ধর্মহীনের ধর্ম?

393

বার পঠিত

আপনি কি লোকজনের সাথে দেখা হলে সালাম দেন? আপনি নাস্তিক তাহলে আপনি কোন রীতিতে বিয়ে করেছেন? আপনি কি ঈদ বা পুজা এই ধরনের উৎসবে যোগ দেন? সর্বশেষ মরার পর আপনার অবস্থা কি হবে? কবর দিবে  না পুড়িয়ে ফেলবে?…

না, এসব কোন উগ্র আস্তিকের ঠেস মারা প্রশ্ন  নয়। একদম নবীন যারা, মুক্তচিন্তার সঙ্গে যারা সবে পরিচিত হচ্ছে, একটু একটু করে আঁধার কাটছে যাদের তাদের কৌতূহলী প্রশ্ন এগুলো। আমাকে ইনবক্সে রোজ এরকম অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। কখনো উত্তর দেই। কখনো হয়ত বিরক্ত হয়ে উত্তর দেই না। রেগেও গেছি অনেক সময়। তারা আসলে জানতে চায় নাস্তিক হয়ে যাবার পর সামাজিক এই প্রথাগুলোকে তারা এড়াবে কিভাবে? সত্যি বলতে কি, প্রত্যেক নাস্তিক তার জীবনের শুরুতে এই অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হয়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ধর্মের শক্ত অবস্থান জন্মগতভাবে মানুষের উপর এমনভাবে চেপে থাকে যে প্রচলিত কোন ধর্মকে ত্যাগ করে সে আসলে সেই শুন্যস্থানে আরেকটা ধর্মকেই রিপ্লেসমেন্ট করে বসে। এতদিন প্রাকটিক্যাল ধর্ম পালন না করলেও ধর্মীয় কিছু রীতিনীতি, আচারআচরণকে সে ধর্ম পালণ বলেই জেনেছে, এখন যেহেতু সে তার পারিবারিক ধর্মসহ অন্য সব ধর্মকে (আসলে অন্য ধর্ম সমূহকে কি সে আগেই অবিশ্বাস করতো না?) অস্বীকার করছে তাই এই সাধারণ সামাজিক রীতিনীতিকে বহাল রাখাকে সে নিষ্কন্টক মনে করছে না। হঠাৎ ধর্মে মতি আসা লোকজন যেমন হারাম-হালাল নিয়ে অতিরিক্ত ভাবিত হয়, কোথাও তার ধর্মচ্যুত হয়ে যাচ্ছে কিনা এই ভেবে এক ধরনের মানসিক অশান্তিতে ভোগে, আমাদের এই তরুণ নিরশ্বরবাদীরাও সেই রকম মানসিক দ্বন্ডে ভোগে। দোষটা আমাদেরই। আমরা তাদেরকে বুঝাতে পারিনি নাস্তিকতার উদ্দেশ্য কি? নাস্তিককতা কোন ধর্মমত নয়। অত্যন্ত দুঃখজনক যে কেউ কেউ এই নাস্তিকতাকেই একটা ধর্মের মত গ্রহণ করেছে এবং হয়ে উঠেছে সেই ধর্মের একজন উগ্র মৌলবাদী! এদের সাথে আসলে ফারাবীর কোন পার্থক্য নেই। একজন উগ্র ধার্মীকের মত তাদের কার্যকলাপ পুরো মুক্তমনাদের এতদিনকার সংগ্রাম, পরিশ্রমকেই পন্ড করে দেয়।

তাসলিমা নাসরিন তার আত্মজীবনিতে লিখেছেন, মেডিকেলের ভাইবা পরীক্ষায় সালাম দেননি বলে তাকে মার্ক কম দেয়া হয়। বাংলাদেশে যারা হিন্দু বা অন্যান্য ধর্ম ও জাতি সম্প্রদায় আছে তারা হরদম সালাম দিচ্ছে তার সামাজিক জীবনে। নিজ সম্প্রদায়ের মাঝে নমস্কার যেমন চলছে তেমনি সালামও চলছে সংখ্যাগরিষ্টের লোকাচার মেনে। এতে তার হিন্দু বা অন্য কোন সেন্টিমেন্ট ক্ষুণ্ন হয় না। তাসলিমার লড়াইটা কিসের বিরুদ্ধে? ধর্মের অন্ধকার, নারী নিপীড়ন, সব রকম প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে। ছোটবেলায় আমি যে প্রাইমেরি স্কুলে পড়তাম সেখানে আমাদের ইংরেজির শিক্ষক “গড” পড়তো না, পড়তো “আল্লাহ”। তিনি বলতেন, গড বললে আল্লাহ বেজার হবে। এ রকম মানসিকতা নিশ্চয় কোন নাস্তিকের থাকার কথা না। তারা কেন তুচছ রীতি প্রথা নিয়ে মাথা ঘামাবে? বিদ্যা সগরের যুগে কত মডারেট মানুষ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ইংরেজদের অনুকরণে পোশাক-আশাক, চালন-বলন অনুকরণ করে ট্যাস ফিরিঙ্গি সাজলো। কিন্তু বিদ্যা সাগর ধুত-চাদর আর টিকি পরিহিত এক দেশি ব্রাহ্মণ! কি করেছেন তিনি? হিন্দু ধর্মকেই সংস্কার করে ছেড়েছেন! কুলিন ব্রাহ্মণদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এই নাস্তিক পন্ডিত অসাধ্য সাধন করেছেন। অগণিত হতভাগ্য নারীর মুক্তির পথ করে দিয়েছেন। বিদ্যা সাগর কি “নমস্কার” বলতেন না? তাঁর দেবদেবীতে কোন বিশ্বাস ছিল না। দুর্বিক্ষে মানুষ মারা গেলে তিনি আপেক্ষ করে বলেছিলেন, এত মানুষ মরে, ঈশ্বর কোথায়?…

