১৯৫২ – ইতিহাসের পূনর্লিখনী

459

বার পঠিত

১৯৫২ সাল । cialis new c 100

২০শে ফেব্রুয়ারী ।

রাত সাড়ে এগারটা ।

মগবাজারের কাছের একটা টিনের বাসাতে এক হয়েছে পাঁচজন মানুষ ।

রীহার চকচকে চুল মৃদু আলোতে চিক চিক করছে । সামনের চারজনের দিকে একবার করে তাকায় ও । এদের ফাইনাল ব্রীফ দিয়ে আজকের মত কাজ শেষ করতে হবে । একটা ছয় ঘন্টার ঘুম না হলে দলের সদস্যরা কালকে শতভাগ কর্মক্ষম থাকবে না । অথচ আগামীকালের অভিযানটার ওপরই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ।

দলের প্রত্যেকের বুকের মাঝখানে বাংলাদেশের পতাকা । মৃদু আলোতে সেগুলোও চকচক করছে ।

দলের প্রত্যেকের দিকে একবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় রীহা । তিরাণের দিকে চোখ পড়তে একটু অস্বস্তি হয় ওর । তিরাণের দৃষ্টিটা একজন কমান্ডারের দিকে অধীনস্ত সোলজারের দৃষ্টি নয় । ওর চোখের প্রতিবিম্বে কমান্ডার রীহা থেকে নারী রীহার ছায়াই বেশি ।

তার পাশেই অটল পায়ে দাঁড়িয়ে আছে কিয়া, বালান আর রাইমা ।

রাইমা দলের দ্বিতীয় নারী সদস্য ।

’২১শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৫২ তে কি ঘটেছিল সে কথা তোমাদের নিশ্চয় আরেকবার মনে করিয়ে দেয়ার দরকার নেই ?’ ভ্রু কুঁচকে জানতে চায় রীহা ।

মাথা নাড়ে সবাই । প্রত্যেকে আর কিছু পড়ে আসুক আর না আসুক – আগামীকাল যা ঘটতে যাচ্ছে তার ওপর দেয়া স্কয়ার ডিস্কটা পড়ে এসেছে । zovirax vs. valtrex vs. famvir

‘আমাদের মিশন শুরু হবে আগামীকাল –  অ্যাট লোকাল টাইম সিক্স হান্ড্রেড । ‘গতি’ ফোর্স যোগ দিচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজে । ওরা পাঁচ জন এরই মাঝে চলে এসেছে আশা করছি । আর্টিলারি আসতে আসতে লোকাল টাইম এইট হান্ড্রেড । তারপরই আমাদের অ্যালার্ট থাকতে হবে । পুরো দেশের ইতিহাস আমাদের ওপর নির্ভর করছে । আন্ডারস্টুড ?’

‘ইয়েস, স্যার !’ একসাথে বলে প্রত্যেকে ।

নারী কমান্ডার হলেও ম্যাম বলার নিয়ম বাংলাদেশ আর্মিতে নেই । ‘স্যার’ সম্বোধন বাধ্যতামূলক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি ।

‘অ্যানি কোয়েশ্চেন ?’ জানতে চায় রীহা ।

‘স্যার !’ বলে দলের সবচেয়ে কোয়ালিফাইড সোলজার তিরাণ । ‘আর্টিলারি অ্যাপারেট করবে কোথায় ?’

‘এখনও আমরা জানি না । আর্টিলারির অ্যাপারিশন সম্পর্কে জানাটা সম্ভব নয় । আগামী কাল চারটার মাঝে আমাদের থাকতে হবে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য ।এরই মাঝে আর্টিলারিকে খুঁজে বের করতে হবে আমাদের । তারপর রিপোর্ট করতে হবে গতিকে । অ্যানি আদার কোয়েশেনস ?’

একমুহূর্ত ভাবে রীহা ।

আর্টিলারির মত ভারী জিনিস আগে কখনও পাঠানো হয় নি অতীতে । কাজেই কোথায় নামাতে গিয়ে কোথায় চলে যাবে সেটা জানে না ও । আর আর্টিলারি ছাড়া পাকিস্তানীদের সাথে পারবে না ওরা । ওদের জীবন এবং একটা দেশের ভবিষ্যৎ একেবারেই ঝুঁকির মুখে রেখেই চলে আসতে হয়েছে ওদের । কিছু করার ছিল না ।

সৈনিকেরা চুপ করে আছে । আর কারও কোন প্রশ্ন নেই ।

‘নাউ, ডিসমিস ।’ বলে ঘুরে দাঁড়ায় রীহা ।

সৈন্যরা এখন ঘুমাবে । আগামীকাল ভয়ানক ধকল যাবে ওদের ওপর দিয়ে ।

তাছাড়া অ্যাপারিশনের প্রভাবে প্রত্যেকে ভীষণ ক্লান্ত ।

নিজের ঘরে ঢুকে যায় রীহা । দরজা লাগানোর সাথে সাথে একটা নক শোনে ও ।

আবার খুলতেই দেখা যায় তিরাণকে ।

‘তোমার ঘুমাতে যাওয়ার কথা, তিরাণ ।’ কড়া গলায় বলে রীহা । ছেলেটার ওর প্রতি দুর্বলতা আছে ।

‘কমান্ডার রীহা, আমি একটা ব্যাপারে শুধু আপনার সাথে আলোচনা করতে চাচ্ছিলাম ।’

‘শুনছি আমি ।’

‘জেনারেল ইয়াকারের প্ল্যানটার মাধ্যমে কি আমরা আরও একটা ভুল করতে যাচ্ছি না ? কোলাটেরাল ড্যামেজ বলছেন তিনি যাদের – তাদের কিন্তু ইতিহাসে বেশ গুরুত্ব আছে ।’

‘নতুন ইতিহাসেও থাকবে । সোলজার, তুমি মিউটিনির দায়বদ্ধতা নিতে চাও ?’

‘স্যার, পুরো প্রক্রিয়াটা একটা ভুল । আমাদের হাতে – শুধু আমাদের হাতেই দারুণ সুযোগটা এসে গেছে । পুরো ঘটনাটা আমরা নিখুঁত ভাবে শুরু আর শেষ করতে পারি ।’

‘কমান্ড ইজ কমান্ড, তিরাণ । আর এই মুহূর্তে আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি ঘুমাতে যাওয়ার । ছয় ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন আমার প্রতিটা সৈনিকের । ডিসমিস ।’

দড়াম করে দরজা লাগিয়ে দেয় রীহা ।

ওর মাথায় ঘুরছে মাত্র পাঁচ ঘন্টা আগের মিটিংটার কথা ।

অথবা দুই হাজার একষট্টি বছর পরের মিটিংটার কথা ! capital coast resort and spa hotel cipro

৪০১৩ সাল ।

ঢাকা ক্যানটনমেন্ট  ।

গোলটেবিল বৈঠক চলছে ।

জেনারেল ইয়াকার দুই হাত একত্র করে বসে আছেন । ইনি-ই বাংলাদেশের কমান্ড-ইন-চীফ ।

পাশেই দাঁড়িয়ে ব্রিগেডিয়ার ফাজহার । দুইজনের মুখই থমথমে ।

তৃতীয় আরেকজনকে দেখা যায় । ইনি ছেলেমানুষী চেহারার অধিকারী । একনজর দেখেই বলে দেয়া যায় এই মানুষটি আর্মিতে ছিলেন না কোনদিনই । বেশ হাসি হাসি মুখ নিয়েই চারপাশের অবস্থা দেখছেন ইনি ।

সামনে বসে থাকা দশজন মানুষের দিকে তাকিয়ে আছেন জেনারেল ইয়াকার । এদের ওপরই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে । কিংবা অতীত !

মুখ খোলে ব্রিগেডিয়ার ফাজহার ।

‘তোমাদের প্রত্যেকের সামনেই একটা করে স্কয়ার ডিস্ক দেওয়া হয়েছে । পুট দেম ইন ইয়োর আইসি ।’

প্রত্যেকেই তাদের ইন্টারনাল কম্পিউটারে স্কয়ার ডিস্কগুলো ঢুকিয়ে দেয় । নিউরণের সাথে বেশ সহজেই সিঙ্ক করতে পারে প্রতিটা মানুষের মাঝে থাকা আইসি কম্পিউটারগুলো । তের বর্গ মিলিমিটারের স্কয়ার ডিস্কগুলো চট করে ভরে ফেললেই প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পায় ওরা ওদের চোখের সামনেই । tome cytotec y solo sangro cuando orino

তাই বলে ইন্টারনাল কম্পিউটারের কারণে মানুষকে রোবট ভাবার কোন কারণ নেই । মানুষের চিন্তা ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করতে অথবা সাহায্য করতে পারে না আইসি । শুধু আগের মত সাথে ল্যাপটপ বহনের ঝামেলা কমে গেছে – এই যা ! এখন তথ্য জানার জন্য আলাদা করে কম্পিউটারের প্রয়োজন হয় না ভেতরে আইসি ইন্সটল করা থাকলে ।

বাংলাদেশ আর্মির প্রতিটা সদস্যকে আইসি ইন্সটল করতে হয় ।

দুই মিনিটেরও কম সময়ে তথ্যগুলো জেনে নেয় সোলজাররা । তবে তিনমাসের ট্রেইনিং শেষে হঠাৎ ওদের ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে কেন এ ব্যাপারে কেউ কিছু বুঝতে পারে না । তাই বলে প্রশ্নও করে না কেউ । সেনাবাহিনীতে প্রশ্ন চলে না ।

এবার মুখ খোলেন জেনারেল ইয়াকার স্বয়ং ।

‘ছোট্ট একটা কাজ তোমাদের । আমাদের দেশের ইতিহাস তোমরা জানো । সাতচল্লিশ সালের ইন্ডিয়া পাকিস্তান ভাগাভাগিটাই ঠিক হয় নি । তারপর পাকিস্তানের মাঝে আমাদের ঢুকিয়ে দেওয়াটা ছিল আরেকটা বোকামি । মাত্র পাঁচ বছরের মাথাতেই ১৯৫২তে প্রকাশ পায় সেই অদূরদর্শী দেশ বিভাগের ফলাফল । ভাষার মত গুরুতর ব্যাপারেও একচুল ছাড় দিতে চায় নি পশ্চিম পাকিস্তানীরা । এই সমঝোতায় অবিশ্বাসী পশ্চিম পাকিস্তানীদের স্বভাব এর পরেও অটুট ছিল । ১৯৭১ সালে এসে সেটার পরিচয় বেশ প্রকটভাবে পাওয়া যায় । তবে আমাদের হাতে সুযোগ আছে এখন সেসব ভুল শুধরে নেয়ার ।’

প্রতিটা সৈনিক চুপচাপ শোনে । জেনারেল ইয়াকার হঠাৎ ইতিহাসের ক্লাস নিচ্ছেন কেন ?

এই মান্ধাতা আমলের ব্যাপারে জানে ওরা । কিন্তু এখন এই রুদ্ধদার বৈঠকে এসব শুনে ওদের কি ছাইটা লাভ হবে ?

জেনারেল ইয়াকারের মাথা বোধহয় গেছে ।

জেনারেল অবশ্য আরেকটা মাথার ওপর ছেড়ে দেন তাঁর আচরণের ব্যাখ্যার ভার ।

‘ডক্টর ল্যারো ।’ সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন জেনারেল  তৃতীয় ছেলেমানুষ মানুষটার সাথে, ‘এই মহান বিজ্ঞানীই এখন আমাদের প্ল্যানটা ব্যাখ্যা করবেন তোমাদের ।’

উঠে দাঁড়ালেন বিজ্ঞানী ল্যারো । শ্রদ্ধার সাথে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকে দশজনই ।

ইনিই ডক্টর ল্যারো ?

তথ্যপ্রযুক্তি এত এগিয়ে গেলেও ইনার ছবি পর্যন্ত দেখেনি কেউ ।

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান এই মানুষটার মেধা আর অসাধারণ উদ্ভাবনীশক্তির সাথে পৃথিবীর একজন মানুষের সাথেই তুলনা করা যায় ।

আইনস্টাইন !

আইনস্টাইনের বহু অসমাপ্ত থিওরি তিনি সমাপ্ত করেই ক্ষান্ত দেন নি । সেগুলো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করে ছেড়েছেন ।

বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম তাঁর ভালোবাসা । ধ্বংসাত্মক সব আবিষ্কার কেবল বাংলাদেশের জন্যই করেছেন তিনি । পৃথিবীর মাঝে অতিক্ষুদ্র এই রাষ্ট্রটাকে আর সব রাষ্ট্রগুলো সমীহের চোখে দেখে – তার কারণ একটাই । বাংলাদেশ আর্মি চাইলেই পরিবেশের কোনরকম ক্ষতিসাধন না করেই বাংলাদেশ বাদে আর সব জায়গার প্রতিটা মানুষকে একেবারে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলতে পারে ! গোপন ধ্বংসাত্মক আবিষ্কারগুলো বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ রাখেন ঠিকই – তবে ফিজিক্সকে বহুদূর নিয়ে গেছেন তিনি এবং সেসব আবিষ্কার পৃথিবীর সামনে প্রকাশও করেছেন ।

এই মুহূর্তে বোর্ডের সামনে চলে গেছেন মানুষটা । আইসির সাথে বোর্ডের ভেতরের প্রজেক্টরের ফ্রিকোয়েন্সী ঠিক করছেন । এর ফলে স্লাইডের নড়াচড়া করাতে পারবেন কেবল ইচ্ছেশক্তির মাধ্যমেই ।

‘সোলজারস – তোমরা নিশ্চয় ভাবছ এতক্ষণ যেসব শুনলে – তার সাথে তোমাদের সম্পর্ক কোথায় ?’ বলেন বিজ্ঞানী ।

দশজোড়া আগ্রহী চোখ তাকিয়ে থাকে তাঁর দিকে ।

ওদের আর বেশিক্ষণ ঝুলিয়ে রাখেন না ল্যারো, ‘টাইম ট্রাভেল করে ১৯৫২ তে যাচ্ছ তোমরা । এখন থেকে তিন ঘন্টার মাঝেই ।’

‘পরিকল্পনাটা সহজ । ১৯৫২ থেকেই রেষারেষি আলোতে আসা শুরু করে । তারপরের উনিশ বছর টানা হাউকাউ চলেছে । অনেক প্রাণ তো এই সময়ে গেছেই – তারওপর গেছে ’একাত্তর সালে । ত্রিশ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কোন দরকার ছিল কি ? যদি আমরা ১৯৫২ এর রেষারেষিটাকে কেন্দ্র করে তখনই  পশ্চিম পাকিস্তানী সরকারকে একেবারে ধ্বংস করে দেই ?’

বিজ্ঞানী ল্যারোর মুখে একটা দুষ্ট হাসি দেখা যায় ।

সামনের দশজনের মুখেও একটা হাসির বাঁক ফুটে উঠতে যায় । প্রত্যেকেই মনে-প্রাণে বাংলাদেশী । হাজার হাজার বছর আগে দেশটা কিভাবে জন্ম নিয়েছে জানে ওরা । এবং যতবারই সেই ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে যায় – ততবারই ওদের পীড়া দেয় লক্ষ মানুষের মৃত্যুর ইতিহাস । হাজার হাজার তরুণ – সম্ভাবনাময় যুবক-প্রৌঢ়ের অকাল মৃত্যু ।

একটা যুদ্ধ কিভাবে একটা দেশকে শত বছর পিছিয়ে দিতে পারে সেই দৃশ্য ইতিহাসের সাথে যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে । প্রতিটা বাংলাদেশীরই মনের গহীনে একটা ইচ্ছে লুকিয়ে থাকে – টাইম মেশিন আবিষ্কার করা গেলে সেটা ব্যাবহার করে ১৯৭১ সালে ফিরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ।

জেনারেল ইয়াকার আর ডক্টর ল্যারোর আইডিয়াটা আরও চমকপ্রদ ! একেবারে বায়ান্নতে জাম্প করতে পারছে ওরা । ওখানেই হয়ে যাবে মুক্তিযুদ্ধ । একঢিলে কয়েক পাখি কাত হবে – সেই সাথে রক্ষা পাবে লক্ষ লক্ষ জীবন ।

‘টাইমমেশিনের থিওরী কাজে লাগিয়েছি । মোটামুটি বেশ কয়েকটা পরীক্ষাও করে ফেলেছি । তোমরা নিরাপদেই যেতে পারবে । তোমাদের যেতে হবে ২০ ফেব্রুয়ারীতে । এটা একটা সৌভাগ্য ।’ clomid over the counter

‘স্যার -’ মাঝপথে ল্যারোকে থামায় রীহা, ‘আমাদের অন্তত দুইদিন আগে নামানোটা ভালো হত বলে আমি মনে করি । আচমকা আমাদের প্ল্যান পালটানো লাগতে পারে । কারণ এরকম অভিযানে আমাদের এটাই প্রথম যাত্রা ।’

‘আ’ম সো সরি, ইয়াং লেডি ।’ দুঃখপ্রকাশ করেন ল্যারো, ‘এটা আর সম্ভব না পালটানো । তোমাদের আর তিনঘন্টার মাঝেই রওনা দিতে হবে । আর তোমরা পৌঁছবেও ২০শে ফেব্রুয়ারী, রাত দশটায় । কারণ, টাইম ট্রাভেল আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে নি এখনও । পরিপার্শ্বকে কাজে লাগিয়ে শুধু নির্দিষ্ট টাইম গ্যাপে জাম্প করছি আমরা । বিংশ শতাব্দীর একটা মাত্র চ্যানেল খোলা পেয়েছি । সৌভাগ্যক্রমে সেটা ২০শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৫২ ।’

চুপ হয়ে যায় সবাই ।

‘তোমাদের আরেকটা সমস্যা আছে ।’ ওদের দিকে চোখ বোলান ল্যারো । মস্তিষ্ক থেকে ইঙ্গিত দিতেই বোর্ডে ঢাকার ম্যাপ ফুটে ওঠে । ১৯৫২ সালের ।

‘তোমরা অ্যাপারেট করবে এখানে । মানে টাইম ট্রাভেলের ব্যাপারটা এভাবেই বলে থাকি আমি । গতি আর দুরন্ত – দুটো ফোর্স দুই জায়গাতে । তবে কাছাকাছিই । হিউম্যান অ্যাপিরিশন নিরাপদ হওয়ার কথা । কিন্তু তোমরা আর সামনে ট্রাভেল করে ফিরে আসতে পারবে না । ওখানকার বাংলাদেশটাকে সামলাতে হবে তোমাদেরই । সেজন্যই আলাদা করে তোমাদের যোগ্য দশজনকে বাছাই করে গত তিনমাসের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে ।’

পিনপতন নীরবতা ঘরের মাঝখানে ।

সবাই তাকিয়ে আছে ল্যারোর দিকে । glyburide metformin 2.5 500mg tabs

‘আর্টিলারি পাঠাতে হবে – এই প্রয়োজনীয়তা নিশ্চয় অনুভব করছ ? এই একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই । তিনটে নায়াম্বী আর দুটো কাঠঠোকরা পাঠাতে পারলেই পাকিস্তান তো পাকিস্তান – সেই সাথে ১৯৫২ সালের ইন্ডিয়া আর চীনকেও একাধারে ছেঁচে দেয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস । তবে অবশ্যই -’ যোগ করেন ল্যারো, ‘আমাদের টার্গেট শুধুই পাকিস্তান । আর কারও ওপর আক্রমণের চেষ্টা করবে না তোমরা একান্ত বাধ্য না হলে । বোঝা গেছে ?’

