Category: কথাসাহিত্য

একজন রবীন্দ্রনাথ এবং বাঙালির আবহমান সাংস্কৃতিক ভাবনা

পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলা প্রদেশের অধিকাংশ মানুষই মুসলিম জাতীয়তাবাদের স্বার্থে রবীন্দ্রনাথ বিরোধী ছিলো। তাদের প্রিয় কবি হয়ে উঠেছিলো নজরুল ইসলাম। নজরুল সঙ্গীত সমূহকে দাবী করা হচ্ছিলো পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ বিকাশের ভাস্কর্য রূপে। বস্তুত সঙ্গীতের ক্ষেত্রে নজরুল ছিলেন সনাতনী। তিনি ভারতীয় গানের সনাতন রীতিকেই অগ্রসর করে নিয়ে গেছেন। তাঁর গানে ছিলো আসরের আমেজ, বেলোয়ারি কাচের আওয়াজে তাঁর গান মুখরিত ছিলো। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ঠিক উল্টো। তিনি বাঙালিকে আসর থেকে টেনে বের করে নিয়ে এসেছিলেন এবং সঙ্গীতকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্যক্তির কানে। ফলে, নজরুলের মাঝে আমরা একদিকে দেখতে পাই সাম্রাজ্যবিরোধীতা, অন্যদিকে একটি সামন্তবাদী সঙ্গীতচর্চার মাঝে নিজেকে বিলীন করে দেয়া। এই স্ববিরোধীতা কেন নজরুল করেছিলেন...

viagra vs viagra plus

সূর্পনখা

আমার বোন যদি কোন ছেলের রূপে গুনে মুগ্ধ হয়ে তার প্রেমে পড়ে যায় তাতে আমার কোন আপত্তি নেই| প্রেমে পড়ে আমার বোন ছেলেটিকে প্রেম নিবেদন করতে যদি বলে ফেলে “আমি তোমাকে ভালবাসি”, তাতেও আমার আপত্তি নেই| প্রেম নিবেদনের পর যদি আমার বোন জানতে পারে যে যাকে সে ভালোবেসে ছিল সে বিবাহিত, তারপর যদি সে মন কষ্টে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে ভালোবাসার মানুষটির স্ত্রীর উপর হিংসা প্রকাশ করে, অথবা ভালোবাসার মানুষটির স্ত্রীকে গালিগালাজ কিংবা হত্যার হুমকি দেয়, তবে আমার বোনের আচরণের উপর আমার আপত্তি আছে| এ আচরণের কারণে আমি তাকে বোঝাবো প্রয়োজনে শাসনও করবো, কেননা ভালবাসায় জরপুর্বকতা চলেনা, এবং উচিতও নয়| কিন্তু...

প্রশ্ন?

কখনো কি একটু বিবেচনা করে দেখেছেন যে আপনি বিশ্বাসী কেন? কখনো কি চিন্তা করেছেন, যে ধর্মকে আপনি বিশ্বাস করবেন বলে বেছে নিয়েছেন টা আপনি কেন বেছে নিয়েছেন? চিন্তা করেছেন কেন কার্মা অথবা পুনর্জন্মের বিশ্বাসকে বাদ দিয়ে শাশ্বত পরিত্রাণের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে যীশু খ্রীষ্টকে বেছে নিয়েছেন? কেন আপনি গৌতম বুদ্ধের চারটি পবিত্র সত্যকে ভুল বলে মেনে নিয়ে একমাত্র আল্লাহকেই সত্য ঈশ্বর এবং মুহাম্মদ তাঁর নবী হিসেবে বিশ্বাস করেন? কেন আপনি তওরাতকে আকড়ে ধরে পড়ে থাকেন ঈশ্বরের প্রকাশীত একমাত্র কিতাব হিসেবে, এবং অস্বিকার করেন ভগবত গীতাকে? কখনও ভেবে দেখেছেন আপনার ধর্মের বর্ণনায় তুলে ধরা স্বর্গের গঠন এবং উপাদান গুলোর সাথে কেন এই...

