অতঃপর আর সুইসাইড করা হল না…..

379

বার পঠিত

(অনেক আগের লেখা একটি গল্প। নতুন কিছু এখন আর বের হয় না।)

মেয়েটাকে আমার খুব ভাল লাগে । শুধু ভাল লাগলে বললে ভুল হবে, অনেক ভালো বাসি । হেন কোন কথা নেই যা তাকে বলি না, কিন্তু ভালবাসার কথাটাই শুধু কখনো বলতে পারি নি ।

মাইশা, তার নাম । একই সাথে পড়ি আমরা । ভার্সিটিতে এডমিশান নেয়ার পর প্রথম যে ক্যাম্পাসে আসি সেদিনই একটা গাধার মত কান্ড ঘটিয়ে ফেলি ! একটা ইটের সাথে উষ্ঠা খেয়ে স্যান্ডেল ছিঁড়ে ফেলি ! কি বিচ্ছিরি অবস্থা । আশে পাশে পরিচিত কেউ নাই আর অপরিচিতজনদের আমার এহেন অবস্থা দেখে সে কি হাসি !!

পালিয়ে যাব কিনা ভাবছি এমন সময় একটা মেয়ে এগিয়ে এল । ব্যাগ থেকে একটা সুঁই আর সুতা বের করে বলল- নাও, সেলাই করে ফেল ! একবার কোচিং এ যাবার সময় আমিও উষ্ঠা খেয়ে জুতা ছিড়ে ফেলি । সেদিন খুব নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম । সেই থেকে ব্যাগে সবসময় সুঁই/সুতা রাখি !

অনেক তার কান্ড দেখে অবাক হয়েছিল আর আমি হয়েছিলাম বাকরুদ্ধ ! ওর চোখের দিকে হা হয়ে তাকিয়ে ছিলাম । আমার এমন অদ্ভুত দৃষ্টি দেখে ও বলল- কি স্যান্ডেল সেলাই করতে পার না ? নাকি সেলাই করে দেব ?
আমি কাচুমাচু করে বললাম- লাগবে না । আমি পারব !
মেয়েদের ব্যাগে স্যান্ডেল সেলাই করার সুঁই থেকে মেকাপ বক্স পর্যন্ত সবই পাওয়া যায়- এমন কথা আগে শুনেছিলাম । কিন্তু দেখার সৌভাগ্য এ প্রথম হল ! জীবনে কখনো মুচির কাছ থেকেও স্যান্ডেল সেলাই করে পরিনি । ছিঁড়ে গেলে সেটা ফেলেই দিতাম ! কিন্তু ওর সামনে যে সেদিন কিভাবে সেলাই করে ফেললাম সেটা ভেবে আমি এখনো অবাক হই !
অনেক হা করে আমাদের দিকে তাকিয়ে অবাক চোখে আমাদের কর্মকান্ড দেখছে ! লজ্জায় আমি মাথা তুলতে পারছি না । কিন্তু তার সেদিকে কোন ভ্রক্ষেপ নেই !
আমি সুঁই/সুতা তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বললাম- থ্যাংকস আপু !
ও রাগী দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে- ওই হাঁদারাম ! আমি কোন সূত্রে তোমার আপু লাগি ? আমিও তোমার মতই নিউ এডমিশন !
আমি লজ্জিত মুখে বললাম- ওহ স্যরি ! কিন্তু আপনি কি করে বুঝলেন আমিও নিউ এডমিশান ?
ও মুচকি হাসি দিয়ে বলল- তোমার ঐ আবুল আবুল চেহারা দেখে !
এরপর সে চলে গেল । কিছুক্ষণ আবেশিত হয়ে থাকলাম আমি । ওর চোখ…..
পৃথিবীতে অতি সৌভাগ্যবান কিছু রমনী আছে যাদের নাকি চোখও হাসে । এ মেয়েটা তাদেরই একজন…..

“প্রহর শেষে রাঙা আলোয়-
সেদিন চৈত্র মাস,
তোমার চোখের দেখেছিলাম-
আমার সর্বনাশ !”

কেউ বিশ্বাস করবে না । কিন্তু এটাই সত্যি । ওর চোখ দেখেই আমি প্রেমে পড়ে গেছি । আস্তে সাস্তে কোন পড়া নয়, সিরিয়াসলিই ফল করেছি !

