Category: একাত্তরের দলিল

all possible side effects of prednisone

হারিয়ে যাওয়া গনযোদ্ধারা

  নভেম্বরের প্রথম দিকে,ত্রিপুরার মেলাঘর থেকে ২ দিন পরে,কুমিল্লার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন কামরুল হাসান ভুইয়া (১৯৭১ সালে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন,যুদ্ধের পরে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং মেজর হিসাবে অবসর গ্রহন করেন)।তদানিন্তন ইপিআরের হাবিলদার রমিজ উদ্দিন ২১ বছরের চাকরির দোহাই দিয়ে বার বার অনুরোধ করতে লাগলেন তাকে নেয়ার জন্য।কারন এই দলটি যে এলাকায় যুদ্ধে যাবে সেখানেই রমিজউদ্দিনের বাড়ি।রমিজ উদ্দিন কে পেয়ে খুশি হলেন কমান্ডার কামরুল হাসান ভুইয়া,তাই অনুমতি নিতে গেলেন মেজর এ টি এম হায়দারের কাছে।মেজর হায়দারের এক জবাব “না” শুনে চলে এলেন তিনি।বুঝালেন রমিজউদ্দিনকে।কিন্তু রমিজউদ্দিনের ক্রমেই বিনিত ভাষার অনুরোধ তার বাবা মা নেই,নেই কোন ছেলে শুধু দুইটা...

বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম এবং বীর প্রতীকদের তালিকা

ছোটবেলায় বাংলা বইয়ে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠকে নিয়েই শুধু বিস্তারিত পড়েছিলাম। বীর প্রতীক, বীর উত্তম বা বীর বিক্রমদের নাম ছাড়া ছাড়া ভাবে শুনেছি। পুরো একটা তালিকা পড়ি নি কখনো। তাই মনে হল, বিভিন্ন পেইজে আলাদা আলাদাভাবে না থেকে যদি একটা লেখায়ই সবার নাম উল্লেখ করা যায়, অনেকের উপকার হতে পারে। তাছাড়া আজকালকার ছেলেমেয়েদের অনেকেই ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর নাম সঠিকভাবে বলতে পারে না; ভাষা শহীদ এবং ভাষা সৈনিকদের সাথে মিলিয়ে ফেলে। এই লেখাটি তাদের জন্যও উপকারী হবে বলে আশা করছি। পূর্বকথা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কতজন মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন সে বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। সেনাবাহিনীর সংরক্ষিত দলিল অনুযায়ী, স্বাধীনতার...

একদল মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তিযোদ্ধার ‘ক্র্যাক প্লাটুন’

মেজর খালেদ মোশাররফ এর অধীনে ও মেজর হায়দার এর প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে গঠিত হয় ঢাকা শহরের একদল মুক্তিপাগল তরুণদের নিয়ে গঠিত এক বিশেষ গেরিলা প্লাটুন, যা পরে ক্র্যাক প্লাটুন নামে পরিচিত হয়। এই দুর্ধর্ষ এবং মুক্তিপাগল গেরিলা দলটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে “হিট এন্ড রান” অর্থাৎ ঝটিকা আক্রমণের পদ্ধতিতে ঢাকা শহরে মোট ৮২টির মত অপারেশন পরিচালনা করেন। যা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক ত্রাসের সঞ্চার করে এবং জনমনে আগ্রহের সঞ্চার করে। ক্র্যাক প্লাটুনে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ঠিক কনভেনশনাল আর্মির প্ল্যাটুনের মত ছিল না। তারা এতটা ক্র্যাক কিংবা মুক্তির প্রশ্নে অবিচল এবং দৃঢ়চেতা ছিলেন যে ঢাকায় পাকিস্তানী আর্মিদের শক্ত ঘাটি থাকা সত্বেও, নাড়িয়ে দিয়েছিল তাদের আত্মবিশ্বাস।...

acquistare viagra in internet

গণহত্যা’৭১:কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া কিছু ইতিহাস (পর্ব-০৬)

