মধ্যবিত্ত সুখ

152

বার পঠিত

: এই মামা , যাবা ?
- কই যাইবেন ?
: কোথায় যাবো জানি না । তোমার রিকশায় আমাকে এক ঘন্টা ঘুড়াবা । ঢাকার যেসব জায়গা তোমার ভালো লাগে ঐসব জায়গায় নিয়ে যাবা ।
- মামা , প্রত্যেক বচ্ছরই হ্যাপি নুয়ারের আগের রাইতেরতে দেহি আপনের লাহান পোলাহান মাইয়্যা লইয়্যা আর নাইলে বন্ধুবান্ধব লইয়া বাইর হয় । হ্যাপি নুয়ারের দিনেও একই ঘটনা দেহি । আপনে একলা একলা ঘুড়বেন যে ?
: সবাই তো আর এক রকম না ।
- তাইলে মামা চলেন আপনেরে একটা বস্তির পাশে নিয়া যাই । যাইবেন ?
: সারা ঢাকা শহরে যদি ঐটাই তোমার পছন্দের জায়গা হয় । তাহলে সেখানেই যাবো । আমার কোন সমস্যা নাই ।
- আইচ্ছা ।

রিকশাওয়ালা মামার রিকশা চলছে আপন গতিতে । রিহান ভাবছে , মামার নামটা জিগ্যেস করা হল না । জিগ্যেস করতেও ইচ্ছে করছে না । কারণ নাম জানা মানেই পরিচিত হওয়া । পরিচিত একজনকে মানুষ যতটা গুরুত্ব দেয় । অপরিচিত বিশেষ একজনকে সেই মানুষটাই আরো বেশী গুরুত্ব দেয় । রিকশাওয়ালা মামাটা রিহানের কাছে বিশেষ অপরিচিত একজন । নাহ , বিশেষ অপরিচিত একজন সম্বোধনটা রিহানের পছন্দ হচ্ছে না । নতুন বিশেষণ খুঁজতে হবে ।

: মামা , নামেন আইয়্যা পড়সি ।
- ও আচ্ছা । বস্তি কই ?
: এইহানতে হাইট্টা যাইতে হইব ।
- আচ্ছা । তুমি কী এখানে থাকো ?
: না , আমি এইহানে মাঝে মাঝে আহি ।
- তোমার কেউ থাকে এখানে ?
: হ , আমার নতুন বন্ধুবান্ধব থাহে ।
- ও আচ্ছা । কই তোমার বন্ধুবান্ধব ?
: আপনে খাড়ান । আমি ডাইক্কা নিয়াইতাসি ।
- আচ্ছা যাও ।

রিকশাওয়ালা মামার সাথে কথা বলতে বলতে রিহান বস্তির পাশে চলে এসেছে । সে এখানে দাড়িয়ে আছে । রিকশাওয়ালা মামা বস্তির ভেতরে চলে গেল । কিছুক্ষণ পর মামার সাথে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে বস্তি থেকে বেড় হল । তাদের তিনজনের চেহারাই হাস্ব্যজ্বল । তারা রিহানের দিকেই আসছে । half a viagra didnt work

: তোমার বন্ধুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দাও ।
- মামা , আপনে বুঝলেন ক্যাম্তে হেরাই আমার বন্ধুবান্ধব ?
: তোমাদের হাসি দেখেই বুঝেছি ।
- আপনের বুদ্ধি আসে মামা । এই যে অর নাম বাপ্পি আর অর নাম মৌসুমি ।
: তোমরা ভালো আছো ? তোমরা কী ভাই বোন ?
(মৌসুমি বলছে)
- আমরা বন্ধুরে পাইলেই ভালো থাকি । আমরা ভাই বইন না । তয় ভাই বইনের মতোই থাহি ।
: ও আচ্ছা । তোমরা পড়াশুনা করো না ।
- না , ট্যাহা দিবো কে ? বাপ মা নাই । সারাদিন কাগজ টোকাই । বিকালেরতে এই বস্তিতে থাহি ।
: আমি যদি তোমাদের স্কুলে ভর্তি করে দেই ? পড়বে ?
- কাগজ না টোকাইলে খামু কী ?
: কাগজ টোকানোর পর পড়বা । স্কুল সন্ধ্যায় । কী ? যাবা স্কুলে ?

