স্বাধীনতা-উত্তর ভাষ্কর্য (পর্ব-২)

736

বার পঠিত

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে যে ভয়াবহ গণহত্যার সূচনা হয় তার বিপরীতে স্বাধিকারের জন্য আন্দোলনরত সাধারণ মানুষের রক্তক্ষয়ী নয় মাসের যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাস্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের রূপক সাক্ষ্য হিসেবে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ভাষ্কর্য। প্রথম পর্বেই বলা হয়েছিল এসব ভাষ্কর্যের আবির্ভাব সম্পর্কে। এই পর্বে আরো খানিকটা যুক্ত করা হল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের মত শিল্পকলা ক্ষেত্রেও ব্যপক পরিবর্তন আসে। শিল্প সাহিত্যের অন্যতম প্রদিপাদ্য বিষয় হয়ে উঠে স্বাধীনতযুদ্ধ।

এই বিষয়ে সংরক্ষিত একটী বক্তব্য তুলে ধরছি, ‘উনিশ শতক থেকেই সারা বিশ্বে প্রজাতান্ত্রিক কিংবা জাতীয় রাষ্ট্রের উত্থানের ফলস্বরূপ দেশে দেশে জাতীয় বীরত্ব ও বিজয়ের সৌধরূপে গণপ্রাঙ্গণ ভাস্কর্যের বিশেষ চাহিদা তৈরি হয়। বিশ শতকে, বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাপর সময়ে সমাজতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন রাষ্ট্রসমূহে গণবিপ্লব ও তার বিজয়ের গাথামূলক বৃহদায়তন বহিরাঙ্গন ভাস্কর্য নির্মাণের ব্যাপক প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বিশ শতকের সত্তরের দশকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনমনেও একইভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও তার বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে বহিরাঙ্গনে বৃহদায়তন সৌধ ভাস্কর্যের চাহিদা তৈরি হয়।’ গত পর্বে উল্লেখ করা কিছু ভাষ্কর্যসহ স্বাধীনতোত্তর অন্যান্য কিছু ভাষ্কর্য সম্পর্কে এপর্বে বিশ্লেষণ করা হল।

‘মুক্তিযোদ্ধা’ (১৯৭২-৭৩)

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বহিরাঙ্গন ভাষ্কর্যটি হল ‘মুক্তিযোদ্ধা’।

অবস্থান- ঢাকার প্রবেশমুখে গাজীপুর চৌরাস্তার সড়কদ্বীপে ( স্থানটি প্রথম পর্বে উল্লেখিত জাগ্রত চৌরঙ্গী-র নামেও পরিচিত)

আকারঃ রি-ইনফোর্সড সিমেন্ট ঢালাইয়ে নির্মিত আঠারো ফুট উঁচু একটি বেদির ওপর প্রতিষ্ঠিত, দৃঢ়ভাবে ভূমির সঙ্গে আবদ্ধ দুই পায়ে স্থির অচঞ্চল দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাম্য মুক্তিযোদ্ধার এই অবয়বধর্মী ভাস্কর্যটির এক হাতে রাইফেল অন্য হাতে উদ্যত গ্রেনেড।

null

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রথম ভাস্কর্য জাগ্রত চৌরঙ্গী doctus viagra

স্থাপত্য তাৎপর্যঃ ধ্রুপদী ঢং-এ গড়ে তোলা একটি ভাষ্কর্য। ভাষ্কর্যটির প্রণেতা আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশের ভাষ্কর্যের ভিন্নতা এবং আধুনিকতার অন্যতম পথিকৃৎ শিল্পী আবদুর রাজ্জাক। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এই ভাষ্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। ভাষ্কর্যটির এরকম অবয়ব থেকে যে-কোন আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত এমন বোধের ইঙ্গিতই পাওয়া যায়। স্বাধীনতোত্তরকালে এটিই সম্ভবত আব্দুর রাজ্জাকের নব্য – ধ্রুপদী ঢং-এ তৈরি শেষ ভাষ্কর্য।

 