এর আগের ৫ টি পর্বতে বিভিন্ন বধ্যভূমিতে সংঘটিত গণহত্যার ইতিহাস গুলো তুলে ধরেছিলাম। তবে এবারের পর্বটি একটু অন্যভাবে সাজাতে চেষ্টা করেছি।একাত্তরে মূলত পুরো বাংলাদেশই পরিণত হয়েছিলো একটি বধ্যভূমিতে। আমার মনেহয় এই দেশটার এমন কোন জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে শহীদের রক্ত মাংসের অস্তিত্ব নেই। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত মাংসের প্রলেপেই গঠিত এই দেশের মাটি।এই দেশটার প্রত্যেকটি ধূলিকণা একেক ফোঁটা রক্তের বিনময়ে অর্জিত। এই দেশের মানচিত্রটা গড়া ৩০ লাখ শহীদ, ৬ লাখ বীর মাতা আর লাখো মুক্তিযোদ্ধার সর্বোচ্চ ত্যাগ, মহিমা আর ভালোবাসায়, এই দেশের পতাকার লাল বর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে এক সাগর রক্তের আর সবুজ, সেতো এই দেশেরই রূপের মহিমা জানান...

side effects of quitting prednisone cold turkey

“নিউক্লিয়াস”; একদল তারছেঁড়া বাঙলা মায়ের দামাল ছেলের মুক্তির অকথিত গল্প সংগ্রহের স্বপ্ন

নিউক্লিয়াস। কি নিউক্লিয়াস, কে নিউক্লিয়াস, কেনো নিউক্লিয়াস এমন অসংখ্য প্রশ্ন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অনলাইনে আরো অসংখ্য গ্রুপ থাকা সত্ত্বেও কেনো নতুন করে আরেকটা গ্রুপ খোলা হল এমন জিজ্ঞাসা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। নিউক্লিয়াস এর কাজ কি, কিভাবে কাজ করবে এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছি। ১। নিউক্লিয়াস একটি অনলাইনভিত্তিক সংগঠন হলেও এর কাজ মুলতঃ বাস্তবে অর্থাৎ অফলাইনে।  ২। নিউক্লিয়াস নামক এই গ্রুপটি নির্দিষ্ট কিছু প্রোজেক্ট বেছে নিয়ে কাজ করবে। একটি প্রোজেক্ট চলাকালীন অন্য কোনো কাজে এই গ্রুপ সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবে না। তবে বাংলা মায়ের সন্তানেদের যেকোনো কাজে নিউক্লিয়াস নিঃশর্ত সমর্থন দিবে। ৩। নিউক্লিয়াস নামক এই গ্রুপটি তৈরির পেছনে যে কারণটা...

হারিয়ে যাওয়া এক বীর যোদ্ধা

৬ ডিসেম্বর ২০১৪ পটুয়াখালীর একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রথম জানতে পারি ওনার সম্পর্কে।৮ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় পটুয়াখালি,সেই ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ডিসি কোর্টে উনি উড়িয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।আলতাফ হায়দার সেই হারিয়ে যাওয়া নায়ক উনি উরিয়েছিলেন পটুয়াখালীতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।৩ বার স্ট্রোক করে বর্তমানে পক্ষাঘাতে ভুগছেন।সাথে সাথে বিষয়টা অবগত করি আমার বাবাকে,তিনি খবরের সত্যতা স্বীকার করেন এবং জানান আলতাফ হায়দার সম্পর্কে বর্তমানে তারা কেউ অবগত নন।আলতাফ হায়দারের ব্যাপারটি জানান হয় প্রশাসন ও পৌর মেয়রকে তারাও ব্যাবস্থা গ্রহণে আশ্বাস দেন।তাদের সেই সাহায্য নিয়ে ২১ ডিসেম্বর আমি সহ ৪ জন রওনা দেই পটুয়াখালী থেকে মির্জাগঞ্জের উদ্দেশ্য।মির্জাগঞ্জের দেউলিতে থাকেন এই বীর যোদ্ধা। অত্যন্ত দুঃখজনক...

