তিলোত্তমা ভালো নেই

255 ampicillin susceptible enterococcus

বার পঠিত

বছর চারেক হল। নাহ, তারও বেশি। চার বছর আগের এক বেপরোয়া ফাগুনের পর রং পাল্টে পাল্টে আজ এক বিছিন্ন শ্রাবণ। তিলোত্তমা ড্রয়িংরুমে বসে আছে। হাতে সার্তীয় দর্শনের একটা বই। সারাদিনের কর্মমুখর দিনের শেষে এখন একটু ক্লান্ত তবে বিদ্ধস্ত নয়। আজ অফিসের কলিগ রফিক সাহেব একটু ফোড়ন কেটেই বললেন, আপনি দিন দিন বড্ড রোগা হয়ে যাচ্ছেন দিদি।জবাবে তিলোত্তমা শুধু অসংলগ্ন স্মিত হাসি হেসেছে। যা ঠোঁটের কোণায় মিলিয়ে যায়। অনেকদিন হালকা কোনো বই পড়া হয় না। তিলোত্তমার খুব আগের মতন উপন্যাস -টুপন্যাস পড়তে মন চাইছে। যদিও পুরোনো অনেক উপন্যাসের বই আছে কিন্তু ওগুলো পড়া। অনেকদিন নতুন বই কেনা হয় না। কাল অফিস ফেরার পথে কিছু বই কিনতে হবে। হুমায়ুন আহমেদ গোছের বই, সহজ সরল কথায় লেখা। দেখতে দেখতে কখন দশটা বেজে গেছে সেদিকে তিলোত্তমা খেয়ালই করেনি। sildenafil efectos secundarios

এখনও রাফসান বাড়ি ফিরলো না। অথচ ওর অফিস সময় শেষ ৫টায়। তিলোত্তমা ভেবে পায় না রাফসান এতসময় বাইরে কী করে? আজকাল সে মাঝেমাঝে রাতে বাড়িও ফেরে না। অথচ পাঁচ বছর আগে যখন রাফসানের সাথে তিলোত্তমার প্রথম পরিচয় তখন সে এমন ছিল না। কতটা উদ্যম পরায়ন যুবক ছিল সে! অনেকটা দায়িত্ববান, কর্তব্যপরায়ন। তার চোখে খেলে যেত সমাজকে পাল্টে দেবার ইচ্ছাশক্তি। প্রথম আলাপের কথা এখনও তিলোত্তমার মনে পড়ে। তিলোত্তমা তখন ইডেনে পড়ে। সে ৩য় বর্ষের ছাত্রী। তার এক বান্ধবীর জন্মদিনে রাফসানের সাথে পরিচয়। রাফসান তখন বুয়েটে ৪র্থ বর্ষে। সে ঐ বান্ধবীর দূর সম্পর্কের কাজিন। অনুষ্ঠানের সব আয়োজন ছাদে। কোথা থেকে এক উদ্দীপ্ত যুবক এসে তিলোত্তমাকে বলল, অনেকক্ষণ দেখছি আপনি একলা দাড়িয়ে আছেন। ব্যাপারটা কী? আপনি কি ফারিয়ার ফ্রেন্ড? তিলোত্তমা কিছুটা হকচকিয়ে গিয়েছিল। তারপর নিজেকে সামলে উত্তর দিল, হ্যা আমি ফারিয়ার বান্ধবী।

