এক গ্লাস অন্ধকার হাতে, আকাশের ঠিকানায় চিঠি পাঠাতে বলা, এক দ্রোহ ও প্রেমের ফেরিওয়ালা।

1146

বার পঠিত

“অন্তর বাজাও”। ৭০ দশকের এক কবির তৈরি করা গানের দলের নাম ছিল। 
সেই কবির সৃষ্টি করা এক কবিতা থেকে অন্তরের তন্ত্রে তন্ত্রে বেজে যাওয়া একটি গান হয়েছিল। ” ভালো আছি ভালো থেকো / আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখো / দিও তোমার মালা খানি / বাউলের ঐ মনটারে / আমার ভেতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে / আছো তুমি হৃদয় জুড়ে … । ” 
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ; আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলা সেই কবির নাম। একজন দ্রোহ ও প্রেমের ফেরিওয়ালা। প্রেমে আর দ্রোহে  সবখানে স্বাধীনতা পরবর্তী কবিদের মধ্যে রুদ্রর চেয়ে শক্তিমান কেউ নাই।

এসো না হয় কিছুক্ষন বসি-
শিয়রের খোলা জানালায়,
কিছুক্ষন ভুলে থাকি পৃথিবীর
মরা আকাশ; বাতাসের প্রেম।
1779980_722816261083239_918180950_n
৭০ দশকে যাদের কবিতা বাংলাসাহিত্যে আলাদা আবেদন তৈরি করে তাদের মধ্যে অন্যতম কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। অল্প সময়েই তিনি তৈরি করেন তার কবিতার অগণিত পাঠক। তার কবিতা কেন পাঠক পড়বে, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন- প্রথমত একটা কথা আছে, মানুষ তার স্বপ্ন বা স্মৃতিকে অন্য একটি আয়নায় প্রতিফলিত দেখতে চায়, সে আয়নাটি অন্য একটি মানুষের আয়না। দ্বিতীয়ত যে স্বপ্নের প্রস্তুতি মানুষের মধ্যে বেড়ে উঠছে বা যে স্মৃতির কষ্ট তাকে অন্তরে ক্লান্ত করে কিংবা তাকে উদাসিন করে, তার ছবিগুলই যে কবিতায় পায়। এ কারনেই হয়তো মানুষ আমার কবিতা পড়বে।
ভীষণ এক খামখেয়ালীর জীবন ছিলো তাঁর। নিজের প্রথম কবিতা রচনার স্মৃতি মনে নেই। শুধু জানতেন, ঢাকার একটি দৈনিকের রবিবারের সাহিত্য পাতায় লেখাটি ছাপা হবে। যথারীতি একটি উৎকণ্ঠিত নিদ্রাহীন রাত কাটাবার পর খুব ভোরে উঠে গিয়ে দেখেছিল, লেখাটি ঠিকই ছাপা হয়েছে কিন্তু তাতে লেখকের নামটি ভুলবশত ছাপা হয়নি। can levitra and viagra be taken together

রুদ্রের পারিবারিক স্বচ্ছলতা ছিলো,কিন্তু সে সেপথে যায়নি। চাকরির প্রাতিষ্ঠানিকতায় নিজেকে বাঁধেনি । কয়েকটা রিক্সা ছিলো, তা থেকে যা আয় হতো তাতেই চলতেন। ঠিকাদারী করেছেন, চিংড়ির খামার করেছেন। আর দুহাতে টাকা উড়িয়েছেন। ছিলো তার মদ্যপ্রীতি। প্রতিসন্ধ্যায় হাটখোলার নন্দের দোকানে হাজিরা দিতেই হতো। হুইস্কির বাংলা নাম দিয়েছিলেন ” সোনালি শিশির ”।