একজন হারকিউলিসের গল্প…

দুই নম্বর সেক্টরটা মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ সেক্টর ছিল। অসামান্য মেধা , তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর অকুতোভয় সাহসের মিশেলে গড়া বেশ কিছু দুর্ধর্ষ মানুষ জড়ো হয়েছিল এই সেক্টরে। সুবেদার বেলায়েত সেই তুলনায় অতটা অসধারন ছিল না। হাসিখুশী সরল মানুষটা খুব বিশ্বস্ত ছিল, সবার সাথে খুব সহজেই মিশে যেতে পারতো। বাড়ি ছিল সন্দীপ, বউ আর ছেলেমেয়ের কথা প্রায়ই বলতো। সেই মানুষটা হঠাৎ একদিন এক রূপকথার জন্ম দিয়ে বসলো। শালদা নদী অঞ্চলটা ছিল পাকিস্তানি সেনাদের জন্য মৃত্যুপুরী। ওদের তুলনায় আমাদের অস্ত্র ছিল যৎসামান্য, তাও অনেক পুরাতন, কিন্তু আমাদের যোদ্ধারা ছিল সব তারছিঁড়া, মৃত্যুকে থোরাই কেয়ার করতো। রোদ-বৃষ্টি-কাঁদা-ঘুরঘুটে আঁধার, কিছুই দমাতে পারত না ওদের। সেদিন... buy kamagra oral jelly paypal uk

১৯৭১-এর ধর্ষণঃ ডাক্তার জিওফ্রে ডেভিসের সাক্ষাৎকার

জিওফ্রে ডেভিস। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এই ডাক্তার ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন ধর্ষিতদের গর্ভপাত ঘটানোর জন্য। যুদ্ধপরবর্তীকালে বাঙালী নারীদের সাহায্য করার জন্য এই পদক্ষেপটি ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত পৈশাচিকতার একজন প্রকৃত সাক্ষী। স্বাধীনতার ৩২ বছর পর, ২০০২ সালে সিডনিতে উনার এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ডঃ বীণা ডি’কস্তা। মূল বিষয় ছিলো, যুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা এবং যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে তার ফলাফল। ডাঃ ডেভিস বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান ধর্ষিতদের “War Heroine” হিসেবে সমাজে পরিচিত করতে চেয়েছিলেন যেন তারা সমাজে ফিরতে পারে। কিন্তু এটা তেমনভাবে কাজ করে নি। পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার পর বাঙালী নারীরা হয়ে পড়েছিলেন...

kamagra pastillas

বিস্মৃতির অতলে চাপা পড়া এক কল্পনাতীত নিকৃষ্টতা এবং নাম না জানা কিছু মা-বোনের ইতিহাস…(৪র্থ পর্ব)

শ্যামল বরন দেখতে ছিল সেই মেয়েটি মেয়ে।তাঁর নামটি জানা নেই আমার। খুব মেধবী ছাত্রী ছিল সে। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবে একদিন, সেবা করবে দেশের মানুষের। তাঁর সেই স্বপ্নের পথেই সে এগিয়ে যাচ্ছিলো একটু একটু করে। সময়টা ১৯৭১। উত্তাল সারাদেশ। বাঙালিদের উপর বর্বরচিত হামলা চালাচ্ছে পাকি হায়নারা। ৮থেকে ৭০ কিংবা ৭৫ বয়সী নারীদেরকে ধরে নিয়ে নিকৃষ্ট অত্যাচার করছে। ভয়ে ঘর থেকে বের হওয়া ছেড়ে দিয়েছে সেই মেয়েটি।কিন্তু বুকের ভেতর তাঁর সেই স্বপ্নটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে যত্ন করে। দেশ স্বাধীন হলেই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবে সে।অন্ধকার রাত, কয়েকটি হায়নার থাবা, চিৎকার, হাহাকার। হায়নারা নারকীয় অত্যাচার চালায় সে রাতে মেয়েটির পবিত্র দেহটির উপর।কিন্তু হাল...

দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা – ১

মনে আছে তারাকোভস্কির ১২ বছরের সেই ইভানকে? যাকে পূর্ব দিগন্তে গুপ্তচরবৃত্তি করতে দেয়া হয়েছিলো? খুব মনে পরছে সবার। কি মহাকাব্য তাই না? যুদ্ধের ইতিহাস বলতে গেলেই এমন আবেগস্পর্শী চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত আমরা হাজির করি। তিন সোভিয়েত অফিসার তার দেখাশোনা করতো। ঠিক ধরেছেন তারাকোভস্কির বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘ইভানস চাইল্ডহুড’ (১৯৬২) এর কেন্দ্রীয় চরিত্রের ইভানের কথা বলছি। আবার এরিক মারিয়া রেমারক এর পশ্চিম দিগন্ত শান্ত কিংবা ‘ওল কোয়ায়েট অন দ্যা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ এর একদল স্কুল ছাত্রের কথা। হুম মনে পরেছে তাই না? খুব প্রশংসার ফুলঝুরি ঝরবে এখন বোদ্ধা মহলে। এই লিখকের ‘যুদ্ধ শান্তি ভালোবাসা’ উপন্যাসটিও একই রকমও। যুদ্ধের শিশুদের বীরত্বগাঁথা কিংবা তাঁদের অমানবিক জীবনের গল্পে...