মাথা ঝাঁকায় প্রতিটা সৈন্য ।

নায়াম্বী জিনিসটা ভয়ানক । ল্যারো আর আমেরিকান বিজ্ঞানী জোসেফের মিলিত আবিষ্কার এটা । দেখতে প্রকান্ড এক ট্যাংকের মতই । শুধু এর আর্মোর প্রায় ইনফিনিটি পর্যায়ের । আর ১৯৫২ সালের বিচারে একটা নতুন নায়াম্বী টিকবে কম করে হলেও এক হাজার বছর । সেখানে তিনটে নায়াম্বী ! নায়াম্বীর আরও দুর্দান্ত দিকটি হল এই মারণাস্ত্র দিয়ে নির্দিষ্ট একটি ইউনিফর্মকে টার্গেট করা যায় ।

৪০১৩ সালের আর্মিদের নির্দিষ্ট কোন রণ ইউনিফর্ম থাকে না ।

সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টে একটা ইউনিফর্ম পড়ে ঠিকই – কিন্তু যুদ্ধ ক্ষেত্রে সেটা করা মানেই সম্পূর্ণ বাহিনীর নির্মম মৃত্যু । একটা নায়াম্বী দাঁড়িয়ে থাকলেই কাজ হয়ে যাবে ।

নায়াম্বীদের চারপাশে মোট দুইশ একুশটা সুইভেল গান আছে । বাইরের আবরণটা বন বন করে ঘুরে নায়াম্বীর চারপাশে থাকা একটা দুইহাজার সৈন্যের আর্মিকে শুইয়ে দিতে এটার লাগে মাত্র সাড়ে চার সেকেন্ড ।

সাউন্ড ওয়েভটা আরও ভয়ংকর ।

কোনঠাসা নায়াম্বী সাউন্ডওয়েভ ব্যাবহার করে চারপাশের দুইফিট থেকে বারো মাইল পর্যন্ত একেবারে ধ্বংস করে ফেলতে পারে ।

কাঠঠোকরাগুলোও ল্যারোর থিওরির ওপর ভিত্তি করে তৈরী । বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও নেই এই জিনিস ।

হেলিকপ্টারের মত দেখতে এই উড়ুক্কু যুদ্ধবাহনগুলোর কোন রোটর নেই । সোজা বাতাস কেটে ওপরে নিচে – ডানে বামে যেদিকে ইচ্ছে উড়তে পারে ওগুলো । সবচেয়ে ভয়ানক ফাংশন হল ‘জলোচ্ছ্বাস’ । একটা মাত্র কমান্ড দিয়ে জলোচ্ছ্বাসের জন্য আদেশ দিতে হবে শুধু কম্পিউটারকে – পরমুহূর্তেই শুরু হবে তান্ডব । buy kamagra oral jelly paypal uk

ইউনিফর্ম টার্গেট করে অ্যাটাক এরাও করতে পারে । এদের আক্রমণটা একেবারে রক্তপাতহীন । মাইক্রোগান থেকে শুধু কমান্ড দেয়া থ্রেটদের ওপর হামলা চালাবে কাঠঠোকরা – হিউম্যান অ্যানাটমি নিয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান দেয়া আছে প্রোগ্রামটাকে । বিন্দুর মত ফুটো করে মরণ ঢুকে যাবে শত্রুদের খুলিতে । মাত্র একজনই যথেষ্ট এটাকে অপারেট করতে ।

জলোচ্ছ্বাস – আক্রমণটা নিউক্লিয়ার অ্যাটাক । পাকিস্তানের মত আস্ত একটা দেশকে ছারখার করে দিতে একটা কাঠঠোকরার খুব বেশি হলে আড়াই ঘন্টা লাগবে ।

‘কাঠঠোকরাগুলোকে পাঠানো হচ্ছে নিরাপত্তার কথা ভেবে । নেহায়েত বাধ্য না হলে সিভিলিয়ানদের ওপর আক্রমণ করবে না তোমরা । ১৯৭১ এ পশ্চিম পাকিস্তানীরা যা করেছিল ৪০১৩ এর বাংলাদেশীরা কি সেই কাজ করবে ?’

‘নেভার, স্যার !’ বেশ কয়েকজন বলে ওঠে ।

‘একটা মাত্র সমস্যা আছে আমাদের প্ল্যানে । আর্টিলারিগুলো কোথায় ডিপ্লয় হচ্ছে সেটা আমরা জানতে পারছি না ।’

থমথমে মুখে চেয়ে থাকে দশজনই । আর্টিলারিগুলোর ওপরই ওদের মিশন নির্ভর করছে । নাহলে অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়েও দশজন মিলে পারবে না পাকিস্তানী আর্মির সাথে । আর ২১শে ফেব্রুয়ারী যে তান্ডব ওরা চালাবে – আর্মি নামতে বাধ্য ।

 

‘কিছু রিস্ক থাকবেই, ডক্টর ।’ উঠে দাঁড়ালেন জেনারেল ইয়াকার । ‘প্রসেসটা জানলে তোমরা । এবার দ্রুত তোমাদের ব্রিফ দেই আমি । এর পর আর্টিলারি ফোর্সের অপারেটরদের ব্রিফ দিতে হবে । সময় বেশি নেই হাতে ।’

আগ্রহের সাথে তাকিয়ে থাকে প্রত্যেকে । ঝুঁকি নিতে পিছপা নয় ।

‘তোমরা সীনে এন্টার করছ রাত দশটার দিকেই । সেখান থেকে মগবাজারের কাছে একটা তৎকালীন শূন্য বাড়িতে আশ্রয় নেবে ‘দুরন্ত’ রাতের মত । বেশ খোঁজাখুঁজি করে পুরোনো ডেইটা ঘেঁটে তোমাদের হাইডআউট নির্বাচন করা হয়েছে । আর ‘গতি’ চলে যাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে । ছেলেগুলো স্মার্ট অবশ্যই । ওদের ব্যাপারটা বুঝে এবং মেনে নিতে পারবে আশা রাখি । ওখানেই আশ্রয় নেবে ‘গতি’ । পরের দিনের কাজটা সহজ । কোন রকম বাধার সম্মুখীন তোমরা হবে না । নয়টা থেকেই পরিবেশ উত্তপ্ত থাকতে যাচ্ছে ।’

মনোযোগের সম্পূর্ণটা ঢেলে শুনে যাচ্ছে প্রতিটা সৈনিক ।

‘দুরন্ত রওনা দেবে আগে । ছয়টার সময় মিশন শুরু হবে সবারই । গতি তার জায়গাতেই থাকবে । দুরন্ত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে খুঁজবে আর্টিলারিকে । আর্টিলারি আর তোমাদের একটা ইন্টার কমিউনিকেশনের উপযোগী মাধ্যম দেয়া হবে । কিন্তু ৫২ তে সেটা কেমন কাজ করবে আমরা জানি না । কাজেই সময় লাগতে পারে অনেক । কিন্তু দুরন্ত সময় পাচ্ছ দুপুর চারটা পর্যন্ত । এর মাঝেই আর্টিলারিকে খুঁজে বের করতে হবে তোমাদের । তারপর  ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কাছে গিয়ে প্রস্তুতি নেবে পরিস্থিতি সামলানোর । আশা করছি দুপুর চারটা থেকে বিকেল পাঁচটার দিকে আর্মি নামাবে পাকিস্তান । তোমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে তোমরা ক্লিয়ার ?’

‘ইয়েস স্যার !’ গর্জে ওঠে প্রত্যেকে । দেশপ্রেমের আগুন ঝলকাচ্ছে ওদের মুখ-চোখ থেকে ।

‘আরেকটা কথা ।’ থমথমে মুখে বলেন জেনারেল ইয়াকার, ‘গতি ঢাকা মেডিকেল কলেজে থাকবে ঠিকই – কিন্তু পুলিশের গুলিতে আবদুস সালাম, আব্দুল জব্বার, আবুল বরকত আর রফিক উদ্দীন আহমেদদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অ্যাকশনে নামবে না । আই রিপিট – তার আগে তোমরা উইপনস ফ্রি না । এর আগে যে গুলি করবে তাকে বিদ্রোহী ঘোষণা দিচ্ছি এখনই । ওদের মারা যেতে হবে । এটার ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে । কিছু কোলাটেরাল ড্যামেজ থাকবেই । আন্ডারস্টুড ?’

হতভম্ভের মত জেনারেলের দিকে তাকিয়ে থাকে স্পেশাল ফোর্সের সৈনিকরা ।

ভাষাশহীদদের বাঁচানোর উপায় থাকতেও ওদের মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিতে বলা হচ্ছে ওদের ?

নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে প্রত্যেকের ।

কমান্ডার-ইন-চীফকে সরাসরি প্রশ্ন করার একটা ধরণ থাকে । সেসব উপেক্ষা করে উঠে দাঁড়ায় রীহা ।

‘স্যার ?’ এই একটা শব্দের মাঝেই প্রশ্নের বৃষ্টি ছুঁড়ে দেয় রীহা জেনারেলের দিকে ।

‘তোমার কাছ থেকে অন্তত এরকম বাজে অভিব্যক্তি আশা করি না, মেজর রীহা !’ ভর্ৎসনার সুরে বলেন জেনারেল ইয়াকার ।

বিগ্রেডিয়ার ফাজহার মুখ খোলে এবার, ‘রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটা বিবেচনায় আনতে হবে আমাদের । সেটা কি ভুলে যাচ্ছ ?’

ক্ষোভের দৃষ্টি ফুটে থাকে তবুও দশ জনের চোখে মুখে ।

ফাজহার আরেকটু ব্যাখ্যা করেন, ‘পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ মারা গেছে ভাষার দাবীতে – এই ভাবেই ব্যাপারটা শুরু করতে হবে । পাল্টা হামলা করে তোমরা একেবারে শুইয়ে দেবে পশ্চিম পাকিস্তানকে । কিন্তু যদি কোন রক্তপাতের আগেই তোমরা হামলা চালাও – সারা বিশ্ব আমাদেরকে ঘৃণা করবে সেজন্য । আমাদের স্বীকৃতি দেবে কিছু রাষ্ট্র হয়ত – কিন্তু বেশিরভাগই অস্বীকার করবে স্বাধীন বাংলাদেশকে । পৃথিবীতে আমাদের পরিচয় আছে একটা অন্যায়ের প্রতিবাদে লড়াকু জাতি হিসেবে , তখন সবাই দেখবে ঘৃণার দৃষ্টিতে – জঙ্গী পরিচয়ে ।’

‘কারণ ১৯৫২ সালের পৃথিবী জানে না – বাংলাদেশ নামের একটা দেশের জন্মের আগে কতবার মার খেতে হয়েছে এই জাতিটাকে । কারণ, তখনও মারগুলো খায় নি পূর্ব পাকিস্তান । এখন যদি তোমরা অ্যাটাকটা কর সিভিলিয়ানদের মৃত্যুর আগে তাহলে আমাদের পরিচয় একটা উগ্র জাতি হিসেবে দেখানো হবে ইতিহাসে ।  কাজেই বাইরের পৃথিবীর কাছে নিজেদের সম্মান ধরে রাখতে কিছু মানুষের মৃত্যু জরুরী ।’

সবাই চুপ হয়ে যায় এবার । বিগ্রেডিয়ার ফাজহারের কথাতে যুক্তি আছে ।

পূর্ব পাকিস্তানের ওপর কোন ধরণের অন্যায্য হামলা পশ্চিম পাকিস্তান ২০ ফেব্রুয়ারী, ১৯৫২তে করে নি তখনও । তাহলে কোন যুক্তিতে প্রতি আক্রমণ করতে যাবে পূর্ব পাকিস্তান ?

‘সবাই কি স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছ ?’ জেনারেল ইয়াকারের গলা গম গম করে ওঠে ।

‘স্যার !’ জবাব দেয় প্রত্যেকে । kamagra pastillas

বুকে একটা অসন্তোষ কাজ করলেও যুক্তির দাবীতে ভাষাশহীদদের বাঁচানোর জন্য কিছুই করার নেই ওদের ।

যে পরিমাণ প্রযুক্তি সাথে করে নিয়ে যাচ্ছে – তিন-চারটা পশ্চিম পাকিস্তান ধুলোতে মিশিয়ে দেয়াটা অসম্ভব নয় । কিন্তু তারপরও চোখের সামনে ভাষাশহীদ লিজেন্ডদের মৃত্যু দেখতে হবে ওদের ।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে রীহা ।

কমান্ডার হিসেবে ওর বুকের যন্ত্রণাটা আরও বেশি !