অনেক খুঁজে খুঁজে ক্লাস বের করে কোণার দিকে একটা সিট বের করে বসে পড়লাম । পাশের সিটের দিকে চোখ পড়তেই টাশকিত হয়ে গেলাম ! মনে মনে খুশিও হলাম । মেয়েটা তাহলে আমাদের ডিপার্টমেন্টেই ! কিন্তু ওর কথা শুনেই উচ্ছাসটা দমে গেল !

:- আরে এদেখি আবুল মিঞা ? আমাদের ডিপার্টমেন্টেই !
:- জ্বি ।
:- কি ব্যাপার ? মুখটা এমন পেঁচার মত হয়ে গেল কেন ? আবুল বলাতে রাগ করেছ ?
:- না না ! তা করব ক্যান ?
:- আমার তো মনে হয় করেছ । না করলেই ভাল । দেখ, আবুল/হাঁদারাম/গাধা/কুত্তা এগুলো হল আমার কমন ডায়ালগ ! একই সাথে যেহেতু পড়ব এগুলো প্রায়ই শুনতে হবে । তাই এগুলো শুনে কখনো রাগ করতে পারবে না । ওকে ?
:- ওকে !
:- এই তো গুড বয় ! তা গুড বয়, তোমার নাম কি ?
:- নীল ! আর আপনার ?
:- মাইশা ! তবে বদমাইশি খুব বেশি করি তো ! তাই কলেজের বান্ধবীরা মাইশার আগে বদ যোগ করে বদমাইশা বলে ডাকে ! হি হি হি !
:- বাহ ! সুন্দর তো ! তাহলে আমিও আপনাকে এটা বলেই ডাকবো !
:- মাথা ফাটাই ফেলবো যদি ভুলেও কখনো শুনি এনামে ডেকেছ ! আর তুমি আমাকে আপনি আপনি করছ কেন ? আমাকে কি তোমার দশ বছরের সিনিয়র মনে হয় ?
:- না না ! তা হবে কেন ? স্যরি ! আর বলব না !
:- ফ্রেন্ডস ?
:- ফ্রেন্ডস ! cara menggugurkan kandungan 2 bulan dengan cytotec

সেই থেকে……
বন্ধু হয়ে ছিলাম । তিন বছর হয়ে গেল । এখনো বন্ধু হয়েই আছি । অনেক চেষ্টা করেও তাকে মনের গোপন কথাগুলো বলতে পারি নি । সবসময় একটা ভয় কাজ করে- যদি না করে দেয়, যদি বন্ধুত্বটাই নষ্ট করে দেয়- এটা আমি সহ্য করতে পারব না ।

অবশ্য বলতে যে চেষ্টা করি নি সেটাও না ! ওর সাথে এমনিতে সব কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি । কোন সমস্যা হয় না । কিন্তু যখনই এ কথা গুলো বলব ভাবি তখনই গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসে ! হাঁটু কাঁপতে থাকে !!
অদ্ভুত ।

সিঁড়িতে বসে আছি । মাইশা আসছে । দূর থেকেই ওর হাসি মুখটা বুঝা যাচ্ছে । আজ অনেক খুশি মনে হয় । আমাকে দেখেই এগিয়ে এল । efek samping minum obat viagra

:- জানিস হাঁদারাম, একটা গুড নিউজ আছে !
:- হাঁদারাম বলাটা আর ছাড়লি না ! কি গুড নিউজ !
:- আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে !

ও হাত টা বাড়িয়ে দিল । ওর হাতে জ্বলজ্বল করছে নতুন একটা রিং । আমার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল সেটা দেখে । নিজেকে যথা সাধ্য শান্ত রাখার চেষ্টা করে বললাম-

:- বলিস কি ? কবে ?
:- গত কাল । কাল বিকেলে দেখতে এসেছিল ছেলে । ছেলেতো আমাকে দেখে পুরাই ফিদা ! ফোন করে ওর বাবা মা কে ডেকে আনে । রাতেই এনজেগডমেন্ট হয়ে যায় ! সামনের শুক্রবারেই বিয়ে !
:- ও ।
:- কিরে ? তোর চেহারা এমন পেঁচার মত হয়ে গেলে কেন ? জানিস, আমার হাজব্যান্ট টা না যা স্মার্ট ! উজ্জ্বল ফর্সা ! লম্বায় সিক্স ফিট টু । জিম করা ফিগার । MBA from OXFORD ! UKতেই সেটেল্ড । আমার কিন্তু হেব্বি পছন্দ হইছে ! মনে মনে যেমনটা চাইছিলাম ! বিয়ের করার জন্যই দেশে এসেছে । বিয়ের পর আমাকে নিয়েই উডাল দেবে !
:- দেখ, এসব ছেলেদের কারেক্টার কিন্তু ভাল হয় না ।
:- কি বলতে চাস তুই ?