এক গ্লাস অন্ধকার হাতে নিয়ে বসে আছি।
শুন্যতার দিকে চোখ, শুন্যতা চোখের ভেতরও–
এক গ্লাস অন্ধকার হাতে নিয়ে বসে আছি।
বিলুপ্ত বনস্পতির ছায়া, বিলুপ্ত হরিণ।
মৌসুমী পাখির ঝাঁক পালকের অন্তরালে
তুষারের গহন সৌরভ ব’য়ে আর আনে না এখন। synthroid drug interactions calcium

পাঞ্জাবী আর জিন্সের যুগলবন্দী তখন বোধহয় তিনি একাই ছিলেন।তিনিই চালু করেছিলেন “ জিন্স-পাঞ্জাবীর ” কম্বিনেশন । জীবন নিয়ে ছিল তার খেলা। যেমন ইচ্ছা জীবনকে চালিয়ে নিয়ে গেছেন। আজীবন বোহেমিয়ান, কিন্তু সত্যপ্রকাশে অকপট থেকেছেন কবিতায়। জীবন নিয়ে রুদ্র যতো হেলাফেলাই করুক, কবিতা নিয়ে কখনো করেননি। তাই মনে হয় কবিতার কাছে এখনো বাঁধা, মানুষের জীবনের সাথে তাইতো বেঁধে দিয়েছেন নিজের জীবন ।

অকারন এই কান্নায় কেন কাঁদি
উল্লাস মাখা আনন্দগুলো করতলে রেখে লুকিয়ে,
নিজের সমুখে দাঁড়িয়ে একাকী জলের ভাষায়
শিশিরের মতো লিখে লিখে যাই নির্জনতা !

তিনি বলেছিলেন, কবিকে সময়ের কাছে জবাবদিহি করতে হয়, ইতিহাসের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। ব্যক্ত বা জাতির জীবনে সত্যের প্রথম উচ্চারণ করে কবি। জীবন থেকে উৎসারিত এই উচ্চারণ মানুষের হৃদয়য়ের ভাষা, চৈতন্যের ভাষা। যার হৃদয়ের ভাষা নেই, চেতনার ভাষা নেই যেত পশু। মানুষ তো এইটুকুর জন্যেই পশু থেকে উন্নততর জীব। কবি হৃদয়কে ভাষা দেয়, চেতনাকে শিক্ষিত করে। tome cytotec y solo sangro cuando orino

কিছু বলার ছিলো তবু
নিজের কাছে নিজেই আমি
প্রশ্নবো্ধক রেখা !

কিছু বলার ছিলো পাখি
নিজস্ব এক গানের নিবাস
হলুদ আকাশ ঘাসের পোকা
এবং ছায়ার স্নেহ
উদাস বিপুল চুলের নদী
ব্যথার মতো ঠোঁটের ভাজে
রাখলো দ্বধা ছোঁয়া ।

