একটি মেয়ে, কয়েকটি স্বপ্ন আর সদ্য জন্ম নেয়া একটি ভালোবাসার মৃত্যু…..

466

বার পঠিত

b9f9e884c0710bbc6b8b06bcb81038fc-400x304
প্রতিদিনের মতই ঘুম থেকে উঠেই এক ঝাঁক অগোছালো চিন্তা নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো কথা। আজ তাঁর অনেক কাজ; প্রথমে ভার্সিটিতে যেতে হবে, ক্লাস শেষে আবার নীলক্ষেত যেতে হবে কয়েকটা প্রয়োজনীয় বই কিনতে, কাল ছোট ভাইটার জন্মদিন ওর জন্য একটা ভালো গিফট্‌ কেনা চাই আবার মায়ের ঔষধও নাকি শেষ হয়ে গেছে। হাতে সময় খুবই কম। এমনিভাবে নানান চিন্তা মাথায় নিয়েই ফ্রেশ হয়ে ভার্সিটিতে যাবার জন্য তৈরি হতে লাগলো সে। মা নাস্তা করার জন্য ডাকছে; ধ্যাত এতো ব্যস্ততার মাঝে নাস্তা করতে মোটেও ভালো লাগে না কথার, কিন্তু কি আর করা মায়ের বকুনি খাবার চেয়ে নাস্তাটা খেয়ে নেয়াই ভালো!! যাহোক, খুব দ্রুত নাস্তা করে ভার্সিটির পথে রওনা হল। রাস্তায় আজ একটা রিক্সাও নেই; যেদিনই কাজের তাড়া ঠিক সেদিনই রিক্সা পাওয়া যায় নাহ্‌। রিক্সার জন্য দাড়িয়ে না থেকে হাঁটতে শুরু করলো কথা।
মাঝ রাস্তায় এসে একটা রিক্সা পেলো। যাক, ভালোই হল… আজ আবহাওয়াটা কথার বেশ ভালো লাগছে; চারিদিকে একটা মৃদু বাতাসের খেলা চলছে। এমন দিনগুলো কথার খুব প্রিয়। রিক্সাটা বাসস্ট্যান্ডে চলে এসেছে। রিক্সা থেকে নেমে এবার বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো সে। ২০ মিনিট যাবত দাড়িয়ে আছে কথা কিন্তু বাসের কোন খবর নেই। দূরে একটা বাস দেখা যাচ্ছে, এই বাসটাতে উঠতেই হবে তা না হলে আবারও দাড়িয়ে থাকতে হবে অনেক ক্ষণ। বাসটা কাছেই চলে এসছে, বাসে উঠবে ঠিক এমন সময় কোথা থেকে একটা দমকা বাতাস আসলো, আর সেই বাতাসের সাথে কিছু বালুকণা ঢুকে পরল কথার চোখে। কোনোরকম সামলে নিয়ে এক পা বাসে রাখতেই ড্রাইভার বাসটা টান দিলো; আর ওমনি কথার পা-টা পিছলে গেলো। যেভাবে তাঁর পা-টা পিছলে গিয়েছিলো তাতে করে বাসের চাকার নিচে পরা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল নাহ্‌। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর সে অনুভব করতে পারলো যে তাঁর কিছুই হয়নি। কেউ একজন তাঁর ডান হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছে। ঘুরে তাকিয়ে দেখল একটি ছেলে তাঁর হাতটা ধরে আছে। পাশ থেকে একজন বয়স্ক লোক বলে উঠলো-

” এইভাবে কেউ বাসে উঠে!! এই ছেলেটা তোমার হাত ধরে টান না দিলে তো এখনই সব শেষ হয়ে যেতো …! ”