অঙ্গীকার

অবস্থানঃ চাঁদপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের পাশের লেকে হাসান আলী সরকারি হাইস্কুল মাঠের সামনে একাত্তরেরশহীদ স্মরণে নির্মিত হয়েছে ‘অঙ্গীকার’।

আকারঃ বেদি থেকে ২২ ফুট ৭ ইঞ্ছি উঁচু। সিমেন্ট, পাথর এবং লোহা দিয়ে তৈরি ভাষ্কর্যটি।

null

‘অঙ্গীকার’ ভাস্কর্য

  puedo quedar embarazada despues de un aborto con cytotec

স্থাপত্য তাৎপর্যঃ  ভাষ্কর্যটির স্থপতি ‘অপরাজেয় বাংলা’র ভাষ্কর শিল্পী সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। ১৯৮৮ সালে ভাষ্কর্যটি স্থাপিত হয়। চাঁদপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক এস এম শামছুল আলমের প্রচেষ্টায় ১৯৮৯ সালে দৃষ্টিনন্দন এ ভাস্কর্যটি উদ্ভোদন করা হয়। একটী মুষ্টিবদ্ধ ভাষ্কর্যটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। মুষ্টিবদ্ধ হাতে ধরা স্টেনগানে রয়েছে দৃঢ়তা ও প্রত্যয়ের প্রতিচ্ছবি।  জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের আলোয় অঙ্গীকারকে অপরূপ দেখায়। missed several doses of synthroid

 

স্বাধীনতা সংগ্রাম

স্বাধীনতা সংগ্রাম

অবস্থানঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে সলিমুল্লাহ হল,জগন্নাথ হল ও বুয়েট সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্যটি স্থাপিত।

আকারঃ ১৯৫২-১৯৭১ সালের বিভিন্ন আন্দোলনে নিহত ১৮জন শহীদের ভাষ্কর্য দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাষ্কর্যটি নির্মিত। সবার নিচে রয়েছে ভাষা শহীদের ভাষ্কর্য এবং সবার উপরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষ্কর্য। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকাটিও স্থান পেয়েছে শীর্ষে।

ভাষ্কর্যটির উচ্চতা ৬০ ফুট এবং পরিসীমা ৮৫.৭৫ ফুট।

মূল ভাষ্কর্যকে বেষ্টিত করে আরো অনেক ভাষ্কর্য নির্মিত হয়েছে সড়কদ্বীপে। শ্বেত শুভ্র রঙ্গে গড়া মোট ১১৬টি ভাষ্কর্যের সবক’টিই শামীম শিকদারের তৈরি। মূল ভাষ্কর্য ছাড়া অন্যান্য ভাষ্কর্যগুলোর গড়ো উচ্চতা ৩-৪ ফুট। ত্রিভুজাকৃতির সড়কদ্বীপের তিন কোণায় রয়েছে এমনই তিনটি ভাষ্কর্য। বাকিগুলো ফুল্গাছ আর পাতাবাহার গাছের মাঝে অসাধারণ সুন্দরভাবে সজ্জিত। এই ১১৬টি ভাষ্কর্যের মধ্যে মাও সে তুং, ইয়াসির আরাফাত, কর্নেল ওসমানী, তাজউদ্দিন আহমেদ, সিরাজ সিকদার, সুকান্ত, ড. মো. শহীদুল্লাহ, শিল্পী সুলতান, জিসি দেব, বঙ্কিমচন্দ্র, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জগদীশ চন্দ্র বসু, সুভাস বোস, কামাল আতাতুর্ক, মহাত্মাগান্ধী, রাজা রামমোহন রায়,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন, কাজী নজরুল ইসলামপ্রমুখের প্রতিকৃতি রয়েছে। সাথে একটি হাতির চিত্তাকর্ষক ভাস্কর্যও স্থান পেয়েছে সড়কদ্বীপের এই ভাষ্কর্যের সারিতে।