ও রেগে যাচ্ছে বুঝতে পারছি । কিন্তু রাগার মত আমি তো কিছু বলি নি । তারপরও সাবধানে বললামঃ

:- ওয়েস্টার্ন কান্ট্রিগুলার কালচার তো জানিসই । ওদের কাছে রিলেশানসিপটা….
:- দেখ নীল, সবাইকে একই রকম ভাবিস না । ও অনেক ভাল । আমার অনেক পছন্দ হইছে । আর তুই এসবের কি বুঝবি ? গাঁইয়্যা কোথাকার ! ভেবেছিলাম আমার বিয়ের সব এরেন্জমেন্টের দায়িত্ব তোকেই দিব । তাই সবার আগে খবরটা তোকেই জানালাম । কিন্তু হারামি কনগ্রেস্ট জানানোর বদলে মেজাজটাই খারাপ করে দিলি । তোকে এরেন্জমেন্টের দায়িত্ব দেয়া তো দূরে থাক, এখন আর বিয়েতেই দাওয়াত দিব না !

বলেই ও আর দাঁড়ালো না । চলে গেল । অকারণেই রেগে গেল । কি বলেছি আমি ? আমার ভিতর যে কি অবস্থা চলছে সেটা আমিই জানি । এটা ও কি করে বুঝবে ? আর ফরেন জামাই পেয়ে সব ভুলে গেল ? আমাদের এত দিনের সম্পর্ক সব মিথ্য হয়ে গেল ? আমি এখন গাঁইয়্যা ভূত হয়ে গেলাম ? হায়রে মেয়েমানুষ…….
কত সহজে ওর বিয়ের কথা বলে গেল ! ও কি জানে যে নিজের অজান্তেই ও একজনকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে গেল ? pharmacy tech practice test online free

কাল শুক্রবার ওর বিয়ে । আজ বিয়ের আগে শেষ বারের মত ভার্সিটিতে এসেছে । সবার সাথে এত হেসে হেসে কথা বলছে দেখে আমার পিত্তি জ্বলতে লাগল । ঐদিনের পর থেকে আর আমার সাথে কথা বলে নি । আমি কয়েকবার বলার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আমাকে পাত্তাই দেয় নি । এই ছিল শেষ পর্যন্ত আমার ভাগ্যে….

আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে কয়েকজনকে বিয়ের দাওয়াত দিচ্ছি ও । কেউ একজন বলল- নীলকে দাওয়াত দিবি না ? ওর দৃঢ উত্তর- না ! আর দাঁড়ালাম না ওখানে । বাসায় চলে আসলাম ।

আজ ওর বিয়ে । চিত্কার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে । হে খোদা, কেন এমনটা হল আমার সাথে ? কি অপরাধ ছিল আমার ? ভালোই তো বেসেছিলাম, কোন পাপতো আর করিনি । তবে কেন এত বড় শাস্তি দিলে আমাকে ??

ওর বিয়ে হয়েছে আজ এক সপ্তাহ । এই এক সপ্তাহে আমার চেহারা হয়েছে দেখার মত ! পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম সবার কাছ থেকে । ভার্সিটিতে আসি নি । কিন্তু কয়েকজন বন্ধু গিয়ে ধরে এনেছে ! অনেকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, যেন চিড়িয়াখানায় আনা নতুন প্রাণী ! অনেকে কৌতুহলে এগিয়ে এসেছে জিজ্ঞেসও করছে কি হয়েছে আমার ? কি বলব আমি এদেরকে ? কি করে বুঝাব যে কি হয়েছে ? কোন কথার উত্তর না দিয়ে চুপচাপ আমার প্রিয় কোণার সিটটাতে গিয়ে বসে পড়লাম । আমার না বলা কষ্টগুলো আমার একারই থাক । কেউ সেটা জানার দরকার নেই ।

