মেল-ফিমেল জোড়া [Pair] আর যৌনতা ছাড়া শিশু জন্ম : ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি মারাত্মক চ্যালেঞ্জ

496

বার পঠিত

প্রচলতি সকল ধর্মগুলোই দৃঢ়তার সাথে বলে যে, জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি ও যৌনতা ছাড়া প্রাণির নতুন জন্ম অসম্ভব (কেবল ধর্মীয়ভাবে সম্ভব যেমন যিশু!) কিন্তু বিজ্ঞান যতই এগুচ্ছে, ততই তারা সপ্তপদি প্রাণির সন্ধান পাচ্ছে, যারা সন্তান উৎপাদনে পুরুষের সহযোগিতা নেয়না কিংবা নিজেরা সেক্স পরিবর্তন করে, যার কয়েকটি উদাহরণ নিম্নরূপ।

ক্লোনিং এর মাধ্যমে নতুন শিশুর জন্ম কথা আমরা সবাই কমবেশি জানি, যেখাবে মা-বাবা দরকার নেই। তা ছাড়া একই ধরণের ‘প্রাকৃতিক ক্লোনিং’ এর মাধ্যমে অনেক প্রাণির দেহের অভ্যন্তরে নিষেক ঘটতে পারে। কোন রকম শুক্রানুর সংযোগ ছাড়াই দেহের “ডিপ্লয়েড ডিম্বানুর নিষেক” ঘটাতে পারে অনেক প্রাণিই। জীববিজ্ঞানে এর নাম ‘পার্থেনোজেনেসিস’ (Parthenogenesis)। কাজেই পার্থেনোজেনেসিস নামধারি ‘কামহীন প্রাণিরা” সত্যিকার অর্থেই অপরাজেয়, নিযার্তনমুক্ত, অন্ততঃ কামুকদের তুলনায়। এদের কোন পুরুষ সঙ্গীর দরকার হয়না। সবাই একেক জন “মাদার মেরি” যারা সয়ম্ভু যিশু উৎপাদনে সক্ষম। অন্তত পুরুষ কামুকরা যে সময়টা ব্যয় করে যৌন সঙ্গী খুঁজে তোষামোদ, গিফট, আদর সোহাগে মন ভরাতে কিংবা ধর্ষণে, সে সময়ের মধ্যে এরা গন্ডায় গন্ডায় বাচ্চা পয়দা করে ফেলতে পারে স্বাধিনভাবে।

এরকম “অটোসেক্স” প্রজাতি ‘কমোডো ড্রাগন’ কিংবা ‘হুইপটেল গিরগিটি’। কমোডো ড্রাগন, পুরুষ ছাড়াই শুধু নারী এককভাবে বাচ্চা দিতে পারে। পুরুষ না পেলে নারীর ৫০% ক্রমোজম পুরুষ ক্রোমোজনমে রূপান্তরিত হয়ে সব পুরুষ বাচ্টচা জন্ম দেয়। ‘হুইপটেল গিরগিটি’রা সবাই মহিলা, তাদের কোন পুরুষের দরকার নেই। পুরুষেরা তাদের জন্য ‘ফালতু ঝামেলা’। ২০০৬ সালে এ প্রজাতিরই বড় সংস্করণ ‘কমোডো ড্রাগন’ (Komodo Dragon) কোন পুরুষসঙ্গী ছাড়াই লন্ডনের চিড়িয়াখানায় বাচ্চা জন্ম দিয়ে রীতিমত বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। ২০০১ সালে নেব্রাস্কার ডুরলি চিড়িয়াখানার হাতুড়িমুখো হাঙরও (Hammerhead shark) প্রজনন পুরুষসঙ্গি ছাড়াই হাঙরশিশু জন্ম দেয়। এগুলো সবই পার্থেনোজেনেসিস-এর উদাহরণ। about cialis tablets

এ্যাংলার ফিস যৌনতার সময় স্ত্রীর শরীরে নিজের শরীরকে লীন করে দেয়, আর সে বাঁচে না। পুরুষ ম্যানপিছ যৌনতা শেষে স্ত্রী তার মাথা খেয়ে ফেলে কিন্তু তারপরো সে সঙ্গম অব্যাহত রেখে নিজ জীন স্ত্রীর শরীরে রাখার পর সে মারা যায়। ঊত্তর আমেরিকার সমুদ্রোপুকূলে এক ধরণের ক্ষুদ্র প্রাণি বাস করে, এরা আটলাণ্টিক স্লিপার শেল (Atlantic Slipper Shell) নামে পরিচিত। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এরা ‘ক্রিপিডুলা ফরমিক্যাটা’ (crepidula formicata) নামে পরিচিত। এই প্রজাতির পুরুষেরা একা ঘুরে বেড়ায়। তারপর তারা কোন স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার পরপরই পুরুষদের পুরুষাঙ্গ বিলুপ্ত হয় ও এরা হঠাৎ স্ত্রীতে রূপান্তরিত হয়। প্রকৃতিতে পুরুষ থেকে নারীতে পরিণত হবার এ এক চমকপ্রদ দৃষ্টান্ত।