আসলে এত হট্টগোল আমার ভালো লাগে না তাই আর কি। রাফসান বলল, চলুন আপনাকে সঙ্গ দিই। ওদিকটায় চলুন সেখানে হট্টগোল নেই। তিলোত্তমা কেন যেন না করতে পারে নি। সে কখনো এর আগে এতটা সহজ সাবলীল ভঙ্গিতে অপরিচিতের সাথে কাউকে কথা বলতে দেখেনি। ওরা দুইজন ছাদের এককোণে একটু নির্জন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালো। প্রথমেই রাফসান যে বিষয় নিয়ে কথা শুরু করলো তা হল বাংলার সাহিত্য। তিলোত্তমা অবাক হল একটা ইঞ্জিনিয়রিং পড়া ছেলে কীভাবে বাংলা সাহিত্যের সমালোচনা করে? এর মাঝেই ওদের সাধারণ পরিচয় হয়ে গেছে। রাফসান পড়ছে আইটি তে আর তিলোত্তমা বাংলায় অনার্স। সমালোচনার এক পর্যায়ে রাফসান হুমায়ূন আহমেদের কথা তুলল। তার অভিব্যাক্তি, বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ কোনো উজ্জ্বল নক্ষত্র নয়। বাংলার মানুষ শুধু শুধু তার এত গুণগ্রাহী। তাঁর লেখায় দর্শন নেই আছে শুধু ছেলে ভোলানো ভাড়ামি। আর যে লেখায় দর্শন নেই, জীবন বোধ নেই তা কখনোই উৎকৃষ্ট সাহিত্য হতে পারে না। এমন সময় তিলোত্তমা একটু স্মিত হেসে বলল, আপনি বড্ড অযৌক্তিক বলছেন। ভুলে যাবেন না আমাদের দেশে একসময় মানুষ বই পড়া প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। আর যারা পড়তো তারাও প্রাশ্চাত্য সাহিত্যের দিকে আগ্রহী ছিল। সে সময় হুমায়ূন আহমেদ এক অনন্য নাম। তাঁর কল্যাণেই বর্তমান তরুণসমাজ সাহিত্যানুরাগী হয়েছে। মধ্যবিত্ত মানুষ বই পড়ার আগ্রহ পেয়েছে। তাঁর বইয়েই প্রথম মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনবোধ প্রকটভাবে রূপায়িত হয়েছে। সেদিন আর তেমন তাদের মাঝে তর্ক হয়নি। ঐদিনের পর থেকে রাফসান আর তিলোত্তমা ভালো বন্ধু হয়। এরপর প্রায় প্রতিদিনই রাফসান তিলোত্তমার হলের গেটের সামনে সকাল সাতটায় দাঁড়িয়ে থাকতো। তিলোত্তমাকে কলেজে পৌঁছে দিয়ে সে ভার্সিটিতে যেত। রাফসান তখন সমাজকে পাল্টে দেবার স্বপ্ন দেখতো। তার চিন্তা -চেতনায় সবসময়ই আধুনিকতার ছাপ। সে বামপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ছাত্রমৈত্রী দলের কর্মঠ ও দক্ষ সদস্য। রাফসানকে দেখেই প্রথম তিলোত্তমা রাজনৈতিক সচেতনতা পায়। সেও অনেকটা বামধারায় বিশ্বাসী হয়ে পড়ে। বামদলের এহেন মিটিং মিছিল নেই যেখানে রাফসান যেত না। রাফসানের সেই উদ্দীপ্ত উদ্যমপরায়ণ স্বভাবে উৎসাহিত হয়েই তিলোত্তমাও বামধারার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। তিলোত্তমা এখনো সমাজকে পাল্টে দেবার স্বপ্নে বিভোর। রাফসান আর তিলোত্তমা ঐসময় যে কতটা ভালো সময় কাটিয়েছে। ওরা নিজেরা বুঝতেই পারেনি কীভাবে কখন একে অপরকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। প্রতিদিন বিকেলে দুজনে ঘুরতে যেত। কত শত কথা, স্বপ্ন, আশা -আকাঙ্খা ওদের চোখ গলে গলে পার্কের বেঞ্চিতে, ঘাসে গড়িয়ে পড়তো। ওরা দুজনে ঠিক করে বিয়ের পর হনিমুনে যাবে রবিঠাকুরের অমর সৃষ্টি ‘শেষের কবিতার ‘ শিলঙ পাহাড়। সেখানে দুজনে অমিত -লাবণ্যের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। এছাড়া ছোটখাঁটো আরো কত কী যে দুজনে মিলে ভেবে ভেবে স্বপ্ন আঁকতো দুজনার চোখে।