*

২১ শে ফেব্রুয়ারীর কাকডাকা ভোর ।

দীর্ঘদিনের ট্রেইনিংয়ের সুফল – একই সাথে ঘুম ভেঙ্গে যায় ‘দুরন্ত’বাহিনীর পাঁচজনের ।

নিউক্লিয়ার হীটার ঘরের মাঝখানে রেখে ঝটপট খাবার প্রস্তুত করে ফেলে কিয়া আর রাইমা । সেই সাথে প্রত্যেকের জন্য একটা বড় কাপে কফি ।

সবার মুখ থমথমে হয়ে আছে ।

আজকের অভিযান ওদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে ।

পরিচিত প্রতিটি রাস্তা – প্রতিটি মুখ, প্রতিটি স্থান – সেই ৪০১৩ সালে রেখে এসেছে ওরা ।

এই যে এখন অক্ষুন্ন নীরবতা ঘরের মাঝে – সবার মাথায় কি এক ঝলকের জন্য সেই চিন্তা উঁকি দেয় না ? রীহার মাথাতেও একই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে । উঠে দাঁড়ায় ও কফির মগ হাতে নিয়ে । আরেকহাতে প্রোটনিক সিগার – সারাজীবন টেনেও শেষ করতে পারবে না একে , পূর্ব পাকিস্তানের সবাই মিলে চেষ্টা করেও । সিগারে একটা টান দিয়ে বলতে শুরু করে ও ।

‘তোমরা সবকিছু ছেড়ে এসেছ । একটা মিশনে যাওয়ার সময় সবাই বের হয় আবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য । কিন্তু তোমরা জানো – দেয়ার ইজ নো টার্নিং ব্যাক ফ্রম হেয়ার । যে প্রযুক্তির মাঝে থেকে অভ্যস্ত আমরা সেসব ছাড়াই বেঁচে থাকতে হবে আমাদের । অবশ্য তিন মাসের নন-টেকনলজী ট্রেইনিংটা বেশ কাজে দেবে । আমাদের রওনা হওয়ার সময় প্রায় হয়ে গেছে । ছোট একটা ব্যাপার শুধু তোমাদের মনে করিয়ে দেয়াটা দরকার ।’

সবাই তাকিয়ে থাকে রীহার অনিন্দ্যসুন্দর কিন্তু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মুখটার দিকে ।

‘আমাদের পরিচিত কিছুই নেই এই পৃথিবীতে – এটা ভাবছ তো ? ভুল । একটা কিছু আছে যা ১৯৫২ তেও আমাদের আছে ৪০১৩তেও আমাদের ছিল । এই দেশটা । আমাদের দেশ । বাংলাদেশ আমাদের । আমরা একে রক্ষা করবই ।’

চাপা গর্জন ছেড়ে একমত পোষণ করে সৈনিকেরা ।

‘প্যাক ইয়োর গীয়ার্স ।’ উঠে দাঁড়ায় রীহা ।

ঠিক ছয়টার সময় টিনশেড বাসাটার দরজা খুলে বের হয়ে আসে পাঁচজনের ছোট দলটি ।

মেইন রোড এড়িয়ে এগুতে হবে । নাহলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অপরাধে ওদের গুলি করে বসাটাও বিচিত্র নয় ।

যুদ্ধটা সময়ের আগে শুরু করতে চায় না ওরা কেউ ।

পাঁচ ফিট দশ ইঞ্চির রীহার পেছনে একটু লম্বা তিরাণ – তার পেছনে বালান, কিয়া আর রাইমা । ধীর পায়ে হেঁটে এগুচ্ছে ওরা । হিসেব করে একটা সার্কেল বের করে দিয়েছেন ডক্টর ল্যারো । এর মাঝেই অ্যাপারিশন হওয়ার কথা আর্টিলারিবাহিনীর । কাজেই সেই সার্কেলের সেন্টারে যেতে হবে ওদের ।

রীহা চোখে সানগ্লাস লাগিয়েছে । চমৎকার লাগছে ওকে দেখতে ।

তিরাণের কাঁধের ব্যাগটা ও যেভাবে ধরে আছে – ওকে দেখলে ভাবাটা অস্বাভাবিক নয় – ভার্সিটির স্টুডেন্ট – ক্লাস করতে যাচ্ছে । বালানের হাতে একটা ছোট চারকোণা বস্তু । মোবাইল বলে কিছু নেই আজকের পৃথিবীতে । তাই এখনকার জনতার কাছে অচেনা লাগবে এই জিনিস । দেখতে মোবাইলের মত হলেও কাজ এর ভিন্ন ।

আশে পাশে কিছু অ্যাপারেট করলে বুঝতে পারবে বালান । আর্টিলারি চলে আসলেই তাদের লোকেশনে ছুটে যেতে হবে ওদের । কারণ নিজেদের মাঝে যোগাযোগের যন্ত্রটাগুলোর ওপর ওরা ভরসা করতে পারছে না ।

কিয়া আর রাইমা কিছু একটা নিয়ে কথা বলছে পেছনে ।

টানা একঘন্টা হেঁটে কাল্পনিক সার্কেলের ঠিক মাঝখানে পৌঁছে যায় ওরা ।

এবার যেখানেই অ্যাপারেট করুক ওদের আর্টিলারি – ওদের নূন্যতম সময় লাগবে তাদের নিয়ে আসতে । ঘড়ি দেখে রীহা ।

ছয়টা পঞ্চান্ন ।

আর পাঁচ মিনিট পর প্রথমবারের মত গতির সাথে যোগাযোগ করা হবে ।

 

‘একটা ভয়ংকর সম্ভাবনা কি উঁকি দেয় না তোমার মাথায় ?’ মৃদু গলায় রাইমাকে বলতে শোনে রীহা ।

‘যেমন ?’ কিয়া জানতে চায় ।

‘পাকিস্তান যদি হাতে টাইম ট্রাভেলের প্রযুক্তিটা পেয়ে যায় – ৪০১৩ তে না হোক, তারও ভবিষ্যতে – আরও হাজার হাজার বছর পরে ? আর যেহেতু ডক্টর ল্যারো আজ আবিষ্কার করে ফেলেছেন – একহাজার বছর পর হলেও তো আরেকজনও আবিষ্কার করতে পারবেন । আর একবার পাকিস্তান হাতে টাইম ট্রাভেল প্রযুক্তি পেয়ে গেলে কি হবে বুঝতে পারছ ?’

‘আমাদের ধ্বংস করতে একটা বাহিনী পাঠাবে ওরা । কত ভবিষ্যত থেকে সেটা আসবে আমাদের জানা থাকবে না, জানা থাকবে না কি ধরণের প্রযুক্তির সাথে আমাদের ডীল করতে হবে ।’ বিড় বিড় করে বলে কিয়া ।

আশংকাটা জোর করে নিজের বুকের ভেতর চাপা দেয় রীহা ।

এই সময় উত্তেজিত বালানের কন্ঠ শোনা যায়, ‘স্যার ! আমাদের রেডিও কাজ করছে না ।’

‘ডেল্টা টু জিটা । ডেল্টা টু জিটা । ডু ইউ কপি ?’

পঁচিশতমবার ডাক দিয়ে ক্লান্ত হয়ে সোজা হয় রীহা ।

সাতটা বিশ বাজে । সময় এগিয়ে যাচ্ছে হুড় হুড় করে । গতির সাথে যোগাযোগ করাই সম্ভব হল না । এখন যদি আর্টিলারির সাথে রঁদেভু করতেও পারে – সেখান থেকে তাদের নিয়ে গতির সাথে যোগাযোগ করাটা ঝামেলা হয়ে যাবে ।

‘আমাদের ডিভাইস ঠিক আছে ।’ বালান জানায় রীহাকে । ‘দুটো ব্যাপার হতে পারে – হয়ত ওদের ডিভাইসও ঠিক আছে এবং পৃথিবী এখনও জীরুৎ ওয়েভের সমুদ্রে ঢুকেনি । কাজেই আমাদের রেডিও কাজ করার কথা না ।’

শুধুমাত্র জীরুৎ ওয়েভের আবিষ্কারের জন্যই বিজ্ঞানী জীরুৎ সেভলস্কি একটা নোবেল পেয়েছেন । পৃথিবী এই অদ্ভুত ধরণের ওয়েভের সাগরে ডুবে আছে । অতি সহজেই যোগাযোগ করা সম্ভব এর মাধ্যমে । পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে ! কোন টাওয়ারের প্রয়োজন হয় নি এরপর থেকে পৃথিবীর মানুষের । একটা করে জীরুৎ রেডিও থাকলেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে যে কোন প্রান্তের সাথে কথা বলতে পারবে যে কেউ ।

কিন্তু ১৯৫২ সালে এই ওয়েভের অস্তিত্ব পৃথিবীতে ছিল কি না ওরা জানে না ।

সৌরজগতের অবস্থান একেবারে অটল নয় । বিজ্ঞানীদের ধারণা ১৯০০ সালের এদিক-ওদিকেই জীরুৎ ওয়েভের সমুদ্রে ডুবে গেছে পৃথিবী । কিন্তু এই ‘এদিক-ওদিকে’র হিসেবে ঝামেলা আছে । পাঁচশ বছর কম বেশি হতে পারে । half a viagra didnt work

‘অপর সম্ভাবনা হল গতি তাদের রেডিও নষ্ট করে ফেলেছে ।’ বালান বলে ।

শূন্য দৃষ্টিতে নিজের হাতের দিকে একবার তাকায় রীহা ।

যোগাযোগবিহীন এই অতীতে কিভাবে নিজেদের সাথে মতবিনিময় করবে ?

সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় অবশ্য ।

উঠে দাঁড়ায় রীহা, ‘আমাদের শিডিউল আমরা ঠিক রাখব । আটটাতে আমাদের আর্টিলারির চলে আসার কথা – কাজেই আমরা ওদের উদ্ধার করতে যাব । বালান চোখ রাখ রেডিওর দিকে । গতিকে পাও কি না দেখ । বাকিরা ফোকাস কর মিশনের দিকে । কি হতে পারে আর কি হতে পারে না – এসব নিয়ে ভাবার সময় এখন না ।’

তিরাণ, কিয়া আর রাইমা একটু অ্যাটেনশন হয়ে দাঁড়ায় একথায় ।

প্রোটনিক সিগারটা বের করে গল গল করে ধোঁয়া ছাড়ে রীহা । আরেকটা ভয়ানক সম্ভাবনার কথা মাথায় উঁকি দিচ্ছে ওর ।

গতির সবাই ঠিক মত অ্যাপারেট করতে পেরেছে তো ? নাকি ৪০১৩ আর ১৯৫২ এর মাঝে কোন টাইম ট্র্যাপে আটকে গেছে চিরতরে ?

*

আটটা পনেরতে বালানের উল্লসিত চিকার শোনা যায়, ‘গট আ সিগন্যাল !’

‘গতির ব্যাপারে বলছ ?’ দ্রুত এগিয়ে এসে জানতে চায় রীহা ।

‘না । আর্টিলারি পৌঁছে গেছে । এখান থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দক্ষিণে ।’

‘চমৎকার । আমাদের চার ঘন্টা লাগবে ওদিকে পৌঁছতে ।’ বিরক্তির সাথে বলে রীহা ।

যদিও বিরক্ত হওয়ার কোন কারণ নেই । কাল্পনিক বৃত্তের রেডিয়াস ছিল দেড়শ কিলোমিটার পর্যন্ত । সে তুলনায় কাছেই অ্যাপারেট করতে পেরেছে ওরা ।

ইশারায় সবাইকে কাছে ডাকে রীহা ।

‘আমরা এখন উভয় সংকটে আছি । যদি চার ঘন্টার হাইক দিয়ে আমরা চলে যাই আর্টিলারির কাছে – বারোটা বিশ বাজবে ঘড়িতে । আর তখন যদি গতির কাছ থেকে কোন খবর না পাই তখন আমাদের কিছুই করার থাকবে না । কারণ গতির কাছে আর্টিলারি নিয়ে পৌঁছানো যাবে না । আগেভাগে এসব নায়াম্বী আর কাঠঠোকরা দেখে ফেললে পাকিস্তানীরা কি করে কোন ঠিক নেই । বাইরের সাহায্য চেয়ে বসাটা বিচিত্র নয় । তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা তখন প্রবল । কাজেই পায়ে হেঁটে যেতে হবে গতির কাছে । সারপ্রাইজিং এলিমেন্ট হিসেবেই রাখতে হবে আর্টিলারিকে ।  আবার আর্টিলারির কাছ থেকে হাইকিং এর মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পৌঁছতে আমাদের লাগবে ছয় ঘন্টা । সন্ধ্যা ছয়টা সাতটা বেজে যাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পৌঁছতেই । অপারেশনটা বাতিল হয়ে যাবে । গতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । যুদ্ধটা ওরাই শুরু করবে । আমরা আর্টিলারি নিয়ে গিয়ে সেই যুদ্ধ শেষ করব । কিন্তু গতি ছাড়া মিশন ব্যর্থ হয়ে যাবে আমাদের ।’

সবাই শুকনো মুখে চেয়ে থাকে । বেশ ভালো সংকটে পড়েছে ওরা । গতি যোগাযোগ রাখতে পারলে অবশ্য এত কিছু ভাবতে হত না !

‘আমাদের প্ল্যানটা কি ?’ জানতে চায় রাইমা ।

‘স্যার – আমার একটা প্রস্তাব ছিল ।’ তিরাণ বলে ।

‘বল, তিরাণ ।’ রীহা সুযোগ দেয় ওকে ।

‘আমি চলে যেতে পারি ঢাকা মেডিকেল কলেজে । একটা রেডিও নিয়ে । যদি গতি পৌঁছে গিয়ে থাকে – তবে আমি জানাব । আর না পৌঁছালেও জানাব । সেক্ষেত্রে অন্তত গতির ব্যাপারটা নিশ্চিত হতে পারছি আমরা । ’

‘আমার প্ল্যানটাও এরকমই ছিল ।’ একমত হয় রীহা, ‘এখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হেঁটে যেতে দুই ঘন্টা লাগবে  বড়জোর । আর আমরা তখন হাফওয়ে তে থাকব । সকাল দশটার মাঝে খবর দিচ্ছ তাহলে গতির ব্যাপারে। আর, একা না গিয়ে আরেকজনকে নিয়ে যাও ।’

‘না, স্যার ।’ মাথা নাড়ে তিরাণ, ‘আমাদের লোকবল এমনিতেই কম । একা যাওয়াই বেটার ।’

‘বেস্ট অফ লাক, তিরাণ ।’

অবহেলিত এই সৈনিক যখন একা একা চলে যেতে থাকে রীহার কেন জানি মনে হয় ছেলেটার সাথে হয়ত আর দেখা হবে না ।

দুরন্তের বাকি চারজন অন্যদিকে এগিয়ে যায় । আর্টিলারি বাহিনী ওদিকেই কোথাও আটকে আছে ।

হাতের যন্ত্রগুলোতে ব্লিপ দিচ্ছে ওদের অবস্থান ।

‘বালান, আর্টিলারির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা কর । ’

‘করে যাচ্ছি । ওদেরও পাত্তা নেই ।’

বিরক্ত হয় রীহা । এই মিশনটার সবকিছুই উল্টা-পাল্টা !

কিছুই প্ল্যানমত এগুচ্ছে না ।

ওরা কি ব্যর্থ হতে চলেছে ? renal scan mag3 with lasix

রাস্তা ধরে হেঁটে চলেছে তিরাণ ।

১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে ফেব্রুয়ারীর এই সুন্দর দিনটিতে – জানা আছে ওর । কাজেই রাস্তায় মানুষ কম ।

ওর সুঠাম দেহ আর সেই সাথে মানানসই উচ্চতার জন্য রাস্তার অনেকেই ওর দিকে তাকাচ্ছে অবাক হয়ে । ভাগ্যিস কাঁধের ব্যাগে কি কি নিয়ে যাচ্ছে সেগুলো দেখতে পাচ্ছে না ওরা – ভাবে তিরাণ  ।

মাথা ভারী হয়ে আছে চিন্তায় ।

শুধু যোগাযোগ রক্ষার জন্যই এই দায়িত্ব নিতে চায় নি তিরাণ । ওর উদ্দেশ্য ভিন্ন ।

গতি ফোর্সের ভেতর অ্যাকাডেমী থেকে পরিচয় – সেই মেয়েটাকে দেখেছিল ও মিটিং-এ । ঠিকমত মনে থাকলে মেয়েটার নাম লুনা । এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে কেবল ওর সাথেই খোলামেলা আলাপ করা যেতে পারে ।

ভাষাশহীদদের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করাটা বেশ নিন্দনীয় কাজ হয়ে যাবে । ভাষাশহীদদের রক্ত নিজেদের হাতে লাগাতে চায় না তিরাণ । তবে এজন্য গতি আর দুরন্তের মাঝে অন্তত কয়েকজনের সাপোর্ট দরকার । জেনারেল ইয়াকারের স্পষ্ট হুকুম – ভাষাশহীদদের মারা যেতে হবে । তারপর হামলা করবে ওরা ।

ভাষা শহীদদের বাঁচানো ওদের মিশন নয় – মুক্তিযুদ্ধ ত্বরান্বিত করা আর নিশ্চিত বিজয় নিশ্চিত করাটাই মুখ্য উদ্দেশ্য ।

এটা মেনে নিতে পারছে না তিরাণ । যখন সুযোগ পেয়েই গেছে তখন রফিক,জব্বার, সালামদের ও একটা স্বাধীন বাংলাদেশে হাঁটার সুযোগ করে দিতে চায় । স্বাধীন বাংলাদেশে কবর দিতে চায় না ওদের ।

নয়টা বেজে গেছে ।

ছাত্ররা ভীড় করে আছে ক্যাম্পাসে – আজকের ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বেড়িয়ে পড়ার জন্য প্রত্যেকেই প্রস্তুত । amiloride hydrochlorothiazide effets secondaires

কিন্তু এরা দুপুর ২টার আগে বের হবে না । জানা আছে তিরাণের ।

নেতাদের অমান্য করবে – নাকি তাদের চাপ দিয়ে বুঝিয়ে নিজেদের সমর্থনে আনবে সেটাই ভাবছে ছাত্ররা । গতকালের মিটিংটাই এর কারণ ।

আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টা নবাবপুর রোডে ।

আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে ভোট হলে ১১-৩ ভোটে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার সিদ্ধান্তই নেয়া হয় ।

আবুল হাশিমের ব্যক্তিত্বটা আকর্ষণীয় । ইনি মাত্র চারদিন পরই জেলখানাতে ঢুকে যাবেন ভাষা আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার কারণে । মুক্তি পাবেন ১৬ মাস পরে – জানে তিরাণ । ফাইলগুলো পড়া আছে ওর ।

তবে এযাত্রা সবকিছু ঠিক মত চললে কাওকেই কারাগারে ঢোকা লাগবে না ।

১১-৩ ভোটে ১৪৪ ধারা মেনে নেয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্য ছাত্রদের পছন্দ হয় নি মোটেও । রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ভোটাভুটি চলেছে । সলিমুল্লাহ হল এদিক দিয়ে এগিয়ে আছে । তারা ভোটের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামিকাল বেরিয়ে পড়া হবে । পশ্চিম পাকিস্তানের ১৪৪ ধারার খ্যাতা ওরা পুড়ে । সলিমুল্লাহ হলের মিটিংয়ের সভাপতি আটাশ বছর বয়েসী শাহাবুদ্দীন ।

