বিষন্নতার শহরে(১ম)

454

বার পঠিত metformin gliclazide sitagliptin

সোবাহান সাহেব কে তা মজিদ জানেনা। জানার কথাও নয়। আজ সকালে নাসরুদ্দিন সাহেব যখন জুতোর বাক্সের সাইজের একটা প্যাকেট সুদৃশ্য শপিং ব্যাগে করে তাকে দিল তা দেখে মজিদ খানিকটা হতবাকই হল। সে রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে বললো, কি এটা?

নাসিরুদ্দিন সাহেব ধমকে উঠলেন, তুমি তা জাইন্না কি করবা? এই নাও এই কাগজটা ধর। ঠিকানা লিখা আছে। এই প্যাকেটটা সোবাহান সাহেবরে দিয়া আসো।

মজিদ কিছু বলে না। এখন কিছু বললেই বাবা খেপবে। সাত সকালে ভদ্রলোক খেপিয়ে লাভ নাই।

ভাড়া কত দিমু? thuoc viagra cho nam

মজিদ তার বাবার দিকে তাকায়। মুখের খোঁচা খোঁচা দাড়ি চুলকে বলে, দেন, সিএনজি ভাড়া দেন।

সিএনজিতেই যাইতে হবে এমন তো কথা নাই। কষ্ট করতে শিখো, মিয়া। বাসে কইরা যাওয়া তো যায়, যায় না?

দেন বাস ভাড়াই দেন।

নাসিরুদ্দিন সাহেব তাকে নতুন কচকচে একশো টাকার দু’টো নোট বাড়িয়ে দেন।

একটা দেন। একটা দিলেই চলবে।

রাখো। রাস্তাঘাটের পথ। বিপদে পড়লে কামে লাগবো।

মজিদ এখন দাঁড়িয়ে আছে মিরপুর-১ এর বাসষ্টান্ডে। তাকে যেতে হবে রাইনখোলা বাজার থেকে একটু সামনে। রিক্সা নিবে কিনা ভাবছে। অবশ্য হাটতে তার ভালো লাগে। আশেপাশের মানুষ দেখা যায়। রাস্তার মানুষদের কর্মকান্ড দেখে দেখে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য ভিন্নরকম এক আনন্দ আছে। রিক্সায় বা গাড়িতে করে গেলে এই মজাটা পাওয়া যায়না। দ্রুত দৃশ্যপট বদলে যায়। চোখ দিয়ে দেখা হয়। মনে ঠিক স্পর্শ করেনা।

আকাশের দিকে তাকায় মজিদ। কাল রাতে বেশ অনেকক্ষণ বৃষ্টি পড়েছে। তারপরও রোদের কি তেজ। বৈশাখের রোদে নাম না জানা বিষ থাকে। এই বিষ শরীর নষ্ট করে। অসুখ বাঁধায়।

মজিদ হাঁটা শুরু করে। বিশ মিনিটের মত লাগবে রাইনখোলা বাজার যেতে। পকেট থেকে সিগারেট বের করে সে। মে মাসের মাঝামাঝি এখন। দু’একদিনের মধ্যেই দাম বাড়বে। আগে দশ টাকা দিলে একটাকার বদলে কখনো আম কখনো দুধের ফ্লেভারের চকোলেট পাওয়া যেত। হয়তো দু’দিন পর থেকে চকোলেট পাওয়া যাবে না। বেনসন হয়ে যাবে দশ টাকা। একটা শলকা দশ টাকা আবার পাড়ার হোটেলগুলোতে এক প্লেট ভাতও দশ টাকা। ভাবা যায়?

ঈদগাহ্ মাঠে এসে দাঁড়ায় মজিদ। একটু জিরিয়ে নেয়া। বয়স হচ্ছে। গত দু’বছর অলস সময় কাটিয়েছে সে। মাস্টার্স পাশ করার পর চাকুরীর চেষ্টা একেবারেই করেনি। মা অবশ্য বলেছিল বড় মামার সংগে দেখা করতে। বায়িং হাউজ আছে মামার। মজিদ যায়নি। ভালো লাগেনি। শুধুমাত্র ছাত্র জীবনটাকে দীর্ঘ করতেই এ বছর সে ‘ল’ এ ভর্তি হয়ে যায়। দু’টো বছর নিশ্চিন্তে থাকা যাবে।