মুখে সামান্য কৃতজ্ঞতার হাঁসি এনে ধন্যবাদ জানালো সেই ছেলেটিকে। একটু পরেই আরেকটা বাস আসলো। বাসে উঠে মাঝখানের একটা সিটে বসে পরল কথা। বাসটা চলছে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যপার বাসস্ট্যান্ডের সেই বয়স্ক লোকটির ” এখনই সব শেষ হয়ে যেতো ” কথাটি এখনো কথার কানে বাজছে। এক মুহূর্তে অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো সবকিছু। আসলেই যদি আজ সব শেষ হয়ে যেতো তাহলে তাঁর এতো কাজ কিভাবে শেষ হতো, কে তাঁর মাকে রোজ ঔষধ খাবার কথা মনে করিয়ে দিতো, ভাইটা এবার JSC দেবে রোজ সন্ধ্যায় কে ওকে গাইড করতো, জয় পাগলা ভালো রেজাল্ট করলে ওর গিফটটা কিভাবে দিতো, ওদিকে ৪ মাস পর তারিক ভাইয়ের বিয়ে; কথা ঠিক করে রেখেছে নতুন ভাবীর হাতে সে মেহেদী লাগিয়ে দেবে। কিন্তু আজ যদি সব শেষ হয়ে যেতো কি হতো…!!! একদিন হয়তো সব শেষ হয়ে যাবে কিন্তু হাতে এতোগুলো কাজ রেখে… নাহ্‌ আর ভাবতে পারছিল না কথা। সেই লাল পাঞ্জাবী পরা লোকটা মানে যে কথাকে এই বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়েছে তাঁর প্রতি কথার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। চিন্তা করতে করতে তাঁর গন্তব্যে চলে এসেছে সে।
ওদিকে জীবনে প্রথম কোন মেয়েকে ভালো লেগেছে কাব্যের। এর আগেও কথার চেয়ে অনেক সুন্দর মেয়েকে সে দেখেছে কিন্তু কেন যেন কোন মেয়েকেই এতো ভালো লাগেনি তাঁর। বিশেষ করে চার চাহনি আর অসময়ের হাঁসিটা তাঁর বেশী ভালো লেগেছে। নাহ্‌ কিছুতেই যেন কাব্য কথাকে তাঁর চোখ থেকে সরাতে পারছে না। বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে এসে পাঞ্জাবীটা ছেড়ে নিচে ফেলে রেখে আবারও সে কথাকে নিয়ে ভাবছে। ওদিকে তাঁর মা তাকে ডেকেই চলছে; কোন সাড়া নেই। হঠাৎ করে যে কি থেকে কি হয়ে গেলো কিছুতেই কিছু মেলাতে পারছেনা কাব্য। কখনোই কোন মেয়েকে নিয়ে এতো ক্ষণ সে ভাবেনি কিন্তু আজ যেন সে কিছুতেই কথাকে ভুলতে পারছে নাহ্‌। কাল একই সময়ে যেতে হবে বাসস্ট্যান্ডে, মেয়েটিকে না দেখে থাকতে পারছি নাহ্‌- নানান চিন্তাদের সাথে খেলা করতে করতে কখন যে তাঁর চোখ দুটি লেগে আসলো সে বুঝতেই পারলো না।
