সাবধানের মার নাই

431

বার পঠিত

অনেকে না সবাই হয়তো  ‘কঠিন প্রশিক্ষণ সহজ যুদ্ধ’  টাইপ  কোন উক্তি যেকোন সেনানিবাসের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দেখেছেন। আসলেই তাই প্রশিক্ষণ যত মজবুত হবে যুদ্ধ ততই সহজ মনে হবে। বাস্তব জীবনের সকল প্রকার যুদ্ধের ক্ষেত্রেই এই উক্তিটি যথার্থরূপে খাটবে তাই বাস্তব সম্মত। সম্প্রতি আমরা সকলই আহসানউল্লাহ ভার্সিটির ৬ জন ছাত্র সেন্টঃ মারটিনের উত্তাল সমুদ্রে প্রান হারানোর কথা জেনেছি। অনেক অনেক ধরণের কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন। মৃত্যু সাধারণত আমাকে অতটা বিচলিত করে না, কখনই করে নি। মানব সভ্যতার ইতিহাস সর্বত্রই রক্তিম লাল।  তবে খুব নিকটাত্মীয় বা আপন কেউ মারা গেলে একটু খারাপ আর সবার মতো আমারও লাগে এইটা স্বাভাবিকই বটে। কিন্তু যদি রানা প্লাজার মত হত্যাযজ্ঞ হয় কিংবা তাজরিন অথবা ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মত নৃশংসতায় টগবগে কিছু তরুণের অকাল প্রাণ হারায় আসলেই মেনে নেয়া খুব কঠিন। বাস্তবতা যতই কঠিন হোক না কেন মানতেই হয়। আজ অনেকেই ভুলতে বসেছে বিষয়টি। এক বছর পরে কেউ কেউ রিমাইন্ডার দিবে, হয়তো বেশীর ভাগই ভুলে যাবে। যেমনটি ভুলে গেছে তাজমহলের কারিগরদের মনে রেখেছে শাহাজানকে। ২/৩ বছর পর আবারও অন্যকোন মৃত্যুর মিছিলে হারিয়ে যাবে এমন দুঃখ – বেদনা, এইতো এখন নারায়ণগঞ্জে ডুবে আছে জাতি, এইদিকে পুলিশ ঐশীর মামলা জাগিয়ে তুলছে। ছেলেগুলোর আপনজন, নিকট বন্ধুদের সান্ত্বনা দেয়ার কোন ভাষায় আমার জানা নেই। তীব্র যাতনা এবং অপরাধবোধ থেকে আসলেই কিছু লিখতে পারি নি। এমন কি মনোযোগ দিয়ে সম্পৃক্ত খবর, ফেসবুক পোস্টও ভাল করে পড়া হয়নি। যাহোক এই সেন্ট মারটিনে একবার ভ্রমন করার সুযোগ হয়েছে। এইবার আসল কথায় আসি। কেন এতদিন পর আচানক আমি বিষয়টি নিয়ে লিখতে বসলাম। ডঃ তুষার নাকি কি বলেছেন, তার একাধিক প্রতীবাদই আমি পড়েছি আসলে চোখ বুলিয়েছি বলা উচিৎ। যাহোক এমন ঘটনার জন্য কে কে দায়ী বা কে দায়ী তা খুঁজতে গিয়ে অনেক ধরণের বিশ্লেষণই হয়েছে। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা এবং ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বুঝলাম তা হল আমরা আসলে কেউ দায়িত্ব নিতে পারি না। সবাই অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে পারদর্শী। আমি এমন ঘটনায় কে কে কীভাবে দায়ী একটু নিজের মত করে তুলে ধরতে চাই। এই চাওয়ার পিছনে একটাই মূল কারণ তা হল আগামীর দুর্ঘটনাগুলো থেকে সবাইকে সাবধান করা।

 

পরিবারঃ এইখানে বিস্তারিত ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে যা বুঝলাম। মোট ৩৪ জন ছাত্র একসাথে পহেলা বৈশাখে সমুদ্র বিলাস করতে গেছে। ১৯-২২ বছরের (যেহেতু তাদের একাডেমীক বর্ষ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানি না!!) মধ্যে হবে। এই বয়সে মানুষ যা মন চাই তাই করতে চাই। ভার্সিটি জীবনের ৪ বছর এখনও শেষ হয়নি এই আর পরবর্তী জীবনে মোট কতটা ভ্রমন করেছি বা করব ঠিক বলতে পারব না। আমার গ্রামের বাড়ি সুরমা নদীর পাড়ে। ছোট বেলা থেকেই সাঁতার আমার রক্তে মিশে আছে। তারপরও প্রত্যেকবার ভ্রমনে (বিশেষ করে সমুদ্রে) যাওয়ার আগে কয়েকশো বারই মা-বাবা পানি সম্পর্কে সাবধান করে দিতেন। লাল পতাকার সিগন্যাল দেখে পানিতে নামতে বলতেন। পাহাড়ে গেলেও ফার্স্ট এইড বক্স এবং নিরাপত্তার কথাগুলো আগে বলতেন। সম্ভব সকল নিরাপত্তা নিয়েই সফল ভ্রমন করেছি এযাবৎ কাল পর্যন্ত। এখন আমার প্রশ্ন হল ৩৪ টা ফ্যামিলির কেউ কি এই গ্রুপের কারো মাঝে এই বিষয়ে কোন পরামর্শ দেয় নি? সবচে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হল। সমুদ্র বা উপকূলীয় এলাকা ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বছরের নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। সমুদ্রের রূপ এবং আরামের বিবেচনায়ো এই সময় যথার্থ । এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি এসে একদল তরুণ যাদের বেশীরভাগ সাঁতার জানেনা তাদের পিতা মাতা কীভাবে ছেড়ে দিল তাদের?