কিছু বলার ছিল শুধু
তো্মার চোখে সাগর দেখে
ধবল হাঁসের সাঁতার হলাম-

আমার কাছেই সকল কথা
অন্তরঙ্গ বলছি একা
এমনিভাবে বলেই যাব।।

১৯৫৬ সালের ১৬ই অক্টোবর জীবনানন্দের দেশে অর্থাৎ বরিশালে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ জন্ম।মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার মিঠেখালি গ্রামে । হেসে খেলে তার শৈশব কেটেছিল এখানেই। ১৯৬৮ সালে মামাতো ভাইদের সঙ্গে নিয়ে নানীর ট্রাংক থেকে টাকা চুরি করে গড়ে তোলেন “বনফুল” নামের লাইব্রেরি। এ সময় থেকেই তিনি কাঁচা হাতে লিখতে শুরু করেছিলেন। ১৯৭২তে ঢাকায় এসে দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই নিয়মিতভাবে কবিতা, গান, গল্প ও নাটক লিখতে শুরু করেন।
২৬ নভেম্বর (রবিবার) ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতা ‘আমি ঈশ্বর আমি শয়তান’।
১৯৭৩ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পাস করেন তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় অনার্স এবং মাস্টার্স করেন। সক্রিয়ভাবে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন সাথে যুক্ত ছিলেন। ৭৫ থেকে ৯০ পর্যন্ত দেশে এমন কোনো আন্দোলন নাই যাতে রুদ্রর সশরীর অংশগ্রহণ ছিলো না। কবিতা, গল্প, কাব্যনাট্য, প্রবন্ধ, গান যেখানেই শিল্প সাহিত্য সেখানেই রুদ্র। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়কালে যে কজন কবি শিল্প ও জীবনাচারকে একই সূত্রে গ্রথিত করার চেষ্টা করেছেন, তাদের মধ্যে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নাম প্রোজ্জ্বল। রুদ্র ছিল এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অংশীদার। আন্দোলনের খাতিরেই গড়ে তোলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। তার হাত ধরেই ১৯৮৭ সালে শুরু হয়েছিল “জাতীয় কবিতা উৎসব ” । ফেব্রুয়ারির ০১ ও ০২ তারিখে ‘শঙ্খল মুক্তির জন্যে কবিতা’ শ্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রথম জাতীয় কবিতা উৎসব’। স্বৈরাচারী সরকারের ‘এশীয় কবিতা উৎসব’ এর প্রতিবাদে আয়োজন করা হয় এ উৎসবের। এতে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন রুদ্র। তিনি কার্যনীর্বাহি পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। উৎসবের উদ্বোধনী সঙ্গীতটিও (শৃংখল মুক্তির জন্যে কবিতা আজ) লেখেন তিনি।

আমি কি চেয়েছি এতো রক্তের দামে
এতো কষ্টের, এত মৃত্যুর, এতো জখমের দাম
বিভ্রান্তির অপচয়ে ভরা এই ভাঙা ঘরখানি?
আমি কি চেয়েছি কুমির তাড়ায়ে বাঘের কবলে যেতে? renal scan mag3 with lasix

আর কতো চাস? আর কতো দেবো কতো রক্তের বলী?
প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে কি তোর লাগেনি লোহুর তাপ?
এখনো কি তোর পরান ভেজেনি নোনা রক্তের জলে?

ঝড়ে বন্যায় অনাহারে আর ক্ষুধা মন্বন্তরে
পুষ্টিহীনতা, জুলুমে জখমে দিয়েছি তো কোটি প্রান-
তবুও আসেনা মমতার দিন, সমতা আসেনা আজো।
1236038_642913855740147_1056950011_n
দেশপ্রেম ও স্বজাত্য মমতাবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির কান্তিলগ্নে ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’- এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি ততোধিক স্পর্ধায় তিনি উচ্চারণ করেছেন, ‘ভুল মানুষের কাছে নতজানু নই।’ যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক’-এ।

এই স্বপ্নের জীবনে যাবার পথ আটকে আছে
সামান্য কিছু মানুষ ।
অস্ত্র আর সেনা-ছাউনিগুলো তাদের দখলে ।
সমাজ পরিচালনার নামে তারা এক ভয়ংকর কারাগার
তৈরী করেছে আমাদের চারপাশে ।

তারা ক্ষুধা দিয়ে আমাদের বন্দী করেছে
তারা বস্ত্রহীনতা দিয়ে আমাদের বন্দী করেছে
তারা গৃহহীনতা দিয়ে আমাদের বন্দী করেছে
তারা জুলুম দিয়ে আমাদের বন্দী করেছে
বুলেট দিয়ে বন্দী করেছে ।

তারা সবচেয়ে কম শ্রম দেয়
আর সবচে বেশি সম্পদ ভোগ করে;
তারা সবচে ভালো খাদ্যগুলো খায়
আর সবচে দামি পোশাকগুলো পরে ।
তাদের পুরুষদের শরীর মেদে আবৃত, কদাকার;
তাদের মেয়েদের মুখের ত্বক দেখা যায় না, প্রসাধনে ঢাকা;
তারা আলস্য আর কর্মহীনতায় কাতর, কুৎসিত ।

