বাংলা সাহিত্য ভুবনের অন্যতম নক্ষত্র – দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

738

বার পঠিত

ধন ধান্য পুস্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে যে স্মৃতি দিয়ে ঘেরা
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না ক তুমি
সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি…

গানটি শুনলেই ভেতরে এক অন্যরকম অনুভূতি জাগে এই জন্মভূমির প্রতি, এই দেশমাতার প্রতি নাড়ির টানটা তখন যেন খুব তীব্র ভাবে অনুভব হতে থাকে, এই জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসাটা যেন তখন গভীর থেকে আরও গভীর হয়। ইচ্ছে হয় ভালোবাসায় মিশে যাই এই দেশের মাটির সঙ্গে… গানটি শুনলে গর্বে বুক ভরে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুস্কর। বঙ্গজননী সকল দেশের রানী এ অহঙ্কার ভিত গড়ে দেয় গানটি। হবেই না বা কেন? বাংলার রূপ আর মহিমার বর্ণনা আছে আর কোন গানে? … চমৎকার এই গানটির রচয়িতা হলেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। তিনি শুধু একজন সংগীত স্রষ্টাই ছিলেন না তিনি কাব্য এবং নাট্যাঙ্গনেও তিনি তাঁর প্রতিভার পরিচয় রেখেছেন চমৎকার ভাবে। আজ এই বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও সংগীতস্রষ্টার ১০১ তম মৃত্যুবার্ষিকী। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটিকে নিয়েই আজকের এই লেখাটি।


জন্ম এবং পরিচিতিঃ-

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

2nd course of accutane side effects

দিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম ১৮৬৩ সালের ১৯ শে জুলাই নদীয়ার কৃষ্ণনগরে। তাঁর পিতার নাম দেওয়ান কার্তিকেয় চন্দ্র। তিনি মার্গ সংগীতের একজন বিশিষ্ট গায়ক ছিলেন। মাতার প্রসন্নময়ী দেবী। দিজেন্দ্রলাল মাত্র ৫ বছর বয়স থেকেই হারমনিয়াম বাজিয়ে গান গাইতে শুরু করেন এবং ৯ বছর বয়স থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষা শুরু হয়।


বেড়ে উঠা এবং শিক্ষা জীবনঃ-

তাঁর পিতা কার্তিকেয়চন্দ্র রায় (১৮২০-৮৫) ছিলেন কৃষ্ণনগর রাজবংশের দেওয়ান। তাঁর বাড়িতে বহু গুণীজনের সমাবেশ হত। কার্তিকেয়চন্দ্র নিজেও ছিলেন একজন বিশিষ্ট খেয়াল গায়ক ও সাহিত্যিক। এই বিদগ্ধ পরিবেশ বালক দ্বিজেন্দ্রলালের প্রতিভার বিকাশে বিশেষ সহায়ক হয়। তাঁর মা প্রসন্নময়ী দেবী ছিলেন অদ্বৈত আচার্যের বংশধর। দ্বিজেন্দ্রলালের দুই দাদা রাজেন্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলাল এবং বৌদি মোহিনী দেবীও ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যস্রষ্টা। দ্বিজেন্দ্রলাল ১৮৭৮-এ প্রবেশিকা পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেন। এফ. এ. পাস করেন কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে। পরে হুগলি কলেজ থেকে বি.এ. এবং ১৮৮৪ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ (বর্তমান প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এম.এ. পাস করেন।এরপর কিছুদিন ছাপরা’র রেভেলগঞ্জ মুখার্জ্জি সেমিনারীতে শিক্ষকতা করার পর সরকারি বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ড যান কৃষিবিদ্যা শিক্ষা করার জন্য।রয়্যাল এগ্রিকালচারাল কলেজ ও এগ্রিকালচারাল সোসাইটি হতে কৃষিবিদ্যায় FRAS এবং MRAC ও MRAS ডিগ্রি অর্জন করেন। pharmacie belge en ligne viagra