এই ফকির শাহাবুদ্দীন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাগলের মত ছুটে বেড়াবেন শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, জাপান, হংকং, সিঙ্গাপুর , মালয়েশিয়াতে । মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে । মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বাইরের দেশের জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে ।

তবে তিরাণদের মিশন সাকসেসফুল হলে উনাকে আর কষ্ট করতে হবে না ।

প্রায় পৌঁছে গেছে তিরাণ ঢাকা মেডিকেল কলেজে ।

এদিকেই থাকার কথা গতি ফোর্সের । side effects of quitting prednisone cold turkey

তিরাণের ইউনিফর্মের বাংলাদেশের পতাকাটা চক চক করতে থাকে – এখানকার মানুষের কাছে যেটার অর্থ দুর্বোধ্য ।

তবে গতি এরই মাঝে পৌঁছে গেলে মেডিকেল কলেজের ছাত্ররাই এগিয়ে এসে ওকে নিয়ে যাবে গতির কাছে । গতিরও একই রকম ইউনিফর্ম আছে । কাজেই দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে সমস্যা হওয়ার কথা না ওদের ।

মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে আজ থমথমে একটা পরিবেশ থাকার কথা ।

সেজায়গাতে সবাই আজ বেশ উৎফুল্ল ।

একটা সভা হচ্ছে বটে গাছতলাতে – তাতে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করাও হচ্ছে । কিন্তু সবাই বেশ হাল্কা মুডেই আছে ।

হোস্টেলের দোতলায় এই সময় দেখতে পায় তিরাণ গতি ফোর্সের কমান্ডার মিদরাতকে ।

কমান্ডারেরও চোখ পড়েছে তিরাণের ওপর । নেমে আসতে থাকে ও ওপর থেকে ।

সামরিক কায়দায় একজন আরেকজনের সাথে হাত মেলায় ওরা ।

‘দুরন্ত কোন সমস্যায় পড়েছে নাকি ?’ জানতে চায় কমান্ডার মিদরাত । বুকের অসংখ্য ব্যাজে ইউনিফর্ম ঢাকা পড়ে গেছে বলতে গেলে ।

‘আমরা উল্টোটাই ভেবেছিলাম । আপনাদের রেডিও ডেড ।’ জানায় তিরাণ ।

‘ও হ্যাঁ । ওটাকে ঠিক করার চেষ্টা চলছে । কিভাবে জানি নষ্ট হয়ে গেল । ভেতরে আসো । মিশন স্ট্যাটাস ?’ acquistare viagra in internet

‘আর্টিলারি পৌঁছে গেছে । রঁদেভু পয়েন্টে যাচ্ছে দুরন্ত ।’

ওদের ক্যাম্প যেই রুমটায় করা হয়েছে সেখানে আসতে ভাঙ্গা রেডিওটা চোখে পড়ে তিরাণের । একেবারে গুঁড়িয়ে গেছে ।

‘ওটার অবস্থা এরকম হল কি করে ?’ জানতে চায় তিরাণ ।

ওর কন্ঠ শুনে ঘাড় ফেরায় রেডিও নিয়ে খুটখাট করতে থাকা মেয়েটা । লুনাকে বহুদিন পর এত কাছ থেকে দেখছে তিরাণ । লুনাও অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে ।

‘তিরাণ,  তুমি এখানে ? দুরন্ত কোথায় ?’

‘দুরন্ত আর্টিলারিকে রিসিভ করতে গেছে । রেডিওতে তোমাদের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দেখতে পাঠালো আমাকে কমান্ডার রীহা ।’

রীহার নামটা বলতে মনে পড়ে তিরাণের । রেডিও বের করা যোগাযোগ করে বালানের সাথে ।

‘গট দেম । সেইফ অ্যান্ড সাউন্ড । এনি আপডেটস ?’

‘হাফওয়ে দেয়ার । বিগ ট্রাবলস অ্যাহেড । পসিবিলিটি অফ স্লাইট ডিলে । ওভার অ্যান্ড আউট ।’

বালানের কথা শুনে দুশ্চিন্তা আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে তিরাণের মাথায় ।

কি ধরণের সমস্যাতে পড়তে চলেছে ওরা ?

সামনের দিকে তাকিয়ে আছে রীহা ।

মাত্র পৌঁছেছে ওরা রঁদেভু জোনে । কিন্তু এটা দেখতে হবে আশা করে নি ।

পুরোনো একটা জমিদার বাড়ীর ঠিক মাঝখানে গেঁথে আছে একটা নায়াম্বী ।

গ্রামের দিকেই পাঠানোর চিন্তা করা হয়েছিল নায়াম্বী আর কাঠঠোকরাগুলো । এতে ওদের পৌঁছানোর খবর রাডারের নিচে থাকবে । শহরের মাঝে অদ্ভুত দর্শন যুদ্ধযান নামতে দেখলে নিশ্চয় চাউর হয়ে যাবে সেই খবর দ্রুত । সারপ্রাইজিং ব্যাপারটা আর থাকবে না তখন ।

কিন্তু বাকি দুটো নায়াম্বী ঠিকমত অ্যাপারেট করেছে । সফলভাবে অ্যাপারিশন প্রসেসের মাঝ দিয়ে গেছে কাঠঠোকরাগুলোও ।

এই একটা নায়াম্বীই আটকে গেছে জমিদারবাড়ির মাঝে ।

কে জানত এই সময় এখানে একটা জমিদারবাড়ি ছিল ? আর ওদের স্ট্রাকচার বেশ শক্ত হয় । চোখ দিয়ে মেপেই বুঝতে পারে রীহা – দেয়ালগুলো চার ফিট করে পুরু । নায়াম্বীটা শক্তভাবেই আটকেছে দোতলাতে ।

আর্টিলারি ফোর্সের কমান্ডার ভন মিরা এগিয়ে আসে, ‘আপনাদের আশা করছিলাম, কমান্ডার রীহা ।’

‘আটকে আছেন কতক্ষণ ধরে ?’

‘নামার পর থেকেই । চার ঘন্টা মত হল ।’

ব্যস্ত ভঙ্গীতে ঘড়ি দেখে রীহা । বারোটা বেজে গেছে ।

আর মাত্র দুই ঘন্টা পরই শুরু হতে যাচ্ছে ভাষা আন্দোলনের প্রথম রক্তগঙ্গা ! আর ওরা কি না আটকে আছে একটা নায়াম্বী নিয়ে ।

‘সাউন্ড ওয়েভ ব্যবহার করে ভেঙ্গে বের হয়ে যেতে পারেন তো ।’ সহজ সমাধানটা কেন কমান্ডারের মাথায় আসে নি – ভেবে বিরক্তি বোধ করে রীহা ।

‘সম্ভব নয় ঝুঁকিটা নেয়া । নায়াম্বী একবার উলটে গেলে সেটাকে সোজা করা সম্ভব না আর । যেভাবে বাঁকা হয়ে আটকেছে – সাউন্ডওয়েভের ধাক্কায় পুরো বাড়িটা ফেলে দিলে উল্টে যেতে পারে নায়াম্বীটা । তাহলে আমাদের একটা নায়াম্বী হারাতে হবে । মিশনটা শুধু আজকের দিনের জন্য নয়, কমান্ডার রীহা । আরও একহাজার বছর দরকার আমাদের এই নায়াম্বী তিনটা । আমরা হারাতে পারি না একটা ।’

অবস্থাটা এতক্ষণে স্পষ্ট হয় রীহার কাছে ।

বেশ ভালো গ্যাড়াকলেই পড়া গেছে !

‘প্রয়োজনে আমাদের দুটো নায়াম্বী নিয়েই কাজ সারা লাগবে, কমান্ডার ভন মিরা ।’ সাজেশন দেয় রীহা ।

‘তাই মনে হচ্ছে । কিন্তু পাক আর্মির সাথে লাগার সময় পুরো শক্তিটাই হাতে রাখতে চাইছিলাম ।’

রাইমা এগিয়ে আসে সামনে ।

‘সাউন্ড ওয়েভের কথা চিন্তা করার জন্যই আসলে সমস্যাটা হচ্ছে । সাউন্ড ওয়েভের যে ডেস্ট্রাকশন পাওয়ার – তাতে কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারে না নায়াম্বী কোন দিকে কাত হবে ।’ can your doctor prescribe accutane

চুপচাপ তাকিয়ে থাকে তার দিকে কমান্ডার দুইজন ।

‘মানে, আমি বলতে চাইছি – আগে আমরা বিস্ফোরক দিয়ে চারপাশটা গুঁড়িয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে নামাতে পারি নায়াম্বীটাকে । একবারে গ্রাউন্ডের কাছাকাছি নিয়ে আসা যাবে আশা করি ছোট ছোট বিস্ফোরক ব্যবহার করে ।’

‘তারপরও কিন্তু জমিদারবাড়িতেই আটকে থাকবে নায়াম্বী ।’ সন্তুষ্ট হতে পারে না বালান । পাশে দাঁড়িয়ে আছে ও ।

‘না, আইডিয়াটা ভালো ।’ একমত হয় কমান্ডার ভন মিরা, ‘মাটির কাছে নামিয়ে এনে আমরা সাউন্ড ওয়েভ ব্যবহার করব । নায়াম্বী উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকবে না ।’

বিস্ফোরক লাগিয়ে দেয় রীহা আর রাইমা ।

দূরে এসে ডিটেনেটরে আলতো চাপ দিতেই এলাকা কেঁপে ওঠে প্রচন্ড শব্দে । জমিদার বাড়ির শক্ত দেয়ালও প্রতিরোধ করে যায় । হাল্কা একটু নেমে আসে নায়াম্বীটা ।

তারপর আবারও কাছে গিয়ে চার্জ ফিট করা এবং আবারও সেটা ফাটিয়ে নায়াম্বীকে আরেকটু নামানো ।

অনেকক্ষণ পর ঘড়ি দেখে রীহা । একটা বাজে প্রায় ।

নায়াম্বীটাও নেমে গেছে অনেকটাই নিচে । ভন মিরা কমান্ড দেয় নায়াম্বীর অপারেটরকে, ‘সাউন্ড ওয়েভ ব্যবহার করতে পারো , টারো।’ will metformin help me lose weight fast

ত্রিশ ফিট বৃত্তাকার এলাকাতে সাউন্ডওয়েভ লক করে আলতো করে কনসোলের একটা জায়গা স্পর্শ করে নায়াম্বী-০২ এর মাঝে বসে থাকা অপারেটর টারো ।

বিকট শব্দের সাথে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় জমিদারবাড়িটা ।

সামনে এগিয়ে আসতে থাকে মুক্ত নায়াম্বী ।

উল্লাসে হর্ষধ্বনী করে সৈনিকেরা ।

*

‘আমিও সেটাই ভাবছিলাম ।’ চোখ সরু করে বলে কমান্ডার মিদরাত । zithromax azithromycin 250 mg

আবার মুখ খোলে তিরাণ, ‘শুধু একটি বার নিজেকে ইতিহাসের সামনে দাঁড় করিয়ে দেখুন । সুযোগ পেয়েও আমাদের লিজেন্ডদের যদি আমরা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেই সেটা কোন পর্যায়ের অপরাধ হতে যাচ্ছে – বুঝতে পারছেন তো ?’

‘পারছি, তিরাণ । গতকাল এখানে পৌঁছেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি – জেনারেল ইয়াকারের আদেশ অমান্য করব আমরা । ’ posologie prednisolone 20mg zentiva

‘একটা প্রশ্ন ছিল ।’ একপাশ থেকে বলে দলের কনিষ্ঠতম সদস্য তামির, ‘তিরাণ আমাদের সাথে একমত সেটা আমরা বুঝতে পারছি । ভাষা শহীদদের শহীদ হতে দেব না আমরা । পুলিশ গুলি ছোঁড়ার আগেই আমরা আক্রমণ করব । এবং আক্রমণের কোন সীমারেখা রাখব না । পাক আর্মিকে নাক বের করতে বাধ্য করব । বিদ্রোহ হলে সেটা তাই । কিন্তু কমান্ডার রীহা কি আমাদের সাথে একমত ? নাকি তিরাণ  শুধু তার নিজের বক্তব্যই পেশ করছে ?’

ঘরের মাঝে শুনশান নীরবতা নেমে আসে ।

অবশেষে মুখ খোলে তিরাণ, ‘এটা কেবল আমার ব্যক্তিগত মতামত । কমান্ডার রীহা জেনারেলের কমান্ডের বাইরে যেতে চান না ।’

‘আমাদের হাতে এখন হিস্টোরি, তিরাণ । প্রয়োজনে রীহাকে বন্দী করে রাখতে হবে । কিন্তু আমরা দুইটার সময় অ্যাটাক করতে যাচ্ছি । এটাই ফাইনাল ।’ জোর গলায় বলে লুনা ।

‘তাছাড়া, এখানকার সবাই জানে ভাষা আন্দোলন করার পেছনে যে কোন সহযোগীতা করবে ভবিষ্যত থেকে আসা মানুষগুলো । এখন যদি আমরা চোখের সামনে গুলি খেয়ে ওদের মাটিতে পড়ে যেতে দেখেও হাত পা গুটিয়ে রাখি – তাহলে জনগণই আমাদের প্রত্যাখ্যান করবে ।’ কমান্ডার মিদরাত বলে গাল চুলকে ।

‘কমান্ডার ভন মিরার সাথে যোগাযোগ করা হোক । রীহা না বুঝলেও ইনি হয়ত বুঝবেন ।’ আস্তে করে বলে রিফাজ । কাঠঠোকরার অপারেটর হিসেবেও বেশ দক্ষ এই সৈনিক ।

‘ভালো আইডিয়া । রেডিওটা দাও ।’

রেডিও নিয়ে একপাশে সরে যায় কমান্ডার মিদরাত ।

‘বাংলাদেশ আর্মির চোখে আমরা এখন বিদ্রোহী ।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে লুনা ।

‘বাংলাদেশ আর্মি এখনও গঠিত হয় নি, লুনা । আর আমাদের প্রত্যেকেই খাঁটি দেশপ্রেমিক । সব সময়ে কমান্ড মেনে চললে হয় না । মাঝে মাঝে সময়ের দাবীতে কমান্ডের বাইরে কাজ করা লাগে ।’

‘কিন্তু জেনারেল ইয়াকারের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ছিল । আমাদের একটা কজ দরকার ছিল যুদ্ধ শুরু করার জন্য । বায়ান্ন সালে অন্তত সেরকম কজ নেই আমাদের হাতে ।’ এতক্ষণ চুপ থাকা দৈত্যাকার শরীরের অধিকারী নাফসান বলে এবার ।

‘জানি আমি । কূটনৈতিক চাল দিতে গেলে আমাদের আজ চোখের সামনে বেশ কিছু স্বদেশী লিজেন্ডের মৃত্যু দেখতে হবে । আমরা সোলজার, নাফসান । নিজের ট্রুপের কাওকে আমাদের জীবন থাকতে চোখের সামনে মারা যেতে দিতে পারি না !’ তীব্র গলাতে বলে তিরাণ ।

চুপ হয়ে যায় গতি ফোর্সের চার সদস্য – লুনা, নাফসান, রিফাজ আর তামির ।

কমান্ডার মিদরাতকে দেখা যায় ফিরে আসতে । আগ্রহের সাথে তার দিকে তাকিয়ে থাকে বাকি চারজন ।

‘কমান্ডের বাইরে এক পা-ও এগুতে রাজি নন কমান্ডার ভন মিরা । আমাদের সতর্ক করে দিলেন – কেবল ভাবনাতেই যেন সীমাবদ্ধ থাকে আমাদের এসব চিন্তাভাবনা । নাহলে বিদ্রোহী বলে গন্য করবেন তাঁরা আমাদের ।’

উতেজিত হয়ে ওঠে লুনা, ‘আমরা যথেষ্ট দক্ষ যোদ্ধা, কমান্ডার । লেটস অ্যাটাক দোজ পাকিস্তানী বাস্টার্ডস । তারপর দুরন্ত আর আর্টিলারি বাহিনীকে পরে সামলানো যাবে । প্রয়োজনে ওদের সাথেও যুদ্ধ করব আমরা । কিন্তু ভাষাশহীদদের চোখের সামনে মারা যেতে দেব না ।’

একটা হাত তোলে কমান্ডার মিদরাত, ‘আর্টিলারি সাপোর্ট না থাকলে আমাদের কিছু করার নেই, লুনা । একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে । যদি ভন মিরা মত পরিবর্তন না করে – জেনারেল ইয়াকারের প্ল্যান অনুযায়ীই চলতে হবে আমাদের । মারা যাচ্ছেন আমাদের লিজেন্ডরা । আমরা সেটা দেখব শুধু । কিছু করব না ।’

‘আর্টিলারি সাপোর্ট যদি আমাদের দিকে নিয়ে নেই আমরা ?’ মেপে মেপে কথাগুলো বলে রিফাজ ।

‘মানে ?’