তারা আমাদের জীভ কেটে নিতে চায়
তারা আমাদের চোখ উপড়ে ফেলতে চায়
তারা আমাদের মেধা বিকৃত করতে চায়
তারা আমাদের শ্রবন বধির করে দিতে চায়
তারা আমাদের পেশীগুলো অকেজো করে দিতে চায়
আমাদের সন্তানদেরও তারা চায় গোলাম বানাতে ;

একদা অরন্যে
যেভাবে অতিকায় বন্যপ্রানী হত্যা করে
আমরা অরন্যজীবনে শান্তি ফিরিয়ে এনেছি,
আজ এইসব অতিকায় কদাকার বন্যমানুষগুলো
নির্মুল করে
আমরা আবার সমতার পৃথিবী বানাবো
সম্পদ আর আনন্দের পৃথিবী বানাবো
শ্রম আর প্রশান্তির পৃথিবী বানাবো ।

নির্ভেজাল এই মানুষটি ভণ্ডামি এবং ভণ্ডদের পছন্দ করতেন না। তাই নব্বই’র পরে যখন কবিরা সব দলে দলে বিভিন্ন ঝাণ্ডার তলে আশ্রয় নিতে লাগলেন। তখন রুদ্র একা হয়ে গেলেন। ১৯৮৮ সালের দ্বিতীয় জাতীয় কবিতা উৎসবে কবিতা পরিষদের নেতৃবৃন্দের কয়েক জনের সঙ্গে মতবিরোধ দেখাদেয়। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত জাতীয় কবিতা পরিষদের ভেতরও স্বৈরাচারী প্রক্রিয়া ঢুকে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সকল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘোষনা দিয়ে মঞ্চে কবিতা পাঠ করেন। ফলে মতবিরোধ তীব্র আকার ধারন করে। সৃষ্টি হয় পারস্পারিক দুরত্ব। অভিমানে, ক্ষোভে রুদ্র নিজেকে গুটিয়ে নেন প্রিয় সংগঠন থেকে। প্রতিবাদে অনেকের অপ্রিয় হয়ে গেলেন। শেষদিকে খুব নিঃসঙ্গ হয়ে গেছিলেন। capital coast resort and spa hotel cipro

আমি একা ।
এই ব্রক্ষ্মান্ডের ভিতর একটি বিন্দুর মতো আমি একা ।
আমার অন্তর রক্তাক্ত ।
আমার মস্তিষ্ক জর্জরিত ।
আমার স্বপ্ন নিয়ন্ত্রিত ।
আমার শবীর লাবন্যহীন ।
আমার জীভ কাটা ।
তবু এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন আমাকে কাতর করে
আমাকে তড়ায়…

গান রচনা ও সুরারোপে আত্ম নিয়োগ করেন ১৯৮৯-এ। তাঁর বিখ্যাত ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটি এসময়ে লেখা। উল্লেখ্য, পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরনোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।
গ্রামের বাড়ি মিঠেখালীতে গোলাম মহম্মদ, আবু জগলুল মজ্ঞু, মাহে আলম, ফারুক হোসেন, নাজমুল হক প্রমুখককে নিয়ে গড়ে তোলে গানের সংগঠন ‘অন্তর বাজাও’। মিঠেখালিতে প্রতিষ্ঠা করেন ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘অগ্রদূত ক্রীড়া চক্র’।

তার কাব্যের আরেক প্রান্তরজুড়ে ছিল স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। রোম্যান্টিক কাব্যের কুসুম আভাও ফুটে ওঠে তার কবিতায়। metformin tablet

কে জানে কখন মিশেছি আমরা
একে অপরের ভালোতেমন্দে
রন্ধ্রে রক্তে মিশে মিলে যাওয়া মোহনার মতো।

আমাদের সব হাসি ও অশ্রু ভাগাভাগি করে
নিয়েছি যেদিন- সেদিন ছিলো কি অপরূপ রাত
অর্ধেক চাঁদে আধেক আঁধারে ভেসে থাকা নীল ফুল্ল আকাশ!
সেদিন ছিলো কি ফুলের মতোন বুকে এতোটুকু বেদনার দাহ!