অপারেশন হাতমা ব্রিজ

গভীর রাত। নিঃশব্দে এগিয়ে চলেছে মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল। লক্ষ্য হাতমা নদীর উপর দুটো ব্রিজ। একটা সড়ক, আরেকটা লোহার রেলব্রিজ। উড়িয়ে দিতে পারলে সিলেটের সাথে বাইরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন যাবে। দলটির কমান্ডারের নাম বাবু, বয়স টেনেটুনে উনিশ। দলের বেশিরভাগেরই প্রথম অপারেশন এইটা, বিশোর্ধ কয়েকজন ছাড়া কারো বয়সই ১৮ রের বেশি হবে না। অবশ্য রেকি টিম জানিয়েছে, ব্রিজ দুটো পাহারায় জনা চল্লিশেক রাজাকার ছাড়া আর কেউ নেই, খুব বেশি সমস্যা হবার কথা না… কংক্রিটের ব্রিজটার শ’ গজের মধ্যে আসতেই হঠাৎ বাবুর চোখে পড়ল একটা কালভার্ট, ব্রিজের কিছুটা আগে, পাহারা দিচ্ছে কিছু রাজাকার। প্রমাদ গুনল বাবু, রেকিটিম তো দুটো ব্রিজের কথা বলেনি। কয়েকজনকে...

বীরাঙ্গনাদের কথা

…. মেয়েদের ধরে নিয়ে এসে, ট্রাক থেকে নামিয়ে সাথে – সাথেই শুরু হত ধর্ষন,দেহের পোশাক খুলে ফেলে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে ধর্ষণ করা হত।সারাটা দিন ধর্ষণ করার পরে এ মেয়েদের হেড কোয়ার্টার বিল্ডিংএ উলঙ্গ অবস্থায় রডের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখ হত,এবং রাতের বেলা আবারো চলত নির্যাতন।প্রতিবাদ করা মাত্রই হত্যা করা হত,চিত করে শুইয়ে রড,লাঠি,রাইফেলের নল,বেয়নেট ঢুকিয়ে দেয়া হত যোনিপথে,কেটে নেয়া হত স্তন।অবিরাম ধর্ষণের ফলে কেউ অজ্ঞান হয়ে গেলেও থামত না ধর্ষণ ______ রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সুবেদার খলিলুর রহমান। ২৭ মার্চ,১৯৭১,ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালের লাশ ঘর থেকে লাশ ট্রাকে তুলতে গিয়ে একটি চাদর ঢাকা ষোড়শী মেয়ের লাশ দেখতে পান পরদেশী।সম্পূর্ণ উলঙ্গ লাশটির বুক এবং...

গণহত্যা’৭১:কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া কিছু ইতিহাস (পর্ব-০৫)

“ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে যে হত্যাকাণ্ডচালিয়েছে তা নাদির শাহ’র নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে। বাংলাদেশে লুটপাট, বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করা পোড়ামাটি নীতিতে ইয়াহিয়া খান দিল্লীর সুলতানমাহমুদকেও হার মানিয়েছে। বাংলাদেশ নিধনে ইয়াহিয়া মুসলিনীকেও হার মানিয়েছে।ইয়াহিয়া খান হার মানিয়েছে হিটলারকেও” _________ জহির রায়হানের স্টপ জেনোসাইড এর কয়েকটি লাইন। এই লাইনগুলো অনেকবার শুনলেও ৭১ এসংঘটিত গণহত্যার ব্যপকতা নিয়ে এই সিরিজটি লিখবার আগে কখনই ভাবিনি আর ভাবলেও এতোটা ভাবতে পারিনি। জীবন্ত মানুষগুলোকে একের পর এক জবাই করে কখনোবা টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হয়েছে। কি বীভৎসতা !! যদিও গণহত্যা সম্পর্কিত বেশিরভাগ তথ্যই হারিয়ে গিয়েছে যথাযথা সংরক্ষণের অভাবে কিন্তু যেটুকু খুঁজে পাওয়া যায়, সেটুকু পড়লেও আঁতকে উঠতে...