একজন নাস্তিকের বিয়ে ধর্মীয় মতেও হতে পারে! ধার্মীক কি বিয়ের প্রশ্নে খোদার উপর খোদাগিরি করেনি? বিয়ে রেজিস্টেশনকরণই হলো সেই খোদার উপর খোদাগিরি! ধর্মীয় মতে বিয়ের নিয়ম কি? রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে বিয়ে করেছিল একটা আংটি বদল করে! বস্তুত এই বিয়ের কোন ভিত্তিই নেই। হয়েছিলও তাই। দুষ্মন্ত অস্বীকার করেছিল শকুন্তলাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে। শকুন্তলার কাছে কোন প্রমাণ ছিল না। একটা আংটি কোন প্রমাণ বহন করে না। আজকের যুগে যাতে কোন নারীকে শকুন্তলার মত অসহায় অবস্থায় পড়তে না হয় তার জন্য সরকারী রেজিস্টেশন আইন বাধ্যতামূলক।ধর্ম তো সে কথা বলে না। ধর্ম বলে কয়েকজন সাক্ষি আর কলেমা পড়লেই বিয়ে হয়ে গেলো!কিন্তু রাষ্ট্র এরকম মৌখিক কিছুতে বিশ্বাস করে তার নাগরিককে অনিশ্চয়তায় ছেড়ে দেয়নি।কোন রকম মোল্লা-পুরোহিতকে না ডেকেও আইনের আশ্রয় নিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করে দিব্যি স্বামী-স্ত্রী হওয়া যায়।এর নাম হচ্ছে বিয়ে!

হাদিস থেকে হযরত মুহাম্মদের একটা বিয়ের উদাহরণ দেই: “রাবী বলেনঃ নবী সাফিয়্যা (রাঃ)-কে আযাদ করে দিলেন এবং তাঁকে বিয়ে করলেন। রাবী সাবিত (রহঃ) আবূ হামযা (আনাস) (রাঃ)-কে জিজ্ঞেসা করলেনঃ নবী তাঁকে কি মোহর দিলেন? আনাস (রাঃ) জওয়াব দিলেন তাঁকে আযাদ করাই তাঁর মাহর। এর বিনিময়ে তিনি তাঁকে বিয়ে করেছেন। এরপর পথে উম্মে সুলায়ম (রাঃ) সাফিয়্যা (রাঃ)-কে সাজিয়ে রাতে রাসূল এর খিদমতে পেশ করলেন। নবী বাসর রাত যাপন করে ভোরে উঠলেন। তিনি ঘোষণা দিলেনঃ যার কাছে খানার কিছু আছে সে যেন তা নিয়ে আসে। এ বলে তিনি একটা চামড়ার দস্তরখান বিছালেন। কেউ খেজুর নিয়ে আসলো, কেউ ঘি আনলো। ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) বলেনঃ আমার মনে হয় আনাস (রাঃ) ছাতুর কথাও উল্লেখ করেছেন। তারপর তাঁরা এসব মিশিয়ে খাবার তৈরি করলেন। এ-ই ছিল রাসূল এর ওয়ালীমা। ” –সহি বুখারী

স্রেফ আজাদ (মুক্তি)দিয়েই তার দেন মোহর আদায় হয়ে গেলো!এটা কোন বিয়েই না!স্রেফ একটা মুরগিকে হালাল করার জন্য আল্লার নাম নিয়ে জবাই করার মত…।

হযরত মুহাম্মদ কোন ইহুদী-খ্রিস্টান ঘরে জন্ম নেননি। তার জন্ম আরব মূর্তি পুজারীদের ঘরে। তার বাবা-মার বিয়ে হয়েছিল হযরত মুহাম্মদ কথিত অসত্য ও ভিত্তিহীন ঈশ্বরের নাম নিয়েই। তিনি নিজে খাদিজাকে বিয়ে করেছেন পূর্বপুরুষের ধর্মকে সাক্ষি করে। খাদিজার ঘরে জন্ম নেয়া দুই মেয়েকেও হযরত মুহাম্মদ বিয়ে দিয়েছেন সেই রীতি মেনে।এরপরও কোন নাস্তিককে কোন একটা ধর্ম রীতি মেনে বিয়ে করাকে কেউ কটাক্ষ করবে? thuoc viagra cho nam