ঈদগাহ্ মাঠে এই গরম উপেক্ষা করেও কিছু ছেলে ক্রিকেট খেলছে। বাহ্ ছেলেটা ভালো ব্যাট করে তো। কি চমৎকার স্কোয়ার কাট! দিনু ছেলেটা ভালো ক্রিকেট খেলতো। খুব ভালো ব্যাট চালাতো। অনেক জোরে বলও ছুড়তে পারতো। একদিন খবর এলো চাঁদপুর খেপ খেলতে গিয়ে ট্রলার ডুবিতে মারা গেছে দিনু। খুবই ভালো খেলতো দিনু। সিটি ক্লাবে চান্স পেয়ে গেলে ক্লাশ টেনে থাকতেই। এখানে ওখানে খেপে যেতো ও। ভালো পয়সাও পেতো। খুব টাকা ভাংগতে ভালবাসতো ছেলেটা। দিনু যখন মারা যায় কত বয়স ছিল ওর? ভাবে মজিদ। সতেরো? হ্যা, সতেরোই হবে। তখন মজিদেন বয়স সতেরোই ছিল। ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার। খুব ভালো বন্ধু ছিল মজিদের।

সোবাহান সাহেবের বাসা খুঁজতে হয়না মজিদের। প্রভাবশালী লোক হয়তো। পাড়ার মুদি দোকানীকে জিজ্ঞাস করতেই দোকানদার তার ন’ দশ বছরের ছেলেটিকে বাসা চিনিয়ে দেয়ার জন্য সংগে দেয়। মজিদ জানে খুব সুনাম না থাকলে সাধারণ মানুষ এই বিনয়টুকু দেখায় না।

বেশ বড়সড় বাড়ি। মজিদ অবাক হয়। সামনে বাগানও আছে। চারপাশে এক মানুষ সমান প্রাচীর টানা। ঝকঝকে দু’তালা বাড়ী। এখন এমন বাড়ি দেখা যায় না। ফ্ল্যাট কালচারের সর্বোত্তম সময় এখন। এই বাড়িতে ক’টা সুউচ্চ ভবন হবে ভাবে মজিদ। মিনিমাম চারটে তো হবেই।

সোবাহান সাহেব বাগানেই বসে আছে। মাথার উপর কংক্রিটের তৈরি বিশাল এক ছাতা। ইজিচেয়ারে বসে ভদ্রলোক পত্রিকা পড়ছেন। পড়নে টি শার্ট আর ট্রাউজার। দু’টোই সাদা বর্ণের। দেখাচ্ছে আশির দশকের কোন ক্রিকেট দলের কোচের মত।

মজিদ নিজের পরিচয় দেয়ার পর ভদ্রলোক বেশ উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন। আনন্দিত গলায় বল্লেন, আরে তুমি নাসিরের ছেলে? প্রশ্নটা করেই নিজে উঠে দাঁড়িয়ে মজিদকে জড়িয়ে ধরলেন। পুরো ব্যাপাটাই অদ্ভুত লাগলো মজিদের। নাটক-সিনেমায় এমন দৃশ্য হরহামেশাই দেখা যায়। জোর করে সামনের চেয়ারটায় তাকে বসিয়ে সোবাহান সাহেব বলেন, তারপর আমার জুতো ফেরৎ দিতে এসেছো? কই আমার জুতো কই?

মজিদের বুক কেপে উঠলো। সর্বনাশ, প্যাকেট তো ঈদগাহ্ মাঠে ফেলে আসা হয়েছে। পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছে।

সোবাহান সাহেব বলেন, কি হয়েছে?

না মানে চাচা, একগ্লাস পানি খাব! achat viagra cialis france

পানি তো অবশ্যই খাবে। তোমাকে এমন নার্ভাস দেখাচ্ছে কেন?

মজিদ মিথ্যা বলতে পারেনা। মিথ্যা বল্লে তার বুক কাঁপে। তার মায়ের মত। কি বলবে ভেবে পায়না। সে কি বলবে, চাচা, আমি জুতো জোড়া হারিয়ে এসেছি!

এই কথা শুনে তার বাবার এই বন্ধু নির্ঘাৎ তাকে গাধা ভাববে। প্রথম আলাপে কোন ভদ্রলোক তাকে গাধা ভাবুক এটা মজিদ চায় না। কিছুতেই না। ভালো যন্ত্রণায় পড়া গেলো। জুতো জোড়া তো তিন মন ওজনের ছিলো না। সিগারেট হাত বদল করে খেতে হচ্ছিল তাই জুতো জোড়া পায়ের কাছে নামিয়ে রেখেছিল। এখনি যদি এমন ভুলোমনা হয়ে যায় তবে সামনে ভবিষৎ জীবনে কি হবে-ভেবে শন্কিত হয় মজিদ।

বিশ একুশ বছরের অত্যন্ত ধবধবে ফর্সা একটা মেয়ে ঝগ ভর্তি বেলের শরবত নিয়ে আসে। মজিদ আরো বেশী নার্ভাস হয়ে যায়। এই মেয়ের সামনে কিভাবে বলে, চাচা, পথে আমি জুতা জোড়া হারিয়ে এসেছি।

মেয়েটা গ্লাসে শরবত ঢেলে দেয়। এক লহমায় শরবৎ খেয়ে নেয় মজিদ। মেয়েটা যখন বলে, আরেক গ্লাস দিই। মজিদ ঘার কাত করে সন্মতি জানায়। মেয়েটা খুব শান্ত গলায় বলে, আপনার চোখে সেদিন ব্যথাটা বেশী লেগেছিল, না?