স্থাপত্য তাৎপর্যঃ  স্বাধীনতা সংগ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভাষ্কর্য। প্রখ্যাত ভাষ্কর শামীম শিকদার এ ভাষ্কর্যটি তৈরি করেন। এই ভাষ্কর্যটি নির্মাণের এছনে রয়েছে এক বিস্তৃত ইতিহাস। ১৯৮৮ সালে ফুলার রোডে অবস্থিত সেকেলে বাংলো স্টাইলের বাড়ির বর্তমান প্রোভিসির ভবনের সামনের পরিত্যক্ত জায়গায় ‘অমর একুশে’ নামে একটি বিশাল ভাষ্কর নির্মাণ শুরু করেন। ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভাষ্কর্যটি  এক ঘরোয়া পরিবেশে প্রথম উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন প্রয়াত অধ্যাপক আহমদ শরীফ। কিন্তু ১৯৯৮ সালে ঐ স্থানে উদয়ন স্কুলের নতুন ভবন নির্মানের কাজ শুরু হলে ভাষ্কর্যটি স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়। স্থান পরিবর্তন করে সড়কদ্বীপে এনে রাখা হয়। পরে ভাষ্কর শামীম শিকদার ঐ ভাষ্কর্যটি অবয়ব পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে নতুনভাবে ভাষ্কর্য নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ভাষ্কর্যটির নাম পরিবর্তন করে ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ দেওয়া হয়। বাহান্ন থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরত্বগাথা ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হতে থাকে ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’। একই সাথে পরিবর্ধিত করে নতুনভাবে সজ্জিত হতে থাকে সড়কদ্বীপ। ১৯৯৯ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করেন।

 

স্বোপার্জিত স্বাধীনতা

 ঢাকার বিভিন্ন স্থানে প্রখ্যাত ভাষ্কর শামীম শিকদারের একাধিক ভাষ্কর্য থাকলেও তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেছেন স্বোপার্জিত স্বাধীনতা নির্মাণের জন্য।

অবস্থানঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সড়কদ্বীপে নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৮ সালের ২৫শে মার্চ এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

null

” স্বোপার্জিত স্বাধীনতা” ভাস্কর্য

 

আকারঃ ১৭ ফুট উঁচু ভাষ্কর্য। সাদা সিমেন্ট, সাদা মার্বেল এবং মার্বেল ডাস্ট দ্বারা তৈরি। চৌকো বেদির উপর নির্মিত ভাষ্কর্যটির একদম উপরে বামে আছে মুক্তিযোদ্ধা কৃষক আর ডানে রয়েছে অস্ত্রহাতে দুই মুক্তিযোদ্ধা। মাঝখানে অস্ত্র হাতে নারী পুরুষ যোদ্ধারা উড়িয়েছে বিজয় নিশান।

স্থাপত্য তাৎপর্যঃ পুরো ভাষ্কর্যটি ১৯৫২ থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার উপর আলোকপাত করে গড়ে তোলা হয়েছে। প্যানেলের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে বিভিন্ন স্লোগান। স্বাধীনদেশের পতাকা ওড়ানোর জন্য বাঙ্গালী যে পরিমাণ রক্ত দিয়েছে, নির্যাতন সয়েছে তার ক’টি খন্ডচিত্র বেদির চারপাশে চিত্রায়িত হয়েছে। বেদির বামপাশে রয়েছে ছাত্র-জনতার অপর অত্যাচারের নির্মম চেহারা।

 শামীম শিকদারের আরো কিছু ভাষ্কর্যঃ zovirax vs. valtrex vs. famvir

লা-গোয়ের্নিকা বাংলাদেশ- মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয় এই ভাষ্কর্যটি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাঙ্গনে অবস্থিত এ ভাষ্কর্যটিও শামীম শিকদারের অন্যতম বিখ্যাত ভাষ্কর্য। সিমেন্টের তৈ প্রতীকী চিত্র সংবলিত ভাষ্কর্য লা-গোয়ের্নিকা বাংলাদেশ।

এছাড়া রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনোয়ার পাশা ভবনের বীরশ্রেষ্ঠ ভাষ্কর্য; ওয়ার এন্ড পিস।

 