about cialis tablets

ইলাজ

খেলাফতি মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের খলিফা খোদাজোমের বিশিষ্ট জল্লাদ ইয়াসীন মোল্লা আজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রচন্ড অসুস্ততায় কাতরাচ্ছে। খেলাফতের ছায়া তলে মৌলবাদী মুসলিমদের বাংলাদেশে এখন মৃত্যুর হার বেড়েছে। মৃত্যুর হার বাড়ার কারণ হলো চিকিত্সার অভাব, কেননা হাসপাতাল গুলো সব ভেঙ্গে গুড়িয়ে মিশে আছে ধুলোর সঙ্গে। হাসপাতাল ভেঙ্গে ফেলার ভয়ঙ্কর পরিণতির পেছনের মৌলবাদী মুসলিমদের বক্তব্য ছিল যে – পৃথিবীতে যত রোগ শোক মানুষের হয়, তা আল্লাহর নেয়ামতেরই একটি অংশ, যা মানুষকে পরীক্ষা করতে আল্লাহ পাক মনুষকে দিয়ে থাকেন। হাসপাতালে গিয়ে রোগ নিরাময় করে ফেলার মানে হচ্ছে, রোগের বেশে মানুষকে পরীক্ষা করতে আল্লাহর দেয়া প্রশ্ন পত্রকে ছিড়ে ফেলা। আর আল্লাহর দেয়া প্রশ্ন পত্রকে...

capital coast resort and spa hotel cipro

জন্ম মৃত্যু

  বাসার দরজা বন্ধ দেখে ছাদে উঠে আসলাম, আন্দাজ করেছিলাম ছাদেই পাওয়া যাবে শ্বরণী বাবুকে| আন্দাজ সঠিক, দেখি কুচকুচে কালো রঙের  পাঞ্জাবি পড়া শ্বরণী বাবু ছাদে একটা বেতের তৈরী মোড়ার উপর বসে আছে| শুধু বসে আছে বললে ভুল হবে, বাম হাতে ধরে থাকা খোলা বইটির উপর মাথাটা নিচু করে মনোযোগ দিয়ে পড়ছে আর কিছুক্ষন পর পর ডান হাতের জলন্ত সিগারেট ঠোটে ঠেকিয়ে লম্বা লম্বা টান দিয়ে সিগারেটের ধোয়া দিয়ে ফুসফুস ভর্তি করছেন, সেই ধোয়া গুলোই কয়েক সেকেন্ড পর নাক দিয়ে বের করে ফেলছেন| শ্বরণী বাবুর পরনের কুচকুচে কালো রঙের পাঞ্জাবি দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল, কোন শিয়া মুসলিম আলী, হাসান এবং...

zovirax vs. valtrex vs. famvir

রতন পন্ডিত

বিকাল আন্দাজ চারটা বাজে, শ্বরণী বাবুর কথামত তার বাসার পাশের রতন পন্ডিতের চায়ের দোকানে বসে আছি| তিনি অনেক দিন পর আজ হঠাত ফোন করে বললেন – কেমন আছিস, কোথায় আছিস জানা কিংবা জানানোর সময় নাই| এক প্রকাশকের সঙ্গে মিটিঙে আছি, মিটিংটা শেষ করেই বিকেল চারটার দিকে ফিরবো| বাসায় ওঠার আগে কলা পাউরুটি আর এক কাপ চা খেয়ে বাসায় উঠবো| ততক্ষণ তুই রতন পন্ডিতের চায়ের দোকানে আমার জন্য অপেক্ষা কর, অনেক দিন আমার ব্যস্ততার কারণে তর সঙ্গে কোন দেখা সাক্ষাত নেই, আজ থেকে আগামী সাত দিন আমার কোন কাজ নেই, তুই তল্পিতল্পা সমেত আগামী এক সপ্তাহের জন্য আমার বাসায় চলে আয়,...

মারকাজে ইয়েকিন সাদ বাদ

আমার দৃষ্টিতে মুর্খ ধর্মান্ধদের থেকে ভয়ানক হিংস্রজীব এই পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই৷ হিংস্র বলার কারণ হলো তারা ধর্মের কাল্পনিক গল্প গুলোয় বিশ্বাস করে৷ হ্যা তারা শুধু মাত্র বিশ্বাসই করে, কারণ তাদের ধারণা যে তাদের জ্ঞানের মূল উত্স হলো তাদের ধর্ম গুরু এবং মুর্খ হবার কারনে তারা যাচাই করতে পারেনা যে ধর্ম গুরু যা বলছে তা সঠিক কিনা অথবা গুরু যা বলছে তাতে কতুটুকু সত্যতা আছে, গুরু মিথ্যা বললেও মুর্খকে তার মুর্খতার অপরাধে বাধ্যগত ভাবে তা মেনে নিতে হয়৷ তাই বেশির ভাগ মুর্খ ধর্মান্ধদের চোখ সত্য মিথ্যায় মেশানো অযৌক্তিক কাল্পনিকতার কালো কাপড়ে বাধা থাকে, অর্থাত চোখ থাকতেও তারা অন্ধ, ধর্মের প্রতি...