‘আমি কাঠঠোকরা অপারেট করতে পারি । একটা কাঠঠোকরা নিজের আওতায় আনতে পারলে পুরো যুদ্ধটা একাই শেষ করে দেব ।’

‘পৃথিবীতে আছেই মোটে দুটো কাঠঠোকরা, রিফাজ !’ বিরক্তির সাথে বলে কমান্ডার মিদরাত, ‘নিজেরা নিজেরা মারামারি করেই ধ্বংস করে দিতে চাও নাকি ওগুলোও ? তাছাড়া – এত সময় নেই । আর দেড় ঘন্টা মাঝেই শুরু হয়ে যাবে গোলাগুলি ।’

কিন্তু কেউ মানতে পারে না ভাষাশহীদদের মৃত্যু ঠেকাতে কিছু করতে পারবে না – এই সত্যটা ।

সবাই চাচ্ছে প্রয়োজনে ভন মিরার সাথে লড়াই করে আর্টিলারিগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার ।

এই সময় খড় খড় করে ওঠে রেডিও ।

‘আলফা টু জিটা । আলফা টু জিটা । ডু ইউ রিড মি ?’

‘কপি ।’ হাতে রেডিও তুলে নেয় কমান্ডার মিদরাত ।

‘ডোন্ট ডেয়ার টু অ্যাটাক আস ।’ মিদরাত থমকে যায় – ওদের চিন্তাভাবনা বুঝতে পারছে কি করে ভন মিরা ?

‘নাথিং লাইক দ্যাট ইজ অন আওয়ার মাইন্ড , কমান্ডার ।’ তাকে আশ্বস্ত করে মিদরাত ।

‘তিনটে নায়াম্বী আর দুটো কাঠঠোকরার কথা ভুলে যেও না । ফলো জেনারেল’স অর্ডার । ওভার অ্যান্ড আউট ।’

প্লাটিনাম গানটা বের করে তিরাণ ।

‘যে কাওকে ভাষা আন্দোলনকারীদের দিকে অস্ত্র বের করতে দেখলেই গুলি করব আমি । আপনার কমান্ডে আমি চলি না, কমান্ডার মিদরাত । কাজেই বাধা দেয়ার অর্ডার করতে পারেন না । আমাকে থামাতে হলে আমার মাথায় একচিলতে লেজার ঢুকিয়ে দিন ।’

ভাষা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধের একটা সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আপার লেভেলের উভয় সংকটময় আদেশ আর সহযোদ্ধাদের মতবিরোধে  সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে ‘গতি’ ফোর্সের কমান্ডার মিদরাত ।

দেশটার ইতিহাসে এমন সংকটজনক মুহূর্ত আসেনি আগে কখনও ।

বহরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কমান্ডার ভন মিরা ।

সামনে ‘দুরন্ত’ ফোর্সের চারজন ।

‘তাহলে আপনারা একটা নায়াম্বী নিয়ে ক্যন্টনমেন্টের সামনে চলে যেতে পারেন । এক ঘন্টার বেশি লাগার কথা না ।’

বলে ভন মিরা ।

‘আর এগিয়ে লাভ নেই । ওদিকে আমার একজন লোক অলরেডি আছে ।’ জানায় রীহা, ‘আশা করি ওরা প্রথম ধাক্কাটা সামলে ফেলবে । সেটায় তিনটে বাজার কথা । আমার মনে হয় আমরা একসাথেই রওনা দিতে পারি দুইটার দিকে ।’

‘সেটা করা যায় । তবে আপনাদের আগেভাগে পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছি কারণ গতির ওপর একটা চোখ রাখা দরকার । ওদের মাঝে বিদ্রোহের একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে ।’ আঙ্গুল ফোটায় ভন মিরা ।

‘আমার মনে হয় না ওরা বিদ্রোহ করবে ।’ রীহা দ্বিমত পোষণ করে, ‘কারণ আর্টিলারি আপনার হাতেই । আর এসব যুদ্ধযানের প্রতিপক্ষ হিসেবে পাঁচজনের একটা বাহিনী আসলে কিছুই না । সেটা ওদের ভালোই জানা থাকার কথা ।’

মাথা ঝাঁকায় ভন মিরা । doctorate of pharmacy online

‘সেক্ষেত্রে আপনার প্ল্যান কি ?’

‘এখানে দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করা । জেনারেল ইয়াকারের প্ল্যান মোতাবেক ফার্স্ট ওয়েভটা চলে গেলে পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হবে গতির সাথে পুলিশের । পুলিশ প্রতিপক্ষ হিসেবে ওদের সাথে কোন ম্যাচই না । কাজেই খরকুটোর মতই উড়ে যাবে ওরা । তারপর পাক সরকারের টনক নড়ার কথা । আর্মি নামাতে পারে । তখন বহর নিয়ে এগিয়ে যাবেন আপনি । সাথে থাকব আমরা । ওখান থেকে ব্যাটলফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেব আমরা । তারপর তিনজন কমান্ডার একসাথে ঘোষণা দেব পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার ।’

এবারও মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দেয় কমান্ডার ভন মিরা ।

‘তবে তাই হোক । ফাইনাল ব্রিফের জন্য আমার লোকজনকে ডাকছি তাহলে । আপনার প্ল্যান আর আমার প্ল্যানের মিক্স একটা প্ল্যান ওদের জানানো হবে এখন ।’

পেছনে সারি বদ্ধভাবে দাঁড়ানো তিনটি নায়াম্বীর দিকে হাত দিয়ে বিশেষ ইশারা করে ভন মিরা । অপারেটররা বেরিয়ে আসতে থাকে । আরও খানিক পিছে চুপচাপ বসে থাকা কাঠঠোকরা তিনটির ককপিট থেকেও পাইলট দুইজন বেড়িয়ে আসে ।

পাঁচজনের আর্টিলারি ফোর্সের সামনে দাঁড়ায় কমান্ডার ভন মিরা ।

‘গায়জ ! আমাদের সময় উপস্থিত । আর আধ ঘন্টা পরই আমরা রওনা দেব । প্রথমে যাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে দিয়ে । এর মাঝে প্রতিরোধ আসলে তা আমরা প্রতিহত করব । তারপর ক্যান্টনমেন্ট থেকে ওদিকে যাওয়ার পথটা বেছে নেব । সামনে পাকিস্তানী ট্যাংক পড়তে পারে । সেটা সামলানো আমাদের জন্য কোন সমস্যা নয় । এভাবে সামনে বেড়ে ক্যান্টনমেন্ট দখন করে ফেলাটা আমাদের মিশনের ফার্স্ট ফেজ ।’ synthroid drug interactions calcium

‘সেকেন্ড ফেজে কমান্ডার রীহা তাঁর ‘দুরন্ত’ ফোর্স নিয়ে চলে যাবেন এয়ারপোর্টে । পূর্ব পাকিস্তানের আকাশে নতুন কোন প্লেন যাতে না আসে সে ব্যাপারে ওপেন এয়ারে আহ্বান জানাবেন তিনি । এই মুহূর্তে আকাশে থাকা প্লেনগুলোকে ফিরে যেতে বলবেন । তারপর থার্ড ফেজে আসবে কাঠঠোকরারা । কাঠঠোকরারা পূর্বপাকিস্তানের আকাশে উড়ে বেড়াবে টানা তিনদিন । পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যেকোন সাহায্য আসতে দেখলেই তাদের ফেলে দেয়া হবে । বাংলাদেশকে স্বাধীন করার আগ পর্যন্ত আমাদের প্রস্তুতি এরকমই থাকবে । ভবিষ্যতে অনাকাংখিত কিছু ঘটলে ইম্প্রোভাইজ করবে । ইজ এভরিথিং ক্লিয়ার ?’

নায়াম্বী-০১ এর অপারেটর তিকু এগিয়ে আসে একপা ।

‘স্যার – আমাদের বলা হল আধঘন্টা পর রওনা হওয়ার জন্য । কিন্তু আর আধ ঘন্টা পরই ভাষাশহীদদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু হতে যাচ্ছে । সেটা ঠেকানোর জন্য কি গতি কোন স্টেপ নিতে যাচ্ছে ? না নিলে আমি মনে করি আমাদের এখনই এগিয়ে যাওয়া দরকার ।’

তিকুর সাহস দেখে অবাক হয় রীহা । ছেলেটা পরোক্ষভাবে এই মাত্র জেনারেল ইয়াকারের কমান্ডের বিদ্রোহ করে বসেছে !

সেটা সে নিজেও জানে ।

অথচ আর্মিতে বিদ্রোহীদের কোন স্থান নেই ।

রাগে কাঁপতে থাকে কমান্ডার ভন মিরা ।

‘শাট আপ, তিকু ! ইউ নোউ দ্য প্ল্যান, ডোন্ট ইউ ? আমাদের কাজ হল ভাষাশহীদদের গুলি খেতে দেখা । তারপর আক্রমণ করা ।’

এবার এগিয়ে আসে নায়াম্বী-০৩ এর অপারেটর মেয়েটাও ।

‘ফাক দ্য প্ল্যান । আমি আমার নায়াম্বী নিয়ে যাচ্ছি এখনই মেডিকেল কলেজে । কিল মি ইফ ইউ ওয়ান্ট টু স্টপ মি ।’ viagra in india medical stores

‘ইফান !’ গর্জে ওঠে কমান্ডার ভন মিরা । কিন্তু বুঝতে পারে এটা ঠিক ক্যান্টনমেন্ট নয় । চেইন অফ কমান্ডের ব্যাপার-স্যাপার এখানে খাটবে না । ফোর্সের সবাই ভাষাশহীদদের শহীদ হওয়ার আগেই ছুটে যেতে চাচ্ছে !

অপারেটর টারোও একরোখা গলায় জানিয়ে দেয়, ‘আই অ্যাগ্রি উইথ দেম, স্যার ।’ puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

একটু দূরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে কাঠঠোকরার পাইলটদ্বয় – তুনন আর রাদী ।

ওদের মৌনতা বুঝিয়ে দেয় ওরাও একমত ।

জেনারেল ইয়াকারের আদেশ মানছে না কেউ । ভাষাশহীদদের কাছে সাহায্য নিয়ে যেতে চায় প্রত্যেকেই ।

প্রচন্ড ক্রোধে কমান্ডার ভন মিরার সব কিছু ঘোলা ঘোলা লাগে ।

সরাসরি বিদ্রোহ করছে অধীনস্থঃ সৈনিকেরা – তাও আবার আরেকজন কমান্ডারের সামনে ! জেনারেল ইয়াকারের অর্ডারটা আর গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় কমান্ডার ভন মিরার । তারচেয়েও বেশি বাজে সবার সামনে এই অপমানটা ।

বেয়াদব তিকুটার ব্রেইনে এক চিলতে লেজার ঢুকিয়ে দিলে বাকিগুলো লাইনে চলে আসবে – জানা আছে কমান্ডার ভন মিরার ।

বহু বিদ্রোহ এভাবে ঠেকানো গেছে । প্রথম বিদ্রোহীকে সবার সামনে হত্যা করার চেয়ে ভালো শিক্ষা আর নেই ।

কোমড় থেকে লেজার পিস্তলটা খুলে তিকুর দিকে একনিমেষে তাক করতেই থমকে যায় কমান্ডার ভন মিরা ।

নিজের মাথার সাথে ঠান্ডা প্লাটিনামের নলের স্পর্শ অনুভব করেছে ও স্পষ্ট ।

পেছন থেকে কমান্ডার রীহার ঠান্ডা গলাটা শোনা যায় –

‘অস্ত্র নামান কমান্ডার ভন মিরা । আমরা আজ ভাষাশহীদ নামক শব্দটা মুছে ফেলতে যাচ্ছি ডিকশনারী থেকে । নিজের ভাষায় কথা বলার জন্য কেউ মারা যাবে না আজ । মারা যাবে তারা – যারা এই কথা বলার অধিকারটুকু কেড়ে নিতে চাইছিল । উই আর অ্যাটাকিং পাকিস্তানীজ রাইট নাউ ।’

স্বস্তি ফিরে আসে প্রতিটা মানুষের মুখে ।

চোখভরা অবিশ্বাস নিয়ে ঘুরে তাকায় ভন মিরা ।

‘আপনিও, কমান্ডার রীহা ? সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পরিচয় অতি কদর্য একটা জাতি হিসেবে উত্থাপিতি হবে ! কোন কারণ ছাড়াই আমরা লড়তে যাচ্ছি পাকিস্তানের সাথে ! রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা ভুলে যাচ্ছেন আপনি, কমান্ডার রীহা ?’ ভন মিরার হাতের অস্ত্র নেমে এসেছে ।

‘নোপ ।’ একচিলতে হাসি দেয় রীহা প্রথমবারের মত । হাসলে ওকে আরও বেশি সুন্দর দেখায়, যোগ করে ও, ‘যদি বলি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমাদের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার মত আরও ভালো প্ল্যান আমার মাথায় আছে ? ভাষাশহীদদের জীবিত রেখেই ?’

‘আর্টিলারি আমাদের দখলে । যেভাবে মনে চায় অ্যাটাক কর তোমরা এবার । আসছি আমরা ।’

কমান্ডার রীহার গলাটা রেডিওতে শুনতে পেয়ে খুশিতে চোখে পানি চলে আসে তিরাণের ।

আড়াইটা পার হয়ে গেছে ।

আইনপরিষদের সদস্যরা এগিয়ে আসতে যাচ্ছিলেন আইনসভার দিকে । কিন্তু ছাত্ররা বাধা দিয়ে চলেছে তাদের ।

সকাল নয়টা থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দাবী তুলছিল ওরা । এখনও নেতাদের সাপোর্ট পেল না । ক্ষোভ জমে থাকা স্বাভাবিক ।

পরের ঘটনাগুলো ছবির মত মনে আছে প্রত্যেকেরই ।

কাজেই আর সময় নষ্ট করা যায় না । উঠে দাঁড়ায় গতি ফোর্সের কমান্ডার মিদরাত – গলার রগ ফুলিয়ে কমান্ড দেয় ।

‘লুনা আর তামির – ঘুরে বেড়িয়ে যাও – উল্টোদিকটায় চোখ রাখবে তোমরা । পিঠে গুলি খেতে চাই না । রাফিজ আর নাফসান হলগুলোকে সামলাবে । তিরাণ  আর আমি বাকি সব দেখার চেষ্টা করব । নাউ – গেট আউট এভরিবডি ।’

বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এতক্ষণে তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে ।

সিদ্ধান্ত সোজাসাপ্টা । আর ১৪৪ ধারার ভয় নয় । এবার সোজাসুজি গিয়ে আইনসভাতে তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করবে তারা ।

বুকের ভেতরে মাতৃভাষার জন্য অপার ভালোবাসা নিয়ে রাস্তায় নামতে উদ্যত হচ্ছিল ছাত্ররা ।

এই পর্যায়ে লম্বা পা ফেলে এগিয়ে যায় সেদিকে কমান্ডার মিদরাত আর তিরাণ । দুইজনই হাতে একটা করে চাদর ফেলে রেখেছে ।

সামনে পুলিশ অপেক্ষমাণ দেখেও একটুকু ভীতি কাজ করে না ছেলেগুলোর মাঝে !

বরং কে জানি উৎসাহ দিতে চেঁচিয়ে ওঠে, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই !’ doctus viagra

গলা মেলায় বাকিরাও – এ যেন হাজারটা কামানের গর্জন ! আজ তারুণ্য নেমে এসেছে – রুখবে কে তাদের ?

পুলিশ বাহিনী অস্ত্র উঁচাতে শুরু করে ।

একই সময় দৌড় শুরু করে মিদরাত আর তিরাণ । হাতের চাদরমত কাপড়গুলো পড়ে গেছে আগেই ।

পুলিশগুলোর অস্ত্র আনুভূমিক অবস্থানে পৌছানোর আগেই কোমড়ের কাছ থেকে প্ল্যাটিনামের অটোগানটা ধরে ফায়ার করে তিরাণ ।

রাস্তার অন্যপাশ থেকে ফায়ার ওপেন করেছে মিদরাতও ।

বিশ্ববিদ্যালয় – মেডিকেলে পড়া ছেলেগুলো পরমুহূর্তে যা দেখল – তা দেখার জন্য তারা প্রস্তুত ছিল না মোটেও ।

বাতাস কেটে গনগনে হলুদ আলোর বন্যা ! ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় পুলিশগুলো নিমেষেই – ১৯৫২ সালের ছেলেগুলোর জানার কথা নয় – তবে তিরাণ জানে সবটুকু কাজ হতে লেগেছে এক সেকেন্ডে পনের ভাগের এক ভাগ !

হতভম্ভ ছাত্রদের সামনে নতুন মৃত্যুদূত হিসেবে দেখা যায় পুলিশের দুটো জীপ । কাঁধে ফ্লাক্সের মত ঝুলতে থাকা নিরীহ দর্শন বস্তুটা একটানে সামনে আনে তিরাণ । ‘বীমার’ বলে এগুলোকে । একটা সেকেন্ড ফোকাস করেই আলতো করে সুইচে চাপ দেয় ।

রাস্তার ওপাশ থেকে মিদরাতও দ্বিতীয় জীপটাকে টার্গেট করেছে । কাওকে বলে দিতে হয় নি – কে কোনটা টার্গেট করেছিল । কঠোর ট্রেইংনিং আজ কথা বলবে শুধু !

অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাত্রগুলোর সামনে দিয়ে দুটো মোটা রশ্মী ছুটে যায় রাস্তার দুইপাশ থেকে । একই সাথে আঘাত করে জীপ দুটোকে ।

লাফিয়ে আকাশের দিকে উঠে যায় অগ্নিশিখা । চারপাশে আরও ইঞ্জিনের শব্দ । can levitra and viagra be taken together

একটু দূরে থাকা প্রতিটি পুলিশ ভ্যান আর জীপের গন্তব্য এখন এই জায়গাটা ।

কমান্ডার মিদরাত পরিস্থিতি নিজের হাতে তুলে নেয় । ছাত্রদের সামনে দাঁড়িয়ে শুধু বলে, ‘ভাইয়েরা আমার । বাংলা ভাষা নয় শুধু – দেশটাকে পাকিস্তান থেকে মুক্ত করে ফেলার মিশন নিয়ে এসেছি আমরা ।’

শুনে হুল্লোড় করে ওঠে অনেকে । দ্বিমত হয়ত দুই-একজনের থাকে – কিন্তু মাও সেতুং-এর সেই অমর বাণীর কথা ভেবেই চুপ থাকে তারা ।

‘আমরা ট্রেইনিং পাওয়া সোলজার । আপনারা প্লিজ হলগুলোর ভেতর অবস্থান নিন । আমরা পাকিস্তানী পুলিশ সামলাচ্ছি । হতাহত হবে না বাঙ্গালী কেউ – অন্তত । আমরা সেটা দেখতে চাই না ।’

অনেকে অনেক কিছু বলতে চায় – কিন্তু নেতামত একজন সবাইকে আবার হলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে থাকে ।

কাজ মোটামুটি হয়ে গেছে – আর যেসব জায়গাতে আন্দোলনের ডামাডোল বেজে উঠেছে সেসব দিক ছেড়েও পুলিশের গাড়িগুলো এদিকে আসতে শুরু করবে ।

অনেকটা পেছন থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় – নিশ্চয় লুনা আর তামিরের কাজ !

এখন গাড়িগুলো এদিকে ছুটে আসতেই থাকবে । ওদের কাজ শুধু এদের বীমার দিয়ে উড়িয়ে দেয়া ।

একে অন্যের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে তিরাণ আর মিদরাত ।

*

ভ্রু কুঁচকে আছে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের ।

পাকিস্তানের জন্মের পাঁচ বছর হতে না হতেই এত বড় একটা ঝামেলার কথা শুনতে হবে ভাবে নি আইয়ুব ।

জেনারেল স্যার ফ্র্যংক মেজার্ভি এবং তারপর জেনারেল স্যার ডগলাস গ্রেসি গত পাঁচ বছরে পাকিস্তান আর্মির প্রধান হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন । প্রথম পাকিস্তানী বংশদ্ভুত হিসেবে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান দায়িত্ব তুলে নেয় ১৬ জানুয়ারী, ১৯৫১ সালে ।

একবছর এক মাস যেতে না যেতেই ইস্টে এরকম ক্যাচাল ?

আগেই বুঝেছিল আইয়ুব – ওদের মানুষ মনে করার কোন কারণ নেই । দাঙ্গা বাঁধাতে পারে খালি ।

বেশ কয়েকটা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া নাকি হয়েছে ! তবে ‘বেশ কয়েকটা’-কে উপেক্ষা করার মত কিছু নেই  ।

সংখ্যাটা ১৫ !

বাধ্য হয়েই আর্মির হেল্প চায় পুলিশ ডিপার্টমেন্টের হেড ।

রাজি হয়েছে আইয়ুব । ফকিরের বাচ্চাগুলোর এত তেজ আসল কবে থেকে ? মুসলিম হয়ে মুসলিম ভাইয়ের গায়ে হাত তোলে ?

নাস্তিক নাকি সব ?

খুশি মনেই আর্মিকে অনুমতি দিয়ে দিয়েছে আইয়ুব খান ।

শালারা পুলিশ পেয়ে ঘাড়াচ্ছো ? এবার আর্মির তেজ দেখ !

এই সময় ফোনটা বিচ্ছিরি শব্দে বেজে ওঠে ।

রিসিভ করতেই ওপাশে শোনা যায় বিগ্রেডিয়ার হাফিজ আলীর কন্ঠ, ‘স্যার ! ইস্ট পাকিস্তানের ওরা এয়ারপোর্ট দখল করে ফেলেছে ! কোন প্লেনকে পূর্ব পাকিস্তানের দিকে এগুতে দেখলেই নাকি ফেলে দেবে !’

‘এহ ! বললেই হল ? ফেলবেটা কি দিয়ে শুনি ? ক্যান্টনমেন্ট আমাদের নিয়ন্ত্রণে না ?’

‘ইয়েস স্যার ! কিন্তু ওরা স্যার কঠিন চীজ । বলা যাচ্ছে না । ফেলে দিতেও পারে !’ হাফিজ আলীর কন্ঠে নিখাদ আতংক দেখে কৌতুহলী হয়ে ওঠে আইয়ুব খান ।

‘ওরাটা কারা ?’ তিরিক্ষি মেজাজে জানতে চায় এবার আইয়ুব খান ।

‘আই হ্যাভ নো আইডিয়া স্যার ! তবে শক্ত চিজ ! মাত্র দেড় ঘন্টার মাঝে পনেরটা পুলিশ জীপ উড়িয়ে দিয়েছে !’

প্রচন্ড ক্রোধে দাঁতে দাঁট পিষে আইয়ুব খান ।

‘ট্যাংক নামাও । দেখি কিভাবে ওড়ায় । আর আমি দুই ঘন্টার মাঝে প্লেনে করে আরও সৈন্য পাঠাচ্ছি । দেখি প্লেন কিভাবে নামায় !’

খটাস করে ক্রেডলে রিসিভার নামিয়ে রাখে আইয়ুব খান ।

ছুটে আসছে আর্টিলারি বাহিনীর নায়াম্বী তিনটে ।

হাত দিয়ে সামনের বোর্ডে টোকা মারছে রীহা । দ্রুত পৌঁছতে পারলে হত আরও । কাঠঠোকরা নিয়ে যাওয়া যেত !  কিন্তু কাঠঠোকরা নিয়ে করা প্ল্যানের আগেও কিছু কাজ আছে । গ্রাউন্ডে । শেষ না করে আগাতে চায় না ওই প্ল্যানে ।

 

নায়াম্বী-০২ এ হাত পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে রগবাঁকা কমান্ডার ভন মিরা । levitra 20mg nebenwirkungen

সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ । কমান্ডের বেড়াজালে আবদ্ধ মানুষ দিয়ে একটা দেশের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় ।

ছুটতে ছুটতে আপডেট নিয়ে নেয় রীহা ।

তিরাণ আর গতি মিলিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছে প্রশাসনকে । বাইরের দেশগুলো এরই মাঝে কিছুটা আঁচ করে ফেলেছে – ভাষার দাবী থেকে শুরু করে পুরোদস্তুর গৃহযুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার একটা আশংকা দেখা দিয়েছে পূর্ব পাকিস্তানে !

প্রায় চলে এসেছে ওরা ঢাকা মেডিকেল কলেজে ।

রেডিওতে আরেকবার ছোট করে প্ল্যানটা বুঝিয়ে দেয় রীহা সবাইকে । ভুল করা যাবে না এই পর্যায়ে এসে । সময় নষ্টও করা যাবে না ।

হলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে নায়াম্বী তিনটা ।

ছুটে বের হয়ে আসে রীহা ।

গতির বিভিন্ন সদস্যরা বিভিন্ন দিক থেকে অবস্থান নিয়ে প্রটেক্ট করছে জায়গাটাকে । কাজেই কাওকে দেখা যাচ্ছে না । নায়াম্বীগুলোর চেহারা দেখে সাধারণ ছাত্রদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় !

নিজের দলের বাকি সদস্যদের এখানেই ছেড়ে যাবে রীহা ।

বালানের হাসিমাখা মুখ , রাইমা আর কিয়ার একসাথে চলা – শেষ বারের মত দেখে নেয় রীহা । ওদের সাথে হয়ত আর দেখা হবে না ।

তারপর দ্রুত এসে উঠে পড়ে নায়াম্বী-০২ এ । টারো আছে ভেতরে । ওর পাশে উঠে পড়ে রীহা । পেছনের কমান্ডার ভন মিরা জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে শুধু । irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg

‘সোজা এয়ারপোর্টে চল ।’ টারোকে ডিরেকশন দেয় রীহা ।

ঝড়ের বেগে এয়ারপোর্টে আসতে হাল্কা প্রতিরোধ দেখা যায় সামনে । কাওকে গুলি করে না ওরা – কাওকে লেজার মারে না । মেইনগেইট উপড়ে ফেলে সব কিছু ভেঙ্গে রানওয়েতে উঠে আসে নায়াম্বী । ছুটছে সোজা কন্ট্রোল টাওয়ারের দিকে ।

কন্ট্রোল টাওয়ারে পাওয়া গেল থরহরিকম্প একজন মানুষকে – নায়াম্বীর চেহারা দেখেই কাপড় খারাপ হওয়ার জোগার বেচারার । রীহা যা নির্দেশ দেয় অক্ষরে অক্ষরে পালন করে লোকটা ।

কাজ হয়ে গেছে এখানেও ।

ছুটতে থাকে ওদের নায়াম্বী আবারও । এবার ক্যান্টনমেন্টের দিকে ।

রেডিওতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে রীহা, ‘কাঠঠোকরা ওয়ান অ্যান্ড টু  ! মিট মি অ্যাট রঁদেভু পয়েন্ট ! কুইক !’

ক্যান্টনমেন্ট থেকে ভীমদর্শন একজোড়া টি-৫৪ বের হয়ে আসতে দেখে অপারেটর টারোর দাঁত বের হয়ে যায় খুশিতে ।  সোভিয়েত এই ট্যাংকগুলো পাকিস্তান আর্মিতে অ্যাড করা হয়েছে ১৯৪৯ সালে । একেবারেই খেলনা জিনিস ।

তেমন কিছুই করে না টারো, দুটো টাচ দেয় স্ক্রীণে – লক হয়ে যায় টি-৫৪ দুটো । তারপর পাকিস্তান আর্মির হতভম্ভ দৃষ্টির সামনে একের পর এক রশ্মী ছুটে যেতে থাকে ট্যাংকদুটোর দিকে ! দূর থেকে দেখে বিভ্রম হতে পারে – নায়াম্বীর শরীর যেন ট্যাংক দুটো থেকে যাবতীয় তেজস্ক্রিয়তা বের করে ফেলছে ! টেনে নিচ্ছে যেন রশ্মীগুলো নিজের ভেতর !

আসলে ঘটনা উল্টো । একটানা রশ্মী বিচ্ছুরণ চলছে টি-৫৪ দুটোর প্রতি ।

নায়াম্বী যখন থেমে গেল – ট্যাঙ্কদুটোর সাইজ হয়ে গেছে চারভাগের একভাগ !

গলিত ধাতব পদার্থ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে চারপাশে । চারপাশ নিস্তব্ধ ।

একেবারেই হঠাৎ আশেপাশের আর্মিরা গুলি ছুঁড়তে শুরু করে । নায়াম্বীর ধাতব শরীরে কেয়ামত পর্যন্ত গুলি করলেও কিছু আসবে যাবে না – জানা আছে রীহার ।

আচমকা প্রচন্ড ধাক্কায় কেঁপে ওঠে নায়াম্বী ।

দ্রুত ডিসপ্লের দিকে তাকায় রীহা আর টারো । ক্যান্টনমেন্টের বেশ ভেতর থেকে গোলা ছুঁড়ছে একটা এম-৪৭ প্যাটন !

এটা একটু উন্নত জাতের ট্যাংক টি-৫৪ থেকে । গত বছর কয়েকটা এনেছে পাকিস্তান আর্মি । কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানেও যে একটা রাখবে কে জানত !

দ্রুত কনসোল স্পর্শ করে টারো ।

তারপর কাংক্ষিত টার্গেটকে লক করেই আদেশ করে আক্রমণের ।

ন্যানো সেকেন্ডের মাঝে নায়াম্বীর একটা গোলা আঘাত করে টি-৫৪কে । আলোর বেগের একশ ভাগের একভাগ বেগ এই গোলা ছোড়ার পদ্ধতির । টি-৫৪টা পেছনের বিল্ডিং ভেঙ্গে ছুটে যায় আরও পেছনে । পরের বিল্ডিংটাও ভেঙ্গে গড়াতে গড়াতে আগাতে থাকে তার পরের বিল্ডিংয়ের দিকে !

দলামোচড়া হয়ে যাওয়া ট্যাংকটা তৃতীয় বিল্ডিংয়ে আঘাত হানতেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে ওখানে ।

এতসব দেখছে না টারো ।

দুইশ একুশটা সুইভেল গানকে চালু করে দিয়েছে ।

মাত্র দুই সেকেন্ড বন বন করে ঘোরে নায়াম্বীর বাইরের আবরণটা । গুলির ধাক্কায় আর্মির সৈন্যরা ছিটোকে পড়ে যেতে থাকে একেকদিকে ।

আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে সৈন্যদের অংশবিশেষ !

ক্যান্টনমেন্টটা এখন বলতে গেলে সৈন্যশূন্য ।

নেমে আসছে কাঠঠোকরা দুটো ।

দ্রুত নেমে পড়ে রীহাও । ওদের দিকে হাত নাড়ায় ।

শান্তভাবে ল্যান্ড করে কাঠঠোকরা দুটো ।  রাদীর কাঠঠোকরাতে উঠে যাবে – এমনটাই কথা ছিল রীহার ।

ঝটপট উঠে পড়তেই ধীরে ধীরে বাতাস কেটে উঠে যায় কাঠঠোকরা দুটো ।

পেছনে বসে থাকা তিরাণকে চোখে পড়ে এবার রীহার ।

কোলে প্লাটিনাম গানটা নিয়ে চুপচাপ বসে আছে ।

‘তুমি এখানে কি করছ ?’ অবাক হয়ে জানতে চায় রীহা ।

‘ওদিকে আর তেমন প্রেশার নাই । যা আসবে সামলে নেয়া যাবে । তুমি যেদিকে যাচ্ছ সেদিকে সাহায্য দরকার হবে তোমার ।’

‘আমি নিজেই সামলাতে পারতাম ।’ তিরাণ ওকে তুমি করে বলা শুরু করেছে লক্ষ্য করে রীহা । এখন অবশ্য সম্বোধন নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় না ।

‘হয়ত । কিন্তু ওদিকে আজ নতুন ঝামেলা আছে । ইউএসএস সিম্বল যোগ দিয়েছে ওদের সাথে । সমুদ্রে যেকোন ঝামেলার জন্য ওরা প্রস্তুত । তোমার সাহায্য লাগতে পারে, রীহা ।’

অবাক হয় এবার রীহা । তিরাণ ওকে নাম ধরে ডাকছে সেজন্য নয় – তিরাণ ওর প্ল্যান কিভাবে জানল ?

‘তুমি জানতে ?’ জানতে চায় ও ।

‘না । সকালে একা একা যখন আসছিলাম গতির দিকে – তখন একই প্ল্যান আমার মাথাতেও আসে । তবে সেটা গতির কাছে পৌঁছে বাস্তবায়ন করার আশা করছিলাম রিফাজকে নিয়ে । কাঠঠোকরা ও নিজেও অপারেট করতে পারে । ওকেও নিয়ে এসেছি । অন্য কাঠঠোকরাতে আছে ও ।’

তিরাণ ছেলেটাকে বেশ ভালো লাগে এবার রীহার ।

চিন্তা করতে জানে সুক্ষভাবে ।

বাইরের দিকে তাকায় একবার রীহা । রয়্যাল পাকিস্তান নেভীর মাথাব্যাথার যথেষ্ট কারণ শুরু হয়ে যাবে আর  কিছুক্ষণ পরই ।

চোখে বাইনোকুলার দিয়ে তীরের দিকে তাকিয়ে আছেন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জন ওয়াগস্টাফ ।

জায়গাটা সুবিধের না ।

মায়াং-ডু এর তীরের কাছাকাছি চলছে এঁর জাহাজ । কোরিয়ান সমুদ্র উপকূল !

উত্তর কোরিয়ানগুলোও যা বেত্তমিজ হয়েছে ! মাইন  ফেলে ফেলে এদিককার পানি একেবারে কালো করে ফেলেছে ।

‘ইউএসএস-মারলেট’-এর ক্যাপ্টেন জন ওয়াগস্টাফ । জাহাজটা মাইনসুইপার । পানির নীচের মাইনগুলো খুঁজে বের করাই দায়িত্ব । ক্রুদের মনোযোগ ওদিকেই ।

১৯৫০ সালের ২৮শে অক্টোবর থেকে চলছে কোরিয়ান যুদ্ধ । মাত্র এক বছরের মাথাতেই যোগ দেয় মারলেট ।

৬ই মার্চ ১৯৫১ সালে ।

তবে শুধু মারলেট নয় – আজ ওদের সাথে যাত্রাসঙ্গী হয়েছে ইউএস নেভীর আরেকটি যুদ্ধজাহাজ । ইউএসএস সিম্বল ।

দুটোই এইউকে ক্লাস শিপ । মোট ৯৫টা এইউকে শিপ নামানো হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় । সবগুলো ছিল মিত্রবাহিনীর মাইনসুইপার ।

ইউএসএস সিম্বলও এরকম একটা মাইনসুইপার । উনিশশ বেয়াল্লিশ সাল থেকে পানিতে চলছে । দশ বছরের পুরোনো জাহাজটাকে নিয়ে মজা করে মাঝে মাঝে মারলেটের ক্রুরা । মারলেটও ‘চুয়াল্লিশের শেষের দিক থেকে পানিতে বিচরণ করছে – তবে চকচকে ভাবটা এখনও বজায় রেখেছে জাহাজটা ।

ইউএসএস সিম্বলকে দেখলে তো মনে হয় খোদার গজবের তলে পড়তে পড়তে বেঁচে যাওয়া জাহাজকে রিপেয়ার করে চালানো হচ্ছে !

