেমন উলট পালট হয়ে গেল । আমি জানি না কেন এখন আর আমার কিছুই ভাল্লাগে না ? জানি না কিছুতেই কেন এখন আর মন বসে না ? আমি জানিনা, কিচ্ছু জানি না !

একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল মুহিব । যাক অবশেষে, দাঁত পোকায় খাওয়ার পর দাঁতের মর্ম বুঝতে শিখেছে মেয়ে । মিষ্টি কন্ঠে মুহিব বলল- আমি জানি কি হয়েছে ! তুমিও আমার….

:- কচু জান তুমি । তুমি কিচ্ছু জান না । আই হেইট ইউ । আই জাস্ট হেইট ইউ- মুহিবকে কথা শেষ করতে না দিয়েই চিত্কার করে বলে উঠল সূবর্ণা ।
:- সত্যি ?
:- হু সত্যি !
:- তিন সত্যি ?
:- একশো সত্যি !!
:- আমার চোখে চোখ রেখে কথাটা বলতে পারবে ?
:- কেন পারবো না ? অবশই পারবো । আগে সামনে তো আসো ।
:- ঠিক আছে তুমি অপেক্ষা কর । আমি এক ঘন্টার মাঝে তোমার বাসার নিচে আসছি । রাখি বাই !

ইয়াহু !
অজ তাহলে সেই বিশেষ দিন ! প্রথম ভালবাসি বলার দিন । তাড়াতাড়ি শার্ট গায়ে দিয়েই বেরিয়ে পড়ল মুহিব ।
তার এমন ছুটে যাওয়া দেখে মা জিজ্ঞাসা করল- কি রে ? এই মাত্রই তো এলি ! আবার কোথায় যাচ্ছিস ?
:- তোমার বউয়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি !
:- মানে ?
:- মানে কিছু না ।
:- যেখানেই যাস, তাড়াতাড়ি ফিরিস ।
:- চিন্তা করো না মা । একটু পরেই চলে আসবো ।

ছুটে বেরিয়ে গেল মুহিব । বাসার সামনের মোড়ে একটা গিফট হাউজ । এক দৌড়ে সেখানে ঢুকল । ঢুকেই মাথা ঘুরিয়ে গেল ! হায় হায় ! এত গিফট ! কোনটা ছেড়ে কোনটা নেবে ?

তার চোখ পড়ল একটা কাচের ঘরের দিকে । ঘরের সামনে এক দোলনা । সেখানে দুইটা বাচ্চা দুলছে । পিছনে হাত ধরাধরি করে তাদের মা বাবা দাঁড়িয়ে আছে । তাদের মুখে হাসি । একটি কমপ্লিট হ্যাপি ফ্যামেলি !

ঠিক এরকমই একটা স্বপ্ন ছিল মুহিবের । ছোট্ট একটি বাড়ি । সূবর্ণা আর তার ছোট্ট একটা সংসার । সাথে দুটা বাচ্চা- একটা ছেলে একটা মেয়ে ! পারফেক্ট ফ্যামেলি !

শো-পিচ নয়, যেন একটা স্বপ্নকেই হাতে তুলে নিল সে । তারপর দাম মিটিয়ে ছুটতে থাকল । তার স্বপ্নের রাণী যে তার জন্য অপেক্ষা করে আছে !

(পূর্ণতা) missed several doses of synthroid

বিকেল থেকে মন খারাপ ছিল সূবর্ণার । কান্নাকাটিও অনেক করেছে । একটা ফোনও করল না মুহিব ? এত পাষাণ হয়ে গেল ছেলেটা ? সে না হয় একটু বকেছিল । কিন্তু তাই বলে এভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে হবে ? acquistare viagra in internet

সন্ধ্যার একটু পরে ফোন আসল মুহিবের । বহু আকাঙ্খিত ফোন । ফোন ধরতে গিয়েই অভিমানে বুকটা ফেঁপে উঠল তার । না, মুহিব কে তার মনের অবস্থা বুঝতে দেবে না । কিছুতেই না । এত কাঁদিয়েছে কেন তাকে ? এর শাস্তি তো তাকে পেতেই হবে ।

কিন্তু সূবর্ণার নিজের কন্ঠই তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল । ছেলেটা সব বুঝে ফেলেছে । ধুর, এটা কি হল ?