জানিনা কখন মিশে গেছে দুটি এলোমেলো পথ
দুটি উদাসিন মাতাল হৃদয়-দুটো সৈনিক
পেছনের পথ ভুলে এসে এক গড়েছে নোতুন স্বাধীন সীমানা।

আলোতে যেমন মিশে থাকে হাওয়া
তেমনি একটি আঁধারের অনু মিশে গেছে শাদা রোদের তনুতে
দুইটি নদীর মোহনার মতো-জানিনা কখন,জানিনা কখন!

১৯৮১ সালে বর্তমানে তুমুল জনপ্রিয় নারীবাদী লেখিকা “ তসলিমা নাসরিনকে ” ভালোবেসে বিয়ে করেন । তখনো তসলিমা নাসরিন নামে খ্যাতি পাননি। সে বিয়ে টেকেনি। ১৯৮৬ সালে ইতি টানেন সেই দাম্পত্য জীবনের । অবশ্য ৯০’র শেষদিকে তসলিমার সঙ্গে আবার প্রেম শুরু হয়েছিলো।

এতো সহজেই ভালোবেসে ফেলি কেন!
বুঝি না আমার রক্তে কি আছে নেশা-

দেবদারু-চুলে উদাসী বাতাস মেখে
স্বপ্নের চোখে অনিদ্রা লিখি আমি,
কোন বেদনার বেনোজলে ভাসি সারাটি স্নিগ্ধ রাত? zithromax azithromycin 250 mg

সহজেই আমি ভালোবেসে ফেলি, সহজে ভুলিনা কিছু-
না-বলা কথায় তন্ত্রে তনুতে পুড়ি,
যেন লাল ঘুড়ি একটু বাতাস পেয়ে
উড়াই নিজেকে আকাশের পাশাপাশি।
10500313_794813553883509_1910619396086529283_n
শেষদিকে ইসলাম ত্যাগ করে মানবধর্ম গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন কাগজে কলমে। একটা সময় আইনি ভাবে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে “ মানবধর্ম ” গ্রহন করার জন্য কথা হয় উকিলের সাথে।

যেমন রক্তের মধ্যে জন্ম নেয় সোনালি অসুখ
তারপর ফুটে ওঠে ত্বকে মাংসে বীভৎস ক্ষরতা।
জাতির শরীরে আজ তেম্নি দ্যাখো দুরারোগ্য ব্যাধি
ধর্মান্ধ পিশাচ আর পরকাল ব্যবসায়ি রূপে
ক্রমশঃ উঠছে ফুটে ক্ষয়রোগ, রোগের প্রকোপ

একদার অন্ধকারে ধর্ম এনে দিয়েছিল আলো,
আজ তার কংকালের হাড় আর পঁচা মাংসগুলো
ফেরি কোরে ফেরে কিছু স্বার্থাণ্বেষী ফাউল মানুষ-
সৃষ্টির অজানা অংশ পূর্ণ করে গালগল্প দিয়ে।
আফিম তবুও ভালো, ধর্ম সে তো হেমলক বিষ।

ধর্মান্ধের ধর্ম নেই, আছে লোভ, ঘৃণ্য চতুরতা,
মানুষের পৃথিবীকে শত খণ্ডে বিভক্ত করেছে
তারা টিকিয়ে রেখেছে শ্রেণীভেদ ঈশ্বরের নামে।
ঈশ্বরের নামে তারা অনাচার করেছে জায়েজ।

তসলিমার সাথে দ্বিতীয় দফা ছাড়াছাড়ি হবার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেম হয়েছিল। কিন্তু সে সম্পর্কও টিকেনি।

তোমাকে পারিনি ছুঁতে, তোমার তোমাকে-
উষ্ণ দেহ ছেনে ছেনে কুড়িয়েছি সুখ,
পরস্পর খুড়ে খুড়ে নিভৃতি খুঁজেছি।
তোমার তোমাকে আমি ছুঁতে পারি নাই।