গ্যাঞ্জি

কলিং বেল বাজানোর প্রায় ৩ মিনিট পর শ্বরণী বাবু দরজা খুললেন| দেখলাম শ্বরণী বাবুর খালি গা, পরনে জিন্স প্যান্ট, চুল থেকে টপ টপ করে পানি ঝরছে, কাধে ভেজা গামছা| গায়ের থেকে তখনও সাবান সেম্পুর ঘ্রাণ ভেষে আসছে, বুঝলাম এই মাত্র গোসল করে বেরিয়েছে| অনেক দিন পর শ্বরণী বাবু গোসল করেলেন, “তিনি প্রায়ই বলেন আমি নিজের কাছে নিজে নোংরা অবস্থাতেও প্রিয়, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা আমি কখনই গ্রহণ করতাম না যদি সমাজের লোকেদের সাথে আমাদের চলতে না হত”| দরজা খুলে আমাকে ভেতরে আসার কথা না বলেই চোখ গুলো বড় বড় করে আমার পরনের গেঞ্জির দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় জিজ্ঞাস করলো – গ্যাঞ্জিটা কবে...

metformin tablet

টুনির আব্বা আম্মার গোপন ফোন আলাপ চারিতা

অনিক : হ্যালো বিন্তি : কি কর? অনিক : এইত তোমার কথায় ভাবছি।। বিন্তি : ও তাই? অনিক : কেন বিশ্বাস হয় না? বিন্তি : হয়,তবে! অনিক : তবে?তবে কি? বিন্তি : কিছু না। খাইছ? অনিক : নাহ,এইমাত্র ভার্সিটি থেকে আসলাম একটু রেস্ট নিচ্ছিলাম।তুমি? বিন্তি : অনেক আগেই খাইছি।পরীক্ষা না ছিল তোমার?কেমন হইছে? অনিক : হুম,বেশী ভালো না।সব ভুলে গেছি প্রশ্ন পেয়ে।আমাকে রেখেই খাইলা,আসলে তোমরা মেয়েরা খুবই স্বার্থপর। বিন্তি : হ,অনিক কুত্তা আগেই বলছে আমারে। অনিক : মহাজ্ঞানী অনিক বলতে পারনা?কুত্তা বলো কেন?নাকি কুত্তার প্রেমে হাবুডুবু খাইতাছ? বিন্তি : হ,চলতাছে তোমার সমস্যা?তোমাকে ফোন দেওয়াই আমার ভুল হইছে সরি। অনিক :...

সঠিক বাংলা বানান ব্যবহার করুন, বাংলা ভাষাকে অবিকৃত রাখুন!

ফেসবুক এবং বাংলা ব্লগগুলোয় অনেক লেখা দেখা যায় যেখানে বাংলা বানানের যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়, যতি চিহ্নের বংশ ধ্বংস করা হয়। যারা ফেসবুকে বা ব্লগে লিখেন, ধরে নেওয়া যায় তারা বেশিরভাগই অন্ততপক্ষে দশম শ্রেণি পাশ করেছেন। তাই দশম শ্রেণি পাশ করা একজনের কাছ থেকে ভুল বাংলা বানান দেখতে পাওয়া কোন স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণি থেকে আমরা বাংলা এবং ইংরেজি ব্যাকরণ পড়া শুরু করি (নিশ্চিত নই এখন কোন শ্রেণি থেকে পড়ানো শুরু হয়)। তন্মধ্যে ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয় বলে এটায় হওয়া ভুল ভ্রান্তি মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু বাংলা ভাষার সাধারণ বানানগুলোর ভুল হতে দেখলে বা যতিচিহ্নের বেঠিক ব্যবহার...