আচ্ছামত ঝাড়ল ওকে । ব্যাটা আমাকে কাঁদায় !! কত্ত বড় স্পর্ধা ।

মুহিব যখন বলল- ওর বাসার নিচে আসছে তখন খুশিতে ওর বুকে পিয়ানো বাজতে শুরু করল । মুখে যদিও বলেছে- ‘এসে দেখো কি করি’ কিন্তু মনে মনে ঝপেছে- প্লিজ তাড়াতাড়ি আসো । প্লিজ……
অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমাকে । নিজেও পেয়েছি অনেক । কিন্তু কষ্টের দিন আজ শেষ করতে চাই । আজই তোমাকে বলে দেব- কতটা ভালবাসি ।
আজ আমি তোমাতে পূর্ণ হতে চাই । প্লিজ তাড়াতাড়ি আসো । তোমার হাত ধরেই আজ পূর্ণ হব আমি ।

(অপেক্ষা)

গিফট হাউজ থেকে বেরিয়েই একটা সিএনজি তে উঠে বসল মুহিব । সূবর্ণাদের এরিয়ায় যেতে বলল । কিন্তু ড্রাইভার মশাই বেঁকে বসলেন । অনেক দূর । যেতে মিনিমাম ঘন্টা খানেক লাগবে । যেতে রাজি হল না সে ।

টিনের চালে কাক,
মুহিব তো অবাক !

:- আরে ভাই, যাবেন না ক্যান ?
:- অনেক দূর তো ভাই !
:- অনেক দূর বলেই তো সিএনজি তে উঠলাম । নইলে তো হেঁটেই যেতাম ! চলেন না ভাই….
:- দিনের বেলা হইলে যাওয়া যেতে । কিন্তু রাইতে…..
:- রাইতে ডরান নাকি ? ভূতে ধরবো ?
:- না ভাই ! ভূত বলে তো কিছু নাই !
:- তাইলে ?
:- কাল তো হরতাল ভাই !
:- তা তো কাইল ! আজকে যাইতে সমস্যা কি ?
:- ভাই, আপনে জানেন না এখন হরতালের চেয়ে হরতালের আগের দিনে গাড়ি ভাংচুর বেশি অয় ! এত রিক্স নিয়া যামু না ভাই । গাড়ির কিছু হইলে বউ বাচ্চা নিয়া না খাইয়্যা থাকতে হইবো । আপনে বরং অন্য গাড়ি দেখেন ।
:- গাড়ি যে আর নাই এটা তো দেখতেছেন । বিশ্বাস করেন ভাই, যাওয়াটা আমার খুব ইম্পরট্যান্ট । জীবন মরণের প্রশ্ন । চলেন না রে ভাই……

জীবন মরণের প্রশ্ন শুনে ড্রাইভার যেতে রাজি হল । তারও তো ‘দিল’ বলতে কিছু একটা আছে ! যদিও ভাড়া অনেক বেশি চাইল । কিন্তু সেটা ব্যাপার না । যেতে রাজি হইছে এটাই বড় ।

গাড়িতে বসে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল মুহিব । অপেক্ষা ছাড়া আর কোন কাজ নেই । সূবর্ণার কাছে পৌঁছানোর অপেক্ষা…….

(অপেক্ষার প্রহর)

মুহিব ফোন করার পর থেকেই সূবর্ণা ব্যালকনিতে এসে বসে আছে । যাতে তাকে দেখা মাত্রই এক ছুটে নিচে গিয়ে তার বুকে ঝাপিয়ে পড়তে পারে । কিন্তু তার আসার কোন নামগন্ধ নেই ।

বলেছিল এক ঘন্টার মধ্যে আসবে । এখন তিন ঘন্টা পার হয়ে চার ঘন্টা চলছে । তবুও লাটসাহেবের কোন দেখা নেই । ছেলেটা যে কি !? এখনো প্রেমও হয়নি । তার আগে থেকেই লেট করা শুরু করেছে । আর প্রেম হয়ে গেলে নাজানি কি করা শুরু করবে !

সূবর্ণা চুপচাপ বসে আছে । মুহিবের আগমনের অপেক্ষা । ঠোঁটের কোণে তার হালকা হাসি । চোখে ভাসছে পুরানো দিনের সেই সব কথা । মুহিবের বাঁধরামি, ফাজলামি সব…. তখন কি বিরক্ত লাগত এসব ! আর এখন কতই না রোমান্টিক মনে হচ্ছে ! কিন্তু পাগলটা আসতে এত দেরি করছে কেন ??