সারাদিনের সকল ব্যস্ততা কাটিয়ে এবার ঠাণ্ডা মাথায় নিজের পড়ার টেবিলে গিয়ে বসলো কথা। সারা দিন নানা রকম চিন্তা আর ঝামেলার ভিড়ে নিজেকে নিয়ে ভাববার সময় হয় না তার। তাই রাতটাকে সে শুধুই নিজের বলেই ভাবে। কিন্তু তারপরেও মাঝে মাঝে নানান রকম উদ্ভট ভাবনারা নষ্ট করে দিতে চায় তার প্রিয় রাতগুলোকে। তখন খুব অস্বস্তি লাগে তার কাছে। মনে হয় কেন এই কয়েকটা দিনের জন্য ঈশ্বর মানুষকে এই পৃথিবীতে পাঠায়। যতোই ভাবে অস্বস্তিটা ততোই বেড়ে চলে তার; কিন্তু তার প্রশ্নের উত্তর সে খুঁজে পায় না। এমনি ভাবেই কেটে যায় তার রাতগুলো। পরদিন সকালে আবারও একই নিয়মে শুরু হয় কথার দিন। আজ বাড়ির সামনেই একটা রিক্সা পেয়েছে সে। বাসস্ট্যান্ডে নেমে সামনের দিকে তাকাতেই কালকের সেই লাল পাঞ্জাবীর ছেলেটাকে দেখতে পেলো সে।কিন্তু আজ তার পরনে ছিল একটা টি-শার্ট। ছেলেটাও তাকিয়ে আছে তার দিকে। কাছে গিয়ে সে আবারও ছেলেটাকে ধন্যবাদ দেবার সাথে সাথে দু একটা সৌজন্য মূলক কথা বলল। বাস চলে আসাতে তড়িঘড়ি করে কথা শেষ করে বাসে উঠে পরল কথা। পেছনের আগের সিটটাতে গিয়ে বসলো। জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখতে পেলো যে ছেলেটা এখনো তার দিয়ে তাকিয়ে আছে। বেশ বিব্রত হল কথা কিন্তু কালকের ঘটনার জন্য রুক্ষ ভাবে মুখটা ঘুরিয়ে না নিয়ে আবারও একটা কৃতজ্ঞতার হাঁসি হাসল সে কারন ছেলেটা যে তার কতো বড় উপকার করেছে সেটা একমাত্র সে-ই জানে।
আবারও সবকিছু উলট-পালট হয়ে গেলো কাব্যর। সে বুঝতে পারে যে কথার হাঁসিটা অনিচ্ছাকৃত কিন্তু অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কি করে এভাবে হাঁসতে পারে। নাহ্‌ মেয়েটা তাকে পাগল করে ছাড়বে। মাত্র দু দিনের পরিচয়; কিন্তু কাব্যর মনেহয় মেয়েটা তার বহু দিনের চেনা। এমনি করে পুরো এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলো। রোজ সে কথার জন্য বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করে, শুধুমাত্র ওকে একটি বার দেখার জন্য দাড়িয়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বেশ পরিবর্তন এসেছে কাব্যর মাঝে। এখন সে আর ১১ টা পর্যন্ত বিছানায় থাকে না, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইরে আড্ডা দেয় না, ছোট বোনের সাথে ঝগড়া করে না, বাবার মুখে মুখে তর্কও করে না। এই কাব্যকে বড় অচেনা মনে হয় তার মায়ের কাছে। কিন্তু যা-ই হোক ছেলের এই পরিবর্তনে বেশ খুশি তার মা। অন্তত ছেলের বেলা করে ঘুমানো আর সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডা দেবার জন্য কাব্যর বাবার কথা শুনতে হয় না তাকে। কিন্তু কি করে তার ছেলেটা হঠাৎ এতোটা বদলে গেলো সেটাই সে ভেবে পায় নাহ্‌। ছেলেকে দেখে মনে হয় সে কিছু একটা নিয়ে ভাবে কিন্তু কি নিয়ে ভাবে সেটাই সে বুঝে না। রোজ সকালে ছেলে কোথায় যায় সেটাও মাঝে মাঝে ভাবায় তাকে।