nolvadex and clomid prices

আমাদের ভবিষ্যৎ – কালের আয়নায় প্রতিবিম্ব।

আমরা কবিতা লেখি, গান গাই, সাহিত্য রচনা করি, প্রেমিক/প্রেমিকাকে প্রেম নিবেদনও করি। শেষটা বাদে সব কিছুই বাংলায় চলে। আগের দিস্তা-দিস্তা কাগজ, খুচরো ডায়েরি, আর্ট পেপার আজ কিবোর্ডের দখলে। আমরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত থাকছি – ফেইসবুক,টুইটার,ইন্সটাগ্রাম, ভাইভার,ট্যাঙ্গ,মেজেঞ্জার,এডাল্ট সাইট আরো কত কী! বিজয় আর অভ্র (এন্ড্রয়েডে রেডমিক) আমাকে আপনাকে বাংলা লিখতে সাহায্য করছে না বলে দিচ্ছে বললে ভালো হয়। আমরা সাহিত্যিক হয়ে যাচ্ছি রাতারাতি, নাট্যকার হয়ে যাচ্ছি ঘন্টা পেরোনোর আগেই, অদ্ভুত আমাদের স্বভাব। একটা প্রেমপত্র লিখেই ছাড়পত্রে কি ভুল তা বের করা শুরু করি। ।।২।। ২০১৩ সালে গনজাগরণ মঞ্চের যাত্রা শুরু হলে ব্লগার বিরোধীদের চেহারা দেখা যায়। যদি আমি ভুল...

অবশেষে অমানুষ

মেয়েটার লাশ নিয়ে কোনদিকে যাবো কিছু বুঝতে পারছিনা। প্রচন্ড রাগ লাগছে নিজের উপর। বোকামি করে মেয়েটাকে মেরে ফেলাটা একটা শুয়োরের মত কাজ হয়েছে। “আমি একটা বুনো শুয়োর” চিৎকার করে কথাটা ছড়িয়ে দিলাম পুরো জঙ্গল এলাকায়। জঙ্গলে আমার অনেক বিশ্বস্ত প্রাণীর বাস। আশা করছি ওরা শুনবে কথাটা। যদিও নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে আমার মাঝে কোনো সন্দেহ নেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস কষে একটা চড় মারলেই মেয়েটা জীবন্ত হয়ে যাবে। কিন্তু মারবো না। হারামজাদি মরুক। কিন্তু যেহেতু আমি এখন শুয়োর হয়ে গেছি তাই এই মুহুর্তে কি করা উচিত আমার? কিছুক্ষণ আগেও মেয়েটা আমার বন্ধু ছিল। বন্ধু ছিলো বলেই শত্রুতা করে তাকে মেরে ফেলেছি। শত্রুর...

একটি কেইস স্টাডি ও কিছু প্রশ…

সোশ্যাল হিষ্ট্রি এর উপর ক্লাস চলছে। টপিক জেন্ডার ডিশক্রিমিশন ইন পাস্ট। এই টপিকের উপর আজ দ্বিতীয় লেকচার। সিজি হ্য্যনরি আগের লেকচার-এ যা বলেছেন তা শোনার পর ছাত্রদের বিস্ময়ের যেন সীমা ছিল না। করুণ কণ্ঠে নিজ অজান্তেই বেরিয়ে এসেছিল ‘এমন বর্বর কি করে হয়, মানুষ!’ “বর্তমানে অন্যান্য অনেক ভেদাভেদ দূর হয়েছে। সকলের পরিচয় সে মানুষ। তবে নৃতাত্ত্বিক ভাবে যে সংস্কৃতি আছে তা ধরে রেখেছে সবাই। এখন আমরা যে সময়কার ঘটনা নিয়ে স্টাডি করবো তখন এমন ছিল না, ভেদা ভেদ ছিল অনেক। বিভিন্ন নামের বিভিন্ন ঢং-এর ভেদাভেদ। আজ বিজ্ঞান পূর্ব ১৫০০০ বছর আগের একটি ঘটনা নিয়ে স্টাডি হবে। তখনকার সময়কে খ্রিষ্টাব্দ হিসেবে...