যেভাবে ঝিনুক খুলে মুক্ত খোঁজে লোকে
আমাকে খুলেই তুমি পেয়েছো অসুখ,
পেয়েছো কিনারাহীন আগুনের নদী।

শরীরের তীব্রতম গভীর উল্লাসে
তোমার চোখের ভাষা বিস্ময়ে পড়েছি-
তোমার তোমাকে আমি ছুঁতে পারি নাই।
জীবনের প’রে রাখা বিশ্বাসের হাত
কখন শিথিল হয়ে ঝ’রে গেছে পাতা।
কখন হৃদয় ফেলে হৃদপিন্ড ছুঁয়ে
বোসে আছি উদাসীন আনন্দ মেলায়-

তোমাকে পারিনি ছুঁতে-আমার তোমাকে,
ক্ষাপাটে গ্রীবাজ যেন, নীল পটভূমি
তছ নছ কোরে গেছি শান্ত আকাশের।
অঝোর বৃষ্টিতে আমি ভিজিয়েছি হিয়া-

তোমার তোমাকে আমি ছুঁতে পারি নাই।। para que sirve el amoxil pediatrico

সেই থেকে রুদ্র আরো বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে যেতে লাগলেন। ভেতরে ভেতরে একা হয়ে যেতে লাগলেন। ক্ষয়ে যেতে লাগলেন। পায়ের আঙ্গুলে রোগ বাসা বেধেছিল। ডাক্তার বলেছিলো পা বাঁচাতে হলে সিগারেট ছাড়তে হবে। তিনি পা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতা ফল সরুপ আলসারে পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পাত্তা দেননি অসুখকে। ফলসরুপ স্থান হল হলি ফ্যামিলির ২৩১ নম্বর কেবিনে। জীবনের প্রতি উদাসিন করি রুদ্র মোহম্মদ শহীদুল্লাহকে শেষপর্যন্ত জীবন ক্ষমা করেনি। ৯১ সালের ২০ জুন ভালো হয়ে পশ্চিম রাজাবাজারের বাড়িতে ফিরেও গেলেন। কিন্তু ২১ জুন ভোরে দাঁত ব্রাশ করতে করতে অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় মোহম্মদ শহীদুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

প্রবন্ধ,কাব্যনাট্য,সম্পাদকীয়,সাক্ষাৎকার, চিত্রনাট্য,চলচ্চিত্র কাহিনী, পত্রগুচ্ছ ইত্যাদি মিলিয়ে দুখন্ডে প্রকাশিত এই রচনাবলী তার বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতারই পরিচয়বহ। মাত্র ৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন।
কাব্যগ্রন্থ-
উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯)
ফিরে পাই স্বর্ণগ্রাম ১৯৮২
মানুষের মানচিত্র (১৯৮৪)
ছোবল (১৯৮৬)
গল্প (১৯৮৭)
দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮)
মৌলিক মুখোশ (১৯৯০)

ছোটগল্প-
সোনালী শিশির

অন্যান্য-
বিষ বৃক্ষের বীজ

পুরষ্কার-
১৯৮০- মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরষ্কার
১৯৯৭- বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরষ্কার