ক্রুদের ছেলেমানুষীর কথা মনে হতে হাল্কা হাসির রেখা ফোটে ওয়াগস্টাফের মুখে ।

এই সময় ক্রো’জ নেস্ট থেকে রেডিওতে ভেসে আসে উত্তেজিত কন্ঠস্বর !

‘সেভেন্টি-ফাইভ মিলিমিটার শোর ব্যাটারী স্প্ল্যাসেস ! সেভেন ও’ক্লক । আই রিপিট …’

ক্যাপ্টেন ওয়াগস্টাফের চোখেও ধরা পড়ে ব্যাপারটা ।

ঝিকিয়ে উঠছে ব্যাটারীগুলো । যেকোন মুহূর্তে মর্টার শেল আঘাত হানতে পারে জাহাজের গায়ে !

‘ওপেন ফায়ার ! সেভেন ও’ক্লক । ফোর ব্যাটারিজ । আই রিপিট – ফোর ব্যাটারিজ অ্যাট সেভেন ও’ক্লক ।’

ব্যাপারটা টের পেয়েছে বোধহয় ইউএসএস সিম্বলও ।

গর্জে ওঠে ওদিক থেকে গোলাবর্ষণের শব্দ ।

মারলেটের 2×40 mm গানগুলোও গর্জে ওঠে ।

একনাগাড়ে গুলি ছোঁড়ে জাহাজদুটো । কোরিয়ানদের বাড় বড্ড বেড়েছে ! side effects of drinking alcohol on accutane

আধঘন্টা ধরে গোলাবর্ষণ – পাল্টা গোলাবর্ষণ চলতে থাকে । মারলেটের পেছন দিকে কোথাও থেকে ধোঁয়া উঠছে । সেদিকে এগুতে যেতেই খুব কাছেই একটা মর্টার শেল আছড়ে পড়ে । ছিটকে মাটিতে পড়ে যান ওয়াগস্টাফ ।

কানে তালা ধরে গেছে – ধীরে ধীরে উঠে বসেন তিনি । about cialis tablets

রেডিওতে ভেসে আসছে, ‘টার্গেটস আর ডেস্ট্রয়েড, স্যার । আই রিপিট – টার্গেটস আর ডেস্ট্রয়ড ।’

ওদিকে কান দেন না জন ওয়াগস্টাফ ।

মর্টারের ধাক্কায় আছড়ে পড়ে কি দৃষ্টিবিভ্রম হচ্ছে তাঁর ?

সামনে থেকে এগিয়ে আসছে দুটো যুদ্ধজাহাজ ।

ডেস্ট্রয়ার দুটোর ওপরের পতাকা দেখাটাই এতটা আশ্চর্য করে ওয়াগস্টাফকে ।

পাকিস্তানের পতাকা উড়ছে ওগুলোর মাথায় পত পত করে !

পরক্ষণেই কোন বাছ বিচার না করে গোলাবর্ষণ শুরু করল পাকিস্তানী ডেস্ট্রয়ার দুটো । কানে তালা লাগানো শব্দে চারপাশটা ভেঙ্গে পড়তে থাকে !

হতভম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আমেরিকান ক্রুরা কোরিয়ান শোরে !

*

রয়্যাল পাকিস্তান নেভীর ডেস্ট্রয়ার ‘টিপু সুলতান’ ভেসে আছে পানিতে চুপচাপ ।

নিস্তব্ধ জাহাজের ডেকে উঠে আসলেন ক্যাপ্টেন এ আর খান । রেইলিং এ হেলান দিয়ে পাশে নোঙ্গর করা দ্বিতীয় ডেস্ট্রয়ার ‘তারিক’-এর দিকে তাকিয়ে থাকেন তিনি । সমুদ্রই তাঁর পৃথিবী । ডাঙ্গা ভালো লাগে না ।

তারিকের ডেকেও কি সামান্য নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে না ?

ভালো করে তাকিয়ে তারিক-এর ক্যাপ্টেন আহসানকে চোখে পড়ে ক্যাপ্টেন খানের ।

ইনিও কি একই রকম সমুদ্রপ্রেমী ? হতেই পারেন । নেভীর ক্যাপ্টেনদের মাঝে এখনও কাওকে চোখে পড়ে নি যাঁর মাঝে সমুদ্রের প্রতি আলাদা টান নেই । সমুদ্রই এঁদের ঘরবাড়ি ।

একেবারেই হঠাৎ মাথার ওপর মৃদু গুঞ্জন শুনে ওপরের দিকে তাকিয়ে অবাক বিস্ময়ে মুখ হাল্কা ফাঁক হয়ে যায় ক্যাপ্টেন খানের । অদ্ভুত দর্শন জিনিসটা উড়ছে কি করে ? কোন পাখা নেই এই উড়ন্ত জিনিসটার । নেই কোন রোটরও !

তবে কি এলিয়েন আর ইউএফও-র ব্যাপারগুলো সত্যি ?

ভাবার বেশি সময় পেলেন না ক্যাপ্টেন ।

‘গ্র্যাব দ্য শিপস !’ চিৎকার করে কমান্ড দেয় রীহা । সাথে সাথেই সেটা বাস্তবায়ন করে ফেলে রাদী ।

চট করে নেমে পড়ে শিপের ওপর । পরক্ষণেই প্রচন্ড ম্যাগনেটিক টানে আস্ত জাহাজ নিয়ে উঠে পড়ে ওরা আকাশে ।

ওপাশে দ্বিতীয় কাঠঠোকরার পাইলট তুননও একই কাজ করেছে । চট করে দুটো আস্ত যুদ্ধজাহাজ তুলে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় ওরা । সামনে খোলা সাগর !

*

ফোন বেজেই চলেছে আইয়ুব খানের টেবিলে । বিরক্তির সাথে রিসিভ করতেই নেভীর চীফের গলা ভেসে আসে, ‘হোয়াট ডিড ইউ ডু উইথ মাই শিপস ?’

‘মানে ?’ ক্ষেপে যাওয়ার পরিবর্তে অবাক হয়ে যায় আইয়ুব ।

‘টিপু সুলতান আর তারিক – ডেস্ট্রয়ার দুটো এখন কোরিয়ান শোরে আমেরিকান দুটো জাহাজের সাথে যুদ্ধ করছে ! আমি তো তাদের পাঠাই নি ! গেল কিভাবে ওখানে ? কমান্ড দিচ্ছি শান্ত হওয়ার – উত্তর মিলছে না ।’

‘তোমার লোকেদের মাঝে নাস্তিক আছে । সেটা আমার দোষ না । সাচ্চা মুসলমান দেখে দেখে নিয়োগ দিতে বলেছিলাম । সেই কথা তো কানে যায় নি ! এখন থাকো নাস্তিক নিয়ে !’ চট করে বলে দেয় আইয়ুব । metformin gliclazide sitagliptin

‘আমার লোকেরা সবাই সাচ্চা মুসলমান ! আমি কিছু জানি না । আমেরিকান জেনারেল ডুয়াইট আইশেনহাওয়ারকে সামলাও এখন । তোমাকে এনিটাইম ফোন দেবেন উনি ।’

কট করে লাইন কেটে যেতেই টেবিলে দ্বিগুণ জোরে আছরে ফেলে আইয়ুব খান রিসিভারটা ।

সাথে সাথেই চারগুণ তেজে বেজে ওঠে ফোনটা আবার ।

‘ইয়াহ !’ খেঁকিয়ে ওঠে আইয়ুব ফোনটা রিসিভ করেই ।

‘হাল্লো এই-উব্ব !’ জেনারেল ডুয়াইট আইশেনহাওয়ারের গলাটা শোনা যায় । ইনি কোনদিনও আইয়ুব খানের নামটার সঠিক উচ্চারণ করতে পারেন নি ।

‘ওহ – জেনারেল ! কেমন আছেন, স্যার ?’ গলার একটা নকল হাসি দিয়ে জেনারেলকে ‘চ’ বর্গীয় একটা গালি দেয় আইয়ুব মনে মনে ।

‘বেশ ভালোই ছিলাম । কিন্তু তোমার জাহাজ দুটো আর ভালো থাকতে দিল কেন ?’ হুট করে আসল কথায় চলে যান জেনারেল আইশেনহাওয়ার । ইনি আইয়ুবের দুলাভাই লাগেন না যে মজা করতে ফোন দেবেন ।

‘ওটা স্যার একটা ভুল বোঝাবুঝি । আমাদের নেভী আদেশ না দিতেও ওদিকে কি ভাবে জানি চলে গেছে । আমাদের সন্দেহ বিদ্রোহীরা হাইজ্যাক করেছে জাহাজদুটো ।’

এমনকি আইয়ুবও জানে – এর চেয়ে খোঁড়া যুক্তি আর হয় না ।

‘তোমাদের জাহাজ দুটোকে থামতে বল ইমিডিয়েটলি, এহ-উব্ব । নাহলে ইউএস গভর্নমেন্ট পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধঘোষণা করতে বাধ্য হবে । ’

‘আমাদের কমান্ড ওরা শুনছে না, স্যার !’ ককিয়ে ওঠে আইয়ুব ।

উল্টো বুঝতে দেরী করেন না আমেরিকান জেনারেল, ‘বাহ ! তোমাদের জাহাজ তোমাদের কথা শুনছে না ? তবে কার কথা শুনছে ? নিশ্চয় উত্তর কোরিয়ার ? পাকিস্তান এই কোরিয়ান ওয়ারে নাক গলাবে আসলেই আশা করি নি । তাও কোনরকম ঘোষণা ছাড়াই ! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে একটা আসন্ন যুদ্ধ থামাতে পারো । সময় বেশি নেই । আমার দুটো জাহাজের ক্রুরা কিন্তু সবাই মারা যেতে বসেছে !’

এই পর্যায়ে দড়াম করে দরজা খুলে যায় । দমকা হাওয়ার মত ভেতরে ঢোকেন বিগ্রেডিয়ার  হাফিজ আলী ।

‘স্যার ! ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে ! আমাদের তিনটি ট্যাংক আর অগণিত সৈন্য মারা গেছে স্যার !’ খাঁটি উর্দুতে বলে হাফিজ ।

এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না আইয়ুব খান ।

‘ফাক দেম ! ডিক্লেয়ার ওয়ার দেন !’ হাফিজের উদ্দেশ্যে বলেই বুঝে কি ভুলটাই না করে ফেলেছে !

‘হোয়াট !’ ফোনের ওপাশ থেকে গর্জে ওঠেন জেনারেল ডুয়াইট আইশেনহাওয়ার । ‘দিস মিনস ওয়ার !’

কট করে কেটে গেল লাইন ।

নিজের চুল ছিড়তে বাকি রাখে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ।

তীব্র গোলা বর্ষণ চলছে টিপু সুলতান থেকে ।

রীহা আর তিরাণ এই শিপেই আছে ।

শিপ ফাঁকা করে প্রথম ফায়ারগুলো জাহাজ থেকেই করে ওরা । তারপর এত কষ্ট না করে কাঠঠোকরা থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণ করে জাহাজ দুটোকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে ।

ওদের উদ্দেশ্য কাওকে নিহত করা নয় । বরং আমেরিকার গায়ে বেশ একটা ধাক্কা দেয়া ।

সেভাবেই কাজ করছে ওরা ।

অপর শিপ ‘তারিক’-এ আছে পাইলট তুনন আর রিফাজ ।

তুনন একসময় গানার ছিল । অ্যান্টিক শিপ নিয়েও ওর আগ্রহ কম নেই । কাজেই চোখের সামনে ১৯৫২ সালের জাহাজ পেয়ে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে নি । ককপিট থেকে নেমে এসে প্রাণের সুখ মিটিয়ে গোলা ফেলছে সামনের জাহাজ দুটোতে ।

‘এনাফ – গায়জ ! ফল ব্যাক ।’ একসময় হুংকার দেয় রীহা ।

একই সাথে গর্জে ওঠে মারলেট আর সিম্বলের ডেক গানগুলো । নিমেষেই অনেকটা জায়গা ধ্বসে পড়ে পাকিস্তানী জাহাজ দুটোর ।

‘গেট ব্যাক টু কাঠঠোকরাজ ! এভরিওয়ান ।’ মরিয়া হয়ে চিৎকার দেয় রীহা ।

রাদী ততক্ষণে ওদের কাঠঠোকরা আকাশে তোলার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে ।

এই সময় রেডিওতে ভেসে আসে রিফাজের ভয়ার্ত গলা, ‘তুনন ইজ ডেড ।’

চট করে উঠে দাঁড়ায় তিরাণ । ওদের কাঠঠোকরা বেশ ওপরে উঠে গেছে ততক্ষণে ।

‘রীহা – স্লাইড ডোর খুলে আমাকে নামিয়ে দাও অন্যশিপটায় । তুনন আর রিফাজকে নিয়ে ফিরে আসব আমি ।’

‘না !’ এককথায় নাকচ করে দেয় রীহা, ‘রিফাজ নিজেই কাঠঠোকরা অপারেট করতে পারে । ও ফিরে আসতে পারবে ।’

ফিরে তাকায় তিরাণ স্লাইডডোর খুলতে খুলতে, মুখে বিচিত্র একটা হাসি ।

‘নোবডি শুড বি লেফট বাহাইন্ড ।’

ঝাঁপ দেয় তিরাণ বাইরের দিকে ।

* accutane prices

ঝড়ের বেগে ফিরে আসছে রীহা আর রাদী – আবেগ চাপা দিয়ে ।

৪০১৩ সালের কমরেডদের মাঝে এই প্রথম কাওকে হারালো ওরা ।

বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে রীহা । ধীরে ধীরে অন্ধকার নামছে ।

২১শে ফেব্রুয়ারী , ১৯৫২ – দিনটা প্রায় শেষ । আরও বেশি ইতিহাস নিয়ে ।

কোরিয়া ছেড়ে রকেটের মত আগাচ্ছে ওরা পূর্ব পাকিস্তানের দিকে ।

রেডিওতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়াটাই বাকি । কমান্ডার মিদরাতরা নিশ্চয় এতক্ষণে ঠান্ডা করে ফেলেছে এলাকা । zoloft birth defects 2013

একেবারেই হঠাৎ রাডারের ব্লিপিংটা খেয়াল করে পাইলট রাদী ।

‘কমান্ডার রীহা !’

দেখেছে রীহাও । পশ্চিম পাকিস্তান প্লেন পাঠাচ্ছে মনে হচ্ছে ?

ডিসপ্লেতে টাচ করে কম্পিউটারকে আইডেন্টিফাই করতে বলে রীহা ।

হুঁ – ট্রান্সপোর্ট প্লেন । গায়ে পাকিস্তানের ট্রেডমার্ক ।

ওই যে বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকে গেছে ! মুখে হাল্কা একটা হাসি ফোটে রীহার ।

‘গান দ্যাট ডাউন ।’ হাল্কা গলায় বলে উঠে যায় রীহা । দেখা যাক সাইড ক্যাবিনেটে ড্রিংকস আছে কি না ।

তিনটা মিসাইল ছুটে যায় কাঠঠোকরার সামনের দিক থেকে । ১৯৫২ সালের বিমানটা কোন সুযোগই পায় না – জ্বলন্ত একটা অগ্নিকুন্ড হয়ে ঝড়ে পড়তে থাকে ।

‘হেল ইয়াহ !’ বহুদিন পর কোন প্লেন নামানোর আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে রাদী ।

পেছনে হাল্কা একটা শব্দ হয় ।

রিয়ার-ভিউ ডিসপ্লেতে দেখা যায় এফ-৮৬ স্যাবরটাকে ।

একেবারেই মান্ধাতা আমলের প্লেন । তবে এটা একটা ফাইটার প্লেন ।

স্যাবরজেট বলা হত একে এই সময় ।

এই প্লেনটা দেখেও একটা হাসি ফোটে রাদীর মুখে । কাঠঠোকরার সাথে এ কোন ম্যাচই নয় ।

বাতাসেই চরকির মত পাক খেয়ে ও মুখোমুখি হয় স্যাবরজেটটার ।

ফায়ার ওপেন করার আগেই ধ্বংস হয়ে মাটির দিকে সজোরে নেমে যেতে থাকে নিঃসঙ্গ স্যাবরজেট ।

আক্রমণকারীর প্রতি একটা ধারণা ছিল রীহা আর রাদীর । তবুও মেঘ কেটে বের হতে থাকা দ্বিতীয় কাঠঠোকরাটা দেখে এক চিলতে হাসি ফোটে দুইজনের মুখেই ।

একদিনের জন্য পাকিস্তান সরকারকে যথেষ্ট ধাক্কা দেয়া হয়েছে । এবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পালা ।

শান্তভাবে বাংলাদেশ বেতারের সামনে ল্যান্ড করে কাঠঠোকরা দুটো ।

আগেই রেডিওতে যোগাযোগ হয়েছে – কমান্ডার মিদরাতকে দেখা যায় নায়াম্বী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে ।

করমর্দন করে মিদরাত আর রীহা । মুখে হাসি ।

অপর কাঠঠোকরা থেকে নেমে এসেছে তিরাণ । আবার উড়ে যায় কাঠঠোকরাটা ।

কাছে এসে বলে, ‘তুনন মারা যায় নি । তবে সিরিয়াস আহত । রিফাজকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম । ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে যাক । মেডিক রাইমা দেখবে ওকে ।’

কিছু বলে না রীহা এর প্রতিউত্তরে । আলিঙ্গন করে তিরাণকে ।

একসাথে এগিয়ে যায় তিনজন বাংলাদেশ বেতার ভবনের দিকে ।

— পরিশিষ্ট —

গোলটেবিলে বসে আছে ৪০১৩ সালের বাংলাদেশ আর্মির প্রতিটা সদস্য । কমান্ডার ভন মিরাও আছে ।

সামনের টেবিলে ওদের সময়কার কিছু পানীয় । সেই সাথে চলছে আড্ডা ।

হাস্যোজ্জ্বল মুখের ওদের দেখলে কেউ বলতে পারবে না – একটি নতুন দেশের জন্ম দিয়েছে ওরা মাত্র ষোলজন মিলে !