কর্মজীবনঃ-

১৮৮৬ সালে দেশে প্রত্যাবর্তন করে সরকারি কর্মে নিযুক্ত হন দ্বিজেন্দ্রলাল। কিন্তু তিন বছর বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে প্রায়শ্চিত্ত করতে অসম্মত হলে তাঁকে নানা সামাজিক উৎপীড়ন সহ্য করতে হয়।এরপর তিনি জরিপ ও কর মূল্যায়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, এবং মধ্যপ্রদেশে সরকারী দপ্তরে যোগ দেন। পরে তিনি দিনাজপুরে সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ পান। তিনি প্রখ্যাতহোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক প্রতাপচন্দ্র মজুমদারের কন্যা সুরবালা দেবীকে বিবাহ করেন ১৮৮৭ সালে। ১৮৯০ সালে বর্ধমান এস্টেটের সুজামুতা পরগনায় সেটেলমেন্ট অফিসার হিসাবে কর্মরত অবস্থায় কৃষকদের অধিকার বিষয়ে তাঁর সাথে বাংলার ইংরেজ গভর্নরের বিবাদ ঘটে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ১৯১৩ সালে সরকারী চাকরী হতে অবসর নেন।প্রায় ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ইনস্পেক্টর , ল্যান্ড রেকর্ডস্‌ অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ডাইরেক্টরসহ নানা রকম দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।


সাহিত্যকর্মঃ-

বাল্যকালে তিনি একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে লালিত হয়েছিলেন। পিতা কার্তিকেয়চন্দ্র ছিলেন একাধারে সংগীতজ্ঞ, গায়ক ও লেখক। দ্বিজেন্দ্রলালের দুই অগ্রজ জ্ঞানেন্দ্রলাল রায় ও হরেন্দ্রলাল রায় – দু’জনেই ছিলেন লেখক ও পত্রিকা সম্পাদক। গৃহে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র প্রমুখের যাতায়াত ছিল।[৬] এরকম একটি পরিবেশে কৈশোরেই তিনি কবিতা রচনা শুরু করেন। তিনি পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন, যা দ্বিজেন্দ্রগীতি নামে পরিচিত। ১৯০৫ সালে তিনি কলকাতায় পূর্নিমা সম্মেলন নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৩ সালে তিনি “ভারতবর্ষ ” পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। অল্প বয়স থেকেই কাব্য রচনার প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে আর্যগাথা (১ম ও ২য় ভাগ) ও মন্দ্র বিখ্যাত। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য একঘরে, কল্কি অবতার, বিরহ, সীতা, তারাবাঈ, দুর্গাদাস, রাণা প্রতাপসিংহ, মেবার পতন, নূরজাহান, সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল-বিজয় ইত্যাদি।দ্বিজেন্দ্রলালের সাহিত্যে তাঁর দেশপ্রেমের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।হাস্যরসেও তিনি অসামান্য পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন।


রচিত গ্রন্থ সমুহঃ-


কাব্যগ্রন্থঃ-


• আর্যগাথা, ১ম খণ্ড (১৮৮৪)
• The Lyrics of India (ইংল্যান্ডে থাকাকালীন রচিত) (১৮৮৬ )
• আর্যগাথা, ২য় খণ্ড (১৮৮৪)
• হাসির গান (১৯০০)
• মন্দ্র (১৯০২)
• আলেখ্য (১৯০৭)
• ত্রিবেণী (১৯১২)
metformin er max daily dose


রম্য ও ব্যঙ্গাত্মক রচনাঃ-


• একঘরে (১৮৮৯)
• সমাজ বিভ্রাট ও কাল্কি অবতার (১৮৯৫)
• বিরহ (১৮৯৭)
• ত্র্যহস্পর্শ (১৯০০)
• প্রাশচিত্ত (১৯০২)
• পূনর্জন্ম (১৯১১)


গীতিনাট্যঃ-


• পাষাণী (১৯০০)
• সীতা (১৯০৮)
• ভীষ্ম (১৯১৪)


সামাজিক নাটকঃ-

• পারাপারে (১৯১২)
• বঙ্গনারী (১৯১৬)


ঐতিহাসিক নাটকঃ-

তারাবাঈ (১৯০৩)
• রাণা প্রতাপসিংহ (১৯০৫)
• দুর্গাদাশ (১৯০৬)
• নূরজাহান (১৯০৮)
• মেবার পতন (১৯০৮)
• সাজাহান (১৯০৯)
• চন্দ্রগুপ্ত (১৯১১)
• সিংহল বিজয় (১৯১৫)

এছাড়াও তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক গান রচনা করেন। এই গানগুলো দিজেন্দ্রগীতি নামে প্রসিদ্ধ। তাঁর রচিত প্রায় ৫০০ গানের মধ্যে প্রধানত দুটি ভিন্ন ধারা বিদ্যমান – একটি ধারা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুসারী, অপর ধারাটিতে তিনি ইউরোপীয় ধ্রুপদি সঙ্গীতের “মুভমেন্টস” ব্যবহার করেছেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধ্রুপদ ও খেয়াল শাখা দুটি তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল; কিন্তু ঠুংরি গানের রীতি তিনি গ্রহণ করেননি ; বাউল, ভাটিয়ালি ইত্যাদি লোকসঙ্গীতের ধারাতেও তিনি গান রচনা করেননি। তবে তাঁর কয়েকটি কীর্তনাঙ্গ গান রয়েছে।

দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁর কাব্যসঙ্গীতগুলিকে বিভিন্ন রাগের আদর্শে সুরারোপিত করেন। যেমন- “নীল আকাশের অসীম ছেয়ে” (দেশ), “প্রতিমা দিয়ে কি পূজিব তোমারে” (জয়জয়ন্তী), “তোমারেই ভালবেসেছি আমি” (দরবারি কানাড়া), “মলয় আসিয়া কয়ে গেছে কানে” (নটমল্লার) ইত্যাদি। আবার তাঁর জনপ্রিয় স্বদেশী গানগুলিকেও তিনি বিভিন্ন রাগের ঠাটে নিবদ্ধ করেছিলেন। যেমন- “ধনধান্যপুষ্পভরা” (কেদারা), “যেদিন সুনীল জলধি হইতে” (ভূপ-কল্যাণ), “মেবার পাহাড় মেবার পাহাড়” (ইমনকল্যাণ) ইত্যাদি। আবার হাসির গানগুলিতে তিনি ইংরেজি, স্কটিশ ইত্যাদি গানের সুর সংযোজিত করেন। রঙ্গব্যঙ্গ বা বিদ্রুপাত্মক হওয়ায় এই গানগুলি বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বাংলা সঙ্গীতের হাসির গানের সম্ভারে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদানই সর্বাধিক।

দ্বিজেন্দ্রলাল নিজে ছিলেন সুগায়ক। প্রথম জীবন থেকেই বিভিন্ন সভাসমিতিতে তিনি স্বরচিত গান শোনাতেন। পিতামহ কার্তিকেয়চন্দ্র ও পিতা দ্বিজেন্দ্রলালের ন্যায় পুত্র দিলীপকুমার রায়ও ছিলেন সুগায়ক ও সঙ্গীতস্রষ্টা। দ্বিজেন্দ্রলালের গান সাধারণত ভাবগম্ভীর; হাসির গান ছাড়া অন্য গানে তিনি কখনই চটুলতাকে আশ্রয় করেননি। বাংলা সঙ্গীতে সমবেত কণ্ঠে গীত বা সম্মেলক গান (কোরাস) প্রবর্তন করেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। এই ধারাটিই তাঁকে পরবর্তীকালে প্রভূত জনপ্রিয়তা দিয়েছিল। এছাড়া, স্বদেশী আন্দোলনের সময় দ্বিজেন্দ্রলালের গান সমাজ মানসে বিশেষ উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।


মৃত্যুঃ-

কালজয়ী ও কর্মময় জীবনের শেষে ১৯১৩ সালের ১৭ই মে কলকাতায় দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জীবনাবসান ঘটে।


তথ্যসূত্রঃ-

(১) http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC cialis new c 100

(২) http://www.somewhereinblog.net/blog/brienti/29839998 prednisone side effects moon face

(৩) http://www.bdlinks.net/biography/Dwijendralal-Roy.php

You may also like...

  1. বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ ও নাট্যব্যাক্তিত্ত্ব দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী ।

    চমৎকার তথ্যপূর্ণ একটি পোষ্ট । ধন্যবাদ লেখিকাকে ।

  2. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    দারুণ পোস্ট দিয়েছেন আপু । :-bd :-bd
    ডিজে রায় এর প্রতি রইল শ্রদ্ধা……

  3. ধনধান্য পুস্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা….

    এই গানটা যতবার শুনি, ততবার চোখের কোনা ভিজে যায়। এত দরদ আর ভালোবাসা দিয়ে এর পঙক্তিগুলো লেখা যে, পাষাণরেও হৃদয় আদ্র হয়ে যাবে এটা শুনবার সময়… ^:)^ ^:)^

    শ্রদ্ধেয় কবি, নাট্যকার ও সংগীতস্রষ্টা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরন করই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়… ^:)^ ^:)^ ^:)^

  4. আর আপনার লেখনীর কথা নতুন করে আর কি বলব? =D> m/ m/ m/

    বরাবরের মতই অসাধারন… :-bd একরাশ @};- @};- রইল আপনার জন্য…

  5. Utpal barman বলছেনঃ

    Please give me download link দিজেন্দ্রলাল রায়ের মোহিনী গল্পের ।

sito sicuro per comprare cialis generico

প্রতিমন্তব্যফাতেমা জোহরা বাতিল

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

sildenafil 50 mg dosage
cd 17 clomid no ovulation