বিয়ের ১৫ দিন পর মাইশা ক্যাম্পাসে এসেছে । আজই প্রথম ওকে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখলাম । চোখ ফেরাতে কষ্ট হচ্ছিল । অনেক ফ্রেশ লাগছে আজ ওকে । আমাকে দেখে হাসিমুখে এগিয়ে এল । বলল- দোস্ত, হানিমুন করে এলাম ! জোস কেটেছে রে সময়টা !! তা তুই আমার বিয়েতে আসিস নাই কেন ?
খুব কান্না পাচ্ছিল আমার । কিন্তু ওকে সেটা বুঝতে দিলাম না । বললাম- তুই দাওয়াত দিস নাই তো, তাই…
ও হেসে বলল- ধুর, তোরা বন্ধু না ! তোদের আবার দাওয়াত দেয়া লাগে নাকি ? এমনিতে এসে একবেলা খেয়ে যেতি !! হি হি হি । আচ্ছা যা, আমার বাচ্চা হলে তার আকীকাতে তোকে দাওয়াত দেব । তখন এসে এটাসহ খেয়ে উসুল করে নিস ! turisanda cataloghi cipro

অপমানের পালা এখানেই শেষ নয় । ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট বের করে বলল- আসস নাই অবশ্য ভালোই করছস ! আমার জামাইরে দেখেলে তুই ট্যারা হয়ে যেতি ! এই দেখ, ভিসা আর পাসপোর্ট এসে গেছে । UK-র একটা ইউনিভার্সিটিতে ক্রেডিট ট্রান্সপারের জন্যও আবেদন করেছি । দুই একদিনের মাঝে সেটাও হয়ে যাবে । নেক্সট মাসেই আমরা উড়াল দিচ্ছিরে । দোয়া রাখিস…. এখন যাই । কিছু কাজ আছে । articles on kamagra polo

ও চলে গেল । আচ্ছা, ওকি আমাকে জ্বালানোর জন্যই এসব করছে ? গত তিন বছরে ওকি একবারও বুঝতে পারে নাই ওকে কতটা ভালবাসি আমি ? মুখে কখনো বলি নি আমি । কিন্তু সব কি মুখে বলে দিতে হয় ?
না । আর ভাবতে পারছি না । এভাবে তিল তিল করে যন্ত্রনা পেয়ে মরার কোন মানে হয় না । আজই একটা দফারফা করতে হবে । সুইসাইড করলে কেমন হয় ? জানি মা বাবা অনেক কষ্ট পাবে । কিন্তু তারা সামলে উঠতে পারবে । ছোট ভাইটা আমার অনেক রেসপন্সিবল । ও তাদের দেখে রাখতে পারবে । তাহলে এটাই ফাইনাল ডিসিশান ।
সুসাইড………

ডিসিশানটা নেয়ার পর অনেক হাল্কা লাগছে । খুব ধীরে সুস্থে সুইসাইড নোট টা রেডি করলাম । টেবিলের উপর পাপার ওয়েটের নিচে সেটা রেখে রুমে তালা লাগিয়ে বেরিয়ে এলাম । পরে কেউ যদি তালা ভেঙ্গে রুমে ঢুকে তবে সেটা বাসায় পৌঁছে দিতে পারবে ।
ফ্রেন্ডদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এলাম । ওদের কিছু বুঝতে দেই নি । বলেছি বাড়িতে যাচ্ছি ! ওরাও কোন আরগুমেন্ট করে নি ।
কোন টেনশন করছি না । এ মূহুর্তে কোন টেনশান মাথায় আসলে সুইসাইড করাটা কষ্টকর হয়ে যাবে । আচ্ছা, কিভাবে সুইসাইড করা যায় ? লাফ দেয়া যায় ! বসুন্ধরা শফিং কমপ্লেক্সের ছাদ থেকে লাফ দিলে কেমন হয় ? অনেক ভালো হয় ! সেদিকেই হাঁটা দিলাম । মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে এমন হেলে দুলে হাঁটতে বেশ মজাই লাগছে !!

সিটি শফিং সেন্টার, ৮ তলা এই ভবনটায় এক সাথে আমরা অনেক সময় কাটিয়েছি। কত বিকেল যে সুখস্মৃতি হয়ে গেছে এর ছাদে আড্ডা মারতে মারতে, হিসেব নেই। তাই পৃথিবী ছেড়ে যাবার জন্য এই জায়গাটাই বেছে নিলাম।

ছাদে গত আধা ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি । জীবনের শেষ মুহুর্তে এসে দাঁড়ানোটা আসলেই এক ভয়ংকর ব্যাপার । লাফ দেবো দেবো করেও দেয়া হচ্ছে না । আমি আসলেই একটা ভীতুর ডিম । বেঁচে থাকার শক্তি নেই এখন মরারও সাহস পাচ্ছি না ! নাহ, যা থাকে কপালে….
আগে একবার লাফ দিই !

:- কি ? লাফাতে ভয় লাগছে ?