বিপ্লবটা রক্তক্ষয়ী ছিল ঠিকই । তবে নতুন দেশটার কেউ মারা যায় নি ! সেই অর্থে রক্তপাতহীন বিজয়ই বলা চলে !

এরা অবশ্য এখন ১৯৫২ সালের বাংলাদেশ আর্মিরও সদস্য । কার কোন র‍্যাংক থাকবে – সেটা অবশ্য ওরা এখনও নিশ্চিত নয় ।

কমান্ডার ভন মিরার মন খারাপ । ইতিহাসের সাক্ষী হতে গিয়েও পারল না নিজের একগুঁয়েমীর জন্য । অবশ্য অন্য পনেরজন কমান্ডারের এই ভুলটা ক্ষমা করে দিয়েছে !

আমেরিকা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে সবার আগে ।

আর একটা মহাশক্তির সাপোর্ট পাওয়া গেলে আর কি লাগে ? অথচ ওরা জানে – ১৯৭১ সালে এই আমেরিকাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী ছিল । রাশিয়া এসে দাঁড়িয়েছিল পাশে ।

ইতিহাস অবশ্য উল্টে গেছে ।

রাশিয়া বাংলাদেশকে এখনও স্বীকৃতি দেয় নি ।

মোট ষোলটা দেশের স্বীকৃতি পেয়ে গেছে বাংলাদেশ মাত্র আটদিনের মাথাতেই ।

বিশ্বের মাঝে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার চেয়ে আরও বড় জিনিস চলছে ।

আমেরিকা-পাকিস্তানের যুদ্ধ ।

তামা তামা বানিয়ে দেয়া হচ্ছে পাকিস্তানকে রোজই । তবে রীহার পরামর্শে কাঠঠোকরা আর নায়াম্বীগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছে আপাতত । প্রয়োজনে বের করে সারপ্রাইজ দেয়া হবে সবাইকে ।

‘আমার প্ল্যান একেবারে সঠিকভাবে জানলে কি করে ? আসার আগে বায়ান্ন সালের সারা পৃথিবীর যত তথ্য পেয়েছ সব একটা স্কয়ার ডিস্কে তুলে এনেছিলে, না ?’ রীহা জানতে চায় তিরাণের কাছে ।

‘না – ইয়ে –’ ইতস্তত করে তিরাণ ।

‘আরে বলই তো !’ পদমর্যাদার পার্থক্য ভুলে গেছে রীহা । তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য তারিণের র‍্যাংক রীহার সমানই থাকার কথা ।

‘আসলে সেদিন ক্যাম্পে দেখলাম তোমার স্কয়ারডিস্কটা রেখে রাইমার সাথে কথা বলতে যেতে … ’

‘তো ?’ viagra vs viagra plus

‘তো – ওই সময় কপি করে নিয়েছিলাম । তখন অবশ্য বুঝিনি ওটার তাৎপর্য । তবে সকালে গতির দিকে একা একা রওনা হয়ে আইসিতে চোখ বুলাচ্ছিলাম । তখন বুঝলাম ।’ একটু হেসে বলে তিরাণ ।

‘পুরাই পাকিস্তানীদের মত কাজ করেছ !’ ওর বুকে একটা মাঝারী গুতো দেয় রীহা, ‘যাক – অন্তত ভাষার জন্য কাওকে প্রাণ দিতে হয় নি ।’

‘এহ ! তোমার মাথাতেও শুরু থেকেই এই প্ল্যান ছিল !’ কিছুক্ষণ চুপ থাকে দুইজনই ।

‘একটা সুখবর আছে ।’ তিরাণ বলে আস্তে করে ।

‘কি ?’ বড় বড় চোখ দুটো মেলে জানতে চায় রীহা ।

‘স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বেহুদা তর্ক করে এরকম মানুষ নাকি স্বাধীনতার একশ বছর পর্যন্ত ছিল । চায়ের দোকানগুলোতে নাকি তখন তর্ক লেগে থাকত স্বাধীনতার ঘোষক কে ছিল সেটার ওপর ! এবার থেকে অবশ্য আর ওরকম কোন বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই ।’

হাসে তিরাণ । ওর সাথে যোগ দেয় রীহাও ।

‘রীহা ?’

‘হুম ।’

‘আরেকটা সুখবর আছে । এটা অবশ্য আমার জন্য ।’

‘কি ?’

‘মিশন শেষেও তোমার পাশে বসে থাকতে পারছি ।’

ওর দিকে তাকিয়ে উদাস হয়ে যায় রীহা, মনে পড়ে একা একা ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছুটে যাওয়া তিরাণকে – সহযোদ্ধার বিপদে চলন্ত কাঠঠোকরা থেকে বাইরে লাফ দেয়া তিরাণকে । রীহাও ভাবে নি তিরাণের সাথে ওর আবার দেখা হবে ।

‘ইউ আর আ ব্রেভ সোলজার, তিরাণ । তোমার পাশে দাঁড়িয়ে অভিযানটা শেষ করতে পারাটা আমার  সৌভাগ্য ।’

‘যুদ্ধ শেষ হোক আর না হোক – তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আরেকটা  যুদ্ধ করতে পারলেই আমি সেটাকেও আমার সৌভাগ্যই ভাবব ।’ মনে মনেই বলে তিরাণ । will i gain or lose weight on zoloft

সব কথা মুখে বলতে নেই ।

যুদ্ধপরবর্তী বিষণ্ণতা গ্রাস করে ওদের ।

[সব তথ্য বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে নেওয়া । ভাষাশহীদদের উৎসর্গ এই লেখাটা । ]

You may also like...

  1. এই পোস্টটাকে কেন স্টিকি করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি করলাম।

    দারুণ পোস্ট! তবে বেশি বড় হয়ে গেছে। ধারাবাহিক আকারে দিলে সম্ভবত বেশি ভাল হত।

    সভ্যতায় স্বাগতম!

  2. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    শুরু করেই বুঝতে পেরেছি অসাধারণ কিছু লিখেছেন! কিন্তু এতো বড় যে শেষ করা হয় নি! শেষ করেই বিস্তারিত মন্তব্য করব!!

    আপনাকে সভ্যতায় স্বাগতম… venta de cialis en lima peru

  3. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    এই উপন্যাস পড়তে দুই ঘন্টা লাগলো। তবে মুক্তিযুদ্ধ না হলে দেশি শত্রুদের কি করে চিনতাম।

  4. একটু বেশি বড় হয়ে গেছে! পুরোটা পড়তে পারলাম না।
    “৪০১৩” একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো না !!!???

  5. ১০,৩৪০ ওয়ার্ডের গল্প কমপক্ষে পাঁচ খণ্ডে দিলে ঠিক হত।

  6. আপনি একজন অসাধারন, মারভেলাস লেখক কেপি!! আপনার জন্য অসংখ্য শুভেচ্ছা। হ্যাটিস অফ।

  7. চমৎকার লিখেছেন… কিন্ত কয়েকটা পর্বে দিলে পড়তে সুবিধা হয়ত … যাহোক অসাধারণ একটা লেখা পড়লাম…

  8. স্পীকার বলছেনঃ

    যুদ্ধ শুরু পর্যন্ত পড়েছি। তারপর ধৈর্যহানী ঘটেছে।
    আমরা জাতি হিসেবে অনেক সাহসী আর শক্তিশালী। ভবিষ্যৎ থেকে বিশেষ কোন শক্তি আনার কোন প্রয়োজনীয়তা আমি দেখছিনা।আমরা কখনো কারো কাছে মাথা নত করিনি।বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা আমরা সবাই জানি।আমরা পাকিস্তানের থেকে অনেক কম শক্তি নিয়েই মনোবলের কারণে জয়ী হয়েছি।সবাই জানে আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে জানি।আমরা দূর্বলের প্রতি অত্যাচার করিনা।

    সায়েন্সফিকশান লেখার হাত ভালো।তবে থিমটা আমার পছন্দ হয়নি।এইখানে বাঙালী জাতির অপমান হয়েছে বলে আমি মনে করি।সভ্যতা কিভাবে এই পোস্টকে স্টিকি করে তা ভেবে আমি বিষ্মিত। তাদের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি

    • সাহিত্য এবং ইতিহাসে পার্থক্য আছে। লেখার মানে এই না যে আসলেই ভবিষ্যত থেকে সাহায্য আসছে, আর আসলে আপনার মত নিয়ে আসবে। সমস্যা কি আপনার?? এত এক্সট্রিমিস্ট মনোভাবের মানুষ দের কারনেই এই দেশে এইসব দাঙ্গা লাগে। যেটাতে তর্কের কারন নেই সেইখানেও আধা জ্ঞানের রাগানুভুতি”!! আজব!!

      missed several doses of synthroid
      • স্পীকার বলছেনঃ

        আপনাদের মত ঝগড়া করার মনোভাব আমার নেই। এইখানে বাঙালীদের দূরবল দেখানো হয়েছে। বিষয়টা আমার আত্মসম্মানে লেগছে।আর কিছুনা

        • ৫২তে আমরা আসলেও তাই ছিলাম না? আপনার কি মনে হয় যুদ্ধটা যদি বায়ান্নতে হত, তাহলে আমরা আদৌ জিততে পারতাম? দেশপ্রেম ভাল। কিন্তু, সত্যিটাকেও মেনে নিতে শিখতে হবে। আর আমরা দুর্বল হয়েও এশিয়ার শ্রেষ্ঠ (!) সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতা লাভ করেছি, এখানেই আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আমাদের গর্ব। তাই, তাকে নিয়েই আমাদের সাহিত্যের বড় অংশ থাকবে এবং সবারই সেক্ষেত্রে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে – সেটাই স্বাভাবিক।

          • স্পীকার বলছেনঃ

            জ্বী ক্লান্ত কালবৈশাখি আমি সেটাই বলেছি।আমরা এখন জানি যে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন,চুয়ান্নর নির্বাচন, উনসত্তর এর অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, পচিশে মার্চ কালোরাত্রি।আমাদের কাছে অনেক যুক্তি আছে যুদ্ধ করার।কিন্তু এখানে ভাষা আন্দোলনের আগেই যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। বিনা যুক্তিতে যুদ্ধ।বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালীদের একটা অত্যাচারী ভাবমূর্তি সৃস্টি করা হয়েছে। এটা অবশ্যই ঠিক না

      • অংকুর বলছেনঃ

        সাহিত্য এবং ইতিহাস একে অপরের সাথে জড়িত।এগুলোকে আপনি কখনোই পৃথক করতে পারবেন না। আর সেটা যদি হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা তাহলে তো কথাই নেই। আপনার মন্তব্যে আক্রমণাত্মক ঘ্রান পাচ্ছি। কোন কিছুকে ঠিক বা ভুল শুরুতে ধরে না নিয়ে আগে চিন্তা করুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন।আগেনা

    • ঝামেলাটা কোথা থেকে শুরু হয়ত আপনি বুঝতে পারেন নি ।

      ওই সেনাবাহিনীর সদস্যদের বলা হয়েছিল ভাষা শহীদদের মৃত্যু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে । তারপর লড়াইয়ে নামতে । যাতে আমাদের লড়াইয়ে যুক্তি থাকে ।

      কিন্তু আপনি যদি সেই বাহিনীর একজন হতেন – পারতেন এরকম একটা দৃশ্য দেখার জন্য অপেক্ষা করতে .?
      ঝামেলার শুরু ওখানেই ।

      তাই তাদের বাংলাদেশের ভাবমূর্তি টেকাতে কূটনৈতিক স্টেপ নিতে হয়েছে ।
      রেজাল্টে যা হয়েছে তাতে কিন্তু বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ঠিক আছে । তাই না ?

    • দুরন্ত জয় বলছেনঃ

      আমরা জাতি হিসেবে অনেক সাহসী আর শক্তিশালী। ভবিষ্যৎ থেকে বিশেষ কোন শক্তি আনার কোন প্রয়োজনীয়তা আমি দেখছিনা।আমরা কখনো কারো কাছে মাথা নত করিনি।বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা আমরা সবাই জানি।আমরা পাকিস্তানের থেকে অনেক কম শক্তি নিয়েই মনোবলের কারণে জয়ী হয়েছি।সবাই জানে আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে জানি।আমরা দূর্বলের প্রতি অত্যাচার করিনা।

      :-bd :-bd

  9. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    ক) ২০ ফেব্রুয়ারি’ ১৯৫২ সালে বাংলাদেশের পতাকা ছিল না।
    — বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদিয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারীভাবে গৃহীত হয়।
    আর আগের ডিজাইনের ইতিহাস ৭ জুন’১৯৭০ সালে আসম আব্দুর রব ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সুশৃঙ্খল মিছিল নিয়ে ইকবাল হল থেকে পল্টনের মঞ্চে দাঁড়ানো ‘বঙ্গবন্ধু’ ‘ফেব্রুয়ারি ১৫ বাহিনী’র অভিবাদন গ্রহণ করলেন এবং বাহিনীর পক্ষে আসম আব্দুর রব “ইকবাল হলের” ১০৮ নং কক্ষে তৈরি পতাকা বঙ্গবন্ধুর হাত থেকে গ্রহণ করলেন আনুষ্ঠানিকভাবে। এই সেই পতাকা যা উড়ল বাংলার ঘরে ঘরে স্বাধীন বাংলার পতাকা হয়ে…

    খ) “নারী কমান্ডার হলেও ম্যাম বলার নিয়ম বাংলাদেশ আর্মিতে নেই । ‘স্যার’ সম্বোধন বাধ্যতামূলক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি”
    – ভাল এবং বাস্তব সম্মত তথ্য কিন্তু আপনি জানলেন কীভাবে? can you tan after accutane

    গ) জেনারেল ইয়াকার দুই হাত একত্র করে বসে আছেন । ইনি-ই বাংলাদেশের ‘কমান্ড-ইন-চীফ’
    — এই রীতি পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশে এখনও বলে “চীফ অফ আর্মি স্টাফ” (CAS)… তাই এই রীতিই থাকার কথা ৪০১৩ সালে!! :P

    ঘ) — জেনারেল দুই র‍্যাঙ্ক নীচের বিগ্রেডিয়ারকে কমান্ড করে না, লেঃ জেনারেল এবং মেজর জেনারেলের পরই ‘বিগ্রেডিয়ার’ আসার কথা!!

    ঙ)বিংশ শতকের আইনস্টাইনের অসমাপ্ত কাজ ২০০০ বছর পর কেউ সমাপ্ত করবে এইটা মানতে পারলাম না! গত এক দেড়শ বছরের বিজ্ঞানের অগ্রগতি আগামী ৫০ বছরেই সুপার সাইন্টেফিক এইজে প্রবেশ করবে। শুধু ধর্ম আর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের বাধা প্রকট না হলে আজ বিশ্ব কোথায় থাকত কল্পনাও করছেন না এক্সোবায়োলজিস্টরা!! আপনি ৩৯০০ সালের কোন কল্পিত বিজ্ঞানীর অসমাপ্ত কাজের কথা বলতে পারতেন।

    চ) রাষ্ট্রের ধারণার বয়স ২৫০০ বছরের মত। বর্তমান জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে এই সহজেই অনুমেয় যে দু-চারশো বছর কিংবা পাঁচশো বছরের মধ্যেই রাষ্ট্র ধারণার বিলুপ্তি ঘটবে!! সে অর্থে ২০০০ বছর পরের ভাবনা সামাঞ্জস্যপূর্ণ মনেহয় নি!!

    ছ) ২০০০ বছর পরের মানবিকতা এতোটা অমানবিক হবে না। এইটা নিশ্চিত থাকেন…

    আপাতত ৩ পর্যন্ত পড়লাম!! বাকিটা শেষ করে আবার মন্তব্য করব!!

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.