সোহানকে ভালবাসা (ডায়রির পাতা হতে)

ছোটবেলায় আমি অনেক লাজুক ছিলাম, এখনকার মত এত কথা বলতাম না, (দার্শনিকগিরির তো প্রশ্নই আসে না)। কিন্তু, আমার প্রকৃতিটা ছিল অনেকটা বাড়ির পোষা বিড়ালটার মত। মিনমিন করে মিয়াউ মিয়াউ করে গেলেও একদম পায়ে পায়ে কোল ঘেষে থাকে। আমিও ছোটবেলা থেকেই সকলের সাথে মিশতে পারতাম, সবার সাথেই ছিল সদ্ভাব। হগগলেই আমার বন্ধু। বন্ধুদের আমি সেইরকম ভালবাসতাম (আরকি, এখনও বাসি)। বন্ধুর জন্য আমার চোখের পানি পড়েছে, বন্ধুর জন্য একবার অনেক বড় ত্যাগও স্বীকার করতে হইছে…কিন্তু বন্ধুত্বকে ত্যাগ করতে পারি নাই। আমি আবার সরাসরি ক্লাশ ওয়ানে ভর্তি হই প্রি-ক্যাডেটে। প্রথম বন্ধুত্ব হয় সোহান নামে এক ছেলের সাথে। ক্যাডেটের হেডস্যার ছিল ওর চাচা। ওর...

দুটি বাস জার্নি

টিকিটটা বুকপকেটে নিয়ে কাউন্টার থেকে বের হল স্বাধীন। ঘড়ির রেডিয়াম লাইট সময় বলছে বারটা বাজতে দশ।এখনো চল্লিশ মিনিট সময় কাটাতে হবে বাস ছাড়ার আগে। সাধারণত রাত বাড়ার সাথে সাথে শহর নিস্তব্ধ হতে থাকে। বাসস্ট্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্যরকম। রাত যত বাড়ে, কাউন্টারগুলোতে ব্যস্ততাও বাড়তে থাকে সমানতালে। স্বাধীন এই ব্যস্ততা আর ভিড় এড়িয়ে ধীরে সুস্থে প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে হেঁটে হেঁটে দূরে সরে যেতে লাগল। আবার বেশি দূরে যাওয়া যাবে না। সাড়ে বারটার আগে ফিরে না আসলে আবার বাস পাওয়া যাবে না। মনে মনে হাসল স্বাধীন। এই বাস জার্নি নিয়ে তার মনে একসময় কত না অজানা আশঙ্কা কাজ করত! আর গত বছরআষ্টেক...

এক গুচ্ছ কামিনী এবং অতঃপর…!

গানের মাধ্যমে ‘আধেক ঘুমে’ শব্দটার সাথে পরিচয় হলেও ইহার সঠিক ভাবার্থ অনিক কখনো গভীর ভাবে উপলব্ধি করেনি। কিংবা, হয়তোবা এই শব্দটার আক্ষরিক অর্থটাই সে বুঝতে পারতো না। শুধু তাইনা, হয়তোবা সে এখনো এই শব্দের অর্থ ঠিকঠাক জানেনা। কিন্তু আজকাল কেন জানি মনে হয় এই শব্দটার অনুভূতির সাথে অনিক খুব ভালোভাবেই পরিচিত। এবং প্রতিনিয়ত বিশেষ করে ঘুমোতে যাওয়ার সময় যখন চোখের পাতা দুটি ঈষৎ ভারী হয়ে আসে, চোখের পাতা দুটি বন্ধ করার সাথে সাথে অনিকের কেবল মনে হয় সে কারো কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। কে সে? অনিক বুঝতে পারে কিন্তু বিশ্বাস করতে চায়না। যদি অনিকের ঘুম ভেঙ্গে যায়! যদি মাথার...

শাড়ি কথা

*আমার লিখা গুলো মূলত আমি কেন্দ্রিক, নিজের জীবনকে ঘিরেই অনেকটা। কারো যদি অতি সাধারণ একটি মেয়ের গল্প পরতে ইচ্ছা করে তবেই বাকিটুকু পড়ুন। অন্যথা অযথা সময় নষ্ট হবে, সময়ের মুল্য অনেক। আমার লিখা আমার পরিচিত দু চার জনের খুব পছন্দ, মাঝে সাঝে তারাই আমাকে লিখতে অনুপ্রেরণা যোগায়। অনেকে বলে, বেঁচে থাকার খোঁড়াক জুগিয়েছি তাঁদের জন্যে। আমি বলি সে রকম কিছুই বোধ হয় না। আমি মূলত আমার জন্য লিখি, কারো যদি তা পরে তা ভালো লাগে, আমি সেই আনন্দেই কিছু চুড়ি ভাঙবো। এটি আমার স্মৃতিচারণ আর ভবিষ্যৎ ইচ্ছার গল্প। আপাতত অনুগল্প হয়েই থাক। লিখাটি ঠিক কোন বিভাগে যাবে বুঝতে পারছি না,...