তড়িত্গতিতে পিছনে তাকিয়ে দেখি মাইশা !! মুচকি মুচকি হাসছে ! viagra type medicine in india

:- মানে ? লাফবো কেন ?
:- আমি তো ভাবছিলাম তুই সুইসাইড করতে আসছস ?
:- সুইসাইড ? আমি ? মাথা খারাপ ?
:- ও ! একটু আগে যে তোর সুইসাইড নোট টা পড়ে এলাম !
:- হোয়াট ? তু-তু-তুই আমার রুমে কেন ঢুকছস ? কেমনে ঢুকছস ?
:- হি হি হি ! আসলেই তেমন কিছু একটা লিখেছিলি নাকি ? আমি তো আন্দাজে মারছি !!
:- ওহ শীট !
:- আচ্ছা নীল, তুই এত গাধা কেন বলত ?
:- আমি মোটেও গাধা না !
:- গাধা না হলে কি ? আবুল ? আজ যদি তোর বন্ধুরা আমাকে ঠিক সময়ে ফোন না করত ? আমি যদি ঠিক সময়ে এখানে এসে না পৌঁছাতে পারতাম, তবে কি হত জানস ?
:- কি আর হত ?
:- আবার কি হতও বলে ! হাঁদারাম ! আমাকে ছেড়ে এভাবে চলে যাবি ? তাহলে আমি কি নিয়ে থাকতাম ?

(বলে কি এ মেয়ে ?)

:- মানে ?
:- মানে ? মানে গত তিন বছরে তুই কি একটুও বুঝতে পারস নাই যে তোকে কতটা ভালবাসি আমি ?

(এসব কি বলছে মাইশা ? আর এখন বলেই বা কি লাভ ?) cialis 10mg or 20mg

:- ভাল তো আমিও তোকে বাসি । কিন্তু এখন আর এসব বলে কি লাভ ? তুই তো এখন অন্যের ঘরণী ।
:- হি হি হি ! বুদ্ধ !! আমার বিয়ে হয় নাই ।

(আমার ভিতর তখন কম্পন শুরু হয়ে গেছে । কিন্তু স্থির থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে হ্যাবলা সাজার চেষ্টা করলাম)

:- মানে ? বিয়ে হয় নাই মানে ?
:- বিয়ে হয় নাই মানে বিয়ে হয় নাই ! এতে আর কিসের মানে ?
:- তাহলে ঐ এংগেজমেন্ট রিং, ঐ দিনের ফাংশান, হানিমুন…..
:- হি হি হি ! ঐ রিংটা ছিল আমার বার্থডে গিফট, আমার বড় ফুফু জার্মানি থেকে পাঠিয়েছে, ফাংশানটা ছিল আমার বার্থ ডের ফাংশান । ইডিয়ট, তুই ভুলে গেছিলি সেটা ! আর বিয়ে না হলে কিসের হানিমুন রে ? আমরা গ্রামের বাড়িতে গেছিলাম । ওখানেই ছিলাম পনের দিন !
:- তাহলে তুই ক্রেডিট ট্রান্সপার করে বিদেশ চলে যাচ্ছ কেন ??
:- হুম । ইংল্যান্ড যাচ্ছি এটা ঠিক কিন্তু পড়তে নয় রে গাধা ! তুই তো জানিসই, আমার বড় আপু হাজব্যান্ড সহ ওখানে থাকে । আপুর ছেলে হয়েছে । তাকে দেখতে যাচ্ছি । একমাস থাকব । এরপর ব্যাক করবো । ঐ পেপার টা ছিল লিভ এপ্লিকেশান । ক্রেডিট ট্রান্সপারের পেপার নয় । বুঝেছেন মিঃ হাঁদারাম ?

(কি করব বুঝতে পারছি না)

:- এত কিছু কেন করলি তুই ? কেন এত কাঁদালি ?
:- শুধু এটুকু শোনার আশায় যে তুই আমাকে ভালবাসিস ।
:- এত নাটক না করে একবার কি বলতে পারতি না যে আমাকেও তুই ভালবাসিস ?
:- বুদ্ধ । এ পর্যন্ত কোন মেয়েকে দেখেছস আগে কি গিয়ে কোন ছেলেকে তার ভালবাসার কথা বলতে ?
:- মনে হয় না ।
:- তাহলে ?
:- তাহলে কি ?
:- কিছু না গাধা !
:- তুই আসলেই বদমাইশা !
:- এই মাথা ফাটামু । কইয়্যা দিলাম কিন্তু ।
:- পারলে ফাঠা !