গণহত্যা’৭১:কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া কিছু ইতিহাস (পর্ব-০৪)

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে থাকা কিছু ইতিহাস জানার জন্য এবং সকলকে জানানোর জন্য শুরু করেছিলাম ধারাবাহিক এই লেখাটি। ঠিক কতোগুলো পর্ব লিখলে পাকিস্থানীদের সেই নির্মমতা আর নৃশংসতার ইতিহাস শেষ করতে পারবো জানি না। আর জানতেও চাই না, কারণ শুধুমাত্র পাকিদের নির্মমতা আর নৃশংসতার ইতিহাস তুলে ধরার জন্যে আমার এই লেখা নয়; আমি আমার এই লেখাটির মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছি আমাদের জন্মের ইতিহাস, তুলে ধরতে চেয়েছি কতো ত্যাগ-তিতিক্ষা আর রক্তের বিনিময়ের অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। প্রতিটি পর্ব লিখবার সময়ই আমি শিউরে উঠেছি পাকিদের নানা রকম নির্মমতা আর পৈশাচিকতার বর্ণনা জেনে। শরীরের লোম দাড়িয়ে গিয়েছে, নিজের অজান্তে কতবার যে চোখের জল ফেলেছি... zovirax vs. valtrex vs. famvir

মুজিব ব্যাটারী

বাংলাদেশে জন্মানোর জন্য আজকাল অনেককেই দুঃখ করতে শুনি। থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি, ট্র্যাফিক জ্যাম, চাকরি-বাকরি নাই, নতুন কিছু করার নাই, পদে পদে বাঁধা আর সমস্যা, তরুন প্রজন্ম আর যুব সমাজ দেশের উপর বড়ই হতাশ। এই দেশ আগাবে ক্যামনে? ফিউচার কি এই দেশের? ১৯৭১ সালের জুন মাস। দুই নম্বর সেক্টরের ফরসের বঙ্গশার্দূলগুলার গাবুর বাড়ি আর কেচকি মাইর খায়া পাক হানাদারদের তখন কুফা কুফা অবস্থা। যেইদিকেই যায়, সেইদিকেই খালি মাইর আর মাইর, গাজুইরা মাইর। কিন্তু তারপরেও মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ যুদ্ধে শক্তভাবে পাকহানাদারদের চেপে ধরতে পারছিলেন না। কেননা ওদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক কামানসমৃদ্ধ গোলন্দাজ বাহিনী, শক্তিশালী ঘাঁটি গেড়ে যখন তারা শেল ছুঁড়ত,তখন সম্মুখসমর চালিয়ে যাওয়াটা বড়ই...

metformin tablet

গণহত্যা’৭১:কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া কিছু ইতিহাস(পর্ব-০৩)

স্বাধীনতার ৪৩ বছরে পাল্টে গেছে অনেক কিছুই। বিকৃত হয়েছে এবং হয়ে চলছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসগুলো। এমনকি কালের বিবর্তনে হারিয়েও গেছে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস।আমাদের জন্য অনেক লজ্জার হলেও সত্যি যে আমরা এতোটাই অকৃতজ্ঞ একটা জাতি যে, নিজেরা বহাল তাবিয়াতে চললেও আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধা পিতা-মাতা আজ দিনাতিপাত করছে চরম দারিদ্র আর অবহেলার সাথে লড়াই করে।  সেই সাথে আমাদের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো আজো অবহেলায় পড়ে আছে।এমনকি হারিয়ে গেছে, মাটির সাথে মিশে গেছে অনেক গণকবরের স্মৃতিচিহ্ন। বিভিন্ন সময়ে দেশের গুটিকয়েক বধ্যভূমি সরকারি উদ্যোগে চিহ্নিত এবং সংরক্ষণ করা হলেও সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের অগণিত স্মৃতিচিহ্ন এখনও চিহ্নিত করা হয়নি। এর অধিকাংশই...