যদিও দুজনেই জানতো হয়তো তাদের স্বপ্ন সফল হবে না। সমাজ তাদের ধর্মের নামে বেঁধে ফেলবে। অবশেষে সেই দিন এল। রাফসানের পড়াশোনা শেষ সে বিটিআরসি তে একটা ভালো চাকরীও পেয়ে গেছে। হঠাৎ একদিন সে তিলোত্তমাকে বিয়ের প্রস্তাব করলো। তিলোত্তমা প্রথমে ভেবেছে রাফসান মজা করছে। কিন্তু রাফসান বলে সে সিরিয়াস। তিলোত্তমা ভেবে পায় না সে কী করবে। তার বাড়িতে তো মেনে নেবে না। সে রাফসানকে তা জানায়। সে রাফসানের কাছে জানতে চায় রাফসানের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেবে কিনা? রাফসান বলে, কে মেনে নিল আর না নিল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তুমি মেনে নিলে কিনা তাই প্রশ্ন। তিলোত্তমা তখন কিছুদিনের সময় চেয়ে নেয় ভাবার জন্য। তারপর সে ঠিক করে কঠিন সিদ্ধান্ত। পৃথিবীর অন্য কারো কাছে ওদের দুজনের ভালোবাসা মূল্যহীন হলেও কিছু যায় আসে না। নিজেদের কাছে তা কতটা মূল্যবান তাই গুরুত্বপূর্ণ। অবশেষে এক ফাগুনের বিকেলে বাকী পৃথিবীকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ওরা একে অপরের প্রতি আবদ্ধ হল। এটাকে অবশ্য কেউ বিয়ে বলে না। প্রচলিত রীতিতে যাকে বলে লিভ টুগেদার। কিন্তু অন্য কেউ মানুক বা না মানুক ওরা বিবাহিত। বিবাহিত হওয়া মানে একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা, দুজনে দুজনার প্রতি কর্তব্যবদ্ধ থাকা,দুজনার প্রতি দুজনার ভালোবাসা। আর সাধারণ মানুষ যাকে বিয়ে বলে তা তো ছোট্ট আনুষ্ঠানিকতা। রাফসান চেয়েছিল কোর্ট ম্যারেজ করতে, যাতে একটা নথিপত্র থাকে। কিন্তু তিলোত্তমা মত দেয়নি সে তখন বলেছে আমরা দুজনে জানি আমরা বিবাহিত আমরা দুজনায় আস্থা করি দুজনায়। তাহলে অতকিছুর দরকার নেই। তখনকার সময়ে সিদ্ধান্তটা সত্যিই ছিল তিলোত্তমার জন্য প্রচুর সাহসের। তিলোত্তমা তার পরিবার পরিজন থেকে ছিটকে পড়ে। তারপর এতদিনেও বাড়ির সাথে কোনো যোগাযোগ হয়নি। বিয়ের পরই সে জানতে পারে রাফসান অনেকদিন হয়েছে তার পরিবার থেকে দূরে সরে এসেছে। এজন্যই এত বড় একটা সিদ্ধান্তে রাফসানের তেমন ভাবনা ছিল না। বিয়ের ছ ‘মাস বাদেই তারা শিলঙ যায়। তখন তিলোত্তমার অনার্স ফাইনাল সবে শেষ। শিলঙের সে কটা দিন তিলোত্তমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। হাসি -খুশি ঘাসের ঠোঁটে শিশিরবিন্দুর মতন উচ্ছ্বল সে কটা দিন। যদিও তাদের অমিত -লাবণ্যের ভূমিকায় আর অবতীর্ণ হওয়া হয়নি তবুও। মানুষ বদলায় এটা স্বাভাবিক কিন্তু এতটা বদলায় তা কখনো তিলোত্তমা ভাবতেও পারেনি। তিলোত্তমা নিজেও বদলে গেছে তা সে বুঝতে পারে। কিন্তু রাফসানের বদলে যাওয়া একদম চোখে পড়ার মতন। যে ছেলেটা একসময় দেকার্তের দর্শনের কথা বলতো। ‘আমি চিন্তা করি তাই আমি অস্তিত্ববান ‘ এমন ধারার বিশ্বাসের কথা বলতো সে আজ দাঁড়ি -টুপিতে মুসল্লি সেজেছে। সে আজ তার সমাজকে পাল্টে দেবার স্বপ্ন পাল্টে ফেলেছে। তিলোত্তমা ঠিক বুঝতে পারে না গত দু বছরে এমন কী