আজ থেকে ২৭ দিন পূর্বে কথার সাথে প্রথম দেখা হয়েছিলো কাব্যর। সেই থেকে রোজ সকালেই কথাকে এক নজর দেখার জন্য বাসস্ট্যান্ডে দাড়িয়ে থাকে সে। কখনো দু- একটা কথা, কখনো সৌজন্যতার হাঁসি আবার কখনো বা চোখাচোখি হয় তাঁদের মাঝে। আজ কাব্য ঠিক করেছে কথার সাথে পরিচিত হবে সে। তার জন্য বেশ কয়েকবার আয়নায় দাড়িয়ে নিজে নিজে প্র্যাকটিসও করেছে। কথা রিক্সা থেকে নামার সাথে সাথেই কেমন যেন গলা শুকিয়ে যেতে লাগলো কাব্যের। কিছুতেই সে কথার কাছে এগিয়ে যেতে পারলো নাহ্‌। মনে হল পেছন থেকে কেউ বোধহয় তাকে ধরে রেখেছে। একটা বাস চলে আসলো, কথা চলে গেলো। কিন্তু কাব্য পরিচিত হতে পারলো না কথার সাথে। আজ বাড়িতে গিয়ে ভালো করে প্র্যাকটিস করবে কাব্য। যে করেই হোক কথার সাথে তাকে পরিচিত হতেই হবে।
কথার ভার্সিটিতে আজ একটা প্রোগ্রাম আছে। খুব একটা সাজগোজ সে কখনোই করে না। নিজেকে সাদাসিধে রাখতেই পছন্দ করে সে। তাই খুব একটা সাজগোজ না করে চোখে একটু কাজল, কপালে একটা কালো টিপ, আর চুলে একটা বেণী করে ভার্সিটিতে রওনা হল। ওদিকে কাব্য কথার অপেক্ষায় আছে; আজ সে কথার সাথে পরিচিত হবেই । যেই কথা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছালো এক অদ্ভুত ভালো লাগা ছুঁয়ে গেলো কাব্যর হৃদয়কে। কথার দিক থেকে কিছুতেই সে তার চোখ ফেরাতে পারলো না। শ্যামবর্নের এই মেয়েটি প্রতিদিনই অনবরত তাকে খুন করে যাচ্ছে। অনবরত ভালোবাসার রক্তক্ষরণ হচ্ছে তার বুকে। যতবারই তার সাথে দেখা হচ্ছে ততবারই সে খুন হয়ে যাচ্ছে… এসব নানা রকম চিন্তা করতে করতে কখন যে কথা চলে গেলো সেটা টেরই পেলো না সে। ধ্যাত!! আজও চলে গেলো; কিন্তু তার নামটাই যে জানা হল নাহ্‌!!! নিজের উপর খুব রাগ হতে লাগলো তার। সেদিন সারাটা দিনই নিজের উপর বিরক্তির মধ্য দিয়ে কাটল তার।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই বাসস্ট্যান্ডে চলে গেলো কাব্য। আজ সে তার নাম জানবেই। কথা রিক্সা থেকে নামার পরই তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো কাব্য,
” ভালো আছেন? আমি কাব্য। BBA কমপ্লিট করেছি এ বছর। আপনার নামটা জানবো করে করে জানা হয়নি।তো আপনার নামটা যদি বলতেন… ”
হঠাৎ করে একসাথে এতোগুলো কথা শুনে কিছুটা বিব্রত হল কথা। তারপরে আবার সেই অনিচ্ছাকৃত হাঁসিটা দিয়ে কথা বলল,