মানুষের মৃত্যু পরবর্তী তার দেহ আসলে কোন কাজেই আসে না।বরং এই দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলো দান করে গেলে একটা কাজের কাজ হয়।প্রত্যেক মানুষের উচিত তার মৃত্যু পরবর্তী দেহ দান করে যাওয়া।তারপরও যদি সেরকম কিছু নাও করা হয় তবে দেহটি মাটি দেয়া হোক বা পুড়িয়ে ফেলা হোক তা  নিয়ে একজন নাস্তিক মাথা ঘামাতে যাবে কেন? viagra vs viagra plus

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের চাপে কোন নিরশ্ববাদীর দেহকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী শেষ পরিণতি করা যায় না।হুমায়ূন আজাদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ইচ্ছানুযায়ি তাদের দেহ দান করা যায়নি আমি যতটুকু জানি পরিবারের সদস্যদের অনিচ্ছার কারণে। বার্ণড শ’ তার মৃত্যু পরবর্তী উইলে উল্লেখ করে গিয়েছিলেন, তার মৃত্যুর পর যেন কোন পুরোহিত তার ত্রিসীমানার মধ্যে  আসতে না পারে!তার সম্পত্তির একটি পায়সাও যেন কোন ধর্মীয় কাজে লাগানো না হয়…।ডারউন মারা যাবার পর তার দেহ ধর্মীয় বিধিতে সমাহিত করতে চার্চ রাজি হয়নি। চার্চ প্রস্তাব করেছিল, যদি ডারউন পরিবার ডারউনের কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায় তবে তারা ধর্মীয়ভাবে ডারউনকে খ্রিস্ট্রিয়ভাবে সমাহিত করবে।ডারউনের পরিবার তাঁকে ছোট করেননি।পরিবার চার্চে প্রস্তাব প্রত্যাখান করে কোন রকম ধর্মীয় রীতি না মেনেই এই মহান বিজ্ঞানীকে সম্মান জানিয়ে করব দেন। will metformin help me lose weight fast

সমস্ত নাস্তিক, মানবতাবাদী মানুষ এখান থেকেই শিক্ষা নিতে পারে।অন্ধকার দূর করার কাজে যারা নিয়োজিত তারা তুচ্ছ প্রথা-অপ্রথা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। ওসব ধর্মীকদের মানায়।কে কি বলল তাতে কিছু আসে যায় না।কতটা “কঠিন নাস্তিক” প্রমাণ করা যায় নিজেকে- এটা একটা ধর্মীয় উগ্র সমর্থকের মত কাজ।আসল হচ্ছে কাজ।মুক্তমনা আদর্শ চর্চা করাই সেই কাজ…।

You may also like...

  1. দুরন্ত জয় বলছেনঃ

    মুক্তচিন্তা মানেই কি নাস্তিকতা????

  2. এতদিন প্রাকটিক্যাল ধর্ম পালন না করলেও ধর্মীয় কিছু রীতিনীতি, আচারআচরণকে সে ধর্ম পালণ বলেই জেনেছে,

    ধর্ম পালন বলতে ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরের কিছুকেই বুঝায়?

    acquistare viagra in internet
  3. তারিক লিংকন বলছেনঃ

    আপনার পোস্টের শেষের দিকে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য জানতে পেরেছি। তবে আমি এমন খবরের সাথে লিংক পেলে কৃতার্থবোধ করব! যাহোক আপনার বিশ্লেষণ ভাল লাগেছে। :এতো দিন কই ছিলি?: :এতো দিন কই ছিলি?: :-bd

    accutane prices
  4. মানুষের মৃত্যু পরবর্তী তার দেহ আসলে কোন কাজেই আসে না।বরং এই দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলো দান করে গেলে একটা কাজের কাজ হয়।প্রত্যেক মানুষের উচিত তার মৃত্যু পরবর্তী দেহ দান করে যাওয়া।

    শতভাগ সহমত। zithromax azithromycin 250 mg

    সভ্য হয়েছেন দেখে ভাল্লাগছে… :স্মার্ট ইবলিশ:

  5. চাতক বলছেনঃ

    :কস কি মমিন?: :কস কি মমিন?: :কস কি মমিন?: :কুপায়ালাইছ মামা-ভিক্টরি: :কুপায়ালাইছ মামা-ভিক্টরি:

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> levitra 20mg nebenwirkungen

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

private dermatologist london accutane
irbesartan hydrochlorothiazide 150 mg
posologie prednisolone 20mg zentiva