স্কুইডরা যৌনতার জন্য রং ও সৌন্দর্য পাল্টাতে পারে এমনকি শরীরের এক দিকের। প্রজননে এরা নিজ লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারে ও করে কখনো কখনো। সামুদ্রিক মারাকাটা গ্রাউন্ট ফিস পরিবারে কোন কারণে নারী মারা গেলে পুরুষটি নারীতে রূপান্তর ঘটাতে পারে। আমেরিকার ‘ক্লিনার ফিশ’ নামে পরিচিত এক ধরনের মাছের মধ্যে গবেষণা চালিয়ে রূপান্তর কামিতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ মাছগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাবারিডেস ডিমিডিয়াটাস (Laborides dimidiatus)। এ প্রজাতির পুরুষেরা সাধারণত ৫-১০জন স্ত্রী নিয়ে ঘর বাঁধে। কোন কারণে পুরুষ মাছটি মারা গেলে স্ত্রীদের মধ্যে যে কোন একজন (সবচেয়ে বড় বা শক্তিশালীটি) নেতৃত্ব নেয়। বিস্ময়কর ব্যাপার হল, এই দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঐ স্ত্রী-মাছটির মধ্যে জৈবিক পরিবর্তন শুরু হয়। দু সপ্তাহের মধ্যে সে পরিপূর্ণ পুরুষে রূপান্তরিত হয়ে যায় (তার গর্ভাশয় ডিম্বানু উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং নতুন করে পুরুষাঙ্গ গজাতে শুরু করে) এবং অন্যান্য স্ত্রী মাছদের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়। প্রাকৃতিক নিয়মে স্ত্রী থেকে পুরুষে রূপান্তরের এও একটি মজার দৃষ্টান্ত। রূপান্তরকামিতার এমন আরো উদাহরণ আছে এনিমোন (anemone) বা ‘ক্লাউন মাছ’দের (Clown Fish) মধ্যেও। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সামুদ্রিক প্রবাল প্রাচীরের কাছাকাছি বেড়ে ওঠা মাছদের মধ্যে পরিবেশ এবং পরিস্থিতি অনু্যায়ী যৌনতার পরিবর্তন অতি স্বাভাবিক ঘটনা।

ইউরোপিয়ান ফ্লে অয়েস্টার (European Flay Oyster) ও অস্ট্রা এডুলিস (Ostrea edulis) প্রজাতির ঝিনুকেরা যৌনক্রিয়ার সময় পর্যায়ক্রমে স্ত্রী ও পুরুষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। বস্তুতঃ এদের একই শরীরে স্ত্রী ও পুরুষ জনন অংগের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, এই প্রজাতির ঝিনুকেরা পুরুষ হিসেবে যৌনজীবন শুরু করার পর ধীরে ধীরে স্ত্রীর ভূমিকায় রূপান্তরিত হয়। ইংল্যান্ডের সমুদ্র উপকূলে এ ধরণের ঝিনুক প্রচুর পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায়, যেগুলো প্রতিবছর একবার করে তাদের সেক্স বা লিঙ্গ পরিবর্তন ঘটায়। কিন্তু ভূমধ্যসাগরীয় উষ্ণ অঞ্চলে ওই একই ঝিনুকের দল প্রতি ঋতুতেই তাদের যৌন রূপের পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে। নারী থেকে পুরুষ কিংবা পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরের এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে ইউনো মার্জিনালিস (Uno marginalis) নামের আরো একটি প্রজাতির ঝিনুকের মধ্যেও। সামুদ্রিক পোকা বলিনিয়ার মধ্যেও এ ধরণের রূপান্তর ঘটে থাকে। যৌনতার পরিবর্তন এভাবে প্রতিক্ষণে প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে নানাবিধ প্রাণির ভেতর, যা ধর্মকে একদিন মারাত্মক চ্যালেঞ্জে ফেলবে ।

ব্লগার আইডি https://www.facebook.com/logicalbengali buy kamagra oral jelly paypal uk

যারা ‘ধর্ম, দর্শন, মানুষ আর জীবন জিজ্ঞাসা’ জানতে চান তাদের জন্যে জ্ঞানের চমৎকার মিউজিয়াম। প্রত্যহ হাজারো ছবি আর নলেজ দিয়ে আপডেট করা হয়। পেজটি লাইক করুন আর পড়ুন। দেখুন লিংক : https://www.facebook.com/drlogicalbangali viagra vs viagra plus

You may also like...

  1. বিজ্ঞান ভিত্তিক চমৎকার একটি লিখা ।ভাল লাগলো ।

  2. আহেম, আহেম!

    অভিজিৎ ভাই, কামিতা শব্দের মানে কি? ইচ্ছা– নয় কি?
    যেটা নরমালি হয়, প্রকিতির নিয়মে, সেটা কামিতা নয়, পারকিতিক নিয়ম। মাছ বা ঝিনুক ইচ্ছা করল পরিবরত্নের, আর তারা পরিবরত্ন হয়ে গেল, বিষয়টা এমন নয়।

    আর, মানুষের মধ্যে কোন রূপান্তর অন্য প্রাণিদের মত ঘটেনা।

    কাজেই, আপনাদের এলজিবিটি ও তার সমর্থকদের চিন্তা-ভাবনায়, অনেক অনেক লুফোল আছে, জা আপনারেয়া নিজেও জানেন না, এববগ কোনদিন জানতেও হয়তো ইচ্ছা করবেন না…!

    zithromax azithromycin 250 mg

আপনার ই-মেইল ও নাম দিয়ে মন্তব্য করুন *

viagra in india medical stores

Question   Razz  Sad   Evil  Exclaim  Smile  Redface  Biggrin  Surprised  Eek   Confused   Cool  LOL   Mad   Twisted  Rolleyes   Wink  Idea  Arrow  Neutral  Cry   Mr. Green

doctus viagra

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Heads up! You are attempting to upload an invalid image. If saved, this image will not display with your comment.

thuoc viagra cho nam
posologie prednisolone 20mg zentiva will metformin help me lose weight fast