” জি ভালো আছি। আমি কথা…”
কিছুক্ষণের মতো আরেকবার খুন হল কাব্য।

“বাহ্‌,বেশ সুন্দর নামত আপনার। তো যাবেন কোথায়? আমিও আজ একটু ঢাকার দিকে যাবো। চলুন এক সাথেই যাওয়া যাক। যদি আপনার কোন সমস্যা না থাকে।”
” না না সমস্যা কেন থাকবে!!! চলুন”।

কিছুক্ষণ পর একটা বাস আসলো। দুজনেই উঠে পরল সেই বাসটিতে। বাস চলছে কিন্তু কাব্য আর কথা দুজনেই চুপচাপ।

” কোথায় নামবেন আপনি? ” নীরবতা ভেঙ্গে কথার প্রতি কাব্যের প্রশ্ন।

” এইতো কাছেই, আব্দুল্লাহ্‌পুর। আপনি? ” পালটা জিজ্ঞাসা কথার। viagra en uk

কিন্তু কাব্যের তো গন্তব্যই হল কথা। তাই হুট করে মিথ্যা বলতে গিয়ে একটু থতমত খেয়ে গেলো সে-

“আমি, আমি তো এই সামনেই নামবো।” গোঁজামিল দিয়ে উত্তর দিল কাব্য।

এমনি করেই আরও কয়েকটা দিন কেটে গেলো। একদিন বিকেলে ফেসবুকে আড্ডা দিতে দিতে হঠাৎ কব্যের মনে হল যে কথার ফেসবুক আইডিটা নিলে খারাপ হয় নাহ্‌। পরদিন সকালে কোন এক জায়গায় যাবার নাম করে কথার সাথে বাসে উঠে পরল সে। নানান কথায় হঠাৎ কথার ফেসবুক আইডিটা চেয়ে বসলো। কথা আর মানা করলো না কারন এই কয়েক দিনে বেশ সখ্যতা হয়েছে তাঁদের মাঝে। এখন থেকে রোজ ফেসবুকে আড্ডা হয় তাঁদের। প্রায় এক সাথে বাসেও যায় তারা। মাঝে মাঝে ভার্সিটির ক্লাস শেষ হবার পরও তারা একসাথে ফেরে, ফুচকা খায়। দুজনের মাঝে ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। কাব্য নিজের সবটুকু উজাড় করে ভালোবাসে কথাকে। তবে এই কথাটি বলার সাহস হয়না তার; যদি হিতে বিপরীত হয়ে বসে, চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলে কথাকে…!!! এমনি ভাবেই কেটে যেতে থাকে তাঁদের দিনগুলো।
আজ তিন মাস পূর্ণ হল কথার সাথে কাব্যের দেখা হবার। কাব্য তার মনের কথা আর চেপে রাখতে পারছে নাহ্‌। যে করেই হোক কথাকে সে তার ভালোবাসার কথা জানাবে। কিন্তু সমস্যা হল কয়েকদিন যাবত কথা ফেসবুকে বসছে না, বাসস্ট্যান্ডেও আসছে নাহ্‌। তাহলে কি করে বলবে কথাকে তার মনের কথা!!! হুট করে তার মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো। তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পরল সে। পেছন থেকে তার মা ডাকলেও কোন সাড়া না দিয়েই চলে গেলো। বাড়ি থেকে বেড়িয়ে সোজা কথার ক্যাম্পাসে চলে গেলো সে। সেখানে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো কথা হাসপাতালে ভর্তি আছে। চারিদিকটা কেমন যেন উলট পালট হয়ে গেলো তার। কি হয়েছে কথার!!! নাহ্‌ এখুনি যেতে হবে তাকে সেখানে। কথার এক বান্ধবীর কাছ থেকে হাসপাতালের ঠিকানা নিয়ে ছুটে গেলো সেখানে। যাবার সময় হাসপাতালের কাছেই একটা ফুলের দোকান থেকে কথার প্রিয় কয়েকটা সাদা গোলাপ কিনে নিয়ে গেলো। রিসিপশনে খোঁজ করে জানতে পারলো ৩০৯ নম্বর কক্ষে আছে কথা। তিন তলায় গিয়ে ৩০৯ নম্বর কক্ষের দিকে এগুতেই দেখল সেখানে কিছুটা ভিড়। কাছে গিয়ে একজন নার্সকে জিজ্ঞাসা করতেই বলল, clomid over the counter

” এদিকে আসবেন না প্লীজ, একজন রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। যে কোন সময় কিছু হয়ে যেতে পারে।”
কাব্য আবার তাকে প্রশ্ন করলো ,

” কি হয়েছে তার?” নার্সটি খুব নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিল, ” বেশ কয়েক বছর যাবত ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছে রোগীটি।”