৩০ লাখ বাঙালী হত্যার আইকনিক মিথ এবং বাস্তবতা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি হানাদার সামরিক জান্তা নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ২৮ মার্চ ১৯৭১-এর নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, অপারেশন সার্চলাইট-এর ঐ একরাতের হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারায় দশ হাজার নিরস্ত্র বাঙালী, যদিও ১ এপ্রিল নিউইয়র্ক টাইমস বলে ৩৫,০০০ হাজার বাঙালীর প্রাণহানি হয় অপারেশন সার্চলাইট’র একরাতে। সিডনির মর্নিং হেরাল্ড ২৯ মার্চ ১৯৭১-এ বলেছে অপারেশন সার্চলাইটে মোট নিহতের সংখ্যা ১০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ জন হতে পারে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু। তিনি গ্রেফতারের পূর্বে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর থেকে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে আটক ছিলেন। গোটা বাঙলা যখন স্বাধীনতার জন্য...

একাত্তরের অক্ষয় ইতিহাস : বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম রঞ্জুর স্মৃতিতে একাত্তর:(২)

প্রথম পর্ব : http://sovyota.com/node/3723  … ডুমুরিয়া অঞ্চলের একটি অপারেশনে আমরা পাকিস্তানি আর রাজাকারদের পুরো ১১ দিন ১১ রাত ঘেরাও করে রাখি। ২ঘন্টা করে পালাক্রমে আমরা পাহারা দিতাম। আমাদের তো রসদের চিন্তা নেই – স্থানীয় মানুষজনই আমাদের খাবার দিয়ে যায়। সেই সাথে হ্যাভারস্যাকে রুটিও আছে। কিন্তু পাকিস্তানিরা যখন দেখে যে আর ২/১ দিনের বেশি রসদ তাদের নেই – তখন তিনশ মিলিশিয়া নিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করে। এই অপারেশনগুলোতে প্রথমে একটানা দুই ঘন্টা ফায়ার চলত। তারপর ওরা ফায়ার করলে আমরাও ফায়ার করি, আমরা ফায়ার করলে ওরা ফায়ার করে এরকম হত। গ্রেনেডের স্প্লিন্ট এর দাগ এখনো আছে। একবার অপারেশনে এক বড়ভাই জানালা দিয়ে ফায়ার...

about cialis tablets

একাত্তরের অক্ষয় ইতিহাস: বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম রঞ্জুর স্মৃতিতে একাত্তর: (১)

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি  বিয়াল্লিশ তেতাল্লিশ বছর ধরে মেমোরীতে অনেকটা আছে, অনেকটা  নষ্ট হয়ে গেছে। Evidence তো বলতে গেলে নেই ই। গেরিলা যুদ্ধের ছবি অনেকদিন ছিল আমাদের কাছে। এরপর এমন এক সময় আসল যখন মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচয় দেয়াটাই বিপদ হয়ে দাঁড়াল। সমস্যাগুলো পঁচাত্তরের আগেও ছিল, পরেও। পঁচাত্তরের আগে সমস্যাটা ছিল জাসদ। ওরা যা যা করত,  দায়ভার পরত সরকারের ওপর। নয় মাস ধরে অবরুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল অনেক বেশি। তবে অবরুদ্ধ বাংলাদেশের শুরু একাত্তরে নয়, বরং অনেক আগে…। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন আমরা থাকি খুলনায়। বাবা ছিলেন প্রকৌশলী। সরকারী চাকরীর সুবাদে কোথাওই স্থায়ী হওয়া যেত না। বাবার সাথে সাথে আমরাও ছিলাম ভবঘুরে।...

একাত্তরের ইতিহাস,একজন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাতকার, মিরপুর জল্লাদখানা

শরিকুল ইসলাম বাবলু, দুই নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার গল্প আমরা শুনেছি। কিন্তু তিনি মৃত্যুর ভয়াল থাবার ভেতর থেকে ফিরে এসেছিলেন। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালে মিরপুর তথা মিরপুরের জল্লাদখানায় তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হলো তার জবানীতে।জয় বাংলা।জয় বঙ্গবন্ধু। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল পনের বছর। তো মিরপুর এলাকায় আমরা তখন বাঙালী থাকতাম শতকরা তিনজন।মানে একশতে আমরা তিনজন থাকতাম বাঙালী আর সাতানব্বই জন বিহারী। তো মার্চ মাসে মানে সাতই মার্চে বঙ্গবন্ধু যখন ভাসন দিল তখন সমস্ত বিহারীরা এলার্ট হয়ে গেল।তখন আমাদের সাথে খুব একটা যোগাযোগ, কথাবার্তা বলে না,আমাদেরকে...