হল যা রাফসানকে একেবারে পাল্টে দিল। বিয়ের প্রথম দু বছর তো সব ঠিকঠাকই ছিল। তারপর থেকেই রাফসান এমনটা হতে শুরু করেছে। এক বাড়িতে থেকেও যেন ওরা একে অপর থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে। আজকাল যে রাফসান বেশ উপার্জনও করছে তা তিলোত্তমা বুঝতে পারে। ধীরে ধীরে রাফসান টাকার পাহাড় তৈরী করছে। জানতে চাইলে কিছু বলেনা। মাস ছয়েক হল রাফসান গাড়ি কিনেছে। মাঝে তিলোত্তমা রাফসানকে চেপে ধরেছিল,সে কনসিভ করতে চায়। রাফসান রাজি হয়নি। তারপর থেকে রাফসান তিলোত্তমার সাথে শারীরিক সম্পর্কই বাদ দিয়েছে। অথচ হঠাৎ সেদিন তিলোত্তমার কিছু খুচরো টাকার দরকার পড়ে বলে সে রাফসানের ওয়ালেটে হাত দেয়। তিলোত্তমার কাছে ভাংতি টাকা ছিলনা। কিন্তু রাফসানের ওয়ালেটে একটা জিনিস দেখে সে বরফ হয়ে যায়। ওয়ালেটে কনডমের প্যাকেট। ওয়ালেটে কনডম নিয়ে ঘুরার কী মানে? একটাই মানে হতে পারে সে অন্য কোনো নারীর প্রতি আসক্ত। তিলোত্তমার ঘেন্না করতে লাগলো রাফসানকে। সে এ সম্পর্কে রাফসানকে আর কিছু বলেনি। আজ পৃথিবীতে তিলোত্তমা বড্ড একা। খুব শিগ্রী তিলোত্তমাকে একটা কঠিন সিদ্ধান্তে পৌছুতে হবে। কারণ রাফসান সম্পর্কে সে আরো অনেক কিছু জেনে গেছে । রাফসান যে আসলে এতদিন নিজের মুখোশের আড়ালে এতকিছু লুকিয়ে রেখেছিল তা বোঝা কঠিন। সেদিন রাফসানের টেবিল গুছাতে গিয়ে ড্রয়ারে একটা পেনড্রাইভ পায়। এই পেনড্রাইভেই তাদের শিলঙে তোলা ছবিগুলো ছিল তাই তিলোত্তমা আগ্রহ নিয়ে পেনড্রাইভটা তার পিসিতে লাগিয়ে আগের দিনের কিছু মুছে যাওয়া স্মৃতি রোমন্থন করতে চায়। কিন্তু পেনড্রাইভে কোনো ছবি নেই। সেখানে শুধু কয়েকটা মেইলের কপি আর কিছু বইয়ের সফটকপি। সে বইগুলো ওপেন করে দেখে সবগুলো বইই মওদুদের। সে আকাশ থেকে পড়ে রাফসান জামাতি ইসলামের এইসব বই দিয়ে কী করছে ভেবে পায়না। প্রথমে তিলোত্তমার মনে হল এসব হয়তো রাফসান জামাত ইসলামের বিরোধীতার জন্য রেখেছে, তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনে। কিন্তু কী ভেবে যেন তিলোত্তমা কৌতুহলী হয়ে রাফসানের মেইলগুলো চেক করে। মেইলগুলোর সবগুলোই জিহাদী কথাবার্তা আর দলগঠনের এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা হাতানোর চক্রান্ত সংক্রান্ত। যেখানে রাফসানকে সম্বোধন করা হয়েছে বড় হুজুর নামে এবং সকল আপডেট জানানো হয়েছে তাকে। তিলোত্তমা হতবুদ্ধি হয়ে যায় এসব দেখে। সে ঠিক কোনো কিছু বুঝতে পারছে না এমন মনে হয় নিজের কাছে। তারপর কিছুক্ষণবাদেই সবকিছু তার চোখের সামনে কাঁচের মত স্পষ্ট হয়ে উঠে। বিয়ের পরপরই সে দেখতো মাঝেমাঝেই রাত জেগে রাফসান বিভিন্ন মানুষের সাথে ফোনে অপারেট করতে। রাফসান মাঝেমাঝে স্কাইপে এক মোল্লা গোছের লোকের সাথে উর্দুতে কথা বলতো। একদিন তিলোত্তমা লোকটার সম্পর্কে জানতে চাইলে রাফসান বলে তার এক চাচা থাকেন কাশ্মিরে, সেই চাচার সাথেই কথা হয়। রাফসান একদিন তিলোত্তমার সাথেও লোকটার কথা বলিয়ে দেয়। তিলোত্তমার সাথে লোকটার কথা হয় ইংরেজিতে। তিলোত্তমা অবাক হয়েছিল একটা জায়গায় তা হচ্ছে