মজিদ চমকে মেয়েটার দিকে তাকায়। এই মেয়েটাই ছিল সেদিন? সেদিন অবশ্য লক্ষ্য করেনি সে। মাস তিনেক আগে বই কিনতে গিয়েছিল নীলক্ষেত। ফুটপাত থেকে শির্ষেন্দুর ঘুনপোকা উপন্যাসটি কিনে পয়সা দিতে যাবে ওম্নি একটা বইয়ের শক্ত মলাটের কোনের অংশ তার বাম চোখে এসে লাগল। মানুষের দম মানুষের অংশ দিয়ে বেরোয় মজিদ জানেনা। সেদিন মনে হয়ে ছিল চোখ দিয়েই বুঝি বেরোয়। মেয়েটা বহুবার সরি বলেছিল। এই সরির হাত থেকে বাঁচতে সে ভাংতি টাকা ফেরৎ না নিয়ে অনেকটা দৌড়ে রিক্সা নিয়ে নিয়েছিল। বিশ বাইশ দিন ভুগেওছিল চোখ নিয়ে। ফোলেটোলে একাকার। মা জিজ্ঞেস করলেন, ব্যথা পেলি কি করে?

মজিদ হাসতে হাসতে বলেছিল, জ্ঞান তার শক্ত হাত দিয়ে চোখে ঘুষি মেরেছে।

ডাক্তার কি এক ড্রপ দিল। চোখে দিলে গলার কাছটা তেতো হয়ে যায়। মুখভর্তি থু থু আসে। বিরাট যন্ত্রণা। প্রায় মাসখানেক তাকে কালো সানগ্লাস পড়ে থাকতে হয়েছে। ল ক্লাসে তার নাম হয়ে গেল রজনীকান্ত।

চাচা, বলতে লজ্জা লাগছে। কি করে যে বলি!

কি হয়েছে, বাবা?

আসলে সকালে বাবা একটা প্যাকেট দিয়েছিলেন আপনাকে দেয়ার জন্য। রাস্তায় ওটা হারিয়ে ফেলেছি।

ভদ্রলোক শব্দ করে হেসে উঠেন। বলেন, ভালই হয়েছে, সেই কবে তখন জন্মই হয়নি তোমার, আরো তেত্রিশ বছর আগে একজোড়া বাটা জুতা কিনে দিয়েছিলাম। খুব অভাব চলছিল নাসিরের তখন…

গেটের দারোয়ান বশির মিয়া দেখে সাহেবের ছোট মেয়েটার সাথে লম্বামত একটা ছেলে বসা। বড় সাহেব হাত নেড়ে গল্প করছে। দৃশ্যটি দেখতে ভাল লাগে। বড় মায়া!

You may also like...

  1. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    পরবর্তি পর্বের অপেক্ষায়। টুক টাক ভুল আছে। দেখে শুধরে নিবেন।

    ‘ লহমায়’- শব্দের অর্থটি কি???

    walgreens pharmacy technician application online
  2. mahmud বলছেনঃ

    @};- গতিটা একটু বেশি মনে হচ্ছে না?

  3. মুহাম্মাদ অাশিকুর রহমান বলছেনঃ

    পরের পর্ব কি এই বছরে পাওয়া যাবে?

  4. একটা শলকা দশ টাকা আবার পাড়ার হোটেলগুলোতে এক প্লেট ভাতও দশ টাকা। ভাবা যায়? kamagra pastillas

    লাইনটা পড়ে বেশ কিছুক্ষণ থমকে ছিলাম।

    লেখনী বেশ সাবলীল। চালিয়ে যান।

    all possible side effects of prednisone
  5. অংকুর বলছেনঃ

    জ্ঞান তার শক্ত হাত দিয়ে চোখে ঘুষি মেরেছে puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

    হাহাহাহাহাহ মজা পেলাম । চালিয়ে যান ভাই :-bd :-bd :-bd :-bd :-bd :-bd :-bd :-bd

  6. ভালো লাগলো… :-bd :-bd =D> =D> পরের পর্বের অপেক্ষায় আছি… :!! :!! :!! :!! :!!

    viagra vs viagra plus
  7. পছন্দ হয়েছে ভাই । বর্ননার ধরনটা সুন্দর

  8. ভাল লাগতেই হঠাত থামতে হলো দেখে মন খারাপ হয়েছিলো,
    পরে বুঝলাম পর্ব বাকি আরও ২০টা! :roll:

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.