 

বিশ্ববিদ্যালয়ঃ আজ যদি যেকোন একটা সফল কাজ করত এই ৩৪ জন দামাল ছেলে তবে কিন্তু ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ প্রেস কনফারেন্স ডাকত এবং ক্রেডিট নেয়ার চেষ্টা করত না না ভুল বলেছি জোড় গলায় ক্রেডিট নিত। ধরেন দিপু নাম্বার টুর মত একটা ঘটনা ঘটালে আজ কি ভার্সিটির সুনাম বারত না। কিন্তু যখন তারা একটা বিপদে পরল ঠিক তখনই আমরা স্বার্থান্বেষী মানুষ চিরায়ত স্বভাব গুনে আমরা দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপালাম বা নিজের পিট বাঁচিয়ে রইলাম। কিন্তু একদল ছাত্র ছাত্রি যদি ভার্সিটিতে পড়ে তবে তাদের বিনোদনের ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের করা উচিৎ। আমারই পরিচিত একজন একই বিশ্ববিদ্যালয়য়ের তার চার বছরের অনার্স লাইফে কোন ট্যুরে যায় না। না ভার্সিটির বন্ধুরা মিলে কিংবা অফিসিয়ালি শিক্ষা সফরে অথচ পাবলিক ভার্সিটি থেকে আমরা সুন্দরবন থেকে শুরু করে শ্রীমঙ্গল এমনকি হয়তো শেষ বর্ষে এসে কোন সার্ক ভুক্ত দেশও ঘুরা হবে। অথবা নিজেরা বন্ধুরা মিলে প্রতি সেমিস্টারের পরে একটা করে ট্যুর দিব। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে হল থাকার কারণে আমরা জুনিয়ররা বড় ভাইদের কাছ থেকে পরামর্শ পাই, হেল্প পাই এমনকি অনেক সময় ট্যুর সঙ্গীও জুটে যায়। এমন কোন পরিবেশ এখনও গড়ে উঠে নি বলেই আজ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভ্রমনগুলো বেশীভাগ ক্ষেত্রেই আনপ্ল্যান্ড এবং অপরিনামদর্শী হয়। কিন্তু যখন আমরা প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্ররা নিজেরাই নিজের অর্থলোলুপ পরিচালনা পর্ষদকে দায়ী না করে কেবল সরকারকে দায়ী করি তখন বুঝতে হবে আমাদের উত্তরণের পথ কঠিন হয়ে আসছে। আজ ফুট ওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা না পেরিয়ে সরাসরি রাস্তা পেরুতে গিয়ে যখন মা-বাচ্চা মারা যায় তখন দেখি প্রসাশনকে ব্যর্থতার গ্লানি টানতে আর গাড়ি চালককে অভিশাপ দিতে কিন্তু আমরা কেউই ঐ অবিবেচক পথচারীর অন্যায়টা কেউ দেখি না কারণ এই এলাকায় মানুষ মরে গেলে আবার ফেরেশতা বনে যায়, সাত খুন মাপ তার।   zoloft birth defects 2013

 