লোকটা পরিচয়পর্বের পরই এদেশীয় বামধারার রাজনীতিতে বর্তমানে কী নিয়ে ভাবা হচ্ছে তা নিয়ে জানতে চান। লোকটার সাথে কথার পর তিলোত্তমা রাফসানের কাছে জানতে চায়, চাচা কেন এদেশীয় বামরাজনীতি সম্পর্কে জানতে চাইলো? তার দাড়ি আর টুপির বাহারে তো মনে হয়না তিনি কমিউনিস্টের সমর্থক। রাফসান কথাটা কাটিয়ে যায় অন্য কথা বলে। সেদিনের সে ঘটনা মনে পড়ার পর তিলোত্তমা বুঝতে পারে রাফসান কতটা নীল নকশা এঁকেছে। আর এই নকশায় তিলোত্তমাও যে একটা দাবার গুটি তা বুঝতে আর তার বাকী নেই। ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারে কেন রাফসান প্রথমে বামপন্থীতে ছিল, কেন সে তিলোত্তমাকে বিয়ে করেছে, কেন আজকাল বাড়ি ফিরছে না। বামপন্থীতে থেকে সে ঐ ধারার রাজনীতি সম্পর্কে জেনে নিয়েছে, তিলোত্তমাকে বিয়ের কারণ কেউ যেন তাকে মৌলবাদী বলতে না পারে আর আজকাল বাড়ি না ফেরার কারণ তিলোত্তমার প্রয়োজন এখন শেষ। মেইলের ছকমতে কিছুদিনের মাঝেই একটা বড় কিছু হতে যাচ্ছে। যেমনটা হয়েছিল ২০০৪ সালে। একইসাথে দেশের বিভিন্ন জেলায় বোম ব্লাস্ট। এবারে হয়তো অন্যকিছু। তিলোত্তমা সেই মেইলের ডকুমেন্টগুলো সেদিন কপি করে রেখেছে। তাকে এমন একটা কিছু করতে হবে যাতে এই নীল নকশা সফল না হয়। তিলোত্তমার মনে পড়ে অনির্বাণের কথা। অনির্বাণ তার ছেলেবেলার বন্ধু। ভালো সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং বাস্তববাদী কবি। অনির্বাণ তাকে সাহায্য করতে পারে। অনেকদিন অনির্বাণ বাড়িতে আসেনা। কাজের চাপ হয়তো একটু বেশি। তিলোত্তমা ঘড়ি দেখলো, ১টা বাজতে চলল। আজও রাফসান বাড়ি ফিরবে না। তিলোত্তমার মনে হল রাফসান আর কোনোদিনই বাড়ি ফিরবে না। সে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায়। আকাশে কোনো চাঁদ নেই। অনেকগুলো নক্ষত্র এদিক ওদিক যাদৃচ্ছিক ছড়িয়ে আছে। রাস্তার ওদিকটায় একটা কুকুর লেম্পপোস্টটা ঘিরে বারবার বৃত্তাকারে ঘুরছে। নিস্তব্ধ শহরে দূর রাস্তা থেকে মাতালের গান শোনা যাচ্ছে। তিলোত্তমা ঠিক করে কাল সকালেই অনির্বাণের সাথে দেখা করতে হবে। সব তথ্য -উপাত্ত তাকে দিতে হবে নতুবা বড্ড দেরি হয়ে যাবে। তিলোত্তমার হঠাৎ জানতে ইচ্ছে করে রাফসানের কাছে কি সে শুধুই দাবার গুটি ছিল। একদিনের জন্যও কি রাফসান তাকে ভালোবাসেনি। তিলোত্তমার নিজের প্রতিই ঘেন্না এসে যায়। ভালোবাসাহীন একটা মানুষের সাথে রাতের পর রাত এক বিছানায় কাটানোর কথা ভাবতেই নিজেকে তার বেশ্যা মনে হয়। গা ঘিনঘিন করে উঠে। রাফসানকে একটা সাপের মতন লাগে। তিলোত্তমা ভাবে আসছে দিনে জীবননদীতে জোয়ার প্রতীক্ষমান। বারান্দার দেয়ালে ঝিম মেরে বসে থাকা এক টিকটিকি ডেকে উঠল, ‘ঠিক ঠিক ঠিক ‘।

You may also like...

প্রতিমন্তব্যঅসীম নন্দন বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

viagra type medicine in india

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

does accutane cure body acne
viagra generico prezzo farmacia
clomid trying to get pregnant
diflucan dosage for ductal yeast