Untitled

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ!! বরাবরই আমাকে প্রবলভাবে টানে তার কবিতা। রাতের পর রাত শুধু কাটিয়েছি তার কবিতা পড়ে আর এই ভেবে যে, কিভাবে সে পারে এতো আবেগ দিয়ে মনের কথা গুলো বলতে। তাই আজকে রুদ্রের মহা প্রয়াণ দিবসে তসলিমার সেই কথাগুলোই আমি বলতে চাই।
“এ কথা আমি বিশ্বাস করি না যে রুদ্র নেই। রুদ্র মোংলা বন্দরে নেই, রাজাবাজারে নেই, বিকেলে অসীম সাহার প্রেস, সন্ধ্যায় রামপুরার সঙ্গীত পরিষদ__কোথাও রুদ্র নেই। আমি বিশ্বাস করি না রুদ্র আর মঞ্চে উঠবে না, কবিতা পড়বে না। কাঁধে কালো ব্যাগ নিয়ে রুদ্র আর হাঁটবে না, রুদ্র আর কথা বলবে না, হাসবে না, কবিতা পরিষদ__সাংস্কৃতিক জোট নিয়ে ভাববে না। এ আমার বিশ্বাস হয় না রুদ্র নেই।
রুদ্রকে আমি আমার সতেরো বছর বয়স থেকে চিনি। সেই সতেরো বছর বয়স থেকে রুদ্র আমার সমস্ত চেতনা জুড়ে ছিল। আমাকে যে মানুষ অল্প অল্প করে জীবন চিনিয়েছে, জগৎ চিনিয়েছে__সে রুদ্র। আমাকে যে মানুষ একটি একটি অক্ষর জড়ো করে কবিতা শিখিয়েছে__সে রুদ্র। করতলে আঙুলের স্পর্শ রেখে রুদ্র আমাকে প্রথম বলেছে__ভালোবাসি। বলেছে__আমরা জ্বলাবো আলো কৃষ্ণপক্ষ পৃথিবীর তীরে, জীবনে জীবন ঘষে অপরূপ হৃদয়ের আলো।
আমি এক অমল তরুণী, রুদ্রর উদোম উগ্র জীবনে এসে স্তম্ভিত দাঁড়িয়েছিলাম। যে কবিকে আমি নিখাদ ভালোবাসি, যে প্রাণবান যুবককে ভালোবেসে আমি সমাজ সংসার তুচ্ছ করেছি, হৃদয়ের দুকূল ছাওয়া স্বপ্ন নিয়ে যাকে প্রথম স্পর্শ করেছি__তাকে আমি অনিয়ন্ত্রিত জীবন থেকে শেষ অব্দি ফেরাতে পারিনি; নিরন্তর স্খলন থেকে, স্বেচ্ছাচার থেকে, অবাধ অসুখ থেকে আমি তাকে ফেরাতে পারিনি। তার প্রতি ভালোবাসা যেমন ছিল আমার, প্রচন্ড ক্ষোভও ছিল তাই। আর রুদ্র সেই মানুষ, সেই প্রখর প্রশস্ত মানুষ, যে একই সঙ্গে আমার আবেগ এবং উষ্মা, আমার ভালোবাসা এবং ঘৃণা ধারণ করবার ক্ষমতা রেখেছে। রুদ্রকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, দূর থেকেও। রদ্র সেই মানুষ, রুদ্রই সেই মানুষ, যে কোনো দূরত্ব থেকে তাকে ভালোবাসা যায়।
যৌথ জীবন আমরা যাপন করতে পারিনি, কিন্তু যত দূরেই থাকি, আমরা পরস্পরের কল্যাণকামী ছিলাম।
রুদ্রর পায়ের আঙুলে একবার বার্জার্স ডিজিজ হয়েছিল। ডাক্তার বলেছিলেন পা’টাকে বাঁচাতে হলে সিগারেট ছাড়তে হবে। পা এবং সিগারেটের যে কোনো একটিকে ডাক্তার বেছে নিতে বলেছিলেন। রুদ্র সিগারেট বেছে নিয়েছিল। জীবন নিয়ে রুদ্র যতই হেলাফেলা করুক, কবিতা নিয়ে করেনি, কবিতায় সে সুস্থ ছিল, নিষ্ঠ ছিল, স্বপ্নময় ছিল। পাকস্থলীতে ক্ষত নিয়েও সে খাওয়ায় অনিয়ম করতো। কোনো অসুখই রুদ্রকে বশে রাখতে পারেনি, রুদ্র উড়েছে, ঘুরেছে, নেশায় মেতেছে। এই বয়সে রক্তচাপ সাধারণত বাড়ে না, রদ্রর বেড়েছে, তবু সবচেয়ে বিস্ময় এই যে, কোনো রোগই রুদ্রকে রুগ্ন করেনি, রুদ্র সকল অসুস্থতা আড়াল করে অমলিন হেসেছে।
সকল অসুখ অতিক্রম করে এসে রুদ্র তার নিভৃত রক্তচাপ__যে রক্তচাপ তার হৃদপিন্ডে আঘাত হানবার জন্য ক্রমশ বেগবান হচ্ছিল, তাকে শেষ অব্দি ঠেকাতে পারেনি। তবু এ একেবারেই অবিশ্বাস্য যে কামাল, নিশাত, জাফর, ইকতিয়ার, আজগর, শামীম, সালাউদ্দিন, রেজা সকলেই থাকবে__কেবল রুদ্র থাকবে না। প্রতি বছর জাতীয় কবিতা উৎসব হবে, রুদ্র থাকবে না, একুশের মেলা হবে__ধুম আড্ডা হবে__রুদ্র থাকবে না। এ কি আশ্চর্য নয় যে রুদ্র আর শাহবাগে আসবে না, ‘ইত্যাদি’তে না, রামপুরায় না! রুদ্র নিশ্চয়ই আসবে, হঠাৎ একদিন ফিরে আসবে। টি.এস.সি-তে দাঁড়িয়ে চা খাবে, লাইব্রেরির মাঠে বসে আড্ডা দেবে, বিকেলে অসীমদার প্রেসে সকলকে অবাক করে দিয়ে রুদ্র বলবে, বাড়ি গিয়েছিলাম, এই এলাম। রুদ্র তবু ফিরে আসুক। এক বছর, দু’ বছর, পাঁচ বছর, দশ বছর পর হলেও রুদ্র ফিরে আসুক। রুদ্র তার অসুস্থতার মত মৃত্যকেও অতিক্রম করে সত্যিকার ফিরে আসুক। কাঁধে কালো ব্যাগ, রুদ্র হেঁটে যাক মঞ্চের দিকে, সম্মিলিত মানুষের দিকে, কবিদের তুমুল আড্ডায় রুদ্র তার তাবৎ মৃত্যকে আড়াল করে দুর্বিনীত হেসে উঠুক।”