বাপ্পি এতোক্ষণ চুপ ছিল । সে এখন বলে উঠল । glyburide metformin 2.5 500mg tabs

- হ , যামু ইস্কুলে । মৌসুমিও যাইব ।
: আচ্ছা , চলো । তোমাদের স্কুলে নিয়ে যাই ।
- একটু পরে যাই ? আগে বন্ধুর রিশকায় একটু ঘুড়মু । বন্ধু মাঝে মাঝে আমগোরে রিশকা দিয়া ঘুড়ায় । আইজকাও আইসে আপনের লগে রিশকা দিয়া ঘুড়াইতে ।
: তাই নাকি ? তা কোথায় যাবা তোমরা ?
- ঐডা বন্ধু জানে ।
: আচ্ছা চলো ।

রিকশাওয়ালা মামার চেহারা দেখে বুঝা যাচ্ছে সে লজ্জিত । কিন্তু রিহান বুঝতে পারছে না , মামার লজ্জার কারণটা কী । মামাই দ্বিধাদ্বন্দের অবসান ঘটালো ।

- মামা , এরা আপনার লগে রিকশায় উঠলে সমস্যা হইব ? সামনের মোড়ে যাইয়া আপনেরে নতুন রিকশা ঠিক কইরা দিমু । আমার ভাড়া দেওন লাগত না ।
: আরে নাহ । আমার কোন সমস্যা নাই । বাপ্পি মৌসুমি যেখানে যেতে চায় আমাকেও এদের সাথে নিয়ে চলো ।
- আইচ্ছা মামা । চলেন তাইলে ।

রিকশা চলছে । কেউ কোন কথা বলছে না । রিহান বিস্ময় ভরা চোখে শিশুযুগলের দুজোড়া চোখ দেখছে । এদের সুখ রিকশায় ঘুড়ার মধ্যে সিমাবদ্ধ । কিন্তু রিহান আজ এদের বাড়তি সুখ দিতে চায় । কিভাবে দেয়া যায় , রিহান সেটাই ভাবছে । রিকশা নিউমার্কেটের সামনে এসে থামল । thuoc viagra cho nam

- এখানে কী মামা ?
: এইডাই বন্ধুগো পসন্থের জায়গা ।
- কেন ? ঘটনা কী ?
: তাগো তো আর ভালা ভালা পোশাক কিননের সামর্থ্য নাই । তাই তারা দেইখ্যাই খুশী ।
- এই নেও এক হাজার টাকা । ওদের নতুন পোশাক কিনে দেও । আর এই পাঁচশ টাকা তোমার । টাকা কী আর লাগবে ?
: মামা , এতো ট্যাহা কেন ?
- রাখো । আর এই নাও আমার কার্ড । আগামীকাল ওদের নিয়ে এসে আমাকে কল দিবা । টিএসসিতে আসবা । আমি ওদের স্কুলে ভর্তি করে দিবো । ঠিক আছে ?
: কিন্তু মামা , এতো ট্যাহা ?
- কোন কিন্তু নাই । যা বলেছি , তা করো । হ্যাপি নিউ ইয়ার বাপ্পি । হ্যাপি নিউ ইয়ার মৌসুমি । আগামীকাল দেখা হচ্ছে তাহলে । viagra en uk

পেছনে তিন জোড়া বিস্মিত চোখ ফেলে রিহান নীলক্ষেতের দিকে হাটছে । সে সেই চোখগুলোতে সরলতা দেখেছে । সরলচোখের হাসি দেখলে ভয়ানক সুখ অনুভূত হয় । রিহান সুখী হতে চায় না । সে সুখকে ভয় পায় । তাই তো ওদের ফেলে একা একা চলে আসলো । এখন সে নিজেই নিজেকে বলল , আফটার অল ইটস আ হ্যাপি নিউ ইয়ার । কিছুটা হ্যাপি হওয়াই যায় ।

You may also like...