নিতুন কুন্ডের ভাষ্কর্য 

শাবাশ বাংলাদেশ

সাবাস বাংলাদেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকলেই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেরা ভাষ্কর্যগুলোর একটি ‘শাবাশ বাংলাদেশ’ দেখতে পাওয়া যায়।

অবস্থানঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের দক্ষিণে। ১৯৯১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

আকারঃ ৪০ বর্গফুট জায়গা উপর ভাস্কর্যটি দাড়িয়ে আছে ।রয়েছে দুজন বীর মুক্তিযুদ্ধার প্রতিকৃতি। একজন রাইফেল উচু করে দাঁড়িয়ে আর তার বাঁ বাহুটি মুষ্টিবদ্ধ করে জাগানো। খালি গা, নগ্ন পা, লুঙ্গি পরা- যা গ্রাম বাংলার যুবকের প্রতিনিধিত্ব করে।  অন্যজন রাইফেল হাতে দৌড়ের ভঙ্গিতে রয়েছে। ১২ ফুট উচ্চতায়- শহুরে যুবকের প্রতীক। পরনে প্যান্ট, মাথায় এলোমেলো চুলের প্রাচুর্য যেন আধুনিক সভ্যতার প্রতীক ।

এ দু’জন মুক্তিযুদ্ধার পেছনে ৩৬ ফুট উঁচু একটি দেয়ালও দাড়িয়ে আছে। দেয়ালের উপরের দিকে এক শুন্য বৃত্ত যা দেখতে সূর্যের মতোই। ভাস্কর্যটির নিচের দিকে-ডান ও বাম উভয় পাশে ৬ ফুট বাই ৫ ফুট উঁচু দুটি ভিন্ন চিত্র খোদাই করা হয়েছে। ডানদিকের দেয়ালে রয়েছে দু’জন যুবক –যুবতী চিত্র। যুবকের কাঁধে রাইফেল, মুখে কালো দাড়ি, কোমরে গামছা বাধা যেন এক বাউল প্রতিকৃতি। আর যুবতীর হাতে একতারা। গাছের নিচে মহিলা বাউলের ডান হাত আউলের বুকে। বাম দিকের দেয়ালে রয়েছে আরেক চিত্রপট। মায়ের কোলে শিশু, দু’জন যুবতী একজনের হাতে পতাকা। গেঞ্জী পড়া এক কিশোরপতাকার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে । এই ভাষ্কর্যটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে কংক্রিট।

স্থাপত্য তাৎপর্যঃ এটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীকী ভাস্কর্য। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের যে প্রতীকি ভাস্কর্যগুলো রয়েছে তার মধ্যে প্রকাশভঙ্গীর সরলতা, গতিময়তা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তেজস্বী প্রকাশ এবং নন্দনতাত্বিক দিক থেকে এই ভাস্কর্যটি অনবদ্য ।স্বাধীনতার এক জ্বলন্ত সাক্ষ্য। ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বলিষ্ঠ সাহসী ভূমিকা ছিল। ঘটনার আর্বতনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলেই তাতে জড়িয়ে পড়েন। অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা শাহাদাৎ বরণ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫মার্চ কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ নিশ্চিহৃ করার যে ব্যর্থ প্রয়াসের সূচনা করে তাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও নির্মম হামলার শিকার হয়। কয়েকদিনের মধ্যে রাজশাহীতে সক্রিয় থাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অবশেষে স্থানীয় ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য হয় । রাজশাহী শহর তৎকালীন ই.পি.আর. দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি বিপুল অংশ শহরে প্রবেশ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ঘাটি স্থাপন করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়। বস্তুত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবপূর্ণ অবদান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এসময়ে তাদের বিতাড়িত করার প্রচেষ্টায় শাহাদৎ বরণ করেন অধ্যাপক হবিবুর রহমান, অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দার, অধ্যাপক মীর আক্ষদুল কাউযুম, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক শিক্ষক-ছাত্র শহীদ হওয়ায় এর স্মৃতিকে চির অম্লানকরে রাখার জন্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মত উদ্যোগ নেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়। ১৯৯১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে শিল্পী নিতুন কুন্ডুর উপাস্থপনায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজ শেষে এর ফলক উম্মোচন করেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। ভাষ্কর্যটিতে তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার কয়েকটি চরণ জ্বলজ্বল করে। যা হলো_

