কপালকুণ্ডলা – বাংলাসাহিত্যের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস

1147

বার পঠিত

তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?”

পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?”

প্রথম লাইনটা শোনেনি, এমন বাঙালি বোধহয় না খুঁজে পাওয়া যাবে। আর দ্বিতীয় লাইনটাকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক ডায়লগের স্বীকৃতি দেয়া হয়। দুটো লাইনই বঙ্কিমচন্দ্রের এক উপন্যাসের অংশ — কপালকুণ্ডলা 

তীর্থযাত্রীদের নৌকা পথ হারিয়ে এক মোহনায় উপস্থিত হয়। জনবিচ্ছিন্ন সে জায়গায় নৌকার সবার আহারের কথা চিন্তা করে নবকুমার বনের মধ্যে কাঠ আনতে যায়। কিন্তু, এর মাঝে জোয়ার চলে এলে সবাই নবকুমার কে রেখেই চলে যায়।

সেখানে নবকুমার এর দেখা হয় এক কাপালিকের সাথে। কাপালিক চায় তাকে ভৈরবীর কাছে বলি দিতে। কিন্তু, কাপালিকের আশ্রিতা কপালকুণ্ডলার সহায়তায় নবকুমার পালিয়ে আসে। কপালকুণ্ডলা কে দেয় স্ত্রীর মর্যাদা।

এখানে শুরু হয় কাহিনীর নতুন ধারা। নবকুমার এর আগে এক স্ত্রী ছিল, যে ঘটনাচক্রে ধর্মান্তরিত হয়ে আগ্রায় চলে যায়। সেখানে দিল্লীশ্বরের অনুগ্রহে অনেক ধনসম্পদ লাভ করে। কিন্তু, সবশেষে সে বুঝতে পারে সে এখনও নবকুমার কেই ভালবাসে। তাই চেষ্টা করে নবকুমার আর কপালকুণ্ডলার মাঝে বিচ্ছেদের। আবার সেই কাপালিক ও ফিরে এসেছে কপালকুণ্ডলা কে বলি দেবার ব্রত নিয়ে। এর মাঝ দিয়েই এগিয়ে চলেছে কাহিনী।

সত্যিকার অর্থে আমার কাছে গল্পের লেখনী কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে। অবশ্য সাথে এটাও মনে রাখতে হয় — এটা বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস। (প্রথম উপন্যাস. — আলালের ঘরের দুলাল ; প্রথম সার্থক উপন্যাস — দুর্গেশনন্দিনী ; দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস — কপালকুণ্ডলা।) সেই হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র দারুণ করেছেন। zithromax azithromycin 250 mg

পড়তে গিয়ে — চন্দ্ররশ্মিবর্ণাভা বা বারিধারাপরিসিঞ্চিত ঘরানার কিছু শব্দ সমস্যা করতে পারে। আবার বাটী অর্থ যে বাড়ি — সেটা আমার জানা থাকলেও আগে বাটির কথাই মনে আশে। এসব খানিকটা সমস্যা করতে পারে।

বানানেও সমস্যা করেছে। ধর্ম্ম বা কর্ত্তার মত বানান দেখলে একটু ভিরমি খেতে হয় বৈ কি! তবে বিশ শতকে কলকাতা আর ঢাকার উচ্চারণ পার্থক্যহেতু ও পেয়েছি এর মাধ্যমেই। ওরা কালের বিবর্তনে পরের অংশ নিয়ে উচ্চারণ করেছে — ধম্ম বা কত্তা। আর আমরা শুরুর অংশ নিয়ে — ধর্ম বা কর্তা।

সবশেষে, বঙ্কিমের মত করে আমারও প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে — আকাশে চন্দ্রসূর্য্য থাকিতে জল অধোগামী কেন?

You may also like...

  1. ভাই এই দুইটা শব্দের অর্থ কি?
    “চন্দ্ররশ্মিবর্ণাভা” এবং “বারিধারাপরিসিঞ্চিত”!
    আপনার লিখনি ভাল। যা বুঝাইতে চাইছেন তাও কিছুটা বুঝেছি কিন্তু ট্যাগ দিয়েছেন সভ্যতা। এটা কি গ্রন্থ পর্যালোচনা বা অন্য কিছু হওয়ার কথা না। কেবল দুইটা লাইন দিয়ে যে ভাল মানের একটা ব্লগ পোস্ট হতে পারে তা এইটা না দেখলে বুঝতে পারতাম না।

    সবশেষে, বঙ্কিমের মত করে আমারও প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে — আকাশে চন্দ্রসূর্য্য থাকিতে জল অধোগামী কেন? :প্লিজ, টেল মি মোর: :প্লিজ, টেল মি মোর: :প্লিজ, টেল মি মোর: :দে দে তালি: :দে দে তালি: :দে দে তালি:

  2. ইলেকট্রন রিটার্নস বলছেনঃ

    তথ্যমূলক পোস্ট। উপন্যাসটা পড়া হয়নি এখনো। জীবনে আরো অনেক কিছু করার বাকী। জীবনটা এত ছোটো কেন রে? :(

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment. all possible side effects of prednisone

viagra in india medical stores
synthroid drug interactions calcium
acne doxycycline dosage