(মাইশা আমার দিকে তাকিয়ে আছে । ঠোঁটের কোণায় তার ট্রেড মার্ক হাসি । আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় । নিচের দিকে তাকিয়ে আছি । মাইশা যদি সামনে না থাকত তবে আমি ধেঁই ধেঁই করে নাচা শুরু করতাম । কোন সন্দেহ নাই । যাই হোক, ও অনেক কাঁদাইছে আমারে । এবার আমি একটু পার্ট লমু !)

:- কিন্তু তোর তো পছন্দ উজ্জ্বল ফর্সা, OXFORD থেকে পাস করা ছেলে, UK তে সেটেল্ড ! আমার তো এসব কোয়ালিফিকেশন নাই ! আর UK তে দূর থাক, আমার খেয়াল হচ্ছে গ্র্যাজুয়েশনের পর গ্রামে গিয়ে থাকব !
:- হুম ! এগুলো অবশ্য একটা ফ্যাক্ট বটে ! আসলে একটা বিষয় কি জানিস ? ছেলেরা উজ্জ্বল ফর্সা হলে তাদের চেহারায় একটা মেয়েলী ভাব চলে আসে ! তাদের জন্য তামাটে রংটাই পারফেক্ট । এটাই পুরুষালি রং । আর OXFORD গ্র্যাজুয়েশনের কথা বলছিস ? জানিস না, ঢাবিকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে !
:- ও । এব্যাপার ?
:- হুম ! তোদের গ্রামের নামটা যেন কি ?
:- উত্তর কালিগন্জ্ঞ !
:- দেখ তো উত্তর কালিগন্ঞ্জের ইংলিশ স্পেলিং এর কোড ওয়ার্ড UK হয় কিনা ??
:- ওহ ! আমিও তাহলে UK-র বাসিন্দা ?

(ওর যুক্তি শুনে আমি তো পুরাই থ !)

:- কি ? এভাবে দাঁড়িয়েই থাকবি ? আর কিছু করবি না ?
:- আআ…. কি করব ?
:- তুই মুভি দেখস না ? মুভিতে নায়ক নায়িকা প্রেমের প্রোপাজালের পর কি করে ?
:- তারা তো নাচানাচি করে, গান গায় । কিন্তু আমি তো নাচ গান কোনটাই জানি না !
:- ইডিয়েট ! দাঁড়া ! দেখাচ্ছি মজা !

মাইশা মারার ভঙ্গি নিয়ে তেড়ে আমার দিকে এল ! আমি দৌড় লাগালাম । সে আমার পিছনে দৌড়াচ্ছে ।
দৌড়াক !
গত তিন বছর ওর পিছনে অনেক দৌড়িয়েছি । বাকি জীবনটা ও আমার পিছনে দৌড়াক !!!

Date: June 12, 2012.

You may also like...

  1. cialis online pharmacy forum
  2. প্রথম লাইনটা পড়ে বিস্মিত ও দুঃখিত হলাম… :( রাইটার্স ব্লক তাড়াতাড়ি কাটুক, এই কামনা করি… [-O<

    otc viagra uk
  3. আপনার তো কিছু বেরই হয় না। আর আমার মাথায় সারাক্ষণ আইডিয়া গিজগিজ গিজগিজ করে। কিন্তু, লেখার সময় পাই না। :’(

    এন্ডিংটা প্রেডিকটেবল ছিল। বর্ণনা বরাবরের মতই রসাত্মক। চালিয়ে যান।

  4. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    থিম টা পুরাতন, কিন্তু আপনার লেখার গুনে নতুন রূপ পেয়েছে। জাস্ট অসাধারণ……

    আর আমিও কিছু লিখতে পারছি না!!

    acheter viagra pharmacie en france
  5. চাতক বলছেনঃ

    আপনার গল্প চমৎকার তাতে কোন সন্দেহ নাই। আরও ভাল কিছু পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম!

    তবে গল্পের শিরোনাম অনেক সময় গল্পের মানকে আরও ভাল করে। আপনার শিরোনাম ভাল লাগে নি

  6. ছেলেরা উজ্জ্বল ফর্সা হলে তাদের
    চেহারায় একটা মেয়েলী ভাব
    চলে আসে ! তাদের জন্য
    তামাটে রংটাই পারফেক্ট । এটাই
    পুরুষালি রং । —-ভারী পছন্দ হল…..।

প্রতিমন্তব্যতারিক লিংকন বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. cuanto dura la regla despues de un aborto con cytotec