ড্রয়িং রুমে সূবর্ণার আব্বা খবর শুনছে । তার কিছু কিছু কিছু ব্যালকনিতে বসা সূবর্ণার কানেও আসছে । দেশের অবস্থা খুব বেশি ভাল না । সন্ধ্যা থেকে বেশ কয়েকটি স্থানে হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়েছে, গাড়িও ভাংচুর হয়েছে বেশি কিছু । যাত্রীসহ একটি অটোরিক্সা নাকি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে । মুহিবের আসতে কোন সমস্যা হচ্ছে তো ? চিন্তা টা কে জোর করে মাথা থেকে সরিয়ে দিল । তার মুহিবের কিছু হবে না । সে অবশ্যই আসবে । সূবর্ণা অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকে ।

(শেষ কথা)

মুহিব তখন কল্পনায় নিমগ্ন । সূবর্ণার সাথে দেখা হলে কি বলবে, কি করবে, কিভাবে হাসবে তা নিয়ে মানসপটে হাজারো ছবি আঁকছে । এমনটা তো নয় যে- সূবর্ণার সাথে তার এই প্রথম দেখা হচ্ছে ! আগে তো প্রায় প্রতিদিনই দেখা হত । তবে সেসব দেখার সাথে এবারের দেখা হওয়াটার অনেক পার্থক্য । আজ যে ভালবাসি বলার দিন……. tome cytotec y solo sangro cuando orino

মোড় ফিরতে মুহিবের গাড়িটা একটু স্লো হয়েছিল । হঠাত্ কোথায় থেকে যেন চার-পাঁচ জন এসে ওদের গাড়িটা ঘিরে ফেলল । ভয় পেয়ে ড্রাইভার হার্ড ব্রেক কসল । সাথে সাথে গাড়ির কাচে হকিস্টিকের আঘাত । মুহিব বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল । এক সাইকো তাকে বের হতে দিল না । ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঠেলে পেট্রল ঢেলে পুরো গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিল । জ্বলন্ত কুন্ডলীর বুকে সলীল সমাধি ঘটল এক গুচ্ছ তাজা স্বপ্নের । will i gain or lose weight on zoloft

মুহিবের বাবা-মা তার ফেরার প্রহর গুণছে ।
নাম না জানা সেই সিএনজিওলার বউ বাচ্চা নিচ্ছে রুজি রুটি নিয়ে তাদের কর্তার ফেরার খবর ।
আর সূবর্ণা ?
সে তো বসে আছে তার অধরা ভালবাসাকে কাছে পাবার অপেক্ষায়……
কেউ জানে না কবে তার অপেক্ষার প্রহর ফুরাবে, কবে ফুরাবে তাদের অপেক্ষার প্রহর…….

♥♥ কিছু কথাঃ

প্রথম প্যারাটি লিখেছিলাম ছয় মাস আগে । একটা মিলনাত্মক সমাপ্তি টানাই এর উদ্দেশ্য ছিল । কিন্তু আলসেমির কারণে তখন পুরো লেখাটা কমপ্লিট করা হয় নি । সময়ের পরিক্রমায় লেখার মূল থিম কি ছিল সেটাও ভুলে যাই !
এটা যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে থিম ছাড়া লেখালেখি !

লেখাটাতে প্রচুর অসংগতি আছে । বিশেষ করে আমেরিকা যাবার প্রসেসটাতে ! কি আর করা ? অভিজ্ঞতা সংকট !

আবেগটাকে ঠিক মত ব্যবহার করতে পারি নি । বাক্য চয়নেও ছিল যথেষ্ট অপারদর্শিতা । তবে এসব নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামাই না । শখের বসে কিবোর্ড টেপাটিপি করি । প্রফেশনাল রাইটারদের মত এত কিছু চিন্তা করলে চলে নাকি ?

♥♥ উত্সর্গঃ অনেক বড় বড় কিছু মানুষকে উত্সর্গ করার খেয়াল ছিল ! কিন্তু যে লেখার লেখা ! তাদের উত্সর্গ করলে আমি সিওর যে তারা ইয়া বড় বড় লাঠি নিয়ে ছুটে আসবেন আমার মাথা পাঠানোর জন্য ! তাই সে রিক্স নিতে গেলাম না !

Niloy,
19/03/2013.

You may also like...

  1. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    আপনি গল্প লেখায় ওস্তাদ। কেমনে পারেন!!!সেই রকম হইছে ভাই……

  2. আপনি নিজেই নিজের সমালোচনা করে দিয়েছেন। আর কি বলার। :D

  3. সোমেশ্বরী বলছেনঃ

    জীবন কেন জানি না কেবলই আমাদের থমকে দিতে ভালবাসে!
    ভালো লিখেছেন, ভালো লেগেছে।
    ধন্যবাদ লেখককে।

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

capital coast resort and spa hotel cipro

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

will metformin help me lose weight fast
zoloft birth defects 2013
nolvadex and clomid prices
zithromax azithromycin 250 mg