ব্যক্তিঃ আজ মুক্তবিশ্ব মিডিয়ার কারণে সবাই ট্যুরিজম নিয়ে ইন্টারনেট আর টিভি চ্যানেলে প্রচুর তথ্য পেয়ে থাকি এমনকি অনেক ধরণের সারভাইবাল ডকুমেন্টারিও প্রচারিত ভাল ভাল সকল টিভি মিডিয়ায়। কিন্তু দেখে মজা পায় আমরা নাকি কিছু শিখারও চেষ্টা করি আমরা। কীভাবে কখন কীভাবে বেড়াতে এইসব নিয়ে প্রচুর পরামর্শ থাকে। অথচ এই ৩৪ ছাত্রের কেউই এইসব জানত না? কেউই বুঝতে পারে নি সমুদ্র ভ্রমণের উপযুক্ত সময় এটা না। কেউ যদি হেডফোন দিয়ে গান শুনে শুনে রেললাইন দিয়ে হাটতে হাটতে ট্রেনে কাটা পরে মারা যায় তবে কীভাবে রেলকর্তৃপক্ষ আর সরকার দায়ী আমি বুঝি না। আমরাও এইটাও বিবেচনায় আনি না যে আমাদের দেশের অনিয়ন্ত্রিত আচরণের মানুষের তুলনায় নিরপত্তাকর্মীর মান এবং পরিমান দুটোই কম। তাহলে কীভাবে সরকার এতো সীমিত জনবল এবং অনাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে এতোকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে? কেউ কি বলতে পারেন? এমন তৃতীয় বিশ্বের দেশে ব্যক্তিকেই তাই সর্বোচ্চ সতর্ক আর সচেতন হতে হবে।

 

রাষ্ট্রঃ নেপাল, ভারত এবং মালদ্বীপের মত দেশ আজ পর্যটন শিল্প দিয়ে নিজেদের অনেক উন্নত করেছে। অথচ আমাদের অনেক অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মনোরম পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও আজ আমরা পর্যটন শিল্পকে বিশ্ব দরবারে নিজেদের তুলে আনতে পারি নি। সব কিছুর পরও রাষ্ট্র কখনই নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। এই ধরণের দুর্ঘটনায় তাই সকলের দায় আছে। আমাদের এখনই উচিৎ সকল পর্যটন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা কর্মী স্থানভেদে স্পেশালাইজড ফোরস দিয়ে হলেও সকল ধরণের দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করা। আশাকরি কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই তার দায়িত্ব পালনে তার আসল রূপ দেখাবে। মাথা ব্যাথার সমাধান যেমন মাথা কেটে ফেলা না ঠিক তেমনি এই ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমন কে এড়িয়ে যেতে বাড়াবাড়ি রকমের কোন নিয়ম দেয়া ঠিক হবে না তা সরকারের জন্য বুমেরাং হবে। সবচে সম্ভাবনাময় একটা শিল্পকে মুখ থুবড়ে পরতে হবে তাহলে। আশাকরি আমাদের দেশের ছাত্ররা যথেষ্ট দায়িত্ববোধ এবং সচেতনতার যায়গা থেকে যথার্থ আচরণ করবে। সাহস মানে খালি হাতে সিংহের সামনে দাড়িয়ে যাওয়া না এইটা আত্মহত্যার সামিল। একইভাবে ঐ ৬ জন ছাত্রের মাঝে যদি ৩ জন ভাল সাঁতারু হয় তবে বাকি তিনজন তাদেরকে বাঁচাতে গিয়েও প্রাণ হারাতে পারে। আসল কথা হচ্ছে খুব অসময়ে দ্বীপ ভ্রমণে গেছে এই বালকগুলো এবং তাদের নিজেদের এবং পরিবারের যথেষ্ট মনোযোগ আর সচেতনতার অভাবেই এই বালকগুলো অকাল প্রাণ হারালো। আর তার সাথে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা এবং অপরিপক্ব পর্যটন শিল্পের বিকাশ। তাই সকল মানুষ যদি নিজ যায়গা থেকে সাবধানের মার নেই নীতি মেনে সকল প্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রত্যেক যায়গায় কাজ করে তবে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সবচে সফল হব আমরা।

ম্যাট্রিক্স মুভির এর মত হাত দেখিয়ে গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পেরুনো থেকে ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার করা উত্তম।

You may also like...

  1. চমৎকার লিখেছেন ভাই… :দে দে তালি: পুরো লেখার সাথে বিনা বাক্যে সহমত… :-bd :-bd :-bd

    will metformin help me lose weight fast
  2. ম্যাট্রিক্স মুভির এর মত হাত দেখিয়ে গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পেরুনো থেকে ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার করা উত্তম।

    ভাল লিখেছেন। :-bd :-bd

    missed several doses of synthroid
  3. ভাল লিখেছেন :এতো দিন কই ছিলি?: :এতো দিন কই ছিলি?: :এতো দিন কই ছিলি?:
    কিন্তু আমার মত যারা মে -জুনের উত্তাল সমুদ্র দেখতে ইচ্ছুক তাদের কি হবে :তার ছিঁড়া: :তার ছিঁড়া: :তার ছিঁড়া: :তার ছিঁড়া:

    cialis new c 100
  4. দারুন লিখেছেন । আমি মনে করি, দুর্ঘটনা এড়াতে সবচাইতে বেশি প্রয়োজন ব্যাক্তি সচেতনতা ।

    about cialis tablets

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong> side effects of quitting prednisone cold turkey

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

can you tan after accutane
viagra vs viagra plus