You may also like...

  1. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    প্রতি বছর জাতীয় কবিতা উৎসব হবে, রুদ্র থাকবে না, একুশের মেলা হবে__ধুম আড্ডা হবে__রুদ্র থাকবে না। এ কি আশ্চর্য নয় যে রুদ্র আর শাহবাগে আসবে না, ‘ইত্যাদি’তে না, রামপুরায় না! রুদ্র নিশ্চয়ই আসবে, হঠাৎ একদিন ফিরে আসবে। টি.এস.সি-তে দাঁড়িয়ে চা খাবে, লাইব্রেরির মাঠে বসে আড্ডা দেবে, বিকেলে অসীমদার প্রেসে সকলকে অবাক করে দিয়ে রুদ্র বলবে, বাড়ি গিয়েছিলাম, এই এলাম। রুদ্র তবু ফিরে আসুক। এক বছর, দু’ বছর, পাঁচ বছর, দশ বছর পর হলেও রুদ্র ফিরে আসুক। রুদ্র তার অসুস্থতার মত মৃত্যকেও অতিক্রম করে সত্যিকার ফিরে আসুক। কাঁধে কালো ব্যাগ, রুদ্র হেঁটে যাক মঞ্চের দিকে, সম্মিলিত মানুষের দিকে, কবিদের তুমুল আড্ডায় রুদ্র তার তাবৎ মৃত্যকে আড়াল করে দুর্বিনীত হেসে উঠুক।”

    — চমৎকার লিখেছেন। অসাধারণ লিখেছেন। [দুঃখিত কোন ইমো কাজ করছে না] অনেক কিছুই জানা ছিল না। রুদ্রের প্রেমে পরে গেলাম। রদ্র থাকবে তারুন্যের হৃদয়ে আজীবন… posologie prednisolone 20mg zentiva

    irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

missed several doses of synthroid
puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec
side effects of quitting prednisone cold turkey