’সাবাস বাংলাদেশ/এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় / জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার/তবু মাথা নোয়াবার নয়’।

বহুমাত্রিক এ শিলকর্মে স্থাপত্য ও ভাষ্কর্যের সমন্বয় ঘটেছে। irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg

 

তথ্যসূত্রঃ
উইকিপিডিয়া
চারু ও কারুকলা, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
বাংলানিউজ 24

 

পাঠকদের সুবিধার্তে সিরিজের প্রথম পররেবের লিঙ্ক দেওয়া হল - clomid over the counter

স্বাধীনতা-উত্তর ভাষ্কর্য (পর্ব-১ )

You may also like...

  1. অনেক তথ্যবহ একটি পোষ্ট । প্রথম পোষ্টটির পড়ে দ্বিতীয়টির অপেক্ষায় ছিলাম । পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম । ফুলার রোডের ভাস্কর্যটি যে সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য এইটা জানতাম না । অনেক ধন্যবাদ আপনাকে । :-bd :-bd :-bd আরো পর্ব কি আছে না এখানেই শেষ ?

  2. অনেক কিছু জানতে পারছি। পর্বগুলো অনেল তথ্যবহুল। চালিয়ে যান। :-c :-c >:D:D

    posologie prednisolone 20mg zentiva
  3. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    আপনার এই সিরিজটি কেবলই অসামান্য একটি কাজ না একই সাথে দারুণ প্রেরণাদায়ক একটি নিদর্শন। চমৎকার লিখছেন। can you tan after accutane

    দুইটা পরামর্শ থাকবে। আপনার পোস্টে আরও বেশী ছবি থাকলে ভাল হয় আর প্রতি পর্ব শেষে পূর্ববর্তী পর্বসমূহের লিংক দিলে ভাল হয়। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো। ভাল থাকুন আপনার কলম চলুক …
    :-bd :-bd :-bd :-bd :-bd ^:)^ ^:)^ %%- %%- %%- %%-

    আর সকল কীর্তিমানকে ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^ ^:)^

  4. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    অপেক্ষায় ছিলাম পোস্টটির্।

    অনেক কিছুই জানলাম।

    পোস্টটির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্টিকি করার আবেদন জানাচ্ছি।

    আমি শেয়ার দিচ্ছি পোস্টটি। আরও পর্ব থাকলে জলদি দিয়ে ফেলুন……

  5. ইলেকট্রন রিটার্নস বলছেনঃ

    অসাধারন কিছু পরিশ্রমী ব্লগারের সামনে আমি তুচ্ছ আর কি করিবো শুরু?
    জয়গান করি, জয়গান করি………
    জয় গুরু! জয় গুরু!!

    :জয় গুরু:

  6. আমি আসলেই এই ভাস্কর্যগুলো সম্পর্কে এতকিছু জানতাম না যতোটা আপনার লেখা পড়ে জানলাম… :-) :-) :-) :-) চমৎকার একটা কাজ করেছেন আপু… (*) (*) (*) :-bd :-bd :-bd :-bd =D> =D> =D> =D>

  7. অনেক অনেক তথ্যবহুল একটি সিরিজ । আপনার পোস্টগুলি থেক অজানা অনেক কিছু জানলাম । ধন্যবাদ আপনাকে ।

  8. কৃষ্ণ গহ্বর বলছেনঃ

    এখনো অনেক কিছুই জানার বাকি… অনেক তথ্যবহুল… ভালো লেগেছে। =D>

  9. accutane prices
  10. সত্য হক বলছেনঃ

    আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “অপরাজেয় বাংলা” ভাস্কর্যটিকে ভুলক্রমে ” স্বোপার্জিত স্বাধীনতা” ভাস্কর্য লিখেছেন। সংশোধন করুন।

half a viagra didnt work

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন * zithromax azithromycin 250 mg

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

can levitra and viagra be taken together