আঁধার

ছোটবেলায় না আমি একদমই ড্রয়িং করতে পারতাম না, এখনো মনে পড়ে, সাদা ক্যানভাসে রঙ তুলি দিয়ে কিছু একটা ফুটিয়ে তোলার সে কি আপ্রাণ চেষ্টা আমার ! না পেরে চোখের পানি নাকের পানি মিশিয়ে একাকার ! তারপর কালো কালি দিয়ে সেই ক্যানভাস পুরোটা ভরিয়ে তোলা… আজকের রাতটা অনেকটা সেরকমই কালো, সেরকমই অন্ধকার। আকাশটাও যেন আমার সাথে শত্রুতা করে একটাও তারার বাতি জ্বালায়নি আজকে, এমনকি চাঁদটাকেও আসার অনুমতি দেয়নি।থ্রি ইডিয়টস শুধু দেখেছিলাম, কোন শিক্ষা নিতে পারি নি, যার কারণেই তো কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিলাম রেসে, নেমে গিয়েছিলাম যুদ্ধে। আগে থেকেই মুখচোরা স্বভাবের ছিলাম। ভার্সিটিতে গিয়ে নতুন টাইটেল পেয়ে গেলাম, আঁতেল। আঁতেল ছাত্ররা...

পরাভূতদের রাজ্যে

জীবনটা সত্যি বেশ অদ্ভুত! আমি কি, আমি কি হতে চাই? প্রশ্নগুলো যখন একের পর এক কড়া নাড়তে থাকে মস্তিষ্কের দরজায়, আর আপনি কে এলো এই অবেলায় তা দেখার জন্য জানালা দিয়ে মুখ বারিয়ে আগুন্তুক চেনার চেষ্টা করেন, সেই অদ্ভুত সময়টাই আপনাকে পরাভুত করে তোলে দ্রুত। কথাটি লিখবার ইচ্ছা ছিল পরাভুত করে তোলে ধীরে ধীরে, তার পর মনে হল ঠিক ধীরে ধীরে তো করেনা, তাহলে হয়তবা আমি এবং আমার মত সবাই অথবা সবাই এবং সবার মত আমি নিজেকে সময়ের হাতে তুলে না দিয়ে সবকিছু ঠিক গুছিয়ে নিতে পারতাম, ঠাট বজিয়ে বলতে পারতাম, আমি ভাঙ্গবও না মচকাব ও না। কিন্তু প্রত্যেকটা ঘটনা...

আমার ফটোগ্রাফার

ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করতে সেদিন তার সময় লেগেছিল পাঁচ মিনিট। লেন্স ঠিক করে ক্যামেরা হাতে দাঁড়াতে আরও অনেকক্ষণ। তারপর একের পর এক সমস্যা। হয়তো ব্যাগ থেকে পড়ে গিয়েছে কোন লেন্স; অথবা ছবি তোলার মাঝে আমার চোখ বন্ধ। এরকম আরও অনেক কিছু। তার উপর সময় নিয়ে ছিল ওর অসীম তাড়াহুড়ো। ছবি তোলার সময় ক্যামেরার ফ্ল্যাশ নিয়ে যার সমস্যা, তার আরও অনেক সমস্যা। যে ছবিটি তুলতে চাচ্ছে তার ফ্রেমটি ঠিক করা যাচ্ছে না, হয়তো আমি একটু নড়েছিলাম; তা নিয়েও তার কপালের মাঝে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ। আমার অসাধারণ নদীটির একটিও ছবি তুলতে যে কোনও আগ্রহ বোধ করেনি-সেই অদ্ভুত ছেলেটি “আমার ফটোগ্রাফার”। আমার...

all possible side effects of prednisone