বলেই চলে গেলো নার্সটি। কাব্যের মাথাটা কেমন যেন করতে লাগলো। কি বলে মহিলাটা ! এটা তো ৩০৯ নম্বর কক্ষ। রিসিপশন থেকে যে বলল কথা এখানে আছে; কিন্তু… ভিড়টা ঠেলে আরেকটু সামনে এগিয়ে যা দেখল তাতে পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেলো কাব্যের। সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো নাহ্‌। এ যে সত্যিই কথা শুয়ে আছে বিছানায়। হঠাৎ কাব্যের চোখে চোখ পরল কথার। খুব কষ্ট হচ্ছে তার। সবকিছু ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, সময় একেবারেই শেষের পথে তার। কিন্তু কাব্য এখানে কি করে ! সেতো ওকে কিছুই জানায় নি। পাগলটা কাঁদছে কেন?? ও তো দেখছি আমার জন্য আমার সবচেয়ে প্রিয় সাদা গোলাপ নিয়ে আসছে। কাব্য কেঁদেই যাচ্ছে। তার কথাকে সে এভাবে দেখতে পেয়ে সহ্য করতে পারছে নাহ্‌। ও যে কথাকে খুব ভালোবাসে… কথা খুব কষ্টে ইশারায় ডাকল কাব্যকে। কাব্যের পা চলছে না, হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে সে চিৎকার করে উঠলো-

” ভালোবাসি… খুব ভালোবাসি তোমায় কথা , তুমি এভাবে চলে যেতে পারো নাহ্‌ ! ”

জীবনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে কাব্যের মুখ থেকে এভাবে ” ভালোবাসি ” শুনে বাঁচার জন্য আরও আগ্রহ বাড়ল কথার। কিন্তু তার যে এবার যেতেই হবে। পাগলের মতো কাঁদছে কাব্য; ও এভাবে কষ্ট পাবে ভেবে নিজের ভালোবাসাটাকেও ” বন্ধুত্বের আড়ালে” লুকিয়ে রেখেছিল কথা। কিন্তু সে পারলো নাহ্‌। ভালোবাসার টান কি আসলেই এতোটা গভীর হয় ! মৃত্যু ধীরে ধীরে গ্রাস করছে কথাকে। শেষ বারের মতো তার অগোছালো চিন্তারা আবারও ঘোরপাক খাচ্ছে তার মাথায়। ” আজ থেকে হয়তো মায়ের ঔষধ খাবার কথা কেউ মনে করিয়ে দেবে নাহ্‌, ভাইটার ইংলিশ প্যারাগ্রাফগুলো এখনো শেষ হয় নি, জয়কে ওর গিফটটা দেয়া হল নাহ্‌, তারিক ভাইয়ের বিয়েটা দেখে যেতে পারলাম নাহ্‌, নতুন ভাবীটার হাতে হয়তো এখন অন্য কেউ মেহেদী লাগিয়ে দেবে… ” হঠাৎ সব কোলাহল, মায়া আর চিন্তা থেকে মুক্তি পেল কথা। মৃত্যু পুরোপুরি ভাবে তাকে গ্রাস করে নিয়েছে। সেই সাথে গ্রাস করে নিয়েছে কতগুলো স্বপ্ন আর একটি সদ্য জন্ম নেয়া ভালবাসাকে……………………

You may also like...

  1. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    আগেই পড়েছি। ভাল লেগেছে গল্পটি…… half a viagra didnt work

    wirkung viagra oder cialis
  2. ভাল লিখেছেন দিদি। আগামীতে আরো সাবলীল হবে লেখনি… সেই প্রত্যাশা রইল। @};- @};- @};-

    আপনারা সবাই গল্প লিখতে বস্লে এতো তাড়াহুড়ো কেন করেন বলুন তো? :-?

    renal scan mag3 with lasix

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

capital coast resort and spa hotel cipro

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> cialis new c 100

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

venta de cialis en lima peru
doctus viagra